কহিনুর_দ্বিতীয়_খণ্ড,পর্ব:৪৩

0
256

#কহিনুর_দ্বিতীয়_খণ্ড,পর্ব:৪৩
কলমে লাবণ্য ইয়াসমিন

প্রিয় মানুষের কষ্টে অন্তর কাঁদবে এটাইতো স্বাভাবিক। পাথর কহিনুরকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে। ক্ষণেক্ষণে মেয়েটার শরীরের রঙ পরিবর্তন হচ্ছে। কখনও কালো কখনও নীল আবার কখনও নিজের স্বরূপে ফিরছে। সেই সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণায় মেয়েটা কুঁকড়ে যাচ্ছে। পাথর প্রিয়তমার কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছে। নিজেকে অসহায় লাগছে। গতকাল যদি মেয়েটাকে চোখে চোখে রাখতো তবে এসব কিছুই হতো না। নিজেকে দোষারোপ করছে। সবথেকে বেশি রাগ হচ্ছে সাঈদের উপরে। ছেলেটা কোথায় ডুব দিয়েছে কে জানে। পাথর কহিনুরের মাথাটা নিজের বুকের সঙ্গে যত্ন সহকারে ধরে রেখেছে। সমুদ্রের বিশাল ঢেউ এসে ওদের পা ছুঁয়ে দিচ্ছে। আকাশে থালার মতো চাঁদ উঠেছে। মোহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে অথচ কতটা বিষাদের রাত এটা। পাথর ক্ষীণ কণ্ঠে বলল,
> সাঈদ কোথায় নূর? ওকে দেখছি না কেনো?
কহিনুর উত্তর দিতে পারলো না। মুখে হাতে অসংখ্য ফোসকা নিয়েছে। পাথর আলগোছে ওর কপালে চুমু দিয়ে বলল,
> কিচ্ছু হবে না।ভয় নেই আমি আছি না? কিছু হতে দিবো না। পানি খাবে নূর?
কহিনুর মাথা নাড়িয়ে চুপচাপ ওর গলাই মুখ গুজলো। অবস্থা ভয়ংকর হয়ে উঠছে। পাথর ওকে কোলে তুলতে চাইলো তার আগেই সাঈদ এসে হাজির হলো। হাতে ওষুধের পেয়ালা নিয়ে। ও হন্তদন্ত হয়ে বসতে বসতে বলল,
> এটা খেলে ও ঠিক হয়ে যাবে। দ্রুত খেতে হবে আকাশে এখনো চাঁদ আছে কিন্তু ডুবে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

পাথর আজ আর কোনো প্রশ্ন করলো না। দ্রুত কহিনুরের মুখে পেয়ালাটা তুলে ধরলো। খাওয়ানো শেষে হাফ ছেড়ে বলল,
> ওকে রেখে কোথায় ছিলে তুমি? সব নিষেধাজ্ঞা শুধু আমার বেলাতে তাইনা? শশুর মশাই আর তুমি দুজনেই এক। আমার থেকে নূরকে দূরে রাখতে তোমাদের যত বাহানা। বলো ওকে রেখে কোথায় ছিলে? গতকাল ওর সঙ্গে তুমি ছিলে অথচ আমাকে কিছুই বললে না। দেখতে পাচ্ছো খামখেয়ালীর জন্য নূর কতটা কষ্ট পাচ্ছে?

পাথর ওকে আচ্ছা করে বকে দিলো। সাঈদ মুখটা মলিন করে বালির উপরে বসে পড়লো। ওর চোখের কোনে পানি চিকচিক করছে। ডান হাতের কুনোই দিয়ে চোখ মুছে উত্তর দিলো,
> জনাব গতকাল আমি নূরের সঙ্গে ছিলাম না। ওরা আমাকে আটকে রেখেছিলো। নূরের শক্তি ছিল না সেই মূহুর্তে ওরা নূরের চারপাশে অদৃশ্য প্রাচীল তৈরী করেছিল আমি বারবার ছিটকে গিয়েছি। তারপর যখন ও শক্ত ফিরে পেলো তখন আমি ওর কাছে এসেছি। ওষুধ আনতে আমাদের রাজ্যে গিয়েছিলাম। হাকিম সাহেবের কাছে। উনি জানতেন নূর বিপদে আছে তাই ওষুধ প্রস্তুত রেখেছিলেন। তবুও আসতে দেরি হলো। গতকাল আপনি যাকে দেখেছিলেন ওটা অন্য কেউ ছিল। ওরা চেয়েছিলো নূরকে একেবারে শেষ করে দিতে কিন্তু পারেনি। নূরের মধ্যে থাকা শক্তিটা ভয়ঙ্কর আর শক্তিশালী। ওটা নূরকে বাঁচিয়েছে।
পাথর কিছু একটা ভেবে বলল,
> বুঝলাম কিন্তু এখন এসব কি হচ্ছে বলোতো? মেয়েটা ইচ্ছে করে তো দোষ করেনি তবুও কেনো শাস্তি পাচ্ছে সাঈদ? ওকে কিভাবে পুরোপুরি বিপদ মুক্ত করবো তুমি জানো কিছু?
পাথরের কথা শুনে সাঈদ মাথা নাড়িয়ে বলল,
> নূর দোষ করেনি তবুও ওর পবিত্র অবয়ব নিয়ে পাপ করা হয়েছে। যার প্রভাবে ও কষ্ট পাচ্ছে। ওষুধ নিয়েছে সব ঠিক হয়ে যাবে। আজকের রাতটুকু কষ্ট হবে। তাছাড়া এর পর থেকে কেউ ওর অবয়ব নিয়ে খেঁলতে পারবে না। ওরা ভেবেছিল আপনি নূরকে ভুল বুঝে আঘাত করবেন। খান বংশের হাতে নূরের মৃত্যু হলে খানদের শক্তি বৃদ্ধি ঘটবে। রত্ন আপনার দাদুর হাতে গিয়ে পৌঁচ্ছাবে।

পাথর সাঈদের কথা শুনে ভ্রু কুচকে ফেলল। এতো বড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছে ভাবতে পারছে না। বেলালের আক্রমণের সময়ই বুঝেছিলো ওটা নূর ছিল না। পাথর নূর ছাড়া বাইরের কোনো মেয়েকে স্পর্শ করতে পারেনা। নিজের কিছু না হলেও যাকে ও স্পর্শ করে তার ক্ষতি হয়। সেদিন নূরের রূপি মেয়েটাও রাস্তার উপরে ছিটকে গিয়ে পড়েছিলো। খান বংশের ছেলেদের নারীর প্রতি অতিরিক্ত মোহ আছে নূর সেটা জানতো তাই ইচ্ছে করে কৌশলে পাথরের হৃদপিণ্ডে নিজের নাম লিখে দিয়েছিলো। যাতে ওর মধ্যে থাকা প/শু জাগ্রত হলেও পাথর কোনো নারীর প্রতি যেনো আকৃষ্ট না হয়। কহিনুরের সত্যি বুদ্ধি আছে। কথাগুলো ভেবেই পাথর ওর কপালে ওষ্ঠদ্বয় রেখে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
> সাঈদ তোমাদের ফ্লাটে চলো। ওকে আপাতত লুকিয়ে রাখতে হবে। পাথরের থেকে নূরকে আলাদা করা যায়না কথাটা ওরা জানে না। এবার জানবে।
সাঈদ মাথা নেড়ে ওর পেছনে ছুটলো। দৃষ্টির অগোচরে যেটা ঘটছে সেটা সকলের সামনে আসা জরুরি। শত্রু পেছন থেকে আক্রান্ত করে সুবিধা পাচ্ছে।
************
জুবায়েরের কাধে মাথা রেখে বসে আছে অধরা। মেয়েটার সঙ্গে একটা দিন যোগাযোগ হয়নি। জামসেদ গেছে ওকে দেখতে। অধরা অপেক্ষা করছে কখন মেয়েটার খবর পাবে সেই আশায়। জুবায়ের মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে কিছু একটা করছে। নীরবতা কাটিয়ে জুবায়ের হালকা চিৎকার করে উঠলো। অধরা চমকে উঠে ভ্রু কুচকে ফেলল। জুবায়ের উত্তেজিত হয়ে বলল,
> আয়াতের খোঁজ পেয়েছি। ওর আইডি একটিভ ছিল দুঘন্টা আগে। নতুন পিকচার আপলোড দিয়েছে আন্টিকে নিয়ে। ও ঠিক আছে কিছু হয়নি।
অধরা চোখ বন্ধ করে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল,
> এটা নতুন কি?আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। আপনি ওর বিষয় বাদ দিয়ে দাদুর বিষয়টা নিয়ে ভাবুন। আচ্ছা সেই ডাইরিতে চন্দ্রের পরিণতি সম্পর্কে লেখা ছিল না। কি হয়েছিলো উনার? ভদ্রমহিলা স্বামীর অবহেলা মেনে নিয়েছিলেন নাকি মেয়েদের ফেলে কোথায় চলে গিয়েছিলেন? আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আমাদের বোকা বানানো হয়েছে। সেটা দাদু ইচ্ছা করে করেছে যাতে আমরা ভুল পথে পরিচালিত হয়। আচ্ছা ভাবুন কহিনুরকে দাদুর দরকার ছিল অভিশাপ ঘোচানোর জন্য কিন্তু এখন তো সেই অভিশাপ নেই। তবে কেনো দাদু থেমে নেই? মারিয়াকে দিয়ে উনি কিছু একটা করছেন বলে আমার বিশ্বাস। আগে মারিয়াকে উদ্ধার করতে হবে।
অধরার কথাগুলো জুবায়ের মন দিয়ে শুনলো।বউয়ের বুদ্ধি আছে বলতে হয়। কথাটা ভেবেই ও খুশীতে আটখান হলো। টুপ করে অধরার গালে ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিয়ে বলল,
> এই জন্যই তোমাকে অনেকগুলো ভালোবাসি বউ। মাথায় যন্ত্রণা করছে একটু টিপে দাও। আর আমি মারিয়াকে ওখান থেকে সরানোর ব্যবস্থা করে ফেরেছি। এতোক্ষনে হয়তো কাজ হয়ে গেছে। সেসব ছাড়ো এখন একটু আদর করে দাও। সবার দিকে নজর তোমার,শুধু আমাকে ছাড়া।

জুবায়েরের এলোমেলো কথাবার্তা শুনে অধরা কপাল চাপড়ালো। সিরিয়াস আলোচনার মধ্যে এসব শুধুমাত্র এই লোকটার দিয়েই সম্ভব। অধরা বিরক্ত হলো। ভ্রু কুটি করে বলল,
> ওখান থেকে আসার পরে আপনি এসব করেছেন? দাদু ওখানে আছে জানতে পারলে কিন্তু ঝামেলা হবে। কিভাবে কি করছেন বলবেন প্লিজ?
জুবায়ের ল্যাপটপটা টেবিলের উপরে রেখে অধরার কোলের উপরে শুয়ে পড়লো। কোমর জড়িয়ে ধরে বলল,
> শুনো না,ঠিক করেছি সব ঝামেলা মিটে গেলে তুমি আমি মিলে আফ্রিকার জঙ্গলে হানিমুনে যাবো। অনেক ভেবে দেখলাম আমাদের জন্য জঙ্গলই মঙ্গল বুঝলে? বিয়ে করলাম অথচ বউ পুরাতন হলো না। বছর খানিক সংসার করতে পারিনি কতটা চাওয়া পাওয়ার আছে কিছুইতো হলো না। বেশি বেশি আদর যত্ন করবা তানা কি সব রহস্য নিয়ে পড়ে আছো। আমার মেয়ে আর আমি আছি না? সামলাতে পারবো। তুমি শুধু আমাকে নিয়ে ভাবো।
জুবায়েরের কথা শুনে অধরা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
> বয়স আপনার বাড়ছে না বরং কমে যাচ্ছে। একটুতো পরিবর্তন হতে পারতেন? এই কঠিন সময়ে মানুষ কিভাবে হুটহাট রোমান্টিক হয়ে যায় আল্লাহ মালুম। জামসেদ ভাইয়া না বলে আপনার মতো পিচ এই বংশে একটাই আছে? সব সত্যি বলেন উনি। আসলে আমাকে টেনশনে রেখে মজা পান আপনি। বুঝি তো।
অধরা রেগে বো/ম হয়ে গেলো। মারিয়াকে কিভাবে ওখানে থেকে নিয়ে এসেছে জানতে না পারলে শান্তি লাগছে না ওর। তাছাড়া দাদুর শক্তি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই ওদের। শত্রুর সম্পর্কে ধারণা থাকলে লড়াই করতে অসুবিধা হয়না কিন্তু এখানে সম্পূর্ণটাই উল্টো। মারিয়াকে দিয়ে কি কাজ করানো হয় সেটাও জানা হয়নি। অধরার ধ্যান ভাঙলো নিজেকে শূন্যে ভাসমান অবস্থায় দেখে। জুবায়ের সুযোগ বুঝে ওকে কোলে তুলে নিয়েছে। চুপচাপ বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওকে বিছানায় ফেলে দিয়ে কম্বল টেনে শুয়ে পড়ে বলল,
> বসে চিন্তা করার চাইতে ভাবলাম শুয়ে শুয়ে চিন্তা করলে অনেক সুবিধা হবে। এবার যত ইচ্ছা চিন্তা করো আমি বাঁধা দিবো না।
জুবায়ের কথা শেষ করতেই ওর ফোন বেজে উঠলো। ও পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কিছু একটা বলে উঠলো। জুবায়ের ধন্যবাদ বলে ফোন রেখে দিয়ে বলল,
> দাদু তখন ওখানে ছিল না। পেছনের গেট দিয়ে ওকে বের করা হয়েছে। মেয়েটার জ্ঞান নেই। ঘুমিয়ে আছে। ওকে সুরক্ষীত রাখা হয়েছে। আমি সব ঠিক করে ফেলো। এবারতো শান্তি? আসো ঘুমাতে হবে।
অধরা প্রশ্ন করতে চাইলো কিন্তু জুবায়ের সুযোগ দিলো না। ওকে কাছে নিয়ে লাইট বন্ধ করলো ঠিক তখনই জানালার পাশ থেকে লাল রঙের ওড়নার প্রান্ত কেউ একজন গুছিয়ে নিলো। ওষ্ঠে তাঁর রহস্যময় হাসি।
****************
খান সাহেবের সামনে তফসিল দাঁড়িয়ে আছে। পাথরকে নজরে রাখার জন্য ওকে বলা হয়েছিলো কিন্তু হঠাৎ করে ও কিছুতেই ওই বাড়িতে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। শরীর জ্বলছে। খান সাহেব ওকে থা/প্পড় দিয়ে বলল,
> কাজের অযোগ্য তুমি সেটার প্রমাণ করে ফেলেছো। পাথর তোমার মতো বোকা যে মিথ্যা বললেই সেটা বিশ্বাস করবে আহাম্মক? কহিনুর কাউকে ছু/রি/কাঘাত করে না ও মানুষের হৃদপিণ্ডে নিজের নাম খোদাই করে। আর ওর খঞ্জ/রের আঘাত এতো সামান্য হয়না। ওর সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার মতো বোকামি করেছো সঙ্গে অতি চালাকি করতে গিয়ে আমাকে বিপদে ফেলেছো। ভাগ্যলিপি ওর দখলে। সেখানে নিশ্চয়ই এতোক্ষনে মেয়েটা আমাদের পতনের বর্ণলিপি লিপিবদ্ধ করে ফেলেছে। কহিনুরের উপরে আঘা/ত করা হয়েছে পাথর এতো সহজে ছাড়বে ভাবছো? এখুনি আসবে আর আমার উপরে চটে যাবে। কিচ্ছু ঠিকঠাক হচ্ছে না। আঁধার কোন এক নারীর প্রেমে উন্মাদ হয়েছে। যাও গিয়ে দেখে আসো সে কার সঙ্গে মিলে আমাদের সর্বনাশ করতে নেমেছে।
দাদু রেগে ছিল সব তফসিলের উপরে ঝেড়ে দিলো। মেয়েটা কাচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। যাওয়া আদেশ পেয়ে আর অপেক্ষা করতে মন সাড়া দিলো না। টুপ করে সরে পড়লো। পাশের কক্ষ থেকে চিৎকার চেচামেচির শব্দ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাকিম সাহেব দরজায় এসে উঁকি দিয়ে বলল,
> মালিক,আরজু বাবা হঠাৎ ঝামেলা করছে। ভাবছি ঘুমের ওষুধ দিয়ে কিছুদিনের জন্য ঘুম পাড়িয়ে রাখবো। আপনার অনুমতির অপেক্ষা।
> যা ইচ্ছা করো শুধু আমাকে বিরক্ত করো না।
খান সাহেবের কথার উত্তরে হাকিম সাহেব ভেতরে আসলেন না। যেভাবে এসেছিলেন সেভাবেই চলে গেলেন। খান সাহেব মুখটা কাচুমাচু করে ভয়ংকর দেখতে এক মূর্তির সামনে নতমস্তক হয়ে বসে পড়লেন। সামনে টাটকা মৃ/ত মানুষের মাথার খুঁ/লি। বড় একটা পেয়ালা ভর্তি রক্তিম তরল। থালায় রাখা বুনো ফুলের মালাটা কেমন নির্জীব হয়ে আছে। দাদু একে একে নিয়মকানুন মেনে কাজ করছেন। সব কাজ উনি নিখুঁতভাবে করেন। একটা ভুলের জন্য একটা শাস্তি উনার জন্য অপেক্ষা করে। নিজের ছোট ছেলেটার এহেন পরিণতি উনি মানতে পারছেন না। ছেলেটা কিশোর বয়স পার করতে না করতে কোন এক মানবির প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে তাকে বিয়ে করে ফেলল। বহুকষ্টে ওকে ফিরিয়ে এনেছেন কিন্তু সে সম্পূর্ণ আলাদা একজন। যার মধ্যে নিজের জাত বংশ বা বাবা মায়ের কোনো চিন্তা নেই। আছে শুধু প্রেয়সীর চিন্তা। বিয়ে করেই ছেলেটা ক্ষান্ত হলো না। এক পুত্র সন্তানের বাপ হয়ে গেলো। অনাকাঙ্খিতভাবে এতোকিছু হয়ে গেলো খান সাহেব বুঝতে পারলেন না। এভাবে চললে ধ্বং/স হতে সময় লাগবে না। দাদুর কথাগুলো ভেবে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল।
************
কয়েকদিন পরে কহিনুরের ফ্লাটে এসে জামসেদ হতবাক হলো পাথরকে দেখে। ছেলেটা এখানে কি করছে ভেবেই ভ্রু কুচকে ফেলল। সাঈদ ওর অভ্যাস অনুযায়ী জানালায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে। হাতে লম্বা একটা হাড্ডি। কিসের হাড্ডি বোঝা যাচ্ছে না। বেচারা কটমট করে চিবিয়ে তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে। দুদিন ঝামেলার মধ্যে ঠিকঠাক খাওয়া হয়নি। কহিনুর বিছানায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে গতকাল রাত থেকে। ওষুধের প্রভাবে বশ কেটে গেছে। আপাতত এখন কোনো সমস্যা হচ্ছে না কিন্তু শরীর দুর্বল। ঘুমিয়ে আছে। ওকে এভাবে ফেলে পাথর যেতেও পারছে না। মেয়েটা একেবারে সুস্থ হলে তবে ওর শান্তি। জামসেদ কহিনুরের কপালে হাত রেখে ভ্রু কুচকে বলল,
> ওর সঙ্গে কি করেছো তুমি? দেখো মেয়েটা তোমার সঙ্গে যা করেছে সেটা শুধুমাত্র তোমার ভালোর জন্য করেছে। দয়াকরে সেই প্রতিশোধ নিতে তুমি আমার মেয়েটাকে কষ্ট দিওনা। আমি কিন্তু ছাড় দিবো না। তুমি যেই হওনা কেনো আমি ভয় পাবো না। তোমার শক্তি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলাম বিধায় কৌশলে বিয়েটা আমি দিয়েছি। এখন ওর ক্ষতি হবে বুঝলে তোমার সঙ্গে আলাদা করতে আমার সময় লাগবে না।
জামসেদের কণ্ঠে রাগ ঝরে পড়ছে। কহিনুরকে এভাবে দেখতে ওর কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। শেষবার দেখা হলো তখনও মেয়েটা সুস্থ ছিল। জালিমদের থেকে মেয়েটাকে আলাদা রাখলেই ভালো হতো। নিজেকে দোষারোপ করছে জামসেদ। পাথর এতোক্ষন চুপচাপ ছিল হঠাৎ আলাদা করার কথা শুনেই ভ্রু কুচকে বলল। হাতের মুঠো শক্ত করে বলল,
> ওর সঙ্গে আমি কিছু করিনি। যদি করেও থাকতাম তবুও নূর আমারই থাকতো। চতুরতা দেখিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারলেও আলাদা করার হিম্মোত আল্লাহ ছাড়া কারো নেই আঙ্কেল। নূর শুধুমাত্র আমার। তাছাড়া ওর সঙ্গে যা কিছু হয়েছে সবটা সুলতানদের পক্ষ থেকেই হয়েছে। চন্দ্র সে কিভাবে পারলো আমার নূরের অবয়ব নিয়ে ছেলেখেলা করতে? আমার সামনে সে আসুক ছাড়বো না আমি। নূর ঠিক হলে আমরা সুলতান ভিলাতে ফিরছি।যা হবে এবার সামনা সামনি।
পাথরের কথা শুনে জামসেদ চমকে উঠলো। চন্দ্রের সম্পর্কে ওর তেমন কোনো ধারনা নেই। দাদুর থেকে ডাইরী পড়েছিলো সেখানে প্রথমে ওর বিষয়ে বিস্তারিত লেখা থাকলেও শেষমেশ কিছুই লেখা ছিল না। তবে কি মেয়েটা কোনো পি/শাচিনী ছিলো? নূরের জ্ঞান আসাটা এখন খুব দরকার। সত্যিটা জানতে হবে। জামসেদ তর্ক করলো না। কক্ষের বাইরে চলে আসলো। জুবায়েরের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরী। চন্দ্র কি উদ্দেশ্যে নিয়ে এতো বছর পরে ফিরে এসেছে? শুধুমাত্র নিজের প্রেমিকের ভালোবাসা ফিরে পেতে নাকি ওর উপরে থাকা সুলতান পরিবারের ঘৃ/ণার প্রতিশোধ নিতে?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here