শবনম(পর্ব ২২) সায়লা সুলতানা লাকী

0
36

#শবনম(পর্ব ২২)
সায়লা সুলতানা লাকী

শবনম বাকী বেঁড়া পাড় করতেই ছন্দার দৃষ্টিগোচর হল। প্রথমে বুঝতে পারে নাই ছন্দা কী দেখছে? কাকে দেখছে? কিন্তু যখনই দেখল ওকে দেখেও সামনের মানুষটা তার হাত বাড়ায় দিল তখনই ও চিৎকার করে বলে উঠল
“আম্মা! আম্মা আইছে! আমার আম্মায় ফিরছে। ওই স্বপ্না দেখ, জলদি আয়।” বলেই ও দৌড়ে একবার শবনমের দিকে পা বাড়ায় আরেকবার বড় ঘরের দিকে যায়, আসলে ঠিক এখন কী করবে ও তা যেন ঠাহর করতে পারছে না।
উঠানে ধানে নাড়া দিচ্ছিল শবনমের মা। ছন্দার কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়ে পেছন ফিরে তাকাল ঘটনা কী তা জানার জন্য। এদিকে স্বপ্না একটা বাটিতে গুড়-মুড়ি নিয়ে বসেছিল। মনে হল চিলের মতো ছো মেরে ছন্দা ওর বোনকে এক হাতে টেনে নিয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। শবনম ডুকরে কেঁদে উঠল ওর দুই মেয়েকে দেখে। স্বপ্নার মধ্যে তখনও তেমন কোন প্রতিক্রিয়া বোঝা গেল না। তবে ছন্দা বোনসহ ঝাপায়ে পড়ল শবনমের বুকে আর ফুপিয়ে কেঁদে উঠল ওর অবুজ মন।
“আম্মা আম্মাগো আপনি এদ্দিন কই আছিলেন? আম্মা আপনেরে আমরা কত জায়গায় খুঁজছি আম্মাগো আপনে আমগো রাইখ্যা আর যাইয়েন না। আম্মা আপনে ছাড়া আমার ভালো লাগে না। ”
শবনমের মুখে কোন কথা নাই। মনে হল ওর সব কথা কেউ কেড়ে নিয়েছে। দুই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে শুধু হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। এবার স্বপ্নাও ওদের দুজনের কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করল।
শবনমের মা ছুটে এল মেয়ের কাছে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরবে বলে কিন্তু কাছে এসে মনে হল এ মুহূর্তটা শুধু এই অবুজ শিশু দুইটারই থাক। তিনি পাশে দাঁড়িয়ে ভেউভেউ করে কাঁদতে লাগলেন।
ঘরের ভেতর থেকে শিউলি চিৎকার করতে লাগল
“কে আইছেরে? কে আইলো বাড়ি? সবাই এমন কান্দে ক্যা?”
“কইরে শিউলি, মারে একটু পানি খাওয়া, গলা শুগায় গেছে। এই মা মাইয়াগো কান্দন থামতে অনেক সময় লাগব। আমি যে আইছি তা কেউ দেখল না। ”
শিউলি ছোট চাচার কথা শুনে কোন রকমে বের হয়ে আসে পানির গ্লাস আর জগ হাতে করে। বের হয়ে শবনমকে দেখে ও নিজেও খুশিতে কেঁদে ফেলে
“ও আল্লাহ বুবু আইল কোইত্থেক্যা? বুবু বাইচ্যা আছে দেহি? আল্লাহগো আল্লাহ তুমি তাইলে এই ফেরেস্তাগো কান্দনে ওগোর মায়েরে ফেরত দিলা? তোমার অনেক দয়াগো আল্লাহ তোমার অনেক দয়া।”
“মরব ক্যা? শবনম ঢাকায় গেছিলো আমার কাছে। বাড়ির সবতে মিল্যা জোর কইরা ওরে বিয়া দিতে লইছিলি, না পলাইয়া আর করব কী? এই বাড়িতে কবে কোন মাইয়ারে জোর কইরা বিয়া দিছে যে আইজ শবনমরে এমন জোর কইরা বিয়া দেওন লাগে? পলাইয়া ভালো করছে শবনম। উচিত করছে। দাদায় এমন কামডা কেমনে করতে চাইল?”
শবনম ওর ছোট চাচার কথায় অবাক হয়ে গেল। কী সুন্দর করে ওর এই কয়দিনের দুর্বিষহ যুদ্ধকে কবর দিয়ে দিল। কাউকে আর ওর কষ্টের কথাগুলো বলতে হবে না তা ভেবে এত কষ্টের মাঝেও আনমনে ওর ঠোটের কোনে চেপে হাসি এল শুধু অস্ফুটস্বরে বলল “আহারে জীবন!আহা!”

লঞ্চের থেকে কিনে আনা খাবারগুলো দুই মেয়ে আর ভাগনীকে খাওয়াচ্ছে বসে শবনম তখনই খেয়াল করল ওর বাবা গায়ে কাঁদা মাখা অবস্থায় ছুটে এসেছে বাড়িতে। গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে শবনমের ফিরে আসার কথা। এক গোমস্তা ক্ষেতে গিয়ে খবরটা তাকে দিয়েছে। টাকা চুরি করে এভাবে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে মনে যে ক্ষোভ ছিল তা যেন সে ভুলে গেল নিমিষেই। সব কাজ ওখানেই ফেলে দ্রুত পা চালিয়ে ফিরে এল বাড়ি । এখন চোখের সামনে মেয়েকে দেখে সে চোখে ঘোর বরষা নেমে এল। এক জায়গায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ওর বাবা নিরবে চোখ মুছতে লাগলেন বারবার।

শবনম তখন ডরভয়ের খরা তাপে পুড়ছে, দূরে বসেই মাথা নত করে আছে। সে মাথা উঠানোর ক্ষমতা বা সাহস নেই ওর। পালানোর পর ওর বাবার মান সম্মান কোথায় গিয়ে যে দাঁড়াবে তা ও আগেই কল্পনা করে দেখে ছিল। বাবাকে দশজনের কাছে লজ্জিত করার অপরাধ বোধ বুকে নিয়েই ও পালিয়েছিল সেদিন কোন উপায়ন্তর না পেয়ে। আর এও জানতো এই অনুশোচনা সারা জীবন বুকে বহন করেই ওকে বেঁচে থাকতে হবে। হাসপাতালের আরামের বেডে শুয়েও যে এ ভয়ে ওর বুক কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু তা প্রকাশ করেনি। বাড়ি আসা আবদি এখনও কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেনি ওর বাবা মা কী জবাব দিয়েছিল সেই পাত্র পক্ষকে? কতটা অপমানিত হতে হয়েছিল সেদিন তাদের?
স্বার্থপরের মতো শুধু নিজেকে নিয়েই পালিয়েছিল, নিজের সন্তানদেরকেও সাথে নিতে পারেনি অনিশ্চয়তার ভয়ে। নিজের সন্তানদের দায়িত্বটুকুও আপমানের বোঝার সাথে তাদের ঘাড়ে রেখেই সে দিন ঘর ছেড়েছিল শবনম। এতসবের পর আর কীভাবে এ মাথা আর উঁচু করে বাবার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে! ওর অনুশোচনা ওকে দেয় না আর আগের মতো করে বাবার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে ক্ষমা চাইবার অধিকার।

শবনমের ছোট চাচা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তা সামলাতে এগিয়ে আসে-
“দাদা হুদাই আর কাইন্দা সময় নষ্ট করেন ক্যা? জোর কইরা বিয়া দিতে গিয়া যে অন্যায় করতে গেছিলেন ধরেন এই দুঃখডা তার বদলায় পাইছেন। অহন এইসব দুঃখের দিন শেষ। অনেক কাম লইয়া আইছি গেরামে, আপনের সাহাইয্যা লাগব। কান্দন ছাড়েন, অহন মাইয়ার সামনে শুভদিন তার লেইগ্যা আল্লাহর কাছে শুকরানা নামাজ পড়েন।”

“মাইয়ার লেইগ্যা শুভদিন” কথাটুকুর শক্তিটা এতটাই প্রকট ছিল যে শবনমের মা ভাতের হাড়ির মাড় গালতে গিয়ে থেমে গেলেন। মুখ তুলে দেবরের দিকে তাকালেন।
আর তা দেখে ওর চাচা আবার বললেন
“ভাবি চোখ কপালে তুলছেন ক্যা? আগে মাড় গালেন পরে সুসংবাদটা দেই সবাইরে। এতক্ষণ কইনাই, একলগে কওনের লেইগ্যা। ”

শবনমের পরনে সাদা শাড়িটা ওর মায়ের মনটাকে এফোড় ওফোড় করে দিল কিন্তু তা তিনি কাউকে বুঝতে দিলেন না। মনকে বোঝাল এই বলে যে, “সবই আল্লাহ ইচ্ছা, তার ইচ্ছার উপরে আর কারো কোন হাত নাই।”

শবনমের চাকরির খবরে বাড়ির সবাই অদ্ভুত কিছু শুনল এমনটাই মনোভাব প্রকাশ করল। ওর বাবাতো প্রশ্নই করে বসলেন
“ওয় কী চাকরি করব ঢাকা শহরে? ওয় কী কিছু পারেনি? সরকারি চাকরি পাওন কি অত সোজানি?”

শবনমের মাও আশ্চর্যের সাথে প্রশ্ন তুলল,
“ওর লগে থাকব কে? ওয় চাকরি করলে ওর মাইয়াগো কে দেখব? ছন্দারা একলা চলব কেমনে?”

“সবার সব প্রশ্নের উত্তর সময়েই পাইবেন তয় অহন সত্য অইল শবনমের একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা অইছে কিন্তু কিছু কাগজ পত্র লাগব। আর দাদা আপনেতে জানেনই সরকারি চাকরি পাওয়া মানে আলাউদ্দীনের প্রদীপ পাওন। এইডা হাত ছাড়া করন যাইব না। এই চাকরির লেইগ্যা যা যা দরকার তা আমগো অহন করন লাগব, কী কথা বুঝাইতে পারলামনি?”

“হ, বুঝছি। তয় মনডায় ডর করতাছে, ও একলা থাকব আবার চাকর করব, কেমনজানি বেতাল বেতাল লাগতাছে। ও দুনিয়ার অত প্যাচগোছ বুঝবতো? জীবনে কোনদিন ঘরের বাইরে কোন কামকাইজ করে নাই অহন….”

শবনম ওর বাবার কথা শুনে মনে মনে হেসে ফেলল। এই কয়দিন ও দুনিয়ার কত কী যে দেখছে তা ওর বাবা কিছুই আন্দাজ করতে পারবে না। কিন্তু ইচ্ছে করেই আর সেসব কথা তুলল না।
ওর ছোট চাচার সাথে একটা সময় ওর বাবাও বাড়ির বাহিরে চলে গেল। তাদের উদ্দেশ্য আগে প্রাইমারির হেড মাস্টারের বাড়ি যাওয়া পরে তার সাথে কথাবার্তা বলে হাই স্কুলের হেডমাস্টারের বাড়ি যাওয়া যদিও তার বাড়ি দুই গ্রাম পরে। কিন্তু তবুও তারা যাবে যত রাতই হোক। রাতে সবার সাথে কথা বলতে হবে। আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রগুলোতে গোছাতে হবে দিনের বেলায়। আগামীকালই সব কাজ গুছিয়ে নিতে হবে। না হলে পরেরদিন আর ঢাকার পথে রওয়ানা দেওয়া যাবে না। কোনভাবেই চাকরির বিষয়ে গড়িমসি করা যাবে না।

রাতের খাবার নিয়ে বসতেই শবনম একটা থালায় ভাত নিয়ে বসল দুই মেয়েকে খাওয়াতে। আর তখনই ওর মা বলে উঠলেন
“থো, ওগোডা ওরা খাইতে পারব। ওগো লেইগ্যা আর এত আলগা পিরিত দেহান লাগব না। নিজেরডা লইয়া নিজে খা। এই কয়দিন কী আর কিছু খাস নাই? এমন শুগাইছোস ক্যা?”

শবনম চোখ বড় করে ওর মেয়েদের দিকে তাকাল এরপর ওর মায়ের দিকে। মনে হল ও অনেক অবাক হয়েছে এই কথা শুনে যে ওরা ওদের খাবার নিজ হাতে খেতে পারবে।

“তাকায় আছোস ক্যা। আমার আর কোন কাম নাই যে তোর মাইয়াগো খাওন লইয়া বইয়া থাকুম? পরথম যহন দেখলাম তুই আর ফিরোস নাই তহন মনডায় মরন কামোড় দিছিল। মন অইল মাইয়া বুঝি কলসি লইয়া গাঙে ঝাপ দিল। দুইন্যাডা অন্ধকার অইয়া গেল। কিয়ের ছন্দা কিয়ের স্বপ্না? কে ভাবে কার কতা? ওরা কান্দে, এইডা কী খাওনের লেইগ্যা না মায়ের লেইগ্যা তা কে জানতে চায়? কত্ত রকম আকতা কুকতা কানের সামনে বাজল তা সব হজম করলাম।সারাডাদিন গেল কানতে কানতে। রাইতে তোর বাপে কইল আসল কতা। জানলাম তুই টেকা চুরি কইরা ভাগছোস। মান ইজ্জতের ডরে আর তোর নাম মুখে লইলাম না। দাফন দিলাম মাইয়ারে, যেই মাইয়া বাপ মায়ের নাক কাইট্যা দেয় তারে অন্তরই দাফন দিলাম। কিন্তু মাইয়ার দুইডা অবুজ সন্তানরেতো আর জিন্দা দাফন দেওন যায় না? ওগো কান্দনও সহ্য করতে পারি না। কয়দিন খুব গাইল্যাইছি মনের দুঃখে।এরপর দেহি মাসুম মাইয়া দুইডা মা ছাড়া চলতে শিখ্যালাইছে। ওগোরে ভাতের কষ্ট দেই নাই তয় ওগো মা-ও অইতে চাই নাই। ওগোর মা বাপের ভাগ্য ভালো না হেইডাই ধইরা লইছি। যাগো কপালে আল্লাহই দুঃখ লেইখ্যা রাখছে তাগো আর আমি আলগা সুখ দিমু কেমনে?”

“মা আপনে থামেন, মাগো আর কিছু কইয়েন না আমি আর লইতে পারতাছি না। আমার কইলজাডা জ্বলতাছে, আর কিছু কইয়েন না।” শবনম ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাটা বলে স্বপ্না আর ছন্দাকে বুকে জড়িয়ে ধরল।

“জীবন বড় কঠিনরে শবনম, বড়ই কঠিন। এই যে তুই তোর বাপের মুখে চুন কালি মাইখ্যা দিয়া গেলিগা, কামডা কী ভালো করলি? এই দুইন্যায় কী তুই একলা দুই মাইয়া লইয়া টিকতে পারবি?
গেরাম অইলেও বুঝতাম, বাপের নামডাক দেইখ্যা হিয়াল কুত্তায় মুখ লাগাইতে দুইবার চিন্তা করত, কিন্তু অহন ওই অচেনা ঢাকা শহরে কেমনে বাঁচবি? ওইহানেতে পথে ঘাডে হিয়াল কুত্তায় টাইন্যা ছিড়া খাইতে চাইব। তুই তাগো লগে পারবি?”

“পারতে অইব, আমার যে না পাইরা উপায় নাই। আমার মাইয়া দুইডার লেইগ্যা অইলেও যে আমার পারতে অইব মা। ”

“তোর জীবনডা কী তুই একলা কাডাইতে পারবি? স্বামী অইল মাতার ছাঁদ…. ”

“আমার কপালে যদি স্বামীর সোহাগই থাকত তাইলেতো ছন্দার বাপই ফিরা আইত। হেয় যহন ফিরে নাই তাইলে ধইরা লন, আমার কপালে স্বামীর ভাত নাই। আমারডা আমারই কামাই কইরা লইতে অইব।”
কথা আর বাড়ল না, স্বপ্না ঘুমিয়ে পড়ছে দেখে কথা রেখে মেয়েদের মুখে তুলে ভাত খাওয়াতে মনোযোগ দিল শবনম। আর ওর মা তার মেয়ের চেহারার ভগ্নদশা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।

রাতে দুই মেয়ে ওর বুকে লেপ্টে থাকল। সকালে শবনম ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে খেয়াল করল ছন্দা ওর আঁচলে নিজের হাতে গিট্টু দিয়ে রেখেছে। শবনমের চোখ ছলছল করে উঠল। অবুজ মনের ভয়টা এবার ওর ভেতরও নাড়া দিল। মনকে শক্ত করল এরপর আস্তে করে সেই বাঁধন খুলে নিয়ে বিছানা ছাড়ল।

আজ বাড়িতে একটা উৎসব উৎসব আমেজ বিরাজ করছে সকাল থেকেই। উৎসুক গ্রামবাসী এসে ভীড় করতে লাগল শবনমকে দেখার জন্য। এদের সাথে যে খুব বেশি একটা কথা বলল তেমনটা না। শবনম নিজের মেয়েদের নিয়েই ব্যস্ত থাকল। মেয়ে দুইটাকে উঠানে বসিয়ে ঘণ্টা খানেক সময় নিয়ে গা ঘষে ঘষে গোসল করাল। দূর থেকে বসে ওর মা সব দেখছে কিন্তু কছু বলে না। মায়ের মন বলে কথা, শবনমের ভেতরটাকে যে সেও একটু একটু পড়তে পারছে, কারন সেও যে মা।

সারাদিন লেগে গেল কাগজপত্র সব গোছাতে। কোথাও আর শবনমকে যেতেও হল না। ওর বাবা আর চাচাই সব যোগাড় করে ফেললেন।

ভালো খানাপিনার আয়োজন হলে বাড়িতে বাড়তি মেহমান এমনিতেই আসে। এটা আর নতুন কিছু না। তারপরও এবার যারা এলেন তারা শবনমকে দেখতে আসার চেয়ে ওর চাকরির খবরের সত্যতা জানতেই এলেন বলে মনে হল।

শবনম যখন ওর মেয়েদের জনিসপত্রকে গোছাচ্ছিল ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য তখন ওর চাচা সবাইকে সামনে নিয়ে বসেই মানা করলেন মেয়েদেরকে এই মুহুর্তে ঢাকায় ওর সাথে না নেওয়ার জন্য, বললেন আগে শবনম সব কিছু গুছিয়ে নেক তারপর সুবিধা বুঝে মেয়েদেরকে ওর কাছে নিয়ে যাবে। এখানে ওরা ওর নানির কাছে আছে, মোটামুটি নিরাপত্তা পাচ্ছে। কিন্তু ঢাকায় সেটা পাবে না। চাচার বাসাতেও যে থাকবে সেটাও বিশেষ সুবিধার হবে না।

যদিও বাচ্চাদের ছেড়ে যেতে শবনমের কষ্ট হবে তবুও মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আর কোন কথা তুলল না ও। চুপ করে ঘুমাতে চলে গেল। সারারাত মেয়ে দুইটাকে অনেক অনেক আদর করল। সারারাত আর ঘুম হল না ওর।সকাল হওয়ার আগেই উঠে তৈরি হয়ে গেল। বাড়ি থেকে বের হতে গিয়ে দেখল চাচার সাথে সাদা পাঞ্জাবি পায়জামা পরে ওর বাবাও ওর সাথে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। কেন জানি এবার ওর ভেতরটা আনন্দে ভরে গেল। কিন্তু সেই আনন্দ ওর চোখ দিয়ে পানি হয়ে বের হতে চাইল। কোনরকমে তা চেপে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওরা তিনজন বেরিয়ে পড়ল লঞ্চ ঘাটের উদ্দেশ্যে।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here