শবনম (পর্ব ২৭) সায়লা সুলতানা লাকী

0
27

#শবনম (পর্ব ২৭)
সায়লা সুলতানা লাকী

মেয়েদের শরীর আর খারাপ হয়নি তবে ওরা বেশ দুর্বল হয়ে পড়ল এই দুই দিনের জ্বরে। এখন মাঝে মাঝেই সবুজ ছুটি নিয়ে বাসায় থাকে তাই অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে অফিস করতে পারে শবনম।
একদিন অফিস শেষে বাড়ি ফিরবে তখনই পেছন থেকে শহিদরা ডেকে থামাল ওকে। ওদের সাথে গনি চাচাও আছেন দেখে ও কিছুটা স্বস্তি পেল। কোন কথা না বলে শহিদ কতগুলো টাকা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
“নে এইটা তোর ভাগের টাকা। এখন থেকে তুইও পাবি। গনিচাচা মুরুব্বি মানুষ, সে যদি দাবি করে তাইলেতো আর ফেলতে পারি না। তয় এইভাবেই কাজ করবি আমাদের সাথে ।”
শবনম প্রথমে ভাবল টাকাটা নিবে কী না, পরে গনি মিয়ার ইশারায় হাত বাড়িয়ে টাকাটা নিল। গুনে দেখল ওর মাসের বেতন থেকেও এই টাকার পরিমান বেশি। অনেকটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করল
“ওরে আল্লাহ এইহানেতো মেলা টেকা, বেতনের চাইয়াও বেশি। স্যার যদি শুনে তাইলেতো আমার অবস্থা শেষ।”
“দূর বেক্কল, এইটাতো পুরাই গাধা। স্যার কী আর অজানানি? স্যারগো ভাগ আলাদা। তার হিসাব জানলেতো তুই হার্টফেল করবি।” বলে করিম খেকখেক করে হেসে উঠল।
ওর হাসিতে সবাই হাসলেও শবনমের আর হাসি এল না। বরং ওর মনটাই ঙেঙে গেল। যাকে মনে মনে ফেরেশতা ভেবে বসে আছে সে নিজেও এমন দুই নম্বরি টাকা নেয় তা জেনে যেন ওর হজম হতে কষ্ট হল। কাউকে আর কিছু না বলে ও চলে এল বাড়িতে। ধরে নিল এটাই এখানকার নিয়ম। নিজে আর এর বাহিরে না। স্রোতের বিপরীতে টিকে থাকা দুষ্কর। স্রোতের সাথেই গা ভাসিয়ে এগিয়ে যেতে হবে টিকতে হলে।

পরের মাসে রেশন নিয়ে আর শবনম ওর মেয়েদের সাথে করে যেতে সাহস পেল না। শুধু সবুজই একা গেল। দুইদিন পর ফিরে এল। শবনম বেশ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল গ্রামের বর্তমান অবস্থা কেমন? তখন সবুজ জানাল যে এবারকার রেশনের সিংহভাগই শবনমের শ্বশুর বাড়িতে দিয়ে এসেছে। গঞ্জে থেকে খবর পেয়েছিল শবনমের বাবা যে শাহআলমদের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। জমিরার মা তার ছেলেদের নিয়েও আছে কষ্টে। জমির ঢাকা থেকে যা পাঠায় তা দিয়ে খুব কষ্টে চলে তারা। তাদের সামনেই শাহআলম ওর বৌ আর মা নিয়া কষ্ট করে কিন্তু কেউ ফিরেও দেখে না। কথাটা শুনে সবুজ নিজে গিয়ে তাদেরকে রেশন পৌঁছে দিয়ে এসেছে। তারা রাখতে চায় নাই প্রথমে। পরে যখন বলছে যে শবনম তার নিজের কামাই করা টাকা দিয়া এগুলো পাঠাইছে তাদের জন্য তখন রাখছে। ওইটুকু মিথ্যা না বললে হয়ত তারা সবুজের হাত থেকে ওইগুলো রাখত না।

সবুজের মুখে ওই বাড়ির কথাগুলো শুনে ওর চোখ ভিজে গেল। জীবনের কঠিন সময়ে বানুর সাহায্য সহযোগিতার কথা কোন দিনও ভুলবে না। বানু কষ্টে আছে শুনে ওর বুকটা ফেটে গেল। চুপ করে বসে কিছুক্ষণ নিরবে কাঁদল। ওই একজন মানুষের সাথে মনে হয় এখনও ওর হৃদয়টা বাঁধা। দুলালের বোন না হয়েও ও বোনের মতো ছিল।

সময় সময়ের মতো চলে গেল। ছন্দাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হল। সবুজের পরীক্ষার সময় ওর মা গ্রাম থেকে চলে এলেন। সেই সময়টাতেই ছন্দার স্কুল জীবন শুরু হল। নানির কাছে স্বপ্না বেশ ভালোই থাকে। তাই বোন না থাকলে আর কান্নাকাটি করে না। এদিকে বাড়িতে এখন বকুল আছে জবার কাছে। বাড়িটা আবার গোমস্তা কামলায় ভরে গেছে। ধান উঠানোর সময় এলে এমনিতেই এদের দৌড়ঝাপ বেড়ে যায়। বকুলের এক মেয়ের পর আবার পোয়াতি হয়েছে ও। এই শরীর নিয়ে একটু আরামের জন্যই গ্রামে বাপের বাড়িতে এসেছে। শহরে শ্বশুর শাশুড়ি ননদ দেবর দোকানের কর্মচারী মিলিয়ে বিশজনের রান্না একলা ওকেই করতে হত। এসব থেকে একটু ফুরসৎ মিলত না ওর আর তাই একটু শান্তি পেতেই বাপের বাড়িতে আসা। ওর মাও সেই ব্যবস্থাই করে এসেছেন যাতে ওর কোন কষ্ট না হয়। জবাও এখন নিজেই অনেক দায়িত্ব নিতে পারে সংসারের। এই সুবিধাতেই শবনমের মা ঢাকায় কিছুদিন থাকবেন বলে এসেছেন মেয়ের কাছে।

এছাড়াও ঢাকায় এসেছেন তিনি অন্য আরেক কাজ হাতে নিয়ে। এখানে তিনি শবনমের সাথে সলাপরামর্শও করবেন বলে ধীরস্থির করেছেন।

এদিকে সবুজের পড়ার চাপ বেড়ে গেছে ও মনে প্রানে চাচ্ছে আই এ পরীক্ষায় বসতে। কলেজে এসে ফরম ফিলাপও করেগেল। এরই মধ্যে ও টের পেল ওর মায়ের ঢাকায় আসার কারন, হঠাৎ করেই মায়ের তোরজোর শুরু হল বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়ার তদবিরে । সবুজের ছোট চাচির আত্মীয় এক মেয়েকে সবুজের জন্য পাত্রী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন গ্রামের ঠিকানায়। সেই চিঠি পড়েই তিনি আরও বেশি উৎসাহে ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাব দুই ভাইবোনের সামনে তুলতেই সবুজ প্রথমেই অস্বীকৃতি জানিয়ে দিল। আর শবনম কেমন একটু আমতা আমতা করতে লাগল। সবুজের জন্য এই সময়টা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা শবনম ভালোই বোঝে। পরীক্ষার এই সময়তে বিয়েটা যে একটা ঝামেলা তাও জানে কিন্তু মাকে কিছু বলতে সাহস পায় না। এদিকে ওর মাও নাছোরবান্দা পাত্রী না দেখা পর্যন্ত তার শান্তি নাই। যেভাবেই হোক পাত্রী দেখতে যেতেই হবে। পরে এক শুক্রবার সবাই মিলে কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে গেল পাত্রীপক্ষের বাসায়। ওর চাচি আগড়ম বাগড়ম বলে খুব বোঝাচ্ছিলেন ওর মা’কে। কিন্তু শবনম বা সবুজের কারোর’ই পাত্রী পছন্দ হল না। মেয়ে মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে শুনে সবুজ এক বাক্য শবনমকে মানা করল এই বিয়ে করবে না বলে। এদিকে শবনমের মাও বিয়ের জন্য যেন সবুজ রাজী হয় সেই দায়িত্বও শবনমের কাঁধে তুলে দিলেন ওর চাচির বুদ্ধিতে। ওই বাড়িতে বসে শবনম টের পেল এসবই ওর চাচির কুপরামর্শের ফল। কেনজানিও একটু মনে মনে রাগই হল ওর মায়ের উপর। কেন যে সে এই সহজ বিষয়টা বুঝতেছে না তা ভেবে।
ওই বাড়ি থেকে শবনম ওর বাবা সহ অন্য ভাইবোনদের নিয়ে আসবে জানিয়ে বিদায় নিল সেখান থেকে ।
বাসায় ফিরে পরে রাতে মা’কে সুবিধামতো সময়ে সবটা বুঝিয়ে বলল ওদের সবুজ আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করে তাই বোঝাল। চাচি তার চেয়ে ভালো কোন মেয়ে এ বাড়িতে বৌ হতে দিবে না এমনটাই তার মনোভাব তাই তার দেখানো কোন পাত্রীই সবুজের জন্য ঠিক করা ঠিক হবে না। সারারাত বোঝানোতো মোটামুটি ওর মা বিষয়টা বুঝতে পারলেন। কিন্তু মনে মনে একটা ভয়ও দানা বাধল যে এই সম্মন্ধ মানা করলে আর কখনও ছোট চাচার বাসায় গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না। তার জা এই মানাকে সহজ করে দেখবেন না। কিন্তু তাও সে এই মুহুর্তে নিজের সন্তানদের মতের বিরুদ্ধে কোন সীদ্ধান্ত নিতে অপারগ ।

শবনমের মায়ের উপস্থিতিতে রোডের মুরব্বিদের মাঝে বেশ আনন্দ বিরাজ করল। শবনমের মা নিজেই খুব মিশুক তাই তার এখানে বেশভালোই একটা শখ্যতা তৈরি হয়েছে। একদিন সবাই মিলে ঘরে থেকে চাল ডাল আর টাকা চাঁদারুপে তুলে শবনমদের খালি জায়গায় ইটের চুলা বানিয়ে রান্নাবান্নার বিশাল আয়োজনের ব্যবস্থা করে ফেলল। শবনম অফিস থেকে এসে বাড়ির উঠানে এমন আয়োজন দেখে কী যে খুশি হল তা বোঝানো যাবে না। একটা সময় মনে হল শবনম ওর বয়স ভুলে গেল। বাঁধ ভাঙা আনন্দে সামিল হল রোডের অন্যদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজে সাহায্য করতে। সবুজসহ অন্য বাসার আরও কয়েকজন ছেলে মিলে রাস্তার খাম্বা থেকে তার লাগিয়ে খালি উঠানো বাল্ব জ্বালালো। ওই টুকু আলো যেন কিছু সময়ের জন্য ছন্দা, স্বপ্না সহ শবনমের রংহীন জীবনে এক পশলা রঙের বৃষ্টি হয়ে নামল। আর শবনম কাল পাত্র সব ভুলে সেই রঙিন বৃষ্টিতে ভিজল। অনেক রাত করে রান্না শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে যে যার ঘরে ফিরল। কিন্তু অনেকর মনেই শবনম বসে গেল গোপনে যা শবনম টেরই পেল না।

শবনমের বাবার চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসতেই শুরু হল নতুন উপদ্রব। ছমিরনের মায়ের শরীর ব্যাথা, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি ইত্যাদি একেক সময় একেকটা। শবনমের মা শবনমের অফিস থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে ছিল সারাদিন। পরে শবনম ফিরতেই ঘটনা জানাতেই শবনম বলে উঠল
“সমস্যা নাই খালা, কাইল ভোরে সবুজ তোমারে হাসপাতালে লইয়া যাইব ডাক্তর দেহাইয়া আনতে। তুমি আবার ভালো অইয়া যাইবা।”
শবনমের কথায় যেন ছমিরনের মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল সে জোরে আর্তনাদ শুরু করে দিল, তার যা অসুখ তা ডাক্তারের ঔষধে সারবে না। এটা গ্রামের কবিরাজ লাগবে সারাতে। এখনই বাড়িতে না গেলে সে মারা যাবে যে কোন সময়। এক কথায় সবাই বুঝল আসলে সে আর ঢাকায় থাকতে চাচ্ছে না। গ্রামে যাওয়ার জন্যই তার এই অভিনয়। পরবর্তীতে তিনিই আবার আশ্বস্ত করলেন যে তার অন্য মেয়েকে দিয়ে পাঠাবেন ছন্দা আর স্বপ্নার সাথে থাকার জন্য। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে তাকে ছেড়ে দিতে হল। ছমিরনের মা শবনমের বাবার সাথে গ্রামে চলে গেল। তারপরও শবনম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এই ভেবে যে ওর মা আছেন এই সময়টাতে পাশে, না হলে বড়ই সমস্যার সৃষ্টি হত।

সবুজের পরীক্ষার চাপের জন্য এখন শবনম ওকে কোন দায়িত্ব দেয় না। রোডের মাথার মুদি দোকানে শবনম বলে রেখেছে কেন কিছুর দরকার পড়লে ছন্দা এলেই যেন তা দিয়ে দেয়। এছাড়া বাজার সদাই যা লাগে তা শবনমই করে বিকেলে নয়ত রাতে। মাঝে মাঝে শবনমের মা মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করে মেয়ের এমন অবাধ চলা ফেরা নিয়ে।

কদিন যেতে না যেতেই, রোডের মুরব্বিদের মধ্যে থেকে একজন শবনমের বিয়ের প্রস্তাব পাঠালো। প্রস্তাব শুনেই ওর মা মানা করে দিলেন কারন তিনি জানেন শবনম জীবনে আর বিয়ে করবে না। শবনমের মা আর সেই প্রস্তাবের কথাটা শবনমকে বলে না ভয়ে যদি শুনে রেগে যায়। তিনি চান না এই এলাকার মানুষগুলোর সাথে ওদের কোন মনমালিন্য হোক।

এদিকে ইদানীং শবনম অফিস থেকে ফিরতেই খেয়াল করে বাসস্ট্যান্ডে ওর বাড়ির দুই বাড়ি সামনের বাড়ির খালাম্মার ভাই প্রতিদিনই দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথম প্রথম চোখাচোখি হলে সালাম দেওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকল এরপর একদিন সামনে এসে শবনমের বাজারের ব্যাগটা জোর করে কেড়ে নিল হাত থেকে। বাকিটা পথ টুকটাক কথা বলতে বলতে বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেল। কথা প্রসঙ্গে জানল যে লোকটা এই বাসস্ট্যান্ডেই একটা হার্ডওয়্যারের দোকান দিবে তাই এদিকটাতেই থাকে দিনের বেশির ভাগ সময়।
শবনম প্রথম তাকে মামা বলে সম্মোধন করেছিল, সাথে সাথে সেই লোক অনুরোধ করল তাকে পারভেজ ভাই বলে ডাকতে। মামা বললে নাকি তার শুনতে ভালো লাগে না। মনে হয় বয়স অনেক বেশি। তার কথা শুনে শবনম মনে মনে হাসে, এরপর বলে আচ্ছা ভাইই ডাকবে অসুবিধা নাই তাতে। বাসায় এসে সেই কথা বলে খুব হাসল। ওর মা ওর হাসিতে কী বুঝল তা আল্লাহই ভালো জানেন। তিনিও তাই সম্মতি দিয়ে বললেন
“ভাইই কইবি, হেয় কী আর তোর জ্ঞাতীগোষ্ঠী হয়নি? পাতাইন্যা সম্পর্কে ভাই কী আর মামা কী সবাই এক।”
শবনম ওর মায়ের কথার কোন উত্তর দেয় না।
এর মধ্যে সবুজের পরীক্ষা চলে এল। ওর বাসা থেকে পরীক্ষার কেন্দ্র অনেক দূর হওয়ায় ওর সেই ভোর সকালেই বের হতে হয়। পরীক্ষার এই সময়টাতে ওর মা পাশে থাকায় এখন সেবাযত্নটাও পুরোদমে ঠিক থাকল।
ইদানীং ছন্দার রোডের কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর সাথেই স্কুলে যায়। এখন আর সবুজ যেতে পারে না। আর দরকারও হয় না। বাসা থেকে খুব একটা দূরে না হওয়ায় শবমমের মাও তেমন একটা ভয় পায় না।

সময় বড় অদ্ভুত এক ঔষধ, প্রথম প্রথম বাড়তি টাকাটা নিতে কিছুটা দ্বিধা কাজ করত শবনমের মনে কিন্তু এখন আর কোন দ্বিধার নাম গন্ধও ও টের পায় না। নিজের ভাগ সময় মতো ঠিকই বুঝে নেয়।
মাঝে মাঝে শহিদরা যখন কাজের জন্য দরকষাকষি করে তখন ও নিজেও পাশে থাকে। নিজের এমন পরিবর্তনটা ও টেরও পায় না।
বাজারে মাছ মুরগী কিনতে গিয়ে গাদাগাদি ভিড়ে আর নিজের শরীর বাঁচিয়ে চলার প্রবনতাটুকুও মনে হয় ভুলেগেছে সময়ের জোয়ারে। অফিস ছুটির সময় বাসে জায়গা পেতে ধাক্কাধাক্কি করে উঠে ঠিকই নিজের সীটটা দখল করতে পেরে তৃপ্তির হাসি ফোটে ঠোঁটে।

পারভেজ কারনে অকারনে ওর জন্য অপেক্ষা করে এটা বোঝেও তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। একদিন পেট ব্যথার ঔষধ কিনতে ফার্মেসীতে গিয়ে দাঁড়াতেই পারভেজ ওর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল
“কী কিনো শবনম?”
পারভেজের প্রশ্ন শুনে ফার্মেসী ছেলেটা কেমন একটা বিটকেলের হাসি হাসল যা দেখে শবনমের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। অফিসের কলিগদের ভাষায় ঝাঁঝালো কণ্ঠে ধমকে উঠে বলল
“ওই হালারপো হালা, এমনে হাসোস ক্যা? তোরে ঔষধ দিতে কইছি তুই দিবি, এমন দাঁত ভেটকাইয়া হাসি মারাস ক্যা?”
এমন নাজুক শবনমের মুখে এমন খিরিস্তি শুনে ছেলেটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। মাথা নিচু করে ঔষধ ওকে এগিয়ে দিল টাকাটা বুঝে রাখল।
শবনমের হঠাৎ এমন আচরনে পারভেজও কিছুটা ধাক্কা খেল বলে মনে হল। শবনম কোন রকম ভূমিকা না করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল

“পারভেজ ভাই মাইয়া মাইনষের পেট ব্যথা অইল বিনা হিসাবের একটা অসুখ। এইডারে কোন বেডা হালায়ই অসুখ ধরে না। মাইয়া মাইনষের কষ্টডা কেউ বুঝতে চায় না। তয় না বুঝলেও এইডা অসুখই। অনেক কষ্ট দেয় বুঝলেন কিছু ? ”
শবনমের কথা শেষ হতেই পারভেজ উত্তরে কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু শবনম সে সবকে তোয়াক্কা না করে সোজা হাটা শুরু করল বাসার পথে। পারভেজ কিছু একটা ভেবে ওর পিছু নিল আবার।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here