রোদেলা লেখাঃ #মাহাবুবা_মিতু ৭৯

0
46

#রোদেলা
লেখাঃ #মাহাবুবা_মিতু
৭৯.

সন্ধ্যা ছয়টা,
সুফিয়ানের গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। একটু আগে ফোন করে জানালো সে। ফোনে চার্জ নেই, তাই ফোনটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে তাও জানালো রোদেলাকে। মাঝপথে গাড়ি খারাপ হওয়ায় এত দেরী হয়ে গেলো বাড়ি ফিরতে। রান্নাবান্না শেষ, এখন শাড়ি পরবে বলে ওর রুমে এসেছে রোদেলা। বের করে রাখা শাড়িটা সুন্দর করে পরলো ও, সাথে নাতাশার দেয়া ম্যাচিং অর্নামেন্টস ও পরলো। সাজগোছ বলতে কেবল মুখে ময়েশ্চারাইজার, লিপস্টিক আর চোখে কাজল। একদল মানুষ আছে যাদের বেশী সাজলে সুন্দর দেখার পরিবর্তে পেত্নীর মতো লাগে, রোদেলা এ দলের মানুষ। সুফিয়ান ওকে বলে – “তুমি সিম্পলিই বিউটিফুল” সুফিয়ানের এ কথাটা ভেবে হাসলো রোদেলা।

খাবার দাবার সব গোছগাছ করে রুমে এসে দেখে সাড়ে সাতটা বাজে, তবুও সুফিয়ানের খবর নেই, এদিকে ওর ফোনটাও বন্ধ। কেমন চিন্তা লাগলো ওর। এমন সময় বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠে, খালা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এলো গেইট খুলতে, রোদেলা খালাকে থামিয়ে নিজে যায় গেইট খুলতে।

গেইট খুলে দেখে সুফিয়ান এসেছে। মলিন চেহারা, উসকোখুসকো চুল। ব্যাগটাকে পাশে রেখে ইশারায় জিজ্ঞেস করে “কেমন আছো ? ”
রোদেলা হেসে ওকে জবাব দেয় “ভালো ”

সারাদিনের জার্নির ক্লান্তি ওর চোখেমুখে, রোদেলা যে শাড়ি পরেছে তা খেয়ালই করে নি সুফিয়ান। রোদেলা বুঝতে পারে ব্যাপারটা, ব্যাগটা ওর কাছ থেকে নিয়ে ফ্রেশ হতে বলে। চুলায় গরম পানি করাই আছে, সেটা বাথরুমে পৌঁছে দিলো ও। বাথরুমের গিজার নষ্ট হয়েছে অনেক আগেই। কেউ থাকে না তাই তা আর ঠিকও করায় নি ওরা। ওরা চলে গেলে এ বাড়ি আবার খালি হয়ে যাবে অনিশ্চিত সময়ের জন্য।

বাথরুমে ঢুকে আরাম করে গোসল করে সুফিয়ান। শীতে ও গরম পানি দিয়ে কখনোই গোসল করে না। তবুও জোর করে রোদেলা গরম পানি করে দেয় ওকে। অনেক সময় নিয়ে গোসল শেষ করে বেশ ফুরফুরে অনুভব হয় সুফিয়ানের। রুমে ঢুকে ওর চুলে আঙুল চালিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রোদেলাকে ভিজিয়ে দেয় সুফিয়ান।

রোদেলা রাগান্বিত ভঙ্গিতে তাকায় ওর দিকে, লোশনের বোতল হাতে নিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসে সে। যেন ওকে রাগাতে পেরে সুফিয়ান জয়ী।

বুকেপিঠে লেশন দিতে দিতে সুফিয়ান বলে-
: ” শাড়ি পরলে তোমাকে কিন্তু সুন্দরই লাগে… ”
: ” তাই! ”
: “হুম ”
: ” আমি তো ভাবলাম ক্লান্তিতে খেয়ালই করেন নি ”
: তোমাকে শাড়ি পরতে দেখা আর ধুমকেতুর দেখা পাওয়া আমার কাছে একই, এমন দূর্লভ কিছু আমি খেয়াল না করে পারি? ”
: ” বাহ..! ইমপ্রেস হলাম ”
: ” দেখি দেখি ” বলতে বলতে- রোদেলাকে জড়িয়ে ধরে সুফিয়ান ”
ব্যাস্ত ভঙ্গিতে নিজেকে ছাড়িয়ে রোদেলা বলে-
: ” আপনার ফোনটা চার্জে দিয়েছি, জামাকাপড় পরে নিচে আসুন। আমি খাবার দিচ্ছি ”
: ” আরে দাঁড়াও না, এত তাড়া কিসের, একটু দেখি তোমাকে। এই বৌটাই কি দূরে গেলে এত ভালোবাসে, এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে ? জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে তাকায় সুফিয়ান। আজ দেখবো আমার বৌয়ের ভালেবাসার বহর ”
: ” ওটা তোলা থাকলো, সময় হলে বুঝিয়ে দিবো, কেমন? এখন আসেন ”
: না, না, তা হবে না ” বলেই ওর হাত ধরলো সুফিয়ান। ওকে ঘুরিয়ে আলিঙ্গন করে সুফিয়ান। রোদেলা কোন বাঁধা না দিয়ে সামিল হয় সেই আলিঙ্গনে। রোদেলার তখন মনে হয় কত বছর পর যেন বাড়ি ফিরলো সুফিয়াান। আর সুফিয়ান যেন সন্ধান পায় রোদেলার লুকিয়ে রাখা ভালোবাসার।

সুফিয়ান রোদেলার কপালে একটা চুমু খায়, এতে যেন সুফিয়ানকে আটকে রাখার বন্ধনটা আরো শক্ত করে রোদেলা। এমনি করেই যদি জীবণটা কেটে যেতো? ভাবলো রোদেলা।

সংবিৎ ফিরে ফোনের শব্দে। রোদেলার মোবাইল ফোন বাজছে। সুফিয়ান ওকে ছাড়িয়ে হুডি গায়ে দেয়৷ ততক্ষণে রোদেলা ফোন রিসিভ করে।
ওপাশের কথা শুনে হঠাৎ হাসি মিলিয়ে যায় ওর,
কেমন আৎকে উঠে যেন । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুফিয়ান আয়নাতেই লক্ষ্য করে রোদেলার এমন বিচলতা। ঘুরে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করে রোদেলার এমন বিচলিতার কারন।

কথা শেষ করতেই সুফিয়ান জিজ্ঞেস করে –
: ” কি ব্যাপার ? ”
: ” মায়ের পায়ের উপর শীল পাটা পরেছে, বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল থেতলে গেছে নাকি, ”
: ” বলো কি? ” কোথায় আছেন তিনি?
: ” বাসার খালা ফোন করে বললো, বাসায় কেউ নেই তাই জানালো আমাকে ”
: ” ইশ্ কি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার, চলো তাহলে ”
: ” আপনি যান, আমি যাবো না ”
: ” পাগল তুমি? এসময়ে রাগ অভিমান নিয়ে বসে থাকবে ? ”
: ” আমি তো ঐদিন আসার পর আর তার সাথে…..”
: ” আরে, বাদ দাও তো এসব কিচ্ছা কাহিনী। চলো ”

টেবিল ভর্তি সাজানো খাবার রেখে সেই অবস্থায়ই ওরা রওনা দিলো ‘কৃষ্ণচূড়ায়’ , গিয়ে দেখে নাসিমা তার ঘরে শোয়া, ওদেরকে আসতে দেখে অবাক হন তিনি। সুফিয়ান খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ঘটনা ঘটেছে আজ দুপুরে, মেঝো খালামনি কাজীর ভাত খেতে চেয়েছিলেন, তার জন্য এসব তৈরি করতে গিয়েই হাত ফসকে বিশাল সাইজের শীল পাটাটা তার পায়ে পরে যায়।

ঘটনা শুনে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস গোপন করলো রোদেলা। কিছুদিন পর ও চলে যাবে, কত কি নিতে হবে, কেনাকাটা করতে হবে, এসব রোদেলা ভাবতেই পারে না। তা নিয়ে নাসিমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। তিনি ব্যাস্ত অন্য কাজে….

সুফিয়ান রাগত কন্ঠে বলে-
: দুপুরের ঘটনা, আর আমাদেরকে এখন জানালেন, ইনফেকশনে কত কি হয় তা জানেন?

তাকে নিয়ে নিচে নামতেই রোদেলা বসা থেকে উঠে তাদের পেছন পেছন আসে। নাসিমা এতক্ষণ এমন ভাবে কথা বলছিলেন যেন ঘরে সুফিয়ান ব্যাতিত ২য় কোন মানুষ নেই। ব্যাপারটা চোখে লাগে রোদেলার। এটা নতুন কিছু না, তিনি এমনই। সারাজীবন অন্যায় করবেন আবার ভাব ধরে থাকবেন যেন রাগ ভাঙাবার তার কোন দায় নেই, মা হয়ে, সবার বড় হয়ে তিনি স্বর্গে উঠেছেন। তিনি ভাব ধরে বসে থাকবেন আর বাকীরা তেলের বাটি নিয়ে তার পিছুপিছু ঘুরবেন।

রোদেলা ভাবলো এ ঘটনাটা ওরা জানতোই না যদি বাড়িতে নোভেল কিংবা বাবা থাকতেন৷ তারা কেউ নেই তাই ওরা জানতে পারলো ব্যাপারটা। ঐদিনের ঝগড়া, এতদিন রোদেলার কথা না বলা, এ বাড়িতে না আসাটা হয়তো কিছুটা বদলাবে তাকে, এটাই ভেবেছিলো রোদেলা। কিন্তু আজ তার এই আচরণ বলে দিলো তিনি বদলান নি, বদলাচ্ছেন না বাকী জীবণে ও।

সুফিয়ান একাই তাকে হসপিটালে নিয়ে গেলো। রোদেলা রইলো ‘কৃষ্ণচূড়ায়’। অনেকদিন পর এলো ও এ বাড়িতে। ভেবেছিলো আর আসবে না কখনোই। কিন্তু এসব রাগ অভিমান অর্থহীন। এসবের দাম নেই নাসিমার কাছে। হঠাৎ করে নাসিমার পায়ের আঙুলের কথা মনে করে মনটা খারাপ হয়ে গেলো রোদেলার। মনে কত বদ তার, এত বড় ঘটনা ঘটিয়ে বসে আছেন, জানায়ও নি। এখন যদি খারাপ কিছু একটা হয়ে যায়। সেই দুপুরে পাটা পরেছে পায়ে এখন রাত নয়টা বাজে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় রোদেলা। খারাপ কিছু যেন না হয়৷

হসপিটালের কাজ শেষ করে তারা বাড়ি ফিরে রাত সাড়ে দশটায়৷ ততক্ষণে নোভেল এসেছে বিশ্বজয় করে। নোভেলকে নাসিমা রাখতে চেয়েছিলেন ‘একা থাকলে কোন বিপদ আপদ হয়’ তা ভেবে, কিন্তু কি হলো আজ ? তিনি বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক করতে কুমিল্লা গিয়েছিলেন আজ সকালে, ফিরলো এখন।

সুফিয়ান রুমে বসে ঔষধ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বৃদ্ধাঙ্গুলের নখ তুলে ফেলতে হয়েছে। তারাতাড়ি যেতে পারলে হয়তো রাখা যেতো সেটা।

ওদের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে ফিরতে ফিরতে ঘড়িতে তখন এগারেটা৷ শীতের রাতে মানুষ খুব দরকার ছাড়া বাইরে থাকে না, রাস্তা তাই ফাঁকা। নির্জন রাস্তায় রিকশায় চড়ে বাড়ি ফিরছে ওরা। রোদেলা তারাহুরোয় গরম কাপড় আনতে ভুলে গেছে। গায়ের শাড়ি ভেদ করে ঠান্ডা বাতাস হুহু করে ছুঁয়ে দিচ্ছে ওকে। রোদেলা কেমন শক্ত হয়ে যাচ্ছে ঠান্ডায়, সুফিয়ান তা বুঝতে পেরে হুডির উপর পরা হাফ সোয়েটারটা মেলে দিলো রোদেলার কাঁধে।

মুচকি হেসে ধন্যবাদ জানায় রোদেলা। সোয়েটারটা ঠিক করে গায়ে জড়াতেই হাত থেকে একটা কিছু পরে যায় রিকশার পা-দানিতে। তাড়াহুড়ো করে সেটাকে তুলে নেয় রোদেলা। সুফিয়ান দেখে জিজ্ঞেস করে- ” কি এটা ? ”
রোদেলা বলে- ডায়েরি।

ডায়েরি ব্যাপারটা ব্যাক্তিগত ইস্যু হওয়ায় – আর কেন প্রশ্ন করে না সুফিয়ান। এরপর দুজনেই উপভোগ করে শীতের রাতের রিকশা ভ্রমণকে।

বাড়ি ফিরে খাবার গরম করে টেবিলে দেয় রোদেলা। সুফিয়ান বাথরুম থেকে ফিরে বলে – হসপিটালে যখন মায়ের পায়ের নখটা টেনে তুললো, তা দেখে হঠাৎই আমার মাথাটা চক্কর দিলো, আমি আস্তে করে সেখান থেকে বের হয়ে একটা জুস আর কেক খেয়েছিলাম। ভাবলাম ক্ষুধায় এমন হচ্ছে কি না? এখন পেটটা ফুলে আছে। খেতে ইচ্ছে করছে না।

রোদেলার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। এত কষ্ট করে ও রান্না করেছে সুফিয়ানের জন্য অথচ সে খেতে চাইছে না। জোর করলো না রোদেলা। এক মগ দুধ রুমে নিয়ে গেলো। কিছু না খাক, এক মগ দুধ অন্তত…

সুফিয়ান বিনা বাক্য ব্যায়ে দুধটা শেষ করলো৷ বললো –
: খাবারগুলো তুলে রাখো ফ্রিজে, কাল সকালে…”
রোদেলা হসে দেয় ওর এই অপরাধবোধ দেখে, যেন বাইরে কেক,জুস খেয়ে অন্যায় করে ফেলেছে ও এমন ভাব ওর চোখেমুখে৷

হাসির কারন না বুঝতে পেরে সুফিয়ান বলে-
: ” হাসলে যে? ”
: ” আপনার অপরাধবোধ দেখে। এত অপরাধবোধ দেখানো লাগবে না, আমি কি কিছু বলেছি আপনাকে খাবার না খাওয়ায়? ”
: ” তা, না।”
: ” শুয়ে পরুন আপনি, আমি শাড়ি পাল্টে আসছি। ”

কাপড় হাতে নিয়ে চললো বাথরুমে চেন্জ করতে, একটু থেমে ঘুরে বললো-
: ” আবার ঘুমিয়ে পরবেন না যেন ” বলেই একটা রহস্যময় হাসি হাসে রোদেলা।

ঐ হাসির মর্ম উদ্ধার করতে পারে না সুফিয়ান। শোয়া থেকে উঠে বসে অপেক্ষা করে রোদেলার। শুয়ে থাকলে পাছে না ঘুমিয়ে পরে।

কাপড় বদলাতে বদলাতে রোদেলা ভাবলো আজকের দিনটাই নষ্ট হয়ে গেলো, অথচ কত কি ভাবনা ছিলো আজকের দিন নিয়ে। আজ ওদের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী। এবং দেশে পালন করা প্রথম বিবাহবার্ষিকী। অবাক ব্যাপার হচ্ছে সুফিয়ানের আজকের দিনটার কথা মনেই নেই, ও এমনই। এত বছরে তা ঠিক বুঝেছে রোদেলা।

অনেকে রোদেলার এমন ভাবনা দেখে ভাববে – “এ কেমন মেয়ে রোদেলা? মায়ের এত বড় বিপদ ঘটলো, তার চেয়ে ওর বিবাহবার্ষিকী পালন বড় হয়ে গেলো?”

যারা জানে না তাদের কাছে এমন ভাবনা অযৌক্তিক কিছু না। কিন্তু রোদেলা জানে- ওদের জীবণে এমন কোন খুশির ঘটনা নেই যা ওদের মায়ের হাত ধরে এসেছে। বরংচ অন্যের অনেক উপহার দেয়া খুশি কিংবা আনন্দের ঘটনা নষ্ট করেছেন, করতে চেষ্টা করেছেন নিজ হাতে। এইতো কিছুদিন আগে-
সদ্য বিবাহিত দম্পতি রেজওয়ান-প্রিসিলা হানিমুনে যাবে সেন্টমার্টিন, টিকিট সব আগেই বুক করা। এরিমধ্যে ছোট খালামনির বর কি এক ঝামেলায় জড়িয়ে জেলে গেলেন। ঝামেলাটা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে জটিল থেকে জটিলতর হলো। এসব ঝামেলায় অনভিজ্ঞ হওয়ায় বেশ বেগ পেতে হলো তাদেরকে। সবাই ভেঙে পরলেন, সবচেয়ে বেশী ভেঙে পরলেন নাসিমা। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার বরই হাজতে, কেঁদেকেটে একসার, খাওয়া দাওয়া বন্ধ। দিনে দুবার করে যান বোনের বাড়িতে তাকে স্বান্তনা দিতে।

এমন সময় প্রিসিলা ব্যাস্ত স্বামী নতুন সংসার, নতুন পরিবেশ আর হানিমুন নিয়ে। রোদেলা একবার এসে দেখা করে গেছেন খালামনিদের বাসায় গিয়ে। প্রিসিলা আসতে পারে নি নানান ব্যাস্ততায়। নাসিমা ফোন করে বিরক্তি ঝেড়েছিলেন ওর উপর। যার সারমর্ম হচ্ছে – তার বোনের এত বড় বিপদ আর ওরা রং তামাশা নিয়ে ব্যাস্ত, আরো কত কত বাজে কথা। ফোন রেখে প্রিসিলা কেঁদেছিল সেদিন। বলেছিলো যাবে না ও সেন্টমার্টিন।

অথচ ছোট খালামনি নিজে কিছুই বলে নি প্রিসিলা না আসায়। তিনি হয়তো এমন কিছু ভাবেনও নি। ভাবলেও উল্টো বুঝতে পেরেছেন নতুন বিয়ে ওদের, ব্যাস্ত থাকাটাই স্বাভাবিক।

প্রিসিলা যদি যেতে নাও চায় তবুও কি ওদের যাওয়া কেন্সেল করা সম্ভব? তিনি প্রিসিলার খালু, রেজওয়ান কেন ওর জীবণের এই বিশেষ মুহূর্তটা নষ্ট করবে? মা হিসেবে কি করা উচিত ছিলো? ওদের যাবার ব্যাপারটা গোপন রাখা, এ ব্যাপারটা না তোলা
কারন এ সময়টা হয়তো একসময় পরিয়ে যাবে, সবকিছু স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ওদের এই মুহুর্তটা কি ফিরে আসবে আর? কদিন বাদে রেজওয়ান চলে যাবে ইংল্যান্ডে, প্রিসিলা বেচারী একা পরে থাকবে এখানে। এসময় সবচেয়ে জরুরি দুজনের একসাথে সময় কাটানো। অথচ এসব তিনি একবারও ভাবছেন না।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here