#প্রেমময়নেশা(The Story of a psycho lover)
#পর্ব-37
#Jannatul_ferdosi_rimi( লেখিকা)
জনির নাক থেকে গলগল করে রক্ত বেড়িয়ে পড়ছে।আয়ুশ তাও যেনো শান্ত হচ্ছেনা সে মেরেই যাচ্ছে। আয়ুশের জনিকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে। জনি কোনোরকম আয়ুশের পা জড়িয়ে বলে উঠলো– এইবারের মতো আমাকে ক্ষমা করুন। আয়ুশ আবার জনির নাক বরাবর ঘুসি দিয়ে বলে উঠলো–হুহ ক্ষমা?? রাইট???(কিছুটা ভাবার ভান করে)
।।।।।🌸🌸🌸
তারপর সে বাঁকা হাঁসি দিয়ে জনির গাল শক্ত করে ধরে বলে উঠে–তোর এই মুখ দিয়ে অই মেয়েটার সম্পর্কে বাজে কথা বলেছিল?? তাইনা??
জনি ভয়ে থরথর করে কাঁপছে।
কেননা আয়ুশকে প্রচন্ড হিংস্র লাগছে।
এদিকে আমি টকোপিকে নিয়ে উনাকে খুজে যাচ্ছি
কোথায় উনি??
ইসসস
আমি টকোপিকে বলে উঠলাম–।
কিরে তুই জানিস উনি কোথায়???
টকোপি আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে
তখনি একটি চিৎকার ভেসে আসে।
কেউ জোড়ে চিৎকার করে যাচ্ছে।
কিন্তু কে???
টকোপি আমার কোল থেকে নেমে দৌড়ে চলে যাই।
আরে এই টকোপি আবার কোথায় গেলো।
।।।
আমি ও টকোপির পিছনে যেতে লাগলাম। এই টকোপিও না এতো জোড়ে দৌড়ায় বাবা রে বাবা।
।।।।।।
আমান বারবার এদিক অদিক তাঁকাচ্ছে।
ইশা আমানের দিকে তেড়ে আসে।
ইশাঃ অই মেয়েটা কোথায়??
আমান শান্ত গলায় বলে উঠে–
কার কথা বলছেন আপনি??
ইশা চোখমুখ শক্ত করে বলে উঠে–
কার কথা বলছি বুঝতে পারছেন না?অই অসভ্য মেয়েটা যে মেয়েটা আপনার সাথে ছিলো।
আমান এইবার রেগে যায়।
এই মেয়েটা তার রিমিপাখিকে অসভ্য বলছে।
আমান বলে উঠে–
দেখুন মিস নিজের ভাষা সংযত করুন।
আপনি কাকে অসভ্য বলছেন??
আর কে অসভ্য তা তার ব্যবহারেই বুঝা যায়।
ইশা আমানের দিকে তেড়ে বলে উঠে–
তার মানে আপনি আমাকে অসভ্য বলছেন আমাকে???
আর অই মেয়েটা সাধু??
শুনুন ভালোই ভালোই অই মেয়েটাকে বলে দিবেন আমার আয়ুশের থেকে দূর থাকতে নাহলে আমি কতটা খারাপ হতে পারি তার কোনো ধারনা নেই।
আমান হাত ভাজ করে বলে উঠে–
আপনি কোনোভাবে রিমিকে থ্রেট দিতে চাইছেন??
তবে শুনে রাখুন এই আমান শিকদার থাকতে তার রিমিপাখির গাঁয়ে একটা আচরেও দিতে দিবেনা
ইশা রাগে রাগে ফুশতে ফুশতে বলে উঠে–
সেটা দেখা যাবে।
আই উইল সি।।
এই বলে ইশা গটগট করে চলে যায়।
।।।
আমান চিন্তায় পড়ে যায়।
এই মেয়ে তাহলে আয়ুশের ফিউন্সি।
যথেষ্ট ডেঞ্জারেস মেয়ে।
এই মেয়ের থেকে রিমিকে সাবধানে রাখতে হবে।
কিন্তু আয়ুশ কি অয়ন নাকি সত্যিই আয়ুশ।
জানেনা আমান।
এইটুকু জানে তার রিমিপাখির ভালোবাসা মিথ্যে হতে পারেনাহ।।
।।।।।
মিসেস মল্লিকা গাড়িতে বসে আছে।
আজকে কিছু অফিসে ইম্পোর্টেন্ট মিটিং আছে সেগুলো হ্যান্ডেল করতে হবে।
তখনি তার ফোনে একটা কল আসে।
সে তাড়াতাড়ি কলটি রিসিভ করে বলে উঠে–
জ্বী বলুন মিসেস খান স্পিকিং!!
—+++///
মল্লিকাঃ দেখুন আমি যথেস্ট পেমেন্ট করেছি।
আপ্নারা মেডিসিন দিতে থাকুন
।—–+++++
মল্লিকাঃ আরে বাবা হ্যা!!
আমি আজকে আরো পেমেন্ট পাঠিয়ে দিবো ডোন্ট ওয়ারি।
—+++++++
মল্লিকাঃ ওকে ধন্যবাদ ( খানিক্টা হেঁসে)
।।।।।।
রুশান টাই পড়ছে
রুশনি বলে উঠলো–
কলি আপু একটু অসু্স্হ আমি তাকে ডক্টর এর কাছে নিয়ে যাচ্ছি
রুশান কিছু একটা ভেবে বলে উঠলো–
রুশনি তোমার তো একটা পার্টি আছে রাইট??
রুশনিঃ হুম তা আছে।
রুশানঃ তাহলে বরং আমিই নিয়ে যাই।
।
রুশনিঃ তুমি তো ব্যস্ত থাকো??(ভ্রু কুচকে)
রুশানঃ কলি আপুকে ডক্টর এর কাছে নিতে তো পারিই।
রুশনিঃ আচ্ছা তাহলে তুমিই ওকে নিয়ে যেও।
।।।।।🌿🌿
আমি দৌড়ে গিয়ে দেখলাম।
টকোপি উনার কাছে।
আয়ুশ টকোপিকে আদর করে যাচ্ছে।
আমি তাড়াতাড়ি দৌড়ে চলে এলাম
আমি বলে উঠলাম–
টকোপি এখানে?
আয়ুশঃ ওয়াও এই কেট টা তোমার???
বাট অনেক কিউট।
আমি বলে উঠলাম–
ওর নাম টকোপি!!
আয়ুশঃ নাইস নেম।
আমি খানিক্টা চুপ হয়ে বলে উঠলাম–
কিন্ত এখানে একটি চিৎকার এর আওয়াজ আসলো
আয়ুশঃ কই আমি তো শুনলাম নাহ।
সত্যি হবু স্বামীর শোকে আপনি পাগল হয়ে গিয়েছেন।
আমি মুচকি হেঁসে বলে উঠলাম–
শোক তো বটেই। আমার সাইকো আমাকে চিনতে পারছেনা।
আয়ুশ চুপ হয়ে গেলো।
আমি উনাকে দিকে এগোতে এগোতে বলে উঠলাম–
কি আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না???
আয়ুশঃ একি আপনি এইভাবে এগোচ্ছেন কেন??
(ঘাবড়ে গিয়ে)
আমি হেঁসে বলে উঠলাম–
এই স্মৃতি শক্তি চলে যাওয়ার সাথে সাথে কি স্বভাবও বদলে ফেললেন নাকি??
আগে তো আপনি আমার কাছে আসতেন আর আমি লজ্জা পেতাম।
আর এখন উল্টো।।
এই বলে আমি উনার একেবারে কাছে চলে আসি।
টকোপি দৌড়ে কোথায় যেনো চলে যায়।
আমি উনার এতো কাছে যে দুজনের নিঃশ্বাস এর শব্দ দুজন শুনতে পারছি।
আয়ুশ ঘেমে একেবারে ঘেমে গেছে।
আয়ুশঃ দেখুন
আয়ুশকে বলতে না দিয়ে আমি বলে উঠলাম–
দেখার জন্যই তো এতোটা কাছে এসেছি।
এই বলে আমি আরেকটু উনার দিকে ঝুকে পড়ি।
আয়ুশ রিমির সেই মায়াবী চোখের দিকে তাঁকিয়ে একেবারে থমকে গেলো।
এই টানা টানা চোখ আয়ুশকে বড্ড টানছে।
কিন্তু কেন?? এই মেয়ের মাঝে এমন কি আছে??
আমি এদিকে অনেকটা ইমোশনাল হয়ে পড়েছি।
আমি সিউর উনিই আমার সাইকো আমার ভালোবাসা।
কতদিন পরে আবার সেই চাউনি।
আমি কী করে উপেক্ষা করতে পারি??
আমি যে জানি উনিই আমার সাইকো যে নিজের রিমিপরীর জন্য সব কিছু করতে হবে।
আমি আবেশে নিজের চোখজোড়া বন্ধ করে নিলাম।
।।।।।।
আমান রিমিকে খুঁজছে তখনি দৌড়ে টকোপি আমানের কাছে আসে।
আমান টকোপিকে কোলে নিয়ে বলে উঠে–
টকোপি রিমিপাখি কোথায়??
টকোপি আমানকে ইশারা করলো অইদিকে যাওয়ার জন্য।
আমানঃ অইদিকে??
টকোপি মাথা নাড়ালো।
আমান টকোপি কে নিয়ে চলল।।
।।।।
এদিকে আমি চোখমুখ কিচে একেবারে বন্ধ করে ফেলেছি।
আয়ুশ একেবারে রিমির সেই মায়াবী মুখে হারিয়ে গেছে।
তখনি খট কে ইশা ঢুকে পড়ে
কারো পায়ের আওয়াজে আয়ুশ দূরে সরে দাঁড়ায়
আমার প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে
দুরর।
কে এলো ।।
ইশাঃ আয়ুশ তুমি এখানে?? এই মেয়েটা সাথে কি করছো??( অবাক হয়ে)
আমি বলে উঠলাম– আপনি কে??
ইশাঃ ওহ আচ্ছা আমাকে তুমি চিনো নি??
আমি ইশা আয়ুশের হবু বউ। অইযে ফোনে বলেছিলাম না আমাদের এন্গেজমেন্ট কয়দিন পর।
আমি উনার দিকে তাঁকায়।
উনি আমার থেকে দৃসটি সরিয়ে বলে উঠে–
ফোনে মানে???
ইশাঃ ওহ তুমি বুঝবে না আয়ুশ। কিছু পার্সোনাল কথা ছিলো।
রিমিঃ এই সে ইশা শাকচুন্নি। দূর একটা না একটা শাকচুন্নি ঠিক আমার কপালে জুটে যায়।
।।।।
ইশা উনার দিকে এগিয়ে বলে উঠে–
তুমি এখানে কি করছিলে??
আয়ুশঃ কিছু কাজ ছিলো
কিন্তু তুমি এখানে??
ইশা খানিক্টা আয়ুশের কাছাকাছি গিয়ে বলে উঠে–
আমার হবু স্বামীর খেলা আর আমি আসবো নাহ এইটা কি হয়?? যেখানে সব বাইরের মেয়েরাও এসে গেছে।
( রিমিকে শুনিয়ে)
এদিকে আমি রাগে থরথর করে কাঁপছি।
ইশা ঢং করে বলে উঠে–
আয়ুশ চলো
আজকে তুমি জিতেছো একটা সেলিব্রেশন তো হওয়াই যায়
এই বলে ইশা আয়ুশের হাত ধরতে নিলে
আয়ুশ বলে উঠে–
ইশা প্লিয আমার এইসব ভালো লাগেনা।
হাত ধরবেনা।
ইশা রেগে রিমির দিকে তা্কায়।
এদিকে আমি মনে মনে হাঁসছি
বেশ হয়েছে একেবারে কত্তবারে শখ আমার সাইকোর হাত ধরতে যায়।
একেও পায়েল শাকচুন্নির মতো শিক্ষা দিতে হবে।
আয়ুশ আগে যায়।
ইশা রেগে বেড়িয়ে যেতে নিবে
তখনি আমি তাকে পা দিয়ে লাথ মেরে দেই।
ইশা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে যাই।
আমি হেঁসে দেই।
রিমিঃ কি শাকচুন্নি খুব শখ আমার সাইকোর সাথে সেলিব্রেশন করার।
করাচ্ছি সেলিব্রেশন (মনে মনে)
#দ্বিতীয়_অধ্যায়
চলবে
38 part
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=122122569308106573&id=61553197202722&mibextid=Nif5oz