কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ২৭.

0
383

#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

২৭.

হোটেলের রুমের দেয়াল ঘড়িটায় পাঁচটা বায়ান্ন বাজছে। তাথৈ দুইসিটের সোফাটার ওপর লম্বালম্বিভাবে বসে। সোফার এক হাতলের ওপর হাটু ভাঁজ ফেলে, আরেক হাতলে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে ও৷ পাশের বিছানা দুইটায় আলো-শার্লি, সিনিয়র মেয়েদুইটা ঘুমাচ্ছে। হোটেলে ফিরে ও সেইযে থমকে বসে আছে, আলো-শার্লির কোনো কথার কোনো জবাব দেয়নি। ওভাবেই সোফায় বসে ছিলো। ওর নিরবতার কাছে হার মেনে বসে থাকতে থাকতে এলোমেলেভাবেই ঘুমিয়ে গেছে আলো-শার্লি। সারাটারাত ঘুম নামেনি তাথৈয়ের চোখের পাতায়। ওর পায়ে এখনো কাদাবালি লেগে আছে। সেদিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ও। পাশের টি টেবিলে ফোন জ্বলতে দেখে, বেখেয়ালিপণায় কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরে ও। ওপাশ থেকে স্পষ্টগলায় ভেসে আসে,

– হেই? জেগে আছো?

তাশদীদের কন্ঠ শুনে চমকে ওঠে তাথৈ। ফোন কান থেমে নামিয়ে অচেনা নাম্বারটা দেখে নেয়। ওপাশ থেকে তাশদীদ আবারো ‘হ্যালো!’ বলে। তাথৈ ফোন কানে নিয়ে নোয়ানো স্বরে বললো,

– হু্ হুজ দেয়ার?

– তাশদীদ ওয়াসীর। আব্ তুমি একটু ব্যালকনিতে আসতে পারবে?

তাথৈ দু সেকেন্ড সময় নিয়ে ছুট লাগালো ব্যালকনিতে। চারতলা থেকে নিচে তাকালো। তখনো ভোরের আলো ফোটেনি। ইটবিছানো সরু রাস্তার দু পাশের গোলাকার লাইটগুলোতে কালো-খয়েরী হুডি পরিহিত মানুষটাকে চিনতে সময় লাগেনি তাথৈয়ের। ওখানে তাশদীদ দাড়ানো। একহাতে ওর কেডসজোড়া, আরেকহাতে কানে ফোন ধরে আছে সে। তাথৈয়ের অবয়ব দেখতে পেয়ে তাশদীদ হাতের জুতা নাড়ালো। আগেররাতে জুতাজোড়া নিজের রুমে নিয়ে যায়নি ও। হোটেলের বাইরেই রেখেছিলো। সকালবেলা বেরোনোর আগে শান্তর কাছে থাকা লিস্ট থেকে তাথৈয়ের নম্বর নিয়ে বেরিয়েছে। জুতা ফেরত নিয়ে যেতে বলবে বলে। ফোনে বললো,

– তোমার জুতা।

তাথৈ জবাব দিলো না। কান থেকে ফোন নামিয়ে পা বাড়ালো রুমের বাইরে বেরোবে বলে। রীতিমতো ছুটলো ও। লিফট আসতে দেরি করছিলো বলে সিড়ি বেয়েই নামতে শুরু করে দেয় তাথৈ। মাত্র কয়েকমিনিটে চারতলার সিড়ি বেয়ে নামে ও। হোটেলের বাইরে তাশদীদের সামনে দাড়ালো। তাশদীদ ওকে নিচে দেখে অবাক হয়। জবাব দেয়নি বলে ফোন কেটে নিজের কাজে যেতে উদ্যত হচ্ছিলো ও। কিন্তু এখানে তাথৈ ওর সামনে। অবাক হয়ে আপাদমস্তক দেখে নিলো ও তাথৈকে। ভোরের শীতের মধ্যেও তাথৈয়ের শরীরে কোনোরকম শীতবস্ত্র নেই। সেই গতরাতের সাদা কুর্তা, গিরার ওপর গুটানো জিন্স, এলোমেলো চুল। পায়ে জুতাটা নেই, বরং শুকনো কাদামাটি লেগে আছে। খালি পায়ে এই শীতল মেঝেতে হাটাহাটি করছে ও। কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তাথৈয়ের। তাশদীদ জুতাটা বাড়িয়ে দিলো ওর দিকে। জুতা হাতে নিয়ে চলে আসার জন্য পেছন ফেরে তাথৈ। পেছন থেকে তাশদীদ বলে উঠলো,

– সূর্যোদয় দেখতে যাবে?

তাথৈ পরিপূর্ণভাবে পেছন ফিরতে দেখে প্রথমবার তাশদীদ দমে যায়। কথাটা বলে নিজেও অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছে ও। কাল রাতে তাথৈকে একপ্রকার জোরই করেছিলো ও। রাত পোহাতে না পোহাতে ওকে আবারো এভাবে বলাটা হয় ঠিক হলো না। তাশদীদকে অবাক করে দিয়ে তাথৈ দুবার মাথা ওপরনিচ করলো। মানে ও যাবে। দৃশ্যটা তাশদীদের বিশ্বাস হলো না। আশপাশ তাকিয়ে নিজের ভুল ভাঙাতে দু দন্ড সময় নিলো ও। তারপর আবারো তাকালো তাথৈয়ের দিকে। লাভ হয়নি। তাথৈয়ের দৃঢ়তা বলে দিচ্ছে, ও যাবে ওর সঙ্গে। তাশদীদ গলা ঝেরে নিজেকে স্বাভাবিক করলো। কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে বললো,

– আব…বাইরে ঠান্ডা…

– আমার শীত করছে না!

তৎক্ষনাৎ জবাব দেয় তাথৈ। তাশদীদ কথা বাড়ানোকে সমাচীন মনে করলো না। এই মেয়েটার উৎসাহকে নষ্ট করতে ইচ্ছে করছে না ওর। ঘাড় নাড়িয়ে বুঝালো, চলো। তাথৈয়ের চেহারাজুড়ে খুশি নেমে আসে৷ শব্দহীন হেসে জুতাজোড়া পরে নেয় ও। দ্রুতপদে এগোয় বাইরের দিকে। তাশদীদ পেছন থেকে ওকে পরখ করতে করতে এগোলো। তাথৈয়ের মাথায় এখন আরকিছুই নেই। ডানহাতে বা হাতের কনুই ধরে দ্রুতপদে সমুদ্রতীরের দিকে যাচ্ছে ও। হাটছে না। বরং মৃদ্যু গতিতে দৌড়াচ্ছে। যেনো জনম জনম হলো ওর সমুদ্রের সূর্যোদয় দেখার আগ্রহ। অথচ গতকাল অবদি এখানকার কোনো বিষয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলো না ওর। সমুদ্রতীরের দিকে কিছুটা এগিয়ে তাথৈয়ের হাত ধরলো তাশদীদ। ওকে থামিয়ে দিয়ে বললো,

– এদিকে না।

– তাহলে?

তাশদীদ আঙুল দিয়ে কিছুটা দুরের পাহাড়ের দিকে ইশারা করলো। তাথৈ কিছুটা বিস্ময় নিয়ে বললো,

– ওখানে? কিভাবে?

তাশদীদ আশপাশে তাকালো। সুর্যোদয় দেখতে তীরে অনেকেই এসেছে। পাশেই এক ডাব বিক্রেতা সাইকেলে করে ডাব ঝুলিয়ে রেখেছে। কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ডাবগুলো। মানে এখনো দোকান খোলেনি সে। মাঝবয়সী দোকানদার বসেবসে মোবাইলে কিছু একটা দেখছে । তাশদীদ এগিয়ে গেলো। দোকানদারের সামনের টুলটায় কাছে হাজার টাকার পাঁচটা নোট রাখলো। তারপর ডাবগুলো সাইকেল থেকে নামাতে নামতে বললো,

– ঘন্টা খানেকের মধ্যে আসছি।

দোকানদার ফোন থেকে চোখ তুলে তাশদীদকে থামাতে উদ্যত হচ্ছিলো। কিন্তু ওর কথা শুনে থেমে যায়। তাশদীদ সাইকেল ঠেলে নিয়ে তাথৈয়ের দিকে এগোলো। তারপর চড়ে বসে ওকে ইশারা করলো পেছনে বসে পরার জন্য। তাথৈ অপ্রস্তুত হয়ে বললো,

– আমার সাইকেলে চড়ার অভ্যাস নেই।

তাশদীদ এবারে ওর হাত ধরে ওকে সাইকেলের সামনে বসালো। তারপর সাইকেল চালাতে শুরু করলো। কিছুটা চকিত হলেও নিজেকে সামলে নিলো তাথৈ। সামনের হাতল ধরে ঘাড় ঘুরিয়ে তাশদীদের দিকে চেয়ে রইলো ও। আবছা আলোতে তাশদীদের গালের খোচাখোচা দাড়িগুলো বোঝা যায়। হুডির গলার দিকটা দিয়ে ভেতরের সাদা টিশার্টটা কিঞ্চিৎ দেখা যাচ্ছে ওর। মুখে ‘শীত লাগছে না’ বললেও শীত করছিলো তাথৈয়ের। সাইকেলে বসার পর গতির কারনে শীতটা বাড়ার কথা। কিন্তু বাড়লো না। জানুয়ারীর ভোরের শীতলতা, সমুদ্রপাড়ের গা হিম করা বাতাস আজ হার মেনেছে। তাশদীদ ওয়াসীরের দু হাতের ভাজ, বুকের মাঝখানটার উষ্ণতার কাছে হার মেনেছে সমস্ত শীতলতা, সমস্ত হিম। তাশদীদের দেওয়া নোটগুলো গুনতে গুনতে ডাব বিক্রেতা হাসলেন। সমুদ্র তাকে নিত্যনতুন প্রেম দেখায়। তবে আজকের প্রেক্ষাপট কিছুটা আলাদা। সেখানে কেউ প্রেম জড়িয়ে সূর্যোদয়ের জন্য অপেক্ষা করছে না। বরং আলোছায়ার মিলনরেখায় দুজন মানব মানবী গতিশীল। সাইকেলে করে যেনো সুন্দরতম ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে তারা।
বেশ দ্রুতগতিতে সাইকেল চালিয়ে একটা পাহাড়ের ঢালুতে থামলো তাশদীদ। সাইকেল থেকে নেমে তাথৈকে বললো,

– ওপরে উঠতে হবে। দ্রুত চলো!

তাশদীদ রাস্তাটা বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করে। আলো বাড়তে শুরু করেছে চারপাশে। সূর্যোদয় হতে খুববেশি দেরি নেই। তাথৈও ওর পেছনপেছন পাহাড় চরছে। কিন্তু কিছুটা উঠতেই হাপিয়ে যায় ও। হাটুতে দুহাত রেখে উবু হয়ে হাপাতে থাকে। সামনে তাকিয়ে দেখে তাশদীদ পরিপূর্ণ স্বাভাবিক। যেনো এভাবে দৈনিক পাহাড়ে চড়ে অভ্যস্ত ও। তাশদীদ তাথৈকে দেখতে পেছন ফিরলো। ওকে ওমন হাপাতে দেখে হেসে দিয়ে বললো,

– কি মেমসাহেব? হাপিয়ে গেছেন? অর্ধেক পথও তো আসেননি!

তাথৈ দম নেয়। আবারো ওপরে উঠতে থাকে। ঢালুটার দু পাশে হাটু অবদি বড়বড় ঘাস, জঙ্গলের মতো। বোঝাই যাচ্ছে মানুষের যাতায়াতের জন্য পায়ের নিচে কোনো ঘাস গজায়নি। পাহাড়ের চূড়া দেখে শুকনো ঢোকে গলা ভেজালো তাথৈ। নিজেকে নিয়ে অতিকষ্টে পৌছালো চূড়াতে। আশপাশ না দেখে হাঁপাচ্ছিলো ও। তাশদীদ কিছুটা কিনারায় এগিয়ে গেলো। সূর্যোদয়কে ঘিরে মানুষ এতো উত্তেজনা নিয়ে বসে থাক। অথচ এটুকো অনুধাবন করে না, সূর্যোদয়ের আগমুহূর্তটাও ঠিক ততোটাই সুন্দর। তাথৈ ক্লান্ত চাওনিতে ডানে বামে দেখলো। দু পাশে কেবল সবুজ পাহাড়। কোনোরুপ আকাঙ্ক্ষা না রেখে সামনে তাকালো তাথৈ। কিন্তু তৎক্ষনাৎ সমস্ত ক্লান্তি উবে গেলো ওর। সামনে যতোদুর চোখ যায়, দৃষ্টির কোনো সীমারেখা নেই। আকাশে ভাসা ছাইরঙা মেঘের দল, অসীমে জল-আকাশের মিলন, সেখানেই আলোর প্রথম রশ্নির আভা, পাহাড়ের নিচেই ঢেউ আছড়ানো বিস্তীর্ণ তীর, আর ওর থেকে দুহাত দুরুত্বে উল্টোপাশ হয়ে দাড়ানো এক পুরুষালি অবয়ব। তাশদীদ হুডির পকেটে দুহাত গুজে দুরে আকাশ দেখায় মনোযোগী। মন্ত্রপুতের মতো একপা দুপা করে এগোলো তাথৈ। তাশদীদ বললো,

– দু মিনিট ওয়েট করো। অন্য কোনো দিক তাকিও না।

তাথৈয়ের কানে গেলো কথাটা। কিন্তু তবুও যেনো ও শুনতে পেলো না। কিছুটা পেছনে দাড়িয়ে একদৃষ্টিতে তাশদীদের দিকেই তাকিয়ে রইলো ও। ওর চোখ অন্য কোনোদিক তাকাতে আগ্রহী না, ওর মন-মস্তিষ্ক কেউই আজ ওকে অন্যকোনো দিকে তাকানোর অনুমতি ওকে দেয়নি। তাশদীদ আকাশে তাকিয়ে পাঁচ থেকে উল্টোদিকে গুনতে শুরু করলো। ও এক বলাতেই সূর্যের প্রথম রশ্নি এসে পরলো ওর চোখেমুখে। চেহারাজুড়ে লালচে রোদ নিয়ে দাড়ানে সে হাসোজ্জল মানবের চেহারার দিকে তাথৈ মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে রইলো। সময় পার হয়ে যায়। তাশদীদ সামনে থেকে চোখ সরায়। তাথৈয়ের দিক ফিরে ওকে ইশারায় বুঝালো, ‘দেখেছো?’
ধ্যান ভাঙে তাথৈয়ের। সামনে তাকিয়ে দেখে সূর্যোদয় শেষ। সকালের আলেকরশ্মিটা তাশদীদের চেহারায় দেখেছে ও। তাশদীদ ওরা জবাবের জন্য অপেক্ষা করলো না। আবারো ওর হাত ধরে ছুট লাগিয়ে বললো,

– চলো আরেকটা জিনিস!

নিজেকে সামলে তাশদীদের সাথে দৌড়ালো তাথৈ। পাশের টিলাটার মাঝে একটুখানি খাদের মতো জায়গা। তাশদীদ তাথৈয়ের হাত ছেড়ে নিজে আগে সেখানে নামলো। তারপর আবারো হাত বাড়িয়ে দিলো তাথৈয়ের দিকে। ওর হাত ধরে নিচে নামে তাথৈ। তাশদীদ আঙুল দিয়ে কিছু একটা দেখালো ওকে। আঙুলের দিক অনুসরণ করে সেদিকে তাকালো তাথৈ। কিন্তু আলোর ঝলকানিতে তৎক্ষনাৎ চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো ও। চোখ পিটপিটিয়ে আবারো ওপরে তাকিয়ে দেখে ঢালুর সামনে কয়েকটা ছোটবড় টিলা। আর সবচেয়ে উচু টিলার ওপরে একটা সোনালু ফুলের গাছ। পুরো গাছটায় হলুদ ফুল ঝুলছে। উপরন্তু সকালের সোনারঙা রোদ। সব মিলিয়ে গাছটা অপার্থিব এক সৌন্দর্য তৈরী করে দিয়েছে যেনো। আবারো আলোর প্রতিফল চোখে লাগে তাথৈয়ের। ও খেয়াল করলো সোনালুর গাছটার ফুলের সাথে কিনারার ডালে কাচসদৃশও কিছু ঝুলছে। ঠিকঠাক দেখার পর বুঝলো, ওখানে দশবারোটা আয়না ঝুলানো। গোলাকার, চারপাশ কারুকাজকরা। দুর থেকে দেখেই বোঝা যায়, ওগুলো উচুনিচু করে ঝুলানো। কিন্তু বুনো গাছে কেউ এভাবে কেনো আয়না ঝুলাবে? কিছুটা অবাক হয়ে তাশদীদের দিকে তাকালো তাথৈ। সে মুগ্ধ চোখে ফুলে আবৃত গাছটার দিকে তাকিয়ে। তাশদীদ বললো,

– এটা কিন্তু নতুন কোনো জায়গা না। এটাও হিমছড়ির একাংশ। কালকে সবাই যখন টিকিট কেটে ঝর্ণা আর সমুদ্রের ওভারভিউ দেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, এই গাছটার ঝুলন্ত কলিগুলো আমার নজর কেড়েছিলো। আমি বিকেলেও এদিকটায় এসেছিলাম। তখনও গাছের ফুল ফোটেনি। হাটাহাটি করে দেখলাম গাছের ওই পয়েন্টটা থেকে সূর্যোদয়ের তেমন একটা ভালো ভিউ পাবো না। তাছাড়া এদিকটা ওয়ার্নিং এরিয়া। ভোরবেলা ওখানে ওঠাও কিছুটা রিস্কি হয়ে যায়। দেন আই থট, ওখান থেকে সূর্যোদয়ের ভিউ ঠিকঠাক না আসতে পারে। কিন্তু আমি সূর্যোদয়ের ভিউ ওখানে এ্যাড করতেই পারি। ব্যস! বিচের দোকান থেকে আয়নাগুলো কিনে এনে ঝুলিয়ে দিলাম। একটু ক্যালকুলেট করে রিফ্লেক্ট কোথায় পাবো সেটাও বুঝে গেলাম। এন্ড হেয়ার’স্ দ্য রেজাল্ট!

তাথৈ কথা বলা ভুলে যায়। একটা মানুষের ভাবনা ঠিক কতোটা সুন্দর হলে কেউ এভাবে প্রকৃতিকেও সাজাতে পারে, আন্দাজ আসে না ওর। তাশদীদ হাসিমুখে ওরদিক ফিরলো। কিছুটা ঝুকে দাড়িয়ে বললো,

– যাবে ওখানে?

তাথৈ তখনো স্তব্ধ। ঠিক সে সময়েই ফোন বেজে ওঠে তাশদীদের। ফোন বের করে স্ক্রিনে রিংকির নাম দেখে ও ছোট্ট শ্বাস ফেললো একটা। রিসিভ করে বললো,

– হ্যাঁ বলো।

– কেমন আছেন তাশদীদ ভাই?

– আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো? ও বাসার সব?

– জ্বি সবাই ভালো। আ্ আপনি এখন কোথায় তাশদীদ ভাই? হোটেলে নাকি বাইরে?

তাথৈয়ের দিকে তাকালো তাশদীদ। ওরদিকে তাকিয়ে থেকেই জবাব দিলো,

– বাইরে। এক জুনিয়রকে নিয়ে সূর্যোদয় দেখতে এসেছি। আহ্!

পাথরে পা ফসকে পরে যাওয়ার ভঙিমা করে আওয়াজটা করলো তাশদীদ। ওকে পরে যেতে দেখে তাথৈ একটু ব্যস্তভাবেই বলে উঠলো,

– সামলে…

মেয়েলি আওয়াজ শুনে ফোন কান থেকে ফোন নামিয়ে নিলো রিংকি। অকস্মাৎ বিছানায় বসা থেকে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো ফোনটা। দামী ফোনটা নিচে পরে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। জলভরা চোখে, দাতে দাত চেপে, সামনেপেছনে হেলেদুলে নিজেকে সংবরনের চেষ্টা চালালো রিংকি। বরবেশে তাশদীদ, ঘোমটা দেওয়া বউ সাজের অন্য আরেকটা মেয়ে, আর তার পাশে ও নিজে। এমন দুঃস্বপ্ন দেখে সকালের ঘুমটা ভেঙেছে ওর। অস্থির লাগছিলো। তাই তখনতখন তাশদীদকে কল করেছে ও। ও জানে এবং মানে, তাশদীদের কোনো মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা নেই। আলাদাকরে একটা বান্ধবীর সাথে কোনোদিন দেখা যায়নি ওকে। সে মানুষটা ‘একজন জুনিয়র’ বললে সেটা নিসন্দেহে কোনো ছেলেই হবে। নিশ্চিত ছিলো রিংকি। কিন্তু তাথৈয়ের আওয়াজ ওর সব ধারণাকে উল্টেপাল্টে দিয়েছে। তাশদীদ ভাইয়ের সাথে একাকী কোনো মেয়ে থাকবে কেনো? সে তো শুধু ওকে গুরুত্ব দেবে! ওকে নিয়ে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য দেখবে! ও বাদে অন্যকোনো মেয়েকে কেনো আলাদাকরে গুরুত্ব দেবে তাশদীদ? কেনো?

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here