#বিপরীত_মেরুর_টানে
#আরিবা_নাওশীন
#বোনাস_পর্ব
আরাভের কালো এসইউভি গাড়িটা যখন নিজের বিশাল বাংলোর গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল, তখন শহরের আকাশে চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকিয়েছে। রিমিকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে আসার পর থেকে আরাভের হাত দুটো এখনো স্টিয়ারিং হুইলের ওপর কাঁপছে। ও গাড়ি থেকে নেমে সোজা নিজের স্টাডি রুমে ঢুকল। কোনো আলো না জ্বালিয়েই সে অন্ধকার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
ওর মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন আজ বিদ্রোহ করছে। পাঁচ বছর দীর্ঘ পাঁচটি বছর সে নিজেকে তিলে তিলে পাথর হিসেবে গড়েছে। অথচ আজ ল্যাম্পপোস্টের ওই হলদেটে আলোয় দেখা একটা মুখ ওর সবটুকু গাণিতিক হিসেব ওলটপালট করে দিল।
“অসম্ভব! এটা হতেই পারে না।” আরাভ বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল। “আমি নিজে রিন্নিকে কবরে শুইয়ে দিয়েছি। নিজ হাতে ওর নিথর দেহে মাটি দিয়েছি। তাহলে রিমি নামের এই মেয়েটা কে? হুবহু রিন্নি… একদম কার্বন কপি! শুধু ওই চোখ দুটো… ওই বেগুনি চোখ দুটোই শুধু রিন্নির শান্ত কালো চোখের থেকে আলাদা।”
আরাভ অস্থির হয়ে পায়চারি করতে শুরু করল। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। যে আর্কিটেক্ট সেকেন্ডের মধ্যে কোটি টাকার হ্যাকিং ডিল করে ফেলে, সে আজ একটা সাধারণ মেয়ের চেহারার রহস্য মেলাতে পারছে না।
“ভাইয়া? অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
নয়নার কণ্ঠস্বরে আরাভ চমকে উঠল। নয়না কখন ঘরে ঢুকেছে ও টেরও পায়নি। নয়নার হাতে এখন একটা ফাইল, ওর চোখের সেই ক্ষিপ্রতা এখনো কমেনি।
আরাভ কোনো উত্তর দিল না। নয়না ঘরের আলো জ্বালাল। আরাভের চেহারা দেখে ও কিছুটা থমকে গেল।
“কী হয়েছে ভাইয়া তোমার? মুখটা এমন দেখাচ্ছে কেন? কোনো খারাপ খবর?” নয়না উৎকণ্ঠা নিয়ে এগিয়ে এল।
আরাভ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নয়নার দিকে তাকাল। ওর গলায় এক অদ্ভুত হাহাকার। “নয়না, আমি আজ রিন্নিকে দেখেছি।”
নয়না এক মুহূর্তের জন্য পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। তারপর ওর মুখে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। “ভাইয়া, তুমি কি আজ বেশি ইমোশনাল হয়ে পড়েছো? রিন্নি আপু তো নেই। পাঁচ বছর হয়ে গেছে।”
“আমি জানি নয়না, আমি জানি!” আরাভ চিৎকার করে উঠল। “কিন্তু আজ যাকে আমি উদ্ধার করলাম, সে রিন্নি ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। নাম বলছে রিমি, কিন্তু ওর কথা বলার ধরণ, হাসার ভঙ্গি… সব রিন্নি! শুধু চোখ দুটো অন্যরকম।”
নয়না ভ্রু কুঁচকে ফাইলটা টেবিলে রাখল। “ভাইয়া, তুমি হয়তো কবরস্থান গিয়েছিলে বলে হ্যালুসিনেশন হয়েছে। পৃথিবীতে একই চেহারার মানুষ থাকতে পারে, কিন্তু মৃত মানুষ ফিরে আসে না। নিজের ওপর কন্ট্রোল রাখো। আমাদের সামনে ড্রাগন আর টাইগারের বড় মিশন বাকি।”
আরাভ আর কথা বাড়াল না। ও জানে নয়নাকে বোঝানো সম্ভব নয়। ও শুধু শান্ত গলায় বলল, “হয়তো তুই ঠিক বলছিস। ও অন্য কেউ হবে। আমি হয়তো ভুল দেখছি।”
কিন্তু পরের কয়েকটা দিন আরাভের জন্য ছিল নরক। সে কাজে মন দিতে পারছিল না। বারবার ওই বেগুনি রঙের চোখ দুটো ওর সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। সে নিজেকে বোঝাল, সে মাফিয়া ডন, তার কোনো দুর্বলতা থাকতে নেই।
পরের দিন বিকেলে আরাভ তার জরুরি কাজে শহরের ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির গ্লাসটা তোলা, ও বাইরের মানুষের ভিড় দেখছিল। ঠিক তখনই একটা কলেজ বাস ঠিক ওর গাড়ির পাশে এসে থামল।
আরাভ অন্যমনস্ক হয়ে ফোনের দিকে তাকাচ্ছিল, হঠাৎ ওর জানালার কাঁচে একটা শব্দ হলো। ও মাথা তুলে তাকাতেই ওর হৃৎপিণ্ড যেন গলার কাছে চলে এল।
বাস থেকে রিমি নেমে সোজা আরাভের গাড়ির দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আরাভ কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিমি খুব সাবলীলভাবে গাড়ির দরজা খুলে সামনের সিটে ধপ করে বসে পড়ল।
আরাভ স্তম্ভিত হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। রিমির পরনে নীল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ, কাঁধে কলেজের ব্যাগ। ওর মুখে সেই চঞ্চল হাসি।
“হ্যালো মিস্টার মাফিয়া ডন!” রিমি একগাল হেসে বলল। “ভাবলেন তো আমি আপনাকে ভুলে গেছি? আরে বাস থেকে আপনাকে দেখেই চিনে ফেলেছি আপনার এই রাজকীয় গাড়িটা।”
আরাভ কোনো কথা বলল না। ও শুধু ওর পাথুরে হৃদয়ের কঠোরতা বজায় রেখে শীতল গলায় বলল, “এটা আপনার কলেজ বাস নয় মিস রিমি। আর আমি ট্যাক্সি ড্রাইভার নই। নেমে যান।”
রিমি মোটেও ভয় পেল না। সে সিটবেল্টটা টেনে বাঁধতে বাঁধতে বলল, “আপনার আমার নাম মনে আছে? আরে নামব কেন? ওই বাসের ভেতরে যা ভিড় আর গরম! আপনার এসি গাড়িতে বেশ আরাম আছে। তাছাড়া আমাকে ইমপ্রেস করার জন্য আপনি ওইদিন বখাটেদের সাথে যে ফাইটটা দিলেন না… উফ! আপনি কি জানতেন, ওইদিন থেকেই আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি?”
আরাভ এবার গাড়ির স্টিয়ারিংটা শক্ত করে চেপে ধরল। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। ও রিমিকে মোটেও পাত্তা দিতে চাচ্ছে না, কিন্তু রিমি একটার পর একটা কথা বলে ওকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
“আপনি কি সবসময় এমন গম্ভীর থাকেন? একটু হাসলে কি আপনার টাকা কমে যাবে? এই দেখুন, আপনার জন্য আমি চকলেট এনেছি।” রিমি ব্যাগ থেকে একটা চকলেট বের করে আরাভের সামনে ধরল।
আরাভ এক ঝটকায় ওর হাতটা সরিয়ে দিল। ওর চোখে তখন খু-নি তেজ। “আপনার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি। আপনি কি জানেন আপনি কার গাড়িতে বসে আছেন? আমি চাইলে আপনাকে এখন চিরদিনের জন্য গায়েব করে দিতে পারি।”
রিমি ওর ওই রহস্যময় বেগুনি চোখ দুটো বড় বড় করে তাকাল। কোনো ভয় নেই ওর চোখে, বরং এক অদ্ভুত টান। “গায়েবি তো আমি অলরেডি হয়ে গেছি মিস্টার। আপনার ওই রাগী চোখের ভেতরে আমি হারিয়ে গিয়েছি। এখন বলেন, আমাকে বাসায় নামিয়ে দেবেন নাকি কফি খাওয়াবেন তারপর বাসায় নামিয়ে দেবেন? বাসায় নামিয়ে দিতেই হবে। অন্য কোনো অপশন আপনাকে দেওয়া হলো না।”
আরাভ এবার অস্থির হয়ে পড়ল। এই মেয়েটি রিন্নির মতো দেখতে হলেও ওর স্বভাব রিন্নির চেয়ে অনেক বেশি বেপরোয়া। রিন্নি ছিল নরম মনের কিছুটা বাস্তববাদী, আর এই রিমি যেন একটা খামখেয়ালি মেয়ে।
আরাভ গাড়ি স্টার্ট দিল। ও কোনো কথা বলছে না, কিন্তু ওর মস্তিষ্ক এখন হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। ড্রাগন কি এই মেয়েটিকে পাঠিয়েছে? নাকি প্রকৃতি কোনো অলৌকিক খেলায় মেতেছে?
গাড়ির আয়নায় আরাভ দেখল রিমি আপন মনেই গান গুনগুন করছে।
“বড় ইচ্ছে করছে ডাকতে, তার গন্ধ মেখে থাকতে
কেন সন্ধ্যে সন্ধ্যে নামলে সে পালায় !
তাকে আটকে রাখার চেষ্টা আরো বাড়িয়ে দিছে তেষ্টা
আমি দাঁড়িয়ে দেখছি শেষটা জানলায় !
বোঝেনা সে বোঝেনা বোঝেনা সে বোঝেনা
বোঝেনা সে বোঝেনা , বোঝেনা সে বোঝেনা
বোঝেনা বোঝেনা বোঝেনা
বোঝেনা বোঝেনা বোঝেনা …”
ঠিক এই গানটাই তো আরাভ গেয়েছিল, রিন্নির সাথে বিয়ে আগে তার অনুরোধে। আরাভের পাথুরে হৃদয়ে যেন কেউ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করল। ও বিড়বিড় করে বলল, “কে তুমি? কেন এসেছো আমার এই অন্ধকার জীবনে?”
রিমি ওর দিকে তাকিয়ে রহস্যময় এক হাসি দিল। ওর বেগুনি চোখে তখন বিকেলের আলো পড়ে এক অদ্ভুত আভা তৈরি করেছে।
আরাভ ড্রাইভ করছে, কিন্তু তার পুরো মনোযোগ এখন পাশের সিটে বসে থাকা উপদ্রবটির দিকে। রিমি নিজের কলেজের ব্যাগটা কোলের ওপর রেখে খুব আয়েশ করে এসির বাতাস খাচ্ছে আর গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখা আরাভের দামী সানগ্লাসটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।
“উফ! এই চশমাটা পরে আপনাকে একদম ওই সাউথ ইন্ডিয়ান ভিলেনদের মতো লাগে। ইয়া বড় বড় গোঁফ থাকলে আরও জমত!” রিমি চশমাটা নিজের চোখে পরে আরাভের দিকে তাকিয়ে ভ্যাংচালো।
আরাভ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “সানগ্লাসটা যেখানে ছিল সেখানে রাখুন। আর চুপচাপ বসে থাকুন। নয়তো চলন্ত গাড়ি থেকে আপনাকে আমি লাথি মে-রে ফেলে দেব।”
রিমি মোটেও ঘাবড়ালো না। বরং খুব অবাক হওয়ার ভান করে বলল, “ওরে বাবা! মাফিয়া সাহেবের তো হেব্বি রাগ! আচ্ছা, লাথি মা-রলে কি আমি সোজা গিয়ে ড্রেনে পড়ব নাকি রাস্তার মাঝখানে? যদি ড্রেনে পড়ি, তবে কিন্তু আমার জামা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন কিন্তু আপনি আমাকে নতুন জামা কিনে দিতে বাধ্য থাকবেন। দেবেন তো?”
আরাভ এবার গাড়িতে কষে ব্রেক কষল। রিমির মাথাটা ঝাকুনি খেয়ে ড্যাশবোর্ডের কাছাকাছি চলে গেল। আরাভ ওর দিকে ফিরে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো।
“আপনার কি জীবনের মায়া নেই? আমি কে জানেন?”
রিমি খুব নিষ্পাপভাবে মাথা নেড়ে বলল, “জানি তো! আপনি হলেন আমার সেই সুপারম্যান কাম বডিগার্ড কাম হ্যান্ডসাম মাফিয়া,যার সৌন্দর্যে আমি উষ্ঠা খেয়ে পড়ছি। আপনি এত সুন্দর কেন? ইচ্ছে করে পুরো খেয়ে ফেলি। আচ্ছা, আপনার এই রাগী রাগী লুকটা কি আপনার জন্মগত, নাকি আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করেন? একটু শেখাবেন আমাকে? এই যে দেখুন ” রিমি নিজের কপাল কুঁচকে ভুরু নাচিয়ে আরাভের মতো গম্ভীর হওয়ার অভিনয় করতে শুরু করল।
আরাভ নিজের মাথাটা স্টিয়ারিং হুইলে ঠুকতে ইচ্ছে করছে। যে মানুষের ইশারায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে র-ক্তগঙ্গা বয়ে যায়, সে আজ এক পিচ্চি মেয়ের কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছে।
“আপনি কি সবসময় এরকম ফালতু বকবক করেন?” আরাভ গর্জে উঠল।
রিমি গালে হাত দিয়ে ভাবুক স্বরে বলল, “না না, সবসময় করি না। যারা একটু বেশি গম্ভীর, তাদের আমি স্পেশাল সার্ভিস দিই। আপনার তো কপাল ভালো যে আপনি আমার এই স্পেশাল ক্যাটাগরিতে পড়েছেন। বাই দ্য ওয়ে, আপনি কি আজ দুপুরে লাঞ্চ করেছেন? আপনার পেট যে গুড়গুড় ডাকছে, আমি কিন্তু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি!”
আরাভের মুখটা রাগে লাল হয়ে গেল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আমার পেট ডাকছে না! ওটা গাড়ির ইঞ্জিনের আওয়াজ!”
“ইস! নিজের পেটকেও ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করছেন? আপনি তো সত্যিই এক অদ্ভুত মানুষ!” রিমি ব্যাগ থেকে একটা জুইংগাম বের করে আরাভের মুখের সামনে ধরল। “নিন, এটা চিবান। মেজাজ ঠান্ডা থাকবে। আমি কিন্তু কোনো পয়সা নেব না, একদম ফ্রি! চাইলে আমায় একটা কিসও করতে পারেন। বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি।”
আরাভ জুইংগামটা এক ঝটকায় জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দিল। রিমি হা হয়ে তাকিয়ে রইল। “হায় হায়! আমার দুই টাকার জুইংগামটা আপনি এভাবে ফেলে দিলেন? ২টাকা ইনকাম করছেন কখনও? ওটার আত্মা এখন আপনাকে অভিশাপ দেবে!”
আরাভ এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ও চিৎকার করে বলল, “শাট আপ! একদম চুপ! নয়তো আমি এখানেই গাড়ি থামিয়ে আপনাকে পুলিশের হাতে দিয়ে দেব যে আপনি একজন মাফিয়াকে কিডন্যাপ করার চেষ্টা করছেন!”
রিমি খিলখিল করে হেসে উঠল। “পুলিশকে বলবেন? ওমা! আপনি না মাফিয়া? মাফিয়ারা তো পুলিশকে ভয় পায় না, পুলিশই মাফিয়াদের ভয় পায়। আপনি কি ফেইক মাফিয়া নাকি? মানে ওই যে বাজারে সস্তা ব্যাটারি পাওয়া যায় না, ওরকম?”
আরাভ এবার হাল ছেড়ে দিল। এই মেয়ের সাথে তর্কে জেতা মানে খড়ের গাদায় সুই খোঁজা। সে আবার গাড়ি চালানো শুরু করল। রিমি এবার আরাভের সিডি প্লেয়ারটা অন করে খুব জোরে একটা ডিজে গান ছেড়ে দিল।
“এই গানটা বন্ধ করুন!” আরাভ চিৎকার করল।
“কেন? নাচতে ইচ্ছে করছে বুঝি? নাচুন না! আমি হাততালি দিচ্ছি!” রিমি গানের তালে তালে হাততালি দিতে লাগল।
আরাভ বিড়বিড় করে বলল, “রিন্নি কি আসলেও আমাকে শাস্তি দিতে একে পাঠিয়েছে? ওহ খোদা, এই মেয়েকে আমি কীভাবে সামলাব? আবার এড়িয়েও যেতে পারচ্ছি না।”
রিমি তখন গানের তালে তালে মাথা দোলাতে দোলাতে বলল, “শুনুন মাফিয়া সাহেব, আপনার এই পাথর হৃদয়টা কিন্তু খুব শীঘ্রই আমি গলিয়ে আইসক্রিম বানিয়ে ফেলব। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি!”
আরাভ শুধু মনে মনে প্রার্থনা করল, যেন খুব দ্রুত রিমির বাড়িটা চলে আসে। এই এক ঘন্টায় তার যতটা এনার্জি লস হয়েছে, ড্রাগনের দশটা আস্তানা ধ্বংস করতেও তার এত কষ্ট হয় না।
চলবে,,,,

