আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ১৩+১৪+১৫

0
63

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৩।

ঠান্ডা কন্ঠে ওপাশ থেকে বলল ইজহান,

” এখনো জেগে আছো কেনো?”

ফোনের এ পাশের শ্যামার তখন তবলা পিটা করছে বুকে ভিতর। আজ সাত দিন.. আজ সাতটা দিন চলছে… ইজহানকে সে দেখেনি। তার এই গম্ভীর কন্ঠ মুনে নি। আজ যখনি কানের মাঝে তার কন্ঠ ভেসে এলো। শ্যামা যেন ঘোরে চলে এলো। আনমনা হয়ে বলল,

“কেউ একজন ঘুমুতে দিচ্ছেনা..!”

ফোনের ওপাশের মানুষটির তখন ভ্রু কুচকে গেলো। তাৎক্ষণিক বলল,

“কে ঘুমুতে দিচ্ছে না?”

শ্যামা তখনো আনমনে। বলল,

“আপনি!”

ইজহানের কঁপালে পড়া ভাজ মিলে গেলো। পাতলা ঠোঁটে হাসি ফুঁটে উঠলো। শ্যামা তাকে মিস করছে? ভেবেই এক ভালো লাগা সারা শরীরে দোলা দিয়ে গেলো। ফোনের ওপাশের মেয়েটিকে তার বড্ড দেখতে ইচ্ছে করলো। কন্ঠ খাদে নামি ধীমি আওয়াজে রোমান্টিক ভাবে বলল,

“ডু ইউ মিস মি?”

বলেই ইজহান মিটিমিটি হাসলো। আজ… আজ তার খুব খুব খুশি লাগছে। মনের কোনে থাকা বাল্যকালের ইজহান খিলখিল করে যেন হাসচ্ছে। তার মনে হচ্ছে সেই ছোট শ্যামা.. সেই ছোট শ্যামা তার কোলে উঠার জন্য বেকুল হয়ে দু হাত মেলে দিচ্ছে। যেমনটি প্রতিবার বাবার সাথে শ্যামাদের বাড়িতে গেলে হতো…ইজহানকে দেখলে এক ছুঁটে তার কোলে উঠে পড়তো। তখন শ্যামার বয়স ৩ বছর, তখন ইজহানের ৮ বছর ছিলো। শ্যামা তখন আকাশ কুসুম ভাবছিলো। ইজহানের কথায় আনমনেই আবার উত্তর দিলো,

“হ্যাঁ, খুব… খুব মিস করছি…!”

কথাটুকু শেষ করার সাথে সাথেই একটি আওয়াজ ভেসে এলো ওপাশ থেকে। শ্যামার সঙ্গে সঙ্গে ধ্যান ভাঙ্গলো। অধিরাজ ওপাশ থেকে ইজহানকে বলে যাচ্ছে ,,

“স্যার গাড়ি চলে এসেছে, চলুন! ”

এতটুকুতেই বুঝতে পারলো শ্যামা ইজহান কোথাও যাচ্ছে। কিন্তু কোথায়? তখনি ইজহান বলল,

“ঘুমিয়ে পর, পরে কথা হবে…!”

শ্যামা মাথা নাড়লো। ফোন কেঁটে যাওয়ার পর তাদের মাঝে হওয়া কিছুক্ষণ আগের কনভারসন মাথা রিপিট হতে লাগলো। লজ্জায় শ্যামার গাল দুটি লাল হতে লাগলো। দৌড়ে রুমে এসে বালিশে মুখ চেপে ধরলো। মনে মনে ভাবলো… ছিঃ.. কতটা, কতটা.. নির্লজ্জ হয়ে গেছে সে। কি ভাববে ইজহান তাকে নিয়ে….

সেদিন রাত এসব বাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লো সে। পরের দিন সকালে সাউন্ড ঘুম দিয় নিজেকে ফ্রেস মনে হচ্ছিল। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো সে। আজ অনেক দিন বাদে সে অফিসে যাবে। অসুস্থ তার জন্য যেতে পারেনি এত দিন। বাসা থেকে বেড়িয়ে কয়েক কদম হেঁটে উঠে পড়লো একটি সি এন জি তে। বাহিরে আজ ঠান্ডা পরিবেশ। স্ব স্ব বাতাস বইছে। বর্ষাকালের বিদায়ের পালা এবার। গুন গুনিয়ে গান গাইতে লাগলো শ্যামা। মনটা আজ বেশ ফুরফুরে। আশে পাশের ফুটপাতের ধরে হেটে যাওয়া মানুষ গুলোকে দেখায় ব্যস্ত। কিন্তু কে জানতো? শ্যামার এই খুশিটুকু কতটুই বা সময় থাকবে!

অফিসে পৌছাতেই শান্তনু এসে দাড়ালো তার সামনে।
গুমররা মুখে বলল,

“এই মাসে আর ছুটি তুমি পাচ্ছো না। ”

শ্যামার হাসি হাসি মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। এসেই ভালো মন্দ কিছু না বলে, প্যান প্যান শুরু? শ্যামা মেকি হেসে বলল,

“অবশ্যই স্যার!”

শান্তনু প্রতি উত্তরের কিছু না বলে, একটি ফাইল এগিয়ে দিলো। বলল,

“তোমার নতুন কাজ, আশা করছি এবার ডিসাপয়েন্টেড করবে না!”

বলেই গটগট পায়ে বেড়িয়ে গেলো। তখনি জাহিদের জায়গায় আসা নতুন সানজিদা নামের মেয়েটি খিলখিল করে হেসে উঠে বলল,

“এবার তোমার চাকরি নিয়ে টানাটানি শ্যামা। কি করবে হ্যাঁ?”

শ্যামা জবাব দিলো না। ভাবলেশহীন ভাবে ফাইলটি খুলতে জ্বল জ্বল করে উঠলো কিছু লিখা,

“মি. ইজহান মেহরাবের গোপন তথ্য ফাস, গোপন সূত্র জানা গেছে তিনি মেয়েলী ব্যাপারের সাথে জড়িত। এর সাথে এটিও জানা গেছে, উনি ড্রাস নিয়ে থাকেন। ”

একটু পরেই হিম হয়ে গেলো শরীর। রাগে কাঁটতে লাগলো। কি জাতা পেয়েছে এরা? নিজেদের চ্যানালের নাম করার জন্য যা ইচ্ছে করে চলবে নাকি? কাঁপা কাঁপা হাতে ফাইলটি ধরে শ্যামা ছুটে গেলো শান্তনুর কক্ষে। নক না করেই চেচিয়ে বলল,

“স্যার এসব কি? একজন ভালো নেতার নামে এসব কি লিখে যাচ্ছেন আপনারা? ”

শান্তনু ভ্রু কুচকে বলল,

“এইটা একজন রিপোর্ট করে শ্যামা। হাইপার হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। ফাইল দিয়েছি তোমাকে, এর সততা কত যাচাই করকে! গট ইট? নাও গো।”

শ্যামা মাথা নাড়িয়ে বেড়িয়ে গেলো। রাগটা দপদপ করে জলছে। এসব কি বের হচ্ছে মি. ইজহানের নামে? কেই বা করছে এসব??

ঠিক তখনি শ্যামার ফোনে একটি মেসেজ এলো। শ্যামা চেক করতেই জল জল করে ভেসে উঠলো একটি নাম….

রিদ…

যে লিখেছে…..

“কেমন লাগলো আমার সারপ্রাইজ? ”

শ্যামা মেসেজটি দেখে বুঝতে বাকি নেই এই কাজটি রিদের। সে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে চেচিয়ে বলল,

” কি চাই তোমার? কেন করছো এমন? আমাকে শান্তিতে থাকতে কি দিতে চাউ না তুমি?”

ওপাশ থেকে অট্ট হাসিতে ফেঁটে পরে বলল রিদ,

” জান… বলেছিলাম দেখা করো, শুনোনি তো? এবার তো দেখা করতেই হবে তোমার। নয়তো….!”

শ্যামা নিজেকে কন্ট্রোল করলো। ছোট্ট শ্বাস টেনে বলল,

” কোথায় আসতে হবে আমার?”

রিদ হেসে বলল,

” মেসেজ করছি, জলদি এসো, আ’ম ওয়েটিং। ”

ফোন কেঁটে গেলো। শ্যামা মেসেজ পেয়ে বেড়িয়ে গেলো। অফিসে বলে গেলো নিউজ কালেক্ট করতে যাচ্ছে।

এদিকে আজ বাসায় ফিরছে ইজহান। হাতে একটি লাল গোলাপের তোরা। মুখে এক চিলতে হাসি। আজ অনেক দিন পর ভালোবাসার মানুষটিকে দেখবে সে৷ অধিরাজ নিজেও আজ খুশি স্যারের হাসি হাসি মুখটি
দেখে। ইজহান বাহিরে তাকিয়ে রইলো। ভেসে উঠলো শ্যামার হাসি হাসি মুখটি। ঠিক তখনি তার ফোনে একটি কল এলে। রিসিভ করতেই কঁপালে ভাজ পড়লো। অধিরাজকে বলল,

“ডানে নেও৷ ”

অধিরাজ অবাক হয়ে গেলো। ইজহানের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার কারণ কিছুতেই বুঝলো না। কিছুক্ষণের মাঝেই ওরা একটি নামি দামি রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হলো। আর তখনি….
#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৪।

গাড়ির ভিতরে চুপচাপ বসে আছে ইজহান। বাহিরে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে মুহূর্তেই। অধিরাজ তার পাশেই বসে আছে। দুজনের দৃষ্টি, সামনের বিশাল বড় স্বচ্ছ কাচে মোড়ানো একটি বিশাল ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্টের দিকে। যেখানে বসে আছে শ্যামা। গায়ে লাল কূর্তি, অস্থির মুখ, এলোমেলো চুল। বার বার চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটায়। বোঝাই যাচ্ছে কারো জন্য অধির আগ্রহ করে বসে আছে সে। ইজহান ফোঁস করে একটি শ্বাস ছাড়লো। চোখে পাতায় নাড়া দিলো সেই ১২ বছর আগের একটি স্মৃতি।

খবরের কাগজের সেই প্রেম করতে চাওয়া বিজ্ঞাপনটি তারই ছোট ভাই আরমান দিয়েছিলো। ভাইয়ের তখন নতুন নতুন মন ভাঙ্গে, ভাঙ্গে বন্ধুত্ব-ও। দশ বছরের বন্ধুত্ব একটি মেয়ের জন্য এক নিমেষে মিশে যায়। ইজহান খুব ভেঙে পরে। যদিও, বরাবরের মতোই তার অভিব্যক্তি কেউ বুঝতেই পারতো না। তার মনের ভেতরে কি চলছে, গম্ভীর শীতল মুখ দেখে কারো বোঝার ক্ষমতা ছিলো না। তবে গম্ভীর ইজহান যখন আরো গম্ভীর, চুপচাপ হযে গেলো, আরমান তার ভাইয়ের অগোচরে সবটা খোঁজ নিলো। সে জান্তে পারলো, তার ভাই শ্যামাকে পছন্দ করে, আর শ্যামা? তারই বন্ধু রিদের সাথে ডেট করছে। এটি শুনেই আরমানের মাথা হ্যাং হয়ে যায়। তার থেকে বেশি রাগ উঠে যখন শুনে, রিদ জানার পরেও যে ইজহান তাকে ভালোবাসে, শ্যামার সাথে নিজেকে তবুও জড়িয়ে নেয়। এতে যেমনটি ঘৃণা করে রিদকে, তার থেকে বেশি ঘৃণা করে সে শ্যামাকে। কিন্তু আরমান তো জানেই না। ইজহান যে শ্যামাকে ভালোবাসে, তা কখনোই বলেই শ্যামাকে। তারপরেই সে তার ভাইয়ের জীবনে নতুন কারো আগমনের জন্য বুদ্ধি ঘাটায়। এবং কাজেও লেগে পড়ে।

একদিন রাতে,
ইজহান কফি মগ হাতে রাতের আকাশ দেখছিলো। চোখের সামনে ভাসছিলো শ্যামার শুভ্র মুখ। এক রাশ নিস্তব্ধতা চিঁড়ে ফোনের রিং বাজতেই ইজহানের ভাবনার ছেদ পড়ে, কোনো কিছু না ভেবেই ফোন তুলে, তার গম্ভীর ঝংকার তোলা কন্ঠে,

“হ্যালো ”

বলে। আর তখনি ওপাশ থেকে ভয়ে জড়সড় হয়ে আসা একটি চিকন কন্ঠ.. ভেসে আসে। ইজহান প্রথমতো কিছুই বুঝে না…। মেয়েটি যখন তাকে সুফিয়ান দ্যা সিক্রেট বয় বলল,

তখনি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো সে। কারণ সুফিয়ান নামটি তেমন কেউ জানে না, এই নামে তার মা ডাকতো সব সময়, মা চলে যাওয়ার পর, নামটিও মুছে যায়। ইজহান ঠান্ডা গলায় তখন বলেছিলো,

“কে আপনি?”

ওপাশ থেকে ভয় কাটিয়ে মেয়েটি বলল,

“আমি, আমি #আধাঁরিয়া-অম্বরের বুকের এক চিলতে চাঁদ…! ”

ইজহান থমকে গেছিলো সেদিন। মেয়েটির কন্ঠে এক প্রকার মাদকতা ছিলো। দ্বিতীয় বারের মতোই ওই কন্ঠের মানুষটি প্রেমে পড়ে সে। সেই থেকে কথা চলতে থাকে… একদিন তারা ঠিক করে দেখা করবে। এবং যেই ভাবা সেই কাজ ভালোবাসা দিবসের দিনটি তারা বেঁছে নেয়। এবং পার্কে চলে আসে, একে অপরকে কিভাবে চিনবে, সে ভেবেই ম্যামা বলে ছিলো,

“আমার হাতে, টকটকে লাল রুমাল থাকবে, আর আপনি, এক গুচ্ছ কদম নিয়ে আসবেন সেদিন!”

ইজহান সম্মতি দেয়। কাঙ্ক্ষিত দিনটি যেদিন চলে আসে, সে রেডি হয়ে ছুটে আসে একটি রেস্টুরেন্টে। আর সেখানে এসে, লাল টুকটুকে শাড়িতে, লাল রুমাল হাতে শ্যামাকে বসে থাকতে দেখে ইজহানের পুরো দুনিয়া উল্টে যায়। স্থীর হয়ে যায় পা জোড়া। যেই মানুষটিকে সে ভালোবাসতো, সেই #আধাঁরিয়া_অম্বরের এক ফালি চাঁদ….! যার সাথে এত দিন প্রেম করলো সে? তাহলে? তাহলে কি শ্যামা রিদকে চিট করলো? একই সাথে দুই বন্ধুকে আঙ্গুলে নাচিয়েছে সে??

শুভ্র আকাশে মূহুর্তেই ঝড় উঠে গেলো। তছনছ করে দিয়েছিলো ইজহানের বুক। আজ-ও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না… শ্যামা আজো কারো জন্য বসে আছে, অপেক্ষা করছে কারো জন্য। ইজহান জানে, সেই একজনটাকে, সে তার বড় দুশমন। কথায় আছে,

”এক কালে থেকে যাওয়া তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুই শত্রু হয়ে উঠে!”

আজ বাক্যটি মনে পড়ে তাচ্ছিল্য হাসলো। ঠিক তখনি ইজহান দেখলো, ব্ল্যাক সুটে একটি যুবক এগিয়ে যাচ্ছে শ্যামার দিকে৷ তা দেখেই শ্যামা দাঁড়িয়ে গেলো। শক্ত তার মুখ। কেমন যেন থমকে গেছে পুরোনো ভালোবাসার মানুষটিকে সামনে দেখে, রিদ খুব সুদর্শন। সে হাসি হাসি মুখে এসে জড়িয়ে ধরলো শ্যামাকে। শ্যামা রোবটের মতো দাঁড়িয়ে রইলো। তার কোনো ভাবান্তর দেখা গেলো না। কিন্তু দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ইজহান হাতের মুঠো শক্ত করে ফেললো। ঠান্ডা শীতল মুখ খানা এক মনস্টারের মতো হয়ে গেলো। অধিরাজ এমন হিংস্র হয়ে উঠা তার স্যারকে ভয় পেতে লাগলো।
এদিকে এখনো ধরে আছে শ্যামাকে রিদ, যেন হারিয়ে যাওয়া কিছু সে আবার ফিরে পেয়ে এক বুক শান্তি পেয়েছে, সে বলল,

“ওহো মাই গড, ফাইনালি আমি তোমাকে পেলাম জান। ”

বলেই গালের মাঝে চুমু খেয়ে বসলো শব্দ করে রিদ। এতেই হুঁশ ফিরে শ্যামার। সে সাথে সাথে ছাঁড়িয়ে নেয় নিজেকে, দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“don’t ক্রস লিমিট! ”

রিদ হেসে ফেললো। চেয়ারে বসে বলল,

“তুমি আগের মতোই রয়ে গেলে জান!”

শ্যামা তার কথা উত্তর না দিয়ে বলল,

” তুমি ইজহানের পিছনে কেন লেগেছো?”

রিদ বলল,

“সে তোমাকে আমার থেকে কেড়ে নিয়েছে, তাই!”

শ্যামা চেঁচিয়ে বলল,

“ওহো সাট আপ, ও আমাকে কেড়ে নেয়নি, আমি তোমাকে ছেঁড়েছি, তাও ১২ বছর আগে, তাউ তোমার কারণেই, ভুলে গেছো? ভুলে গেছো, তুমি আমার সাথে ১২ বছর আগে কি করেছিলে?”

রিদের মুখের হাসি উড়ে গেলো। সে উঠে শ্যামাকে বসিয়ে দিলো। তার দিকে ঝুঁকে বলল,

” শ্যামা আ’ম রেইলে সরি, ফর দ্যাট… সেদিন.. সেদিন কি জানি হয়ে গেছিলো আমার, আমাকে ক্ষমা করেও দাও প্লিজ! ”

বলেই রিদ শ্যামা মুখ তার দু হাতে ধরে নিলো। তখনি ছিটকে দূরে সরে গেলো শ্যামা। আর এই সব কিছু গাড়িতে বসে থাকা ইজহানের শরীরে আরো রাগ তুলে দিচ্ছে, যখন রিদ শ্যামার দিকে ঝুঁকে পড়লো, তার পুরো শরীরে লুকিয়ে গেলো শ্যামার দেহ। তখন মনে হচ্ছিলো একে অপরের সাথে চুম্বনে ব্যস্ত দুই নর-নারী। ইজহান তা সহ্য করতে পারলো না। গাড়ির মাঝে থাকা অধিরাজ ও তখন বিস্ময়ে বিমূঢ়। ইজহান সেই মুহূর্তেই গাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়লো। পাবলিক প্লেসে নিজের মুখে মাস্ক আর ক্যাপ পড়ে নিতেও ভুললো না। বড় বড় পা ফেলে ডুকে গেলো রেস্টুরেন্টে। অধিরাজ নিজেও ছুঁটে এলো। অধিরাজের মনে হচ্ছে শত বছরের ঘুমিয়ে থাকা বণ্য হিংস্র পশু জেগে উঠছে। অধিরাজ এক মনে তার ঠাকুরকে ডেকে গেলো। শ্যামার কথা ভেবেই বুকে ধকধক করছে, মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ড বেড়িয়ে আসবে এখনি।

এদিকে শ্যামা রিদকে আবারো দূরে ঠেলে দিয়ে, বলল,

“আমার থেকে দূরে থাকো, আমি তোমাকে এক রত্তি ও বিশ্বাস করি না, তখন ছোট ছিলাম, অবুঝ ছিলাম। কিন্তু এখন নই!”

রিদ বলল,

” শ্যামা গিভ মি এ চান্স! প্লিজ!”

বড্ড করুন শোনালো রিদের কথা। কিন্তু পাত্তা দিলো না শ্যামা। ছোট একটা শ্বাস ছেড়ে বলল,

” গো টু হ্যাল”

বলেই গট গট করে বেড়িয়ে যেতে লাগলো শ্যামা, তখনি পিছন থেকে হাত ধরে আটকে ফেললো রিদ, বলল,

“আমার কথাটা শোনো, তুমি এভাবে যেতে পারো না, তুমি জানো না,হিতে বিপরীত হবে কিন্তু!”

শ্যামা ক্রুদ্ধ হয়ে বলল,

“তোমার যা ইচ্ছে করো, আই ডোন্ট কেয়ার।”

“তাহলে ইজহানকে না হয় জেলের ভাত খাইয়ে আনি!”

শ্যামা থমকালো। দু পা এগিয়ে এসে, আঙ্গুল তুলে বরল,

“ডোন্ট ডেয়ার…নয়তো আমার থেকে খারাপ কেউ জবে না!”

বলেই শ্যামা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে নিবে তখনি ধাক্কা খায়, এক দীর্ঘাকায় এক লোকের সাথে৷ শ্যামা তাকাবার আগেই পিছন থেকে রিদ শয়তানি েক হাসি দিয়ে বলল,

“কেমন আছিস ইজহান? ”

ইজহানের নাম শুনতেই শ্যামার শরীরের এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো শরীরে। চোখে মুখে ভয় নিয়ে তাকাতেই সম্মুখীন হলো ইজহানের হিংস্র দৃষ্টিতে। ইজহান ঠান্ডা বরফ অথচ তার চাহনি ভয়ঙ্কর। শ্যামার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে রিদকে বলল,

” আ’ম গুড। ”

তারপর শ্যামাকে কাছে টেনে নিয়ে ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে হেসে বলল,

“বউকে কাছে পেয়ে এবার ফিট এন্ড ফাইন হয়ে গেছি!”

রিদের হাসি উবে গেলো। রাগি মুখে বলল,

” শ্যামা আমার ছিলো, অার থাকবেই। ”

ইজহান তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দিয়ে, বলল,

“তোর স্বপ্নে!”

বলেই শ্যামার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বেড়িয়ে গেলো সেখান থেকে। এদিকে শ্যামার অবস্থা নাজে হাল।ইজহানের বলিষ্ঠ হাতের চাপ সে সহ্য করতে পারছে না, আবার মুখ ফুঁটে কিছু বলেও পারছে না। শুধু থরথর করে কাঁপছে । ইজহান গাড়িতে এসে শ্যামাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো। এবং ড্রাইভিং সিটে নিজে বসে পড়লো। আর যতটা সম্ভব স্প্রীডে বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। শ্যামা ভয়ে আধমরা। ইজহানের মুখের অভিব্যক্তি কিছুই বুঝতে পারছে নগাড়ির ভিতর এক অস্বাভাবিক ঠান্ডা বিচরণ করছে। শ্যামা পরিবেশ ঠিক করার জন্য মুখ খুললো,

“মি.. মি.. ইজহান..”

এইটুকুই বলতেই ইজহান এমন করে চাইলো। শ্যামা তাতেই কেঁপে উঠলো। যখন তারা বাসায় পৌছালো। ইজহান শ্যামাকে টানতে টানতে নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিলো বিছানায়, আর……

চলবে,

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি প্রতিদিন দিতে চাইলেও পাড়ি না। তার জন্য দুঃখীত। আশা করি আপনাদের ভালো লাগাচ্ছে। আর কিছুটা জট খুলতে পেরেছি। অনেকই অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে, আমি সব রহস্য এক সাথে লিখে ফেললে গল্প এখানেই ইতি টানতে হবে, আপনারা কি তাই চাইছেন? তাহলে তাই করবো🙂

❌কপি করা নিষেধ❌#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৫।

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁচের টুকরো বিঁধে গেছে ইজহানের ডান হাতে। শ্যামা থরথর করে কাঁপছে এখনো। থেকে থেকে চোখের পলব ভাড়ী হয়ে আসচ্ছে। গালের পরা চোখের জলের পানির দাগ শুকিয়ে গেছে। এতেও শ্যামার ন্যাচারাল বিউটিতে ছিটেফোঁটাও কমে নি। বরং এতেও মারাত্মিক সৌন্দর্য লাগছে। শ্যামা গুটিশুটি মেরে বিছানার এক কোনে হাটুতে দু হাত বেঁধে বসে৷ আড় চোখে বার কয়েক দেখে নিলো। কিছুক্ষণ আগে বয়ে যাওয়া, ঝড়ো হাওয়া ভেবেই শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে শ্যামার।

কিছুক্ষণ আগের ঘটনা,

ইজহান শ্যামাকে বিছানার উপর ফেলে দিয়ে, মুহূর্তেই তার মুখোমুখি হয়ে যায়। অদ্ভুত হাড় কাঁপানো অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে শ্যামার লাল ঠোঁট। তপ্ত কন্ঠে বলে,

” এখানে, এখানে স্পর্শ করছিলো না.. রিদ?”

শ্যামা বিস্ময়ে বিমুঢ়। রিদ তাকে কখন ঠোঁটে স্পর্শ করলো? বুঝে উঠতে পারলো না শ্যামা। কাঁপা কন্ঠে শুধু বলল,

” আ… প.. নি ভুল ভাবছেন..”

শ্যামা চুপ বলতে বলতে চুপ হয়ে যায়। ইজহানের ঠোঁটে তখন অদ্ভুত অনুভূতিহীন হিংস্র হাসি। যেন অনেক বছরের পুরোনো কোন দৈত্য নিজের দুশমনদের তার৷ পায়ের নিচে চাপা দিতে স্বার্থক৷ শ্যামার চোখে জল গড়িয়ে পড়লো ভয়ে। ইজহান বলল,

” তোমার এই ঠোঁট জোড়া বড় টানতো আমায়, অথচ, অথচ এই ঠোঁট জোড়ায় আমি কখনো আমার ঠোঁটের স্পর্শ দেই না। জানো কেনো?”

শ্যামার কান্না বন্ধ হয়ে গেলো। সে মনে করতে চাইলো, বিগত তারা যতবার ইন্টিমেট করেছে, ইজহান জোড় করেই করুক, কখনো তার ঠোঁট স্পর্শ করে নি। শ্যামা অবাক চোখে চাইলো। ইজহান ঘর ফাটানো হাসি দিয়ে বলল,

” জানো না তো? বলছি…!”

বলেই ইজহান আবার স্পর্শ করলো শ্যামার ঠোঁটে তবে এবার রুডলি ভাবে। শ্যামা ব্যথায় “আহ্ ” শব্দটি বেড়িয়ে এলো। ইজহান সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলল,

” তোমার এই ঠোঁটে অন্য পরপুরুষ আমার আগে স্পর্শ করছে, যার জন্য… যার জন্য এই ঠোঁট আমি কখনো স্পর্শ করিনি। না করবো!”

বলেই উঠে গেলো ইজহান বিছনা থেকে। অস্বাভাবিক ভাবে হেলে দুলে কাচের টেবিলের সামনে এসে এক ঘুষি মারলো। সাথে সাথে ঝনঝন শব্দ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো কাচের টুকরো গুলো। কিছু টুকরো বিঁধে গিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে ফ্লোরে রক্তের বন্যা বয়ে যেতে লাগলো। তাতেও খ্যান্ত না সে, পর পর, আরো কয়েকটা ঘুষি বসালো ভাঙা কাঁচের উপরো। থতলে যেতে লাগলো হাত। শ্যামা এক চিৎকার দিয়ে নিজে নেমে এসে আটকাতে চাইলো ইজহানকে। ইজহান তখন আউট ওফ কান্ট্রোল। রাগে ফোঁসফোঁস করছে। শ্যামা তার বাহুতে ধরতেই হুংকার দিয়ে উঠলো ইজহান। শ্যামার থুতনিতে চেপে ধরলো তার রক্তাক্ত হাত দিয়ে। বেসে উঠে তখনি শ্যামার আর রিদের চুম্বন মুহূর্ত। ইজহান ছেড়ে দেয়, ক্লান্ত পায়ে পিছিয়ে যায় দু পা। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে,

“তোমার মতো মেয়েদের মরে যাওয়া উচিত, তোমার মতো মেয়েদের থেকে প্রস্টিটিউটরা অনেক ভালো।”

কোথাও যেন ঠিস সেই মুহূর্তে বর্জপাতের শব্দ হলো। হ্যা, আর কোথাও না। শ্যামার মনের ভিতরে অাঁধারিয়া অম্বরে বর্জপাতের মতো ভয়ংকর শব্দে দু ভাগ করে দিতে লাগলো। শ্যামা ইজহানের ম্লান মুখের পানে চেয়ে রইলো। বড় বড় ফোঁটায় চোখের জল গুলো গড়িয়ে পড়তে লাগলো। শ্যামা স্তব্ধ হয়ে গেছে। কি শুনলো তার কান দুটো? নিজের স্বামীর কাছ থেকে কি এমন কথা… এমন কথা গ্রহনযোগ্য? শ্যামা ভেবেছিলো আজ দিনটি হয়তো তাদের জীবনের নতুন সূচনা হবে। কিন্তু… কিন্তু সব স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেলো।

শ্যামা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। নিস্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

” আমাকে, আমাকে আপনার এতটাই খারাপ মনে হয়?”

ইজহান চোয়াল শক্ত করে বলল,

” এর থেকেও নিকৃষ্ট! ”

শ্যামা আর ভাষা খুঁজে পেলো না। অপলক দৃষ্টি চেয়ে রইলো শুধু৷ বুকের ভেতরটা ভাড়ি ভাড়ি মনে হচ্ছে তার। যেন কেউ পাথর চাপা দিয়েছে। ইজহান শ্যামার নিস্প্রভ দৃষ্টি আর সইতে পড়ালো না। তপ্ত রাগ, রি রি করে বাড়ছে। সে আরো এক বার চাইলো শ্যামা দিকে। তখনি শ্যামা ঠোঁট নাড়লো,

“এই জন্যই কি আমাকে রক্ষিতা করে রেখেছেন? বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধের নাম করে!”

ইজহান থমকালো। একপলক তাকিয়ে বেড়িয়ে গেলো তার লম্বা পা ফেলে।

শ্যামা তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার দিক।ঘরের ভিতরটা আবারো ঠান্ডা হয়ে গেলো। নিরব, নিস্তব্ধ এই পরিবেশে নিজের প্রতি আজ নিজেরি বড্ড করুনা হচ্ছে। আজ, আজ তার বাবা সুস্থ থাকলে, তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে পালিয়ে না বেড়ালে? এমন কি হতো? বার বার কি আহত করতো ইজহান তাকে। ম্যামা বিছানার উপর বসে পড়লো পা ফোল্ড করে। শরীর আজ খুব ক্লান্ত। এক সময় বিছানায় সেভাবেই শুয়ে পড়লো সে। ঠিক তখনি ভেসে আসলো গাড়ির শব্দ। শ্যামা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এই সম্পর্কে আর কখনো আশার আলো সে খুঁজবে না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে যতদিন না সে মুক্ত পাচ্ছে। কিন্তু এবার সে মুক্তি চায় এই সম্পর্কে। কিন্তু কিভাবে পাবে সে মুক্ত হতে….

পরের দিন সকালে শ্যামার ফোন বেজে উঠলো। তীব্র মাথা ব্যথা নিয়ে শ্যামা ফোন তুলতেই, ওপাশ থেকে জাহিদের বিচলিত কন্ঠ ভেসে এলো। বলল,

“শ্যামা তুই কি করেছিস এইটা?”

শ্যামা ভাঙা কন্ঠে বলল,

“কি করেছি?”

“নিউজ পেপার দেখিস নি?”

“নাহ্, আমি মাত্র উঠেছি ঘুম থেকে!”

“নিউজ পেপার টা দেখ!”

“তুই বল!”

“নাহ্ আপনি দেখেন মেডাম!”

শ্যামার কঁপালে চিন্তার ভাজ পরলো। জলদি লিভিং রুমে এসে আজকের পেপারটা হাতে নিতেই তার চক্ষু চড়কগাছ। শ্যামা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো। এসব কি? ঠিক তখনি ইজহানের দাদিজান আর আয়ানা এসে হাজির। শ্যামা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। কিছু বলবে, তার আগেই ঠাস করে চর বসিয়ে দিলো শ্যামার গালে। সাথে সাথে ঠোঁটের কোনা কেঁটে রক্ত বেড়িয়ে গেছে। শ্যামা গালে হাত দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে তাদের দিকে। দাদিজান তখনি চেচিয়ে বলল,

“আমার নাতি তোমাকে এত এত সাহায্য করেছে, এই দিন দেখবার জন্য? তার রেপুটেশন নষ্ট করতে এতটুকু গায়ে বাজলো না!”

শ্যামা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল,

” মেডাম বিশ্বাস করুন এই.. এই নিউজ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। ”

আয়ানা হাত তালি দিয়ে বলল,

“বাহ্, আমার মা তোমার মাকে সাহায্য করেছিলো, আর সেই মহিলা, আমার মাকে ধোকা দিলো। আর একই কাজ তুমি করলে? সেইম ওন ইউ। আমি ভাইয়াকে আগেই বলেছিলাম, খাল কেঁটে কুমির এনো না!”

শ্যামা বলল,

” আয়ানা প্লিজ বিশ্বাস করো আমি কিছু করিনি। আর না আমার মা কিছু করেছে। বার বার আমার মাকে ব্লেম করা বন্ধ করো, যে নেই এই পৃথিবীতে তাকে নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়িও না।”

আয়ানা রাগে শ্যামাকে বলল,

“তোমার মার জন্য, একমাত্র তোমার মার জন্য আজ আমার মা নেই, নিজের চোখের সামনে মায়ের গায়ে আগুন লাগাদে দেখেছি, মায়ের দেহ পুড়ে ছাই হতে দেখেছি। কত রাত মাকে চোখের জল ফালতে দেখেছি, তার পরেও বলবে তোমার মা ধোঁয়া তুলসি পাতা! তুমি কিভাবে বুঝবে? যেই সন্তান তার মাকে নিজের চোখের সামনে পুড়ে ছাই হতে থাকে!”

বলেই আয়ানা কেঁদে দিলো। শ্যামার কষ্ট লাগছে এই কথা শুনে, যদিও সে কখনোই জানতো না, এসব বিষয়ে। শ্যামার চোখেও পানি চলে এসেছে। ম্যামা বলল,

“আন্টির কি হয়েছে আমি জানি না। তবে আমার মা কখনোই তোমার মায়ের মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি না।”

তখনি দাদিজান শ্যামাকে তার দিকে ঘুরিয়ে বলল,

“তোমার বিশ্বাসে কখনোই সত্যি বদলাবে না। আর আজকের এই ঘটনার পর তোমাকে আমি জাহান্নাম না দেখিয়েছি তাহলে আমি আলিয়া নই!”

বলেই তারা চলে গেলেন। শ্যামা সেখানেই বসে পড়লো। হাতে নিউজ পেপারটিতে একটি ছবি জ্বল জ্বল করতে লাগলো। তার উপর বড় একটি হেড লাইন,

” ইজহান মেহরাব মাদকাসক্ত। তার সাথে গোপনে আছে মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক।”

এবং একটি ছবি, যেখানে মেয়েটির পিছন দেখা যাচ্ছে। কাকতালীয় ভাবে, মেয়েটি আর কেউ না… শ্যামা নিজেই।

শ্যামা হু হু করে কেঁদে উঠলো। জীবনের এটি কেমন সময় চলছে? পরীক্ষার উপর পরীক্ষা চলছে। এক সমস্যার সমাধান না পেতেই আরেকটি এসে হাজির হচ্ছে। কি করবে শ্যামা? কি করবে এবার??

ঘড়ির কাঁটায় ১১.২০। টিক টিক শব্দ হচ্ছে। পিনপতন নিরবতা এই অফিস ঘরটিতে। দুটো মানবের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না যেন।খবরের কাগজের হেডলাইন আর ছবি দেখে ইজহানের মাথায় সুক্ষ ভাজ পড়লো। অধিরাজ নিজেও এই নিউজ দেখে অবাক। সত্যি কি শ্যামা এমন একটি কাজ করতে পারে? অধিরাজ বলল,

“স্যার এর ফিডব্যাক কি হবে? অনেক চাপ দিচ্ছে সবাই, আপনার স্টেটমেন্ট জানার জন্য!”

ইজহান কঁপালে আঙুল ঘসে বলল,

“খোঁজ লাগাও অরিজিনাল কালপ্রিট কে?”

অধিরাজ অবাক হয়ে বলল,

“শ্যামা মেম!”

ইজহান চাইলো তার ঠান্ডা দৃষ্টিতে। তাতেই অধিরাজ বেড়িয়ে যেতে যেতে বলল,

“আমি খবর নিচ্ছি! ”

অধিরাজ বেড়িয়ে যেতেই অফিসের জানালার সামনে এসে দাঁড়ালো সে। কখন থেকে ফোনটি বেজে যাচ্ছে ইজহানের৷ সে ফোনের স্ক্রিনের নাম্বার দেখে ফিকে হাসলো। তারপর কল কেঁটে দিয়ে পকটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে রইলো। বাহির তখন অনেক রাত। ঘনিয়ে আছে আচ্ছন্ন অন্ধকারে। তবে অদুর দূরে এক ফালি চান্নি পসরের ছোঁয়া গায়ে লাগছে । সে বিড়বিড় করে বলল,

” অন্ধকার আকাশের এক মাত্র আলোকিত চাঁদ তুমি….আর আমিই তোমার #আধাঁরিয়া_অম্বর!”

আবারো স্ব শব্দ ফোনটি বেজে উঠলো। এবার সাথে সাথে ধরলো ফোনটি, ওপাশ থেকে ভেসে এলো একটি চিকন মিষ্টি মেয়েলি কন্ঠ। যে কন্ঠ শুন্তে ইজহান কত রাত জেগে থাকতো। ইজহান এই প্রান্তে চুপ। ও প্রান্তে শ্যামা বলল,

“মি: ইজহান, বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি!”

ইজহান শান্ত। অভিব্যক্তহীন। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দূরে। শ্যামা বার বার একই কথা বলে যাচ্ছে। ইজহান সপ্তপর্ণে শ্বাস টুকু লুকিয়ে বলল,

“আমি জানি!”

ও প্রান্ত শ্যামা শান্তির শ্বাস ছাড়লো। তখনি ইজহান আবার বলল,

“আমাকে আর ডিস্টার্ব করবে না!”

বলেই কল কেঁটে গেলো। শ্যামা অসহায় ভাবে তাকিয়ে রইলো ফোনের দিকে। ইজহান বার বার তাকে কেন ভুল বুঝে যাচ্ছে? সে কি করবে? এত এত অপরাধ বোধ নিয়ে সত্যি মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার। এই জীবন সে আর রাখতে চায় না। চায় না… কিন্তু সে নির্দোষ এইটুকু প্রমান সে করেই ছাড়বে। তার সাথে ইজহানের টাকা পরিশোধ করে নিজেকে মুক্ত করে নিবে সে। চলে যাবে, সবার জীবন থেকে, অনেক… অনেক দূরে….

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here