মেডিকেল_ক্যাম্প Part:27

0
492

27-FF:#মেডিকেল_ক্যাম্প
Part:27

____রাত প্রায় ১১টা পার।উজান ওটি শেষ করে ওর রুমে আসে..হিয়া বিছানায় বসে কোলে একটা বালিশ নিয়ে তার উপর খাতা আর বিছানায় সব বই গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রাক্টিকেল করছিলো….উজান এসেছে কিন্তু হিয়ার ঔদিকে কোনো মন নেই ওহ প্রাক্টিকেল করা নিয়ে ব্যাস্ত..হিয়া প্রাক্টিকেল করতে করতে উজানের সাথে কথা বলে___

হিয়া:এসেছেন আপনি

উজান:এখনো প্রাক্টিকেল ই করে যাচ্ছেন
হিয়া:কি করবো বলুন দুটো হলো…একটা শেষ হবে হবে…আরো একটা বাকি…হাত গুলো আমার আজ ব্যাথায় শেষ…

উজান:ক্যান্টিন থেকে যে কিছু কিনে খেতে বলেছিলাম খেয়েছিলেন নাহ ওটাও ভুলে গেছেন..

হিয়া:কি বলুন তো ক্যান্টিনে যেতাম…কিন্তু….দেখলাম গেস্টরুমের দিক টা পুরো ফাকা ছিলো তখন তাই কেউ দেখে ফেলার আগে টপ করে এসে পড়লাম..

উজান:হোয়াট আপনি সেই দুপুর থেকে এখন পযর্ন্ত না খেয়ে আছেন।মানে আপনি না এতো বার করে বলার পরো😡😡আপনি না এই যে আমার এই কথা গুলো মাঝেমাঝে যখন শুনেন না আমার নাহ খুব রাগ লাগে জানেন আপনি😡😡

হিয়া:হিয়া ওর প্রাক্টিকেল করা নিয়ে ব্যাস্ত,উজানের কথায় মন দেওয়ায় ওর টাইম নেই..

উজান:কথা কি কানে যাচ্ছে আপনার😡😡

হিয়া:হুম কিছু বললেন

উজান:ডিসগাস্টিং

___উজান জামা কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে যায়।আজকে উজান অনেক ক্লান্ত সকালে তো ডিউটি ছিলোই তার উপর পরপর চারটে ওটির ধাক্কা____ফ্রেশ হয়ে এসে কয়েকটা ফাইল চেক করে..উজানের চোখে হালকা হালকা ঘুম চলে আসে…হিয়া তখনো প্রাক্টিকেল করা নিয়ে ব্যাস্ত।উজান সব কাজ কম্পিলিট করে বিছানায় এসে হিয়াকে পিছন দিক দিয়ে জোরায় ধরে…হিয়া বুঝতে পারে উজান ওকে জরিয়ে ধরে আছে তাও ওর হুশ নেই।হিয়া প্রাক্টিকেল করা নিয়ে ব্যাস্ত____
উজান:এখনো শেষ হয়নি প্রাক্টিকেল

হিয়া:ঔ তো আর দুটো পেজ…..হলেই শেষ হবে..

উজান:উজান হিয়ার চুল গুলোর মধ্যে ওর মুখ গুজেঁ দিয়ে হিয়াকে আরো শক্ত করে ধরে

হিয়া:কি করছেন ছাড়ুন না…আমাকে শেষ করতে দিন

উজান:আমি আবার কি করলাম আমি তো শুধু আপনাকে জরিয়েই ধরে আছি…

হিয়া:এটাকে শুধু জরিয়ে ধরে থাকা বলে বুঝি….আহ আমার চুলে টান লাগছে

উজান:লাগুগ…দেখি কি প্রাক্টিকেল করছেন..এগুলো করতে এতো টাইম লাগার কথা।

হিয়া:সবাই কি আপনার মতো এক্সপার্ট নাকি..হুম😏😏

উজান:তবে একটা কথা কি জানেন এই দুবছরে আপনার কি উন্নতি হয়েছে জানি না তবে আপনার হাতের লেখা গুলো একটু লাইনে আসছে….(বুম বুম বুম)

____হিয়া এবার লেখা থামিয়ে হালকা পেছন ঘুরে কলম টা উজানের মুখের কাছে ধরে____

হিয়া:কি কি বললেন আপনি

উজান:(হিয়ার চুল গুলো ওর মুখ থেকে সরাতে সারতে)ভুল কি বললাম।মনে নেই ঔ একবার আমার রুমে ওসব লাল নীল চিরকুটে কিসব রামগরুরে ছানা টানা লিখে টাঙ্গিয়ে দিয়েছিলেন…কি লিখা ছিলো বলুন একদম বাধাই করে রাখার মতে…

হিয়া:তাই না ও জন্যই তো আপনি ঔ চিরকুট গুলোর কয়েকটা আজো আপনার ওয়ালেটে নিয়ে ঘুরেন..

উজান:ওটা তো….মানে দেখুন এতো কষ্ট করে আপনি লিখেছিলেন তাই আপনার মন রাখার জন্য

হিয়া:মন রাখার জন্য তাই না।আমি না দেখছি আপনি বিয়ের পর খুব কথা বলতে শিখে গেছেন..আগে তো ঔ ডিসগাস্টিং,ইডিয়ট এসব ছাড়া কিছু বের হতো না মুখ দিয়ে..অবশ্য এখনো বা কম কিসের এখনো তো বলেন___

উজান:ইডিয়ট কে ইডিয়ট বলবো না তো কি বলবো..

হিয়া:সারুন তো ভালো লাগছে না প্রাক্টিকেল করতে দিন…

উজান:আজকে এতো খিটখিট করছেন কেনো? আমি ওটি তে বা চেম্বার এ থেকে গেলেই বোধহায় ভালো হতো…

হিয়া:আমি কি তা বলেছি..সেই সকাল থেকে এক জামা পড়ে আছি কেমন অস্বস্তি লাগছে..

উজান:কেনো আপনি এসে স্নান করেন নি?

হিয়া:করেই বা কি ঔ এক জামাই তো পড়তে হলো..

উজান:আমার একটা জামা পড়ে নিতেন..

হিয়া:তাই না আপনার ওগুলো জামা ওসব নাহ আপনাকেই মানায় আমাকে না…..সারুন না…আর একটু আছে শেষ করতে দিন…তার উপর কাল আপনার ক্লাস পড়া হয়নি…কি করবো আমি ভালো লাগে না…

উজান:(উজান হিয়ার চুল গুলো নিয়ে খেলতে খেলতে) ভাবছিলাম কি হিয়া,আপনার কয়েকটা জামা আমার এই গেস্টরুমে মানে আমার আলমারিতে রেখে দিবো…

হিয়া:আমার জামা আপনার আলমাড়িতে রেখে কি হবে?

উজান:এই যে তাহলে আজকের মতো ঝামেলা হবে না…আপনি মাঝেমাঝে বাসায় কিছু না কিছু বাহানা করে টিউলিপে থেকে যাবেন তারপর আমরা এভাবে কিছুটা সময় কাটাবো😍😍

হিয়া:তাই না…দিন দিন আপনার সাহস দেখে না আমার নিজেরই অবাক লাগে যে এটা কি সেই উজান স্যার যাকে আমি চিনতাম বা যাকে এখনো সবাই যেভাবে চিনে।ঔ উজান স্যার আর এই আমাকে যে জরিয়ে ধরে আছে সেই উজান স্যারের মাঝে না আকাশপাতাল তফাৎ..

উজান:বলছেন😊

হিয়া:তা নয়তো কি..

____হিয়া আবার লিখায় ব্যাস্ত হয়ে যায়___

হিয়া:আর দুটো লাইন আছে আমাকে প্লিজ একটু লিখতে দিন__

উজান:গরম নাহ একটু এসি টা বাড়িয়ে দেই..

হিয়া:আপনার ইচ্ছে…..হুম শেষ হলো শেষমেশ..এখন কালকে জলদি জলদি ম্যাম এর কাছে সাইন করে নিলে বেচেঁ যাই….

____হিয়া এবার ওর সমস্ত শরীররের ভার টা উজানের উপর দিয়ে ওর গায়ে হেলে পড়ে___

হিয়া:উজান স্যার…একটু হাত গুলো টিপে দিন না..কেমন অবশ অবশ হয়ে গেছে..

উজান:হোয়াট আমি আপনার হাত টিপবো।কোথায় আমি চারটে ওটি করে ক্লান্ত হয়ে ফিরলাম ভাবলাম আপনি একটু আমার মাথাটা টিপে দিবেন উল্টে আপনি আমার কাছে হাত টিপে চাচ্ছেন….অদ্ভুত….

হিয়া:তো কি হয়েছে…সেই চার ঘন্টা থেকে লিখছি..ব্যাথা করবে না বলুন..

উজান:যান এখন গিয়ে আগে আমার বিছানা টা পরিষ্কার করুন কি করে রেখেছেন কি বিছানা টার এক বার দেখুন…এভাবে বই খাতা এলোমেলো করে কেউ প্রাক্টিকেল করে….

হিয়া:করছি করছি হুম…..

উজান:খাবার আনতে চাইলাম ওটাতেও তো মানা করে দিলেন দেখবো কিভাবে না খেয়ে থাকেন সারারাত

হিয়া:আপনাকে ওসব ওতো ভাবতে হবে না আমার অভ্যাস আছে..

উজান:হুম তার পর পেসার লো হবে আপনি সেন্সলেস হয়ে পড়বেন তখন আপনার বাবা তো আমাকেই দোষ দিবে..

হিয়া:এখন উঠুন আপনিও।আমি বিছানা টা ঝাড় দিয়ে দেই..

____হিয়া বই খাতা গুলো গুছিয়ে ব্যাগে রেখে দিয়ে বিছানা টা ঝাড় দিয়ে পরিষ্কার করে দেয়।উজান গিয়ে খাটের মাঝ বরাবর শুয়ে পড়ে___

হিয়া:নিন আপনি শুয়ে পড়ুন।আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি___

____হিয়া ওয়াশরুম থেকে এসে সব কাজ গুটিয়ে বিছানায় আসে।উজান যেদিকে শুইয়ে তার উল্টোপাশে বাদিকে হিয়া এসে উজানের পেট আর বুকের মাঝ বরাবর ওর মাথা টা রেখে দেয় …দুজনে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকে…উজান ওর ডান হাত দিয়ে হিয়ার চুল গুলো বুলাতে থাকে___

উজান:ঝড় টা হয়ে ভালোই হলো বলুন।

হিয়া:হুম কেউ জানতে পারলে ভালো বের হবে..

উজান:তা আপনি আর কতোদিন আমাকে এভাবে স্যার আপনি আঙ্গে করবেন?

হিয়া:যতোদিন আপনি আমাকে পড়াবেন..(হিয়া মুখে হাতঁ দিয়ে হাসতে থাকে)

উজান:তাই না…একবার উজান বলে ডাকুন না খুব শুনতে ইচ্ছে করছে

হিয়া:উমহুম যতোদিন আপনি আমার টিচার তোতোদিন উজানস্যারই ঠিক আছে আর আমি ওটা বলেই ডাকবো আপনাকে

উজান:থাক বলতে হবে না😡😡

হিয়া:রাগ করলেন….

…….হিয়া উজানের বা হাত টা ধরে ওর মুখের কাছে নিয়ে আসে উজানের আঙ্গুলের ফাকেঁ ওর আঙ্গুল গুলো বেধে দিয়ে…..

হিয়া:উজাাাান স্যার….উজাানননন স্যার…উজানাাননন স্যার..উজাাননন স্যার…

উজান:থাক হিয়া বুঝেছি আপনার দ্বারা সম্ভব না😡😡

হিয়া:আরে আমি কি করবো আমি তো চেষ্টা করছি এখন মুখ দিয়ে আপনার নামের সাথে স্যার বেরোলে আমি কি করতে পারি…

উজান:ইচ্ছে থাকলে না সব হয়..

হিয়া:তাই বুঝি…আচ্ছা শুনুন না বলছি কি এসি টা একটু কমিয়ে দিন না শীত শীত করছে খুব।এভাবে ঘুমোতে পারবো না..

উজান:আমি আছি তো আমি আপনাকে জরিয়ে ধরবো দেখবেন আপনার ঠান্ডা লাগবে না(মুখে দুষ্টুমির হাসি)

___হিয়া এবার উঠে উজানের মুখের কাছে আসে___

হিয়া:সব সময় না আপনার এসব।আগে কি রকম মেপে মেপে কথা বলতেন আর এখন মুখে কিছু আটকায় না

উজান:আফটার ওল আই এম চেন্জ ম্যান নাও
হিয়া:এতোটাও চেন্জ হবেন ভাবতে পারি নি…ছাড়ুন লাগছে..

উজান:আমার তো বেশ লাগছে…

হিয়া:উজান স্যার…

“”””ঠিক এমন এভাবে তুই থেকে যা স্বভাবে”””
“””আমি বুঝেছি ক্ষতি নেই”””””
“”””আর তুই ছাড়া গতি নেই””””
“””ছুয়ে দে আঙ্গুল ফুটে যাবে ফুল ভিজে যাবে গা”””
“””কথা দেওয়া থাক গেলে যাবি চোখের বাহিরে না””

____রাত তিনটে…হিয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায়…কারন হিয়ার এবার সত্যি সত্যি খুব খিদে পেয়ে গেছে…কি করবে বুঝতে পারে না উজান কেও ডাকার সাহস পায় না কারন জানে ডাকলে এসব শুনলে উজান ওকেই বকবে___

হিয়া:ধুরো তখন কতো বড় মুখ করে বললাম আমি পারবো আমার অভ্যাস আছে…এখন কি করি আমি…এমন ক্ষিদে পেয়েছে যেনো মনে হচ্ছে দুদিন থেকে না খেয়ে আছি…উজান স্যার কে ডাকবো..নাহ নাহ এখন যদি ওনাকে বলি ক্ষিদে পেয়েছে আমাকে বকতে বকতে শেষ করবে…কি করি কি করি….স্যার কে না ডাকলেও তো নয় কিন্তু ডেকেই বা কি লাভ এতো রাতে উনি খাবার কোথায় পাবে। কিচেন ও তো ওফ হয়ে গেছে___

_____উজানের ঘুম ভেঙ্গে যায়।হিয়াকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে উজান অবাক হয়।পাশে থাকা চশমা টা পড়ে উজান ও উঠে বসে____

উজান:হিয়া…আপনি না ঘুমিয়ে…কোনো সমস্যা..?

হিয়া:কই না তো কিছু না।আমি ঠিক আছি।আপনি উঠলেন কেনো আপনি শুয়ে পড়ুন__

উজান:কিন্তু আপনি এভাবে বসে আছেন কেনো..?

হিয়া:আমার না ঔ ঘুম আসছিলো না তাই..

___উজান বসে আছে আর ওর কোলের উপর একটা বালিশ নিয়ে হিয়াকে বালিশে মাথা দিতে বলে___

উজান:তাই আপনি এভাবে…আপনিও না…আসুন আমার এখানে মাথা দিন আমি ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি…

___হিয়া গিয়ে বালিশে মাথা দেয়।উজান হিয়ার চুল গুলো বুলাতে থাকে___

উজান:কি যে করেন না আপনি।আপনার জন্য যে আরো কতো কি করতে হবে আমায়…কি হলো ঘুমান…এমনিতে বাহিরে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে এতো রাতে…

হিয়া:স্যার একটা কথা বলি

উজান:আবার কি কথা বলছি না চোখ টা বন্ধ করুন__

হিয়া:ইয়ে মানে আমার না..আমার না…আমার না খুব ক্ষিদে পেয়েছে তাই ঘুম আসছে না..

উজান:হোয়াট…এটা আপনি আমাকে এখন বলছেন মিস মিএ…আমারি ভুল হয়েছিলো তখন আপনার কথা না শুনে আমার খাবার টা আনতে বলাই ভালো ছিলো….দেখি আমার ফোন টা দিন..

হিয়া:ফোন দিয়ে কি হবে

উজান:সেটা আপনার না ভাবলেও চলবে…দেখি উঠে বসুন..

_____উজান ফোন নিয়ে বারান্দার থাই খুলে মেট্রন কে ফোন দেয়____

উজান:হ্যালো মেট্রন

মেট্রন:হুম স্যার বলুন কোনো সমস্যা আপনি এতো রাতে সব ঠিক আছে তো হিয়া হিয়া ঠিক আছে তো..

উজান:উনি ঠিক আছে কিন্তু আমাকে ঠিক থাকতে দিচ্ছে কোথায়

মেট্রন:বুঝলাম না স্যার

উজান:উনি দুপুর থেকে না খেয়ে আছে আর এখন বলছে ওনার খুব ক্ষিদে পেয়েছে ক্ষিদের জন্য নাকি ওনার ঘুম আসছে না..

মেট্রন:সে কি কথা,হিয়া দুপুর থেকে না খেয়ে আছে।ওহ কি ভুলে গেছে ওর হার্টের এতো বড়ো একটা অপারেশন হয়েছিলো তখন থেকে ওর সব খাওয়া দাওয়া মেন্টেইন করা উচিৎ তার উপর ওর পেসার আছে

উজান:আমি আপনাকে কি বললাম আমি আর জাস্ট পারি না ওনাকে নিয়ে😡😡আপনি প্লিজ একটু কিচেন এ যান গিয়ে দেখুন কি খাবার আছে যাহ পারেন নিয়ে আসুন…আমি যেতাম কিন্তু বুঝতেই তে পারছেন আমি বের হলে ওনাকে

মেট্রন:ঠিক আছে স্যার আপনাকে আসতে হবে না।আমি দেখি কিছু খাবার পেলে নিয়ে আসছি।আপনি ফোন টা সাথেই রাখুন

উজান:হুম..

___হিয়া উঠে বারান্দায় এসে উজান কে পিছন থেকে জরায় ধরে।বারান্দার গ্রিল দিয়ে হালকা হালকা বৃষ্টির ফোটা ঢুকছিলো বারান্দার মাঝে।আর সাথে বৃষ্টির গন্ধ আর ঠান্ডা হওয়া তো বয়েই চলছে__

হিয়া:সরি….

উজান:আপনি আমাকে আর কতো টেনশনে রাখবেন হিয়া….আমারি ভুল হয়েছে আমিও কিছু না ভেবে কি করে আপনার কথা শুনলাম…কি করে আমি এতো কেয়ারলেস হতে পারলাম………..আপনি জানেন অপারেশন এর পর আপনাকে আরো স্ট্রিক্টলি সব কিছু মেইন টেইন করতে হচ্ছে আর সামনেও করতে হবে…কেনো করেন আপনি এমন কি পান আমাকে এতো কষ্ট দিয়ে____

হিয়া:সরি আর কখনো এমন হবে না..

___উজান এবার হিয়াকে পেছন থেকে সামনের দিকে গ্রিল এর কাছে এনে হেলে দেয়।আর ওর দুহাত দিয়ে হিয়ার মুখ টা উপরে তোলে___

উজান:এতে সরির কিছু নেই হিয়া।আপনি কেনো বোঝেন না আপনার কিছু হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে বাচবোঁ।একবারো আপনার উজান স্যার এর কথা আপনার মনে হয় না।কে আছে আমার আপনি ছাড়া।আমি আমার সবকিছু তো আপনার জন্যই ফিরে পেয়েছি___

____হিয়া ওর গালে থাকা উজানের হাত দুটো ধরে____

হিয়া:আর কখনো হবে না এমন।আমি খেয়াল রাখবো আমার এর পর থেকে___

___মেট্রন এর ফোন আসে__

উজান:এক সেকেন্ড……হ্যালো মেট্রন কিছু পেলেন

মেট্রন:হ্যা স্যার আমি আপনার রুমের বাহিরে গেট টা খুলুন

উজান:আপনি দাড়ান আমি এক্ষনি আসছি___

____উজান গেট খুলে মেট্রন কে ভেতরে আসতে বলে____

উজান:আসুন মেট্রন ভিতরে আসুন

মেট্রন:স্যার এই নিন এই পাউরুটি আর তিনটে কলাই ছিলো ফ্রিজে আমি আর কিছু পেলাম না___

উজান:thanks মেট্রন thank you so much..আপনি যে কতো বড়ো উপকার করলেন আমার..

___হিয়া মেট্রন কে দেখতে পেয়ে এসে জরিয়ে ধরে খুশিতে___

হিয়া:মিরাাাাদীইইইই….তুমি জানতে আজ আমি এখানে গেস্ট রুমে আছি😍

মেট্রন:হুম আমাকে ওটিতে উজান স্যার বলেছিলো।ঝড়ের কারনে তুমি যেতে পারোনি….এখন নেও তো এগুলো খেয়ে নেও।এসব কেউ করে হিয়া তুমি জানো না তোমাকে কতো মেনে চলতে হয়____

উজান:ওকে এসব বলে কি লাভ উনি কি কারো কথা শোনার মতো মেয়ে।যা মন চায় করে বের হয় সারাদিন

হিয়া:দেখলে তে মিরাদী তখন থেকে খালি আমাকে বকছে…

মিরাদী:এটা কে বকা বলে না হিয়া এটা তো তোমার প্রতি উজান স্যার এর ভালোবাসা…
আমি তাহলে এখন আসছি…স্যার আসি আপনি গেট টা লাগায় দিন…

উজান:হুম…..

___মিরাদী বেড়িয়ে এসে নিজের মনে মনে ভাবতে থাকে____

মিরাদি:তুমি অনেক ভাগ্য করে উজান স্যার এর মতো একজন কে পাশে পেয়েছো হিয়া।আর উজান স্যার ও তোমাকে পেয়ে আজ কতোটা খুশি।যেই উজান স্যার বড়ো বড়ো অপারেশন করতে কখনো ভয় বা টেনশন করে না সে আজ তোমাকে নিয়ে এভাবে টেনশন করছে।ভালো থেকো তোমরা..অনেক ভালো থেকো…
………..

উজান:নিন এগুলো খেয়ে আমাকে উদ্ধার করুন

হিয়া:চলুন না বারান্দায় গিয়ে দাড়াই কি সুন্দর হাওয়া দিচ্ছে😊😊

উজান:খালি বায়না আপনার..আসুন

…..হিয়া গিয়ে বারান্দার গ্রিল এর কাছে ভেতরের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে এক হাতে কলা আর এক হাতে পাউরুটি নিয়ে খেতে থাকে।উজান এসে হিয়ার কোমড় আলতো করে ধরে….হিয়ার খুব খিদে পেয়েছিলো তাই ওহ ছোটদের মতো গব গব করে সবটা খাচ্ছিলো যেটা দেখে উজানের খুব হাসি পায়…কিন্তু হাসে না শুধু একটু মুচকি হেসে দেয় যেটা আটকানো যায় না..

হিয়া:কি হলো আপনি হাসছেন কেনো এভাবে টিপেটিপে😒

উজান:খুব খিদে পেয়েছিলো না😊

হিয়া:হুম ওটা তো একটু পেয়েই ছিলো।কিন্তু এখন এই যে খেয়ে নিচ্ছি এর পর তো আর খিদে থাকবে না___

উজান:একটা কথা বলি

হিয়া:(মুখে ভর্তি কলা পাউরুটি নিয়ে)হুম বলুন..

উজান:আপনাকে নাহ চিলড্রেন ওয়ার্ডে যে বাচ্চা গুলো আছে ওদের মতো লাগছে…কি রকম খাবারে আপনার গাল গুলো ফুলে যাচ্ছে😊😊
হিয়া:তাই না ও জন্য আপনি হাসছেন……..শেষ জল টা দিন….

উজান:এই নিন

হিয়া:কি যে শান্তি পেলো পেট টা…

উজান:তাই…..

হিয়ার গালের এক কোনে পাউরুটির ছোট্ট টুকরো লেগে থাকে…উজান ওটা দেখে নিজের ঠোট দিয়ে ওটা সরিয়ে দেয়..

হিয়া:উজান স্যার কি করছেন কি…নাহ একদম নাহ..অনেক রাত হয়েছে এবার গিয়ে শুয়ে পড়ুন…

উজান:আমি তো জাস্ট পাউরুটির টুকরো টা সরাচ্ছিলাম আর আপনি নিজে নিজে সবটা ভেবে নিলেন..

____হিয়া লজ্জা পেয়ে গ্রিল এর দিকে ঘুরে দাড়ায়।উজান হিয়ার ঘাড় থেকে চু্ল গুলো সরিয়ে হিয়ার ঘাড়ে ওর থুতনি টা ঠেকে দিয়ে হিয়ার কোমড় শক্ত করে জাপটে ধরে___

“”””বাহো কে দারমিয়া””””
“””” দো পেয়ায় মিল রাহে হে””””
“”””বলো মান ডলে সাং…..”””
“””ধারকান বানি যাবা””””

হিয়া:দেখুন বৃষ্টি টা কেমন জোরে আসছে।

উজান:(হিয়ায় কানে ওর ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে)হুম..হিয়া গ্রিল এর ফাক দিয়ে হাত বের করে বৃষ্টির ফোটা স্পর্শ করতে থাকে____

উজান:কি করছেন কি ঠান্ডা লেগে যাবে___

হিয়া:ওটুকু নি তে কিচ্ছু হবে না।আপনিও হাত দিন না আমার সাথে..দেখবেন ভালো লাগবে..

____উজান হিয়ার কথা ফেলতে পারে না।ওই ও গ্রিল এর ফাক দিয়ে হিয়ার হাতের উপর ওর হাত রাখে____

____দুজনের হাতের মুঠোয় অনেক গুলো পানি জমা হয়।হিয়ার মাথায় তো সবসময়ই দুষ্টু বুদ্ধি ঘোরে।ওহ এক মুঠ পানি নিয়ে পিছন থেকেই উজানের মুখে ছুড়ে দেয়___

উজান:হিয়া হিয়া হিয়া কি করছেন…আমার হাতেও কিন্তু পানি আছে…

হিয়া:তো আপনি ভিজিয়ে দিলে দিন আমি রাজি ভিজতেঁ😍

উজান:তাই না..

___উজান হাত টা ভিতরে এনে হিয়ার কোমড় শক্ত করে জড়ায় ধরে…তারপর হিয়ার ঘাড়ে আস্তে করে একটা চুম্বন একে দেয়…হিয়া ওর ওড়না টা আর গ্রিলে থাকা এক হাত শক্ত করে চেপে ধরে___

হিয়া:স্যার ঘরে যাই…ঘুম পাচ্ছে..

উজান:ঘরেই তো যাবো মিস হিয়া মিএ..(উজানের মুখে আবার দুষ্টুমির হাসি)

____উজান হিয়াকে পিছন ঘুরিয়ে কোলে তুলে নেয়___

হিয়া:স্যার কি করছেন..

উজান:আজকে আমি আপনার কোনো কথা শুনবো না😊

হিয়া:এর আগে কখনো শুনেছিলেন মনে হয়!!

উজান:শুনি না আর এসব ব্যাপারে ফিউচারেও কখনো শুনবো না।আমি যা বলবো ওটাই হবে..

“”””যারা যারা বেহেক তা হে বেহেক তা হে””””
“””আজ তো মেরা তান বাদান পেয়াছি হে”””
“”””মুঝে ভারলে আপনি বাহু মে”””
“””তেরি কাসাম মুঝকো সানাম””””

……উজান হিয়াকে কোলে করে নিয়ে যায়….বারান্দার থাই খোলা….হওয়া আসছে ভিতর পর্যন্ত…..পর্দা উড়ছে….সাথে মাঝেমাঝে বজ্রপাতের গর্জন….ভারি বৃষ্টি……এর মধ্যে হিয়া উজান মিলেমিশে এক হয়ে যায়….এরকম ভালোবাসা যেখানে সব সময় একটা সম্মান একটা ভরসা একটা দায়িত্ব একটা অদ্ভুত মনের টান কাজ করে এটা শুধু উজান আর হিয়ার প্রেমেতেই সম্ভব।এই ভালোবাসা পবিএ এই ভালোবাসা সকল মাপকাঠির উর্দ্ধে এই ভালোবাসা আজীবনের….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here