❤️(46_47)❤️ FF: #মেডিকেল_ক্যাম্প Part:46

0
453

❤️(46_47)❤️

FF: #মেডিকেল_ক্যাম্প
Part:46

……উজান হিয়াকে নিয়ে গাড়িতে করে আইসক্রিম খাওয়াতে নিয়ে যায়…….
গাড়িতে….

হিয়া:শুনো না বলছি কি আমাকে ঔ ব্রিজ টার ওখানে নিয়ে যাবে তোমার জন্মদিনের দিন যেটায় নিয়ে গেছিলে😊
উজান:যাবে তুমি?
হিয়া:হুম।তুমি তো বলো রাতে যেতে নাকি ভালো লাগে মানুষজন কম থাকে।আর পুরো ব্রীজ টা আলো দিয়ে সাজানো হয় দেখতে নাকি ভীষন ভালো লাগে😊
উজান:হুম….
হিয়া:আজ কতো দিন পর আমাকে নিয়ে বের হলে😊
উজান:এটাই লাস্ট………এমনিতেও পুচকু হলে তুমি বের হতে পারবে না তার উপর তার দুমাস বাদে তোমার পরীক্ষা শুরু তাই আজি….

হিয়া:(পরীক্ষার কথা শুনে হিয়ার বুক টা ধক করে উঠে)……পরীক্ষা তাই না😖😖😖….আচ্ছা উজান আমি যদি পাশ না করি তখন,তখন কি হবে😖😖😖
উজান:কি আর হবে আমি পুচকে আমার কাছে রেখে তোমাকে গ্রামে দিয়ে আসবো,ওখানে ঔষধ জেঠুর সাথে বসে বসে টোটকা ট্রিটমেন্ট করবে…(ইয়েন ফানি বুম)
হিয়া:উজান😡😡😡
উজান:নিজে থেকে তো কোনোদিন পড়তে বসতে
দেখলাম না,আমি পড়তে নিয়ে বসলেও মাথা ব্যাথা করে ঘুম পায়,খিদে পায়,বাথরুম পায় কতো কতো বাহানা…..
হিয়া:তুমি জানো আমি নিজে থেকে পড়তে বসি কি না😡😡😡সারাদিন থাকো তুমি বাসায়…..আর কি বললে তুমি পড়তে নিয়ে বসলে আমি পড়ি না। কিভাবে বলো তুমি হ্যা😡😡 তখন কি বললে দু ঘন্টা পড়াবে ওটা দু ঘন্টা ছিলো টানা ৫ ঘন্টা পড়িয়ে এই রাতে নিয়ে বের হলে আমাকে….
উজান:তো ওটা তো তোমার ভালোর জন্যেই পড়িয়েছি…….
হিয়া:হুম😏😏😏
হিয়া:থামালে কেনো?
উজান:আইসক্রিম নিয়ে আসি…
হিয়া:হুম😊😊😊
…….উজান আইসক্রিম নিয়ে এসে আবার গাড়ি ড্রাইভ করতে শুরু করে…..
হিয়া:কই দেও…
উজান:একটু ওয়েট করো একদম ঠান্ডা…
হিয়া:আইসক্রিম তো একদম ঠান্ডাই খেতে হয়😒😒
উজান:একদম বরফ হিয়া
হিয়া:তো পানি করে খাবো😒
উজান:যদি তাই করে খেতে হয় তাই খাবে…

………উজান হিয়াকে আইসক্রিম একদম নরম করে খেতে দেয়…..

উজান:নেও….কি হলো নেও
হিয়া:তুমি খাও😡😡😡
উজান:আরে এর পর কিন্তু আরো গলে যাবে😊😊

হিয়া:এখনো বরফ আছে দেখো আর একটু গলুক। নাহলে আমার গলা বসে যাবে তারপর জ্বর এসে যাবে।তো এতো ঠান্ডা খেলে😏😏😏…..(ইয়েন ফানি বুম)
উজান:বেশি পাকা…নিবা কি😡

হিয়া:(আইসক্রিম নিয়ে)…..ইসস কি বানায় দিলো আইসক্রিম টার অবস্থা….কেমন ট্যালট্যালে হয়ে গেছে…এভাবে কেউ কোনোদিন আইসক্রিম খায়…কোণ ছিলো না তোমাকে বাটি আইসক্রিম কে আনতে বলছে….ভালো লাগে না আমি বাড়ি যাবো…..😭😭😭
উজান:কেনো ব্রিজে যাবে না..
হিয়া:মুড টাই তো নষ্ট হয়ে গেলো তোমার জন্য😭😭

উজান:নামো গাড়ি টা পার্ক করে নেই…
হিয়া:😭😭😏😏
…….উজান গাড়ি পার্ক করে হিয়া কে নিয়ে ব্রিজ টার রেলিং এ গিয়ে হিয়াকে দাড় করে দিয়ে পিছন দিয়ে এসে হিয়ার গায়ে একটা চাদর জরিয়ে দেয়……
হিয়া:এটা কখন নিয়ে এলে…
উজান:সব তো আমাকেই খেয়াল রাখতে হয় তোমার কি নিজের প্রতি কোনো খেয়াল আছে….
হিয়া:😊😊😊😊😊
……হিয়া উজানের কাধে হেলান দেয়।উজান এক হাত দিয়ে হিয়াকে জরিয়ে ধরে এক হাত হিয়ার হাতের উপর রাখে…শীতের রাতের হালকা ঠান্ডা হাওয়া ওদের দুজের গায়ে মেখে যায়…ব্রিজের নিচে পানির কল কল শব্দ দূর থেকে ভেসে আসা কন্সার্ট এর হালকা মিউজিক…গাড়ির হর্ন…পূর্নিমার চাঁদের আলো পানিতে পড়ে এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করে দেয় উজান হিয়াকে….

হিয়া:আমার না খুব ভয় করছে জানো..
উজান:কিসের ভয়…
হিয়া:ভয় না কেমন জানি একটা ভিতরে ভিতরে করছে।আগে তো কখন এমন হয়নি প্রথমবার মা হচ্ছি।সব ঠিক যেনো হয়।পুচকু যেনো সুস্থ ভাবে আসে….
উজান:(হিয়ার গায়ের চাদর টা ঠিক করে দিতে দিতে)আমি আছি তো কিসের এতো ভয় তোমার…
হিয়া:হুম জানি…ম্যাম এর তো এখন আর কোনো এ্যাপায়নমেন্ট নেই তাই না..
উজান:না….পাবলো কে কেনো ডেকেছো বললে না তো..
হিয়া:কিছু কথা বলার জন্য বুলি কে নিয়ে..
উজান:তোমার কি এখনো দোটানা আছে ওদের সম্পর্ক নিয়ে
হিয়া:জানি না উজান কিন্তু আমার ভয় করে..
উজান:(হিয়ার আঙ্গুলে ওর আঙ্গুল গুলো গুজে দিয়ে)…বললাম তো আছি আমি তুমি এখন এসব নিয়ে ভাবতে যেও না হিয়া।সামনে পরীক্ষা সেটায় ফোকাস করো এসব নিয়ে ভাবার অনেক সময় পাবে…
হিয়া:বলছো..ঠিক আছে.
উজান:আমি বললে হবে না হিয়া তোমাকে নিজেকে বুঝতে হবে।আমি কতো গর্ব করি তোমাকে নিয়ে বলো তো সবার কাছে।তুমি চাও আমি ছোট হই কারো কাছে?
হিয়া:কখনোই না
উজান:তাহলে…
…..ব্রিজে আরো অনেকে ঘুরতে আসে কেউ ফ্যামিলি নিয়ে কেউ বা তার ভালোবাসার মানুষ কে সাথে নিয়ে…উজান হিয়ার কথার মাঝে একটা তিন চার বয়সি মেয়ে বাচ্চা ওদের কাছে দৌড়ে আসে…উজান বাচ্চা টাকে কোলে তুলে নেয়….

পিচ্চি বাচ্চা:আঙ্কেল আমাকে এটা খুলে দেও না..
উজান:খুলে দিবো..?
হিয়া:দেও আমি ছিড়ে দিচ্ছি….কি নাম তোমার?
পিচ্চি বাচ্চা:অদিইইইতিইই
হিয়া:(পিচ্চি টার গাল গুলো টেনে)অদিতি বাহ কি মিষ্টি নাম তো তোমার😊😊
উজান:কার সাথে এসেছো তুমি?
পিচ্চি মেয়ে:মা বাবা দিদাই বুনু ইশা
হিয়া:বাহ বা সবাই এসেছে😊😊
পিচ্চি মেয়ে:তোমরা এখানে কি করো তোমাদের আমার মতো পিচ্চি বাবু নেই(তোতলে তোতলে)

উজান:আছে তো এই যে😊😊
পিচ্চি মেয়ে:কোথায় আমি তো দেখতে পাচ্ছি না
হিয়া:এই যে আমার ভিতরে এখন ও ছোট যখন তোমার মতো বড়ো হবে তখন তুমি দেখতে পারবে..
পিচ্চি:ওহ কি খেলবে আমার সাথে
উজান:তুমি খেলবে আমাদের পুচকুর সাথে😊

পিচ্চির মা:দেখো দেখি দৌড়াতে দৌড়াতে কতো দূর চলে এসেছে খেয়ালি করি নাই…আয় মা..
হিয়া:আপনার মেয়ে😊
পিচ্চির মা:হুম।খুব জ্বালিয়েছে না…
উজান:না না কি সুন্দর কোলে এলো কতো মিষ্টি মিষ্টি কথা বললো…সচারাচর তো বাচ্চা রা কারো কাছে আসতো চায় না ওহ একটু অন্য রকম মনে হলো…
পিচ্চির মা:হ্যা ও সবার কোলেই ওঠে……..তুমি দেখি অন্তঃসওা…বাবু হবে
হিয়া:হুম আর বেশি দিন নেই…
পিচ্চির মা:সাবধানে চলাফেরা করো এসময় কেমন…
হিয়া:হুম…
পিচ্চির মা:আসি আজ…
হিয়া:(হিয়া পিচ্চির গালে একটা চুমু দেয়)….টাটা..
পিচ্চি:টাটা….

হিয়া:কি মিষ্টি তাই না..
উজান:হুম…জানো হিয়া হিয়ানের যতো মাস হচ্ছে আর নিজেকে সামলাতে পাচ্ছি না মনে হচ্ছে ওহ কবে আসবে কবে ওকে আমার এই হাত দুটো দিয়ে কোলে নিবো😊
হিয়া:হিয়া উজান কে আলতো করে জরায় ধরে…
উজান:এবার বাড়ি যাই চলো।মা ফোন দেওয়া শুরু করছে..
হিয়া:চলো ওদিক টা একটু হেটে আসি তার পর যাবো😊
উজান:ঠিক আছে এসো😊

………..হিয়া উজানের কাধ বরাবর মাথা দেয়।উজান হিয়াকে এক হাত দিয়ে জোরায় ধরে হিয়াও উজানের কোমড়ে হাত দিয়ে ব্রীজ এর রেলিং ধরে হাটতে শুরু করে……

“”””মাঝে মাঝে তব দেখা পাই”””
“””কেনো চিরদিন পাই না””””
“””””কেনো মেঘ আসে হদয় আকাশে””””
“”””কেনো মেঘ আসে হদয় আকাশে””””
“”””তোমারে দেখিতে দেয় না”””‘
“””মোহ মেঘ তোমারে দেখিতে দেয় না”””
“”””মাঝে মাঝে তব দেখা পাই””””
“”””চিরদিন কেনো পাই না””””
“”””মাঝে মাঝে তব দেখা পাই”””
“””কেনো চিরদিন পাই না””””

রাত ১২:৩০টা হিয়া উজান ফিরলে বাসবি খুব রেগে যায়…
বাসবি:এটা কি ধরনের ঘুরতে যাওয়া তোদের😊😊
উজান:মা আসলে
বাসবি:হিয়া বায়না করলো আর তুই নিয়ে গেলি…কটা বাজে খেয়াল আছে তোদের😡
হিয়া:আমার কি দোষ মা বলো।আমি তো বিকেলেই যেতে চেয়ছিলাম ঘুরতে ঔ তো তখন আমাকে নিয়ে পড়তে বসালো…
উজান:😡😡😡😡😡😏😏😏😏
বাসবি:এটাই শেষ আর যেনো আমি না দেখি….যাও গিয়ে এখন শুয়ে পড়ো…..
হিয়া:ঠিক আছে….
এভাবে উজান হিয়ার খুনসুটির ভেতর দিয়ে হিয়ার ডেলিভারির ডেট কাছে আসতে শুরু করে…আর দিন যতোই এগোতে থাকে উজান হিয়ার মাঝে তোতোই আনন্দ ভয় ভালোবাসা বেড়ে চলতে থাকে…

উজানের কেবিন…….

উজান:মেট্রন এই উইকে আমার যতো ওটি ওপিডি আছে সব নিয়ে আসুন কারন নেক্সট উইক হিয়া এডমিট হলে আমি তিন চার দিন ওখানেই ব্যাস্ত থাকবো এদিকে আর সময় দিতে পারবো না…
মেট্রন:ঠিক আছে স্যার…হিয়া কবে ভর্তি হচ্ছে..?

উজান:তৃনা ম্যাম তো বললো ১০তারিখে এডমিট করাতে আমি চাচ্ছি তার দুদিন আগে করালে হয়তো ভালো হয়….আপনি কি বলেন?
মেট্রন:আপনি যা ভালো বুঝেন তাই করেন।সাবধানে থাকা তে তো দোষ নেই…
উজান:হুম….

…..হিয়াদের বাড়ি…..
হিয়া:আজকে কেনো এডমিট হতে হবে ম্যাম তো বললো পরশু ভর্তি হতে তাহলে😢
বাসবি:রাজা বললো তাই…ওকে কে নিষেধ করবে এখন…
হিয়া:এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি।আমি কি করবো একদিন এমনি বেডে শুয়ে শুয়ে।ভালো লাগে না…😢😢
বাসবি:আমি তো থাকবো নাকি…মা ও তো আসছে..
হিয়া:কোথায় বাড়ি কোথায় টিউলিপের কেবিন😢
……উজানের ফোন আসে…
হিয়া:হ্যালো
উজান:ফোন দিয়েছিলে?
হিয়া:হ্যা…আমরা আজ কেনো ভর্তি হচ্ছি ম্যাম তো বললো কালকে রাতের দিকে ভর্তি হতে…কাল হই না😢😢কেবিনে ঔ মেডিসিন মেডিসিন গন্ধ আমার ভালো লাগে না…

উজান:না হিয়া আমার মন টা সায় দিচ্ছে না।সকাল থেকে কেমন জানি অস্থির লাগছে😢
হিয়া:তুমি আমাকে বলো ভয় না করতে এখন তুমি নিজে ভয় পাচ্ছো
উজান:ভয় না হিয়া এটা….
হিয়া:এতো কেয়ারনেস ভালো না..
উজান:জানি না আমি ওসব শুধু এটুকু জানি তোমার কিছু হলে আমি উজান বাচঁতে পারবো না

হিয়া:কি হবে আমার..আচ্ছা বাসায় কখন আসবে?
উজান:একটু পর আসছি আজ আর টিউলিপে ভালো লাগছে না।রাতে ডিউটি দিবো ভাবছি..
হিয়া:দুপুরে খাবে তাহলে মা কে বলবো তোমার জন্যেও ভাত দিতে
উজান:হুম বলো…
হিয়া:ঠিক আছে😊😊

………দুপুরের দিকে উজান হিয়া কে খাইয়ে দিচ্ছে বিছানায় বসে বসে…
হিয়া:আর না উজান…বমি পাচ্ছে মনে হচ্ছে পেসার টা কমছে….
উজান:আচ্ছা তুমি এটা শেষ করো খাওয়া হলে আমি তোমার পেসার টা মেপে দিচ্ছি.
হিয়া:না মাছের গন্ধ ভালো লাগছে না😢

উজান:খাওয়াতে গেলে এতো সমস্যা তোমার।সারাদিন খিদে খিদে বলে চেচাঁও আর খেতে দিলে না না…..এটাই শেষ…হিয়া নেও
হিয়া:তোমার গায়ে বমি করে দিবো কিন্তু
উজান:ঠিক আছে দিও…. দেখি এবার পানি টা নেও…
হিয়া:আর না হিয়ানের বাবা😡
উজান:পানি টা পুরো খাও অন্তত….ঠিক আছে খেতে হবে না দেও….
…………..উজান হিয়ার মুখ মুছে দিয়ে এক হাতে ভাতের প্লেট আর এক হাতে পানির গ্লাস নিয়ে যেতে ধরলে নিচে থাকা কার্পেটে হালকা উষ্ঠা খেলে ওর হাত থেকে অনেক টা পানি নিচে পড়ে যায়…..
হিয়া:যা পড়ে গেলো।
উজান:তোমাকে উঠতে বলছি বসে থাকো তুমি।হিয়া:😏😏
উজান:আমি এগুলো রেখে এসে মুছে দিচ্ছি।আর তোমার পেসার টাও মাপতে হবে দেড়ি করা যাবে না..
হিয়া:যাও…
…….উজান ওগুলো রেখে কাপড় নিয়ে মুছে দিতে যাবে ঔ সময় উজানের ফোনে মিনাক্ষীর ফোন আসে।উজান ফোন নিয়ে বারান্দায় কথা বলতে চলে যায়।কিছুক্ষণ পর হিয়া উঠে বাথরুম এ যেতে ধরে এমন সময় হিয়ার মাথা ঘুরতে শুরু করে

হিয়া:মাথা টা কি ঘুরছে আমার..না না..এমন কেনো লাগছে…
……হিয়া উজান কে ডাকতে যাবে এমন সময় নিচে থাকা পানি তে পা পিছলে হিয়া মুখ পাশ হয়ে পড়ে যায়….
হিয়া:উজাননননননন……..
…….হিয়ার ডাক শুনে উজান বুঝতে পায় অনেক বড়ো একটা বিপদ ঘটেছে এরি মধ্যে।উজান থমকে যায়।উজানের চার পাশ থমকে যায়।না চাইতেও হাত থেকে ফোন টা পড়ে যায়…উজান পাচ ছয় সেকেন্ড চোখে কিছু দেখতে পারে না…কিছু সেকেন্ড পর উজানের সেন্স ফিরলে ওহ দৌড়ে গিয়ে হিয়াকে ধরে…..
উজান:হিয়ায়ায়ায়া……হিয়া…হিয়া উঠো না হিয়া..
হিয়া:আমার খুব কষ্ট হচ্ছে উজান…পারছি না…ভীষন ব্যাথা করছে….
উজান:কিচ্ছু হবে না তোমার হিয়া।আমি আছি তো….মা……মা…….মা কোথায় গেলে…..বুলি…….বাবা……বুলি…..
হিয়া:(উজানের কলার ধরে)আমার কিছু হলে তুমি তুমি…তুমি পুচকু কে ভালো রাখবে কথা দেও আমায়….
উজান:(কাঁদতে কাঁদতে) এসব কি বলছো হিয়া তুমি।কি হবে তোমার।আমি আছি তো বলো আমার উপর ভরসা নেই তোমার….তোমার কিছু হলে তোমার উজান স্যার তোমার গুরুজি কি নিয়ে বাচবে বলো…
হিয়া:আআ…আমার খুব ব্যাথা করছে…কষ্ট হচ্ছে…উজান…
উজান:(হিয়ার মাথা টা উজান ওর বুকে লেপ্টে নিয়ে)…..মা…..বাবা….বুলি…
বাসবি:রাজা কি হয়েছে…..হিয়া….
বুলি:দিদি….
বাসবি:এসব কিভাবে হলো।হিয়া পড়ে গেলো কিভাবে…
উজান:বুলি আমার আমার ফোন টা বারান্দায় পড়ে গেছে নিয়ে এসো প্লিজ…
বাসবি:(হিয়ার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)তোর কিচ্ছু হবে না মা আমি আছি তো…রাজা আছে….কষ্ট হচ্ছে….(কাঁদতে কাঁদতে)
……বুলি ফোন নিয়ে এলে উজান কাপা কাপা হাতে তৃনা ম্যাম কে ফোন করে ইমিডিয়েট টিউলিপে আসতে বলে কারন তৃনা ম্যাম রাত ছাড়া ডিউটি করে না….
বুলি:এ্যাম্বুলেন্স আনতে বললে না…
উজান:এ্যাম্বুলেন্স এর জন্য থাকলে হবে না বুলি।আমাকে হিয়া কে এখনি নিয়ে যেতে হবে…..(হিয়ার হাত দুটো শক্ত করে ধরে)…..কিচ্ছু হবে না তোমার হিয়া আমি আছি তো ভরসা রাখো একটু আমার উপর…..মা তুমি হিয়া কে দেখো আমি গাড়ি বের করছি……
………উজান গাড়ি বের করে হিয়াকে কোলে করে নিয়ে গাড়ির পিছন সিটে শুইয়ে দেয়….বাসবি গিয়ে হিয়ার পাশে বসে।আর উজানের সাথে বুলি……

হিয়া:উজান….
উজান:আমি আছি হিয়া….
বাসবি:রাজা আস্তে গাড়ি চালা…জোড়ে চালাতে গিয়ে না আবার একটা বিপদ হয়ে যায়…..কি মা কিচ্ছু হয়নি তোর…সব ঠিক হবে দেখবি…..হিয়া হিয়া…….
উজান:কি হলো মা….
বাসবি:হিয়ার সেন্স চলে যাচ্ছে…….
…….উজান এই শীতেও,গাড়িতে এসি,তারপরো ঘামতে শুরু করে…উজানের কপাল গড়িয়ে ঘাম পড়তে শুরু করে এক দু ফোটা……
উজান:সব আমার জন্য হলো…আমি রেসপন্সিবেল এর জন্য..তখন পানি টা…..
বাসবি:রাজা…
উজান:কি মা….
বুলি:উজান দা সামনে দেখো প্লিজ…এভাবে পিছন ফিরে ফিরে গাড়ি চালালে আরো সমস্যা হবে…
উজান:হুম…বলো না মা চুপ করে কেনো আছো?
বাসবি:না মনে হচ্ছে হিয়ার মনে হয় পানি ভেঙ্গে গেছে…
উজান:হোয়াট….এসব কি বলছো তুমি মা…
বাসবি:তুই একটু শান্ত হো না…ঠিক হবে সব…
উজান:আর একটু মা এসে গেছি…
……..উজান কাপা কাপা হাতে যতো দূত পারে ড্রাইভ করে হিয়া কে টিউলিপে নিয়ে আসে….

উজান:মেট্রন মেট্রন…..(উজান মেট্রন কে গাড়িতেই ফোন করে সব রেডি রাখতে বলে)
মেট্রন:স্যার আমি সব রেডি করে রেখেছি।তৃনা ম্যাম আসছে……
উজান:থ্যাংকস মেট্রন…
মেট্রন:হিয়া এখন কেমন আছে স্যার…
উজান:ওর সেন্স নেই…আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না মেট্রন….আপনি আসুন আমার সাথে….
…….তৃনা এসে ওটি রেডি করতে বলে..

উজান:ম্যাম আমার হিয়া বা পুচকুর কিছু হবে না তো…
তৃনা:আমি তোমাকে মিথ্যে আশ্বাস দিতে চাই না উজান।নিজেকে শক্ত করো….হিয়ার অনেকক্ষণ হলো পানি ভেঙ্গেছে…নরমাল ডেলিভারি সম্ভব না সার্জারি করতে হবে…
উজান:(তৃনার দু হাত ধরে)আমি জানি না আপনি যেভাবে পারেন আমার হিয়া কে আর আমার বাচ্চা কে ভালো করে দিন…প্লিজ ম্যাম
তৃনা:তুমি একজন ডক্টর হয়ে এভাবে কাঁদছো।এটা তোমাকে মানায় না উজান…থাকবে আমার সাথে ওটিতে?
মেট্রন:ম্যাম এ্যান্সথেসিয়া শেষ আপনি আসুন…
তৃনা:উজান এসো….

……ওটি চলতে থাকে।মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ায় পুচকুর অনেক টা আঘাত লাগে….পুচকু হিয়ার পেটে উল্টো হয়ে যায়…
উজান:ম্যাম আপনি কিছু বলছেন না কেনো..
তৃনা:দাড়াও উজান।তুমি প্লিজ ওখানে গিয়ে বসো…আমি দেখছি তো….

ঠাম্মি:ঔ তো বৌমা…জিনি আয়
বাসবি:মা…
ঠাম্মি:তুমি এভাবে কেঁদো না বৌমা।আমার উজান হিয়ার সাথে কখনো খারাপ হতে পারবে না।অনেক কষ্ট করে ওরা এক হয়েছে ওদের কেউ আলাদা করতে পারবে না…
জিনিয়া:দাদাভাই কোথায়?
বুলি:উজান দা ওটির ভেতর…আমার খুব ভয় করছে জিনি…
ঠাম্মি:তোরা এতো ভাবিস না সবাই প্রার্থনা কর ওদের জন্য….

……তৃনা পুচকু কে সুস্থ ভাবে ডেলিভার করে আনে।কিন্তু হিয়ার অনেক টা ব্লাড লস হয়ে যায়….পুচকুর কান্না শুনে উজান হেসে উঠে তৃনার কাছে চলে আসে….
তৃনা:এই নেও তোমার মেয়ে…
উজান:(উজান কাঁদতে কাঁদতে পুচকু কে ওর দুটো হাতে নেয়।উজানের কতোদিনের শখ ছিলো পুচকু কে ওর দুহাতে ধরবে)……আমি আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিবো ম্যাম….মেট্রন মেট্রন আমার আর হিয়ার মেয়ে…দেখুন
মেট্রন:(মেট্রন ও উজানের সাথে কেঁদে দেয়)…হুম স্যার….
তৃনা:(আরেক টা নার্স কে দেখিয়ে হিয়ান কে শিশু ওয়াডে আপাতত নিয়ে যেতে বলে….)…আর মেট্রন আপনি আরো দু ব্যাগ রক্তের ব্যাবস্থা করুন ইমিডিয়েটলি…
উজান:(পুচকু কে দিয়ে)ব্লাড কেনো ম্যাম…
তৃনা:হিয়ার অনেক ব্লাড লস হয়েছে উজান।ইমিডিয়েট ব্লাড না দিলে হিয়াকে…
উজান:হিয়াকে কি…
মেট্রন:স্যার আপনি শান্ত হোন…
উজান:(একদিকে পুচকু হওয়ার আনন্দ অন্য দিকে হিয়ার এই কন্ডিশন উজান হাসবে না কাঁদবে কিছু বুঝে উঠতে পারে না)….আমার হিয়া বাচবেঁ তো..(উজান পেছাতে পেছাতে সোফায় ধাক্কা খেয়ে বসে পড়ে…)
তৃনা:উজান তুমি একজন ডক্টর এভাবে ভেঙ্গে পড়া তোমাকে মানায় না…মিরা তুমি দাড়িয়ে দেখছো কি…যাও
মেট্রন:জ্বি জ্বি ম্যাম…

……..মেট্রন ব্লাড আনতে গেলে হিয়ার গ্রুপের ব্লাড পায় না…মেট্রন কিছু না বুঝতে পেরে দৌড়ে উজানের কাছে আসে…উজান বাহিরে মেট্রন এর জন্যই ওয়েট করছিলো…..

উজান:কি হলো মেট্রন এতো দেড়ি হলো কেনো…
মেট্রন:স্যার আসলে হিয়ার গ্রুপের ব্লাড পাওয়া যাচ্ছে না…
উজান:হোয়াট….এসব কি বলছেন আপনি…চলুন দেখি…..
……উজান ব্লাড এর ওখানে গিয়ে রাগে চেঁচামেচি শুরু করে…
উজান:কোথায় কে বলছে ব্লাড নেই…আপনি বলছেন…
লোক:স্যার আসলে থাকলে তো আমরা দিয়েই দিতাম…
উজান:আমার সাথে মজা করছেন আপনারা…টিউলিপের মতো এতো বড়ো একটা হসপিটালে ব্লাড নেই…ই আর কি করছেন আপনারা…আমাকে ঢুকতে দিন আমি নিজে গিয়ে দেখবো ব্লাড আছে কিনা…
…..(টিউলিপের সবাই দাড়িয়ে উজানের চেঁচামেচি দেখতে থাকে)….
বাসবি:রাজা শান্ত হো ওনাকে রাগ দেখায় কি হবে…থাকলে তো উনি দিয়েই দিতো…আর হিয়ার ব্লাড গ্রুপ তুই তো জানিস O positive সবসময় থাকে কি….জিনি পাবলো কে ফোন করছে পাবলো আনছে অন্য হসপিটাল থেকে…
উজান:পাবলো কখন আনবে কখন দিবো মা।কেনো বুঝছো না ইমিডিয়েট না দিতে পারলে হিয়া কে…(উজান আর বলতে পারে না)
ঠাম্মি:তুই আয় তো এদিকে বস আগে…
……ঠাম্মি উজান কে নিয়ে গিয়ে ওটির বাহিরে চেয়ায় গুলোয় বসায় দেয়।তৃনা এখনো ভিতরে…উজান বসে বসে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছু করতে পারে….উজানের নিজেকে অনেক হেল্পলেস মনে হয়…উজানের গলা শুকিয়ে যায়…ভিতরে হিয়া…চাইলেও উজান যেতে পারছে না…উজান হালকা ঢোক গিলে…মেঝের দিকে তাকিয়ে এই নয়টা মাসের ওর আর হিয়ার পুচকু কে নিয়ে বোনা স্বপ্ন গুলো ভাবতে থাকে…….উজানের ভিতর ছিড়ে যায়..এরকম ভয় একবার হয়েছিলো উজানের যখন হিয়ার হার্ট ওপারেশন এর পর হিয়ায় সেন্স ফিরছিলো না…
“”‘বড়ো ইচ্ছে করছে ডাকতে”””
“””তার গন্ধে মেখে থাকতে”””
“””কেনো সন্ধ্যে সন্ধ্যে নামলে সে পালায়””
“””তাকে আটকে রাখার চেষ্টা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছি তেষ্টা””
“”আমি দাড়িয়ে দেখছি শেষ টা জানলায়””
“””বোঝে না সে বোঝে না বোঝে না সে বোঝে না””

…….এমন সময় সেই পিচ্চি অদিতি এসে উজানের হাত ধরে…
অদিতি:আঙ্কেল…..
উজান:(মুখ তুলে)….অদিতি…
অদিতি:তুমি কাঁদছো কেনো কি হয়েছে তোমাকেও মাম্মাম বকা দিয়েছে…
উজান:(উজান চায় না তবুও কেনো জানি অদিতি কে কোলে নেয়)….না..
অদিতি:(উজানের চশমা খুলে চোখ মুছে দেয়)…তোমার সাথে যেই আন্টি টা ছিলো ওহ কোথায়…
উজান:(এই কয়েকটা সেকেন্ড উজান হিয়াকে ভুলে গেলেও হিয়ার কথা মনে পড়ায় উজানের বুক ধক করে ওঠে)….তুমি এখানে কার সাথে এসেছো..
অদিতির মা:যাকে পায় তার কোলে উঠে….আপনি না…সেদিন ব্রিজে দেখা হলো….দেখি মা কোলে আয়…আপনি এখানে…
ঠাম্মি:উজান শোন না পাবলো বললো ওর আসতে আরো ১ঘন্টার কাছাকাছি লাগবে এর মধ্যে যদি…ব্লাড টা তো ইমিডিয়েট লাগবে আর বেশি দেড়ি হলে…
অদিতির:ব্লাড লাগবে কার?
উজান:আমার মিসেস এর যার সাথে সেদিন আপনি কথা বললেন…
অদিতির মা:ওর জন্য।ঠিক আছে আমার হাসবেন্ড এর O negetive তুমি চাইলে ওর কাছ থেকে নিতে পারো।আমার চেক আপ করতে আজ ও আমায় নিয়ে এসেছে..
উজান:আপনি আপনি বলছেন।কোথায় কোথায় আপনার হাসবেন্ড…(উজানের বুক থেকে যেনো একটা বিশাল পাথর কেউ তুলে দেয়)
অদিতির মা:মেডিসিন কিনছে…আমি ডাকছি…তুমি গিয়ে ব্লাড নেওয়ার ব্যবস্থা করো…
উজান:থ্যাংকইউ থ্যাংকইউ সো মাচ…
…….হিয়াকে ব্লাড দিলে প্রায় ৫,৬ ঘন্টা পর হিয়ার সেন্স ফেরে…উজান হিয়ার পাশেই বসে ছিলো…আর কাঁদছিলো….হিয়া চোখ খুলে উজান কে কাঁদতে দেখে….
হিয়া:কাঁদছো কেনো তুমি?
উজান:হিয়া….
……..উজান হিয়াকে দেখে ছোট বাচ্চা দের মতো হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে….
হিয়া:আরে…আমার কিছু হয়নি তো…
উজান:সব আমার জন্য আমি সব সময় চেয়েছিলাম তোমার খেয়াল রাখতে তোমার যাতে কোনো অসুবিধে না হয় আর আজ আমার জন্য…
হিয়া:আরে এতে তোমার কি দোষ বলো…
উজান:তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না…
হিয়া:ইডিয়ট আমাকে বলো আর এখন নিজে ইডিয়ট এর মতো কাঁদছো….হিয়ান কোথায়?
উজান:হিয়ান ভালো আছে।ম্যাম ওকে একটু ওবজারবেশনে রাখতে বলছে…আসছে হয়তো…

……..একটা নার্স এসে হিয়ান কে হিয়ার পাশে শুইয়ে দিয়ে যায়….হিয়ার পেটে ব্যাথা আর হাতে ক্যানুলা পড়া থাকায় এই মুহূর্তে ও হিয়ান কে কোলপ নিতে পারে না….হিয়া ওর এক হাত দিয়ে হিয়ানের মাথায় হাত বুলে দিয়ে কেঁদে ফেলে….নার্স চলে যায়…
উজান:এখন তুমি কাঁদছো কেনো…
হিয়া:এটা তো আনন্দের কান্না…
উজান:তাই না…
হিয়া:তুমি প্লিজ এবার থামো…প্লিজ উজান আর কাঁদবা না…আমি এখন ঠিক আছি তো…
উজান:হুম…পুচকু বলবে আমি আসাতে মা বাবা খুশি না হয়ে তখন থেকে কেঁদেই চলছে..
হিয়া:হুম…দেখি এদিকে আসো…
…..হিয়া উজানের চশমা খুলে চোখ মুছে দেয়….
উজান:তখন অদিতি ও এভাবে আমার চোখ মুছে দিলো জানো…
হিয়া:অদিতি ঔ যে ঔ পিচ্চি টা…
উজান:হুম…ওর মা আর বাবাই তো ছিলো না হলে আজ কি যে হতো….
হিয়া:ওরা চলে গেছে…
উজান:হুম বলেছে কাল এসে তোমাকে দেখে যাবে…
হিয়া:আচ্ছা আমাদের হিয়ান কার মতে হয়েছে…
উজান:এসব আমি বুঝি না…
হিয়া:আমার না ঠাম্মির মতো লাগছে।নাক টা দেখো…
উজান:কি জানি।যখন ওকে প্রথম কোলে নিলাম আমার তো মনে হলো আরেকটা হিয়া…
হিয়া:যা…এটা কোনো কথা বললে।ঠোট গুলো দেখো তোমার মতো লাল লাল…(ইয়েন ফানি বুম)
উজান:আমার ঠোট লাল…
হিয়া:আরে ঔ তো গোলাপি গোলাপি পিংক পিংক…
উজান:হুম….
হিয়া:আজ রাতে যে ডিউটি করতে চাইলা
উজান:তোমাকে ছেড়ে আরো
হিয়া:মনে হয় সবসময় আমার সাথে থাকবা
উজান:তাই করতে হলে তাই করবো
হিয়া:সবাই তখন বলবে উজান স্যার বউ পাগল…
উজান:তুমি হাসছো জানো আমার আমার উপর দিয়ে কি ঝড় টা বয়ে গেলো আজ।আর লোকের কথা বলছো বলুক গিয়ে।আই ডোন্ট কেয়ার..
হিয়া:আবার হাসি দেয়
উজান:আবার হাসছো তুমি…ইডিয়ট..

…..উজান উঠে হিয়ার কপালে একটা আদরের স্নেহের চুমু একে দিয়ে টুল টা এগিয়ে নিয়ে বসে পড়ে..দুজনে হিয়ানের দুটো আঙ্গুল ধরে…..

“”স্বপ্ন ডানা মেলে”””
“”” আজ উড়ে মনের পাখি””
“””চোখে আশা রঙে ভালোবাসার ছবি আকি”””
“””কালকে ছিলো জীবন”””
“””বৃষ্টি ভেজা একদিন””‘
“””””আজকে মনে শুধু স্বপ্নেরই রিমঝিম”””
“””মেঘ ভাঙ্গা রোদ এসে যেনো বলে কানে কানে”””
“”হবে মনে মনে মিল”””
“””এখানে আকাশ নীল”””

FF: #মেডিকেল_ক্যাম্প
Part:47

উজান আর হিয়ার গল্পের মাঝে ঠাম্মি জিনি পাবলো বুলি হুড়মুড়িয়ে কেবিনে ঢুকে।কে আগে হিয়ান কে কোলে নিবে এই নিয়ে তর্ক বেধে যায়…কারন হিয়ান ডেলিভারির পর তৃনা ওকে অবজারবেশনে রাখে তাই কেউ নিতে পারি নি কোলে…..

ঠাম্মি:কই দেখি আমার নাতনির মেয়ের মুখ টা…
…..(হিয়া উঠে পিছনে হেলান দেয়)

ঠাম্মি:তোকে উঠতে হবে না।তুই শুইয়ে থাক…

জিনিয়া:আমি আগে নিবো
পাবলো:তুই চুপ তো আমি তোর বড়ো আমি আগে নিবো…বড়ো দিয়ে শুরু হবে।
জিনিয়া:না ছোট দিয়ে শুরু হবে..
পাবলো:বললাম না বড়ো দিয়ে।আমি আগে নিবো ব্যাছ😎😎

বুলি:তোমাদের কাউকে নিতে হবে না আমি নিবো আগে……
ঠাম্মি:আহ থাম তো তোরা….আগে তো আমি নিবো।উজান উঠ তো টুল থেকে….দেখি দেখি আমার মা টা….😘😘

(ঠাম্মি হিয়ান কে কোলে নেয়)

জিনিয়া:ঠাম্মি দেও না আমাকে
ঠাম্মি:সাড় তো…আগে আমাকে কিছুক্ষণ নিয়ে থাকতে দে….তারপর তোরা নিস…না আমার সোনা মা টা…😘😘
……….
পাবলো:বড়ো মা কোথায় গেলো রে?
বুলি:কাকিমা তো সমরেশ আঙ্কেল এর সাথে আসছে বললো..ঔ তো এসে গেছে…😊
(সমরেশ আর বাসবি কথা বলতে বলতে কেবিনে ঢুকে)
বাসবি:যা হলো সমরেশ আজ।আমি তো সব আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম…রাজা তো ভয়ে শুকিয়ে গিয়েছিলো টেনশনে😊
সমরেশ:কোথায় দেখি আমার নাতনি কে…😊
ঠাম্মি:এই নে…আস্তে..😊

সমরেশ:এ তো পুরো হিয়ার মতো হয়েছে মা..
উজান:আমিও ওকে এটাই বললাম বাবা এতোক্ষন..দেখলে তো বাবাও বলছে আমার কথা..😊😊

বাসবি:দেও দেখি এবার আমাকে নিতে দেও।
সমরেশ:নেও….দেখি এদিকে আনো তো..

……..(সমরেশ হিয়ানের জন্য একটা গলার চেন বের করে বাসবির কাছে দেয়)…….
সমরেশ:এটা আমার নাতনির জন্য😘
হিয়া:এসবের কি দরকার ছিলো বাবা…😊
সমরেশ:তা তো বললে হয় না হিয়া…এটা ওর প্রাপ্য..
হিয়া:কিন্তু
ঠাম্মি:কি কিন্তু হ্যা..আর তোকে এতো নড়াচড়া করতে কে বলছে ঠিক হয়ে থাক না এক জায়গায়…এমনি আর উজান তোকে চোখেচোখে রাখে না…😡

উজান:রেখেও বা লাভ হলো কোথায়…যা গেলো আজ আমার উপর দিয়ে ওটা বোঝার ওর বোধ বুদ্ধি আছে নাকি….
হিয়া:😒😒😒😒😒

বাসবি:আচ্ছা ওসব বাদ..ওগুলো কথা এখন আর না…..রাজা কিছু তো খেয়েছিস বলে মনে হয় না সারাদিন…আমি টিউলিপে বলে দিয়েছি তোর আর হিয়ার জন্য খাবার দিয়ে যাচ্ছে একটু পর…

হিয়া:দেখলে ঠাম্মি এদিকে আমাকে বলে আমি কেয়ারলেস আর এখন ওহ নিজে সারাদিন না খেয়ে আছে।এভাবে যে ওর শরীর খারাপ করবে সে বেলায় তার বোধ বুদ্ধি খুব যেনো আছে….😏😏😏

উজান:এই শুনো আমার কথা একদম আমাকে রিপিট করবে না।আমার বোধ বুদ্ধি দুটোই আছে।আমি আমার ভালো টা বুঝি…😒😒

হিয়া:তাই না সব তো দেখছি…

পাবলো:আহ থামো তো তোমরা দুজন..কি দাদাভাই তুই যা গিয়ে তোর গেস্ট রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে স্নান ট্যান্ন করে আয়…
বাসবি:পাবলো ঠিক বলেছে আমরা যতোক্ষন আছি তুই গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।তোকে তো আবার সারারাত জেগে হিয়াকে পাহাড়া দিতে হবে নাকি…
…..(সবাই হেসে দেয়)…..
উজান:(হিয়ার মাথায় হাত দিয়ে)…আসছি….😊
হিয়া:হুম…😊

…..উজান ফ্রেশ হতে চলে যায়…..

পাবলো:এবার আমাকে দেও তো বড়ো মা তুমি অনেকক্ষণ হলো নিয়ে আছো…😊
বাসবি:আচ্ছা নে বা নে….😊
পাবলো:দেখ জিনি বৌদির মতো দেখতে হলেও আমি তোকে গ্যারান্টি দিয়ে বললাম রাগ টা কিন্তু দাদাভাই এর মতো হবে আমি এই বলে রাখলাম😊😊
বুলি:মোটেই না😏😏উজান দা খুব ভালো 😊উজান দা মিছে মিছে রাগ করে না।দিদিয়ার ভালোর জন্যই রাগ করে…
হিয়া:আসছে উজান দার চামচা…😏
জিনিয়া:এবার দে তো আমাকে

ঠাম্মি:না আর কেউ না।এখন ওকে শুইয়ে দে তো।
বুলি:এটা কি হলো ঠাম্মি..
ঠাম্মি:তোরা কালকে নিস।তৃনা এসে দেখলে রাগ করবে।এমনিতে হিয়া আর ওর মেয়ে কে কদিন বিশ্রাম এ থাকতে হবে….পাবলো দে দেখি ওকে হিয়ার পাশে শুইয়ে দে…

সমরেশ:মা তাহলে আমি আজ আসি আমার ওটি আছে……(হিয়ার মাথায় হাত রেখে) হিয়া আসি আজ।কাল সকালে আসবো।আর সবাই যা বলছে তা শুনো কিন্তু😊😊
হিয়া:ঠিক আছে…..
……….উজান ফ্রেশ হয়ে এলে…..
উজান:তোমরা আছো এখনো…
ঠাম্মি:আমি আর বাসবি আজ থাকবো হসপিটালে।
জিনি:আর আমরা😊😊
বাসবি:তুমি জিনি আর পাবলো বাড়ি যাবে আজ।আর বিকাশবাবু ও আসছে ওনার সকাল হবে আসতে আসতে…..

উজান:মা আমি আছি তো।তুমি আর ঠাম্মি কেনো অকারণ থাকতে যাবে..
ঠাম্মি:এতে অকারন এর কি আছে শুনি…নাকি তুই একা তোর বউ এর সাথে থাকবি সেটা বললেই হয়…😂😂
উজান:ঠাম্মি..😑😑
ঠাম্মি:আরে আমি তো মজা করছিলাম।😂😂
বুলি:উজান দা ইদানীং নতুন বর এর মতো লজ্জা পায় দেখছি…😂😂
উজান:তা কেনো হবে।এনিওয়ে তোমরা থাকছো বেশ কিন্তু এ বয়সে এভাবে কেবিনে না।তুমি আর মা আমার রুমে গিয়ে থাকবে।কোনো দরকার হলে আমি ডেকে নিবো
বাসবি:আচ্ছা বেশ।পাবলো যা জিনি আর বুলি কে নিয়ে বাড়ি যা অনেক রাত হচ্ছে
পাবলো:হুম…😊

…..পাবলো বুলি আর জিনি কে বাড়ি নিয়ে গেলে বাসবি আর ঠাম্মি ও উজানের গেস্ট রুমে থাকতে চলে যায়…এদিকে হিয়ার কেবিনে ওদের দুজনের রাতের খাবার সেএফ এসে দিয়ে যায়…..

হিয়া:তুমি খেয়ে নেও…😊
উজান:না তোমার স্যালাইন টা শেষ হোক এক সাথে খাবো…
হিয়া:এটা কোনো কথা।তুমি তো দেখতে পাচ্ছো আমার স্যালাইন শেষ হতে আরো আধা ঘন্টার মতো লাগবে…ওতোক্ষন তুমি না খেয়ে থাকবে আমার জন্য….না উজান তুমি যাও গিয়ে খেয়ে নেও..😒😒
উজান:বললাম তো একসাথে খাবো জেদ কেনো করো..আমার খিদে লাগলে আমি নিজে খেয়ে নিতাম…😡😡
হিয়া:আমাকে বলছো এসব।তুমি কি মনে করো আমি বুঝি না😏😏
উজান:হ্যা একটু বেশি বুঝো ইদানীং তুমি…😡
হিয়া:খাবে না তো তুমি😡
উজান:না..
হিয়া:ঠিক আছে…😡…(মনেমনে:খাবে না তোর বাবা আমিও খাইয়ে ছাড়বো না হলে না আমি মিস মিএ নই…কিন্তু কি করি…কি করি…হ্যা )
উজান:আরে আরে কি করছো হিয়া…জাস্ট স্টপ ইট হিয়া…হিয়া😡😡😡
হিয়া:কি করবো তাহলে আমি তুমি বলো।আমার স্যালাইন শেষ এর অপেক্ষায় তুমি না খেয়ে থাকবে, তাই আমি স্যালাইন টাই খুলে ফেলছি….😡😡

উজান:হিয়া প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড।তোমাকে এখন এসব পাগলামি করলে চলবে না।এতো বড়ো একটা ইন্সিডেন্ট থেকে আমরা ফিরে এলাম।এর পর তুমি এসব…সত্যি হিয়া আমার এসব ভালো লাগে না কতো বোঝাবো তোমাকে আর..😢😢😢

হিয়া:আচ্ছা আমার শরীর টা শরীর আর তোমার শরীর টা বুঝি কিছু না…তুমি কেনো তাহলে এমন অবুঝ এর মতো কাজ করো মাঝেমাঝে…আমার স্যালাইন আছে ওটা শেষ হোক আর স্যালাইন শেষ হলেই যে খেতে হবে তা তো নয় তাই না…..কিন্তু তুমি তো আজ সকাল থেকে না খেয়ে আছো তার বেলা।সেটা অনিয়ম না…সেটা কি ঠিক তুমি বলো?

উজান:ঠিক আছে আমি খেয়ে নিচ্ছি….কিভাবে কথা মানিয়ে নিতে হয় শিখে ফেলেছো দেখছি😒😒
হিয়া:(পুচকুর মাথায় হাত রেখে)…যে যেমন তার সাথে তো সে রকমি করতে হয় তাই না মা…😎😎

উজান:হুম হিয়ান কে বড়ো হতে দেও তোমার এসব পাকনামো আমি বের করছি…..

উজান:আমি একটু আসছি…এসে খেয়ে নিচ্ছি
হিয়া:আবার কোথায় যাও😢
উজান:১০মিনিট আসছি….😊

হিয়া:(হেলে পুচকুর মুখে মুখ দিয়ে)যা চলে গেলো তোর বাবা😢😢আয় আমরা মা মেয়ে তে গল্প করি😘😘মা তুই কার মতো হবি আমার মতো না তোর বাবার মতো এমন সবসময় খিটখিটে…আমার মতো হবি বল😎😎😎তুই তাড়াতাড়ি বড়ো হো তারপর আমরা একি রকম জামা পড়বো একি রকম করে সাজবো তোর বাবা তো পারবে না আমাদের সাথে ম্যাচিং করতে তখন খুব জ্বলবে বল…ইসস তখন দেখবে আর লুচির মতো ফুলবে….😍😍

উজান:কে জ্বলবে শুনি…😑
হিয়া:তুমি এসে গেলে….😊
উজান:হুম মেট্রন নেই পড়ে কথা বলে নিবো…😒
হিয়া:ওহ….😊

উজান:কে লুচির মতো ফুলবে জ্বলবে বললে না তো…(বেসিনে হাত পরিষ্কার করতে করতে)
হিয়া:কেনো বলবো ওটা আমাদের মা মেয়ের কথা…😎😎😎
উজান:তাই…….😮
……(উজান এসে পুচকুর পাশে টুল নিয়ে খেতে থাকে)…….
হিয়া:এভাবে হাসছো কেনো😒
উজান:না ভাবছি……আমি বিয়ে করতে পারি বিয়ে করে মেয়ের বাবাও হতে পারি সত্যি একটু অবাক লাগছে…..😍😍
হিয়া:হি হি তাও আবার কার এই মিস হিয়া মিএ এর মানে এখন ঔ মিসেস চ্যটার্জীর😎😎
উজান:সত্যি সব ডেস্টিনি হিয়া।😊😊
হিয়া:ডেস্টিনি তো বটেই…তবে কি জানো আমি তোমাকে বলেছিলাম মন থেকে কিছু চাইলে সত্যি সত্যি হয়।আর আজ সেটাই হলো……😘😘
উজান:হুম……😊😊😊
…….সেদিন রাতটা হিয়ার স্যালাইন শেষ হলে উজান হিয়াকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়…

পরের দিন সকাল…..

জিনিয়া:ট্যান ট্যা নেন আমরা এসে গেছি….সাড়ো সাড়ো সাড়ো কই আমাদের পুচকু মা টা….😘😘😘
বাসবি:যা তোড়া আগে চলে এলি।আসার সময় একটা ফোন দিবি তো নাকি।এখন আমি কাকে পাঠাই😢😢এই বুলি পাবলো কোথায় রে

বুলি:সেটা তো বলতে পারি না কাকিমা।সকালে বের হয়ে গেলো আর বললো দুপুরের দিক আসবে এখানে।আমিও আর জানতে চাইলাম না….

হিয়া:কেনো মা কি হয়েছে বাড়িতে কোনো সমস্যা।

ঠাম্মি:না না সমস্যার কি আছে।তোর মেয়ের জন্য বৌমা নিজের হাতে কতোগুলো কাথা সেলাই করে রেখেছিলো কালকে তো আর ওসব আনা হলো না।তাই কাকে দিয়ে ওসব আনবে সেটাই ভাবছে…

বুলি:আমি পাবলো কে তাহলে ফোন করে বলে দিচ্ছি বাড়ি হয়ে আসতে তুমি খালি ওকে বলে দেও ওসব কোথায় রেখেছো….😊

বাসবি:ঠিক আছে ফোন দে দেখি…
বুলি:নেও….
বুলি পাবলো কে ফোন দিয়ে হিয়ান কে কোলে নেয়..
বুলি:আজ আমরা এখানেই থাকবো সারাদিন ওকে। আমার মিষ্টি মা টা…😘😘😘
হিয়া:বাবা কখন আসবে বুলি?
বুলি:এইতো আসছে ঘন্টা খানেক লাগবে……….তোর মেয়ে তো খালি ঘুমোয় আর ঘুমোয় রে দিদি….😢😢

ঠাম্মি:খালি ঘুম।একবার বড়ো হতে দে কেমন জ্বালিয়ে খাবে এদের দুটোকে দেখিস…..😍

হিয়া:খালি ঘুমোয় বলছো।কাল কে রাতে খিদে পেয়েছিলো ওর। কি মেয়ের কান্না….উজান তো ভয় পেয়ে গেছিলো আবার জানি কি হলো….পরে খাওয়ানোর পর গিয়ে তোমাদের পুচকু শান্ত হলো…..😘😘😘

বাসবি:ঔ তো রাজা….কি রে মিষ্টি দিয়ে এলি সবাই কে….😊
ঠাম্মি:কোনো স্টাফ বাদ যায় নি তো।সমরেশ কিন্তু আমাকে পাই পাই করে বলেছে মা কেউ যেনো মিষ্টি মুখ না করে আজ বাড়ি না চলে যায় বুঝলি…
উজান:হুম ঠাম্মি আমি সব এ্যারেন্জমেন্ট করে এসেছি….আর এগুলো তোমাদের😊
জিনিয়া:কই দেখি দেখি আমি আগে মিষ্টি মুখ করবো…😎😎
বাসবি:আগে যার জন্য এই এতো মিষ্টি তার বাবা মা কে তো মিষ্টিমুখ করা…😊😊
জিনি:আচ্ছা বেশ হিয়া দি আসো আমি তোমায় খাইয়ে দেই….😊😊
….(জিনিয়া হিয়া কে মিষ্টি খাইয়ে দেয়)…
জিনি:দাদাভাই এবার তুই আয়…..😊😊
উজান:হয়েছে জিনি আর না….😊
জিনি:আর একটা নেও না.দাদাভাই নেও না….😊
উজান:দুটো হলো কিন্তু জিনি আর না….😒
জিনি:ওকে ওকে।ঠাম্মি এবার তুমি হা করো তো দেখি…😊😊
…..জিনি সবাই কে এক এক করে মিষ্টি খাইয়ে দেয়…
বাসবি:সবাই মিষ্টি খেলো কিন্তু পুচকু টাই চেয়ে চেয়ে দেখলো সব….😊😊
জিনি:তাতে কি ওর টা না হয় দাদাভাই খাবে…(জিনি বলা মাএ আর একটা মিষ্টি উজানের মুখে ডুবে দেয়।সবাই হেসে ফেলে…)
ঠাম্মি:বেশ হয়েছে খুব ভালো হয়েছে…😂😂😂
উজান:জিনি😡😡
জিনি:কি জিনি হুম…যাও কাল না হয় এক্সট্রা ওয়ার্ক আউট করে নিও কেমন😎😎😂😂
বাসবি:তোরাও পারিস…😂😂
উজান:আমি আসছি একটু মেডিসিন গুলো নিয়ে আসি…😒😒

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here