মিশে_আছি_তোমাতে ❤ #Nusrat_Jahan_Bristy #Part_11

0
513

#মিশে_আছি_তোমাতে ❤
#Nusrat_Jahan_Bristy
#Part_11

“আমি রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ তো তাই আমার চোখের সামনে একজন যদি রক্তাক্ত হয়ে বসে থাকে তাহলে আমার উচিত তাকে সাহায্য করা। তাই আপনি এটা ভাববেন যে আপনাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি বলে আপনাকে আমি কেয়ার করছি। যে কেউ হলে আমি এটাই করতাম। এটা যদি কোনো রাস্তার মানুষ হতো তাও করতাম।”

আবির নিঃশব্দে হেসে বলে, “আমি তো একবারও বলে নি তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো। আর আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করো। কোনো দিন হয়তো আমাকে তুমি ভালোবাসবেই না। তাই আমাকে নিয়ে তোমার এত চিন্তা করতে হবে না। তুমি বরং একটা কাজ করো যারা রাস্তার মাঝে রক্তাক্ত হয়ে বসে আছে তাদের কাছে গিয়ে তাদেরকে সাহায্য করো প্রাণ ভরে। আমার তোমার সাহায্যের কোনো দরকার নেই।”

আবির কথাটা বলেই ওয়াসরুমে চলে যায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য। আবিরের বলা কথাগুলো সব তিশার মাথার উপর দিয়ে গেলো। আর বিড়বিড় করে বলল।

“একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না। কি আজব লোক?”

সারাদিন আবির বাড়িতে থেকে অফিসের সকল কাজ করে‌‌। আর অন্য দিকে রবিন রাগে ফুসছে আর এটা ভাবছে কি করলে ওর শরীরের রক্ত ঠান্ডা হবে। রবিন দাঁতে দাঁত চেপে বলে।

“তোকে আমি ছাড়বো না আবির কিছুতেই না। খুব শখ না তিশার ভালোবাসা পাওয়ার তোর শখ আমি মিটাছি এমন কাজ করবো যে যাতে করে তিশা তোকে আরও বেশি ঘৃণা করবে।”

_______

রাতে বেলা তিশা ওয়াশরুম থেকে এসে দেখে আবির বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে শুয়ে ফোন টিপছে আর হাসছে। আর তা থেকে তিশা মনে মনে বলে।

“কি এমন ফোনে দেখছে রে বাবা যে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাসছে।”

আবির তিশার দিকে তাকাতেই তিশা মুখ ভেংচি কেটে চলে যায় ড্রেসিং টেবিলের কাছে। তিশা চুল আছড়াছে আর আয়নার উপরে পড়া আবিরের অবয়ব এর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে।

“ব্যাপার কি সকালের ওই ঘটনার পর থেকে তো বজ্জাতটা আমাকে আর জ্বালচ্ছে না কেন?”

তিশা আবিরের কাছে গিয়ে বলে, “উঠু! আমি ঘুমাবো।”

আবির ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে বলে, “ঘুমাও! মানা করছে কে তোমাকে?”

“মানেটা কি? আপনি না উঠলে আমি ঘুমাবো কি করে‌?”

“আমি আজ থেকে আমার খাটে ঘুমাবো।”

“তাহলে আমি কোথায় শুবো?”

আবির কাঁধ নাচিয়ে বলে, “এটা আমি কি জানি? আমি আমার এত সুন্দর নরম তুলতুলে বিছানা ছেড়ে সোফাতে শুতে পারবো না। তাই তুমি বরং একটা কাজ করো সোফাতে গিয়ে শুয়ে পড়ো।

“হ্যাঁ।”

“হ্যাঁ না হুম। যাও গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো আমিও ঘুমিয়ে পড়ি। আমার আবার অফিসে আছে।”

“কিন্তু আমি সোফাতে ঘুমাতে পারি না।”

“এটা তোমার প্রবলেম আমার না। আর সোফাতে ঘুমাতে যদি এতই প্রবলেম হয় তাহলে আমার পাশে এসে শুয়ে পড়ো। আমি তো এতটাও মোটা না যে সারা বিছানা দখল করে বসে আছি।”

তিশা কপট রাগ দেখিয়ে বলে, “আপনার পাশে আমি শুবো না ইম্পসিবল।”

আবির শুতে শুতে বলে, “ঠিক আছে শুতে হবে না তোমাকে আমার পাশে, এখন তুমি যাও তো এখান থেকে। আমার কানের কাছে এসে এত কথা বলো না আমাকে একটু ঘুমাতে দাও। এমনি আমি অসুস্থ তাই আমাকে টাইম মতো ঘুমাতে হবে।”

তিশা আর কিছু না বলে চুপচাপ গিয়ে সোফাতে শুয়ে পড়ে। আবির মাথাটা হালকা উঁচু করে দেখে তিশা সোফাতে ভালো করে‌ শুতে পড়ছে না শুধু এপাশ ওপাশ করছে। আবির মুচকি হেসে মনে মনে বলে।

“জানি তুমি সোফাতে কোনো মতে ঘুমাতে পারবে না। আমি যদি ভুল ভেবে না থাকি তাহলে তুমি আজকেই আমার পাশেই ঘুমাবে জান এখন শুধু অপেক্ষার পালা।”

তিশা শুয়া থেকে উঠে বসে দেখে আবির শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। তিশা নাক ফুলিয়ে বিড়বিড় করে বলে, “বজ্জাত এক নাম্বারের বজ্জাত। আজকে তোর জন্য শান্তিতে একটু ঘুমাতেও পারছি না। আমি জানি তো এটা ইচ্ছে করে করছে যাতে করে আমি শান্তিতে ঘুমাতে না পারি। নিজে তো খুব আরাম করে ঘুমাচ্ছে ইচ্ছে তো করছে উপর পানি টেলে দেই যাতে ঘুমাতে না পারিস। আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয় এখন গিয়ে বিছানাতে শুয়ে পড়ি, পরে সকাল হওয়ার আগেই সোফাতে এসে শুয়ে পড়বো। তাহলে তো বজ্জাতটা বুঝতেই পারবে না আমি সোফাতে ঘুমিয়েছি নাকি খাটে। তিশা তোর বুদ্ধির তুলনা হয় না।”

তিশা সোফা থেকে আস্তে আস্তে করে উঠে পা টিপে টিপে আবিরের কাছে গিয়ে আবিরের মুখের উপরে হাত নাড়িয়ে দেখে আবির জেগে আছে কি না।

“পুরা গভীর ঘুমে আছে ঘুমা ঘুমা ভালো করে ঘুমা।”

তিশা আস্তে আস্তে বিছানাতে শুয়ে পড়ে। অন্য দিকে আবির বুঝতে পারে যে তিশা ওর পাশে এসে শুয়েছে। আবির এতক্ষণ ঘুমের ভান ধরে শুয়ে ছিল। তিশা শুতে না শুতেই ঘুম। আবির চোখ মেলে তাকায়। তিশার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আবির হাত বাড়িয়ে তিশার মুখে উপর পড়ে থাকা ছোট চুল গুলো আস্তে আস্তে করে সরিয়ে দিয়ে মনে মনে বলে।

“একদিন না একদিন তুমি আমাকে ঠিকই ভালোবাসবেই তিশা সেই দিনটা বেশি দূরে নেই। আজকে সকালে আমাকে ওই‌ অবস্থায় দেখে তোমার চোখ মুখ দেখে বুঝতে পেরেছি তোমার মনে আমার জন্য কিছুটা হলেও‌ ফিলিংস তো অব্যশই আছে। কিন্তু সেটা হয়তো তুমি বুঝতে পারছো না। একদিন তুমি ঠিকেই বুঝতে পারবে তখন তুমি নিজে থেকে আমার কাছে আসবে। আমি সেই দিনটার অপেক্ষা রইলাম।”

কথাটা বলেই আবির তিশার কপালে কিস করে তিশার ডান হাতটা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে।

_________

সকালে তিশা ঘুমের মাঝে বুঝতে পারছে ওকে কেউ জড়িয়ে ধরে আছে শক্ত করে। তিশা আস্তে আস্তে করে চোখ খুলে তাকিয়ে যা দেখে তাতে তিশার চোখ কপালে। আবির তিশাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে মনে হচ্ছে যেন তিশা একটা কোলবালিশ। তিশা আবিরের কাছ থেকে ছুটার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু যত তিশা ছুটার চেষ্টা করছে তত আবির তিশাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে। তিশা এবার উচ্চ স্বরে বলে।

“এই‌ যে শুনছেন ছাডুন আমাকে। উফফ এতো দেখা যায় কুম্ভকর্নের মতো করে ঘুমাচ্ছে। কোনো কথাই কানে যাচ্ছে না যত ডাকছি তত ঘুমাচ্ছে। আরে ভাই ছাড় আমাকে একটু।”

এর মাঝে তিশার চোখ যায় আবিরের মুখের দিকে বাতাসের কারনে আবিরের ছোট ছোট চুল গুলো কপালে এসে পড়ছে। আবির ছোট বাচ্চাদের মতো তিশাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। আবিরের দিকে তাকিয়ে তিশার অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। তিশা আস্তে আস্তে করে আবিরের কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দেয়। তিশা চুল সরিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে আবির চোখ মেলে তাকায়। তিশাও সাথে সাথে নিজের হাতটা নিয়ে আসে। আবির ঘুম জড়ানো গলায় বলে।

“কি করছিলে?”

তিশা অপ্রস্তুত গলায় বলে, “কই‌ কিছু করছি না তো ছাড়ুন আমাকে।”

আবির দু ভ্রু নাচিয়ে বলে, “তুমি তো সোফাতে শুয়ে ছিলে রাতে তাহলে এখানে আসলে কি করে?”

তিশা ঢোক গিলে মনে মনে বলে, “এই রে এখন কি বলি?”

“কি হলো বলো?”

“আগে ছাড়ুন আমাকে তারপর বলছি।”

“না আগে বলল তুমি এখানে কখন এসেছো? আচ্ছা তুমি কি আমার সাথে থাকার জন্য এখানে এসে শুয়েছো আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে।”

“কি? আপনার সাথে আমি শুয়ার জন্য এসেছি বয়ে গেছে আমার বুঝলেন।”

“তা তো দেখতেই পাচ্ছি। কে এখানে এসে শুয়েছে।”

“এই ছাড়ুন তো আমাকে।”

“ছাড়বো না কি করবে তুমি?”

“কি করবো তাই না? ঠিক আছে কি করছি দেখাচ্ছি।”

তিশা আবিরের হাতে কামড় বসিয়ে দেয়। আবির তিশাকে ছেড়ে দিতেই তিশা উঠে পড়ে। আবির কামড় দেওয়া জায়গাটাতে চেপে ধরে বলে।

“এটা তুমি কি করলে?”

“ভালো করে বলেছিলাম ছেড়ে দেওয়ার জন্য তখন তো ছাড়লেন না। তাই কামড় দিলাম।”

আবির গলার স্বরে চেইন্জ করে বলে, “উফফ আজকে সকাল সকাল যে এমন একটা গিফট পাবো ভাবতেই পারি নি।”

তিশা ভ্রু কুচকে বলে, “গিফট কিসের গিফট?”

“এই তো এই মাত্র গিফটা তুমি আমাকে দিলে। তোমার দেওয়া লাভ বাইট।”

তিশা চোখ বড় বড় করে বলে, “হোয়াট? আমি কখন লাভ বাইট দিলাম আপনাকে? আমি তো আপনাকে কামড়…..।”

কামড় কথাটা বলার সাথে থেমে যায় তিশা। আবির বাঁকা হেসে বলে, “হে কামড় এটাই হলো লাভ বাইট আমার বউয়ের দেওয়া প্রথম ভালোবাসার চিহ্ন।”

আবির তিশার কামড় দেওয়ার জায়গাতে কিস করে। তা দেখে তিশা বলে, “আপনি সত্যিই একটা পাগল।”

“হুম জানি। আর পাগল হয়েছি তোমার জন্য।”

তিশা আর কিছু না বলে ওয়াসরুমে চলে যায়। আবির তিশাকে শুনিয়ে শুনিয়ে জোরে বলে, “হ্যাঁ আমি পাগল শুধু তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাগল।”

তিশা ওয়াসরুমে ঢুকে আবিরের এসব কান্ড করা দেখে মিটিমিট হাসছে আর বলে।

“সত্যিই একটা পাগল লোক।”

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here