#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
(৪৩)
ইসমাইলের বাসায় ফিরোজ খানের আগমন। ড্রয়িংরুমে দুজনে আলোচনায় মশগুল। সাবিনা বেয়াইকে আপ্যায়নে রিতীমত দৌড়াচ্ছে। জা’ দের ডেকে এনে সমস্ত নাস্তা আয়োজন শেষ করেই ড্রইংরুমে বিশেষ আলোচনায় যোগ দান করে। লাবিবাও সিরিয়াস মুডে আলোচনায় বসে।
” অনেক খুঁজে তামিমের জন্য একটা মেয়ে পেয়েছি। আমার বেশ ভালো লেগেছে দেখে। বেশি দূরে না। মেয়ের বয়স কম কিন্তু রুপবতী। সংসারী হবে দেখেই বোঝা যায়। আমি দেখেছি। এখন আপনারা সবাই গিয়ে দেখে বুঝে আসুন।”
” আপনি যেহেতু পছন্দ করেছেন সেক্ষেত্রে আমাদের পছন্দ হবেই।”
” না তারপরেও একটা ব্যপার আছেনা? আপনাদের ও একটা বোঝার ব্যপার আছে। বাড়ির বড় বউ আনছি সবার পছন্দের হওয়া চাই।”
” তামিম বাবা কি বলে?”
” ও তো এখনও পজিটিভ আছে। বোঝদার ছেলে আমার যদি অবুঝ পনা করে তাহলে আপনার আমার কারো কিছু করার নেই। ”
” সেটাও ঠিক।”
” মেয়ে যদি পছন্দ করে তামিম তাহলে আংটি পড়িয়ে আসবেন। যেন কোনো দুমনার সুযোগ না পায়। ”
” আপনার তাহলে চিটাগাং যেতেই হচ্ছে?”
” হুম বেয়াই । আপনি আছেন তো। নিশ্চিন্ত থাকবো।”
ফিরোজ খান সাবিনাকে বলে, ” তো শুক্রবার বাদ জুম্মা সবাই গিয়ে মেয়ে দেখে আসেন। আমি তাহলে উঠি।”
” উঠি কি ভাইজান! না খেয়ে যেতে দিচ্ছি না।”
লাবিবা জিজ্ঞেস করলো, “পাপা আমিও কি যাবো?”
” তুমি না গেলে কি চলবে মা? হা হা হা।”
লাবিবার খুশি দেখে কে ! কি পরে যাবে কিভাবে সাজবে ভেবে ভেবেই শেষ। আলমারি খুলে জামাকাপড়ে বিছানা একাকার করে ফেলেছে। মায়ের শাড়ি গুলোও গিয়ে ঘাটিয়ে আসছে। পছন্দও করেছে কয়েকটা। কিন্তু তার ব্লাউজ নেই। ঝটপট তানভীর কে কল করে।
” আসসালামুয়ালাইকুম।”
” ওয়ালাইকুমুস সালাম। ”
” শুনুন না।”
” বলো।”
” আমি ও যাচ্ছি মেয়ে দেখতে। ”
” হুম। ”
” আমি তো ছোট বউ। কি পরে যাবো?”
” যা পারো। ”
” ইসস বুঝছেন না ব্যপারটা। আমিতো বাড়ির ছোট বউ তাইনা? একটা স্পেশাল ব্যপার আছে না?”
” মেয়ে দেখাতে আবার কিসের স্পেশাল ব্যপার?”
” এটাতো শুধু মেয়ে দেখা না। ঘরোয়া এংঙ্গেজমেন্ট । খান বাড়ির ছোট বউ যদি শাড়ি গহনায় মুড়ে না যায় ব্যাপারটা কেমন বিচ্ছিরি হয়না?”
” তুমি কি করে শিউর যে এংঙ্গেজমেন্ট হবে?”
” হুম। আপনি বুঝবেন না।”
“স্যার কে? আমি নাকি তুমি?”
” স্যাররা পড়াশোনা ছাড়া কিছু বুঝে না। এটা পড়াশোনার বাইরের টপিক। আমি বুঝবো। আপনি বুঝবেন না।”
” শাড়ি? তুমি? মাঝ রাস্তায় মানুষকে আমার বউয়ের খোলা শাড়ি দেখানোর কোনো ইচ্ছে নেই। গাউন অর্ডার করো। আমি পেমেন্ট করে দিচ্ছি।”
” ইমপসিবল। কিছুতেই মান সম্মান ঢুবাতে পারবো না আমি।”
” তুমি পারো শাড়ি সামলাতে? এক কাজ করো বাসায় এখন থেকে শাড়ি পড়া শুরু করো। ইউজ টু হয়ে গেলে তারপর পারমিশন দিচ্ছি।”
” আপনি তো থাকবেনই সাথে।”
” আমি? ”
” এমন করার কি আছে? মনে হচ্ছে শাড়ি কিনে চেয়েছি! আমার অনেক শাড়ি আছে। কিন্তু দুটো কালার ছাড়া ব্লাউজ নেই। তবে অনেক গুলো স্লিভলেস গেঞ্জি আছে। আপনি চাইলে পড়তে পারি। পড়বো?”
” হুমকি দিচ্ছো?”
” মোটেই না। আপনি সেদিন দেখেছেন তো। সুন্দর লাগে না।”
” উহুম উহুম। বদ বুদ্ধি মাথায় ঘুরে। কি চাও বলো?”
” ব্লাউজ কিনতে যাবো। আপনার সাথে।”
” অনলাইনে অর্ডার করো।”
” হবেনা। ইটস্ আর্জেন্ট। পরশুই তো শুক্রবার।”
” বিকালে গাড়ি পাঠিয়ে দিবো। ”
” গাড়ির সাথে আমার জামাইটাকেও পাঠায়েন। ”
তানভীর নিঃশব্দে হাসে।
” আচ্ছা! কোনটা লাগবে মেডাম? আপনার জামাই নাকি জামাইয়ের গাড়ি?”
” জামাই যার জামাইয়ের গাড়িও তার।”
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই লাবিবাকে নিয়ে রওনা হয় শহরের দিকে। লাবিবা সন্ধ্যা বেলার মুগ্ধকর প্রকৃতি দেখছে একমনে। মাঝে মাঝে জানালার বাইরেও হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে কোন সময় অন্য গাড়ি এসে হাতে লাগিয়ে দিতে পারে। সেজন্য বিশ্বরোডের একপাশ ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। একটু পর পর আড়চোখে তাকিয়ে লাবিবাকে দেখছে। এইযে গাড়ির আলোতে আর বাহিরের অন্ধকারে কি মায়াবী লাগছে লাবিবাকে! মাঝে মাঝে তানভীরের মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত মায়া যেন তার বউটার উপরেই আল্লাহ তায়ালা ঢেলে দিয়েছে। লাবিবা একেবারে কোণায় চলে গেলে তানভীর কনুই ধরে সিটের মাঝ বরাবর টেনে আনে। লাবিবা বুঝতে পেরে বলে, ” সরি। ”
তানভীর মাথা ঝুঁকিয়ে আবার ড্রাইভিং এ মনোযোগ দেয়। লাবিবা আর বাহিরে তাকায় না। তানভীরকেই দেখতে থাকে।
” আপনাকে দাড়িতেই সুন্দর লাগে। ”
লাবিবার আচমকা এমন কমেন্টসে তানভীর অবাক হয়না। এরকম কিছুই বলতে পারে সে জানতো। কিছুক্ষণ ধরেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে এটাই মেলানোর চেষ্টা করে গেছে।
” আপনি আর ক্লিন সেভ করবেন না। ”
” দাঁড়ি রাখলে আমার বউয়ের কষ্ট হয়। স্কিনে দাগ পড়ে যায়। ”
” পড়ুক। দু একটা দাগ পড়লে কিচ্ছু হবেনা। কষ্ট সহ্য করা যাবে। কিন্তু আমার ভালো লাগতে হবে। ”
” আমার কাছে তো ভালোই লাগছে। খারাপ না।”
তানভীর মিরর গ্লাসে গালে হাত দিয়ে দেখে। লাবিবা বাহিরের একটা বাড়ির দিকে আঙুল তাক করে বলে,
” হ্যা। ঐ টিনের চালের মতো।”
শাপলা মলে গিয়ে ব্লাউজ চুজ করছে লাবিবা। এক দোকানে পছন্দ হয়না অন্য দোকানে যায়। আবার অন্য ফ্লোরে। সবগুলো ব্লাউজ গলা বড়। অনেকগুলো আবার নেটের স্লীভ। কোনটার কাপড় ফেসে যাবে। মোটামুটি কোনটাই কমফরটেবল না। লাবিবা পড়লো বিপাকে। দোকানদারকে ছোট গলার ব্লাউজ বার বার বললেও বের করে দিচ্ছে বড় গলার ব্লাউজ। চারটা ফ্লোর খুঁজে হাঁপিয়ে গেছে লাবিবা। মেজাজও চটে গেছে দারুন। তানভীর লাবিবার সাথে আসেনা। একজায়গায় বসে লাবিবাকে বলে চুজ করতে। মেয়ে লোকের শপিং সম্পর্কে তার বেশ ধারণা আছে। ফ্যামিলির কাউকে যখন নিয়ে আসে তখন সে এমনি করেই বসে থাকে আর তার মম খালামনি কাজিনরা ঘুরে ঘুরে শপিং করে। কিন্তু তাঁদের সাথে বউকে মেলানো যাবেনা। তাই প্রত্যেকটা ফ্লোরে সে যাচ্ছে লাবিবার সাথে। তানভীর খানকে কে না চেনে? এমপির ছেলে কলেজের প্রিন্সিপাল। সেই সূত্রে দেখা যায় ছোট বড় সবাই তার পরিচিত। কেউ কেউ মানে কাছের জন। সে হিসেবে দলের এক বড়ভাইয়ের প্লাজা হওয়াতে বেশ খাতির পাচ্ছে। তানভীর আসছেনা দেখে লাবিবার আরও মেজাজ চঠেছে। কয়েকবার ডাকলো আসলো না। জবাব দিলো নিজের ইচ্ছায় নাও। এই প্রথম হাজব্যান্ড এর সাথে শপিং এ এসেছে কই তিনি নিজেই চুজ করে কিনে দিবে তা না বসে আছে একজায়গায়। লাবিবা দোকানদারের উপর চেঁচিয়ে উঠে,
” এই আপনি কি কানে শুনেন না? কতবার বলছি ছোট গলার ব্লাউজ দিন। ছোট গলার ব্লাউজ শপে রাখতে পারেন না? ইন্ডিয়া ভাবেন বাংলাদেশ কে? কলকাতা? সবাই বড় গলার ব্লাউজ বাধ্য হয়ে কিনবে তাইনা? ”
দোকানদার মিষ্টি হেসে উত্তর দেয়,” ফ্যাক্টরি এসব ই সাপ্লাই করে মেম। প্লিজ আপনি চেচাবেন না। ”
” আমি মোটেই চেচাচ্ছি না। আপনি আমাকে ছোট গলার ব্লাউজ এনে দিন নয়তো আমার হাতে ব্লাউজগুলো দেখেছেন তো? এগুলোর গলা আরো বড়ো করে দিবো। ”
” আরে না না মেডাম। প্লিজ এমন করবেন না। ”
দোকানদার ব্লাউজ গুলো লাবিবার হাত থেকে নিতে যায় লাবিবা সাথে সাথে পিছিয়ে যায়। ছুঁতেও দেয়না। পাশের দোকান থেকে একেকজন এসে বলছে,
” কি হয়েছে? ম্যাম?কোন সমস্যা? ”
আওয়াজ টা তানভীরের কানেও আসে। ততোক্ষনে প্লাজার মালিক ও সিসি ফুটেজে দেখে এখানেই চলে এসেছে। তানভীরের সাথেই দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুজন। লাবিবা তাকিয়ে অবাক। চেচালো শুধু একজনকে আনার জন্য এলো তিনজন। তার উপর আবার সেই রকম তিনজনেই হ্যান্ডসাম। চোখ তো পড়েই। মনে মনে ‘ আসতাগফিরুল্লাহ ‘ বলেই তানভীরের দিকে তাকালো। তানভীর ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করছে কি হয়েছে এখানে? একটা লোক বললো,
” এনি প্রবলেম ম্যাম ? আপনি চেঁচামেচি করছেন কেন? ”
” মোটেই চেঁচামেচি করছিনা। আমার জামাইকে ডাকছিলাম। আপনি যান। ”
লোকটা তানভীরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো,
” কি অবস্থা! কখন থেকে দেখছি চেঁচামেচি করছে। আমি সেকেন্ড ফ্লোর থেকে ফোর্থ ফ্লোরে চলে এলাম। এরকম কাস্টমার থাকলে তো মলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। শপিং করতে এসেছো তানভীর? নিজের শপিং রেখে খামখা এখানে টাইম ওয়েস্ট করোনা। ”
লাবিবার মাথা তো আরো গরম। নেহাত জামাইটার ঘাড়ের রগ ত্যাড়া তার উপর আরো ত্যাড়ামি শিখাচ্ছে। লাবিবা তানভীরের উপরই চেঁচিয়ে বললো,
” একটা ব্লাউজও পাচ্ছিনা। যেগুলো পাচ্ছি মন মতো হচ্ছেনা। আর বলে কিনা আমি পরিবেশ নষ্ট করছি? এতো বড় মল দিয়ে কি হলো যদি কাস্টমাররা প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টই খুঁজে না পায়?”
প্লাজা মালিক তানভীরের দিকে তাকালো। আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “তানভীর?”
তানভীর গলা খাঁকারি দিলো। পর পর মাথা দোলালো। নরম সুরে বললো, ” যা নেই তা নিয়ে চেচালে তো হয়না। যা আছে তাতেই বেছে নিলেই তো হয়। ”
লাবিবা এবার ভয়ঙ্কর একটা কাজ করলো। দোকানের সব থেকে ছোট, ট্রান্সটারেন্ট যে ডিজাইনার ব্লাউজ গুলো ছিলো সেগুলোই বাছতে লাগলো। তানভীরের চোখ উপরে! সে জানতোও না ব্লাউজ গুলো এমন। যদি জানতো কথাটা ভেবেই বলতো। পছন্দ সই নিয়ে ছুটলো নিচের ফ্লোরে। যেগুলো রেখে এসেছে সেগুলোও নিবে। তানভীর যখন নিতেই বললো ছাড়বে কেন? সব নিবে। পড়বেও মানুষের সামনে। যা পাপ হবার সব তানভীরের হবে। তার কি এসে যায়? দোকানের মালিক এদিক ওদিক মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো।
” আরে ভাই কার বউ এটা? কিভাবে সামলায়?”
তানভীর মনে মনে উত্তর করলো, ” বড়ভাই আমারই বউ এটা। রাতে কোনভাবে সামলাতে পারলেও দিনে মাঝে মাঝে সামলাতে পারিনা। ”
প্রত্যেকটা দোকান লাবিবা আরেকবার করে রাউন্ড দিচ্ছে। এবার আর তানভীর বসে থাকছে না। লাবিবাকে থামাচ্ছেও না। ভদ্রলোকের মতো বউয়ের পিছু পিছু ঘুরছে। লাবিবা জর্জেটের কিছু শাড়িও নিলো ব্লাউজ গুলোর সাথে পড়তে হবেনা? তানভীরের মাথা ঘুরতে শুরু করলো। এমনিতেই বউ ছাড়া নিজের বাড়িতে ঘুমোতে পারেনা তার উপর বউ নাকের ডগা দিয়ে মাথা নষ্ট করে দেওয়ার সরল চক্রান্ত করে চলেছে রাগ দেখিয়ে পাবলিক প্লেসে তানভীর কিছু বলতেও পারছে না। এই বউকে সামলানোর তার অনেক বাকি আছে। এখনো বোধহয় পেটের বুদ্ধিগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে উঠতে পারলো না।
তানভীর লাবিবাকে নিজে থেকেই তিনটি শাড়ি কিনে দিলো। টেইলার্সে নিয়ে গিয়ে একঘন্টার মধ্যে ব্লাউজও বানিয়ে দিতে বললো। লাবিবার আর কি? আড়ালে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। বাড়ি দিকে ফিরতে ফিরতে রাত বারোটা বাজলো। গাড়িতে লাবিবা তানভীরের ফোন নিয়ে পড়লো। একমনে গেমস খেলতে লাগলো। খেলতে খেলতেই গেমস থেকে বেরিয়ে ফেসবুকে ক্রল করতে লাগলো। তানভীর কে বললো,
” আমার তিনটি শাড়ি থেকে একটা শাড়ি নতুন জা কে গিফট করবো।”
” কাকে?”
” নতুন জা। মানে তামিম ভাইয়ার সাথে যে আপুটার বিয়ে হবে। ”
” ওহ। আচ্ছা। ”
” আপনি দেখেছেন নতুন জা কে?”
” না। একবারেই দেখবো।”
” নতুন জা কিন্তু আপনার বউয়ের থেকে অনেক সুন্দর।স্লিম। ফুটফুটে। আমার মতো শ্যামা না। ”
” দেখেছো?”
” পাপা বললো তো। ”
” আমার স্লিম ফুটফুটে ভালো লাগে না।”
” কি ভালো লাগে?”
” আমার বউকে ভালো লাগে আর কাউকে না। আমার বউ আমার অনেক দিনের সাধনা।”
লাবিবা মুচকি হাসলো। উত্তর করলো না। ফোনেই ঢুবে রইলো। গ্যালারিতে তানভীর আর তার শত শত ছবি। তানভীরই তুলেছে কখনও তার অজান্তে কখনও সরাসরি। হটাৎ একটা ছবিতে চোখ আটকে যায়। তানভীর আর তার নয় এটা তাদের বিয়ের আগের ছবি। যে ছবিগুলো দিয়েই লাবিবা ফাহাদের সাথে তার বিয়ে ভেঙেছে। এই ছবি তো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিলো সাথে সাথে। তানভীরের ফোনে কি করে এলো? তানভীর এটা দেখেও লাবিবাকে বিয়ে করলো। এর জন্যই কি তানভীর লাবিবার থেকে দূরে দূরে থাকতো? লাবিবার মনে ভয়ের উঁকি দিলো। ঢুক গিলে ফোন হাতে তানভীরের দিকে তাকালো। তানভীর ড্রাইভিং করতে করতে লাবিবার হাতে কোলের উপরে রাখা স্কিনে তাকালো। সাথে সাথে লাবিবার ভয়ার্ত মুখটায় দৃষ্টি বুলালো। এক থাবা দিয়ে ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে নিলো। লাবিবা বলে উঠলো,
” এই ছবি আপনার ফোনে কি করে এলো? বিশ্বাস করুন ওটা আমি হলেও ছবিটা সত্য না। আমি নিষ্পাপ। আমি পবিত্র। ”
চলবে ___

