ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো (৫৯)

0
1200

#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো

(৫৯)
” আমি নিশ্চয় সেকেন্ড লিস্টে ছিলাম।‌ নয়তো রিজেক্ট হতাম না। ”

” এটা নিয়ে এতো আক্ষেপ তোমার? জানো আমি ছোট থেকেই আমার মমের মতো একজন বউ চাইতাম। মমের পুরো পৃথিবী মানে পাপা আর আমরা। খুব সাধারণ কিন্তু তার ভেতর অসাধারণ। আমার মমের মতো ভালো, হাসি খুশি, নাটকীয় মহিলা আজ পর্যন্ত আমি দেখিনি। মম ভীষন আহ্লাদে। কিন্তু যেটা চাইবে সেটা করেই ছাড়বে তবে এতে আমাদের ই মঙ্গল হবে। পিএইচডি ধারী হয়েও মম পাপার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। ভালোবাসা কি? ভালোবেসে কিভাবে সুখে থাকা যায় সারাজীবন একসাথে তা মম পাপাকে দেখেই শিখেছি। পাপার কাছে মম সর্বোচ্চ প্রায়রিটি ‌। যখন আমাদের প্রসঙ্গ উঠতো তখন পাপা একটাই কথা বলতো, আমি যদি গাছের যত্ন নিই ফল অবশ্যই পুষ্ট হবে। এর পর আর কোন কথা থাকে বলো? পাপার বাহিরে কাজ আর ভেতরে মম। দশ মিনিট যদি রেস্টের জন্য সময় পায় তখন হিসেব করে এই দশমিনিটে বাড়িতে পৌঁছে একবার মমকে দেখে যেতে পারবে কিনা। যদি না পারে তো ভিডিও কলে রাখবে। মমকে ভিডিও কলে রেখে হলেও পাপা চোখ বন্ধ করে রেষ্ট নিবে প্রয়োজনে। এইযে মম আজ ওমেনদের নিয়ে কাজ করছে সেটা বলতে পারো নিজ ইচ্ছা থেকে পাপার ইচ্ছেতেই। এতে মমের যেমন সময় কাটে রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। এসব তোমার ছোট্ট মাথায় ঢুকবেনা। মম যেখানে পাপা ঠিক সেখানেই। তাঁদের মতো সুখী কাপল আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি। আমি খুঁজছিলাম মমের মতোই একজন। সাধারণের মাঝে অসাধারণ। ব্রিলিয়ান্ট! তবে যে সেক্রিফাইজ করতে জানে। জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন সুখ এবং শান্তি। আমি তাকেই চাই যার কাছে আমার শান্তি মিলবে। যাকে অনুভব করতে গিয়ে আমি সুখ অনুভব করবো। আমি পেয়ে গেলাম আমার সেই সুখ কে। তোমার কাছেই মেলে আমার শান্তি। কিন্তু জানতে পারলাম সেই সুখ আমার জন্য নয়। ভুলতে চেয়েছিলাম তোমাকে। প্রচুর চেষ্টা করেছি পারিনি। তোমার ভাই সাক্ষী। আমার চাওয়া তোমার চাওয়া কখনোই এক নয়। পরিচয় কখনোই এতোটা জরুরী নয় আমার জন্য যতটা জরুরী এক প্রহর শান্তি। দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত যাদের নেই কোনো কারেন্সি নেই কোনো পরিচয় লোকালয়ের কেউ চেনেনা তাঁদের তারাও পীচফুলি লাইফ লিড করে। তাঁদের মাঝেও ভালোবাসা আছে।‌ আমি মনে করি যার জন্য আমার বয়ে চলা, আমার পরিশ্রম তাকে যখন তখন দেখতে মনে চাইলে, তাকে ছুঁতে ইচ্ছে করলে,পাশে চাইলে যদি না পাই তাকে তাহলে সেটার থেকে দুর্ভাগ্য জনক কিছু হতে পারে না। আমি একদম গৃহস্থ একজন বউ চেয়েছিলাম। যে আমাকে ভালোবেসে নিজ ইচ্ছায় আমার অন্দরে প্রবেশ করবে জোরপূর্বক নয়। তোমার সম্পর্কে তোমার আব্বুর থেকে জানার পর আমার মস্তিষ্ক জানান দিয়েছে তুমি আমার জন্য নও। অত্যধিক আদরের মেয়ে যে বিয়ের পরেও বাবার নেওটা থাকবে বাকি সব ভুলে তাকে কিভাবে বউ বানাবো? আমার বউ মানে পুরোটাই আমার। আমার যেখানে বউ সেখানেই থাকবে। কিভাবে মেনে নিবো আমাকে রেখে দিনের পর দিন বাবার বাড়িতে পড়ে থাকবে? সে বউ ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার ফ্যামিলি করে মেতে থাকবে চাকরী সূত্রে এখানে সেখানে থেকে বেড়াবে তার যদি ইচ্ছে হয় আমাকে দু একটা বাচ্চা গিফট করবে দ্যাটস ইট! মন চাইলে সে যে আমার সাথে চিট করবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে?এমন এগ্ৰিমেন্টে সাইন করার থেকে অন্য মেয়ে বিয়ে করাই উত্তম।”

একরাশ রাগ ঝেড়ে দিলো তানভীর লাবিবার উপর। লাবিবা মোটেই অবাক হলো না। সে তো সারাজীবন এসবের ই সপ্ন দেখে আসছে। স্বামী সংসার তার চিন্তাধারার আশেপাশেই ছিলো না। আজ যা বুঝে বিয়ের আগ পর্যন্ত ও ততটুকু বুঝতো না। সময় সবটা বুঝিয়ে দেয়। আনকোরা মনে তাইতো এতো ভয়! তানভীরের রাগ পড়ার আগেই মনে যে প্রশ্ন উঠলো সেটাই প্রকাশ্যে জানতে চাইলো,
” তাহলে এখন কেনো বিয়ে করলেন আমাকে?কিছুই তো পরিবর্তন হয়নি। না আপনার চাওয়া না আমার চাওয়া। তাহলে?”

” সত্যিটা বললে আমাকে খারাপ ভাববে জান। ”

” আমার হাজব্যান্ড কতটুকু খারাপ আমাকে তো জানতে হবে। ”

” নরমালি নিলে বলতে পারি। ”

” বলুন।”

” তোমাকে প্রথমে ভালো লেগেছিলো। কিন্তু আমি ভালোবাসি নি। ভালোবাসাটা ধীরে ধীরে হয়ে গেছে। যখন আমি তোমাকে ভুলতে চাই তোমার জায়গায় অন্য কাউকে বসাতে চাই আমার মোটেও খারাপ লাগে নি। কিন্তু আমার মস্তিষ্ক জানান দেয় এই মেয়েটার থেকে ঐ মেয়েটা ভালো ছিলো। এই আর ঐ এর মাঝে ফাটকে পড়ে যাই আমি। শত শত সুন্দরী আমার জন্য পাপা হাজির করে। তিনি দেখে শুনে বিয়ে দিবেন আমাকে। ভাইয়ার মতো ভুল যেনো না করি সজাগ দৃষ্টি দেন। ওভার স্মার্ট, বড়লোকের বেহায়া মেয়েদের ভীড়ে আমি বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম। এতো এতো সুন্দর মুখ অথচ কোনো মায়া নেই। মায়া পেলেও সেই মায়ায় আগে থেকে অনেকেই পড়ে আছেন। আমি কারো সাথে নিজেকে ম্যাচ করতে পারছিলাম না । বার বার তোমার কথা মনে পড়তো। আমার মনটাও আমার সাথে বেইমানি করে বসে। যখন তোমাকে দেখেছিলাম তখন তুমি যৌবনে পা রাখার ঠিক আগের সময় অতিবাহিত করছো। আর এখন পূর্ণ যুবতী। ঐ যে বলেনা? কায়া দেখলে মায়া বাড়ে? চোখের সামনে তোমার সময় পেরনো টাকে আমি নিতে পারছিলাম না। অন্য কারো প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই আমার। বেহায়া চোখ দুটো শুধু তোমার উপরেই পড়ে। ছায়ার মতো ঘুরতে থাকি তোমার আশেপাশে। সাথে পাই তোমার বাবার অপমান। উনি আমাকে পছন্দ করেন না। উনার মতে রাজনৈতিক মানুষ সব সময় অসৎ। অনেক গুলো ভুল ধারণা নিয়ে বসবাস করেন। একটা জেদ চেপে বসে মনের মধ্যে। তোমাকে আমার চাই চাই। রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। আমার ঘুম কেড়ে নিয়ে তুমি দিনে দিনে আরো ফুলে ফেঁপে উঠো। মানুষের নজর থেকে যতই নিজেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করুক তোমাকে তোমার বাবা। কিন্তু আমার থেকে পারেনি। নেহাত অতি ভদ্র বলে বেডরুম অব্দি নজর দিই নি। কিন্তু তোমার বেশীরভাগ সময় কাটানোর জায়গা ছাদে ঠিকই আমার নজর ছিলো। তোমার রাত বিরাতে ঘুরে চলা এতো কন্ফিডেন্স আমিই জুগিয়েছি। তুমি ভেবে চলেছো তোমাকে তোমার বাবা প্রটেক্ট করে আসলে তোমাকে প্রটেক্ট করি আমি । তোমার বাবা আমার হাতে মেয়েকে ছেড়ে রেখেই বেইমানীটা করে বসলো। কিন্তু আমার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করতে পারলো না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়েকে আমার হাতেই তুলে দিতে হলো। তিনি জানেন আমি তার মেয়েকে কখনোই জোর করবোনা। সেইরকম বংশের ছেলে আমি নয়। ফাইনালি তুমি আমার বউ। আমি আমার জেদটা বহাল রেখেছি। ভালোবেসেছি। কিন্তু কোনো দাবী জানায়নি। দায়িত্ব নিয়েছি। তোমাকে আগলে রাখার দায়িত্ব আমি ঠিকই পালন করে যেতাম। দিন শেষে একটাই শান্তি পৃথিবীর যেখানেই যাও আমি জানবো আমি আমার ভালোবাসাকে বিয়ে করেছি। সাকসেস লাভারদের একজন আমি। বাট ট্রাস্ট্র মি লাব্বু, য়্যু য়্যার এ্যা পয়জনাস হাফলিং। য়্যু নো হাউ টু মেক এ্যা স্যাডেল অফ হ্যাপিনেস ফ্রম রেসপন্সিবল। আমার ধারণা মাত্রই ভুল ছিলো। তুমি ভুল করেছো। ভীষন বড় ভুল করেছো। এই এগ্ৰেসিভ মানুষটাকে তোমার সারাজীবন সহ্য করে যেতে হবে। আমি ভীষণ লোভী। তোমার উপর ভীষন লোভী। তবুও তুমি যদি চাও আমি আমার লোভ সংযত করে নেবার চেষ্টা করবো। তোমার ফ্রিডমে আমি কখনো ই বাঁধা দিবো না। সপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। আমার সপ্ন আমি একটা একটা করে পূরণ করেছি। তোমাকে একান্তই নিজের করে পাওয়া ছিলো আমার সব থেকে বড় সপ্ন পূরণ। তুমি তোমার সপ্ন পূরণ করো। যদি কখনো মনে হয় আমি তোমার সপ্নের কোনো অংশে ছিলাম তবে জেনে নিও আমি অনেক আগেই তোমার হয়ে গেছি। তুমি আমার অস্তিত্ত্বের সাথে মিশে গেছো। তুমি ছাড়া আমার কারো প্রতিই কোনো ইন্টারেস্ট নেই। ”

” কি বুঝাতে চান? আমি আপনাকে ছেড়ে যাবো?”

উত্তরের অপেক্ষা না করে ফোনটা কেটে দেয় লাবিবা। গলার হার গুলো স্টেপ বাই স্টেপ পড়িয়ে দিচ্ছিলো মেয়েটা। লাবিবার কথা শুনে হাত থমকে যায়। লাবিবার ফেসের দিকে নজর রেখে জিজ্ঞেস করে,
“ম্যাম আপনি এভাবে ফুঁসছেন কেন? আজকের দিনে প্লিজ স্যারের সাথে ঝগড়া করবেন না। স্যার আপনাকে ভীষণ ভালোবাসে। আপনাকে বেস্ট সাজটা দেবার জন্য আমাদের ডাবল টাকা দিয়ে ফোর্স করে এখান অব্দি নিয়ে এসেছে। ”

” পার্লারের নাম কি আপনাদের?”

” পিংকলেট পার্লার এন্ড স্যালুন।”

লাবিবা বাঁকা চোখে তাকায়। অবাক হয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,
” আপনারা কবে থেকে হোম সার্ভিস দিচ্ছেন?”

” সরি ম্যাম। আমাদের মতো পার্লার কখনোই হোম সার্ভিস দেননা। অতিরিক্ত চার্জ এবং আমাদের ওনার স্যারের কমন ফ্রেন্ড হওয়ায় আমরা এতোদূর এসেছি।”

” বাংলাদেশের প্রত্যেকটা পাড়ায় পাড়ায় আপনাদের স্যারের ফ্রেন্ড থাকতে হবে? এ কি এজেন্সি খুলে বসেছে!”

মেয়েটা মুচকি হাসে।
” ম্যাম আপনি ভীষন কিউট। সব ফ্রেন্ড ছেড়ে স্যার কিন্তু আপনাকেই ভালোবেসেছে।”

” আমি বলিকি! বালিকা বুঝে কি! শুনুন আপনাকে একটা সত্য কথা বলি। আপনার স্যার মোটেই আমাকে ভালোবাসেনি। ভালোবাসলে আমার কষ্টটা চোখে পড়তো। বরং আমি ভালোবেসেছি। তার কষ্টটা সবার আগে আমিই বুঝতে পারি। বুঝেছেন?”

” জি ম্যাম। স্যার ঠিকি বলেছিলেন। আপনি সত্যিই স্পষ্টবাদী। যা মনে আসে তাই বলে দেন। আপনাকে আমার ই ভীষন ভালো লেগেছে।”

লাবিবা চোখ পিট পিট করে তাকায়, ” স্যার আপনাকে বলেছে?”

” না ম্যাম। স্যার আমাদের ওনার কে বলেছেন। আমি শুনেছি।”

” আচ্ছা। তাহলে ঠিক আছে।”

” জি ম্যাম।”

মেয়েটা তার পরেও মুচকি মুচকি হাসছে। লাবিবা বুঝে পায় না এতো হাসির কি মানে? অন্যরুমে রোজীকে সাজানো হচ্ছে। রোজীর বিয়ের শপিং রোজী নিজে করেছে বলে ইচ্ছা অনুযায়ী ব্রাইডাল ড্রেস নিতে পেরেছে। কলাপাতা রঙের লেহেংগাটা পড়ার পর যে কি সুন্দর লাগছিলো! ওকে তো টেনেই নিয়ে গেলো সাজাতে। ইসস লাবিবা যদি আরেকটু দেখতে পেতো! তামিমের সামনে যখন যাবে তখন তামিম কেমন করে তাকাবে? চিকনি চামেলি থেকে চোখ সরবে? আশেপাশে সব যদি ব্লক হয়ে ফোকাসটা রোজীর দিকেই হয় তাহলে কেমন সিন ক্রিয়েট হবে? এখান থেকে বেরিয়েই ক্যামেরাম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। রোজী তামিম একেবারে মুখোমুখি। রোজী লজ্জায় মাথা নিচু করে হাসছে আর তামিম হা করে গোল্লা গোল্লা চোখ বানিয়ে গিলছে আই মিন দেখছে। জোস একটা রোমান্টিক স্যুট হয়ে যাবে।

রোজী আসে কিছুক্ষন পরেই। তার সাজ কমপ্লিট। তাকে দেখেই প্রত্যেকে চিৎকার দিয়ে উঠে। মারিয়া গিয়ে জড়িয়ে ধরে, ” মামনি তোমাকে এতো সুন্দর লাগছে। ছোট মামনিকেও সুন্দর লাগছে। আমি প্রথম সেলফি নিবো তোমাদের সাথে।”

রোজী গালে গাল লাগিয়ে আদর করে দেয়। লাবিবা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। চোখ মেরে বলে, ” পাগলের ডাক্তার কি জানে তাকে সত্যি সত্যি এবার পাগল বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে?”

রোজী হেসে জবাব দেয়,” তাকে এটাও জানাতে হবে মেইন কালপ্রিট টা কে।”

” আপু!”

” এদিকে আসো।”

” দাঁড়াও। আস্তে হাটো।”

” আরে এসো। ”

‘ কোথায়?”

বড় আয়নার সামনে গিয়ে লাবিবাকে দাড় করায়। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে, ” আগে নিজেকে দেখো। তারপর আমার পেছনে লাগতে আসবে। ”

লাবিবার চোখ একবার আয়নায় পড়তেই সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নেয়।
” না আপু আমি দেখবো না।”

” দেখো আগে নিজেকে। ”

” অসম্ভব।”

লাবিবার হটাৎ এরকম চিল্লিয়ে উঠাতে উপস্থিত সবাই ভড়কে যায়। এনা খেয়াল করে লাবিবা মৃদু কাঁপছে। কেনো কাঁপছে? জিজ্ঞেস করে,
” লাবিবা তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?”

লাবিবা মাথা নাড়ায়। লাগছে না। তবে এটা বুঝতে পারে লাবিবার মাথার ভেতর কিছু একটা চলছে। যেটা নিয়ে সে চিন্তিত। পার্লারের মেয়েটা বলে,
” ম্যাম কি এখনও স্যারের উপর রাগ করে আছেন?”

” না।”

রোজী জানতে চায়, ” কেনো রাগ করবে?”

” একটু আগেই তো ম্যাম স্যারের সাথে কথা বলছিলো।”

একেকজন একেক ধারণা নিয়ে বসে থাকে। লাবিবার ভেতরে কি চলছে তা কারো জানার কথা নয়।

বউ নিয়ে যাবার একটু আগে সাবিনা হাতে প্লেট নিয়ে আসে। পোলাও এর উপর শুধু একটা রোষ্ট। মাখিয়ে ঝটপট মুখের সামনে ধরে বলে, “হা করো।পরে কখন না কখন খাওয়া হবে। দুটো মুখে দেও। ”

” খাবোনা আম্মু।”

” এগুলা বললে হয় মা? ঠিক মতো খাচ্ছিস না। কি কারণ?”

তানভীরের সাথে ঝগড়ার কথাটাও কানে আসে। সাবিনা অস্থির হয়ে উঠে, “এভাবে সব সময় ঝগড়া ঝাটি করলে চলে? কদিন পর ই সমস্যা করিস। আজকের পর থেকে যেনো আমি এসব না শুনি।”

” আমার কি দোষ? ”

” দোষ গুণ পরে হবে। চারটা লুকমা মুখে দেও লাবিমা।”

” প্লিজ। আমার গলা দিয়ে নামবে না।”

” আমি তো আর তোমার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে খায়িয়ে আসতে পারবো না। মেয়ে তুলে দিচ্ছি। প্রাণটাই দিয়ে দিচ্ছি। প্রতিদিন কে খাবে আমার হাতের লুকমা?”

লাবিবা উঠে যায়।
” আম্মু যাও তো এখান থেকে। আমার সামনে কাঁদবে না। আমাকে একদমি ইমোশনাল করার চেষ্টা করবে না।
বিয়ে তোমরা দিয়েছো আমি করিনি। ”

কে শুনে কার কথা? সাবিনা একা নয়। ভাবী, কাকী, বোনেরা এসে জুড়েছে মরা কান্না। লাবিবা যথেষ্ট ডিসটেন্স মেইনটেইন করছে। ঐ দলে যাবে না। কার রাগ কাকে দেখাবে জানে না। তাকে শক্ত হতে হবে। না খাওয়া না দাওয়া। ঘুমাতে পারেনা। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। মিশ্র অনুভূতি। একদিকে স্বামী আরেকদিকে বাবা মা। একটা মেয়েই জানে এই সময় এই পরিস্থিতির কতটা যন্ত্রনা। যত দূরে থাকতে চাইছে বাবা মার থেকে ততো তাকে কাদাতে চলে আসছে একে একে মানুষ গুলা। সাবিনাকে ধরে নিয়ে চলে যায় অন্য রুমে। সবাই বুঝ দিতে থাকে তাকে। মেয়ে তোমার তোমার ই থাকবে। দূরে চলে তো যাচ্ছে না। এতো ভালো মেয়ে জামাই পাইছো দোয়া করো মেয়েটার জন্য যেনো সুখী হয়। চোখের জল ফেলে মেয়েটাকে কেন দুর্বল করে দিচ্ছো?

ইসমাইল দাঁড়িয়ে আছে মেয়েকে নিয়ে স্টেজে যাবে বলে। লাবিবা বের হতেই ইসমাইল আরো এগিয়ে যায়। লাবিবা এক পলক দেখে নেয় তাকে। ইসমাইলকে আজ ভীষন বিদ্ধস্ত দেখাচ্ছে। মুখের দিকে তাকিয়েই চোখ সরিয়ে নেয় লাবিবা। বাবার বুকে শরীর ছেড়ে দিয়ে বলে, ” শরীরটা ভালো লাগছে না আব্বু।”

ইসমাইল সাথে সাথে সাবিনাকে ডাকে, ” আমার মেয়েকে খাওয়াও নি? শরীর খারাপ লাগবে কেন? কি খেয়েছো দুপুরে আব্বু?”

লাবিবা মিষ্টি হাসে। এইতো তার আব্বু। একটু আগের ভেঙে যাওয়া মানুষ এখনো মমতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসমাইল আবার জিজ্ঞেস করে, “কি খেয়েছো আব্বু?”

লাবিবা উঠে দাঁড়ায়। হাতের উপর হাত রেখে বলে,
” আব্বু চলো।”

ইসমাইল মাথা নাড়ায়। লাবিবাকে নিয়ে এগিয়ে যায়। নিজের অস্তিত্বকে হস্তান্তর করতে। হাঁটতে হাঁটতে অনেক কিছু বলে, “যেকোনো প্রব্লেম হলে আমাকে ফোন দিবে। আর ফোন যদি না থাকে কাছে তাহলে তোমার শ্বাশুড়ী, খালাশ্বাশুড়ী তো আছেই। ম্যাডামকে বলবে। যা যা রিচুয়াল আছে সব মানবে। আর তর্কে যাবে না। এসময় অনেকেই অনেক কিছু বলে। মাটির দিকে তাকিয়ে সব মিশিয়ে দিবে। লক্ষী মন্ত হয়ে থাকবে। কাল তো বাড়ি নিয়েই যাবো । মুখটা একটু খানি হয়ে গেছে। চিন্তা করোনা হ্যা? ”

লাবিবা উপুড় নিচ মাথা আড়ায়। ইসমাইল আবার বলে,”আর তানভীর তো আছে ও সব দেখে রাখবে।”
লাবিবা চকিতে বাবার দিকে তাকায়। হ্যা এই কথাটা তার বাবাই বলেছে।

চলবে ___

আপনারা রিয়েক্ট দিতে এতো কার্পন্য করেন……. আপনাদের দোয়ায় রিচ মাইনাস 64% এ চলে গেছে 🤣। যান আর কখনো বলবোনা রেসপন্স করতে। সপ্তাহে একদিন গল্প দিলেও রিডার্স এক থাকলে রিচ ঠিকই থাকে সেখানে…. থাক এটাও বলবোনা। আসসালামুয়ালাইকুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here