#ভালোবাসার_কাব্য_গাঁথবো
(৬০)
অফ হোয়াইট শেরওয়ানি পড়ে মাত্রই এসে দাঁড়ালো তামিম। পাশেই তার বাবা ফিরোজ খান এসে দাঁড়িয়েছে। ছেলের পিঠে হাত রেখে ইশারা করে কাজীর পাশে গিয়ে বসতে। পাশাপাশি দুটো বসার গদি পাতা হয়েছে। মাঝখানে রজনীগন্ধার দেয়াল। কাজী এসে বসেছেন তার মাঝ বরাবর। দুই ছেলের বিয়ে একসাথে দিচ্ছেন ফিরোজ খান। আয়োজনে কোন কমতি নেই। দুই পুত্রবধূ কে ঘরে তোলার জন্য সোহানা ইসলাম অপেক্ষা করছেন বাসায়। তিনি আসেননি আজ। ফিরোজ খান তামিমকে অবজার্ব করলেন। ছেলে মেয়েকে বাবা মাই আগে বুঝতে পারে। এইযে এই মুহূর্তে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে যন্ত্রের মতো ছেলেটা যে দাঁড়িয়ে আছে অথচ তার বুকে একবুক কষ্ট। সেই কষ্ট লাঘব করতেই নতুন কারো আগমন। ফিরোজ খান তাগিদ দিলেন তাড়াতাড়ি কনেদের নিয়ে আসতে। তামিম অনুমতি চায়, ” পাপা চলো বসি?”
” মাই সান। আই উইশ তুমি এই মমেন্ট থেকে সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে সুখী হও নতুনকে বরণ করে। আমার বউমা তোমার সকল কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। তুমি ও আমার বউমার কষ্ট গুলো দূর করে দিবে। তুমি ভুলে যেও না আমি তোমার জন্য পূর্ণ কাউকে নয় ভাঙা কাউকেই নিয়ে আসছি যাতে তোমরা দুজনে একত্রে হয়ে পূর্ণ হতে পারো। ”
” জি পাপা। ”
তামিমকে বসিয়ে তানভীরকে ডাকে ফিরোজ খান। ব্লাক শেরওয়ানি মাথায় মেরুন পাগড়ীতে রাজার বেশে বিয়ে করতে যাচ্ছে সে। দুই ছেলেকে দেখে আজ ফিরোজ খানের প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। এখন ঘরের লক্ষীদের মুখখানা দেখার বাকি। অপেক্ষা করছেন ছেলে, ছেলের বউ দেখে দোয়া করবেন বলে।
” বসে পড়ো।”
” হুম পাপা। ”
ইসমাইলের কথা শুনতে শুনতে বেখেয়ালি ভাবে পা ফেলে লাবিবা। হাই হিল কাত হয়ে পড়ে। ইসমাইল সাথে সাথে ধরে ফেলে। ” পায়ে লেগেছে?”
” ঠিক আছি আব্বু। ”
তানভীর আসন ছেড়ে উঠে যায়। লম্বা কদম ফেলে মহুর্তেই লাবিবার সামনে এসে দাঁড়ায়। হাই হিল দেখে পার্লারের মেয়েটাকে ডাক দেয়,
“‘মমী ক্যাটস কোথায়?”
” স্যার ম্যাম হাই হিল ই চুজ করেছে।”
” আমি তোমাকে বলিনি ক্যাটস পড়াতে? যাও নিয়ে আসো। ”
মেয়েটা দৌড় দেয়। তানভীর হাটু গেড়ে বসে সোজা পা থেকে হিল ছাড়িয়ে নেয়। লাবিবা বাঁধা দেয়,
” আমি খুলবোনা। ”
” তুমি তো হাঁটতেই পারছো না।”
” ইটস এক্সিডেন্ট। আমি পারবো। ”
” ক্যাটস পড়ো।”
” আমি তো আপনার লেভেলেই পৌছাঁবো না। ”
তানভীর আর কোন উত্তর দিলো না। মৌমির হাত থেকে ক্যাটস নিয়ে নিজে পায়ে পড়িয়ে দেয় হাটু গেড়ে বসে। লাবিবা তানভীরের কাঁধে হাত ঠেকে ব্যালেন্স রাখে। এক হাত ধরে আছে বাবা আরেকহাত স্বামীর কাঁধের উপর। চমৎকার এই বধুর পা জুতো পরিয়ে দিচ্ছে তার স্বামী। সুন্দর। ভরসা এবং ভালোবাসা দুটোই সুন্দর। একসাথে রাজজোটক কে মুগ্ধ চোখে দেখছে উপস্থিত থাকা মেহমান। আর লাবিবা দেখছে তানভীরকে। আজকে কি জেন্টস পার্লার থেকে সেজে বর সেজে এসেছে? হয়তো বা তাই। এই পুরুষটা এতো সুন্দর কেনো? কেনো এতো সুন্দর হতে হবে? কেনো লাবিবার কায়া নাড়িয়ে দেয়? কেনো এতো কেয়ারিং হতে হবে তাকে? সে কি জানে তার জন্য বয়ে চলা বুকে শত শত ঝড়ের কথা? সে কি বুঝে তার ছোঁয়ায় লাবিবার ছোট্ট কায়ায় কম্পন সৃষ্টি হবার কথা? সে কি জানে তার হঠাৎ এই পরিবর্তন কতটা এলোমেলো করে দিয়েছে লাবিবাকে? যার উপর স্বৈরাচারী মনোভাব পোষন করে সেই ব্যক্তি যখন প্রতিটা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে মিশে যায় তখন কিভাবে সহ্য হবে এতো যন্ত্রনা ? লাবিবার বলতে ইচ্ছে করে, ” খান সাহেব শুনছেন? আমি শান্তি পাইনা। কিছুতেই শান্তি পাইনা। আপনি কাছে থাকলেও শান্তি পাইনা দূরে গেলেও পাইনা। আমাকে একটু শান্তি দিননা। ভালোবাসায় এতো যন্ত্রনা জানলে আমি ভুল করেও ভালোবাসতে যেতাম না। কখখোনো না।”
উঁচু সল্টের ক্যাটস পড়ে লাবিবা তানভীরের কাঁধ অব্দি নাগাল পেলো। অজান্তেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো। আর উঁচু হতে হবেনা। তাকে ছোঁয়ার জন্য হাত তো আছেই। সামনা সামনি বসিয়ে দেওয়া হলো দুই বধুকে। এখনো দুই বধুর মুখ কেউ দেখেনি। লম্বা ঘোমটা টেনে আড়াল করে দেওয়া হয়েছে। সর্বপ্রথম বর কনের মুখ দেখবে তারপর অন্যরা। তামিম আড় চোখে একটু একটু রোজীর দিকে তাকাচ্ছে। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা মোটেই তার শোভা পাবে না। এই বয়সে বিয়ে! অস্বস্তি তো কাজ করবেই। লোকলজ্জা বলে তো কিছু আছে। তানভীর আবার ওসবের ধার ধারে না। বিয়ে তার বউ তার। এখানে লোকজনের সমুদ্র বয়ে গেলে তার কি করার? তার চোখ তো ঘোমটার আড়ালে বউয়ের উপরি আবদ্ধ। লাল বেনারসীতে বউটাকে কত সুন্দর লাগছে! উজ্জল শ্যামবরণ কন্যার রুপ যেনো আর ধরে না। কোমল হাত জোড়ায় সোনার অলংকার যেনো প্রতিফলন সৃষ্টি করেছে। ঐ হাত জোড়ার সৌন্দর্য দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। তানভীরের এখনি ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। এখনি না ছুলে যেনো তার জান যাবে। তৃষ্ণার্ত কাকের মতো অসহায় দৃষ্টিতে লাল ঘোমটার আড়ালে বউটার দিকে তাকিয়ে ঢুক গিলে। কবুল পড়ে বিয়ে সম্পন্ন করে দেয় বউয়ের দিকে তাকিয়েই। কাজী আলহামদুলিল্লাহ বলে মোনাজাত ধরে। লাবিবাকে অনুসরণ করেই তানভীর হাত তুলে মোনাজাত ধরে। দুটো মানুষের মোনজাতে একটাই চাওয়া বীপরীতে থাকা মানুষটা। উকিল সহ কাজী এবং মুরুব্বিরা উঠে যাবার পর তানভীর হাটুর উপর ভর করে লাবিবার দিকে হাত বাড়ায়। ঘোমটা তুলে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে অশান্ত মনটাকে শান্ত করে নেয়। বউ সাজে লাবিবাকে মুগ্ধ হয়ে দেখে । শালীরা জিজ্ঞেস করে, ” দুলাভাই মাথা কি ঘুরে গেলো?ধরবো নাকি?”
তানভীর হাসতে হাসতে মাথা নাড়ায়। দ্বিতীয়বার কপালে চুমু দিয়ে বলে, ” মাশাআল্লাহ।”
তানভীরের অবস্থা দেখে তরুনদের মাঝে হাসির রোল পড়ে। তানভীরকে বলে,
” দুলাভাই পাশে এসে বসেন।”
তানভীর লাবিবাকে পাশাপাশি বসিয়ে আয়না ধরা হয় সামনে। দুই মাথা একসাথে পেছন থেকে চেপে ধরে বলে ,” দুলাভাই মিররে কি দেখেন?”
” আমার সুখ।”
” ওওওওওওওওওও”
” লাব্বু মিররে আড় চোখে কি দেখে?”
” আমার আবছা অন্ধকার জীবনের চন্দ্র।”
” আরে বাহ! সাধু! সাধু!”
এনার হাজবেন্ড জিজ্ঞেস করে,
” কত বছর ধরে একসাথে?”
” এরেঞ্জ। ”
” হুয়াট?”
মাথা ঘুরার উপক্রম। তামিম দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলে,
” এক্সিডেন্ট। ”
” কোনটা ধরবো?”
আকাশ বলে, ” লাভ ম্যারেজ। ”
নাকিব বলে, “ফোর্স ম্যারেজ। ”
উর্মিলা বলে, ” আমি সাক্ষী আছি।”
রোজী মিনমিনিয়ে বলে, ” ভাইয়ার না শুনেছি ওয়ান সাইড লাভ?”
” হচ্ছেটাকি?”
লাবিবা ঠোঁট টিপে বলে,” দুলাভাই ডলার ছাড়েন নয়তো আসল কথা বের হবে না। ”
” শালা শালার বউ দুটোরই আমার ডলারের দিকে নজর। এখানে আর থাকাই যাবে না।
” দুলাভাই একটা নোট ছাড়েন। গল গল করে কথা বের হবে। ”
” যা তোদের হানিমুন ট্রিপ আমার পক্ষ থেকে। ”
” হুররেএএএএ। ”
” দুলাভাই লাভটা আকদের পরে হয়েছে। এন্ড এখন আমরা সারাজীবন থাকবো একসাথে। দোয়া রাখবেন।”
” আবশ্যই।”
বিদায় বেলায় লাবিবার হাত ছাড়তে হয় তানভীরের। প্রিয়জন দের থেকে বিদায় নেওয়া কতটা কষ্টের তা প্রত্যেকটা মেয়েই ভোগ করে। মায়ের গলা ধরে সমস্ত কষ্ট উগড়ে দিচ্ছে লাবিবা। ছোট ছোট ভাই বোনেরা লাবিবাকে ঝাপটে ধরে হাওমাউ করে কাঁদছে। গমগমে উল্লাসে মাতোয়ারা বিয়ে বাড়িতে কিছুক্ষন পরেই শোকের ছায়া পড়ে গেছে । কান্নার আওয়াজে ধ্বনিত হচ্ছে চারপাশ থেকে। তানভীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে বিদায় শেষ হবার। ছেলে বাড়ি মেয়ে বাড়ির সবাই কেঁদে দিয়েছে। কেউ নিজেকে আঁটকে রাখতে পারেনি। তানভীর দূর থেকে লাবিবাকে দেখছে। এতো কাঁদছে কেনো মেয়েটা? এতো কেনো কাঁদতে হবে? আজকাল যুগে কেউ এভাবে বিয়েতে কাঁদে? নাচতে নাচতে শ্বশুড়বাড়ি চলে যায়। শ্বশুড়ের এক মেয়েকে বিয়ে করলে বোধহয় এমনি হয়। তানভীর পা উঁচু করে ভিড়ের ভেতরটা দেখলো। কোথাও ইসমাইল নেই। এই কান্নাকাটি পর্ব শেষ হবেনা যতক্ষন না ইসমাইল এসে বিদায় দিচ্ছে। বাপ পাগল মেয়ে এক্ষুনি বাপের খোঁজ করবে। ড্রাইভারকে ইশারা করে তানভীর ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। প্যান্ডেলের এক কোনে বসে আছে ইসমাইল। দুহাতে মুখ চেপে আছে। তারপাশেই বসে অনরগল চোখ মুছে যাচ্ছে রোজীর বাবা। দুইপাশে চাচা জেঠরা দাঁড়িয়ে। ফিরোজ খান সামনে চেয়ারে বসে একের পর এক সান্তনা দিচ্ছে।
তানভীরের একটু খারাপ লাগলো। অদূরে নিজের ভবিষ্যৎ থেকে একবার ঘুরে এলো। না সে কোনো সাধারণ বাবা হবেনা। অসাধারণ চিন্তার বাবা হবে নিজের শ্বশুরের মতো। তাও যদি নিজের মেয়ের জন্য একটা দ্বিতীয় তানভীর খান খুঁজে পায়। তানভীর গিয়ে ইসমাইলের পাশে বসলো। ডাকলো, “আব্বু। ” ইসমাইল মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে তানভীরের দিকে তাকালো। লাল চোখ জোড়া মিনিটেও ঘোলা হয়ে এলো। কাঁপা হাতে তানভীর কে বুকে টেনে নিলো। কপালে চুমু দিয়ে ডাকলো, “আমার আব্বু।”
” আমাদের গাড়িতে দিয়ে আসেন আব্বু।”
” যাও আব্বু। আসছি আমি।”
বাবার গলা ধরে লাবিবা নুইয়ে পড়লো। গলা ভেঙে গেছে একদম। ইসমাইল মারে…. আমার মা… বলে চোখ ধরে হামলে কাঁদতে লাগলো। ছেলেপক্ষরা তাড়া দিলো গাড়িতে তুলে দিতে। লাবিবাকে ধরতে এলেই চিৎকার করতে লাগলো, আব্বু আমি যাবো না। আম্মু আমি যাবোনা। কাকা আমি যাবোনা। ও ভাইয়া রে।আমি কোথায় যাবোনা। আব্বু।
তানভীর পাগড়ি গাড়িতে রেখে পকেট থেকে ফোনটাও গাড়ির ভেতরে ছুড়লো। ভিড় ঠেলে গিয়ে ইসমাইল কে বললো,” আব্বু আমরা এবার আসি। কাল সকালেই দেখা হচ্ছে। নিজেদের খেয়াল রাখবেন। আমি প্রমিজ করছি আপনার মেয়েকে আমি আপনার থেকেও ভালো রাখবো।”
বলতে বলতেই লাবিবাকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোলে তুলে নিলো।লাবিবা কোলে উঠে আরো চিৎকার করে ছটফট করছে। তানভীর কোনভাবে এতো ভারী গহনা শাড়িতে ব্যালেন্স রেখে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। হল থেকে একে একে বরের আত্বীয় স্বজনের এগারোটা গাড়ি বেরিয়ে গেলো।
খান বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে একে একে গাড়ি। সোহানা তার বোন বান্ধবী আত্বীয় মহিলাদের নিয়ে গেইটে অপেক্ষা করছে। সব সময়কার হাসি হাসি মুখটা আরো উজ্জল দেখাচ্ছে। ফিরোজ খান প্রথম গাড়ি থেকে নেমে এসে সোহানার সামনে এসে দাড়িয়ে হাসলো। সোহানা ইসলাম যেনো আনন্দে গলে গেলো। ফিরোজ খান মাথায় হাত রেখে বললো, ” নাও তোমার দুই মেয়ের শখ পূরণ হলো। সব ব্যবস্থা করেছো তো?”
” তোমার দুই মেয়ের কোনো অসুবিধা ই আমি হতে দিবো না দেখো। ”
ফিরোজ খান হাসতে হাসতে বাড়ির ভেতর চলে গেলো।
প্রথমেই বাড়ির বড় বউকে দুধ মিষ্টি খাইয়ে গাড়ি থেকে নামালো হলো। তামিমের খালামনি আর মামা নতুন বউয়ের মুখ দেখলো সোনার হার দিয়ে। ননাশ মুখ দেখলো মানতাশা দিয়ে। অনান্য আত্বীয় রা নতুন বউ নামিয়ে আনলো গলার চেইন আংটি দিয়ে মুখ দেখে। রোজী বাড়ির গেইট পেরোতেই নিতু ইসলাম বললো,
” বাবা! বউমাকে কোলে তুলে সরাসরি তোমার রুমে নিয়ে যাও। ড্রয়িংরুমে বসার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই অনেক রাত হতে চললো।”
তামিম মাথা ঝাকালো। রোজীকে পাঁজাকোলে তুলে নিলো। রোজী তামিমের বাহুতে শেরওয়ানি খামচে ধরে নিজের ব্যালেন্স রাখলো। দু পা ফেলতেই বললো,
” গলা ধরো। ”
রোজী গলা ধরলো। তামিম নাকোচ জানালো।
” এভাবে না। দু হাতে গলা জড়িয়ে ধরো। ”
রোজী দু হাতে গলা জড়িয়েই ধরলো। মাথা নিচু করে রইলো যতক্ষন সে ফুলের বর্ষনের মাঝে রইলো। অতঃপর চোখ তুলে তাকালো। তামিম সে চোখ ভরা লজ্জা দেখে মৃদু হাসলো।
সামনের গাড়ি গুলো ক্রস করে তানভীরের গাড়ি গেইটে থামলো। লাবিবা এখনো হিক তুলে যাচ্ছে। অথচ বাড়ি পৌঁছতে তাদের প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট লেগে গেলো। তানভীর এতোক্ষন তার এই কাঁদুনে বউটাকেই দেখে গেছে। এইযে একবালতি চোখের পানি ঝড়ালো। এখন আবার একটু পর পর হিক তুলছে সিটে গা এলিয়ে দিয়ে। তানভীরের এটা দেখতেও ভীষন ভালো লাগছে। যখন হিক তুলে পুরোটা শরীর সিট থেকে একটুখানি উপরে উঠে আবার নেমে পড়ে। ঠোঁটজোড়া একটুখানি ফাঁক হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায়। নাকটা সংকুচিত হয়ে আবার ফুলে ফেঁপে উঠে। বড় বড় চোখ দুটোও নিস্তেজ থেকে প্রাণ ফিরে পায়। এরকম সৌন্দর্য এর আগেও উপভোগ করেছে তানভীর। তবে স্থান সময় সিচুয়েশন ছিলো পুরোটাই আলাদা। একান্ত ব্যক্তিগত সময়ের দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতেই তানভীরের মাথা আওলা হয়ে গেলো। মনে মনে দোয়া করলো,” ওহ গড! এরকম বিধংসী বউ যেনো কারো না হয়। সুস্থ চিন্তাধারার ধৈর্য্যশীল পুরুষটাকে কিভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে মায়ার জালে উম্মাদ বানিয়ে ছাড়লো। ”
চলবে ____
প্রিয় পাঠক যারা এখনো আমার ছোট্ট গ্ৰুপে Labiba’s Tale🧚♀ জয়েন হননি অতি শীঘ্রই জয়েন হয়ে নিন।

