কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ৩৩.

0
392

#কার্নিশ_ছোঁয়া_অলকমেঘ
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

৩৩.

– মেয়েটা রিংকি। তাশদীদ ভাইয়ের এলাকাততো বোন। এডমিশনের জন্য বোনকে কয়েকমাস পড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু ম্যাডাম রিংকি তাকে ব্রোর পরিবর্তে বরের নজরে দেখছে। আর এ নিয়ে তাশদীদ ভাই বহুত ডিসটার্বড।

একপলক শার্লির দিকে তাকালো তাথৈ। শার্লি তেমনি চুইংগাম চিবাতে চিবাতে ওকে ইশারা করলো সামনে দেখার জন্য। মুখে বললো,

– শুধু তাশদীদ ভাইকে না দেখে, তার আশপাশটাও দেখ?

তাথৈ এতোক্ষণে রিংকির দিকে চাইলো। ওর মুগ্ধতা ভরা দৃষ্টি দেখতে টের পেলো, এ মুগ্ধতা ক্যাম্পাস নিয়ে না। ক্যাম্পাস দেখানো মানুষটা নিয়ে। রিংকি প্রচন্ডরকমের চেষ্টা করছে তাশদীদের খুব কাছাকাছি থাকার। আর ঠিক ততোটাই নিপুনভাবে ওর সাথে দুরুত্ব বজায় রাখছে তাশদীদ। হুট করেই শার্লির চোখে পরলো, একটা রোগাপাতলা ছেলে এসে তাশদীদের সাথে কথা বলছে। পরনে শার্ট-প্যান্ট। সবচেয়ে বড় কথা, ছেলেটাকে রুমনের মতো দেখাচ্ছে। শার্লির নিজের চোখকে বিশ্বাস হয়না। মুখের চুইংগাম ফেলে দুইবার চোখ ডললো ও। এরপরও যখন দৃশ্য বদলালো না, শার্লি বিস্ময়ে বললো,

– রুমন?

তাথৈয়ের কানে গেলো কি গেলো না, পা বাড়ালো ও। শার্লিও হাটা লাগালো ওর পেছনপেছন।
রুমনকে দেখে খুশি হয়ে যায় তাশদীদ। উল্লাসে জড়িয়ে ধরলো ওকে। টিটু ভ্রুকুটি করে তাকিয়ে আছে রুমনের দিকে। ছেলেটাকে চেনাচেনা লাগছে ওর। তবে পরিচয়টা মনে করতে পারছে না। তাশদীদ রুমনের কাধে হাত রেখে বললো,

– হ্যান্ডসাম হয়ে গেছো রুমন! কেমন আছো?

তাশদীদের মুখে রুমনের নাম শুনে টিটুর চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়। রুমনের আপাদমস্তক চোখ বুলায় ও। ঢোলাঢালা শার্ট প্যান্ট, ঠিকঠাক মাপের চুলের ছাট, আগের পান্জাবীওয়ালা রুমনের সাথে এর লক্ষ্যনীয় তফাৎ। রুমন হেসে বললো,

– জ্বী ভাই। আছি ভালো। আপনি কেমন আছেন?

টিটু আরেকদফায় চমকায়। শুধু বেশভুষায় না, রুমনের স্বরেও বদল ঘটেছে। সেই হেলে-দুলে কথা বলার স্বভাবটা ওর আর নেই। আগের মেয়েলী ভাবগুলো অসম্ভব রকমের সামাল দিয়ে তাশদীদের সাথে কথা বলছে ও। টিটুকে দেখে ওকেও সালাম দিলো রুমন। বললো,

– আপনি কেমন আছেন টিটু ভাই? দিনকাল কেমন যাচ্ছে?

– এতোক্ষণ তো ঠিকঠাকই ছিলাম। কিন্তু তোকে দেখে শকে আছি। তুই কেমন আছিস?

– জ্বী ভালো।

সৌজন্যতার সাথে জবাব দিলো রুমন। তখনই তাথৈ-শার্লি আসলো সেখানে। তাশদীদ একপলক দেখলো তাথৈকে। তার পরনে কালো টপসের ওপর খয়েরিরঙা কটি। টপস-জিন্সে মেয়েটাকে মন্দ লাগে না। তবুও অজান্তেই ওর মনে তুলনা জাগলো, বসন্তে হলুদ আনারকলি-ওড়নায় তাথৈকে অপ্সরী লাগছিলো। হয়তো সেজন্যই ওর নিজেকে সংবরন করা হয়ে ওঠেনি। আবির মাখিয়েছিলো ও তাথৈকে। তাথৈ একবারের জন্যও তাশদীদের দিকে তাকালো না। ওর দৃষ্টি কেবল রিংকির দিকে। এমনকি রুমনকেও দেখলো না তাথৈ। শার্লি সালাম দিলো ওদের। রুমনের দিকে ঘুষি ছুড়ে বললো,

– হোই! কেমন আছিস?

তাশদীদ সালামের উত্তর নিলো। রুমন লাফিয়ে পিছিয়ে যায়। হেসে বললো,

– তোদের পরে দেখছি। তাশদীদ ভাই? আপনার সাথে আলাদাকরে একটু কথা ছিলো।

তাশদীদ জবাব দেওয়ার আগেই শার্লি রিংকিকে দেখিয়ে বললো,

– এটা কে তাশদীদ ভাই? আপনার আত্মীয়?

– হ্যাঁ। বোন হয় আমার। এডমিশন দিতে এসেছে। রিংকি? ও শার্লি, আর ও তাথৈ। থার্ড ইয়ারে ওরা। বায়োকেমেই। আর ও রুমন, নাট্যকলাতে।

রিংকি কিছু বললো না। ওর এসবে আগ্রহও নেই। তাশদীদ হাতঘড়ি দেখে নিয়ে বললো,

– আচ্ছা তোমার একটু কথা বলো, আমি আর রুমন দুমিনিটে আসছি। চলো রুমন।

রুমনকে নিয়ে হাটা লাগায় তাশদীদ। কয়েকপা দুরে গিয়ে কথা বলতে থাকে দুজনে। টিটু ফোন দেখছিলো, রিংকি তাশদীদকে দেখছিলো, আর তাথৈ রিংকিকে। একটা চা-ওয়ালা পাশ কাটাচ্ছিলো ওদের। শার্লি বললো,

– চা খাওয়ান টিটু ভাই?

চা ওয়ালাকে থামালো টিটু। তিনকাপ চা নেয় তিনজনে। রিংকি চা নিলো না। ও তেমনি তাশদীদকে দেখছে আর মুচকি হাসছে৷ টিটুর কল আসে। চা হাতে কিছুটা পাশে গিয়ে ফোনে কথা বলতে লাগলো ও। শার্লি চায়ের কাপে ফু দিয়ে বললো,

– এক্সাম কেমন দিলে রিংকি?

– জ্বী আপু ভালো।

‘কেলো করেছে। তাথৈ সিনিয়রদের সাথেই যা করেছে, বেটা তুমি জুনিয়র হয়ে আসলে তো…’
অস্ফুটস্বরে আফসোস করতে করতে চায়ে চুমুক দিলো শার্লি। ঠিকঠাক শুনতে না পেয়ে রিংকি বললো,

– জ্বী আপু? কিছু বললেন?

– হুম? হ্যাঁ হ্যাঁ! জিজ্ঞেস করলাম কেমন বোন হও তুমি তাশদীদ ভাইয়ের? আপন বোন?

প্রশ্নটা শুনে রিংকি আবারো তাকালো দুরে দাড়ানো তাশদীদের দিকে। একহাত প্যান্টের পকেটে বাঝিয়ে রুমনের সাথে কথা বলছে সে। তাথৈ তখনো রিংকির দৃষ্টি পরখ করছে। আসার পর একমুহূর্তের জন্যও অন্যদিক তাকায়নি ও। রিংকি তাশদীদের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো,

– আমার আর তাশদীদ ভাইয়ের কেমন সম্পর্ক, সেটা কদিন পরে বলি আপু?

– কেনো? কদিন পরে তোমাদের বর্তমান সম্পর্ক বদলে যাবে নাকি?

– মনে করুন তাই।

রিংকির জবাব শুনে চায়ে চুমুক দেওয়ার মুহুর্তেই কাশি উঠে যায় শার্লির। রিংকি ওকে সামলাতে সবে মুখ খুলেছে, ‘আপু সামলে…’ তৎক্ষনাৎ ওর গায়ের ওপর চা এসে পরে। শার্লি আটকে যায়। সাথে রিংকিও। উবু হয়ে দেখলো, পছন্দের জামাটায় চায়ের দাগ পরে গেছে। বিস্ফোরিত চোখে পাশে তাকায় রিংকি। যা বুঝলো, হাতে থাকা কাপের পুরো চা ওর জামায় ছুড়েছে তাথৈ। তবে এমনটা করেও তার বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। তেমনি স্থির চাওনিতে তাথৈ চেয়ে আছে রিংকির দিকে। রিংকি তীব্র বিস্ময়ে বললো,

– এটা কি করলেন?

– কথা পছন্দ হয়নি।

তাথৈয়ের জবাব মাথায় ঢোকে না রিংকির। ও আরো দ্বিগুণ বিস্ময়ে বললো,

– কিহ?

– চ্ চা! চা পছন্দ হয়নি ওর! চা পছন্দ হয়নি!

শার্লি তাথৈয়ের রাগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলো। রিংকি কানে তুললো না সেটা৷ নিজের জামা ঝাড়তে ঝাড়তে, কাদার মতো করে ন্যাকিস্বরে বললো,

– তাই বলে এভাবে ছুড়বেন? পুরোটা আমার জামায় লেগে গেলো!

– ও। চা তোমার জামার ওপর পরেছে? তুমি এখানেই দাড়ানো?

তাথৈয়ের বিস্ময়ের স্বর। এমন প্রশ্নে রিংকিই যেনো আকাশ থেকে পরলো। বলে কি এই মেয়ে? ও ওখানে সেটা কি তাথৈ দেখেনি? সব ভুলে অবাকচোখে চেয়ে রইলো ও। তাথৈ একমুহূর্তে বিস্ময় কমালো। নিস্প্রভ কন্ঠে জবাব দিলো,

– বাচ্চা মেয়ে তো, তাই নজরে আসোনি। ইওর ব্যাড।

‘নজরে আসেনি তাই যেমন, নজরে আসলে তো তুই ওকে বৃন্দাবন-ই দেখাবি। বেচারী!’
কপাল চুলকে আস্তেকরে বললো শার্লি। কিছু কানে না গেলেও কথা বোঝার জন্য রিংকি ওর দিকে তাকালো। এরমাঝে তাশদীদ আর রুমন এগোলো ওদের দিকে। রিংকিকে জামা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাশদীদ ভ্রুকুচকালো। শার্লি তৎক্ষণাৎ জোরালো হেসে বললো,

– ইয়ে তাশদীদ ভাই, আসলে হয়েছে কি, আমার না হিচকি উঠলে চোখেমুখে পানির ছিটা দেওয়া লাগে। তাথৈ এটা জানে। চা খেতে গিয়ে আমার হিচকি উঠে গিয়েছিলো। আর সেটা দেখতেই ও হাতের কাছে যা পেয়েছে, ছুড়ে মেরেছে। আর ঠিক ওইসময়ই রিংকিও এগিয়েছে আমার টেককেয়ার করতে৷ তাই চা টুকো ওর জামায়…

শার্লিকে পুরোদমে উল্টো জবাব দিতে দেখে মুখ কিঞ্চিৎ হা হয়ে যায় রিংকির। একটু আগে তো উল্টো বাহানটাই দিয়েছে সে। তাশদীদ একপলক তাথৈয়ের দিকে তাকালো। সে বুকে হাত গুজে সেই চিরাচরিত ডোন্ট কেয়ার ভাবে দাড়িয়ে। পকেট থেকে টিস্যু বের করে রিংকিকে এগিয়ে দিলো তাশদীদ। রিংকি জামা মুছতে লাগলো। তাথৈ তুখোড় নজরে ওরদিক তাকিয়ে থেকে বললো,

– মরাল অফ দ্যা টোরি, আমি যাদের টেককেয়ার করি, তাদের থেকে দুরে থাকো। তাহলে আর সমস্যা হবে না।

রিংকি থেমে গেলো। চোখ তুলে, কপালে ভাজ ফেলে তাকালো ওর দিকে। এই মেয়েটার গলার স্বর ওর সুবিধের ঠেকছে না। নাইবা তাথৈয়ের চাওনি ওর সুবিধার ঠেকছে। রিংকি তাশদীদের দিকে তাকিয়ে তাড়া দেখিয়ে বললো,

– ব্ বাসায় চলুন তাশদীদ ভাই। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে।

তাশদীদ মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝালো। ইশারা করলো এগোনোর জন্য। রিংকি ওদের পাশ কাটালে সোজা হয়ে দাড়ায় তাথৈ। তাশদীদ ওকে উদ্দেশ্য করে বললো,

– কারো কোনো বিষয় অপছন্দ হলে তাকে হেনস্তা করার মানে হয়না। সবাই তোমার মনমতো হবে না, এটাই স্বাভাবিক।

– কেউ আমার মনমতো বিষয়কে হেনস্তা করলে আমার তাকে অপছন্দ হবে, এটাও স্বাভাবিক।

তাশদীদ জবাব খুজে পায় না। প্রথমবারের মতো তাথৈকে দেবার মতো জবাব ওর কাছে নেই। তবে ও এটা বেশ বুঝেছে, রিংকি এমন কিছু একটা করেছে যেটা তাথৈয়ের পছন্দ হয়নি। তাই ইচ্ছে করে ও চা ছুড়েছে রিংকিকে। ওকে চুপ দেখে একপা এগোলো তাথৈ। একদমই নমনীয় গলায় বললো,

– মাইন্ড ইওর ওন রেসপন্সিবিলিটি মিস্টার তাশদীদ ওয়াসীর। আমারটা আমি সামলে নেবো।

তাশদীদ সানগ্লাসটা চোখে এটে আরেকপলক শার্লি-রুমনের দিকে তাকালো। তারপর চলে আসলো ওখান থেকে। ঘাড় বাকিয়ে ওর চলে যাওয়া দেখে মুচকি হাসলো তাথৈ। নিজেনিজেই বললো,

– তোমাকে এতো ভালো হতে কে বলেছে মিস্টার? বাট ডোন্ট ইউ ওয়ারী। অলিগলিতে যতো ডিস্টার্বেন্স কুড়িয়ে রেখেছো, এগুলোর সবগুলোর দায়িত্ব এখন আমার। এন্ড হোয়াট আই সেইড, আই সেইড। আমার দায়িত্ব আমি বেশ ভালোমতো সামলে নেবে।

ওর কথা শুনে শার্লি শব্দ করে হেসে দিলো। রুমন এতোক্ষণ কেবল চুপচাপ সবটা দেখছিলো। কিছুই বুঝে আসেনি ওর। এবারে চেচিয়ে বললো,

– তোরা দুইটা কি বলবি আমাকে কি হয়েছে? নাকি আমি তাশদীদ ভাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করবো?

তাথৈ তেমনি তাশদীদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। শার্লি হাসি কমালো। কিছুসময় পর ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়ে বসলো তিনজনে। শার্লির মুখে সবটা শুনে রুমন বড়বড় চোখে তাকিয়ে রইলো তাথৈয়ের দিকে। তাথৈ প্রেমে পরেছে, কথাটা কোনোমতেই বিশ্বাস হচ্ছিলো না ওর। তাথৈ ওর চাওনিকে একবিন্দু পাত্তা না দিয়ে স্ট্র তে চুমুক দিলো। বললো,

– এবার বল, তাশদীদের সাথে তোর এতো গোপন কথা কিসের?

রুমন হচকিয়ে যায়। নড়বড়ে কন্ঠে জবাব দেয়,

– গ্ গোপন কথা? গোপন কথা মানে কি?

– এইযে ওকে দেখেই ‘তাশদীদ ভাই’ বলে ছুট লাগালি, এর কারন কি?

– দ্ দেখ তাথৈ, আমি ভালো হয়ে গেছি। উল্টাপাল্টা ভাববি না একদম!

রুমনের সতর্ক-স্বর। তাথৈ টেবিলে দুহাত রেখে ঝুকলো। মিষ্টি হেসে বললো,

– জানি৷ আর তুই ভালোটা কি করে হলি, সেটাই জানতে চাইছি।

– তাশদীদ ভাই বলে ছুট লাগিয়েছি কারন আমার চেন্জেজ গুলোতে তার অনেকটা অবদান আছে। কনসালটেশন সেন্টারে যাওয়ার আইডিয়াটা তারই ছিলো।

স্পষ্ট জবাব দেয় রুমন। ওর জবাব শুনে তাথৈ চেয়ারে হেলান দিয়ে আয়েশে বসলো। এই একটা নামে কতোরকমের মুগ্ধতা জমা হতে পারে ভেবে ভেতরবাহির পুলকিত হতে থাকে ওর। শার্লি অবাক হয়ে বললো,

– কি? এখানেও তাশদীদ ভাই?

– হু। ওইদিন আফিফকে চড় মারার পর ভাই আমার ডিপার্টমেন্টে গিয়েছিলো। অনেকক্ষণ কথা হয় তারসাথে আমার। সে আমাকে বুঝায়। আমার সাথে যা ঘটছে, এসবের কারন, ফল। । ছোটবেলা থেকে আমাকে সবাই খুঁচিয়েছে। আর পরিবারের কেউ বুঝাতে আসলেই জ্ঞান দিতে এসেছে ভেবে ক্ষেপে যেতাম। কিন্তু বিশ্বাস কর শার্লি, সেদিন তাশদীদ ভাই আমাকে যা যা বলেছে, কেনো যেনো তার একহরফ নজরান্দাজ করতে পারিনি আমি। ধর্মীয় অনুশাসন ভুলতে বসেছিলাম। সেদিন প্রথমবারের মতো আমার অপরাধবোধ হয়। অনুধাবন হয়, যে লাইফটা আমি লিড করছিলাম, তা আমার লাইফ না। ওপরওয়ালা আমাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছে, আমি সেটাই। একটাসময় হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলাম। আমার মনে হতে লাগলো, আমি এই জীবনটা থেকে বেরোতে চাই। সাহস করে সেটা বলেও ফেললাম তাশদীদ ভাইকে। বাকিটা উবিই সামলেছেন। তার পরিচিত এক কনসালটেন্টের কন্টাক্ট দিলেন আমাকে। বাসায় জানিয়ে পারি জমালাম ওনার রিহ্যাব সেন্টারে। মেডিসিন, মেন্টাল থেরাপি দুটোই চলেছে এতোদিন। এখনো চলছে। ডক্টর বলেছে এখন আমার রেগুলার পরিবেশ দরকার। নিজেকে কতোটুকো বদলাতে পেরেছি তা যাচাইয়ের জন্য। তাই ঢাকায় এসেছি। যদি মানিয়ে নিতে না পারি, আবারো যাবো। মেবি এই সেমিস্টার গ্যাপ যাবে। বাট ব্যাপার না। অল আই নিড ইজ, আ চেইন্জ। এন্ড আ’ম লাভিং মাইসেল্ফ রাইট নাও।

একনাগাড়ে বলে দম নেয় রুমন। শার্লি খুশি হলো ওর কথায়। তাথৈ গলার লকেটটা আকড়ে ধরে বসে রইলো। ও বুঝছে, তাশদীদকে ঘিরে ওর মুগ্ধতা সীমাপার করেছে, ওর ভালোবাসা সীমাপার করেছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই, তাশদীদের জন্য ওর পাগলামীও সব সীমা পার করতে চলেছে। সে পাগলামীতে আকাশ-পাতাল এক করতেও ওর বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ হবে না। ভূমিতল আকাশ ছুঁতে চাক বা না চাক, দুর আকাশের অলকমেঘ ঠিক এসে ভূমিতলের কার্নিশ ছুঁয়ে দেবে।
ভালোবাসায় সব সম্ভব! সব!

#চলবে…

[ #নোট: তাথৈ চরিত্রটা আর পাঁচটা গুণবতী নায়িকার মতো না। তার প্রমাণ শুরুর পর্ব থেকেই। সামনে এমন আরো অনেককিছু পাবেন, যেগুলো হয়তো আপনারা নায়িকার চরিত্রে মানতে মানতে পারবেন না, বাড়াবাড়ি মনে হবে। কিন্তু এটাই গল্পের থিম। মন্তব্য ধনাত্নক আসুক বা ঋনাত্নক, অলকমেঘ এই নিয়েই এগোবে। কিছু করার নেই।
হ্যাপি রিডিং ❤️ ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here