আমরন_চেয়েছি_তোমায় ২ – / ৩ লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন ০২

0
277

আমরন_চেয়েছি_তোমায় ২ – / ৩
লেখায়_সুরাইয়া_নওশিন

০২
মাঝ রাস্তায় নেমে যায় সানি। সাফি সারা আর আরহিকে ভার্সিটিতে নামিয়ে গাড়ি পার্কিং করে চলে যায় তার ডেস্কে। সাফি চলে যেতেই সারা আরহির মাথায় বেশ জোরে স্বরে গাট্টা মারে। আরহি এক হাতে মাথা নাড়তে নাড়তে বলে,,

” মারলি কেন?”

সারার চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তার ফোলা গাল দুটো রাগে লাল রক্তিম বর্ন ধারন করেছে। ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে,,

” প্রেম উত্তলে পরছে তাই না শা*কচুন্নি।”

” কীসের প্রেম হ্যাঁ। বড় ভাই সালাম দিবো না। তোর মতো বেয়াদব নাকি। এখন পর্যন্ত বড় ভাইকে সালাম দিশ নি। এতো সুন্দর গিফট দিয়েছে ধন্যবাদ পর্যন্ত জানাস নি।”

” আহারে আইছে সভ্য মাইয়া। তোর শাস্তি ভার্সিটির যতগুলো বড় ভাই আছে দেখা হলেই সালাম দিবি। নয়তো তোর একদিন কি আমার একদিন।”

সারার জেদ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা আরহির। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারলো সে। আজ একটু বেশি রাগিয়ে দিয়েছে আরহিকে সুযোগ পেয়ে। এখন তার ফল ভুগতেই হবে। আরহি করুন সুরে বলে,,

” আর সানি ভাইকে নিয়ে কিছু বলবো না৷ আজকের জন্য মাফ করে দে। আমি না তোর জানু হই।”

” এখন জানু তাই না। ইদানীং শত্রু থেকেও ভয়ংকর মজা নিচ্ছিস তুই। কোনো ছাড় নেই যা এখন থেকেই শুরু।”

তাদের কথোপকথন এর মাঝে হাজির সারার আর কিছু ভালো বন্ধু কনিকা, মনিরা, কাওসার আর ফাহমিদুল।
কনিকা সারা আর আরহিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” দুই জানের জিগার বান্ধবী কখন এলো। ক্লাস রুমের বাইরে কেন দাঁড়িয়ে আছিস?”

আরহি অসহায় ভঙ্গিতে বলে,,

” জানের জিগার বান্ধবী এখন জানের দুশমন হয়ে গিয়েছে। কি রকম রেগে আছে।”

ফাহমিদুল আরহিকে আর সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” কি রে কি হলো আবার তোদের। সারা রেগে আছে কেন?”

সারা বিরক্তি ভরা মুখ নিয়ে বলে,,

” এটা আমাদের পার্সোনাল বিষয়। তোকে কেন বলবো? এ শা*কচুন্নি যা বলছি।”

আরহি আবারও করুন কণ্ঠে বলে,,

” প্লিজ বান্ধবী। প্লিজ প্লজ,,”

সারা এবার একটু সদয় হলো,,

” ঠিক আছে। শাস্তি কমিয়ে দিলাম। ”

আরহি এক গাল হেঁসে বলে উঠে,,

” ধন্যবাদ জানু”

” এই ভাবে দাঁত কেলিয়ে লাভ নেই। শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি। মাফ করি নি।”

” অ্যাঁ”

” জ্বি হ্যাঁ ”

আরহির হাতে একটা ফাইল দিয়ে বলে,,

” যা এটা ভাইয়াকে দিয়ে আয়। তোর জন্য আমি ভাইয়াকে দিতে ভুলে গিয়েছে। এখন তুই দিয়ে আসবি যা।”

আরহি চোখ বড় বড় করে সারার দিকে তাকায়। এটা ছোট খাটো শাস্তি নাকি মহাশাস্তি। এই মানুষটার সামনে দাঁড়ালেই ভয়ে অসম্ভব পুরো শরীরে কাঁপুনি দিয়ে উঠে। কি গম্ভীর চাহনি আর কথা বলার ধরন তার। ভাবতেই ভয়ে আৎকে উঠে আরহি।

” এটা কম শাস্তি হলো কিভাবে। একটা সিংহের গোহায় আমাকে নিক্ষেপ করছিস আর বলছিস কম শাস্তি।”

” চুপ আমার ভাইকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবি না। আমার ভাই কম কথা বলে জাস্ট এতটুকু।”

” তোর ভাইয়ের গুনগান গাইতে হবে না। তোর ভাই আস্ত একটা হুতুম প্যাঁচা।”

সারা আবারও রেগে গেলো। নিজের ভাইকে নিয়ে কেউ কিছু বললে কোনো বোন সেটা মেনে নিতে পারবে না। প্রতিটা বোনের কাছে তার ভাই মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ। সারা রাগী কন্ঠে বলে,,

” ঠিক আছে যা যেতে হবে না। আবারও একই শাস্তি বরাদ্ধ হলো।”

সকল সিনিয়র ভাইদের সালাম দেওয়ার থেকে আপাতত এই কাজটা শ্রেয় মনে করলো আরহি। তাই তৎক্ষনাৎ ভেবে বলে উঠে,,

” এই না না আমি যাচ্ছি।”

বুকে ফুঁ দিয়ে এক লম্বা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পা বাড়ায় আরহি। মনে মনে আওড়ালো,,

” তুই না একটু বেশি ভীতু আর ন্যাকা। ভয় পাওয়ার কি আছে এতো। স্যার কি তোকে আস্ত গিলে খাবে নাকি। শুধু গম্ভীর কন্ঠে বলবে টেবিলে রেখে যাও। ব্যস এতোটুকুই এতো ভীতু তুই। ছিঃ আরহি ছিঃ। ”

আরও সাফি কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আবারও বুকে ফুঁ দিয়ে জোরে শ্বাস নিয়ে নিলো আরহি।
এরপর গলা খাকরিয়ে শুকনো কাঁশি দিয়ে বলে,,

” স্যার আসবো।”

ডেস্কে বসে কাজে ব্যস্ত ছিলো সাফি। আরহির গলার আওয়াজ শুনে দরজার দিকে তাকায় সাফি।

” তুমি এখানে? কোনো সমস্যা? সারা কোথায়? ”

এক বাক্যে সব প্রশ্ন করে ফেলে সাফি। আরহি আরও ঘাবড়ে যায়। শুকনো ঢোক গিলে কয়েকবার। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,,

” আমি আসতে চাই নি। আ,,,আরহি জোর করে দিয়ে পাঠিয়েছে। বিশ্বাস করুন আমি আসতে চাই নি।”

সাফি আরহির দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়। মেয়েটা যে তাকে মাত্রা অতিরিক্ত ভয় এটা তার কাছে অজানা নয়।এই মুহুর্তে আরহি চোখে মুখে ভয় আতংক স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সাফি এবার শান্ত স্বরে বলে উঠে,,

” রিলেক্স, তুমি আমার কেবিনে এসে মহাভারত অশুদ্ধ করো নি। তুমি আর সারা সব সময় এক সাথে আসো, সারা নেই ভাবলাম ওর কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। ভেতরে এসো। ”

আরহি এবার একটু সস্তি পেলো। তবে বুকের কম্পন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। কাঁপা কাঁপা ধীর পায়ে কেবিনে প্রবেশ করে ফাইলটা তার হাত দিয়ে সামনের দিকে বারিয়ে ধরে,,

” আপনার ফাইল।”

সাফি টেবিলের দিকে চোখের ইশারা করে বলে,,

” রাখো টেবিলে। সারা কোথায়। ”

” সারা ক্লাস রুমে।”

” ও ঠিক আছে তো।”

” জ্বি স্যার। তাহলে আমি আসি। ”

” ঠিক আছে যাও। আর হ্যাঁ তুমি আর সারা যাওয়ার সময় রিক্সা করে চলে যেও। আমি তাড়াতাড়ি চলে যাবো। আজ আয়াদ এর রেজাল্ট দেওয়ার কথা।”

আরহি মাথা নাড়িয়ে বলে,,

” ঠিক আছে স্যার। আসি তাহলে।”

আরহি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। ধীর গতিতে আসলেও তার যাওয়ার গতি দ্রুত। এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেই রক্ষা পায় আরহি। সাফা আরহির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আবারও কাজে মনোযোগী হয়।

%%%%%%%

পুরো বাড়িতে সবাই খুশি আজকে। আয়াদ এর বুয়েটে চান্স হয়েছে। করিডোরে বসে আছে সবাই। রায়হান খান আর রবিউল খান নিচ তালায় থাকে। আয়াদের রেজাল্ট এর কথা শুনে তারাও বাসায় এসেছেন। কিছু সময় করিডোরে বসে থেকে আপাতত ঘরে গিয়েছে তারা। আয়াদ এবার একটু ভাব নিয়ে রায়হান খান আর রবিউল খান কে শোনানোর জন্য জোরে জোরে আওয়াজ করে বলে,,

” আমার কি ব্রেইন খারাপ নাকি। আমি আড্ডা আর পড়াশোনা দুটোই এক সাথে করতে পারি। শুধু শুধু আমাকে কথা শুনানো অন্যায়।”

সানি আর সাফি করিডোরে সোফায় বসে মিটিমিটি হাঁসছে। এটা যে রায়হান খান আর রবিউল খান কে বুঝিয়েছে তাদের বুঝতে বাকি নেয়। আয়াদ সানিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” গুরু তুমি কিন্তু আমার সাথে অন্যায় করেছো। সবাই কে কত কি গিফট করেছো আর আমাকে দুটো পারফিউম। এ কেমন কথা। ”

সানি আয়াদ এর মাথা গাট্টা মেরে বলে,,

” তোর ওই পারফিউম এর প্রাইজ অনলাইন থেকে দেখে নিশ। আর তুই কি চকলেট খাশ নাকি। ”

” আমি কি চকলেট এর কথা বলেছি। তোমার আর আমার কি কথা ছিলো। আমি বুয়েটে চান্স পেলে বাইক কিনে দিবে। ”

সানি মুচকি হেঁসে প্যান্টের পকেট থেকে একটা চাবি বের করে আয়াদের দিকে বাড়িয়ে বলে,,

” এই নে।”

আয়াদ অনেকটা অবাক হয়ে বলে,,

” কিসের চাবি এটা?”

” তোর বাইকের চাবি।”

আয়াদ উৎফুল্ল হয়ে উচ্চ স্বরে বলে উঠে,,

” সত্যি।”

সানি মুচকি হেঁসে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়। আয়াদ এক লাফে এসে সানির কোলে বসে পরে। উত্তেজিত কন্ঠে বলে,,

” ধন্যবাদ গুরু। আমি এই জন্য তোমার শিষ্য। ”

” হয়েছে এবার আমার কোল থেকে নাম। আর হ্যাঁ সাবধানে বাইক চালাবি। আমি একটু অসাবধানতা দেখেছি তো চাবি আমার হাতে। ”

” যো হুকুম গুরু।”

আয়াদ সাফিকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” দেখো দেখো সানি ভাই থেকে কিছু শিখো। তুমি তো কিছু দিলে না।”

সানি আবারও আয়াদের মাথায় গাট্টা মেরে বলে,,

” দুই ভাইয়ের তরফ থেকে গিফট। নাম এবার,,”

আয়াদ সানির কোল থেকে নেমে দাঁড়াতেই রায়হান খান ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বলেন,,,

” এখনই অযথা ব্যয় করা শুরু করেছো। টাকা ইনকাম তো শুরু করো নি সেভাবে। ”

সানি অনুরুপ মুখে স্মিত হাঁসি রেখে বলে,,

” টাকা ইনকাম করা হয় নিজের শৌখিনতা, কাছের মানুষদের সুখী করার জন্য। যদি সেটা নাই করতে পারি এই টাকার মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না মামা।”

আয়াদ মনে মনে অনেক খুশি হলো। ইচ্ছে করছে সানিকে আবার জড়িয়ে ধরতে কিন্তু এই মুহুর্তে সম্ভব নয়। রায়হান খান প্রসঙ্গ পালটিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,,

” আয়াদ এমনি ছটফটে স্বভাবের ছেলে। বাইক কিনে দিয়েছো সাবধানে চালাবে তো। নাকি বন্ধু বান্ধব নিয়ে অসাবধানে ঘুরে বেড়াবে। ”

” আয়াদ ছটফটে স্বভাবের ছেলে হলেও মামা ও খুব সচেতন তেমন কিছু করবে না আয়াদ। ”

রায়হান খান কথা বাড়ালেন না। থমথমে পায়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। সানি, সাফি আর আয়াদ বেশ কিছুক্ষন গল্প করে আয়াদ বেরিয়ে যায় বাইক নিয়ে ববন্ধুদের দেখানোর উদ্দেশ্যে।

%%%%%%

বিকেলে সারা নিজের ঘরে শুয়ে ফোন দেখছে। ফেসবুক এ রিলস দেখতে ব্যস্ত। এমন সময় আয়াদ বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে সারার ঘরে দরজার সামনে দাড়িয়ে বলে,,

” আপু মনি।”

সারা ফোন রেখে বিছানা থেকে উঠে বসতে বসতে জবাব দেয়,,

” ভেতরে আয়।”

আয়াদ মুখে হাঁসি নিয়ে সারার ঘরে প্রবেশ করে। আয়াদের দিকে তাকিয়ে সারা মৃদু হেঁসে বলে,,

” কংগ্রেস। ”

” ধন্যবাদ আপু মনি। আমাকে কোনো গিফট দিবি না।”

” দিবো নি একটা কিটক্যাট চকলেট কিনে।”

আয়াদের চকলেট ভীষণ অপছন্দ। আর সে জন্যই ছাড়ার এই কথা বলা। দুজনের সব সময় খুনসুটি ঝগড়া লেগেই থাকে। আয়াদ নাক মুখ শিটকিয়ে বলে,,

” তোর থেকে এটাই আশা করেছিলাম। দেখ সানি ভাই আমাকে বাইক কিনে দিয়েছে।”

বাইকের চাবি দেখিয়ে বলে আয়াদ। সারা অনেকটা অবাক হলেও ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে,,

” ভালো তো। যা তোর ভাইয়ের গলা ঝুলে বসে থাক।আমার এখানে কি, যা এখান থেকে।”

আয়াদ সারার দিকে তাকিয়ে সারাকে জ্বালানোর জন্য বলে,,

” কেন রে খেপে যাচ্ছিস কেন? ভাই কি এসেই আবার থাপ্পড় দিয়েছে?”

সারা এতোক্ষণ ক্ষিপ্ত না থাকলেও এখন বেশ চটে গিয়েছে। পুরোনো ক্ষততে আঘাত করেছে আয়াদ। সারা রাগে কটমট করতে করতে আয়াদের দিকে এগিয়ে যেতেই আয়াদ দৌড় লাগায়। সারাও বেশ ক্ষিপ্ততা নিয়ে আয়াদের পিছু নেই। উচ্চ স্বরে বলতে থাকে,,

” আয়াদ দাঁড়া। তোর সব চুল ছিঁড়ে আমি টাকলা বানামো। তারপর আমি ঢোল বাজাবো। দাঁড়া বে*য়াদব
ছেলে একটা।”

” আমার বাইকে তোকে তুলবো না।”

” তুই রাখ তোর বাই,,

কথাটি সম্পূর্ণ করার আগেই কোনো এক শক্তপোক্ত দেহে ধাক্কা খেয়ে একটু পিছিয়ে গেলো সারা। সারা বিরক্ত হয়ে সামনের দিকে তাকাতেই খেয়াল করে এক জোরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। চোখে মুখে গম্ভীরতা। সারা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে আরও দু কদম পিছিয়ে যায়। সানি পেছনে ফিরে আয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,,

” এই ভাবে ছুটোছুটি করছিস কেন? জ্বিনে তাড়া করেছে?”

কথাটি যে সারা উদ্দেশ্য করে বলেছে সেটা বুঝতে কষ্ট হলো না সারার। রাগে সারার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। সামনে থাকা মানুষটিকে আস্ত চিবিয়ে খেতে ইচ্ছে করছে তার। আয়াদ মিটিমিটি হেঁসে বলে,,

” হুম ভাইয়া। আস্ত একটা শেওড়া গাছের পেত্নী।”

সারা রাগে কটমট করতে করতে আয়াদের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,,

” তোকে তো আয়াদ।”

আয়াদ সঙ্গে সঙ্গে সানির পেছনে দাঁড়ায়। সারাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” আয় এবার মার আমাকে।”

সারা এক নজর সানির দিকে তাকায়। চোখে চোখ পরে দুজনের। লম্বা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে সারার। চোখে মুখে জড়তা, রাগ সব কিছুর জন্য প্রভাব ফেলেছে স্পষ্ট। সারার মায়াবী চোখ জোড়ার দিকে গভীর দৃষ্টি এখনও সানির। সানির হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করার জন্য এই চোখ জোড়াই যথেষ্ট। এই ছয় বছরে সারার যত ছবি দেখেছে তার চোখ আটকে গিয়েছে সারার হাস্যজ্বল এই চোখ জোড়ায়। সূবর্ণা নয়নের রাণী যেন এই রমনী। সানির হৃদয়ের কবিদের সুরে একটা কথা বলছে,
” তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।”

সানি নিজের চোখ সরিয়ে নেয় দ্রুত গতিতে। নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াতে পেছনে সানির টি শার্ট টেনে ধরে আয়াদ।

” ভাই এই পেত্নী কাছে রেখে যেও না।”

সানি আয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,,

” ভয় যখন পাশ খেপিয়ে দিশ কেন?”

” আমি খেপালাম কই আমি শুধু বলেছি তোমার হাতে আবার থাপ্প,,”

অর্ধেক কথা বলতেই জিহবা কামড় দেয় আয়াদ। এবার সানির হাতে কয়েক ঘাঁ খেতে হবে তা নিশ্চিত। ঝোঁকে পরে বলে নিজেই নিজের জন্য কুয়ো খুরার নেয়। আয়াদ পালানোর আগেই সানি খপ করে আয়াদের হাত ধরে সারার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে চোখের ইশারায় বলে মারতে। আয়াদ করুন কন্ঠে বলে,,

” দেখো আজ থেকে আমি কম কথা বলবো। তোমরা দুজন এই বাচ্চা ছেলেকে ছেড়ে দাও।”

এই মুহুর্তে সারা বেশ খুশি হলো সানির উপর। সারা মুচকি হেঁসে কয়েক ঘাঁ দিলো আয়াদের পিঠে। ব্যাথায় কুকিয়ে আয়াদ কয়েকবার। সানি আয়াদের হাত ছেড়ে দিয়ে আয়াদকে উদ্দেশ্য করে বলে,,

” কারও সামনে সেই অতীত টেনে নিয়ে আসা উচিত নয় যে অতীত তাকে আঘাত করার ক্ষমতা থাকে। যার যার অতীত শুধু মাত্র তার একান্তই ব্যাক্তিগত অধ্যায়। আর তার ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা ভালো বৈশিষ্ট্য নয় আয়াদ। বড় হয়েছিস নিজেকে পরিবর্তন কর। তোর বলা কথায় এবং কাজে কে আঘাত পেলো, কার ক্ষতি হলো এবং কার জন্য মঙ্গল হলো অবশ্যই সেটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ সময় ভয়ংকর বাস্তবতার সম্মুখীন দাঁড় করায় তখন প্রয়োজন তোর সিদ্ধান্ত আর তোর কাজ। এমন স্বভাব থাকলে হবে কি? মজার ছলেও হলো কারও অতীত নিয়ে মজা করা উচিত নয়।”

সারার দৃষ্টি শীতল হলো স্থির দৃষ্টিতে তাকালো সানির দিকে। তার কথা বলার বাচনভঙ্গি বরাবরই মুগ্ধ করে তাকে। আয়াদ নিজের মাথা চুলকালো। আসলে ফাজলামি করেও এই মজাটা করা উচিত হয় নি। বিষয়টি একান্তই দুজনের ব্যাক্তিগত। আয়াদ সানির দিকে তাকিয়ে বলে,,

” সরি ভাই।”

সানি আয়াদের মাথায় হাত রেখে বলে,,

” যাকে আঘাত করেছিস তাকে বল।”

আয়াদ ব্যঙ্গ করে বলে,,

” এতো গুলো মার খাওয়ার পর সরি। মার না দিলে অবশ্যই সরি বলতাম।”

শেষ দুজনের কথোপকথন কিছুই কান পর্যন্ত পৌঁছায় নি সারা। সারার দৃষ্টি সানির দিকে। তার কথার ছন্দ যেনো এখনও কানে ভাসমান।
আয়াদ সারাকে এই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আয়াদের মাথায় আবারও দুষ্টুমি বুদ্ধি নাড়াচাড়া দিয়ে বসে। আয়াদের স্বভাব যেন এতো সহজে পরিবর্তন হওয়ার নয়। আয়াদ সারার মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে সুর দিয়ে বলে উঠে,,

” আমি কেন বার বার প্রেমে পরে যাই।”

সারার এই বার ঘোর কাটে। আয়াদের দিকে তাকায় সারা। আয়াদের চোখে মুখে দুষ্টুমির ঝিলিক। সানির সামনে দ্বিতীয় বার সম্মানহানি হওয়ার আগে সারা আয়াদের চুল টেনে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,,

” তোর চরিত্র খারাপ তাই।”

সানি সারার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে খানিকটা মৃদু স্বরে হেঁসে উঠে। সানি বরাবরই মুচকি হাঁসে। সানির হাঁসির আওয়াজ খুবই কম শুনেছে সারা। আজ সানির মৃদু হাঁসির কন্ঠ শুনে বিস্মিত হয়ে সানির দিকে তাকায় সারা। সানি হাঁসি মুখে সারা দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচায়। সারা এক দৌড়ে নিজের ঘরে প্রবেশ করে। সারা বুকে বয়ে গেলো আরেক দফায় ঝড়। সানির এই হাঁসির কারন সারা হবে বিষয়টি সত্যি অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

%%%%%

সানির হসপিটালের উদ্ভোদন অনুষ্ঠান। সারা প্রথমে যেতে চাই নি। কিন্তু শায়লা বেগম এর জোড়াজুড়িতে রাজি হলো এক পর্যায়ে সারা। বাড়ির সবাই তৈরি। সারা একটু তৈরি হতে দেরি হলো সারা প্রথমে যেতে চাই নি বলে।সাদা রঙের গ্রাউন্ড পরেছে সারা। লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দিলো আজ। পারিবারিক অনুষ্ঠান তাই আর হিজাব পরে নি। চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁটে হাল্কা রঙের লিপস্টিক ব্যস এতোটুকুই তার সাজ। সানি আগে থেকেই হসপিটালে ছিলো। অতিথি দের গল্প করতে ব্যস্ত সে।
হসপিটালে এসেই সারাদের বসিয়ে রেখেছে অতিথির বিশেষ জায়গায়। বেশ বিরক্ত লাগছে সারার এই ভাবে বসে থাকতে। এসব প্রোগ্রাম একদম বিরক্ত লাগে সারা। এসব ভাষন শোনার ধৈর্য্য হয় না তার। ভাষন শোনার ভয়ে স্কুলের দেয়াল টপকিয়ে পালিয়েছিলো সে। সন্ধ্যায় দু চোখ ভরে ঘুম আসছে সারা। ঘুম তাড়ানোর প্রয়োজন।
সারা শাহানা বেগম কে বললেন,,

” মা ওয়াশরুমে যাবো।”

শাহানা বেগম সারার দিকে তাকিয়ে বলে,,

” ওয়াশরুমে যাবি।

” হুম।”

শাহানা বেগম এদিক ওদিক তাকিয়ে বলে,,

“এখানে ওয়াশরুম যে কোথায়। আয়াদ,সানি, সাফি কাউকে তো দেখছি না। সানির তো খোঁজ নেই। সাফি আর আয়াদ বসিয়ে রেখে কোথায় গেলো। ”

শাহানা বেগম এর চোখ পরে ফোনে কথা বলতে বলতে ব্যস্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে আসা সানির দিকে। সানিকে দেখে উৎফুল্ল কন্ঠে বলে উঠে,,

” ওই তো সানি।”

শাহানা বেগম এর কথা শুনে সেই দিকে তাকায় সারা।
মুহুর্তে চোখ জোরা তার স্থির হয়ে যায়। সানিকে প্রথম এমন ফর্মাল পোশাকে দেখলো সারা। হালকা গ্রে রঙের শার্ট, কালো কোর্ট আর প্যান্ট পরেছে সানি।সানি বেশির ভাগ সময় পাঞ্জাবি পরে। আরেক দফায় ক্রাশ খেলো সারা। দ্রুত গতিতে চোখ সরিয়ে নেয় সারা। নিজের মাথা ধীরে ধীরে কয়েকবার ঝাঁকায় সারা।
শাহানা বেগম উচ্চ স্বরে আওয়াজ করে,,

” এই সানি।”

সানি আওয়াজ পেতেই ফোন রেখে এগিয়ে আসে শাহানা বেগম এর দিকে।

” হ্যাঁ মামুনি বলেন।”

” সারা ওয়াশরুমে যাবে নিয়ে যা তো।”

সারা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে। বেশ লজ্জায় পরে যায় ছাড়া। শাহানা বেগম এর উপর মনে মনে বেশ ক্ষিপ্ত হলো সারা। আর কি লোক পেলো না বলতে। এই মানুষটাকে বলতে হলো। কি রকম একটা অসস্তি কর ব্যপার। সানি এই বার সারার দিকে তাকায়। পুরো পৃথিবী যেন থমকে যায় এই সাদা পোশাকে অপ্সরা রমনীর দিকে চেয়ে। সূবর্ণা নয়নের রাণীর চোখে গাঢ় কাজল তীব্র ঝড় সৃষ্টি করেছে সানির শান্ত হৃদয়ে।
নিজের ধ্বংসের আগাম বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে এই হৃদয়ের অস্বাভাবিক কাঁপুনি। শুকনো ঢোক গিলে শাহানা বেগম এর দিকে ঘুরে তাকায় সানি। ধীর কন্ঠে বলে,,

” ঠিক আছে। আমার সাথে সাথে আসতে বলেন। ”

শাহানা বেগম সারাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,,

” যা তোর সানি ভাইয়ের সাথে। ”

সারা বেশ ইতস্তত নিয়ে বলে,,

” যাবো না।”

” আরে যা। প্রোগ্রাম শুরু হয় নি শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। যা তোর সানি ভাইয়ের সাথে এখন।”

সারা সানির পিছু পিছু পা বাড়ায়। দুজনের পায়ের গতি ধীর হলেও হৃদয়ের কম্পনের গতি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। হৃদয়ের এক তুমুল ঝড় তোলপাড় করে দিচ্ছে। দুজনের মাঝে কোন কথা নেই। দুজনের মাঝে এক অস্থিরতা বিরাজমান। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই সামনে লোকের ভীড় দেখে সানি সারার পাশে দিয়ে হাটে এই বার। ভীড়ের জন্য দুজনে একটু পাশাপাশি হাটলেও একবারের জন্যও স্পর্শ হয় নি তাদের আর না আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর সাথে । সানি সেই ভাবে সারাকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। এ রকম ভীড়ে কাউকে না স্পর্শ করেও এতো সুন্দর করে যত্নের সহিত কাউকে নিরাপত্তা দেওয়া যায় ভাবতেই অবাক হলো সারা। সানির এই গুনটা মুগ্ধ করলো সারাকে। সানি যেভাবে সারাকে নিয়ে যাচ্ছে নিজেকে কোনো মহারানী মনে হচ্ছে এই রকম অনূভুতি হচ্ছে তার। সানির তীব্র পারফিউম এর সুবাসটা বেশ ভালো লাগছে সারার কাছে। দুজনের যাওয়ার মাঝে একজন মধ্যবয়স্ক লোক আওয়াজ দেয়,,

” হ্যালো ড. মেহরাজ।”

সানি আর সারা দুজনেই পাশে ঘুরে তাকায়। লোকটির চেহারা, গায়ের রঙ দেখেই বুঝা যাচ্ছে বাইরের দেশের লোক। লোকটি হাঁসি মুখে বলে,,

” Who is she?”

সানি হাঁসি মুখে জবাব দেয়,,

” My cousin ”

সানি আর কথা বাড়ায় না পা বাড়ায় সামনের দিকে। সারারও সানির সাথে পা বাড়ায়। ভীড় কমে যেতেই সামনে এগিয়ে যায় সানি। সারা সানির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকায় কয়েকবার। একদম কর্নারে একটা কেবিনের সামনে দাঁড়ায় সানি। সারাও দাঁড়িয়ে যায় সানিকে দাঁড়াতে দেখে। থাই গ্লাস এর দরজা। পাশে দেওয়ালের সাথে আটকানো একটা কালো বোর্ড সেখানে লিখা ড.সানি মেহরাজ শিকদার। সারা বুঝতে পারলো এটা সানির কেবিন। সানি দরজা খুলে দিয়ে দাঁড়ায়। সারা চুপচাপ কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করে।
কেবিনের ভেতর পুরো টাই থাই গ্লাসের। ভেতর থেকে বাইরে সব দেখা যায়। কিন্তু বাইরে থেকে ভেতরে দেখা যায় না। সুন্দর করে সাজিয়েছে কেবিন। তবে সারা আর দেখার সুযোগ পেলো না। সানির গলা খাকড়িয়ে কাঁশির আওয়াজ শুনে পেছনে তাকায় সারা। সানি ওয়াশরুমের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। সারার বেশ ইইতস্তত লাগছে। মাথা নিচু করে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। সানি দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সোফায় বসে পরে। কপালে হাত দিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন সানি, চোখ জোরা বন্ধ হয়ে আসে তার। সারা চোখে হাল্কা পানি ঝাঁপটা দিয়ে বেরিয়ে আসে ওয়াশরুম থেকে। দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে চোখ মেলে তাকায় সানি। এরপর আবারও সানি সারাকে নিয়ে যায়।

অনেকক্ষণ যাবৎ অনেকে নানা বক্তব্য দিয়ে গেলো। বেশ বিরক্ত হয়ে শুনছে সারা। এরপর যখন বলা হলো এখন কিছু বক্তব্য রাখবেন ড. সানি মেহরাজ শিকদার। সারা একটু নড়ে চড়ে বসে মনোযোগী হলো। সানির মুখে সেই স্মিত হাঁসি। সানি শুরুতেই সবাইকে সালাম, অভিন্দন জানালেন। সানির কিছু কথায় সারার হৃদয় মুচড় দিয়ে উঠে। মায়া হয়,ভীষণ মায়া হয় সানির উপর।
কথা গুলো বলার সময় সানির চোখ জোড়া ছিলো রক্তিম লাল।

” এই হসপিটাল আমার বাবাকে উৎসর্গ করে। এই হসপিটাল আমার বাবার স্বপ্ন ছিলো। তার ছেলে ডাক্তারি খেতাব পাবে আমার বাবার স্বপ্ন ছিলো। আজ আমার বাবার স্বপ্ন পূরন করে আমি সত্যি আনন্দিত। কিন্তু আমি ভেতর থেকে ব্যথিত কারন আমি অসম্পূর্ণ। পৃথিবীতে ওই সন্তান হতভাগা যার সফলতা তার বাবা মা দেখে যেতে পারে না। সফলতার আনন্দ টুকু বাবা মার সাথে ভাগাভাগি করতে পারে না। আমি শরীরে সাগর মাইন শিকদার এর রক্ত তার আদর্শ নিয়ে বড় হওয়া। কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য বাবা নামক ছায়াতল আমার ভাগ্যে আট বছরের জন্য লিখা ছিলো। আজ যদি বাবা নামক ছায়াতল থাকতো তাহলে হয়তো আরও সঠিক দিক নির্দেশনা পেতাম। হয়তো ভালো মানুষ হতাম, কারও চোখে দৃষ্টি কটু থাকতাম না। এতিম নামক শব্দটা থাকতো না। আমার জীবনে পথ চলা আরও সহজ হতো। জীবনে অনেক অপূর্ণ চাওয়া বাবা নামক আশ্রয় স্থলে পূর্ন হতো। বাবা নামক অপূর্নতা বুঝিয়ে দিয়েছে বাবা শুধু একটা রক্তের সম্পর্ক, আশ্রয় স্থল, স্বপ্ন পূরনের ভান্ডার নয় বাবা নামক শব্দ শক্তি, গলার জোর। যা আমি হারিয়ে ফেলেছি। তাই আমি ভেতর থেকে ব্যথিত, আমি অসম্পূর্ণ, আমার পরিবার অসম্পূর্ণ। তবে আমার মা শক্ত হাতে আমাকে আগলে রেখেছে। নিজে ভেতরে ভেতরে পুড়েছে আমাকে বুঝতে দেই নি। রাতের অন্ধকারে ঘুম ভেঙ্গে বহুবার মার কান্নার আওয়াজ পেয়েছি তবে ভোরের আলো ফোটার আগে আমাকে সাহস দেওয়ার জন্য, অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য আমার মায়ের মুখে হাঁসি দেখেছি। মা দিন শেষে আমার আশ্বাস, আমার আশার আলো। আরও আছে যাদের আমার স্বপ্ন পূরনে অসম্ভব ভূমিকা রয়েছে তারা খান বাড়ির সদস্য। তারা প্রত্যেকে আমাকে সাহস দিয়েছে, অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বিশেষ দুজনের নাম না বললেই নয় আমার বড় মামার কড়া শাসনের মাঝে স্নেহ আর আমার ছোট মামার আদর স্নেহ। মামীদের আদর স্নেহ ভালোবাসা কখনও আমাকে বিন্দুমাত্র মন ছোট করতে দেয় নি। আমার বড় ভাই সাফি মেহতাব খান যিনি সব সময় জ্ঞান দিয়েছেন, ভেঙে পরলে বার বার বুঝিয়েছেন। আমার বড় ভাইয়ের অপূর্নতা পূর্ন করেছেন। হোঁচট খাওয়ার আগেই হাত ধরে ফেলেছেন। তার সম্পর্কে যত বলবো তত কম হবে। আমার ছোট ভাই আয়াদ তৌসিফ খান আমার মুখে হাঁসি ফোটানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা তার। হয়তো আমার রক্তের ছোট ভাই থাকলেও আমাকে এতো মানতো না, আমাকে নিয়ে এতো ভাবতো না। ”

শায়লা বেগম এর চোখ বেয়ে পরছিলো অজস্র অশ্রু। সারার মনটা কেন জানি ছটফট করছিলো সানির প্রতিটা কথা শুনে। এই দু দিনে একবারও ইচ্ছে হয় নি সানির সাথে কথা বলতে। তবে আজ ইচ্ছে করছে সানির সাথে কথা বলতে। খুবই ইচ্ছে হচ্ছে সানিকে অভিন্দন জানাতে। সানির সাথে একটু কথা বলার তীব্র আকাঙ্খা হচ্ছে সারার।

চলবে_____

গল্পটা কি চলবে??? আপনাদের ভালো না লাগলে সমাপ্ত করে দিবো।

নতুন পর্ব পেতে এখনই কমেন্ট করো — “নেক্সট”, ❤️ বা যেকোনো স্টিকার!
আমি যদি তোমার কমেন্টে রিয়্যাকশন দিই,
তাহলে বুঝে নিও — গল্প ঘর থেকে তোমার চাওয়া ‘নেক্সট’ পর্বটি পোস্ট করা হয়েছে! 💌📖

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here