লুকোচুরি_রোদ্দুর_ও_তুমি [(৪)ক.] লেখনীতে : #অহনা_রহমান

0
150

গল্প : #লুকোচুরি_রোদ্দুর_ও_তুমি [(৪)ক.]
লেখনীতে : #অহনা_রহমান

হিয়া পেছনে তাকিয়ে দেখতে পেল নাফি দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্নবোধক চাহনিতে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে। হিয়া ভ্রু কুঁচকে ফেললো। এই লোক আবার এই প্রশ্ন কেন করছে? আবার কিছু জেনে গেলো না তো? আর গেলেও বা কি? হিয়ার কিছুই যায় আসে না। হিয়া বলল,

“এই প্রশ্ন কেন?”

নাফি এগিয়ে এলো হিয়ার দিকে। বলল,

“আমি সেই শুরু থেকেই খেয়াল করছি, কিছু তো একটা আছেই। সেটা এক্সপ্লেইন করো আমার কাছে।”

হিয়া কোমরে হাত বেঁধে আরও এগিয়ে গেল নাফির দিকে। বলল,

“তো আপনার ভাইয়ের কাছেই জিজ্ঞেস করেন না, আমার কাছে কেন বলছেন?”

নাফি ও এগিয়ে গেল হিয়ার সামনে৷ একদম মুখোমুখি হয়ে গেছে তারা। হিয়ার ত্যাড়া কথায় নাফিরও মেজাজ খারাপ হলো। সে হিয়ার মুখের সামনে আঙুল তুলে বলল,

“শোনো তোমাদের মতো মেয়েদের না আমার একটুও বিশ্বাস নেই। হ্যাঁ, আমি জিজ্ঞেস করতাম রাজের কাছে। কিন্তু বাড়িতে নতুন বউ, মানে তোমার বোন এসেছে। আমি এখন কোন ধরনের সিনক্রিয়েট চাইছি না। আর হ্যাঁ! তোমাকে ও সাবধান করে দিচ্ছি, রাজ বা রুহির মাঝখানে যেন তোমাকে না দেখা যায়।”

হিয়া শব্দ করে হেঁসে উঠলো। রাজের আঙুল ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়ে বলল,

“এই কথা আমাকে না বলে আপনার ভাইকে-ই বলুন মিস্টার! সেটাই আরও কাজে দেবে।”

“এতো বেশি পটর পটর করো কেন তুমি? সমস্যা কি তোমার? তোমাকে কি ছোটবেলায় মধু খাওয়াইনি কেউ?”

“নাহ, আমাকে মধুর বদলে করলার জুস খাইয়েছে। কোন সমস্যা আপনার?”

হিয়া আর কোন কথা না বলে, নিজের সামনের চুল গুলো সরিয়ে চলে হাঁটা ধরলো নিচের দিকে। মেয়েটা খেয়ালও করলো না, চুল সরানোর সময়ে সেগুলো নাফির মুখে বারি খেয়েছে। হিয়া চলে যাওয়ার পর নাফি বিরক্তিতে ‘চ’ সূচক শব্দ করলো। এই মেয়ে গুলো এতো ঢঙ্গি কেন সে বুঝতে পারে না। আশ্চর্য! চুল গুলো তো এমনিই সরানো যায়। এভাবে ঢং করার মানে কি?

এসব ছেড়ে নাফি ভাবতে বসলো রাজের বিয়ের সময়ে হিয়ার কর্মকাণ্ড গুলো। সে সবকিছু দেখে এটাতো বুঝেছে নিশ্চিত এর ভেতরে কোন না কোন ঘাবলা আছে। কিন্তু কি? সেটাই জানতে হবে তাকে।

——

নিচে আসার পর হিয়া দেখলো, রাজ ও রুহির বাসরের তোরজোর চলছে। মানে রুহির কিছু দেবর ও ননদেরা টাকা চাচ্ছে রাজের কাছে। তারা রুহিকে ফুল দিয়ে সাজানো গোছানো একটা রুমে রেখে সেখানের দরজা আঁটকেছে। রাজ ওদের সাথে জোড়াজুড়ি করছিলো। সেসময় হিয়াকে দেখে ও শয়তানি একটা হাসি দিয়ে বলল,

“এই যে সুন্দরী শালিকা যে! কোথায় ছিলেন এতক্ষণ? ইশশ কতক্ষণ হয়ে গেছে আপনাকে দেখিনা।”

হিয়ার হাত মুঠ হয়ে গেল। একে দেখলেই তো হিয়ার পায়ের আঙুল থেকে মাথার চুল পর্যন্ত জ্বলছে। আর ঘুরেফিরে এর সাথেই ওর দেখা হচ্ছে। হিয়া এগিয়ে গেল রাজের দিকে। সবার সামনে বলল,

“এ কি দুলাভাই? বাসরঘরে সুন্দরী বউ থাকতে আপনি শালিকে খুঁজছেন? উমমমম.. ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগছে না কিন্তু।”

এরপর সে রাজের দিকে মুখ বাড়িয়ে রাজকে ইশারায় ডাকলো। ব্যাপারটা বিয়ে বাড়িতে গেট ধরা সময়ের মতো হয়ে গেছে। রাজ কাছে এলে হিয়া একটু জোরেই বলল,

“দুলাভাই কি বারো ভাতারি নাকি? আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছে।”

হিয়ার কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। মজা নিতে থাকলো রাজের। হিয়া ইচ্ছে করেই সবার সামনে রাজকে ছোট করেছে। তা রাজ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে। তাই সে কথা ঘুরিয়ে বলল,

“আরে আমি নই। তোমার বোন মানে রুহি ডেকেছে৷”

হিয়া আর কিছুই বললো না। একবারে যদি সব হয়ে যায় তাহলে তো আর শাস্তি হলো না। হিয়া সবাইকে পাশ কাটিয়ে রুমে ঢুকে গেল। যাওয়ার সময় রাজকে আবারও খোঁচা মেরে বলল,

“দুলাভাই এতো কিপটা হলে চলে নাকি? বিয়ে করেছেন, মানুষকে ধোঁকা ও দিয়েছেন সেই হিসেবে সবাই নাহয় মিষ্টি খাওয়ালেন। সমস্যা কোথায়?”

হিয়া চলে যাওয়ার পর সবাই রাজের দিকে কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকালো। যদিও তারা হিয়ার বলা কথার মানে বুঝতে পারেনি। এটা ওরা শালি দুলাভাইয়ের ইয়ার্কি হিসেবেই নিয়েছে। ওদের এমন তাকানো দেখে রাজ আরও অপমানিত বোধ করলো। কিন্তু রাজকে অবাক করে দিয়ে সবাই আবারও একযোগে হৈহৈ করে উঠলো। টাকা দিতে বলল আবার।

—–

হিয়া রুমে ঢুকে দেখলো রুহি বসে আছে ঘোমটা দিয়ে। নিশ্চয়ই রাজের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু এখানে ওর কাজটা কি? রুহি কেন ডেকেছে ওকে? হিয়া রুহির সামনে গিয়ে বলল,

“ডেকেছিলে আমায়?”

রুহি হিয়াকে দেখে অবাকই হলো। সেও জানে না হিয়া এখানে কেন। সে বলল,

“তোকে কেন ডাকবো আমি?”

হিয়া এখন ঝামেলা চায় না। সে বলল,

“ওহ। তোমার সোয়ামি বলল যে তুমি নাকি ডাকছো। তো ডাকছো না যখন আমি তাহলে আসছি হ্যাঁ? ”

“সত্যি করে বল তো হিয়া কি জন্য এসেছিস এখানে? তুই আবার জেলাস নাতো?”

হিয়া হেঁসে উঠলো। থুতু ফেলানোর মতো শব্দ করে বলল,

“ইয়াক! আমার রুচি অতটাও খারাপ নয় আপা।”

রুহি অপমানিতবোধ করলো হিয়ার কথায়। সে খাট থেকে নিচে নেমে এলো। হিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,

“শোন বেশি ভাব নেওয়ার চেষ্টা করিস না হিয়া। তোকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে তুই কতটা জেলাস। নাহলে তো আর দেখতে আসতিস না। আমি আর আমার জামাই কেমন ঘরে বাসর করবো।”

হিয়া আবারও হেঁসে উঠলো। সে তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলল,

“ওহ রিয়েলি? জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো। যাহোক! একটা সত্যি কথা বলবো আপা?”

রুহি গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“বল।”

হিয়া বলল,

“সত্যি বলতে আমার তোমার জন্য আফসোস হচ্ছে। ইশশ! আমার ফেলে দেওয়া জিনিস তুমি কিভাবে কাছে নিবে। ইয়াক! আমার তো ভাবতেই ঘেন্না লাগছে।”

গল্পটি ভালো লাগলে আপনার গল্পপ্রেমি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

চলবে?

ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here