#অরুণিকা
#লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ
||বোনাস পর্ব||
৩২.
আহনাফ বাসায় এসেই যতিকে দেখে চমকে গেলো। যতি আহনাফকে দেখে মিষ্টি হাসি দিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“অনেকদিন পর দেখা হয়েছে। কেমন আছো?”
আহনাফ নির্বিকার ভাব নিয়ে বলল,
“এখানে কেন এসেছো?”
যতি মলিন মুখে বললো,
“তুমি আমার উপর সবসময় বিরক্ত থাকো কেন বলো তো? কোনো কথারই ঠিকভাবে উত্তর দাও না। আর আমি তো তোমাকে বিরক্ত করি না। মাঝে মাঝেই তোমাকে দেখতে আসি।”
“মাঝে মাঝেও আসার কোনো দরকার নেই।”
আহনাফের কথা শুনে তূর্য বলল,
“ক’জনের কপাল এতো ভালো হয়? আমাদের তো খোঁজ নিতেও কেউ আসে না। আর তুই পেয়েও পাত্তা দিচ্ছিস না।”
যতি তূর্যের কথা শুনে বলল,
“যা সহজে পাওয়া যায়, তার মূল্য কেউ বুঝে না।”
আহনাফ তূর্যের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে যতিকে বলল,
“আমি সহজ কঠিন কোনোভাবেই তোমাকে চাই না।”
যতি আহনাফের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,
“আমি তো বলি নি আমি তোমাকে চাই। আমি তো শুধু তোমার সাথে দেখা করতে আসি। তুমি এমন কেন ভাবছো যে আমি তোমাকে চাই? তাহলে কি তুমি আমাকে নিয়ে ওভাবে চিন্তা করো!”
আহনাফ বিরক্ত হয়ে বলল, “উফ! তুমি প্রচন্ড….”
ইমন আহনাফকে থামিয়ে দিয়ে তাকে টেনে একপাশে নিয়ে গেলো। তূর্যও সেদিকে গেলো। আহনাফ ইমনের হাত ছাড়িয়ে বলল,
“কোণায় নিয়ে এসেছিস কেন?”
ইমন বলল,
“মেয়েটার দোষটা কোথায় সেটাই বল!”
“মানে?”
তূর্য বলল,
“যতি কি তোর কোনো ক্ষতি করেছিল?”
“না তো।”
“তাহলে তুই ওর উপর এতো বিরক্ত কেন?”
আহনাফ মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“আমি জানি না।”
“জানবি কিভাবে? কোনো কারণই তো নেই।”
এবার ইমন বলল,
“অন্তত ওর সাথে বন্ধুত্বটা তো রাখতে আপত্তি নেই!”
আহনাফকে কিছু বলতে না দিয়ে তূর্য আর ইমন তাকে টেনে যতির সামনে এনে দাঁড় করালো। যতি আহনাফের চোখে চোখ রেখে বলল,
“আমরা একই বয়সী। তাই আমি তোমাকে বুঝি। তুমি যেদিন জেনেছো, আমি তোমাকে পছন্দ করি, সেদিন থেকেই আমার কাছ থেকে দূরত্ব রাখছো। কারণ তুমি ভাবছো, আমার সাথে বন্ধুত্ব রাখলে আমি সেই বন্ধুত্বটা অন্যদিকে নিয়ে যাবো। আর তুমি প্রেম নামক ঝামেলায় জড়াতে চাও না, কারণ তোমার ব্যক্তিগত জীবন অনেক এলোমেলো, তাই না?”
তূর্য বলল, “একদম ঠিক। এটাই তো!”
আহনাফ চোখ গরম করে তূর্যের দিকে তাকালো। এবার যতি হাত এগিয়ে দিয়ে বলল,
“অন্তত আমরা বন্ধু থাকি।”
আহনাফ কিছুক্ষণ ভেবে হাত এগিয়ে দিয়ে বলল,
“আচ্ছা, আজ থেকে আবার বন্ধুত্ব শুরু করলাম। তবে শুধুই বন্ধু।”
যতি মুচকি হাসলো।
এদিকে অরুণিকাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। সে সকালে উঠেই স্কুলের নতুন জামা পরে বসে আছে। শতাব্দীর কাছ থেকে স্কুলের গল্প শোনার পর থেকেই তার স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ জন্মেছে। সে হাতে চিরুনি নিয়ে আরাফের সামনে দাঁড়িয়ে অরুণিকা বলল,
“আমার চুল বেঁধে দাও?”
আরাফ মুচকি হেসে যত্নের সাথে অরুণিকার চুল বেঁধে দিলো। এবার ইভান তার ব্যাগ গুছিয়ে দিলো। তাহমিদ অরুণিকার টিফিন তৈরী করে দিলো। তারপর অরুণিকা আরাফের হাত ধরে স্কুলে চলে গেলো। অরুণিকার স্কুল আরাফদের স্কুলের পাশাপাশি। অরুণিকাকে ক্লাসে বসিয়ে আরাফ বেরিয়ে এলো। এরপর দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো। অরুণিকা এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, আর সে বাকী বাচ্ছাদের দেখাদেখি ব্যাগ থেকে খাতা আর পেন্সিল বের করলো। আরাফ মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করে মুচকি হাসলো।
এদিকে অনেকদিন মাওশিয়াত ইমনের আশেপাশে ঘুরঘুর করেছে, আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার জন্য। তবে ইমন এতোদিন তূর্য আর ইভানের জন্যই মাওশিয়াতের সাথে কথা বলতে পারছিলো না। কিন্তু আজ সায়ন্তনী এসে ইভান আর বাকীদের বোঝায় হয়তো মাওশিয়াত সত্যিই পালটে গেছে। তাই তারাও মাওশিয়াতকে ক্ষমা করে দেয়৷ তবে মাওশিয়াত শুধু ক্ষমা পেয়ে সন্তুষ্ট ছিল না। সে ইভান আর ইমনের সাথে আবার বন্ধুত্ব করেই শান্ত হয়েছে। আজ মাওশিয়াত ছুটির পর সায়ন্তনীর কাছে এসে বলল,
“সায়ন্তনী, আমার কিছু কথা আছে।”
সায়ন্তনী অবাক কন্ঠে বলল, “কি কথা?”
“ইভান আর ইমন আমার বন্ধু। আর আমি চাই না, ওদের সাথে তোর কোনো বন্ধুত্ব থাকুক। এখন তুই আমার বন্ধুদের থেকে দূরে থাকবি।”
সায়ন্তনী কিছু না বলে চলে গেলো। এতো বছর পর সে এতোগুলো ভালো বন্ধু পেয়েছে, আর সে তাদের ছেড়ে দেবে? না, তা সে করবে না। আর মাওশিয়াতের কথা সে কেন শুনবে?
চলবে–
নিয়মিত নতুন রাইটারদের গল্প পেতে যুক্ত থাকুন আমাদের গল্পকথন গল্পের গ্রুপে
https://facebook.com/groups/348681567718045/

