#মৌনপ্রেম
#অয়ন্তিকা_রাফিয়াত_ঐশী
পর্বঃ ৩২ (ক)
(অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
📌“গল্পের এই অংশে যে ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়েছে তা কেবল কাল্পনিক ও কাহিনিচালিত। চরিত্রগুলি বাস্তব ব্যক্তির প্রতিরূপ নয়। তাই যেকোনো পরিস্থিতি পাঠকদের বিবেচনার অনুরোধ রইলো।”
——————————————
অয়ন্তির কবুল বলার পর পর কাজী সাহেবের সাথে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। তারপর মাহাদকে বলতে বললে সে বেশি সময় নেয় না। শীতল স্বরে সেও কবুল বলে দেয়।
ওদের বিয়েটা সম্পূর্ণ হলে সবাই নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করে। হঠাৎ -ই বাড়ির পরিবেশ ভীষণ খোশ আমেজপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিসেস আয়েশা আমিন আর মিসেস তাবিয়া মিষ্টি নিয়ে আসেন। কাজী সাহবেকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সবাই নিজেরাও একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ায়। কাজী সাহেবকে নিজের সম্মানী যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করা হয়। অন্তিক নিজেদের গাড়ি নিয়ে ড্রাইভারকে বলে দেয় যেন সঠিকভাবে উনাকে বাড়ি পৌছে দেওয়া হয়।
মেহেরিন, ইশি, দিথী ওরা সবাই মাহাদ অয়ন্তির সাথে নানান রকম ছবি তুলছে। বিয়ের মুহূর্তগুলো ওরা ভিডিও করেছে, ছবি আকারে ধারন করে রেখেছে। সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে পাশাপাশি বসিয়ে নানান রকম ভঙ্গিতে কাপল ছবি তুলছে। অয়ন্তি ভীষণ সংকুচিত হয়ে থাকলেও মাহাদ একেবারে সতঃস্ফূর্ত। তার মধ্যে অয়ন্তির সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসাতেও তেমন বিকার দেখা যাচ্ছেনা, অস্বস্তি তো না ই।
বড়রাও নিজেদের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। ছোটরা হইহল্লরে ব্যস্ত। এর মধ্যে ইরফান আর তোশা আসে। ওদের অন্তিক খবর দিয়েছিল অনেক আগেই। বাড়ি আসার তলব করেছিল। ইরফান বের হয়ে তোশাকেও বাড়ি থেকে নিয়ে আসছিলই। কিন্তু তোশা পাশে থাকলে তার মনে, মস্তিষ্কে, শরীরে নানানরকম চুলকানি আসে। সেই চুলকানির কারণেই ওদের আসতে দেরি হয়েছে।
সে ভাবে বের হয়েছে যখন তোশাকে নিয়ে একটা লং ড্রাইভ দিলে কেমন হয়! যদিও তা তোশার অসম্মতিতে। সে ওর সম্মতি নিয়ে কোনো কাজ করেছে নাকি আজ অব্দি। নিজের যা ইচ্ছে তাই তো করেছে। সে যায় হোক, তোশা রেগে যাচ্ছিল দেখে ইরফান আরও এঞ্জয় করে পুরো রাইডটা। তোশা যতো রাগে, ইরফান ততো আত্মিক শান্তি পায়। রেগে মেগে কতো গা লাগা ল করেছে সে এই ছেলেটাকে। কিন্তু গন্ডারের শরীরের মতো কোন কথায় গাঁয়ে লাগায়না গোয়ারটা। তোশা জেদে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। কিন্তু বেয়াদবটা নির্লজ্জ্বের মতো হেসে গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর বেপরোয়াভাবে, ফুল স্পিডে ড্রাইভ করে পুরো শহর চক্কর দিয়ে এসেছে তোশাকে নিয়ে। তোশার আফসোস, মম ড্যাডের কথা শুনে সে কেন যে এই পা র্ভা র্টটার সাথে বের হয়েছিল?
তোশা পুরো জার্নিতে ভীষণ আতঙ্কে ছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি কোনো গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে উল্টিয়ে দিলো। নাহয় তাদের গাড়ির চাকা খুলে গিয়ে এই বোধ হয় তারা এক্সিডেন্ট করলো। অতিরিক্ত আতঙ্কে সে কয়েকবার অনুরোধ করেছে ইরফানকে, যেন গাড়ি আস্তে চালায়। কিন্তু ইরফান একে একে গাড়ি ওভারটেক করে করে উত্তর দিয়েছে ওর ভয় পাওয়া, আতঙ্কিত চেহারা দেখতে তার ভালো লাগছে, তাই এভাবে চালাচ্ছে সে। আর এভাবে না চালালে অন্তিকদের বাড়ি পৌছাতে দেরি হয়ে যাবে। তখন তোশা রেগে চলন্ত গাড়িতে ইরফানের ড্রাইভ করা অবস্থায় ওর বুকে, বাহুতে ঘুষি দিয়ে বলে,
“তুই দেরি হওয়ার চিন্তা থাকলে ওবাড়ির রাস্তা না ধরে অন্য রাস্তা ধরেছিস কেন? শা লা কুকুর, শুয়োর, তোর এখন দেরি হয়ে যাবে সে চিন্তা হচ্ছে। বেয়াদব কোথাকার। তোর শরীরে কিসের মাংস হ্যা? একটা কথাও গাঁয়ে লাগেনা তোর? কুত্তা, স্পিড কমা গাড়ির। যাব না আমি কারো বিয়েতে। তুই গাড়ি থামা। এখান থেকেই আমি বাড়িতে ব্যাক করবো। গাড়ি থামা বলছি।”
তারপর আরও দুই/একটা বিচ্ছিরি গালি দিয়ে ওর মাথার চুলগুলোও টেনে দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে কোনরকম নিজেকে শান্ত করতে চায়। কিন্তু গাড়ির স্পিড তখনো কমায়নি ইরফান। তাই চাইলেও গাড়িতে ঐ ধাক্কাধাক্কি আর এলোমেলো অবস্থায় শান্ত হতে পারেনা। ইরফান মাথা ঝাকিয়ে চুলগুলো ঠিক করার প্রয়াস করে, তারপর চলন্ত গাড়ির শাঁ শাঁ আওয়াজের সাথে জোরে জোরে বলে,
“এই যে আমাকে থামাতে এতো বেকার পরিশ্রম করলি, এর চেয়ে যদি ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে সুন্দর করে বলতি তাহলে আমি টেম্পটেড হয়ে হলেও হয়তো গাড়ি থামিয়ে দিতাম। কিন্তু আফসোস, মেয়ে মানুষের স্বভাব কাজের কাজ না করে হাউকাউ করা। নে আবার জংলি বিড়ালের মতো না করে পানি খেয়ে শান্ত হ। নাহয় তোর লাল লাল গাল দুটো, আর ঠোঁট দুটো খেয়ে আমি নিজেকে শান্ত করবো।”
গাড়ির ডেস্ক থেকে এক হাতে পানির বোতল নিয়ে সেটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে ইরফান। তোশা টেনে নেয় বোতলটা। তারপর নিজে কিছুটা খেয়ে বাকিটা হঠাৎ ইরফানের দিকে ছুড়ে মারে। ইরফান ওর এমন আক্রমনে মাথাটা সামান্য হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। সাথে সাথে ভীষণ বিপজ্জনক ভঙ্গিতে বাক ঘুরিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিয়েছে সে। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাঝরাস্তা থেকে একদিকে এনে গাড়ি থামানোতে জোরে এক ধরণের আওয়াজ হয়। সে শব্দে যে কারো মনে হবে গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে এ ক্সি ডেন্ট করেছে। কিন্তু গাড়িতে থাকা মানব মানবীর কিছু আসলো গেলনা তাতে, তারা শান্ত। ইরফান তখন চোখের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় হঠাৎ কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। গাড়ি সাইড করে থামিয়ে চোখ মুছে সে এক হাতে। তারপর মাথা ঝাকিয়ে তোশার দিকে তাকায়। ইরফানের চোখ লাল হয়ে আছে। বেশ বাজে ভাবে পানি ঢুকেছে তখন চোখের ভেতর, বোঝায় যাচ্ছে। তবে তোশার মনে হলো ইরফান রেগেও গিয়েছে। তার লাল চোখ দেখে কিছুটা আফসোস, আর রেগে গিয়েছে ভেবে কিছুটা ভয়ও হয়। কিন্তু সে কোন কথা বলেনা। শক্ত মুখেই বসে থাকে।
ইরফান ওর দিকে তাকিয়ে কিছু বলেনা, তবে ওর গাঁয়ের উর্ণাটা নিয়ে নিজের মাথা আর শার্টের ভেজা অংশ মুছতে থাকে। তোশা ওর উর্ণা নিয়ে নেওয়াই কিছু বলতে গিয়েও বলে না। পেছন থেকে চুলগুলো সামনে এনে দিয়ে আবার শক্ত মুখে সামনে তাকিয়ে বসে থাকে। তোশা যদিও সবসময় উর্ণা পরেনা। কিন্তু আজকে যে ড্রেসটা পরেছে সেটার গলা একটু বড় ধরণের, তাই উর্ণা নিয়েছিল। তবে রাগের মাথায় যে কাজ করেছে, তার পর আর উর্ণা নিয়ে নেওয়ার জন্য কথা বাড়ায়না সে।
তখন যদি এ ক্সি ডেন্ট হয়ে যেতো? তাহলে এই মুহূর্তে কি অবস্থায় থাকতো ওরা? এতক্ষণে গালে যে একটা থাপ্পর বসিয়ে দেয়নি সেটাই অনেক বেশি।
তাই সে চুপচাপ বসে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু খোলা রাস্তায় থাকায়, বাতাসের সাথে চুলগুলো ভীষণ উড়ছে। থাকছেনা ও যেভাবে দিয়েছিল সেভাবে। তাই কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছে। আড় চোখে ইরফানের দিকে তাকিয়ে দেখে সে মনোযোগ দিয়ে চুল মুছছে। শাঁর্টের বোতাম খুলে দিয়েছে যাতে শুকিয়ে যায়। তাছাড়া ভেজা শাঁর্ট গাঁয়ে পরে থাকলে অস্বস্তি হবে স্বাভাবিক। তোশার উর্ণা দিয়ে চুল মুছে সেটা কোলে রাখে সে। তারপর হাতে চুলগুলো নেড়েচেড়ে তোশার দিকে তাকায়।
শান্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিতে নিবে, তখন হঠাৎ আবার ওর দিকে তাকায়। সোজা চোখ দেয় ওর বুকে। তোশা ইরফান গাড়ি স্টার্ট দিবে ভেবেছিল, তা না হওয়ায় সেদিকে তাকালে ওর দৃষ্টি দেখে শিউরে উঠে। তাড়াতাড়ি চুল আবার ঠিক করে দেয়। বিরক্ত হয়ে বলে,
“উর্ণা দে।”
ইরফান ওর উর্ণা কোল থেকে তুলে নিজের অপর সাইডে সিটের সাথে গুঁজে রাখে। অর্থাৎ প্রশ্নই উঠেনা। তোশা এমন কাণ্ড দেখে দাঁতে দাঁত চাপে। কোথায় ভেবেছিল ওকে পানি মারায় রেগে গিয়ে দুই/একটা কথা শুনাবে, তা না এর মধ্যে কোন বিকারই নেই সে বিষয়ে। এখনো স্বাভবতই আচরণ করছে। আজ যদি ওর বোকামির জন্য এক্সিডেন্ট হতো? ম রে যেতো? বা জীবিত থেকেও মৃ তের মতো অবস্থা হতো কোনপ্রকার প ঙ্গুত্ব নিয়ে? তাহলে? একটুও রাগ হচ্ছেনা ওর উপর এখনো? এ কেমন ছেলে?
“ওটা লুকিয়ে রেখেছিস কেন? দিতে বলেছি আমি?”
“ওটার দরকার নেই। চুপচাপ বসে থাক।” ইরফান গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলে।
তোশা আবার চুল ঠিক করতে করতে বলে,
“দরকার আছে নাকি নেই সেটা আমি বুঝব। তুই উর্ণা দে।”
ইরফান একবার ওর দিকে ফিরে কিছু বলতে। তবে চেহারার দিকে না তাকিয়ে উন্মুক্ত বুকের অংশেই তাকায়।
“তোর দরকারের চিন্তা করে আমার লাভ কি? আমিতো আমার চিন্তা করবো রাইট? আমি কতোটা সেলফিস জানিস না?”
ইরফানের বেহায়া দৃষ্টি দেখে তোশার রাগ হয়। ঘেন্না নিয়ে তাকায়, তবে কিছু বলেনা। নিজেকে সংযত করে সম্পূর্ণ জানালার দিকে মুখ করে বসে থাকে। ও যে এত ঘৃণা নিয়ে তাকালো তাতেও যে ছেলের কিছু যায় আসলোনা। সে ছেলেকে আর কি ই বা বলবে।
“এমন ভাব করছিস যেন প্রথমবার দেখছি। ওসব ইঞ্চি ইঞ্চি অংশ আমার দেখা, সাইজসহ জানা। এখনো চোখে ভাসে আমার।”
তোশা চোখ খিচে বন্ধ করে নেয় ইরফানের কথা শুনে।
সেসব দিনের কথাগুলো ভেবে চোখ দিয়ে এক ফোটা পানিও গড়িয়ে পরে।
“শরীরে খুব জ্বালা তাইনা তোর?” তোশা
ইরফান বুঝে যায় এর পর কি বলবে এই মেয়ে। তবে সেসব তোয়াক্কা না করে নিজের মতো বলে,
“হবে না? বয়সের একটা ব্যাপার আছে না? এটাইতো শরীর জ্বালা করার উপযুক্ত বয়স। সবারই তো ফিজিক্যাল নিডস থাকে রাইট? সেখানে আমি আছি খাপে খাপ একটা বয়সে।”
তোশা ইরফানকে চরম অপমান করে কিছু বলবে ভেবেছিল। কিন্তু ওর লাগামছাড়া কথা শুনে বিস্ময়ে কিছু বলতে পারেনা।
ইরফান আবার বলে,
“আচ্ছা, আমি নাহয় রোজ রাতে তোর আমার ঐ ফেক ভিডিও দেখে হলেও নিজেকে সামলায়। মাঝে মাঝে তোর ন্যু ডস গুলোও দেখি। কিন্তু তুই কিভাবে সামলাস নিজেকে? মেয়ে ছেলে সবারই তো ফিজিক্যাল নিডস থাকে তাইনা? তুই কিভাবে সামলাস জানার আমার ভীষণ ইচ্ছা ট্রাস্ট মি। পারলে একদিন ভিডিও কল দিস রাতে। ওয়েট! তোকে তো আমি ঐ ভিডিও টা পাঠিয়েছিলাম এনগেজমেন্টের দিন। তুইও কি ওটা দেখিস নাকি? মাই গড! তার মানে দুজন দুজনকে সেইমভাবে কল্পনা করে দুপ্রান্তে কাতরাচ্ছি। এর চেয়ে একসাথে হয়ে গেলেও হয়। বাস্তব ফিল পাবি। দুজনেরই লাভ।”
তোশা ইরফানের সব কথা শুনেনি। এর আগেই কাঁঁদতে শুরু করেছে অপমানে লজ্জ্বায়। লুকিয়ে লুকিয়ে না। খোলামেলাভাবেই কাঁদছে। কাকে লুকিয়ে কাঁঁদবে সে? পাশে বসা ছেলেটার থেকে? যার কাছে ওর কোন সম্মান নেই। কিছু লুকানোর নেই। মেয়ে হিসেবে নুন্যতম লজ্জ্বাটুকু যার কাছে উজাড় হয়ে আছে না চাইতেও। এই একটা ছেলেকে ভালোবেসে সে নিজের আত্মসম্মান, ইজ্জত সব হারিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও অবুঝ কিশোরীদের মতো জী বন শেষ করতে গিয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে চিকিৎসা করেছে, লাভ হয়নি বলে সাইকোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হয়েছে। মৃ ত্যু কোন সমাধান নয় তাও বুঝে এখন। আর সে পথে যাওয়ার মানেও হয়না।
কিন্তু ওটা সমাধান না হলে এসবের আসল সমাধানটা ঠিক কি? কি করলে মুক্তি পাবে?
মুক্তি?? কিন্তু সে মুক্তি চাইনা। ইরফান কি করলে ওকে বুঝবে? সেই সমাধান চাই ওর। কারণ এই ছেলেকে ছাড়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। বছর বছরের ভালোবাসা, চাইলেই শেষ হয়না। শত আঘাত পেয়েও শেষ হয়নি? তাই আর শেষ করার চেষ্টাও করেনা এখন। কিন্তু ইরফান যদি ওকে বুঝতো একটু…… একটু ভালোবাসতে জানতো। তাহলে এক মিনিটও সময় নিতোনা সব ভুলতে। কিন্তু এতো টক্সিক একটা মানুষ। কিভাবে বদলাবে সে? রিহ্যাবিটেশন থেকে ফিরেও সে অপরিবর্তীত। ওর মৃ ত্যুর পদক্ষেপের কথা শুনেও সে অপরিবর্তীত। তাহলে কিভাবে বদলাবে সে? কিভাবে বুঝাবে ভালোবাসার মানুষকে কিভাবে আগলে রাখতে হয় তা…… কোন কথায় সে কষ্ট পায়, সেসব কিভাবে বোঝাবে? জোরে জোরে কাদঁছে সে। একটুও আটকানোর প্রয়াস নেই নিজেকে।
ইরফানও আটকাচ্ছেনা। কাদুক, ওর সামনে বসে বসে কাদুক। ওর কথায় কষ্ট পেয়ে কাদুক, ওর ভালোবাসার যন্ত্রণায় কাদুক। এসব মাতব্বরি করে দুনিয়া ছাড়তে চাওয়ার শাস্তি। মাসের পর মাস ওকে চার দেয়ালে বন্ধি রেখে বিদেশ ঘুরার শাস্তি। ওর কোন খবর না নেওয়ার শাস্তি। অন্য কারো সাথে এনগেজমেন্টে মত দেওয়ার শাস্তি। আর এ শাস্তি সেদিন শেষ হবে, যেদিন সুন্দরমতো তাকে বিয়ে করবে।
মুখে হাত দিয়ে অনবরত কাঁদতে থাকা তোশার দিকে তাকিয়ে মুখে শিষ বাজাতে বাজাতে ড্রাইভিং এ মনোযোগ দেয় সে।
মাঝে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে দাড়ায়। উর্ণাটা ওর গাঁয়ে মেলে দিয়ে পাঠায় ফ্রেশ হয়ে আসতে। নিজেও ততক্ষণে ওকে পাহারা দিতে দিতে একটা সি গা রে ট টানে। তারপরে ফ্রেশ হয়ে আসলে হাত ধরে আবার নিয়ে এসে রওনা দেয়।
এখন তারা সরোয়ার বাড়িতে পৌছেছে। তোশাও নিজেকে সামলে নিয়েছে ততক্ষণে।
কান্নার ছাপ কিছুটা থাকলেও নিজেদের মধ্যকার হইহল্লরে আর ব্যস্ততায় সেসব আর কেউ খেয়াল করেনি। ওরা এলে নাস্তা করে বাকিদের সাথে যোগ দেয়। এতো দেরি করে এসেছে কেন জানতে চেয়েছিলেন অবশ্য অন্তিকের মা। কিন্তু ওরা কোনরকমে কাটিয়ে দিয়েছে সে কথা।
সময়টা রাত ৮ টার দিকে। নিচের হইহল্লর শেষে মেহেরিন, দিথী, ইশি সহ ছেলেরা মিলে ওদের বাসর সাজানোর প্ল্যান করে। দিগন্তকে দিয়ে ফুল আনিয়েছে। প্ল্যান মূলত ইরফানের। তার কথামতো হচ্ছে সব। কাউকে বুঝতে না দিয়ে এসব করছে তারা। মাহাদ আর অন্তিক বাবাদের সাথে বসেছে। অয়ন্তিকে কখন নিয়ে যাওয়া হবে, কিভাবে কি করলে ভালো হবে সেসব আলোচনা চলছে। অয়ন্তিকে এর মধ্যে দাদি উপরে নিয়ে যেতে বলেছিলেন, ফ্রেশ হয়ে নিতে। কিন্তু মেহেরিনরা ওকে নিজের রুমে না নিয়ে ইশির রুমে রেখে এসেছে। আর ফ্রেশ হতে তো একদম মানা। বউ হয়ে চুপটি করে বসে থাকার আদেশ আছে।
সেও বসে থাকে। এমনিতেও বাধ্য মেয়ে, তার উপর বিয়েটা হওয়ার পর তার মধ্যে লজ্জ্বার শেষ নেই ভাই বোনদের সবার সামনে। তাই যে যা বলছে চুপ করে শুনছে সে।
ইরফানের তদারকিতে অয়ন্তির রুমে বাসর সাঁজানো হয়। মেহেরিনকে অয়ন্তি একা বসে আছে বলে তার কাছে পাঠানো হয়। বাকিরা বাসর সাজায়।
অয়ন্তির সাথে মেহেরিন গল্প করছিল, ভাবি ডেকে লজ্জ্বায় ফেলছে। নানান দুষ্টুমি করছে। এর মধ্যে সে হঠাৎ বলে উঠে,
“বুঝলি অয়ন্তি? আমি তোর ভাবি হতে না পারলেও তুই আমার ভাবি হয়ে গেলি। কি সৌভাগ্য আমাদের তাইনা? আমাদের মধ্যে ননদ-ভাবি সম্পর্কটা আগে থেকে ঠিক করা ছিল। শুধু আমাদের কল্পনার একটু পরিবর্তনের সাথে। তাও ভালো, কি বলিস?”
অয়ন্তি মেহেরিনের কথা শুনে হাসে।
“আমি তোর ভাবি হলে আমাকে জ্বালাবি বলতি মনে আছে? এবার আমি শোধ তুলবো, দেখে নিস।” কথাটা বলে আবার হেসে উঠে মেহেরিন আর অয়ন্তি।
প্রাণেশা দরজায় দাড়িয়ে ওদের সে কথাগুলো শুনে। ভীষণ অবাক হয় সে। এসব কোন ধরণের কথা? মেহেরিন আপু অয়ন্তি আপুর ভাবি হতে চেয়েছিল মানে? তার স্বামীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল? কিন্তু একথা তো সে কারো কাছে শুনেনি। তার মানে মেহেরিন আপুর মা প্রথম প্রথম যে ওকে কঠোরভাবে দেখতো সেসব এ কারণে? বাড়িতে কি সবাই ওদের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল? আর সেটা হয়নি বলে ওকে তেমন একটা পছন্দ করতোনা? নাকি মেহেরিন আপু আর উনার আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল?
প্রাণেশা শুরু থেকে ভাবে। অন্তিক ওকে পছন্দ করত না আগে। তবে বার বার কাছে আসতে চাইতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সেদিন ওকে বিয়ে মেনে নিতে বলে। তখন ওর মধ্যে সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে গেলেও, হঠাৎ ওকে মেনে নেওয়ার কারণ এখনো বলেনি। ওকে ভালোবাসে এমনটা বলেনি। আর শুরুতেই বা কেন মানতো না সেটাও না। যদি সে কথা বলতে পারেনা বলেই হতো, তাহলে এখন কেন মানলো? এখনো তো সে বোবাই। তার মানে এ কারণে মানতো না এটা ঠিক হলেও অন্য কারণও ছিল। আর সেটা মেহেরিন আপু হতেই পারে। সে নিজের মুখেই তো বলছে অয়ন্তির ভাবি হতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। তার মানে উনারা একে অপরকে ভালোবাসতো? তাহলে এখন নিজের ভালোবাসা ভুলে ওকে মেনে নিলো কেন?
ওর ভাবনার মধ্যে মেহেরিনের চোখ পরে এদিকে। ওকে দেখে অপ্রস্তুত হয়। অয়ন্তিও দেখে। ওরা ভয় পেয়ে যায় কোথাও শুনে নিলো কিনা। কিন্তু প্রাণেশা তার হাতে থাকা খাবারটুকু নিয়ে রুমে প্রবেশ করে, শান্তভাবে সেসব খেয়ে নিতে বুঝিয়ে চলে যায়। মিসেস আয়েশা আমিন মেয়ের জন্য খাবার পাঠিছিলেন তাকে দিয়ে। কিন্তু এসে এমন কিছু শুনতে পাবে ভাবেনি।
ওকে কোন রিয়েক্ট করতে না দেখে তারা ভেবে নেয় প্রাণেশা কিছু শুনেনি।
—————————
অয়ন্তিকে রুমে পাঠানো হয়েছে। সে এখন বিছানায় বসে আছে। তখন প্রাণেশা কিছু শুনেনি ভাবলেও এখন কেন জানি মনে হচ্ছে সব শুনেছে মেয়েটা। ভাই ভাবির মধ্যে আবার এসব নিয়ে ঝামেলা না হয় তা নিয়ে টেনশন হচ্ছে তার। এই তো সেদিন সব ঠিক হলো।
আবার তাদের দোষে সেখানে কোনরকম ঝামেলা সৃষ্টি হলে সেটা মোটেও ভালো হবেনা।
এসব ভাবনার মধ্যে মাহাদ রুমে প্রবেশ করে। তবে অয়ন্তির সেদিকে খেয়াল নেই। তার তো রুমে যে ফুল দিয়ে বাসর সাজানো হয়েছে সেদিকেও খেয়াল নেই। সে এসেছিল রুমে বোনেদের সাথে। সবাই ওর সাথে দুষ্টুমি করে চলে গেলে সে বিছানায় বসে একটু আরাম করে। ভেবেছিল একটু বসে ফ্রেশ হয়ে নেবে। বসে ভাবির কথা ভাবছিল। এর মধ্যে মাহাদ এসেছে।
মাহাদকে আসতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হয়েছে। তারা সবাই খেয়েধেয়ে বসলে, নানী বলে সে যেন উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়। এখন উপরে বলতে কোন রুমে বুঝিয়েছে তাও সবাই বুঝতে পেরেছে। তাই সে খেয়ে সবাই যার যার রুমে চলে গেলে নিজেও বউয়ের রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। কিন্তু রুমের বাইরে ইরফান ভাই পুরো বাহিনী নিয়ে দাড়িয়ে ছিল। ভেতরে নাকি ফুলের বিছানায় সুন্দরী ললনা আছে। এতো সহজে ঢুকতে দেওয়া যাবেনা। মাহাদ এর মধ্যে এরা বাসর কবে সাজালো ভেবে অবাক হলেও মনে মনে খুশি হয়। কথা না বাড়িয়ে যা চাচ্ছে তা দিয়ে চলে এসেছে। এতে আবার তারা বিরক্ত। আরেকটু মজা করবে ভেবেছিল। কিন্তু সে কোন কথা না বাড়িয়ে দাবি পূরন করে দিয়েছে। এটা কোন কথা? বেশি কথা বাড়ালেও তাদের সমস্যা আবার কথা না বাড়িয়ে দিয়ে দিলেও তাদের সমস্যা।
মাহাদ রুমে ঢুকে বিছানায় বসে থাকা অয়ন্তির দিকে তাকিয়ে দরজা লাগায়। অয়ন্তি এখনো মাহাদের উপস্থিতি টের পায়নি। সে নিজ ভাবনায় মশগুল। দরজা লাগানোর শব্দে ঘাড় কাত করে তাকালে মাহাদকে দেখে থমকে যায়।
“ত তুমি? এখানে?”
মাহাদ কোন কথা বলেনা। ওর আতঙ্কিত মুখটা দেখে।
অয়ন্তি আবার বলে,
“তুমি এখানে কেন মাহাদ ভাই?”
মাহাদ ভ্রু তুলে বলে,
“তো কোথায় যাবো?”
অয়ন্তি ঘামছে।
“না মানে, তুমি এখানে এসেছ……ক কে আসতে বলেছে? বাবা, মা, ভাইয়া ওরা জানে?”
“তোর বাবা, ভাইকে জিজ্ঞেস করে তোর কাছে আসতে হবে এখন?”
“তাহলে তুমি কেন এসেছ?”
“একটু আগে নগদ বিশ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে তোকে বিয়ে করেছি তোর বাপ ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে তোর কাছে আসতে?”
“তোমার কথার ছিরি এমন কেন? সবসময় আমার বাবা আর ভাইয়াকে কথা শুনাও।” অয়ন্তি বিরক্ত হয়ে বলে।
“তো তোর বাবা, ভাইকে কি প্রণাম করবো? তোর ভাই শেষে এসে বিয়ে আঁটকে দেওয়ার ধান্দায় ছিল দেখিসনি? আমার তখন ইচ্ছে করছিল ভাবিকে তার মামার বাড়ি গিয়ে রেখে আসতে।” তারপর বিরক্ত ভঙ্গিতে হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে ভাবে মামাটাও সেইম। শুরু থেকে আপত্তি করতে চাচ্ছিল। মামী না থাকলে আজকে কি যে হতো।
“আর তখন যে তোমার নাম করলো, সেসব চোখে পড়েনা? আমার ভাই তোমার সামনে পেছনে নামই করে, তুমিই খালি ওদের দোষ খুঁজে খুঁজে পেছনে লাগো।”
মাহাদ বিরক্ত চোখে তাকায়। এই মেয়ে শুধু বাপ ভাইয়ের সাফাই গাইতে গাইতে থাকে। আর এখন থেকে সারাজীবন তাকে সেসব শুনেই কাঁটাতে হবে। সে ভাবে অভ্যাস করে নিতে হবে এখন থেকেই। মাহাদ কোন উত্তর না দিলে অয়ন্তি চোখ ফিরিয়ে নিবে তখন চোখ পরে দরজায়। লক করে দিয়েছে ভেতর থেকে।
তাকে এমন শক্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মাহাদ চোখ তুলে তাকায়। অয়ন্তি আতঙ্কিত স্বরে বলে,
“দরজা বন্ধ করেছ কেন?”
মাহাদ পেছন ফিরে একবার বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
“করব না?”
অয়ন্তি উত্তর না দিলে মাহাদ আবার বলে,
“স্বামী স্ত্রী একসাথে রুমে থাকলে দরজা লাগিয়ে দিতে হয় জানিস না?”
অয়ন্তি স্বামী স্ত্রী শুনে কেপে উঠে।
“স্বামী স্ত্রী?” কাপা কাপা গলায় বলে।
“হ্যাঁ, একটু আগে কবুল বললি মনে নেই?”
অয়ন্তি লজ্জ্বায় চোখ নামিয়ে নিতেই চোখ পরে ফুলের বিছানায়। সে ভীষণ অসহায় বোধ করে এবার।
“ফুল কেন?” লজ্জ্বায় যেন কেদে দেবে এমন ভাব তার।
মাহাদ সামনে এগিয়ে আসতে আসতে বলে, “বাসরের খাট ফুল দিয়ে সাজানো হয়, তাও ভুলে গেছিস?”
“বাসর?? মাহাদ ভাই!!……” ভীষণ অসহায় কণ্ঠে ডেকে উঠে।
“কি?”
“এসব কথা কেন বলছ? আজকের রাতটা অন্য কোথাও থাকতে পারতে।” অয়ন্তির বুক ধরফর করছে। দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সবাই যে বাসর সাঁজিয়েছে তাও সে জানতো না। রুমে এসেও খেয়াল করেনি। করলে এসব ফুল ঝেড়ে ফেলে দিত। কিন্তু বেখেয়ালে চোখ পরেনি সেদিকে। এখন অসহায় লাগছে। গা শিউরে উঠছে এসব দেখে।
মাহাদ অয়ন্তির অবস্থা বুঝতে পারে। ওর ভীষণ কাছে এসে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,
“আজকের রাতটাই তো একসাথে থাকার রাত আমাদের। অন্য কোথাও কেন থাকব?”
মাহাদের হঠাৎ এমন কাছে আসায়, চুমু খাওয়ায় অয়ন্তির শরীর অবশ অবশ লাগছে।
মাহাদের বুকে হাত দিয়ে শাঁর্ট আকড়ে ধরে বলে,
“কি করলে এটা…”
মাহাদ ওর গালে আরেকবার ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে,
“কি করলাম?”
‘মাহাদ ভাইই…………”
মাহাদ শাড়ির ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে কোমরের উন্মুক্ত অংশে রাখে। ওকে কাছে টেনে বলে,
“একটু আগে বিয়ে হয়েছে আমাদের। বারবার ভাই ডাকবিনা”
“আমি দাড়াতে পারছিনা, মনে হচ্ছে পড়ে যাব।”
সাথে সাথে মাহাদ ওকে কোলে উঠিয়ে নেয়।
“পরবিনা, আমি আছি”
“তুমি এমন কেন করছ?” কাপা কাপা গলায় বলে অয়ন্তি।
“কারণ বউ তুই এখন আমার।”
“আমার ভয় লাগছে”
“কেন?”
“আমাকে নামিয়ে দাও। আমি ফ্রেশ হয়ে ঘুমাব।”
“আমি সব করে দিচ্ছি।”
“না, প্লিজ”
মাহাদ উত্তর দেয়না।
“আমি ম রে যাব। প্লিজ না।” অয়ন্তি
“হুশ!! আমি আছি, কিছু হবেনা। ট্রাস্ট মি।”
———————
মেহেরিন থেকে গেলেও সকাল সকাল এ বাড়ির দুই জামাইসহ এক মেয়ে চলে গিয়েছে। মাহাদ আর তার বাবার আজকের দিনটা ফ্রি থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। রাতেই আরেকটা মিটিং ফাইনাল হয়। আর সকাল সকাল চলে গিয়েছে দুজনে। মাহাদের মাও চলে গিয়েছেন স্বামী, ছেলের সাথে। রয়ে গিয়েছে শুধু মেহেরিন। অয়ন্তির উঠতে অনেক দেরি হয়। সে উঠে নিচে আসলে দেখে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কেউ তার দিকে তেমন মনোযোগ দেয়না। ইচ্ছে করেই, যাতে মেয়েটা অস্বস্তি বোধ না করে। সে নিচে আসতে আসতে সবাই নাস্তা করে নিয়েছে। এখন নিজেদের কাজে মগ্ন।
নীরবে ডাইনিং থেকে খেয়ে উঠে উপরে চলে যেতে নিলে সোফায় বসে থাকা দাদি ডেকে উঠে। সে ইতস্তত করে পাশে যায়। দাদি ওকে বসতে বলে।
“কেমন হলো অভিজ্ঞতা?”
অয়ন্তি মেকি রাগ দেখিয়ে লজ্জ্বা পেয়ে উঠে চলে যেতে চায়।
“আরে আরে বসো নাতনি। এতো লজ্জ্বা পেতে হবেনা আমার কাছে। সব জানি, বুঝি। তোমার সময় কাটিয়ে এসেছি।”
“বুড়ো বয়সে এসেছ, তাও শয়তানি যায়নি তোমার। তাছাড়া তোমরা সবাই মিথ্যুক। আমি আর কারো সাথে কথা বলব না।”
“এতো বড় অপবাদ? কি মিথ্যাচার করেছি আমরা, বলো বলো।”
“করো নি? আমাকে সময় দেবে। এখন কি সংসার শুরু হচ্ছে নাকি যে ভয় পাচ্ছিস? আরও কতো কি বলেছিলে। তাহলে কালকে মাহাদ ভাইকে আমার রুমে পাঠালে কেন?”
“আমার ভাইজান আদর সোহাগ বেশি দিয়ে ফেলেছে নাকি? এক রাতেই এতো অভিযোগ? দুদিন পর দেখবো বরকে ছাড়া বাপের বাড়ি থাকতেও আর ভালো লাগবেনা। এখন করে নাও যতো অভিযোগ করার। আর শুনো, বরকে ভাই ডাকতে নেই। আল্লাহ্ পাপ দেবেন।”
“তুমিও তোমার নাতির মতো অশ্লীল। তোমার সাথে কথা বলে লাভ নেই।”
“বাবা, সে অশ্লীল তাও জেনে গেলে এক রাতে?”
অয়ন্তি এবার উঠে চলে যেতে চাইলে দাদি হাত ধরে আবার বসান। তারপর সিরিয়াসভাবে বলেন,
“ওষুধ খেয়ে নিও, আজকে রাতে মাহাদ নানুভাই আবার আসবে। আমি বলে রেখেছি যাওয়ার সময়। তাকে নিয়ে আসতে বলবে। লজ্জ্বা লাগলে আমাকে বলো। আমি নিয়ে আসতে বলবো।”
“দাদি……” লজ্জায় আরক্ত অয়ন্তি কাতর স্বরে ডেকে উঠে
“আমি জানি আমি তোমার দাদি, নতুন কিছু জানাও। পারলে নানী শাশুড়ি ডাকো। আর শুনো, আমি মজা করছিনা। তোমাকে ওবাড়িতে যখন রিসিপশন হবে তখন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাচ্চা হয়ে গেলে তোমাদের জন্যই সমস্যা। অপ্রস্তুত হবে সবার সামনে। তাছাড়া এ বিষয়টা দেখতেও সুন্দর দেখায়না আমাদের সমাজে। যদিও আল্লাহর ইচ্ছার আগে কোন কথা নেই। কিন্তু আমি তোমার দাদি, তোমার ভালো চাই দেখে পরবর্তীতে যেন লজ্জ্বায় না পড়ো তাই আগে থেকে সাবধান করে রাখলাম।”
অয়ন্তির লজ্জ্বায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। তাও মিনমিন করে কোনভাবে বলে,
“ওসব কিছু হয়নি দাদি, তুমি ভুলভাল ভাবছ।”
“আচ্ছা?” অয়ন্তির দিকে ফিরে ওকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলে
“হু”
“ঠিক আছে।”
অয়ন্তি আর দাড়ায়নি। আস্তে আস্তে উঠে পালিয়েছে কোনভাবে।
চলবে………
(ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ সমস্যায় আছি। তাই দেরি হচ্ছে গল্প দিতে। বোনকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন প্লিজ। আর আপনাদের রেস্পন্স কাম্য। গল্পের কোন বিষয়বস্তু নিয়ে আক্ষেপ থাকলে কিংবা খারাপ লাগা থাকলে মনে পুষে না রেখে জানাবেন। আমি আপনাদের খারাপ লাগা অবশ্যই বিবেচনা করবো।)

