আমার উপমা তুমি (২১) আফরোজা আঁখি

0
35

আমার উপমা তুমি (২১)
আফরোজা আঁখি

সুফিয়া বেগম আর ইয়াশ দাঁড়িয়ে আছে পাশাপাশি। ইয়াশ ছাদে এসেছে অনেকক্ষণ। সুফিয়া বেগম এসেছিলেন রোদে শুকাতে দেওয়া কাপড় নিতে, তখনই দেখলেন ছেলেকে। ইচ্ছে হলো কথা বলার। কতদিন হলো আম্মু ডাক শুনেন না ইয়াশের মুখে! নিজেই গিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ইয়াশের। ইয়াশ দেখল কিনা সন্দেহ, নীরব রইলো সে। সুফিয়া বেগম প্রথমে কথা না বললেও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর নীরবতা ভেঙে বললেন তিনি,

“আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই ইয়াশ। সময় আছে তোমার?”

ইয়াশ আগের মতো দাঁড়িয়ে থেকেই উত্তর দিল সুফিয়া বেগমের কথায়,—-“শুনছি।”

“আমার প্রতি তোমার এত রাগ কেন ইয়াশ? আমাকে আম্মু বলে ডাকতে মুখে বাধে তোমার? আমার কি ইচ্ছে করে না তোমার মুখে আম্মু ডাক শুনতে! কেন এত দূরত্ব বাড়ালে এই বাড়ি আর বাড়ির মানুষগুলোর সাথে?”

ইয়াশ আলতো হাসল। তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,

“তোমার তো বয়স কম হয়নি আম্মু, রাগ আর অভিমানের মধ্যে ফারাক বুঝতে পারো না?”

কথা নেই সুফিয়া বেগমের মুখে। ইয়াশের কথার মানে কি এটাই, যে সে অভিমান করেছে মায়ের উপর? সুফিয়া বেগমের চুপসে যাওয়া মুখটা দেখে হাসি পেল ইয়াশের। ছাদের রেলিঙে ভর দিয়ে তাকাল আকাশপানে, দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল উনাকে,

“আমারও তোমার স্নেহ পেতে ইচ্ছে করত, আম্মু। প্রচণ্ড জ্বরে গা পুড়ে গেলে, একা রুমে শুয়ে থেকে বিড়বিড় করে আমি তোমাকেই ডাকতাম, আশা করতাম তুমি আসবে, মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেবে, নিজ হাতে ভাত মেখে খাইয়ে দেবে আমাকে। তুমি কি এসব কখনো করেছো? তোমার সব ভালোবাসা তো ছিল কেবল ঈশানের জন্য। একটা সত্যি কথা বলো তো,আমাকে কি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছিলে তোমরা?”

দু এক পা পিছিয়ে গেলেন সুফিয়া বেগম। স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন ইয়াশের দিকে। বলতে ইচ্ছে করল উনার—-“ইয়াশ, তোমাকেও আমি ভালোবাসি বাবা।” কিন্তু মনের কথা মনেই রয়ে গেল, মুখ ফুটে বললেন না কিছুই। মায়ের নির্নাক চাহনি দেখে আবারও বলল ইয়াশ,

“তুমি আমাকে ভালোবাসোনি, আম্মু। আমাকে সব সময় দূরে ঠেলে দেওয়ার কারণটা কি বলবে? এই যে তোমাদের এত অভিযোগ আমি বাড়িতে আসি না, তোমাদের সাথে কথা বলি না এগুলো কি এমনি এমনি? আমার ভেতরটাও পুড়তো, আমারও কষ্ট হতো। বারবার মাথায় ঘুরতো, কেন আমার আম্মু আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ে অন্য কাউকে বুকে টেনে নেন? আমি কি তার ছেলে নই?”

ছেলের এমন প্রশ্নের কি উত্তর দিবেন বুঝে উঠতে পারলেন না সুফিয়া বেগম। মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলেন তিনি। নিজের দোষেই কি তবে দূরত্ব বাড়ালেন ছেলের সাথে? ইয়াশের মনে এত অভিমান জমে আছে উনার প্রতি! কীভাবে বুঝাবেন উনি, কখনোই ইয়াশের খারাপ চাননি। ভালো হবে ভেবেই পাঠিয়েছেন বিদেশে। পড়াশোনা করে ছেলে মানুষ হবে এই আশাই তো ছিলো উনার মনে। মা ছেলের মধ্যে এত দূরত্ব বাড়বে জানলে কখনোই করতেন না এসব। নিজেকে সামলে নিলেন সুফিয়া বেগম, বললেন ইয়াশকে,

“আমি তোমার আম্মু ইয়াশ, তুমি আমাকে মানো আর না মানো, আমি তোমাকে পেটে ধরেছি, পৃথিবীর আলো দেখিয়েছি। মা তোমাকে ভালোবাসি, ইয়াশ। তুমি ভুল বুঝেছো আমাকে।”

ইয়াশ হেসে উড়িয়ে দিল কথাটা, হয়তো বিশ্বাস করেনি! সুফিয়া বেগমও বুঝলেন বিষয়টা তবুও বলতে শুরু করলেন তিনি—তুমি বা আফিয়া তখন পৃথিবীতে আসোনি। তোমার দাদী, বাড়ির প্রতিটি লোক, পাড়া-প্রতিবেশী আমাকে কত কথা শুনাতো বাচ্চাকাচ্চা হচ্ছিলো না তাই। না পেরেই ঈশানকে নিয়ে এসেছিলেন তোমার বাবা। তারপর তোমার বোন এলো, তুমি এলে। পেটে না ধরলেও ঈশান আমার প্রথম সন্তান, তাই হয়তো ওর প্রতি এত ভালোবাসা আমার। আমি তোমাকেও ভালোবাসি, ইয়াশ। তুমি আমার নিজের ছেলে। কথাগুলো বলে থামলেন সুফিয়া বেগম। ইয়াশকে ওখানে রেখেই দৌড়ে চলে গেলেন ছাদ থেকে। কাশফিয়া এত সময় দাঁড়িয়ে ছিল সিঁড়ির দরজার কাছেই। ইয়াশের যে ওর আম্মুর প্রতি রাগ, অভিমান জমে আছে তা অজানা নয় কাশফিয়ার। তবে কখনোই কথা বলেনি এগুলো নিয়ে। আজ কেমন খারাপ লাগা কাজ করছে শাশুড়ির অশ্রুভেজা চোখগুলো দেখে। উনার চোখমুখে যে ইয়াশের প্রতি মায়া আর অপরাধবোধ ছিল তা স্পষ্ট দেখেছে কাশফিয়া। কাশফিয়া এসে দাঁড়াল ইয়াশের পাশে, বলল ওকে,

“মায়েদের প্রতি রাগ, অভিমান জমিয়ে রাখতে নেই। উনি আর কতদিন বলুন? এবার না হয় যাওয়ার আগে সবার সাথে সম্পর্কটা ঠিক করে যাবো। পরের বার এসে উনাকে না পেলে আফসোস হবে না আপনার?”

ইয়াশ চুপ করে রইলো। কিছুক্ষণ পর তাকাল কাশফিয়ার দিকে। ওর যে আজ কষ্ট হচ্ছে! কাশফিয়ার তো আম্মু নেই, তাই এত আবেগী কথা বলছে। কিন্তু ইয়াশের আম্মু যে থেকেও না থাকার মতো ছিলেন। কখনোই ভালোবেসে কাছে টেনে নেননি ওকে। এমনি এমনি কি দূরত্ব বাড়িয়েছে এই বাড়ির সাথে? দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ইয়াশ, বলল কাশফিয়াকে,

“আম্মু আমাকে ভালোবাসে না, উপমা। আমার জীবনে উনি থেকেও না থাকার মতো ছিলেন আজীবন। মাঝেমধ্যে মনে প্রশ্ন জাগে, আমি কি মায়ের নিজের ছেলে?”

“কে বলল উনি আপনাকে ভালোবাসেন না? আপনার ছোটবেলার জামা, কাপড়, খেলনা সব উনি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। সামনে এসে কথা বলার সাহস পান না, তাই আপনার কথা মনে পড়লে ওগুলো আঁকড়ে ধরেই কান্নাকাটি করেন।”

ইয়াশের ভিতরটায় কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। কোথাও না কোথাও মায়ের জন্য খারাপ লাগা কাজ করছে ওর। ইয়াশ কি তবে ভুল ভাবছে মায়ের ব্যাপারে! ওর কি উচিত সব মান অভিমানের দেয়াল ভেঙে ফেলা? কি যেন ভেবে কাশফিয়াকে ছাদে রেখেই দৌড়ে নিচে গেল ইয়াশ। কাশফিয়া ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি টেনে তাকিয়ে রইলো ইয়াশের যাওয়ার পানে।

_______

সময়টা হেমন্তের শেষ প্রান্তে, আস্তে আস্তে শীতের আগমন ঘটেছে প্রকৃতিতে। ইয়াশ কাশফিয়াকে নিয়ে কৌশিকদের গ্রামে এসেছে। ইনায়া বার বার কল দিচ্ছিলো আসার জন্য, ইচ্ছে না থাকলেও না করতে পারেনি ইয়াশ। কাশফিয়ারও ইচ্ছে হয়েছে যাওয়ার আগে নিজের গ্রাম ঘুরে যাবে। গ্রামের রাস্তা খুব একটা ভালো না, গাড়ি ভিতরে ঢুকবে ঠিকই তবে কাশফিয়ার ইচ্ছে করছে ইয়াশের সাথে পায়ে হেঁটে বাড়ি পর্যন্ত যাবে।
কাশফিয়া আর ইয়াশ যাচ্ছিল ভাঙাচোরা ছোট্ট চায়ের দোকানটার সামনে দিয়ে, যেখানে ওদের প্রথম দেখা হয়েছিল। কাশফিয়া হাঁটা থামিয়ে দাঁড়িয়েছে ওখানেই, বার বার দোকানটার দিকে তাকিয়ে খুঁজছে কাউকে। ইয়াশ বিরক্ত হয়ে বলল কাশফিয়াকে,

“কি হলো উপমা? দাঁড়িয়ে আছ যে!”

কাশফিয়া মিষ্টি হেসে ইয়াশের হাত ধরল, কাঁধে মাথা রেখে বলল,

“এখানেই আমার প্রথম দেখা হয়েছিল, মনে আছে আপনার?”

ইয়াশ মুচকি হেসে বলল কাশফিয়াকে,

“উঁহু, এখানে আমাদের ২য় বার দেখা হয়েছিলো।”

বিস্মিত নেত্রে ইয়াশের মুখপানে তাকাল কাশফিয়া, অবাকের সহিত বলল ওকে,

“তাহলে প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিল?”

“তোমার স্কুলের প্রোগ্রামে।”

“কী! কবে? কখন?”

ইয়াশ কেবল হাসল, উত্তর দিল না কাশফিয়ার কথার। চায়ের দোকানের ভদ্রলোক এগিয়ে আসলেন ওদের দিকে। ইয়াশের থেকে চোখ সরিয়ে ভদ্রলোকের দিকে তাকাল কাশফিয়া, মুখে হাসি টেনে বলল উনাকে,

“কেমন আছেন চাচা?”

“ভালো আছি মা, তুমি কেমন আছ? বাড়িতে না গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছ যে?”

“আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনাকে দেখব বলেই দাঁড়িয়ে ছিলাম এতো সময়।”

ভদ্রলোক হাসলেন কাশফিয়ার কথায়, ইয়াশের সাথেও কিছুক্ষণ কথা বললেন উনি। তারপর দুজনেই বিদায় জানিয়ে চলে গেলো কৌশিকদের বাড়িতে।

____________

ইয়াশ আর কাশফিয়া বসে আছে ড্রয়িং রুমে। কাশফিয়ার মামী ওদের জন্য খাবার বানাতে ব্যস্ত। ইয়াশ তো ফোন ঘাটছে। কাশফিয়া চুপচাপ বসে আছে ওর থেকে কিছু দূরে। বার বার কৌশিক ইনায়ার রুমের দিকে তাকিয়ে দেখছে, ইনায়া বের হলো কিনা। ইয়াশ আর কাশফিয়া যেখানে বসে আছে সেখান থেকে ইনায়াদের রুমের দূরত্ব খুব একটা বেশি না। দরজাটাও আধখোলা, হঠাৎই কাশফিয়ার কানে আসলো ইনায়ার কথা। কান্নারত কণ্ঠে বার বার বলছে ইনায়া,—-“আহ্ আস্তে, ব্যথা পাচ্ছি আমি।”

ইনায়ার কথার উত্তরে বলল কৌশিক,
“বাচ্চাদের মতো কান্নাকাটি লাগিয়েছ কেন? আস্তেই তো দিচ্ছি।”

কাশফিয়া কান পেতে শুনল কথাগুলো, শুকনো ঢোক গিলে একবার ইয়াশের দিকে তাকাল, পরে আবার মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,—-“এই দিন দুপুরে কী সব শুরু করেছে এরা স্বামী স্ত্রী!”

“একা একা কী কথা বলছ উপমা?”

হঠাৎ প্রশ্নে চমকে তাকাল কাশফিয়া। মুখের ভাবভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেছে মুহূর্তেই, মনে হচ্ছে চুরি করে ধরা পড়েছে সে। নিজেকে সামলে উত্তর দিল ইয়াশের কথার,

“কই, কিছু না তো।”

কাশফিয়া এটা ক্যাবলা মার্কা হাসি দিল ইয়াশের দিকে তাকিয়ে। আবারও কৌশিক ইনায়ার রুমের দরজার সামনে চোখ গেলে দেখল, ওর মামাতো বোন স্নেহা দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে, মনোযোগ দিয়ে দেখছে ভিতরে কী হচ্ছে। চোখ দুটো গোল গোল করে কাশফিয়া তাকিয়ে আছে স্নেহার দিকে। কিছুক্ষণ ওভাবে তাকিয়ে থেকে ধমক দিয়ে বলে উঠেছে ওকে,

“স্নেহা, কী অসভ্যতামো এগুলো! ওখানে দাঁড়িয়ে কী দেখছিস?”

বোনের বড়সড় ধমকে কেঁপে উঠেছে স্নেহা, দ্রুত কাশফিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, বলছে মিনমিনে কণ্ঠে,

“বকছো কেন আপু?”

“বকছি কেন মানে? তুই ওখানে দাঁড়িয়ে কী দেখছিলি? অতিরিক্ত পেকে গেছিস তাই না!”

ইয়াশের মেজাজ খারাপ হচ্ছে কাশফিয়ার এমন ব্যবহারে। এক তো এখানে এসে বিরক্ত লাগছে আরেক কাশফিয়ার চেচামেচি।বিরক্ত হয়ে ধমকের স্বরে বলে উঠেছে ইয়াশ,

“উপমা, কী হচ্ছে এসব?”

“কি হচ্ছে মানে? রুমে ভাইয়া ভাবি…”

পুরো কথাটা বলতে পারল না কাশফিয়া, জিভ কেটে তাকাল অন্যদিকে। হুশ জ্ঞান হারিয়ে কী সব বলে দিচ্ছিলো, নিজেও জানে না সে। ইয়াশ ওর হাত ধরে ঘোরালো নিজের দিকে, কিছুক্ষণ চুপ থেকে প্রশ্ন করল,

“ভাইয়া ভাবি কী?”

কাশফিয়া কি বলবে বুঝল না, তাকিয়ে রইলো স্নেহার দিকে। স্নেহা আমতা আমতা করে বলল,

“ভাবির ঘাড়ে ব্যথা করছিল, ভাইয়া মলম লাগিয়ে দিচ্ছে।”

কথাটা বলে এক মুহূর্তও দাঁড়ায়নি স্নেহা, ছুটে চলে গেছে ড্রয়িং রুম ছেড়ে। কাশফিয়া হাঁ করে তাকিয়ে আছে ওর যাওয়ার দিকে। নিজের মাথায় নিজেই গাট্টা মেরে বলল বিড়বিড় করে,

“ছি ছি, নাউজুবিল্লাহ! এতো খারাপ মাইন্ড আমার! কী সব ভেবে বসে আছি!”

ইয়াশ হয়তো বুঝল কিছু, হাসতে হাসতে গিয়ে বসল সোফায়। কাশফিয়া দাঁড়িয়ে রইলো আগের জায়গায়তেই বোকা বোকা চাহনিতে তাকিয়ে রইলো ইয়াশের হাসিমাখা মুখটার দিকে। ইয়াশ হাসি থামালো, কাশফিয়ার হাত টেনে নিজের কোলে বসিয়ে বলল,

“যখন তখন এমন দুষ্টু চাহনি দিয়ে আমাকে সিডিউস করার চেষ্টা করো না তো বউ। আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললে প্রতিবারের মতো তুমি পালানোর জন্য কান্না করবে কিন্তু!”

লজ্জা পেলো কাশফিয়া, মুখ লোকালো ইয়াশের বুকে। ইয়াশ হাসল, বউয়ের কাজে ওর কথায় লজ্জা পেয়ে ওর বুকেই মুখ লোকাল উপমা!

ইনায়া মাত্রই বেরুল রুম থেকে, সাথে ছিল কৌশিকও। ইনায়া মজা করলেও লজ্জায় অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল কৌশিক, দাঁত কিড়মিড় করে বলল ইয়াশকে,

“বুড়ো বয়সে বাচ্চা মেয়ে বিয়ে করলে এই হয়! লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে এই ছেলে।”

ফটাফট উত্তর দিল ইনায়া, —-“তুমি কেমন, আমার জানা আছে। নিজেও তো আধবুড়ো, কপাল ভালো তাই পেয়েছো আমাকে। এত মেজাজ কিসের তোমার? ওর বউকে ও মারবে, কাটবে, যা ইচ্ছে করবে তোমার কী?”

“সবসময় ইয়াশের পক্ষ নিয়ে কথা বলবে না ইনায়া। ওর বউ হওয়ার আগে কাশফিয়া আমার বোন।”

ভাইয়ের কথা কানে আসল কাশফিয়ার, দ্রুত সরে গেলো ইয়াশের কাছ থেকে। কৌশিকের রসকষহীন চেহারাটা দেখেই রাগ হলো ইয়াশের। বুঝে পায় না ইয়াশ আগে তো কৌশিকের কি এমন হলো যে ইয়াশকে দেখলেই মুখের হাসি মিলিয়ে যায়? ইয়াশ উঠে দাঁড়াল কৌশিকের কথার উত্তর দিলে সেও পালটা উত্তর দিল, দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হলো অনেকক্ষণ। ইয়াশ রেগে বেরিয়ে আসতে চাইলে কাশফিয়াও যেতে চাইল ওর সাথে, বাধা দিল কৌশিক। রক্তচক্ষু নিয়ে কৌশিকের দিকে তাকাল ইয়াশ, ঝাড়া মেরে কাশফিয়ার হাতটা ওর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

“নিজের সীমানার মধ্যে থাকবি কৌশিক। উপমা এখানে থাকতে চাইলে আমি আটকাব না, কিন্তু জোর করে ওকে আমার থেকে দূরে সরাতে চাইলে খারাপ হবে!”

“কি খারাপ হবে? মারবি আমাকে?”

“দরকার পড়লে তাই করব।”

“ইয়াশ!”

কৌশিক আর ইয়াশের ঝগড়া ঝামেলা দেখে বিরক্ত হচ্ছে কাশফিয়া। এমনিতেই সকাল থেকে মাথাটা ওর ঘুরছে ভনভন করে। তারমধ্য এসব ঝামেলা! কাশফিয়ার শরীরটা কেমন অবশ হয়ে আসছে, চোখের সামনে সব কিছু অন্ধকার ঠেকছে। ইয়াশের হাতটা ধরে ওর কাঁধে মাথা রাখল কাশফিয়া, চোখ বন্ধ করে শ্বাস ফেলে বলল ওকে,

“বাড়ি চলুন। আমার ভালো লাগছে না এখানে।”

বোনের অবস্থা দেখে চিন্তা হলো কৌশিকের, উদ্ভিগ্ন হয়ে বলল,

“কাশফি, বোন আমার, কি হয়েছে তোর? আমাকে বল কি হয়েছে?”

কথা বলল না কাশফিয়া, ভাইয়ের প্রতি অভিমান জমেছে ওর। ঠিক করেছে আর কথা বলবে না কৌশিকের সাথে। ইনায়া হয়তো বুঝল কাশফিয়ার অভিমানের কারণ, চোখের ইশারায় ইয়াশকে বলল ওকে নিয়ে রুমে যেতে। ইয়াশ তেমন পাত্তা দিল না ইনায়ার কথায়, কাশফিয়াকে কোলে নিয়ে তখনই বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। যাওয়ার আগে চোখের ইশারায় শাসিয়ে গেলো কৌশিককে। ইনায়া বারবার ডাকলেও শুনল না ইয়াশ।

#চলবে……

গুছিয়ে লিখতে পারিনি। আরও অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না। আমার মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, কিছুই মাথায় আসেনা শব্দ খুঁজে পাইনা। এই গল্পটা লিখেও বিপদে পড়েছি। এটা শেষ হলে বেঁচে যাই।

#অন্তরালের_প্রণয়িনী গল্পের ই-বুক ভার্সন।
পড়ুন “প্রাণ প্রণয়িনী” বইটই এ্যাপস থেকে।
https://link.boitoi.com.bd/4T8X

পড়ুন আমার প্রথম ই-বুক।
“রাগে অনুরাগে সিক্ত কাব্য”
https://link.boitoi.com.bd/GQcM

গল্প রিলেটেড সব আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হোন।
https://facebook.com/groups/569604222322147

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here