#তোমার_আমার_প্রেম
পর্ব : ১৮
লেখনীতে – #রুবাব_ফারহা
.
“কি হলো বলো”
আরহানের শান্ত কন্ঠস্বর।
ঈশানি একটু কুকড়ে বসলো দৃষ্টি এদিক – ওদিক ফেলছে। কি বলবে খুঁজে পাচ্ছে না।কিন্তু আরহানের দৃষ্টি উপেক্ষা করতে পারছে না সে।
আরহান সূক্ষ্ম নজরে সবটাই খেয়াল করলো।তারপর ধীরে কিন্তু ভারী কন্ঠে বললো –
“যদি কোনো কারণ ছাড়া হাওয়ায় তীর ছুঁড়ে বলে থাকো কথাগুলো,তাহলে খুব খারাপ হবে।”
ঈশানি একটু চমকে গেলো।নিজেকে গুটিয়ে নিল খানিক।তারপর নিচু গলায়, মাথা নিচু করে জানিয়ে দিলো সবকিছু—নিজের সন্দেহ, দোটানা, ভুল বোঝাবুঝির কথা।
আরহান সব শুনে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।তার চোখে একরাশ বিষ্ময়,বিরক্ত নিয়ে বললো-
“তার মানে তুমি তোমার পরীক্ষার আগে এই তুচ্ছ কারণে আমার থেকে দুরত্ব নিয়েছিলে।”
ঈশানি ধীরে মাথা ঝাঁকালো।দৃষ্টি তার নত।
হঠাৎ করেই, যেন কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই, আরহান মুখ গুঁজে দিল ঈশানির গলার ভাঁজে।নিশ্বাস যেনো ঈশানির গলায় এসে আটকে গেলো।বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিকভাবে ধুকধুক করছে।তারপর অনুভব করলো নরম,ভেজা ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে তার গলার কোমল ত্বক।একটা,দুটো,তিনটে পরপর কয়েকটা ছোটো ছোট চুমু আকালো।ঈশানি চোঁখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো, হাতে মুঠো করে আঁকড়ে ধরলো নিজের কামিজের অংশ।ছটফটিয়ে উঠলো ছাড়া পাবার জন্য।কিন্তু সুঠাম দেহের পুরুষের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেথায় শুধু ছটফটিয়ে গেলো। এক অসহায় আবদ্ধতা।কিন্তু সেই ছোট ছোট নরম চুমু পরিবর্তিত হলো মৃদু কামড়ে। ঈশানির ব্যথায় ঠোঁট ভেঙে আসলো,মুখ থেকে নিঃসৃত হলো চাপা “আহ্”। চোখের কোনে পানি চলে আসে।
আরহান থামে তবে এখনো মুখ গুঁজে আছে তার নরম গলায়।তারপর চোখ তুলে তাকায়। মুখ তুলে নিয়ে আসে ঈশানির কানের কাছে। শান্ত ,স্থির অথচ একধরনের দখলদারি মেশানো হাস্কি স্বরে বলে –
“এটা আমার থেকে দূরে যাওয়ার কথা ভাবার শাস্তি।”
পরপর তার খরখরে পুরুষালি ঠোঁট ছোঁয়ায় ঈশানির কানের লতিতে।তার ছোঁয়াতে ঈশানির ভেতর কেঁপে উঠে।সে যেনো বন্ধী হয়ে আছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।অনবরত মোচড়ামুচড়ি করে যাচ্ছে।কিন্তু মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারছে না। আরহান বাহুবন্ধনে আরেকটু কাছে টানলো ঈশানিকে।কানের লতিতে কয়েকটি চুমু দিয়ে সেথায় বসালো আর এক কামড়।ঈশানি এবার খামচে ধরলো আরহানের কাধের উপরের শার্টের অংশ। চোখ বন্ধ করে জোরে নিশ্বাস ফেলছে সে। আরহান তার উত্তপ্ত নিশ্বাস ফেললো ঈশানির কানে গলায়।তারপর কানে কানে বললো –
“আর এটা…আমাকে কিছু না জানিয়ে, কোনো প্রশ্ন না করেই, আমাকে ভুল বোঝার শাস্তি।”
ঈশানির কম্পমান শরীরের তাপমাত্রা বাড়লো বুঝি।এলোমেলো হলো সে। আরহান থেমে গেলো তবে ছাড়লো না ঈশানিকে।সেভাবেই গাঢ়,গম্ভীর খরখরে কন্ঠে বলে –
“আমি মেরুদন্ডহীন না। আর না আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কখনো আমাকে দিয়ে কিছু করাতে পেরেছে কেউ।”
একটু থামলো আরহান।তারপর মাথা তুললো।ঈশানির চোখে চোখ রাখলো।ঈশানি সেই চোখে চাইতে পারলো না।নামিয়ে নিলো চোখ সে। আরহান সেই নিচু মুখশ্রীতে তাকিয়েই আবার বলে –
“অলিভিয়াকে আমি কখনো বন্ধুর থেকে বেশি কিছু ভাবিনি। ও যদি বন্ধুত্বের থেকে বেশি কিছু ভেবে থাকে দ্যাটস নান অফ মাই বিজনেস।”
ঈশানি এবার চাইলো আরহানের দিকে।তার ভেতরটা কেমন অস্থির লাগছে। আরহান আবার বললো –
“তোমাকে বিয়ে করার ব্যাপারটা একদম আনেক্সপেক্টেড ছিলো সত্যি তবে ফোর্স ছিলো না। কারো ফোর্সের ধার ধারি না আমি।আমি শুধু যে সময়টা নিতে চাচ্ছিলাম সেটা পাইনি ,সব অনেক তাড়াতাড়ি হয়েছিল। আর পরিস্থিতিও অনুকূল ছিলো না।কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও আমি চেয়েছি বলেই এই বিয়ে হয়েছে।তাই নেক্সট টাইম আর কখনো যদি তোমার মুখে ডিভোর্স,মুক্তি অথবা দূরে যাওয়ার ফালতু কারণ শুনি মেরে ফেলবো।এতো ধৈর্য্য আমার কখনোই ছিলো না।তোমার সাথে পরিচয় না হলে জানতাম না আমি এতো ধৈর্যশীল।তাই এসব ইউজলেস কারণে আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না।পরেরবার শাস্তি এতো মধুর হবে না কিন্তু।বুঝেছো?”
ঈশানির ঠোঁটদুটোর মাঝে হালকা ফাঁক হয়।মনোযোগ দিয়ে শুনেছে সব।মাথা শূন্য শূন্য লাগছে। আরহানের করা প্রশ্নে সম্মোহনের মতোই মাথা উপর নিচ করলো। আরহান ঈশানির কপালে একটা দীর্ঘ চুমু আঁকে।ঈশানি আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলে।ঈশানি আরহানের বুকে হাত রেখে সরে আসে হাল্কা। আরহান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে।
আরহান এবার সিরিয়াস হয়।এরপর গম্ভীর কন্ঠে আবার বলে –
“যেভাবেই হোক আমরা একটা সম্পর্কে জড়িয়েছে।আমি চাই এই সম্পর্ককে সুযোগ দিতে।তোমারও সেটাই করা উচিৎ।নিজের জিনিস আদায় করে নেয়া উচিৎ।তার প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিৎ।তুমি আমি সারাজীবনের জন্য বেঁধে গেছি এক বাঁধনে। এই বাঁধন থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় নেই।আমি এতকথা বলছি কারন এটায় শেষ ।এরপর এসব বলবো না আর না বুঝাবো।তোমার স্বামী মান ভাঙাতে অক্ষম।নিজের মতো সব করতে পছন্দ করি।সেটা তোমার পছন্দ নাও হতে পারে।তাই আজ সব পরিস্কার করছি। এরপরে কিন্তু এই সুযোগ আর পাবে না।”
ঈশানি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।যেনো সে বাকশূন্য হয়ে গেছে। আরহান ঈশানিকে সেভাবে রেখেই চলে যায় বাহিরে।
.
নতুন একটি দিনের সূচনা।নতুন পরিকল্পনায় মোড়া।রোজকার নিয়মানুসারে আরহান উঠে পড়ে।নিজের শরীরচর্চা করে একদম ফরমাল গেটআপে নিচে নামে হসপিটালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। খাবার টেবিলে দেখা হয় জাহিদ চৌধুরীর সাথে। যার পূর্ণ মনোযোগ ও দৃষ্টি এখন সংবাদপত্রে। আরহান এসে চেয়ার টেনে পাশে বসলে জাহিদ চৌধুরী খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে ছেলের পানে চায়।দুজনে টুকটাক আলোচনা সেরে নেয় খাবারের টেবিলে।
কিছুক্ষণ পর ময়না খাবার নিয়ে আসে। খাবার টেবিলে রাখলো।ঈশানিকে আশেপাশে কোথাও দেখা গেলো না।জাহিদ চৌধুরী সুধালেন ময়নাকে –
“তোর চাচীম্মা আর ঈশানি কই?”
ময়না নিজের ভঙ্গিতে বলতে থাকে –
“চাচীম্মা তো রানতাছে। আর আপামনি দাড়ায় আছে। চাচীম্মা কথা কইতাছে না আপামনির লগে।”
জাহিদ চৌধুরী তপ্ত নিশ্বাস ফেললেন। কাল রাতে তাদের মধ্যেও কথা কাটাকাটি হয়েছে। মিনারা বেগম আপাতত ঈশানির উপর রুষ্ট।তার ভাষ্যমতে ঈশানি কাল ইচ্ছে করে বানিয়ে ওসব বলেছে।
জাহিদ চৌধুরী বুঝাতে গেলে উল্টো এক কথায় দুই কথায় তর্ক বেজে যায়।
ঈশানিকে ডেকে উঠে জাহিদ চৌধুরী।ঈশানি মাথা নীচু করে বেরিয়ে আসে রান্নাঘর থেকে। মুখটা লাল হয়ে আছে।দেখে বোঝা যাচ্ছে কেঁদেছে।জাহিদ চৌধুরীর ভীষন মায়া হলো।ঈশানির মাথায় হাত রেখে পরিবেশ স্বাভাবিক করতে বললেন –
“এক্সাম তো শেষ।কি করবে এখন ভেবেছো?”
ঈশানির ভেতরে অস্থিরতা কাজ করে।নিজেকে যেন দোষী আসামির মতো লাগছে। মিনারা বেগমের নীরবতা তার উপর পাথরের মতো চেপে বসেছে। ছোটবেলা থেকে ছোটমার মুখের হাসিই তার জন্য আশ্রয় ছিলো, আর আজ সেই মুখে ঠাণ্ডা চুপ।
আরহান শান্ত দৃষ্টিতে সব দেখলো।তারপর গম্ভীর করে ডেকে উঠে –
“ঈশানি,রুমে আসো।আমার ওয়ালেট পাচ্ছি না।”
নিজের কথা শেষ করে হনহন করে উপরে উঠে যায়।ঈশানি তাকায় গমনপথে। চাচ্ছুর সামনে কেউ এভাবে ডাকে নাকি।নিচু মাথা আরো নিচু হয়ে যায়।
জাহিদ চৌধুরী বোধ হয় ঈশানির ভাবাবেগ বুঝলেন ।তাই ঈশানিকে যেতে বলে নিজেও চলে গেলেন।
.
মিনিট কয়েকপর ঈশানি উপরে যায়।রুমের সামনে যেতেই হাতে টান পড়ে।ঈশানি ছিটকে ভিতরে আসে।মুহূর্তের জন্য ভয়ে শিউরে উঠে।কিন্তু নিজের অতি পরিচিত মানুষের পরিচিত ছোঁয়া ও সুগন্ধি উপলদ্ধি করতে পেরে নিশ্বাস ছাড়ে। আরহান তার দিকেই তাকিয়ে।ঈশানি ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে –
“কি।”
আরহান কিছুক্ষন মৌন থাকে।তারপর চোখের কোনে লেগে থাকা পানি মুছে বলে –
“কান্না করেছো কেনো?”
ঈশানি মাথা নামিয়ে নেয়।আবার বিষাদ ছুঁয়ে যায় তাকে। ক্ষীণ কন্ঠে বলে –
“কাদছিলাম না আমি।”
আরহান ঈশানির থুতনীতে এক আঙ্গুল ধরে উপরে তোলে।ঈশানি চোঁখ বন্ধ করে আছে। আরহান বন্ধ চোঁখের উপর নিজের ভারী নিশ্বাস ফেলে।ঈশানি কেঁপে উঠে।চোখ মেলে তাকায়। আরহান নিজের কন্ঠস্বর নরম করে বলে –
“মা কিন্তু এখনো তোমার ছোটো মা’ই আছে।তোমার প্রতি ভালোবাসার উপর অভিমান নামক এক ঠুনকো আস্তরণ পড়েছে।সময়ের সাথে সেটা মুছে যাবে।তবে এমনি এমনি যে মুছে যাবে এমন না।তোমাকে সেটা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।তাই কষ্ট পেয়ে ভেঙে পড় না।নিজেকে শক্ত করো।প্রতিজ্ঞা করো সব ঠিক করে ফেলব।আমি বিশ্বাস করি পারবে তুমি।”
ঈশানি ফুপিয়ে উঠলো।তারপর কাদো কাদো হয়ে বললো –
“ছোটমা,আমাকে বকা দিতো।দুটো চর দিতো তবুও আমার কষ্ট লাগতো না।কিন্তু ছোটমা আমার থেকে দূরে যাচ্ছে।তার নীরবতা আমাকে পীরা দিচ্ছে।কিভাবে সব ঠিক করবো আমি?”
আরহান ঈশানির চোখের পানি মুছে দেয়।দুহাতের আজলে ঈশানির মুখ নিয়ে বলে –
“সেটা তো তোমাকেই বের করতে হবে।তাই কান্নাকাটি না করে ভাবো।যেখান থেকে শেষ হয়েছে সেখান থেকে না ভেবে ,যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখান থেকে ভাবো।আমি কিন্তু আস্থা রাখছি।আমাকে নিরাশ করবে না কিন্তু।”
আরহান গাল ছড়িয়ে হাসলো।তারপর ঈশানির থেকে বিদায় নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে বের হলো।
আর ঈশানি বিশ্লেষণ করতে লাগলো আরহানের কথাগুলো।
.
একটি ব্যস্তময় দুপুর।রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে টুকটাক শব্দ। মিনারা বেগম রান্না বসিয়েছে। ময়না কাটাকাটি করছে।ঈশানি মৃদুপায় এগিয়ে গিয়ে দাড়ায় মিনারা বেগমের পিছনে।তারপর তার শাড়ির আঁচল মুঠে নিয়ে সেই ছোট্টবেলার মতো করে বলে –
“ছোটোমা,প্রচণ্ড ক্ষিধে পেয়েছে।কিছু খেতে দেবে?
মিনারা বেগম অবাক হয়ে পিছু ফেরে।ঈশানিকে জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। দৃষ্টি তার ফ্লোরে। মিনারা বেগম শক্ত হয়ে দাড়িয়ে পড়লো ।তারপর ময়নাকে তাড়া দিয়ে বললো –
“ময়না খাবার বেড়ে দে।”
মিনারা বেগম ঘুরতে নিলে ঈশানি ফুপিয়ে জড়িয়ে ধরে। মিনারা বেগম স্থির হয়ে যায়।ঈশানি কাদতে কাদতে বলে –
“ছোটোমা,প্লীজ আমাকে ক্ষমা করে দেও।তুমি এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিলে আমি যে অসহায় হয়ে পড়বো।ছোট্টবেলায় যখন বাবা – মা হারিয়ে আমি এই বাড়িতে আসি ,তখন তুমি আমাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নেও।আমার কখনো অনুভব হয়নি বাহিরের কেউ।তোমার ছায়াতলে আমাকে আগলে রেখেছিলে।সেই ছায়া সরিয়ে নিও না ছোটমা…আমি যে নিঃস্ব হয়ে যাবো।”
মিনারা বেগমেরও চোখ ভিজে উঠে উঠেছে এতক্ষণে। যে মেয়েকে কোলেপিঠে করে মানুষ করলেন,তার অশ্রুতে ঝড় বইলো তার মধ্যে।অনুশোচনা যে তার একদম হয়নি তেমন না।কিন্তু কালকে যখন ভাইয়ের বউ আমেনা শিকদার ফোন দিয়ে কাদলো।কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে বলেছে – নিজের স্বামী ও ছেলের করুন অবস্থার কথা।দায়ী করলেন ঈশানিকে।তখন থেকেই মেয়েটার উপর তেঁতে যায় মিনারা বেগম।যে মেয়েকে ছোটো থেকে মানুষ করেছে সেই মেয়েকেই একমুহূর্তে তার অসহ্য লাগে। তারওপর ঈশানির ওমন পাগলামি তাকে হতবুদ্ধি করে ফেলেছিলো। তাই না ভেবেই রাগে, কষ্টে, অভিমানে সবকিছু ঢেলে দিয়েছিলেন মেয়েটার উপর। স্বামীর সাথেও তর্ক করেছে। অথচ মেয়েটার অবস্থা ভাবেনি।এই মেয়েটাও তো নিজের তার।সেই কোলেপিঠে মানুষ করেছে।কিভাবে পারলো সে এরকম স্বার্থপর হতে।
জড়িয়ে ধরলেন ঈশানিকে।কান্না লুকিয়ে মিছেমিছে ধমক দিয়ে স্তব্ধ কন্ঠে বললেন –
“হয়েছে হয়েছে।এভাবে আর বড় বড় কথা বলতে হবে না। কতবেলা হয়েছে এখনো খাসনি কেনো?”
ঈশানি যেনো হৃদয়ে শীতলতা অনুভব করলো। চারদিক পুলকিত।এইতো এখানেই তো সুখ।মায়ের মতন এই ছোটমার ছায়াতলে সে মায়ের গন্ধ পায়। মা মা নিরাপত্তা পায়।
মিনারা বেগম ঈশানিকে ছেড়ে তড়িঘড়ি করে খাবার বাড়লেন।নিজে বসে থেকে খাওয়ালেন।ঈশানির মন হেসে উঠলো।মনে মনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো আরহানের প্রতি।মানুষটা এতো পারফেক্ট কেনো?কিভাবে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়?ঈশানির ঠোঁটের কোনে ভেসে উঠে প্রশান্তির হাসি।
~ চলবে
{ লিখতে বসেছিলাম সন্ধ্যায়।লিখতে লিখতে এতরাত হয়ে গেলো।প্রমিজ করেছিলাম আজ রাতে আরেকটা পর্ব দেবো,আমি কথা রেখেছি। এবার আপনারা রিয়েক্ট কমেন্ট করে আমাকে একটু খুশি করে দিন তো}

