সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_২২

0
28

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_২২

মেহরিমা আর আদিবা স্পর্শ-হানিয়ার হাতে হাতে খাবারের বাটি গুলো এনে ডাইনিং টেবিলে রাখছে৷ তারা দু’জন মানা করলেও মেহরিমা ও আদিবা একপ্রকার জোর করেই কাজটা করছে। রান্নাবান্না সামলে এইটুকু কাজ যদি এগিয়ে দিলেও তাদের একটু কাজ কমবে।

স্পর্শের হেল্পিং হ্যান্ড মহিলা এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে গতকালই নিজের গ্রামের বাড়ি গিয়েছে। তাই আজ হঠাৎ করে এত মেহমান এসে পড়ায় তাদের খাবারদাবারের সব দায়িত্ব মির্জা ও তালুকদার কর্তীদের উপর এসে বর্তেছে। তাদের রান্নার কাজে মাহমুদ বাড়ির কর্তীও হাত লাগিয়েছে। তিনজন একদম বোনের মতো গলাগলি করে রান্না করেছে। মুনতাহা বেগম সাহায্য করতে চাইলেও হঠাৎই তার মাথা ব্যথা শুরু হওয়ায় সে আর তাদের হাতে হাত লাগাতে পারেনি।

খাবারের সবগুলো বাটি রাখা শেষ হলে হানিয়া আদিবার গালে হাত রেখে আদুরে গলায় বলে–

—আম্মাজান যাও তো ভাইয়াদের ডেকে নিয়ে আসো তো। বাদর তিনটা সেই যে রুমে দোর দিয়েছে, বের হওয়ার নামই নেই। মেহরিমাকেও সাথে নিয়ে যাও। ও তো বাড়িটা ঘুরে দেখার সুযোগই পেলো না।

আদিবা হানিয়ার ফুলোফুলো গাল গুলো হালকা টেনে বলে–

—ওকে কিউটি। আমরা ঝড়ের গতিতে যাচ্ছি কিন্তু ফিরবো পিঁপড়ার গতিতে। ঠিক আছে?

হানিয়া আদিবার কথায় হেসে সম্মতি দিয়ে বলে–

—ঠিক আছে।

আদিবা মেহরিমার কাছে এসে তার হাতটা খপ করে ধরে বলে–

—এই পুরান রেডিও চল। তোকে বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখিয়ে আনি।

কথাটা শেষ করতে দেরি মেহরিমাকে টানতে দেরি হয় না আদিবার। সে বড়বড় পা ফেলে সিড়ি বেয়ে উপরে যেতে থাকে। আদিবার ছোটবেলা থেকেই মির্জা বাড়িতে আসা যাওয়া রয়েছে। তাই সে সহজেই জানে কোনটা কার রুম এবং কোনদিক দিয়ে যেতে হবে।

মেহরিমাকে আদর আহ্লাদ, হানিয়ার হাতে হাতে কাজ করে দেওয়া সবকিছুই দূর থেকে প্রত্যক্ষ করছিলে একজোড়া অনুসন্ধানী চোখ।

__________________________

পরপর কয়েকবার নক করতেই দরজা খুলে দেয় একজন পুরুষ। আদিবা পুরুষটির দিকে চোখ উঁচিয়ে তাকালে দেখতে পায় এ আর কেউ নয় তারই ইনা, মিনা, টিনার হবু পাপা।

জায়িন তার পিচ্চি প্রিয়তমাকে দেখে বেশ খুখিই হয় কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করে না। ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে–

—কি চাই এখানে?

আদিবা ভাবে একটু জ্বালানো যাক তার সখের পুরুষ টিকে। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরেছে পর একবারও দেখা বা কথা হয়নি তাদের একই বাড়িতে অবস্থান করেও। সে যাও চোখে চোখে দুই একবার গার্ডেনে যাওয়ার ইশারা করলেও জায়িন তেমন একটা পাত্তা দেয় নি। সেটারই শোধ তুলবে এখন।

আদিবা মেহরিমাকে পেছনে রেখে জায়িনের একদম কাছে এসে পড়ে। চোখে একপ্রকার নেশা নিয়ে নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে–

—তোমায় লাগবে জায়িন।

আদিবার যখন একটু বেশি প্রেম প্রেম পায় তখনই সে জায়িনকে নাম ধরে ডাকে। জায়িন প্রিয়তমার এমন আবেদনময়ী ভঙ্গিতে গলে যায়। সেও ঘোরে ডুবে গিয়ে নিজের অজান্তেই আদিবার কপালের উপর আসা চুলগুলো আলতো হাতে সরিয়ে দিয়ে বলে–

—কেনো?

—কেনো আবার? নিচে আন্টি খেতে ডাকছে সবাইকে তাই তোমাকেও সেখানে লাগবে।

কথা তো নয় যেনো ফাটা বাশ দিয়ে মাথায় বারি মারা। আদিবার এমন কাঠকাঠ গলায় বলা কথাগুলো মুহূর্তেই জায়িনকে অনুভূতির রঙিন দুনিয়া থেকে টেনে বের করে এনে বাস্তবতার মুখোমুখি করে।

সে আদিবার কথাটা সাথে সাথেই ধরতে পারে না। তাই বলে–

—এ্যাঁ??

—এ্যাঁ নয় হ্যাঁ। তোমাদের তিন বাদরকে নিচে যেতে বলেছে আন্টি। তাড়াতাড়ি আসো।

অনেকটা ধমকের সুরে কথাগুলো বলে আদিবা মেহরিমার হাত ধরে আবারও হাটা দেয়। মেহরিমা আদিবার সাথে যেতে যেতে একবার একবার পেছনে ঘুরে প্রিয়তমের অভিমানী মুখখানা দেখে নেয়, যে কিনা মাত্রই উপস্থিত হয়েছিলো দরজার সামনে।

_______________________

ছাদ থেকে নিচে নেমে ড্রয়িংরুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় মেহরিমা, আদিবা ও হায়া। হায়া’কে ধরে আস্তে আস্তে পা চালাচ্ছে মেহরিমা। উদ্দেশ্য তাকে রুমে পৌছে দিবে তারপর আজকের মতো বিদায় নিবে সে। কিন্তু মাঝপথেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখে তার হৃৎস্পন্দন কয়েক মিনিটের জন্য থেমে যায় বোধহয় তার।

ফ্লোরে পড়ে আছে রাহা, তারউপর জাহান। বিষয়টা বড্ড অনাকাঙ্ক্ষিত ও দৃষ্টিকটু। বুঝাই যাচ্ছে অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে, কারণ জাহান আজ পর্যন্ত তার প্রেমিকার হাত ব্যতীত তার ললাটেও ভালোবাসার স্পর্শ পর্যন্ত দেয় নি। জাহানের বক্তব্য-“এইটুকুন স্পর্শ আমার পোষাবে না। তোমায় আমি স্পর্শ করলে পুরোপুরি নিজের করে নেওয়ার উদ্দেশ্য করবো। এইটুকুন স্পর্শ আমার হৃদপীড়া আরো বাড়িয়ে দিবে।”

সেই জাহান কি করে একজন মেয়েকে এমন খোলামেলা জায়গায় এমন অবস্থায় থাকতে পারে? কিন্তু নারী হৃদয় তো এসব লজিক জেনেও মন খারাপ করা বা অভিমান করা যেনো তাদের অন্যতম কাজ। অজান্তেই মেহরিমার শান্ত, কোমল নয়নযুগল ভিজে উঠতে শুরু করে। তার চোখের তারায় শুধু জাহান ও রাহা’র আলিঙ্গনরত দৃশ্যটিই জ্বলজ্বল করছে।

মেহরিমা’র ধ্যাণ ভঙ্গ হয় হায়া’র উত্তেজিত ও আতঙ্কিত গলার আওয়াজে। হায়া বলে উঠে–

—একি ভাইয়া?! তোমরা পড়লে কিভাবে?

জাহান হায়া’র কণ্ঠস্বর শুনে হকচকিয়ে তার দিকে তাকালে দেখতে পায় তিন রমনীকে। তাদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত রমণীর নয়নে যে বেদনার অশ্রু জমেছে সেটাও তার চক্ষুগোচর হয়। সে তড়িঘড়ি করে রাহা’র উপর থেকে সরে আসে। বেশ অপ্রস্তুত ও বিব্রত দেখাচ্ছে তাঁকে।

জাহান উঠে গেলে রাহা তার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। জাহানের অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাহার হাত ধরে তাকে নিচ থেকে উঠায়। হায়া আস্তে আস্তে তাদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে ভাইয়া? তোমরা পরে গিয়েছিলে কিভাবে?

জাহান দৃঢ় কণ্ঠে বলে–

—আমি আমার রুম থেকে বের হয়ে নিচে যাচ্ছিলাম তখনই রাহা’র চিৎকার শুনি। এখানে এসে দেখি ও নিচে পরে রয়েছে আর পায়ের ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে এসে ওকে উঠাতে গেলে ফ্লোরে থাকা পানিতে আমিও পা পিছলে ওর উপর পরে যাই।

—ফ্লোরে পানি ছিলো?

বিস্ময় নিয়ে কথাটা জিজ্ঞেস করে হায়া নিচে তাকায়। দেখে তার ভাই সত্যিই বলছে। সাদা টাইলসের ফ্লোর হওয়ায় পানিটা ততটা বোধগম্য হচ্ছে না। কিন্তু কথা হলো ছাদে যাওয়ার এই পথে পানি আসলো কি করে?

হায়া ফ্লোর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এনে পুনরায় ভাইয়ের দিকে তাকালে দেখতে পায়, তার ভাই এক দৃষ্টিতে তার বান্ধবীকে দেখছে। অথচ তার বান্ধবী রূপী হবু ভাবী তার ভাইয়ের দিকে ভুলেও নিজের দৃষ্টি স্থাপন করছে না। হায়া’র বুঝতে বাকি থাকে না কেন এমনটা করছে মেহরিমা। সেও তো মাঝে মধ্যে তার পুরুষ টির সাথে এমন অভিমান করে।

হায়া গলা খাঁকারি দিয়ে সকলের ধ্যাণ নিজের দিকে ফেরায়। তারপর বলে–

—এখানে পানি আসাটা বড়ই অস্বাভাবিক ও বিস্ময়কর। যাইহোক, রাহা তুমি কি বেশি ব্যথা পেয়েছো পায়ে?

রাহা’কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নটি করে। রাহা মুখ কিঞ্চিৎ কুঁচকিয়ে বলে–

—হ্যাঁ, ভালোই ব্যথা অনুভব হচ্ছে। দাড়াতে কষ্ট হচ্ছে।

—ওহহ। তাহলে তুমি আন্টির রুমে গিয়ে রেস্ট নাও, আমি ব্যথার ঔষধ পাঠিয়ে দিচ্ছি তোমার জন্য।

—আচ্ছা, ধন্যবাদ তোমাকে।

তারপর জাহানের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে রাহা বলে–

—জাহান ভাইয়া, আমাকে একটু রুমে দিয়ে আসবেন প্লিজ? আসলে একা একা হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।

জাহান কিছু বলার আগেই হায়া বলে–

—রাহা, তোমায় যদি আদিবা রুমে দিয়ে আসে তাহলে কি কোন সমস্যা আছে? আসলে ভাইয়ার সাথে আমার একটা কাজ ছিলো তো তাই বললাম আরকি।

রাহা হলো তার বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া সন্তান। তার মনমতো কিছু না হলে সে চট করে রেগে যায়। আজও তার ব্যতিক্রম হয় না। সে চেয়েছিলো, জাহান তার হাত ধরে তাকে রুম পর্যন্ত যাতে দিয়ে আসে। কিন্তু হায়া তো জাহানকে আটকে দিলো। আর কেনোই বা দিলো সেটাও সে বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে।

ভেতরে ভেতরে রাহা’র রাগেদের বিস্ফোরণ ঘটলেও উপরে সে একদম শান্ত ও মিষ্টিভাষী। সে নিজের মুখের হাসি বজায় রেখে বলে–

—না সমস্যা হবে কেনো? কোন সমস্যা নেই।

হায়া রাহা’র চোখে বিরাজমান রাগেদের দেখা খুব সহজেই পায়। তাও সে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। বরং আদিবাকে ইশারায় বলে তাঁকে রুমে নিয়ে যেতে। আদিবাও বিনা বাক্যে হায়া’র কথা পালন করে। সে রাহা’কে নিয়ে চলে যায়।

এতক্ষণে মেহরিমা মুখ খুলে। সে ক্ষীণ স্বরে বলে–

—চল তোকে রুমে নিয়ে যাই, তারপর আমাকেও হোস্টেলে ফিরতে হবে। আমার জন্য তো আর সারারাত হোস্টেলের দরজা খুলে বসে থাকবে না দারোয়ান।

নিজের মনের ক্ষোভ চেপে না রাখতে পেরে কিছুটা প্রকাশই করে দেয় মেহরিমা। দৃষ্টি তার নিচের দিকে। সেও বেশ ভালো করেই টের পেয়েছে জাহান যে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

হায়া মেহরিমার ক্ষোভ কিছুটা হলেও টের পায়। সে তার অগোচরেই হেসে উঠে নিঃশব্দে। তারপর বলে–

—চল। কিন্তু একটা কথা বলে দিচ্ছি একা একা যাবি না কিন্তু। তোকে দিয়ে আসা হবে।

—কে দিয়ে আসবে? কার এত সময় আমার জন্য? আর আমি কি আজই প্রথম একা যাবো? আমি তো একাই, দুনিয়াতে আসছি পর থেকে একা। একাই চলাফেরা করি। কখনো কারো প্রয়োজন পড়েনি আজও পড়বে না।

—বেশি কথা বলিস। আমি যা বলছি তা করবি নাহলে তোর খবর করে ছাড়বো। এখন চল।

হায়া মেহরিমাকে ধমকে কথাগুলো বলে তারপর নিজের রুমের দিকে হাঁটা দেয়। এদিকে তারা যে পেছনে এক ক্ষেপাটে পাগল রেখে যায় তা তাদের অজানাই থেকে যায়।

________________________

—আন্টি এবার আমি আসি প্লিজ? এর বেশি দেরি করলে হোস্টেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আমায় আজকে ঢুকতেই দিবে না।

অসহায়ের মতো মুখ করে কথা গুলো বলে মেহরিমা। হানিয়া তার এমন মুখভঙ্গি দেখে হেঁসে দেয়। তারপর মেহরিমার কাছে এসে তার থুতনি ধরে কপালে আদর দিয়ে বলে–

—আচ্ছা বেশ যা আজ তাহলে। কিন্তু প্রমিজ করতে হবে, এখন থেকে মাঝে মধ্যে আমাদের সাথে দেখা করতে আসবি? আর একা যেতে পারবি না। তোকে আমাদের গাড়ি পৌছে দিয়ে আসবে।

—আচ্ছা আসবো দেখা করতে। কিন্তু গাড়ি লাগবে না আন্টি। আমি রিকশা করে চলে যেতে পারবো।

হানিয়া চোখ রাঙিয়ে বলে–

—যা বলেছি তাই হবে। কোন কথা শুনব না।

মেহরিমা মুখ গোমড়া করে বলে–

—আচ্ছা ঠিক আছে। তোমরা শুধু আমায় চোখ গরম দাও। তুমিও, তোমার মেয়েও আর তোমার ছে……

মাঝপথেই ব্রেক কষে মেহরিমা। কথায় কথায় কি বলে বসেছিলো সে নিজেও জানে না। হানিয়া লাস্টের কথাটা বুঝতে পারে না।তাই সে জিজ্ঞেস করে–

—লাস্টে কি বললি? আমার কে?

—তোমার ভাইয়ের ছেলে মানে আশিয়ান স্যার আরকি। সেও ক্লাসে পড়া না পারলে এমন করে চোখ গরম করে আমার তো টায়টায় ফিস হয়ে যায়।

ক্যাবলার মতো হাসি দিয়ে কথাটা বলে মেহরিমা। বেচারি না পারতে আশিয়ানের কথা বলে দেয়। কথাটা অবশ্য মিথ্যে না সত্যিই।

মেহরিমার কথা শুনে হানিয়া হেঁসে দেয়। টুকটাক কথা বলে মেহরিমা বিদায় নিবে তখনই সেখানে এসে হাজির হয় জাহান। সে তড়িঘড়ি করে কোথাও একটা যাচ্ছে। যাওয়ার আগে হানিয়াকে বলে –

—আম্মু, হসপিটালে একটা ইমার্জেন্সি কেস এসেছে। আমায় ডেকেছে যাওয়ার জন্য। আমি যাচ্ছি হসপিটালে। আল্লাহ হাফেজ তুমি টেনশেন করো না কিন্তু।

কথাটা বলে জাহান দরজার দিকে হাটা দিবে তখনই তাঁকে পেছন ডাকে হানিয়া। জাহান মায়ের ডাকে পেছন ঘুরে দাঁড়ালে হানিয়া বলে–

—তোমার হসপিটাল তো মেহরিমার হোস্টেলের রাস্তায় পড়ে। তাহলে তুমি মেহরিমাকে একটু ওর হোস্টেলে ছেড়ে দিও?

জাহান একবার মেহরিমাকে দেখে বলে–

—আচ্ছা। আসতে বলো ওকে, আমি গাড়ি বের করছি।

এরই মধ্যে মেহরিমা মিনমিনিয়ে বলে–

—আন্টি ভাইয়াকে আমার জন্য কষ্ট করতে হবে না। আমি যেতে পারবো।

জাহান এবার রেগে যায়। একদিকে প্রেয়সীর অভিমান যার জন্য তার মন মেজাজ কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে,তার দায়িত্ব তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আসলেই তাকে হসপিটাল থেকে ডাকা হয়েছে ইমার্জেন্সি। কিন্তু সে যদি হসপিটালে যাওয়ার আগে প্রেয়সীর মুখে হাসি না দেখতে পায় তাহলে হয়ত তার বিক্ষিপ্ততা দূর হবে না। তার মধ্যে এখন আবার এমন ঘাড়ত্যাড়া কথা।

সে গমগমে সুরে বলে–

—আমার দেরি হচ্ছে আম্মু? সে কি আসবে নাকি আমি চলে যাবো?

—না যাবে। তুই গাড়ি বের কর যা।

জাহান মায়ের কথায় চলে যায় গাড়ি বের করতে। এদিকে হানিয়া মেহরিমাকে বুঝিয়ে জাহানের সাথে যেতে রাজি করে। মেহরিমা হানিয়া ও বাকিদের থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। বাহিরে এসে দেখে জাহান গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে।

মেহরিমা গুটিগুটি পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেলে জাহান কথা বলতে বলতেই ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটের ডোর খুলে দেয়। দৃষ্টি তার অন্যদিকে। মেহরিমা একবার জাহানের দিকে তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। জাহান ডোর লাগিয়ে কথা শেষ করে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ে। মিনিটের ব্যবধানে গাড়ি চলতে শুরু করে।

এদিকে তাদের গাড়ি বাড়ির ফটক থেকে বের হয়ে মেইন রাস্তায় উঠলে দূর থেকে তাদের উপর নজর রাখা ব্যক্তিটি ফোন লাগায় কাউকে। ফোনের অপরপাশে থাকে ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে বলে–

— মির্জা বাড়ি থেকে মাত্রই একটা সাদা রঙের গাড়ি বের হয়েছে। সেটাকে ফলো করো আর সেটায় অবস্থান করা মেয়েটার সম্পর্কে সব খোঁজ নাও। এ টু জেড সবটা।

কথা শেষ করে খট করে ফোন কেটে দেয়। ব্যক্তিটির চোখ এখনও রাস্তার দিকে। তার চোখে একপ্রকার ক্রোধে ছাপ রয়েছে।

শব্দসংখ্যা-১৮০০
~চলবে?

[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here