সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৪৭ [রোমান্টিক এলার্ট⚠️]

0
23

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪৭ [রোমান্টিক এলার্ট⚠️]

রুমে চিন্তিত হয়ে বসে আছে রাহা। কাল রাত এগারোটায় আফিফ বের হয়ে গিয়েছে বাসা থেকে আজ সকাল এগারোটা পেরিয়ে একটা বাজতে চলল, কিন্তু তাও তার কোন খবর নেই। ফোনটাও বন্ধ বলছে। রাতে শুধু একবার ফোন দিয়ে বলেছিল আজ ফিরবে না। ব্যস, তারপর আর কোন খবর নেই।

হঠাৎই রাহার নিজেকে আর পাঁচটা সাধারণ বউয়ের মতো মনে হচ্ছে, যার স্বামী কিনা রাতে বাড়ি না ফেরায় ভীষণ চিন্তিত। রাহার অবচেতন মন বলে উঠে–

—আচ্ছা, সেসব বউয়েরা তো তাদের স্বামীকে ভালোবাসে বলে এত চিন্তা করে। তাহলে আমিও কি ডাক্তার সাহেবকে ভালোবেসে ফেলেছি? এত তাড়াতাড়ি একজনকে ভুলে আরেকজনকে ভালোবাসা যায়?

সে জানে না কেন, আজ এই দিনে, পৃথিবীর এত কোলাহলের মাঝেও তার বুকের ভিতরটায় একটা নিঃশব্দ ঝড় বয়ে যাচ্ছে। পা দুটো বিছানার কিনারায় ঝুলে আছে, কিন্তু মনটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ফোনটা হাতে নিয়ে শতবার দেখেছে যদি কোনো কল, কোনো মেসেজ আসে। কিন্তু না, কিছুই আসে না।

রাহা নিঃশব্দে ফিসফিস করে, যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছে—

—সেইসব মেয়েরা তো চোখে চোখ রেখে “ভালোবাসি” বলেছিল, তারপর হয়তো চিন্তায় কেঁদেছে। আমি তো কখনো বলিনি… তাও কেন এভাবে কষ্ট হচ্ছে?

হঠাৎই তার বুকটা ব্যথা করে ওঠে। মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। একফোঁটা নয়, দু’ফোঁটা নয়… একরাশ অজানা অশ্রু তার গাল বেয়ে ঝরে পড়ে।

—এটা যদি ভালোবাসা না হয়, তাহলে কি?
কেন আমি বারবার দরজার দিকে তাকাই? কেন এই নিঃশ্বাসগুলো এত ভারি লাগছে?ডাক্তার সাহেব… আপনি কেন ফিরছেন না?

তার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে। নিজের ওপর রাগ হয়, লজ্জা হয়, আবার একরাশ অভিমানও জেগে ওঠে।

—আমি কি এতটাই দুর্বল? এত তাড়াতাড়ি একটা মানুষকে ভুলে, আরেকজনের জন্য কাঁদছি কেন?
নাকি ভালোবাসা ঠিক সময় দেখে আসে না, সে তো হঠাৎই এসে বসে পড়ে বুকের এক কোণে? তাহলে কি জাহানের প্রতি আমার কোন ভালোবাসাই ছিল না? যা ছিলয় তা শুধুই জেদ?

রাহা জানে না, উত্তরগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে। শুধু জানে, অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আগমন করা সেই পুরুষটির সাথে সে নিজেকে এমন বাজে ভাবে জড়িয়ে ফেলেছে, যাকে ছাড়া রাহা এখন নিজেকে একদণ্ড একা ভাবতেও পারে না। যখনই ভাবতে চায় তখনই তার বুক প্রচন্ডভাবে কেঁপে উঠে।

রাহা যখন আফিফকে নিয়ে তার কল্পনার রাজ্যে বিভোর, ঠিক তখনই ক্লান্ত পায়ে দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করে আফিফ। খটরমটর আওয়াজে রাহার ধ্যান ভঙ্গ হলে সে দরজার দিকে তাকায়। বহুল কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখে রাহা এতক্ষণ ধরে করা সব দুশ্চিন্তা কোথায় যে পালিয়ে যায় রাহা নিজেও জানে না। হুট করে রাহা বসা থেকে দাঁড়িয়ে দৌড়ে গিয়ে আফিফের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আকস্মিকতায় আফিফ নিজের ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে সামলে নেয়। বিষয়টা বুঝতে তার বেশ কতক্ষণ সময় লাগে। কিন্তু যখনই বুঝতে পারে তখনই তার বিস্ময়ের শেষ থাকে না। রাহা আফিফকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, কেন কাঁদছে সে নিজেও জানে না। তার মনে হয়েছে বুকের ভেতর চাপা পড়া ভারী দীর্ঘশ্বাস গুলো মুক্ত করে দেওয়ার এটাই একটা পন্থা, তাই সে কাঁদছে।

আফিফ রাহার ফোঁপানোর আওয়াজ শুনে বিচলিত হয়ে পড়ে। কেউ কি তাকে কিছু বলেছে? নাহলে কাঁদছে কেন? আর কেই বা কিছু বলবে? বাসায় তো তারা হাতে গোনা চারজন মানুষ। তাহলে তার মায়ের সাথে কি কিছু হয়েছে?

আফিফ নিজের ভাবনা চিন্তাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ইতস্তত ভাবে রাহার মাথায় হাত রাখে। আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত করতে চায়। রাহা কিছুটা শান্ত হয়ে আসলে আফিফ তাকে আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে ময়নাপাখি? যেই চোখে সদা চঞ্চলতা খেলা করে সেই চোখে আজ বিষন্নতার অশ্রু কেনো?

এত আদুরে সম্বোধন আর কথা শুনে কার না ভালো লাগে। রাহা যেন আফিফের আলিঙ্গন আর সম্বোধনে আরেকটু প্রশ্রয় পায়। একটু শব্দ করে ফুপাতে থাকে। আফিফের চিন্তাগুলো এবার দুঃশ্চিতায় রূপ নেয়। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করে–

—কি হলো বলো? কেউ তোমায় কষ্ট দিয়ে কিছু বলেছে ? ওয়েট, আম্মু কি কিছু বলেছে তোমায়?

রাহা আফিফের বুকে মাথা রেখেই ডানে বায়ে মাথা নাড়ায়। তারমানে না, কেউ কিছু বলেনি তাঁকে। আফিফ আবারও জিজ্ঞেস করে–

—তাহলে কাঁদছ কেনো?

—আপনার জন্য।

সিক্ত গলায় উত্তর দেয় রাহা। আফিফ তার কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। তার জন্য রাহা কাঁদছে? কিন্তু কেনো? সে কি করল আবার যার জন্য মেয়েটা কাঁদছে?

—আমি আবার কি করলাম তোমায়?

—কি করেন নি বলেন।

হঠাৎই রাহা কান্না থামিয়ে দিয়ে ফুঁসে ওঠে। কোমড়ে দুই হাত রেখে রাগী গলায় বলে–

—অ্যাঁই, আপনি বাসায় ফিরেন নি কেনো হ্যা? আর আপনার ফোন বন্ধ কেন? চিন্তা লাগে না আমার? আপনি কি এখন একা যে যখন-তখন চলে যাবেন আর বাসায় ফেরার কোন তাড়া থাকবে না? আমায় কি মানুষ লাগে না আপনার হ্যা?

শেষের কথাটা বলতে বলতে রাহা আবারও কেঁদে দেয়। আফিফ তৎক্ষণাৎ তাকে নিজের বুকের আগলে নেয়। রাহা মিছেমিছি রাগ দেখিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে কয়েক বার কিন্তু আফিফ তাকে ছাড়ে না। বরং সোফায় তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসে পড়ে। তার মুখে ফুটে উঠেছে এক মনোমুগ্ধকর হাসি। রাহা তার জন্য চিন্তা করছিল। কথাটা মনে পড়তেই মনটা পুলকিত হয়ে উঠে। কেমন সুখ সুখ অনুভূতি হতে থাকে রাহাতের।

আফিফ মিটমিটিয়ে হাসতে হাসতে বলে–

—আমি তো জানতাম না আমার জন্য কেউ এত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে, তাহলে তো আরো আগে ফিরতাম সোনা। এই যে, এখন জেনে নিলাম। আজ থেকে আটটা বাজার সাথে সাথেই আমায় বাসায় পাবেন বেগম সাহেবা। এবার খুশি তো?

রাহার কান্না থেমে গিয়েছে ততক্ষণে। সে আফিফের বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে বলে–

—হুম।

সেভাবেই তারা কিছুক্ষণ বসে থাকে। তাদের দু’জনের ধ্যান ভঙ্গ হয় দরজায় নক করার আওয়াজে। আফরা এসেছে। রাহা আফিফকে ছেড়ে উঠতে চাইলে আফিফ তাকে ছাড়ে না। জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। রাহা আফিফের শার্টের বোতাম খুঁচাতে খুঁচাতে মিনমিনে সুরে বলে–

—ছাড়ুন, আম্মু এসেছে।

আফিফ তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ছাড়ার আগে রাহার কপালে নিজের উষ্ণ ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে তারপর ছাড়ে। রাহা বাধ্য মেয়ের মতো তা সাদরে গ্রহণ করে।কেনই বা করবে না। জীবনে যাকে সবচেয়ে বেশি চাইল তার ভালোবাসা তো পেলো না। এখন ওপরওয়ালা তার নামে যাকে লিখে দিল তার ভালোবাসা কোন সাহসে সে অগ্রাহ্য করবে? সে একদমই এমনটা করবে না। বরং লাগলে আরো চেয়ে চেয়ে নিবে। তার পূর্ণ হক আছে ভাই, হুহ্।

রাহা দরজা খুলে দিলে আফরা রুমে প্রবেশ করে। মা-ছেলে টুকটাক কথা বলার পর, হুট করে আফরা আফিফকে বলে–

—আজকের পার্টিতে যাবি না তোরা?

কথাটা বলে আফরা নিজেই থমকে যায়। সে অনুধাবন করতে পারে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে। সবকিছু জানার পরও রাহার সামনে এই কথা উঠানোতে নিজের উপরই নিজের রাগ হয় আফরার।

আফিফ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাড়াতাড়ি করে বলে–

—না আম্মু যাবো না। আজ আমরা দুই জন একটু বাহিরে যাবো। এখন আমি একটু ঘুমাব, কাল ঘুমাইনি সারারাত।

আফরাও আফিফের কথা শুনে চলে আসতে নিলে রাহা তাকে পেছন ডেকে উঠে। আফরা তাদের দিকে তাকালে রাহা স্বাভাবিক ভাবে বলে–

—আমরা যাবো পার্টি আম্মু। তুমি গিয়ে রেস্ট নাও। সবাই একসাথে রওনা হবো পার্টিতে যাওয়ার জন্য।

—আমি বললাম তো আজ আমরা দু’জন বের হবো।

রাহা আফিফকে মেকি ধমক দিয়ে বলে–

—মাথা ঠিক আছে আপনার? আপনার বোনের রিসেপশন পার্টি আর আপনিই কিনা যাবেন না। মেয়েটার মন খারাপ হবে না আপনাকে না দেখতে পেলে? আমি একবার বলেছি যখন যাবো তখন যাচ্ছি আমরা। আর কোন কথা না। আপনি ফ্রেশ হতে যান আমি ততক্ষণে আপনার খাবার নিয়ে আসছি। (আফরার কাছে এসে তার হাত ধরে হাটতে হাঁটতে বলে) চলো তো, বেশি কথা বলে তোমার ছেলে। শুরুতে শুরুতে এমন চুপচাপ থাকত আমি ভাবতাম ছেলেটা কথা বলতে পারে না নাকি। এখন দেখি কথা বলার উপর পিএইচডি করে রেখেছে।

আফিফ আর আফরা দুইজনই রাহার কথা শুনে হেঁসে দেয়। রাহারা চোখের আড়াল হতেই আফিফ জামাকাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়।

___________________________

শ্বশুরের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর নিঃশব্দে নিজের ঘরে ফিরে আসে হায়া। ক্লান্তি যেন তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জমে বসে আছে। কাল রাতটা চোখের পলক ফেলেনি সে একটিবারের জন্যও নয়। তার শরীরের এক দুর্বল দিক হলো, ঘুম না হলে সে খুব সহজেই ভেঙে পড়ে। মাথা ঝিমঝিম করে, দৃষ্টিও কেমন অস্পষ্ট হয়ে যায়।

নিঃশব্দে দরজাটা লক করে হায়া রিমোট হাতে নেয়, এসি চালু করে। তারপর ভারী পায়ের নিচে গালিচার নরম ছোঁয়া টের পেতে পেতে ধপ করে বিছানায় পড়ে যায়। চোখদুটো যেন অপেক্ষায় ছিল একটুখানি আরামের। মিনিট খানেকের মধ্যেই হায়া ঘুমের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়, সমস্ত ক্লান্তি আর অস্থিরতা পেছনে ফেলে।

ঘুমের গভীরতায় নিমগ্ন হায়া হঠাৎ টের পায় এক অতি চেনা, অতি আপন স্পর্শ তার মুখশ্রী ছুঁয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে আলতোভাবে, কিন্তু উত্তপ্ত এক উন্মাদনায়। কখনও তার ললাটে, কখনও চিবুকে, থুঁতনিতে, চোখের পাতায় এবং সবশেষে থেমে থাকে তার ওষ্ঠে। যেন প্রতিটা ছোঁয়া কোনো নিঃশব্দ আকুলতার ভাষা, অন্তহীন কামনার এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।

অস্বস্তিতে হায়ার নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে। ঘুমের ভেতরেও বিরক্তি ও অজানা আতঙ্কে সে ব্যক্তিটির ওষ্ঠে জোরে কামড়ে ধরে, যেন ব্যথায় সে সরে যায়। কিন্তু না, ব্যক্তিটি যেন আরও উন্মাদ হয়ে ওঠে হায়ার প্রতিরোধেই। তার দখলদারি আরও প্রবল, আরও নির্ভীক।

হায়ার শরীর জেগে উঠলেও মস্তিস্ক এখনো ঘুমের ঘোরে, চোখ মেলে তাকানো যেন এক দুঃসহ শাস্তি তার জন্য। তবুও সে কোনো মতে নিজের ওষ্ঠ ছাড়িয়ে নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয় একপাশে, সেই পুরুষটির ঠোঁট থেকে নিজেকে আড়াল করতে চায়। এই সরল প্রত্যাখ্যানেই পুরুষটি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মন যে এখনও অভিমানী, কাল যা করেছে হায়া, তাতেই কি কম কষ্ট পেয়েছে সে? আজ কাছে টানতে গেল, তাতেও তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।

পুরুষটির রাগের উষ্ণতা ছুঁয়ে যায় হায়ার কাঁধে। পুরুষটির ধারালো দাঁতের এক প্রবল চাপ, যেন সে বুঝিয়ে দিতে চায় নিজের মালিকানা। ব্যথায় ছটফট করে ওঠে হায়া তখনও ঘুম আর বাস্তবতার মাঝামাঝি এক বিভ্রান্তকর অবস্থায় আঁটকে যায়। মুক্তি চায় সে, সেই অসহনীয় যন্ত্রণার ছায়া থেকে। কিন্তু মুক্তি কি এত সহজে মেলে? পুরুষটি তো তাকে ছাড়ার জন্য নয়, তাকে নিজের করে তোলার জন্যই ফিরে এসেছে।

হায়া ব্যথায় গুঙিয়ে উঠলে পুরুষ টির বোধহয় একটু মায়া হয়। সে হায়ার কাঁধ থেকে মুখ সরিয়ে তার কানের কাছে নিজের মুখটা নিয়ে গিয়ে, গম্ভীর পুরুষালি গলায় হিসহিসিয়ে বলে–

—লাগলে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবো কিন্তু তাও তোকে আমার থেকে আলাদা হতে দিবো না। এই এক জনমে তুই শুধু আমার, আমার পারসোনাল প্রপার্টি।

হায়া সবটাই শুনে কিন্তু কোন প্রতিত্তোর করে না। গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে পুরুষটিও তার বউয়ের অসুস্থতার কথা মনে পড়ে যাওয়ায় আর জ্বালায় না। সেও ভদ্রলোকের মতো বউয়ের বুকে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে পড়ে। হায়াও অভ্যাসবসত তার ব্যক্তিগত পুরুষ টিকে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরে।

____________________

হায়ার ঘুম ভাঙে বিকেল চার টায়। চোখ বন্ধ রেখেই সে অনুভব করে তার বুকের উপরটা হালকা। আশেপাশে হাতড়ে যখন কাউকে পায় না তখন ফট করে চোখ খুলে ফেলে। তার স্পষ্ট মনে আছে কেউ তার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আদরের নামে কিছু বেদনাদায়ক আঘাত করল। শাসাল, তার বুকের উপর পূর্ণ অধিকার নিয়ে ঘুমাল। কিন্তু এখন নেই। কেনো নেই সেটা বুঝে উঠতে পারছে না হায়া। নাকি সবটাই তার ঘুমের ঘোরে দেখা এক সুখকর স্বপ্ন? স্বপ্নও নুঝি এত বাস্তব হয়?

হায়া কি মনে করে ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে দাড়ায়। কাধের থেকে কিছুটা জামা সরিয়ে সেদিকটায় দৃষ্টি নিবন্ধন করে। নিমিষেই ঠোঁটের কোণায় স্নিগ্ধ হাসির রেখা ফুটে ওঠে। সেখানে জ্বলজ্বল করতে থাকা দুটো লাল লাল দাগ তাকে বলে দিচ্ছে, সে স্বপ্নে সেই স্পর্শ গুলো অনুভব করেনি। বরংচ ব্যক্তিটি বাস্তবেই এসে এসব করে গিয়েছে।

আয়নার প্রতিফলন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে গিয়েই হায়ার চোখ আটকে যায় এক কোণে রাখা শপিং ব্যাগে। কৌতূহল ভরেই এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা খুলে দেখে—ভেতরে রয়েল ব্লু রঙের এক মনমুগ্ধকর কাতান শাড়ি। পাড়জুড়ে সূক্ষ্ম সোনালি কারুকাজ, যেন রাজকীয়তার প্রতীক হয়ে তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।

শাড়িটার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হায়া কিছুক্ষণ তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এমন শাড়ি যেন গল্পের রাজকন্যাদের জন্যই বরাদ্দ থাকে। হাত বোলাতে বোলাতে সে আবিষ্কার করে, শাড়ির নিচে একটা ছোট্ট চিরকুট গোঁজা ছিল। নিঃশ্বাস আটকে খুলে পড়ে চিরকুটটা।

সেই চিরকুটে স্পষ্ট, দৃঢ় এক হস্তাক্ষরে লেখা—

“এই শাড়ি বাদে যদি অন্য কোনো বস্ত্র তোমার অঙ্গে দেখি, তাহলে পরবর্তীতে আমি নিজ হাতে এই শাড়িটাই তোমায় পরাবো।
And I mean it, Mrs. Ashiyan Mirza.”

চিরকুটের শেষ লাইনে ‘Mrs. Ashiyan Mirza’ সম্বোধনে যেন হায়ার সমস্ত অস্তিত্ব কেঁপে ওঠে। এক অদৃশ্য অথচ অমোঘ দাবি—একবার যে সম্পর্কের বন্ধনে তারা বাঁধা পড়েছে, তা ছিন্ন করার অধিকার যেন কারও নেই। আশিয়ান যেন চোখে আঙুল দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়—এই জন্মে নয়, কোনো জন্মেই সে হায়াকে ছাড়বে না।

চিরকুট টা পড়া শেষ হলে হায়া একটা ভেঙচি মারে। বিরবিরিয়ে বলতে থাকে–

—পরবো না তোর দেওয়া শাড়ি শয়তান চার চোখা মাস্টার।

হায়া মুখে তো বলে এক কথা কিন্তু কাজ করে উল্টো টা। শাড়ির সাথে দেওয়া ব্লাউজ আর পেটিকোট নিয়ে চলে যায় ওয়াশরুমে শাওয়ার নিতে।

____________________________

বাবার পরপর দেওয়া ফোন কলে হায়াকে চিন্তিত করে তুলে। সে পুষ্পে সজিত রুমটাকে আরেকবার পর্যবেক্ষণ করে সেটা থেকে বের হয়ে আসে। কলটা রিসিভ করে কানে লাগিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতে থাকে–

—হ্যাঁ, পাপা বলো।

—তুমি কোথা মামুনি? পার্টি তো শুরু হয়েছে সেই কখন। সবাই তোমার কথা জিজ্ঞেস করে চলছে।

—পাপা একটু বিজি ছিলাম আমি আসছি দুই মিনিটে।

হায়া কল কেটে নিচে গার্ডেনের উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়, যেখানে আপতত পার্টি চলছে। সে এতক্ষণ লাগিয়ে তার ভাইদের বাসর ঘর সাজালো।

____________________________

অন্ধকার রুম টিতে একটি পুরুষ হায়ার স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো ছুঁইয়ে দিচ্ছে তার হাত দ্বারা, সেই সাথে উন্মাদের মতো কাঁধে, গলায় ঠোঁটের স্পর্শ গুলো তো রয়েছেই। হায়ার অনেক চেষ্টা করেও লোকটির থেকে ছাড়া পাচ্ছে না। পুরুষ টির শরীর থেকে আসা হালকা স্মেলটা তার পরিচিত পরিচিত মনে হচ্ছে কিন্তু সঠিকভাবে ঠাহর করতে পারছে না।

হায়া বহু কষ্টে নিজের শরীরের সব শক্তি কাজে লাগিয়ে পুরুষটিকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। চিলেকোঠার রুমটি তার অতিপরিচিত হওয়ায় ঘুটঘুটে অন্ধকারেও হাতড়াতে হাতড়াতে লাইটের সুইচ পেয়ে যায়। সুইচে চাপ দিতেই পুরো রুম আলোকিত হয়ে যায়। হায়া তাড়াতাড়ি করে পেছনে ঘুরে তাকে স্পর্শ করা পুরুষটিকে দেখার জন্য।

লোকটিকে দেখে হায়া হতভম্ব, স্তব্ধ হয়ে যায়। তার অজান্তেই মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়–

—এ কি আপনি?

শব্দসংখ্যা~২০৪৪
~চলবে?

[কে হতে পারে ব্যক্তিটি? আশিয়ান নাকি ফারাবী?

আরো একবার দুঃখিত কথা রাখতে না পারার কারণে। আজ ছোট বলে অভিযোগ করলে আমি কিন্তু কষ্ট পাবো🥹 সকলের কাছ থেকে বেশি বেশি রেসপন্স আশা করছি।

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here