সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৪৯

0
22

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৪৯

আফিফ নিজের চুল রাহার হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু রাহা ছাড়ছেই না। ক্লান্ত হয়ে সে বিবশ মুখে বসে পড়ে আর চেষ্টা করে না রাহার হাত থেকে নিজের পছন্দের চুলগুলোকে মুক্ত করতে। রাহা এতক্ষণ আফিফের প্রতিহত করার প্রচেষ্টা দেখে বেশ মজা পাচ্ছিল, যেই আফিফ প্রচেষ্টা করা ছেড়ে দিল রাহার মজায়ও যেনো কেউ একমুঠো ছাই ছিটিয়ে দিল।

রাহা আপনাআপনি আফিফের চুল ছেড়ে দেয়। তারপর একসাথে বেশ কয়েকবার চোখের পলক ঝাপিয়ে আফিফকে দেখতে থাকে। সাদা শার্টের হাতা গুলো কনুই পর্যন্ত গোটানো। রাহার সাথে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে বেচারা বেশ ঘেমে গিয়েছে যার দরুন কপাল বেয়ে ঘাম চুইয়ে চুইয়ে গলার নিচে চলে যাচ্ছে। গলার দিকে তাকাতেই রাহার কি জানি একটা হলো, সে ঘোরে চলে যায়। বিশেষ করে আফিফের অ্যাডামস এপেলের দিক থেকে তার নজর পরতেই তার শরীরে এক শিহরণ বয়ে যায়। সে অনুভব করে আফিফ লোকটা ভীষণ সুন্দর। সেটা তার মন হোক বা শরীর।

অন্যদিকে আফিফ তার ক্লাম্ত গা এলিয়ে দেয় সেফায়।চোখ বন্ধ করতেই কয়েক ঘণ্টার আগের দৃশ্য একের পর এক ভেসে ওঠে চোখের ক্যানভাসে।

______________________

কয়েক ঘন্টা আগে~

রাহা এতদিন আফিফের সাথে থাকার সময় খুব কমই জাহানকে মনে পরেছে তার। রাহা মনেপ্রাণে আফিফ ও তার সম্পর্কটাকে একটা সুযোগ দিতে চায়। সে চায় তারও আর পাঁচটা মেয়ের মতো ভালোবাসায় ঘেরা একটা সংসার হোক। আফিফ তাকে নিজের ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখুক। আর এসব ভেবেই সে সবসময় নিজেকে অনেকটা বেশি ব্যস্ত রাখতীগ সংসারের কাজে যাতে অবসর সময়ে তার মাথায় জাহান রিলেটেড কোন কথা না ঘুরে। সফলও হয়েছে এমন পরিকল্পনায়, কিন্তু আজ যেনো তার এই একমাসের পরিশ্রম পন্ড হয়ে গেলো।

আজকের পুরোটা সময় সে জাহান-মেহরিমাকে সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে খেয়াল করেছে। জাহানের চোখের মেহরিমার প্রতি এক আকাশসম ভালোবাসা তাকে বড্ড আহত করেছে। না চাইতেও তার মন বলে উঠেছে, এত ভালোবাসার মালিক আমি হলাম না কেনো? দীর্ঘশ্বাস বেড় হয়ে এসেছে তার। সে মেহরিমাকেও লক্ষ্য করেছে। সে নিজেও জানে, মেহরিমা মেয়েটা অনেক লক্ষী আর শান্ত স্বভাবের। মনটা একদম স্বচ্ছ কাঁচের মতো। আর তার এই ভালোমানুষির সুযোগ নিয়েছিল সে ও তার বাবা। জোর করে পেতে চেয়েছিল জাহানের পবিত্র ভালোবাসাকে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, দুনিয়ায় সবকিছু জোর করে পাওয়া গেলেও ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

এসব ভেবেই নিজের প্রতি দুঃখ ও ক্ষোভ দু’টোই হয় রাহার। তখন একটা ওয়েটার হাতে একটা ট্রে-তে করে কতগুলো ড্রিংসের গ্লাস নিয়ে যাচ্ছিল। রাহা ওয়েটারটিকে ডাক দিয়ে তার ট্রে থেকে একটা গ্লাস উঠিয়ে নেয়। ওয়েটার টিও রাহাকে গ্লাসটি দিয়ে চলে যায়। রাহা দুই চুমুকে গ্লাসটা শেষ করে ফেলে। খাওয়ার পর তার মাথা ধরে যায় ঝাঝে। আসলে সেটা ওয়াইন ছিল। পার্টিতে অনেক বড়বড় বিজনেসম্যান এসেছি, তারা ওয়াইন খাওয়ায় জাভিয়ান স্বল্প পরিসরে তাদের জন্য ওয়াইনের ব্যবস্থা করেছি। আর রাহা সেই ওয়াইনকেই সফট ড্রিংকস ভেবে খেয়ে নেয়।

শুরুতে রাহার খেয়ে ভালো না লাগলেও একটু পর ভালো লাগতে শুরু করে। শরীরটা কেমন হালকা হালকা লাগতে শুরু করে। আশেপাশের সবকিছু ভালো লাগতে শুরু করে। দূরে কয়েকজন পুরুষের সাথে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকা তার বরটাকে তো রাহার আরো ভালো লাগতে শুরু করে। রাহা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সে তার গালে একহাত রেখে মনে মনে বলে উঠে–

—আল্লাহ আমার বরটা এত কিউট কেন? আবার কি কিউট করে হাসছে? মনটা চাইছে একটা চুমু খেয়ে আসি।

রাহা তার মনের ইচ্ছে দাবিয়ে রাখল না। টলমলে পায়ে হেঁটে আফিফের কাছে চলে আসে। তার পেছনে দাঁড়িয়ে ডান হাতের তর্জনী আঙুল দিয়ে আফিফের বাহুতে খোঁচাতে থাকে। আফিফ তার খোঁচা খেয়ে পেছনে ফিরে তাকালে রাহাকে ঠোঁট উল্টে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। চোখ গুলো কেমন ঘুমো ঘুমো হয়ে আছে। আফিফ রাহাকে জিজ্ঞেস করে–

—কি হয়েছে রাহা? কিছু বলবে?

—হুম।

রাহা বাচ্চাদের মতো করে মাথাটা উপর নিচ করে বলে। রাহার ভাব ভঙ্গি দেখে রাহাতের কপালে ভাজ পড়ে কয়েকটা। সে রাহাকে জিজ্ঞেস করে–

—কি বলবে? কিছু চাই তোমার?

—হুম।

—কি চাই?

—আপনাকে?

—আমাকে? কিন্তু কেনো?

খানিকটা অবাক হয়েই বলে আফিফ।

—চুমু খাবো তাই।

সরল গলায় কথাটা বলে রাহা। অথচ তার এই কথা শুনে আফিফের চোখগুলো বের হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। পেছন থাকা তার কলিগ গুলো রাহার কথা শুনতে পেরে ঠোঁট চেপে হাসতে থাকে। জাহান আর সে একই পেশায় থাকা, জাহান তার কিছু কলিগদের ইনভাইট করেছে পার্টিতে। যারা একসময় আফিফেরও কলিগ ছিল।

আফিফ পেছনে ঘুরে হাস্যরস কলিগদের একবার দেখে নেয়। তারপর “এক্সকিউজ মি” বলে রাহার হাত ধরে তাকে একটা খালি জায়গায় নিয়ে আসে।তারপর তার হাত ছেড়ে দিয়ে বলে–

—রাহা কি হয়েছে তোমার? এমন উদ্ভট কথা বলছ কেনো?

—কিসের উদ্ভট কথা বলছি জামাই?

কথাটা বলে সে ঠাস করে আফিফকে জড়িয়ে ধরে। তার এমন কাজে আফিফ আরো একবার চমকে যায়। আফিফ তড়িঘড়ি করে রাহাকে নিজের থেকে সরিয়ে আশেপাশে একবার নজর বুলিয়ে নেয় কেউ দেখেছে কিনা। তারপর কিছুটা শক্ত গলায় রাহাকে বলে–

—রাহা এমন করছো কেন তুমি? কি হয়েছে তোমার? আর তুমি এমন টলছো কেনো? সোজা হয়ে দাড়াও দেখি।

রাহা হিহি করে হেঁসে বলে–

—টলছি কই জামাই? আমি তো আকাশে উড়ছি। দেখেন কি সুন্দর করে উড়ছি আমি। আপনি উড়েন আসুন।

কথাটা বলে রাহা আফিফের দুই হাত মেলে দেওয়ার জন্য আবারও তার অনেকটা কাছে চলে আসলে আফিফ কড়া একটা স্মেল পায়। সে রাহাকে দূরে না সরিয়ে তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে শুঁকে দেখে রাহাকে দিয়ে ড্রিংকসের স্মেল আসছে।

আফিফ অবাক হয়ে রাহাকে জিজ্ঞেস করে–

—তুমি ড্রিংকস করেছো রাহা?

—না তো।

সরল গলায় উত্তর দেয় রাহা। আফিফ তার জবাব শুনে বলে–

—তাহলে এমন কড়া স্মেল আসছে কেনো তোমার থেকে? কি খেয়েছো তুমি?

—আমি তো তেমন কিছু খাই নি। শুধু জাহান আর মেহরিমাকে দেখে বুক ভারী হয়ে এসেছিল কষ্টে তখন একটা ওয়েটার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। আমি তার থেকে একটা এপেল জুসের গ্লাস নিয়ে খেয়েছি।

নেশাক্ত গলায় একের পর এক কথা বলে যাচ্ছে রাহা। আফিফ বুঝে যায় রাহা ভুল বসত হয়ত ওয়াইন খেয়ে ফেলেছে। তাকে এখান থেকে এখন না নিয়ে গেলে তার ও রাহার আরো ফেসলস হতে পারে। আফিফ রাহাকে এবার শান্ত ও কোমল গলায় বলে–

—তুমি এখানে লক্ষী মেয়ের মতো দাঁড়াও হ্যা। আমি আম্মু আর বাবাকে বলে আসছি, আমরা চলে যাবো এই কথা।

কথাটা বলে আফিফ রাহাকে ছেড়ে তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে নিলে রাহা হুট করে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। আর বলে–

—না না, যেতে দিব না।

—আরে বাবা, এক মিনিটের ব্যাপার। আমি যাবো আর আসব। দেখো তোমার শরীর খারাপ করবে পরে আরো। ছাড়ো আমায় রাহা।

—না আগে চুমু খাও তারপর ছাড়ব।

আফিফ এবার বিপাকে পড়ে যায়। রাহা জেদ ধরে আছে চুমু না খাওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না। অগ্যাত আফিফ রাহাকে আরেকটু আঁধারে নিয়ে গিয়ে তার কপালে চুমু দেয়। রাহা সেটায় সন্তুষ্ট হয় না। সে আফিফকে তার গাল দেখিয়ে দেয়। আফিফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাহার গাল গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। তারপর রাহা বামগালেও ইঙ্গিত করে। আফিফ সেটা তেও দেয়। সবশেষে রাহা তার ঠোঁট দুটো পাউট করে দেখালে এবার আফিফ দেয় এক রাম ধমক।

এমন না সে বিরক্ত রাহার কাজে। কিন্তু তার অস্বস্তি হচ্ছে পাবলিক প্লেসে বউয়ের এমন আবদারে। যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে বিশ্রী এক অবস্থা হবে। আফিফ রাহাকে কড়া গলায় বলে–

—চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। আমি এসে যদি না পাই তাহলে বাসায় গিয়ে পায়ের গোড়া ভাঙব তোমার।

রাহা ভয় পেয়ে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আফিফ তার বাবা-মাকে বলে বোনের থেকে বিদায় নিয়ে তখনই বেরিয়ে যায়। সারাটা রাস্তা দু’জনের একজনও কথা বলে না। বাসায় এসেই রাহা তার চেপে রাখা রাগ বের হয়ে আসে। সে এতক্ষণ আফিফের চুল টানছিল তাকে তখন ধমক দেওয়ার জন্য।

_______________________

বর্তমান~

হুট করে নিজের কোলের উপর কারো অস্তিত্ব টের পেয়ে আফিফ চোখ মেলে চায়। রাহাকে দেখতে পেয়েও সে কিছু না বলে পুনরায় চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। মিনিট খানিক পর নিজের অ্যাডামস এপেলে রাহার কোমল ওষ্ঠের ছোঁয়ায় আফিফ কেঁপে ওঠে। সেই সাথে ভীষণ চমকে গিয়ে শরীর উঠাতে গেলে রাহা আফিফের উপর নিজের সব ভড় ছেড়ে দিয়ে আয়েশ করে বরকে আদর করতে থাকে।

________________________________

জাহান পুষ্পে সজ্জিত পুরো কক্ষ টায় কয়েকবার চোখ বুলিয়ে নেয়। কিন্তু নাহ, তার বউ কোথাও নেই। ওয়াশরুম চেক করে সেখানেও নেই। সেইবার রিসোর্টে গিয়ে মেহরিমাকে না পেয়ে যেমন বিচলিত হয়ে পড়েছিল তেমনই বিচলিত হয়ে পড়ছে। কিন্তু সেইবারের মতো ভালোভাবে সব জায়গা চেক না করে হুলুস্থুল করে না।

সে সব শেষে বেলকনির দিকে হাঁটা লাগায় দুরুদুরু বুকে। মনে মনে প্রার্থনা করছে সেখানে যেনো মেহরিমা থাকে। তার প্রার্থনা কবুলও হয়। মেহরিমাকে জাহান বেলকনিতে খুঁজে পায়। মেহরিমাকে দেখে জাহানের হৃৎস্পন্দন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে যায়। সে বেশ কয়েকবার মেহরিমাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্ক্যান করে। মেহরিমাকে যতই দেখছে ততই তার গলা থেকে বুক পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। মেহরিমা একটা সি গ্রীন কালারের জর্জেটের শাড়ি পরেছে,
যার ব্লাউজও স্লিভলেস। চাঁদের রূপালী আলো মেহরিমার বাহুদ্বয়ে পরে চকচক করছে।

মেহরিমা আকাশের জ্বলজ্বল করতে থাকা চাঁদ দেখছিল বলে সে তখনও জাহানের উপস্থিতি টের পায় নি। মিনিট খানেক পর জাহান নিজের অনুভূতি গুলোকে কোন মতে সামলে নিয়ে হালকা করে গলা খাঁকারি দেয়, মেহরিমার এটেনশন পাওয়ার জন্য। মেহরিমা তার গলা খাঁকারি শুনে কিছুটা চমকে গিয়ে পেছনে ফিরে তাকায়। জাহানকে দেখে মেহরিমা প্রচন্ড লজ্জা পেয়ে যায়। সে এমন ড্রেসআপ করতে চায়নি কিন্তু তার বান্ধবীরূপী বোন গুলো ধমকেধামকে তাকে এই শাড়ি পরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। সেই সাথে বলে গিয়েছে কিভাবে কিভাবে বরকে হাতের মুঠোয় আনতে হয়।

মেহরিমা চোখজোড়া বন্ধ করে লম্বা করে একটা শ্বাস নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে সাথে সাথেই ঐটা আবার বাহিরে ছেড়ে দেয়। তারপর চোখ খুলে মোহনীয় একটা হাসি ফুটিয়ে তোলে নিজের ওষ্ঠে। সেই হাসি দেখে জাহানের আশেপাশের সবকিছু থমকে যায়।

মেহরিমা তার ডানহাত উঠিয়ে এক আঙুল দিয়ে ইশারা করে জাহানকে নিজের কাছে ডাকে। জাহান সম্মোহনীর মতো হয়ে মেহরিমার আঙুলের ইশারায় তার দিকে যেতে থাকে। মেহরিমার থেকে আধা হাত দূরে এসে জাহান থেমে যায়।

পরবর্তী কাজগুলো মেহরিমা নিজেই করে। বেলকনিতে থাকা ছোট টি-টেবিলের উপর থেকে সাদা গোলাপের বুকেটা উঠিয়ে জাহানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। তারপর মনোহরণ করা গলায় বলে–

—আমি জানি না, মনের অনুভূতি গুলো কিভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে হয়। ছোট থেকে তো কাউকে অভিভাবক হিসেবে পাশে পায়নি যে কিনা শিখাবে। আমি আমার মতো করে, আমার অনুভূতি গুলোকে আপনার সামনে পেশ করছি। আপনি একটু কষ্ট করে হলেও বুঝে নিয়েন জাহান।

জাহান হা করে মেহরিমার কথা গুলো শুনছে। প্রতিত্তোর করার মতো কোন ভাষা পাচ্ছে না সে। মেহরিমা আবার বলতে শুরু করে–

—আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো হায়াকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া। কারণ সে যদি আমার মতো এতিমকে নিজের বন্ধু না বানাত, আমার হয়ত আপনাকে পাওয়া হতো না। এর জন্য আমি চিরকাল ওর কাছে ঋণী থাকব। প্রথম আপনাকে যেদিন ভার্সিটিতে দেখেছিলাম সত্যি বলতে আমিও কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। একজন ছেলের গেলে একজন মেয়ে অন্যের পুরুষের দৃষ্টি পড়ে ফেলতে পারে। আমিও পেরেছিলাম। কিন্তু তা নিছকই সহানুভূতি ভেবে ইগনোর করেছিলাম। দিনকে দিন আমার প্রতি করা আপনার পাগলামি গুলোতে আমি না চাইতেও মন দিয়ে ফেলছিলাম। মন চাইত আপনার সাথে আমিও ভালোবাসার পাগলামিতে মেতে উঠি, কিন্তু দিন শেষে একটা কথা ভেবে নিজেকে সামলে রাখতাম যে, আমি এতিম।

কথাগুলো বলতে বলতে মেহরিমার গলা ধরে আসছে। সে একটা ঢোক গিলে বলে–

—আমার সাথে আপনার বৈসাদৃশ্য আকাশচুম্বী। যার কারণে বারংবার আপনাকে ফিরিয়ে দিতাম। আপনাকে ফিরিয়ে দিয়ে যে আমি ভালো থাকতাম তা কিন্তু না। আমার নিরব আর্তনাদ গুলোর স্বাক্ষী আমার বালিশ ও সেজদার জায়গাটা। একসময় সব কিছু ভুলে, আপনার ভালোবাসায় এতটাই আসক্ত হয়ে পরেছিলাম যে, ঠিক করেছিলাম আর অপেক্ষা করাবো না আপনাকে। আপনারও অধিকার আছে ভালোবাসা পাওয়ার। কিন্তু তখনই রাহা আর রাহাত আঙ্কেলের কথাগুলো আমায় আবারও মনে করিয়ে দিল আমি কে? কি আমার পরিচয় এই সমাজে? তাই তো বোকার মতো আপনার পবিত্র ভালোবাসাকে পায়ে ঠেলে হারিয়ে গিয়েছিলাম। জানেন জাহান, চট্টগ্রামে যাওয়ার পর, আমি প্রতিটা সেজদায় দু’টো দোয়া চাইতাম। প্রথমটা হলো, আপনি যেনো পৃথিবীর সবচাইতে বেশি সুখী মানুষটি হন। দ্বিতীয়টি হলো, আমার মৃত্যু।

হ্যাঁ, নিজের মৃত্যু চাইতাম আমি। কারণ আমি তখন হাঁপিয়ে উঠেছিলাম ভালোবাসা না পেতে পেতে। তারপর যখন আমি আবার আমায় খুঁজে বের করলেন আর নিজের অর্ধাঙ্গিনীর স্বীকৃতি দিলে বিশ্বাস করবেন না, সেদিনের মতো খুশি আমি আমার বাইশ বছরের জীবনে কখনো হয়নি। এত কথা শেষ একটা কথাই বলতে চাই, আমিও আপনাকে অনেক ভালোবাসি জাহান। হয়ত আপনার মতো এতটা প্রখর না, কিন্তু কাউকে যতটা ভালোবাসা যায় তার সবটা দিয়ে আপনাকে ভালোবাসি।

প্লিজ আর আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবেন না। আমায় আবার আপনার ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে নিন। আপনার ভালোবাসা ছাড়া নিজেকে প্রাণহীন দেহ বলে মনে হচ্ছে। এই জন্মদুঃখী, অভাগীর একটা ব্যক্তিগত মানুষের বড্ড অভাব। আর আপনি ছাড়া এই অভাব আর কেউ পূরণ করতে পারবে না।

কথাগুলো বলতে বলতে মেহরিমার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। জাহানের চোখেও অশ্রুতে আনাগোনা দেখা যায় কিন্তু ঠোঁটের কোণে মন মাতানো হাসি ফুটে ওঠে। মেহরিমা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জাহানের উত্তর শোনার জন্য। কিন্তু হঠাৎই জাহান মেহরিমার মনটাকে ভেঙে দিয়ে কোন উত্তর না দিয়ে রুমে চলে যায়।

শব্দসংখ্যা~২০০০
~চলবে?

[আজকের পর্বেও ৪৫০ রিয়াক্ট হবে তো?

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here