সাঝের_প্রণয়ডোর #সাদিয়া_সুলতানা_মনি #পর্ব_৫৮

0
20

#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৫৮

সকাল বেলা সকালেই চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ শুনে জাহান ও মেহরিমার ঘুমটা ভেঙে যায়। জাহান একটু নড়েচড়ে মেহরিমাকে জড়িয়ে ধরে পুনরায় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলে, মেহরিমা তার প্রস্তুতিতে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে উঠে পড়ে। তার পরনে থাকা জাহানের শার্টটা টেনেটুনে ঠিক করতে করতে বেড থেকে নামতে নিবে তখনই জাহান তার হাত টেনে ধরে আবারও শুয়ে দেয়। জাহানের এহেন কাজে মেহরিমা কিছুটা চমকে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে ধাতস্থ করে জাহানকে নিজের থেকে ঠেলতে ঠেলতে বলে–

—জাহান, ছাড়ুন আমাকে। ফ্রেশ হবো আমি।

জাহান মেহরিমাকে নিজের সাথে আরেকটু তার গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে ঘুম ঘুম গলায় বলে–

—নো ছাড়াছাড়ি, আমি আরো ঘুমাবো। তুমিও ঘুমাও।

মেহরিমা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে করতে বলে–

—আজব তো! আপনি ঘুমালে ঘুমান, আমাকে উঠতে দিন না। বাহির থেকে চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ আসছে। গিয়ে দেখি কি হলো আবার।

জাহান তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেয়–

—এত দেখা লাগবে না। তুমি উঠে গেলে আমার আর ঘুম আসবে না বউ, প্লিজ একটু থাকো। আমি এখনও অনেক টায়ার্ড, আর আমি জানি তুমিও। সারারাত তো ঘুমাতেই পারলে না আমার জন্য একটুও। এখন ঘুমাও।

জাহানের কথা শুনে মেহরিমার গাল গরম হয়ে যায়। লজ্জায় হাস ফাঁস করতে থাকে মেয়েটা। বিয়ের আগে কখনো কল্পনাও করতে পারে নি সে যে, জাহান এত ঠোঁটকাটা স্বভাবের হবে।

সময়ের সাথে সাথে মেহরিমা ছটফটানি বাড়তে থাকে। জাহান বুঝে আজ, বউ তার আর ঘুমাবে না। যেই বিছানায় বউ নেই সেই বিছানায় সে থেকে কি করবে ভেবে নিজেও উঠে পড়ে শোয়া থেকে। জাহান শোয়া থেকে উঠতেই মেহরিমাও উঠে হুড়মুড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে যেতে চায়, কিন্তু বিধিবাম। তার বর সাহেব নিজেই তার খেদমতে হাজির। জাহান মেহরিমাকে সহ ওয়াশরুমে ঢুকে যায় ফ্রেশ হতে। এবার লজ্জায় মেহরিমার জান যায় যায় অবস্থা।

তাদের বিয়ের তিনমাস হয়ে গিয়েছে অলরেডি তাও সে জাহানের ছোট ছোট স্পর্শ, আদরে লজ্জাবতী পাতার ন্যায় নুইয়ে পড়ে। জাহান তার বউয়ের এত লজ্জা দেখে আরো বেশি লজ্জা দিতে তৎপর হয়ে উঠে। সে যে বড্ড বেশি ভালোবাসে বউটার লাজে রাঙা মুখখানা দেখতে।

দু’জনে একসাথে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলে দেখতে প্রায় ড্রয়িংরুমের পরিবেশ রমরমা। তার বাবা, মা, জায়িন সকলের মুখে হাসি। আদিবার মুখটাও হাসি হাসি কিন্তু তার চেয়ে বেশি লজ্জালু ভাব। জাহান নিচে এসে তার বাবা ভাইয়ের কাছে চলে যায় জানতে কি হয়েছে। আর মেহরিমা এসে শ্বাশুড়ির পাশে দাঁড়ায়। জাহান জায়িনের মাথায় গাট্টা মেরে বলে–

—কি রে, বাদরের রাজা, সকাল সকাল এত চিৎকার চেচামেচি করছিস কেনো? লটারি জিতেছিস নাকি?

জায়িন জাহানকে দেখে বেশ ভাব নিয়ে বলে–

—হাহ্, লটারির চেয়ে বেশি কিছু।

—তাই বুঝি? তা শুনি কিসের জন্য আপনি বাড়ি মাথায় করে তুলেছেন?

জায়িন একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে–

—তালুকদার বাড়ির বাদরের রাজার ঘরে বাদর রাজপুত্র অথবা রাজকন্যা আসতে চলেছে।

তার কথা শুনে জাহান আর মেহরিমার চোখজোড়া বড়বড় হয়ে যায়। তারা বুঝতে পেরে গিয়েছে জায়িন কি বলছে। মেহরিমা বান্ধবীর কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। জাহানও ভাইকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানায়। তালুকদার বাড়িতে আজ আবার কয়েক যুগ পর নতুন প্রাণের আগমনের খবর এলো। সকলে খুশিতে আটখানা হয়ে রয়েছে। হানিয়া যায় মেয়েকে ফোন দিয়ে খুশির সংবাদটা জানাতে।

মির্জা বাড়িতে ফোন দিয়ে আদিবার প্রেগ্ন্যাসির খবর জানানো হলে তারাও তালুকদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়। যদিও আবরার ও স্পর্শ তখন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিল, তাও তারা এমন একটা সংবাদ শুনে না গিয়ে পারে না। তারা লাগেজ নিয়ে একেবারে বের হয়ে যায়। তালুকদার বাড়ি থেকেই তারা গ্রামের উদ্দেশ্য রওনা হবে।

আধাঘন্টার মাঝেই হায়া-আশিয়ান ও স্পর্শ-আবরার তালুকদার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। হায়া তো খুশিতে লাফাচ্ছে। তার ভাতিজী-ভাতিজা আসতে চলেছে। এত খুশি সে কই রাখবে বুঝে উঠতে পারছে না। আসার পর থেকেই বান্ধবীকে জড়িয়ে ধরে কত আদর, কত আহ্লাদ তার। আশিয়ান দূর থেকে বউয়ের উচ্ছ্বসিত মুখখানা দেখে মনে মনেই বলে–

—ফুফু হওয়ার খুশিতে কতই না খুশি তার, যখন মা হবে তখন তো বোধহয় নিজেও পাগল হয়ে যাবে খুশিতে, আমাকেও পাগল বানাবে।

এসব কথা ভেবেই আনমনে হেঁসে উঠে আশিয়ান। ঠিক তখনই হায়া তার দিকে তাকায়। আশিয়ানকে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখে ইশারায় জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? আশিয়ান মাথা নাড়িয়ে কিছু না বুঝায়। আশিয়ানের ক্লাস নেওয়ার সময় পাড় হয়ে যাচ্ছে দেখে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে বাবা-মায়ের সাথেই বেরিয়ে পড়ে। হায়া আর মেহরিমা কেউই আজ ভার্সিটিতে যাবে না। নিজেদের মতো আনন্দ করে দিন কাটাবে তিন বান্ধবী এটাই তাদের প্ল্যান।

______________________________

এদিকে, আফিফকে হুট করে এমন ভাবে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে রাহা ঘাবড়ে যায়। কি রেখে কি করবে ভেবে পায় না। সে আফিফের পায়ে বসে তাকে ডাকতে থাকে–

—আফিফ! এই ডাক্তার সাহেব! কি হলো আপনার? উঠুন। অ্যাঁই আফিফ।

অনেকবার ডাকাডাকির পরও আফিফ চোখ মেলে তাকায় না। কি করবে ভেবে না পেয়ে হঠাৎই রাহার মন বলে, আফিফের চোখেমুখে একটু পানি ছিটিয়ে দেখলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ। সে তাড়াতাড়ি করে ওয়াশরুমের থেকে এক মগ পানি এনে তার মুখের ঢেলে দেয়। এতেই যেনো কাজ হয়। আফিফ লাফ মেরে উঠে বসে।

আসলে অতিরিক্ত খুশি বা উত্তেজনার ফলে কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে যায়। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “ইমোশনাল সিনকোপি”। অতিরিক্ত আবেগি মানুষ কোন অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ পেলে তাদের স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে। যার কারণে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যায়। আফিফের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। রাহার প্রেগ্ন্যাসির নিউজটা ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি।

আফিফকে চোখ খুলে দেখে রাহার জানে প্রাণ ফিরে আসে যেনো। আফিফের জ্ঞান ফেরার পরপরই সে রাহাকে জড়িয়ে ধরে। রাহাও নিঃসংকোচে আফিফের বুকের সাথে মিশে থাকে। একটু পরপরই আফিফ রাহাকে বুক থেকে সরিয়ে তার পুরো মুখশ্রীতে আদর দিচ্ছে আর বলছে–

—ধন্যবাদ রাহা, আমার জীবনে আসার জন্য। আমায় এত সুন্দর একটা অনুভূতির সাথে পরিচয় করানোর জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ তোমায়।

রাহা ভেবে পেলো না সে কখন আসল বরং আফিফ তাকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়েছে বলেই তো আজ সে পরিপূর্ণ। এই কৃতজ্ঞতা তো রাহার আফিফকে জানানো উচিত। কিন্তু রাহা আপাতত কিছুই বলবে না। চুপচাপ স্বামীর আদর নিবে আর মাঝে মধ্যে খানিকটা দিবেও।

___________________________

—কি রে মেঘলা, সারাদিন হুইয়া বইয়া থাকলে চলবো? ঘরে এহনও কত কাজ পড়ে আছে।

ছোট চাচীর কর্কষ গলার কথা গুলো শুনে ধরফরিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। সকালের নাস্তার পর ও গত রাতের খাবারের পর একগাদা থালাবাসন জমেছিল। এক ঘন্টা লাগিয়ে সেসব কিছু ধুয়েমুছে, কলপাড় পরিষ্কার করে মাত্র দুই মিনিট হলো বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। এরই মাঝে আবারও ডাক পড়ে গেলো। ঋতুবতী হওয়ায় তার কোমড় ও পেট ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। মুখ চোখ ব্যথায় কেমন ফ্যাকাশে হয়ে রয়েছে। কিন্তু সেদিক কারো নজর নেই। যে যার স্বার্থ আদায়ে ব্যস্ত।

মেঘলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে–

—চাচী আপনি যান। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি।

তার ছোট চাচী যাওয়ার আগে বলে যায়–

—বেশি দেরি করিস না বাপু। আবার বাপের বাড়ির লোকজন এসে পড়ল বলে। তাদের জন্য তো একটু ভালো মন্দ রাঁধতে হয়, তাই না বল?

বরাবরের মতো শান্ত স্বভাবের মেঘলা তার কথায় সম্মতি দেয়। তার ছোট চাচী চলে যায়। যেতে যেতে বলতে থাকে–

—একটু কামে কইলেই যত বাহানা আর ঢং। এয়ি বয়সে কত কাম করছি তার নাই ঠিক। যত্তসব!

মেঘলা স্পষ্ট তার ছোট চাচী শান্তার কথাগুলো শুনতে পায়। সে ভালো করেই জানেন তার ছোট চাচী কত কাজের। তিন ভাইয়ের একটা মাত্র বোন হওয়ায় ছোট থেকে বেশ আদরেই বড় হয়েছে। বাবার বাড়ির অবস্থাও ভালো। বিয়ের আগে তেমন কিছুই করতে হয়নি তার। গরীব ঘরের সাইফুলকে ভালোবেসে বিয়ের করায় এখন যা একটু হাত লাগাতে হয় কাজে। তাও একদিন একটা রান্না করলে তিনদিন বিছানায় অবস্থান করে শান্তা।

খাটের উপর আধশোয়া হয়ে কিছুটা দূরে রাখা পড়ার টেবিলের উপর নজর পড়ে মেঘলার। বাবা-মাসহ তার একটা ছবি। ছবিটায় মেঘলার বয়স সাত বছর, যে বছরে সে তার বাবা-মাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে। মেঘলা বিরবিরিয়ে বলে–

—আম্মু, আব্বু তোমরা কেমন আছো?

আসে না কোন উত্তর অপরপক্ষের থেকে। একরাশ অভিমান নিয়ে মেঘলা আবারও বলে উঠে–

—আমায় সাথে নিয়ে গেলে কি এমন হতো আম্মু, আব্বু? আমাকে এমন যন্ত্রণা সহ্য করার জন্যই কি রেখে গিয়েছিলে?

এবারও কোন উত্তর আসে না। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল মেঘলা। তিনভাই ও এক বোনের মাঝে তার বাবা ছিলো সবার বড়। মেঘলার দাদার বেশ কয়েকটা খামার আছে, তার বাবা সেই খামার পরিচালনা করার পাশাপাশি নিজেও আলাদা ব্যবসা গড়েছিলেন। অন্য ভাইয়েরা তেমন বুঝত না বলে মেঘলার বাবাই বলতে গেলে একাই তখন পরিবারের চালাত তাই তখন মেঘলারও বেশ ভালোই কদর ছিল। সকলের চোখের মনি ছিল। কিন্তু তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দিনকে দিন সেই কদর কমতে কমতে, আজ সে এই বাড়ির অঘোষিত চাকরে রূপ নিয়েছে।

আজ থেকে দশ বছর আগে এক রোড এক্সিডেন্টে মেঘলার বাবা-মা মারা যায়। তারপরেই তার দায়িত্ব এসে পড়ে চাচাদের ঘাড়ে। মেঘলার মায়ের বাড়ির কেউ বর্তমানে জীবিত নেই। আর তাছাড়া তার মা-ও বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল যার কারণে মেঘলার কোন মামা-খালাও নেই।

—কিরে মেঘলা? আসোস না কেন তুই এহনও?

—আসছি চাচী।

চঞ্চল চিত্তে গায়ে ওড়না জড়াতে জড়াতে রুম থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের দিকে।

____________________________

ঘরের দরজা লাগিয়ে মুখ বালিশে গুঁজে কাঁদছে মেঘলা। বুকের ভেতর এক আকাশ সমান কষ্ট। দিন দিন সেই কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে তার আপন মানুষেরাই। হঠাৎই শোয়া থেকে উঠে বসে নিজের শরীরে কাপড় দিয়ে ঘষতে থাকে উ”ন্মাদের মতো। আর বিরবির করে বলছে–

—মুছে ফেলবো আমি। সব খা”রাপ চিহ্ন মুছে ফেলবো।

কি বুঝতে পারছেন না তো কেন এমনটা করছে মেঘলা। তাহলে কয়েক ঘন্টা আগের কথা শুনতে হবে যে আপনাদের।

__________________

কয়েকঘন্টা আগের কথা~

মেঘলার ছোট চাচীর মেঝো ভাই, তার বউ ও তাদের ছেলেসহ মেঘলাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। মেঘলা তাদের জন্য নিজের হাতে পাঁচ থেকে সাত পদের রান্না করে রেখেছে। যখন মেঘলা এক এক করে রান্নাঘর থেকে খাবারের রুমে রান্না গুলো আনছিল তখনই, শান্তার অসভ্য, বখাটে, নেশাখোর ভাতিজা তন্ময় মেঘলার পথ আঁটকে দাঁড়ায়। মেঘলা তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় বেশ। কারণ বছর জুয়েল আগে সে মেঘলাকে একটা বাজে প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু মেঘলা তাকে থাপ্পড় মেরে উচিত শিক্ষা দেয়। তারপর থেকে সে যখনই স্কুল বা কলেজে যেতো দলবল সহ মেঘলাকে উত্যক্ত করত। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেঘলা তার ছোট চাচা অর্থাৎ শান্তার স্বামীকে এই কথা জানায়। তারপর থেকেই সে শান্তার দুই চোখের বিষ হয়ে যায়। মেলার ছোট চাচা তন্ময়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে শান্তার মেঝো ভাইয়ের সাথে তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

মেঘলা তার পাশ কাটিয়ে চলে আসতে নিলে তন্ময় অসভ্যতামির সকল স্তর অতিক্রম করে মেঘলার কোমড় চেপে ধরে ও আরেকহাত দিয়ে মেঘলার মুখ চেপে ধরে তার কাধের দিকে নিজের মুখ এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় মেঘলার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য। যখনই তার ধ্যান ফিরে তখনই সে অসভ্য তন্ময়কে নিজের থেকে দূরে সরানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে থাকে। হাত দিয়ে কিছু করতে পারছে না কারণ হাতে তখন বড়সড় একটা তরকারির বাটি। তন্ময় যেই না তার অপবিত্র স্পর্শ দ্বারা মেঘলাকে ছুঁয়ে দিতে নিবে তখনই, কারো আসার পদধ্বনি শোনা যায়। তন্ময় তাড়াতাড়ি করে মেঘলার থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। মেঘলা তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে চলে যায়। তারপর তরকারির বাটিটা টেবিলের উপর রেখেই শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে নিজের রুমে চলে এসে কাঁদতে।

_______________________

বর্তমান~

দরজায় খট খট করার শব্দে মেঘলার ধ্যান ফিরে। তার বৃদ্ধ দাদীর গলার আওয়াজ শোনা যায়। মেঘলা নিজের চোখের পানি মুছে দরজা খুলে দিলে দেখতে পায় তার দাদীর সাথে সাথে তার ছোট চাচীও এসেছে। সে একহাতে খাবারের প্লেট ও অন্যহাতে তার দাদীকে ধরো আছে। বৃদ্ধা একা চলাচল করতে পারে না তাই তাকে অন্যের সাহায্য নিয়েই চলাচল করতে হয়।

মেঘলা তার চাচীকে খাবারের প্লেট সহ আসতে দেখে, কেননা তার চাচী গত দুই বছর ধরে তার খাওয়া-পরা, বা যত্ন-আত্তি করে না। মেঘলা তাদের দু’জনকে ঘরে প্রবেশের জায়গা করে দেয়। মেঘলাকে আরো অবাক করে দিয়ে, আজ কয়েক বছর পর মেঘলার ছোট চাচী তাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়। অনেক আদরও করে। সবকিছুই মেঘলার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।

________________________

হঠাৎই এক বউ সাজে থাকা রমনী আশিয়ানের বুকে এসে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় আশিয়ান কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে পড়ে যেতে নিলে, পেছনে থাকা হায়া তাকে ধরে ফেলে। হায়া ঘাবড়ে গিয়ে বলে–

—আপনি ঠিক আছেন আশিয়ান?

প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে সামনে তাকাতেই সে থমকে যায়। ভালোবাসা মানুষ, তার একান্ত শখের পুরুষের বক্ষে অন্য নারীকে দেখে হায়ার বুকে আগুন জ্বলে যায়।

শব্দ সংখ্যা~১৮১৭
~চলবে?

[টাডাআআআআআআআ💃💃 নতুন নায়িকা/ভিলেন হাজির। নায়িকা অথবা ভিলেন বললাম কেনো জানেন? যারা রেসপন্স করেন না,চুপিচুপি এসে পড়ে যান তাদের জন্য। আপনারা আমার থেকে বেশি আইলসা ভাই😒 একটু রেসপন্স করলে কি হয়???

বেশি বেশি রেসপন্স করবেন নাহলে হায়াকে সরিয়ে এটাকে নায়িকা বানিয়ে দিবো🥱 আমি কিন্তু ভীষণ সিরিয়াস গাইজ😚

এই পর্বে ৬০০রিয়াক্ট করলে পরবর্তী পর্ব আসবে। যদি না করেন তাও পর্ব আসবে কিন্তু সেই পর্বগুলোতে হয়ত হায়াকে শেষ বারের মতো পাবেন😇

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স🤍🥹]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here