#প্রণয়ের_অমল_কাব্য #Writer_Drm_Shohag #পর্ব_৪৮

0
53

#প্রণয়ের_অমল_কাব্য
#Writer_Drm_Shohag
#পর্ব_৪৮

[Page – DrmShohagHoney]

একটি রেস্টুরেন্টের এক কোণায় শুদ্ধ থমথমে মুখে বসে আছে। দৃষ্টি তার মেঝেতে নিবদ্ধ। একটু পর চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজল। অন্তরা সামনের চেয়ারে বসে ভাঙা গলায় ডাকে,
“শুদ্ধ?”

শুদ্ধ চোখ বুজেই রেগে বলে,
“এই তুই আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে কোথা থেকে ভেসে আসলি রে? এমন চিপ মেন্টালিটির মেয়েকে আমি সাপোর্ট করি ভাবলেই তো আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। ইরফান পাঁচটা কেন দিল? আর পাঁচটা আরেকটা গালে দিতে পারলো না? এটাও কি আমাকে শিখিয়ে দিতে হবে ওকে?”

অন্তরার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। নাক টেনে বলে,
“আমি নিজের মাঝে ছিলাম না বিশ্বাস কর শুদ্ধ। আমার কি যেন হয়ে যায়। আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনা।”

শুদ্ধ সোজা হয়ে বসে রেগে বলে,
“তাই বলে বাচ্চা মেয়েটার সাথে এমন অমানুষের মতো আচরণ করবি? একটু মায়াও হলো না? বা’ল ওই মেয়েটার জন্য যা মায়া লাগে আমার! কি সুন্দর ফুটফুটে এক মেয়ে! বিয়ের পর থেকে অ’ত্যা’চা’র সহ্য করছে বেচারি।”

অন্তরা ডান হাতে চোখ মুছে বলে,
“আর আমি যে বছরের পর বছর ইরফানকে ভেবে কষ্ট পাচ্ছি। তোর একটুও মায়া হয় না? আমার দমবন্ধ লাগে শুদ্ধ। আমি কাউকে বোঝাতে পারিনা। আমার সাথে মাইরার কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তুু ইরফান ওকে কেয়ার করে ভাবলে আমি নিজের মধ্যে থাকি না। বাচ্চা মেয়েটাকে কষ্ট দিতে চাইনি আমি বিশ্বাস কর। আমার ভীষণ খারাপ লাগছে।”

শুদ্ধ একটু শান্ত হলো। ভাবনার মাঝেই নাছিম রেস্টুরেন্ট টায় প্রবেশ করে। এগিয়ে এসে শুদ্ধর পাশের চেয়ার টেনে বসে। শুদ্ধ ঘাড় বাঁকিয়ে একবার তাকালো। নাছিম টেবিল চেক করে বলে,
“কি রে, কিছু অর্ডার করিস নি ক্যান?”
সামনে তাকিয়ে অন্তরার বেহাল অবস্থা দেখে চোখ বড় বড় করে বলে,
“ওমাগো! এটা কে?”

শুদ্ধ হেসে বলে,
“আমার কান্দুরী মা।”

শুদ্ধর কথায় নাছিম হেসে ফেলল। নাছিম চেয়ারে হেলান দিয়ে বলে,
“কি হইছে তোদের? ক আমারে। আমি সমাধান দিই।”

শুদ্ধ ডান পা নাড়াতে নাড়াতে বলে,
“ইরফান ছাড়া ওর জীবনে আর দ্বিতীয় কোনো প্রবলেম আছে না-কি! শা’লী ইরফানের বউটারে কেচে দিলো। এরপর ইরফানও ওকে একটার পর একটা থাপ্পড় ঢেলে দিয়েছে। এটাই হলো সিনেমার ফাস্ট টু লাস্ট।”

নাছিম চোখ বড় বড় করে অন্তরার দিকে তাকিয়ে বলে,
“এই ছেমড়ি তুই বার্বি ডলের গায়ে হাত দিলি কেমনে? তোরে তো জে’লে দেয়া উচিৎ।”

অন্তরা ভ্রু কুঁচকে তাকায় নাছিমের দিকে। রেগে বলে,
“ও তোর কোলেও উঠে পড়েছে? তো নিয়ে যা ওকে। ইরফান আমায় না মানুক, তবুও আর কারো না হোক।”

অন্তরার কথা শুনে শুদ্ধ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“হায়ের মাইয়া মানুষ রে! সারাজীবন চিরকুমার থাকুক, তবুও অন্য মেয়েরে ঘেঁষতে দিবে না। একটু উদার হো রে মেরি মা। এবার ভুলে যা ওকে। এতোগুলো মার খেয়েও এর শিক্ষা হয়নি।”

নাছিম মন খারাপ করে শুদ্ধর দিকে তাকিয়ে বলে,
“বলছি, বার্বি ডলকে কি পাওয়ার সুযোগ আছে? আমি দুই পায়ে খাড়া। ইরফান ওকে ছোঁয়নি জানা আছে।”

শুদ্ধ এতো অদ্ভুদভাবে তাকালো নাছিম এর দিকে। আর কি লাগে! মাইরাকে একজন চাইছে। ইরফানের তো একজন আছেই। হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে নাছিমের উদ্দেশ্যে বলে,
“তুই অন্তরার মতো একটা পা’গ’লামি কর। এই যেমন ইরফানকে ভার্সিটির মাঝখানে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলি। এরপর ইরফান ভয়ে ভয়ে বলবে,
‘ওগো নাছিম জানু, তুমি তোমার বার্বি ডল কে নিয়ে যাও। আর দেরি কর না।’
শুদ্ধ কথাগুলো বলে নাছিমের ঘাড়ের উপর ডান হাত তুলে দিয়ে বলে,
আহা ভাবতেই আমার কি যে ভালো লাগছে! আমাদের নাছিম সোনা টা তার বার্বি ডলকে এতো সহজেই পেয়ে যাবে!
এরপর ঘাড় বাঁকিয়ে বলে, “কি রে পারবি না?”

নাছিম তার ঘাড় থেকে শুদ্ধর হাত নামিয়ে দিয়ে রেগে বলে,
“মশকরা করিস আমার সাথে? বার্বি ডলকে আমি আগে পছন্দ করেছি। তোর ভাই কোথা থেকে উড়ে আসলো। ইশ ওর একটা জমজ বোন নেই কেন?”

শুদ্ধ পকেট থেকে ফোন বের করে ভিডিও অন করে বলে,
“সোনা নাছিম? ওগো আমার কান্দুরী মা? নাও শুরু কর তোমাদের মধুর মধুর ভাষণ। আমি তোমাদের এতো মধু মেশানো ভাষণ নিজ দায়িত্বে ইরফানের কানে তুলে দিব। নো টেনশন।”

নাছিম প্যাঁচামুখ করে রইলো। তার কি যে আফসোস হয় তার বার্বি ডল টার জন্য। ইশ! তার যে আর মেয়েই পছন্দ হচ্ছে না। বার্বি ডলের ভীষণ লোভী সে। কিন্তুু আরেকজনের বিবাহিত বউ সে। এখন তো আর কিছু করার নাই। সবচেয়ে বড় কথা তার-ই বন্ধুর বউ। ইরফান যা কাঠখোট্টা, ও কোনো মেয়ের ব্যাপারে এতো পজেসিভ হবে, এটা তো সে এখনো মানতেই পারে না। মাঝে মাঝে মনে হয় শুদ্ধ ভুলভাল বলে। সে দৌড়ে গিয়ে তার বার্বি ডল টা কে টুপ করে তুলে আনুক। কিন্তুু সেও একটু আধটু দেখেছে ইরফানের মাইরার ব্যাপারে পজেসিভনেস। তাই হতাশ হয়। অন্তরার দিকে তাকিয়ে বলে,

“অন্তরা চল, আমি আর তুই জ্বি-বাংলার সিরিয়াল দেখা স্টার্ট করি। জ্বি-বাংলায় সেই কুটনামি শেখায় ইয়ার! আমরা শিখে নিয়ে ফলাবো। তারপর সে অনুযায়ী ইরফান আর বার্ডি ডল কে আলাদা করে তুই তোর ইরফানকে নিয়ে নিবি, আমি আমার বার্বি ডলকে। আহা কি শান্তি!”

শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। পিছু ফিরে তাকিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে বলে,
“ইরফান তুই এখানে?”
কথাটা শুনেই নাছিম চোখ বড় বড় করে তাকায়। দ্রুত চেয়ার থেকে নিচে বসে পড়ে। টেবিলের তলা খোঁজে। চিল্লিয়ে ওঠে,
“ওমাগো, আল্লাহ এবারের মতো আমাকে বাঁচাও। বার্বি ডল কে আমি চিনিনা।”

শুদ্ধ হাসতে হাসতে চেয়ারে বসে পড়েছে। নাছিম শুদ্ধর হাসি শুনে মাথা উঁচু করে তাকায়। আশেপাশে তাকিয়ে ইরফানকে না দেখতে পেয়ে সাথে শুদ্ধকে হাসতে দেখে যা বোঝার বুঝল। বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রেগে বলে,
“আমার সাথে মজা নিস? তেকে আমি ছাড়বো না শুদ্ধ।”

শুদ্ধ কোনোরকমে হাসি আটকে বলে,
“কি রে সোনা রা, আমাকে ধরতে চাওয়া ছোঁয়াচে রোগ না-কি? প্রথমে ফাইজ, তারপর ইরফান, এখন তুই! সবাই শুধু আমাকে ধরতে চায়!
আরে বাবা আমাকে ধরার জন্য তো আমার ফারাহ আছে। তোদের ধরাধরি আর নেওয়া যাচ্ছে না। এসব কি! উফ!”

অন্তরা রেগে বলে,
“তোদের বিতরামি ছাড়বি? আমি ডাকলাম সমাধান চাইতে, তোরা এসে কি শুরু করলি?”

শুদ্ধ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
“সমাধান তো দিলাম-ই। তোর অপর গালে আরও পাঁচটা থাপ্পড় দিতে হবে। তো এবার গাল টা পাত। গাল পেতে না দিলে সেই সমাধান টা ফলাবো কি করে?”

অন্তরা চোখ নামিয়ে নিল। নাছিম বিরক্ত হয়ে চেয়ারে বসল। এরপর অন্তরার দিকে তাকিয়ে বোঝানোর স্বরে বলে,
“অন্তরা তোর মুভ অন করা উচিৎ। সবচেয়ে বড় কথা ইরফান বিবাহিত। বউকেও কি সুন্দর মেনে নিয়েছে। বাদ দে এসব।”

অন্তরা ছলছল চোখে তাকায় নাছিম এর দিকে। ভাঙা গলায় বলে,
“তুই মাইরাকে পছন্দ করেও ইরফানের সাথে দেখে কি করে ঠিক থাকিস?”

নাছিম চেয়ারে হেলান দিয়ে মৃদু হেসে বলে,
“বার্বি ডল আমার ভীষণ পছন্দের। একটু-আধটু ফিলিংসও আছে। বাট বার্বি ডল ছোট হলেও খুব চতুর। ও শুধু আমাকে নয়, কোনো পরপুরুষকেই অন্য নজরে ওর দিকে তাকাতেই দেয় না এমন। ইরফান যদিও এখন ঠিক আছে, বাট ফাস্ট ফাস্ট যেমন করতো, এরপরও মেয়েটা ইরফানকেই চাইতো। আমার যতদূর মনে হয় এর কারণ ইরফান তার স্বামী। কবুলের একটা জোর আছে, এইটা ভাবে হয়তো।
সবশেষে বার্বি ডল আমাকে চায় না। যেখানে বার্বি ডল নিজেই আমাকে চায় না, আমার চাওয়ায় তো ওখানেই ফুলস্টপ পড়ে যায়।”

নাছিমের কথা শুনে অন্তরা ভীষণ অদ্ভুদভাবে তাকায়। শুদ্ধ নিজেও একটু অবাক হয়েছে। তখনই সেখানে কোথা থেকে যেন ইরফান উপস্থিত হয়। শুদ্ধ ডান পাশ ফিরেই ছিল ইরফানকে দেখে অবাক হয়ে বলে,
“তুই?”
ইরফান উত্তর করল না। তার দু’হাতে গ্লাভস।
নাছিম, অন্তরাও শুদ্ধর কথায় তাকায় ইরফানের দিকে। ইরফান তার পাশে থাকা ১৪ বছর বয়সী ছেলেটাকে হাতের পাত্র টেবিলের উপর রাখতে বললে ছেলেটি তার হাতে থাকা বেশ বড় পাত্রটি রেখে দেয়। শুদ্ধ, নাছিম সহ অন্তরা অবাক হয়ে দেখছে ইরফানকে।
পাত্রটির উপর থেকে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। সবাই বিস্ময় চোখে তাকায়। জ্বলন্ত কয়লা পাত্রের উপর উঁচু করে সাজিয়ে রাখা। ইরফান ডান হাতে পাত্রটি ঠেলে অন্তরার দিকে আনে। ইরফানের কর্মকাণ্ড কেউ বুঝতে পারছে না। ইরফান অন্তরার পিছনে এসে দাঁড়ায়। অন্তরা তার সামনে থাকা জ্বলন্ত কয়লাগুলোর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। শুদ্ধ, নাছিম দু’জনেই অন্তরার পিছনে দাঁড়ানো ইরফানের দিকে চেয়ে বলে,
“ইরফান কি করতে চাইছিস?”

ইরফানের কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটে ওঠে। তবে উত্তর করে না। অন্তরার দু’হাত টেবিলের উপর রাখা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইরফান চোখের পলকে টেবিলের উপর রাখা অন্তরার ডান হাত টেনে সর্বশক্তি দিয়ে কয়লার ভেতর ডুবিয়ে চেপে ধরে। অন্তরা বুঝতে পেরেই চোখ বড় বড় করে তাকায়। হাত পোড়ার অসহ্য যন্ত্রণায় একটা চিৎকার দেয়। শুদ্ধ, নাছিম দু’জনেই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। শুদ্ধ দ্রুত ওপাশ থেকে এপাশে এসে ইরফানকে টেনে সরাতে চায়, পারে না। নাছিম অপর পাশ থেকে ইরফানকে টানে, সেও ইরফানকে একচুল সরাতে পারে না। ইরফানের শরীরে যেন অসুরের শক্তি ভর করেছে। ইরফান ভস্ম করে দেয়া চোখে কয়লার মাঝে অন্তরার ডুবিয়ে দেয়া হাতের পানে চেয়ে আছে, যেন তার দু’চোখের তেজী চাহনীতে কয়লার তেজ আরও বাড়িয়ে অন্তরার হাত একেবারে ঝলসে দিতে চায়।

অন্তরার চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। মেয়েটা এই জ্বলন্ত কয়লায় মাঝে পুড়তে থাকা হাতের অসহনীয় ব্য’থা সহ্য করে নিতে চায়। তবে না চাইতেও তার মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে।

এদিকে শুদ্ধ, নাছিম প্রায় মিনিট পাঁচেক পর ইরফানকে একটু নাড়াতে পারলো। ইরফান কিছুটা শিথীল হয়েছে বলেই হয়তো পেরেছে। শুদ্ধ নাছিম ইরফানকে টান দিলে ইরফান কিছুটা পিছিয়ে আসে। ফলস্বরূপ কয়লার পাত্র উল্টে এসে অন্তরার কোলের উপর পড়ে। অন্তরা আগের চেয়েও খানিকটা জোরে আর্তনাদ করে ওঠে। শুদ্ধ ইরফানকে সাপটে ধরে নাছিমের উদ্দেশ্যে বলে,
“নাছিম অন্তরা কে নিয়ে বেরিয়ে যা এখান থেকে।”

নাছিম শুদ্ধ বলার আগেই অন্তরার বা হাতে ধরে টেনে অন্তরাকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যেতে চায়, অন্তরা কান্নামাখা চোখে পিছু ফিরে ইরফানের দিকে তাকায়। নাছিম অন্তরাকে জোর করেই টেনে নিয়ে যেতে থাকে।
ইরফান রেগে শুদ্ধকে গায়ের জোরে ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করে বলে,
“ডোন্ট টাচ মি।”

ততক্ষণে নাছিম অন্তরাকে নিয়ে দ্রুতপায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। ইরফান পিছু পিছু যেতে নিলে শুদ্ধ ইরফানের সামনে দাঁড়িয়ে রেগে বলে,
“ইরফান শান্ত হো। ওর হাত ঝলসে গিয়েছে হয়তো।”

ইরফান রাগান্বিত স্বরে বলে,
“হয়তো? নট সিইওর?”

শুদ্ধ শ্বাস ফেলে বলে,
“বাদ দে…

ইরফান সাথে সাথে শুদ্ধর কলার ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“ওহ রিয়েলি? বাদ দিব? ইউ নো? ও আমার লিটল গার্লের হাতের কি অবস্থা করেছে? লিটল গার্ল ওর হাত দিয়ে ঠিক করে কিছু করতে পারছে না, খেতে গিয়ে হাতের জ্বলুনিতে কেঁদে ফেলেছে,, একে ছেড়ে দিব? হাউ ফানি! ওকে যাস্ট দেখে নিব আমি।”

কথাগুলো বলে শুদ্ধকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে বেরতে নেয়, শুদ্ধ বিস্ময় চোখে চেয়ে ক্লান্ত স্বরে বলে,
“তুই যে বলিস অন্তরা তোর বোনের মতো। সেও তো কাঁদলো, হাতটার কি করে দিয়েছিস! বলতে গেলে একেবারে সিদ্ধ করে….

শুদ্ধর কথার মাঝেই ইরফান শক্ত কণ্ঠে বলে,
“এজন্য যাস্ট ওর হাত জ্বালিয়ে দিয়েছি। অন্যকেউ হলে হাতের সাথে ওর অন্তরটাও জ্বালিয়ে দিতাম।”

কথাটা বলে হনহন করে বেরিয়ে যায়। শুদ্ধ বাকহারা হয়ে শুধু ইরফানের প্রস্থান দেখল। আশেপাশে তাকালে দেখল গুটিকয়েক মানুষ অদ্ভুদ দৃষ্টিতে এদিকে তাকিয়ে আছে। যদিও সকাল সকাল হওয়ায় রেস্টুরেন্টে খুব বেশি মানুষ নেই। তবুও কেমন যেন লাগলো। সাথে বিরক্তও হলো।
অন্তরা ইম্পর্ট্যান্ট কিছু বলবে বলে তাকে আসতে বলেছিল। শুদ্ধ অন্তরার সিরিয়াস কণ্ঠ পেয়ে আর বিরোধিতা করেনি। এখান থেকে ভার্সিটি যাবে বলে একেবারে রেডি হয়ে এসেছিল। এসেই হালকা কিছু খেয়েছিল।

মনে মনে ভাবলো,
‘কত ধরনের বন্ধু তাদের এই ছোট্ট ফ্রেন্ড সার্কেলে। এই যেমন তার এখন সিরিয়াস মোমেন্ট-এ হাসতে ইচ্ছে করছে, হাসির কারণ, এই যে তাকিয়ে থাকা লোকদের খুব সুন্দর করে ধুইয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।’
ভাবনা অনুযায়ী পকেট থেকে ফোন বের করে কানে নিয়ে শব্দ করে বলে ওঠে,

“দোস্ত, আমি কি অনেক বেশি সুন্দর? আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে একবার ধরলে আর ছাড়তে চায় না, জানিস?
এরপর একটু গলা ঝেড়ে আগের চেয়েও শব্দ করে বলে,
“আমি হয়তো একটু বেশিই সুন্দর হয়ে যাচ্ছি তাই না? এতো সৌন্দর্য কোথায় রাখব এখন আমি? জানিস সোনা? আমার ফ্রেন্ডরা তো আমাকে ছাড়তে চায়-ই না। তা নাহয় বাদ দিলাম। কিন্তুু আমার সৌন্দর্য উপচে উপচে পড়ায় বাইরের মানুষও সব ভুলে শুধু আমাকে দেখতে থাকে, ওদের অর্ধেক খাবার প্লেটেই পড়ে থাকে, বাকি অর্ধেক পেটের ভেতর গিয়ে হজম হয়ে যায়, তবুও আমার থেকে থেকে চোখ সরায় না। বলছি সৌন্দর্য কমানোর কোনো মেডিসিন আছে তোর কাছে? মানুষের এতো অপকার আর সইতে পারি না আমি!”

তিনটে মেয়ে আর একটি ছেলে শুদ্ধর দিকে চেয়ে ছিল। শুদ্ধর কথা শুনে সকলে কেশে উঠল। দ্রুত চোখ সরিয়ে তাদের অর্ধেক খাবার খাওয়া রাখা প্লেট থেকে খাওয়া শুরু করে।

শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে বিল মিটিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
“হ্যাঁ হ্যাঁ তুই ওষুধ টা রেডি রাখিস। এতো সৌন্দর্য নিয়ে আর বাইরে পা রাখা যাচ্ছে না।”
.
.
ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে অন্তরা মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে। চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। নাছিম গাড়ির স্টিয়ারিং এ হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। এরপর অন্তরার দিকে ফিরে বলে,
“হাত দে রে। নয়তো আরও খারাপ অবস্থা হবে।”

অন্তরা গাট্টি মেরে বসে আছে। হাতের অসহনীয় যন্ত্রণা, তাও আবার ইরফানের থেকে পাওয়া, দু’টো মিলিয়ে যেন সে পাথর হয়ে আছে। আর সে পাথর ফেটে পানি ঝরছে। নাছিম আধাঘণ্টা হলো বসে এর তামশা দেখছে। এবার মেজাজ টা গেল খারাপ হয়ে। এমনিতেই ফুটফুটে বার্বি ডলটার অবস্থা যা তা করে দিয়েছে। বন্ধু বলে সেধে সেধে এসে সেবা করছে, তাতে এর হচ্ছে না। রেগেমেগে অন্তরার হাত জোর করে হাত টেনে ধরলে অন্তরা চেঁচিয়ে ওঠে। নাছিম রেগে বলে,
“তোর ঢং অফ কর। আমার কাজ আছে।”

অন্তরা কাঁদতে কাঁদতে তার চোখমুখের অবস্থা পুরো বারোটা বাজিয়েছে। নাছিম এর থেকে হাত সরানোর শক্তি নেই তার। দুর্বল কণ্ঠে বলে,
“আমি শুধু ঢং-ই করি! আর ওই মেয়েটাই শুধু ভালো তোদের কাছে।”

নাছিম অন্তরার হাত ভালো করে দেখছে। খুবই খারাপ অবস্থা। এই হাতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হবে না। একে ডক্টরের কাছে নিতে হবে। অতঃপর অন্তরার হাত ছেড়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলে,
‘আসলেই তুই ঢং করিস, আর বার্বি ডল কিউট এর ডিব্বা। মেয়ে হয়েও তো ওকে শুধু আদর-ই করতে মন চাওয়া উচিৎ। তুই কোন আক্কেলে মারলি বে’য়া’দ’ব?”

অন্তরা মুখ ফিরিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলে। নাছিম আড়চোখে চেয়ে বলে,
“তোকে এবার আমি বিয়ে দিয়েই ছাড়বো। দাঁড়া আজ আঙ্কেলের সাথে ফাইনাল কথা বলি আগে।”

অন্তরা চেঁচিয়ে ওঠে। নাছিম পাত্তা দিল না। একে বিয়ে না দিলে এ সোজা হবে না।
_________________

মাইরার এসএসসি এক্সামের আর সাতমাস বাকি।
মাইরা তার ঘরে পড়ার টেবিলে বসে বই পড়ছে। টেবিলের উপর ছোট্ট ঘড়িটায় চোখ বুলায় ~ ৯:৩০। মাইরা সামনে বই মেলে রেখে একদম তার সোজা বাইরে তাকায়। জানালা খুলে রেখেছে। রাতের অন্ধকার, সাথে ঝিঁঝি পোকার ডাক। মাঝে মাঝে দু’একটা জোনাকি পোকা দেখা যায়। মাইরা টেবিলের উপর দু’হাত পেতে তার বাম গালটা হাতের উপর ঠেকিয়ে রাখলো। দৃষ্টি এই নিস্তব্ধ রাতে, যেখানে ঝিঁঝি পোকার ডাক, জোনাক পোকার মিটিমিটি আলোর সমন্বয়ে মনোমুগ্ধকর এক রাত্রি।
মাইরা শূণ্য চোখে অজানায় তাকিয়ে রইল। ঘরের লাইট অফ করে এসেছে। তাই জোনাক পোকা দু’একটা মাইরার মুখের উপর এসে মিটিমিটি জ্বলে আবার নেভে। হঠাৎ-ই দূর থেকে একটি গানের সুরে গাওয়া শিষ ভেসে আসে।

“আলো ভরা কালো চোখে…
কি মাধুরী গো কি মাধুরী!
মনো চাহে যে, ধরা দিতে…
মনো চাহে যে, ধরা দিতে…
তবু সে লাজে সরে যায়…..
মধুমালতী ডাকে আয়…”

মাইরা তাদের মেইন গেইট খুলে বেরিয়ে এসেছে। যদিও এটা গ্রাম। গ্রামের মানুষ খুব বেশি রাত জাগে না। খুব তাড়াতাড়ি-ই ঘুমিয়ে যায়। মাইরা ভয় করল না। বরং সে এই শিষের উৎস খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। অন্ধকারের মাঝে একটু একটু করে এগোয়, কিন্তুু ততক্ষণে সেই সুরেলা শিষ এর শব্দ মিলিয়ে যায়। মাইরা হতাশ হয়। সে আগে কখনো এমন গানের সুর মিলিয়ে শিষ কখনো শোনেনি। এই প্রথম শুনে মাইরার ভীষণ ভালো লাগলো। আফসোস হলো, আরেকটু যদি শুনতে পেত। আফসোসে ঘেরা মন নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ খোলা জায়গায় বসে অপেক্ষা করে। মাটিতে দু’হাঁটু ভাঁজ করে বসে। মৃদু বাতাসে মাইরার খোলা চুলগুলো দোল খায়। মেয়েটা চাতক পাখির ন্যায় আন্ধারে দৃষ্টি বুলায়, কান সজাগ রাখে, আবার যদি শুনতে পায় সেই শিষ। বেশ অনেকক্ষণ বসেও যখন কোনো আওয়াজ পায় না তখন মন খারাপ নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।
.
.
.
মাইরা এপাশ-ওপাশ করে। তার চোখে ঘুম নেই। গতকাল মেলা থেকেই সে কেমন থম মেরে আছে। ইরফানের সেই দুই লাইন এর গানের সুরে বাজানো শিষ শুনেই তো মাইরা এলোমেলো হলো। যদিও সে দু’লাইন শুনেই বুঝতে পারছে না ঠিকঠাক। কিন্তুু সেই প্রথম ভালো লাগার ব্যাপারটা তার মনে নাড়া দিয়েছে ভীষণভাবে।

সে কি করে ভুলবে এই সুরেলা শিষ। আজ থেকে প্রায় আট-নয় মাস আগে সে ইরফানের শিষ এর মতোই অবিকল এক সুরের শিষ শুনেছিল।
ইরফান গতকাল তাকে মেলায় নিয়ে কানের কাছে ছোট্ট দু’লাইনের গানের সুরের শিষ বাজিয়ে শুনিয়েছে, মাইরা তো এই গানের সুরে বাজানো এই শিষের মতো একদম হুবহু শিষ আজ থেকে প্রায় আট-নয় মাস আগেই শুনেছে। শুধু কি একদিন? নাহ। মাইরা যেদিন প্রথম শুনেছিল সেই পড়ার টেবিলে বসে, এরপরের দিন মাইরা অপেক্ষা করে বসেছিল আবারও সেই শিষ এর সুর শোনার জন্য। ভাগ্য ভালো থাকায় সে পরদিন ও শুনতে পেয়েছিল, তবে গান টা ছিল অন্য। টানা পাঁচদিন একেকদিন একেক গানের সুরে বাজানো শিষ শুনে মেয়েটার ছোট্ট কিশোরী মন কেমন যেন উতলা হতো। কি যে ভালো লাগতো! একেকদিন একেকটি গানের সুরেলা শিষ ভেসে আসতো।
মাইরার মন কি ভীষণ পুলকিত হতো!

কিন্তুু দুঃখের বিষয় পাঁচদিন পর মাইরা আর সেই শিষ শুনতে পায়নি। প্রায় প্রতিদিন অপেক্ষা করত, জানালার পাশে বসে থাকতো, কিন্তুু শুনতে পেত না। এভাবে প্রায় টানা ২০ দিন অপেক্ষা করার পর মেয়েটা যখন আশার আলো দেখেনা, এরপর একদিন হুট করেই আবেগে কেঁদে দিয়েছিল।
এরপর দেড় মাসের কাছাকাছি গিয়ে মাইরা হঠাৎ-ই একদিন আবার সেই শিষ এর সুর শুনতে পায়। মাইরা সেদিন আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল। দৌড়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তুু সে কখনো এর উৎস খুঁজে পায় নি। এরপর দুই দিন এই শিষ শুনতে পায়। তারপর আবারও সে কোথাও মিলিয়ে যায়। প্রায় দুই মাস পর মাইরা আবারও শুনতে পায়। মাইরা বুঝতে পারতো না, সেই শিষওয়ালা মাঝে মাঝে কোথা থকে হঠাৎ হঠাৎ অদৃশ্য দেখা দিয়ে মিলিয়ে যেত।

মাইরার ভীষণ ইচ্ছে করত, সেই শিষওয়ালাকে একবার দেখতে। সে যখন এই সুর শুনতে পেত, বাইরে বেরিয়ে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে খুঁজতো, কিন্তুু কখনো দেখা পায়নি। প্রতিবার বিষণ্ণ মনের কোণে একটি প্রশ্ন নিয়ে ঘরে ফিরে যেত,
‘ও অদৃশ্য শিষওয়ালা তুমি কেমন দেখতে?’

১৪ বছরের মাইরা কি খুব ছোট ছিল? খুব বেশি অবুঝ ছিল? হয়তো, হয়তো বা নয়। সে ছোট হলেও, অবুঝ হলেও ভালো লাগার জন্য একটি স্বচ্ছ হৃদয় ছিল। সেই অদৃশ্য শিষওয়ালা কে কি যে ভালো লাগতো মাইরার!
তার খুব মন খারাপ হতো শিষওয়ালাকে একটিবার চোখের দেখা দেখতে না পেয়ে। ইচ্ছে হলেই সেই সুরেলা শিষ শুনতে না পারায় তীব্র মন খারাপের দল এসে তাকে ঘিরে ধরতো।

একদিন হুট করেই শুনলো তার এক বয়স্ক লোকের সাথে বিয়ে। মাইরা বুঝতো না ভালোবাসা কী। কিন্তুু তার শিষওয়ালাকে খুব মনে পড়েছিল। মনে মনে কত ডেকেছিল তাকে। আসেনি তো সে। মাইরা খুব করে চাইলো মায়ের কাছে, সে বিয়ে করবে না। সে পড়াশুনা করে চলে যাবে এখান থেকে। কিন্তুু তার কথা শোনার যে কেউ নেই। ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার বিয়ে হয়ে গেল।
শিষওয়ালার প্রতি ভালো লাগার সমাপ্তির সুতো একটু একটু করে ছিঁড়তে লাগলো। তবে হঠাৎ-ই থেমে গেল সেই সুতো ছেঁড়ার হাত, যখন দেখল তার স্বামী তাকে মানে না।
মাইরার মনে পড়লো শিষওয়ালার কথা। কিন্তুু তার কথা যে কেউ ভাবে না। তার কপাল অতো ভালো না-কি! সে খুব জানতো, পোড়া কপালের মেয়ে মাইরাকে নিয়ে কেউ ভাবে না, শিষওয়ালাও ভাবে না।
শিষওয়ালার প্রতি ভালো লাগার সমাপ্তির সুতোয় আবারও টান দিল মাইরা। তার শিক্ষা, স্বামী থাকতে পরপুরুষ যেন মন দখল না করে বসে থাকে। মাইরা তার সেই ছোট্ট ভালো লাগার সমাপ্তি টানতে শুরু করল। একটু আধটু ভালো লাগা ছিল তো! তাই তেমন কষ্ট হলো না। তবে সে ভুলে যায়নি। মাঝে মাঝে মনে পড়তো একটু আধটু। তখন তার মনের অজান্তেই আফসোসের সুরে তার মন বলে উঠত,
‘ইশ! যদি অদৃশ্য শিষওয়ালাকে একবার দেখতে পেতাম।’

কথাগুলো ভেবে মাইরা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আপনা-আপনি মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,
‘নিষ্ঠুর শিষওয়ালা’

মাইরা ঘাড় বাঁকিয়ে দেখল ইরফান বেডে নেই। মাইরার একটু চোখ লেগেছিল, তবে ঘুম ভেঙে গিয়েছে। হাত বাড়িয়ে বেডসাইড টেবিলের লাইট জ্বালায়। পাশ থেকে ফোন নিয়ে সময় দেখল
রাত ~ ১:৩০।
ডান কাত হয়ে শুয়ে বালিশে মাথা রাখে। ইরফানের ফাঁকা জায়গায়টায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখে। এতো রাতে লোকটা কোথায় গিয়েছে? ভাবনার মাঝেই তার কানে সেই সুরে শিষ ভেসে আসে,

“কবির লেখা যত কবিতা
শিল্পীর আঁকা যত ছবি
তোমার তুমির কাছে
হার মেনে যায় যেন সবই….

মাইরার হৃদপিণ্ড লাফায়। সে দ্রুত বেড থেকে নেমে দাঁড়ায়। এরপর সময় ব্যয় না করে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে শব্দের উৎস খুঁজতে খুঁজতে ইরফানের ঘরের ভেতর থাকা সেই ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। মনে হলো এই ঘরের ভেতর থেকে সেই গানের সুরের শিষ ভেসে আসছে,

সাঝের বেলায় রাঙা গোধুলি
বর্ষা কালের ভরা নদী
তোমার রূপের কাছে
হার মেনে যায় যেন সবই……

মাইরার এই সুর, এই শিষ সবকিছু যে ভীষণ চেনা লাগে। এতোক্ষণ শোনার পর তার ভুল হবে কী করে?
তার মস্তিষ্ক ফাঁকা লাগে। শিষ থেমে গিয়েছে। মাইরা সিদ্ধান্ত নিল এই ঘরে প্রবেশ করবে। ধীরে ধীরে এক পা সামনে বাড়ালে মাইরার কাছে সেই কণ্ঠে সেই গানের শিষ আরও তীব্রবেগে ভেসে আসে। তবে এবার তার মনে হলো আগের চেয়ে এখন অনেকটা কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছে সে।
ইরফান ঘরের দরজা খুলতে খুলতে যেখানে থেমেছিল সেখান থেকে আবারও শিষ বাজায়,

“তুমি সাগর নীলিমা নও
তুমি মেঘের বরসা নও,
তুমি শুধু আমারই…..

দরজা লক করে পিছু ফিরে মাইরাকে তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইরফান থতমত খেয়ে থেমে যায়। মুখাবয়ব স্বাভাবিক করে নেয়। ভীষণ অপ্রস্তুত লাগলো তার।
নিজেকে খুব দ্রুত সামলে নিয়ে চোখ বুজে দু’বার শ্বাস ফেলে। এরপর গলা ঝেড়ে মাইরার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“এখানে কি করছ?”

উত্তেজনায় মাইরার শরীর কাঁপছে। যে অদৃশ্য শিষওয়ালাকে দেখার স্বপ্ন আজও তার অবচেতন মন তার অজান্তেই তাড়া করে বেড়ায়, সে কি তবে…আর ভাবতে পারে না। তার যেন দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। তবুও কোনোরকমে ডান হাতের এক আঙুল তুলে ইরফানের দিকে তাক করে কিছু বলতে চায়, কিন্তুু পারছে না।
ইরফান তীক্ষ্ণ চোখে মাইরাকে পরোখ করে। মাইরাকে দেখেই বুঝলো মেয়েটা কাঁপছে। ইরফান দ্রুত মাইরাকে টেনে তার সাথে আগলে নেয়। ডান হাত মাইরার বাম গালে দিয়ে বিচলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড? কি প্রবলেম হচ্ছে তোমার?”

মাইরার কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে। চোখের কোণে চিকচিক করে জলকণা। ইরফান তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইল খানিক মাইরার চোখের পানে। মাইরার চোখের কোণে জমা বিন্দু বিন্দু পানির কণা ইরফানের চোখ এড়ায় না। ইরফান মাইরার ডান হাত তুলে আলতো হাতে স্পর্শ করে নরম কণ্ঠে বলে,
“পেইন হচ্ছে?”

মাইরা পিটপিট করে ইরফানের দিকে চেয়ে থাকে কিছু সময়। এরপর কাঁপা কণ্ঠে থেমে থেমে বলে,
“আপনি-ই সেই নিষ্ঠুর শিষওয়ালা?”

চলবে ইনশাআল্লাহ~~

🟥[শব্দসংখ্যা – ৩৩৯০
সবাই রেসপন্স করবেন। কমেন্ট, রিয়েক্ট, শেয়ার সব করবেন। চেয়ে চেয়ে নিতে হয় শুধু🙂]

আইডি লিংক:
https://www.facebook.com/DrmShohag.Modhu

#সম্পূর্ণ_গল্পের_লিংক :
https://www.facebook.com/61565570853211/posts/122138401370519028/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here