#প্রণয়ের_অমল_কাব্য
#Writer_DRM_Shohag
#পর্ব_৮০ [শেষাংশ]
[Page – DrmShohagHoney]
ইরফানের কথাটা শুনে মাইরার ভীষণ খারাপ লাগলো। সে তো জানে ইরফান কেমন। তবুও কেন ইরফানকে উল্টাপাল্টা বলে দিল! মাইরার চোখজোড়া ভিজে ওঠে। মাইরা ইরফানের দিকে এগিয়ে গিয়ে ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে ভাঙা গলায় ডাকে,
– শিসরাজ?
ইরফান মাইরাকে আরেকটু শক্ত করে ধরে নিজের সাথে। মৃদুস্বরে বলে,
– বলো বার্ডফ্লাওয়ার।
মাইরা ইরফানের গলায় মুখ ঠেকিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে,
– আপনি সেলফিস নয়, আপনি অ’মানুষ নয়। আমি রে’গে বলে ফেলেছিলাম। আসলে লাবিব কে অনেক ভালোবাসি। তাই আপনার মুখে ওরকম কথা শুনে রে’গে গিয়েছিলাম। আমি স্যরি শিসওয়ালা!
ইরফান মাইরার মাথা তুলে মাইরার দিকে তাকায়। জিরো লাইটের আলোয় মাইরার মুখে একটু একটু আলো এসে পড়ে। ইরফান মাইরার মুখ মুছে দিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– চোখের পানি জমিয়ে রাখো। ফিউচারে লাগবে। এক্ষুনি সব শেষ করে ফেলছ কেন?
মাইরা বোকাচোখে চেয়ে বলে,
– কেন?
ইরফান মাইরার গলা থেকে ওড়না সরিয়ে পাশে রাখলো। এরপর মাইরার গলার ভাঁজে হাত দিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– ভার্সিটি উঠলে বোঝাবো।
মাইরা তবুও বুঝল না। মাইরা মুখ ফুলিয়ে বলে,
– আপনি আমাকে কাঁদাবেন কেন? আমি না আপনার বউ? বউদের হাসাতে হয়, জানেন না?
ইরফান তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে,
– সব বোঝো। যাস্ট আমাকে হার্ট করার সময় সব ভুলে যাও। হোয়াই? হাসবেন্ডদের হার্ট করতে নেই, জানো না?
মাইরা মিনমিন করে বলে,
– স্যরি! আসলে আপনার রা’গ তো কমে গিয়েছে। আমার মনে হয়, আপনার ওই রা’গ গুলো আমার ভেতর ট্রান্সফার হয়ে এসেছে। তাই ভুলভাল বলে ফেলি। তাহলে এটা কি আমার একার দোষ হলো বলুন?
ইরফান চোখমুখ কুঁচকে বলে,
– স্টুপিট।
মাইরা ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে মিটমিটিয়ে হাসলো। একটু পর ইরফানের কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– ভালোবাসি শিসরাজ।
ইরফান হাতের বাঁধন শক্ত করল। মাইরা ইরফানের থেকে পাল্টা উত্তর না পেয়ে ইরফানের কানের আগায় দাঁত বসায়। ইরফান বা হাতে মাইরার কপালে হাত রেখে ঠেলে বলে,
– স্টুপিট কি করছ?
মাইরা ইরফানের কান ছেড়ে মুখ বাঁকালো। ত্যাড়া লোক একটা। কখনো তাকে ভালোবাসি তো বলেইনা। সে বললেও এন্সার দেয় না। দু’হাতে ইরফানের গলায় জড়িয়ে ধরে চোখ বুজল। ইরফান কানের আগায় হাত বুলালো। বাঁদর তো কা’ম’ড়া’য় না। এই স্টুপিট বউটা বাঁদরের সাথে সাথে ইঁদুর-ও।
.
.
.
মাইরা কলেজ থেকে এসে বেডের উপর মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। ইরফান শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে রেডি হয়ে নিল। আড়চোখে মাইরার ফুলিয়ে রাখা মুখ দেখে একটু চিন্তিত হলো। অফির যাওয়ার জন্য গায়ে ব্লেজার সহ ফর্মাল ড্রেসে নিজেকে রেডি করে মাইরার সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মাইরা মুখ ফিরিয়ে নিল ইরফানের দিক থেকে। ইরফান চোখ ছোট ছোট করে বলে,
– হোয়াট হ্যাপেন্ড? কি প্রবলেম তোমার?
মাইরা তাকালো না ইরফানের দিকে। ইরফান মাইরাকে টেনে তার দিকে ফিরিয়ে মাইরার মুখ তার দু’হাতের মাঝে নিয়ে বলে,
– কি হয়েছে? আমার সাথে কথা বলছো না কেন স্টুপিট?
মাইরা আরও মুখ ফুলায়। ইরফান বুঝতে পারছে না, সে আসলে করেছে টা কি! মাইরা চোখ নামিয়ে রেখেছে। ইরফানের কেমন অসহায় লাগলো। মেয়েটা এক সেকেন্ড শান্ত থাকলে তার নিজেকে কেমন পা’গ’ল পা’গ’ল লাগে। ইরফান আবেগী স্বরে ডাকে,
– বউ?
মাইরা সাথে সাথে চোখ তুলে তাকায় ইরফানের দিকে। ইরফান মাইরার চোখের দিকে তাকায়। মৃদুস্বরে বলে,
– আমি কি করেছি বউ?
মাইরার কেমন অদ্ভুদ অনুভূতি হয়। হাঁটুতে ভর দিয়ে দু’হাতে ইরফানকে জড়িয়ে ইরফানের বুকে মাথা রেখে বলে,
– আপনার অফিসের জন্য আপনি শুধু আমাকে ভুলে যান।
ইরফান মাইরার মাথায় চুমু এঁকে মৃদু হেসে বলে,
– ভুলে যাই না। কি চাই তোমার বলো? তোমার ইচ্ছে পূরণ করে, দ্যান অফিস। তুমি চাইলে সব ক্যান্সেল করে দিব।
মাইরা মাথা উঁচু করে ইরফানের দিকে তাকায়। থুতনি ইরফানের বুকে ঠেকানো। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
– আপনি মনে করুন, আমার কি চাই। আপনি জানেন।
ইরফান মাইরার দিকে চেয়ে ভাবতে লাগলো মাইরা কি চাইতে পারে। সে বুঝতে পারছে না ঠিক। এইতো গাড়ি থেকে নেমে ঘরে আসা পর্যন্ত তো ঠিক ছিল। এইটুকু টাইমের মাঝে কি চাইছে মাইরা। বেশ কিছুক্ষণ পর বুঝতে না পেরে অসহায় কণ্ঠে বলে,
– আমি বুঝতে পারছি না বার্ডফ্লাওয়ার। তুমি বলো।
মাইরা ইরফানকে ছেড়ে বেডের উপর পা ছড়িয়ে বসে। এরপর মন খারাপ করে বলে,
– হ্যাঁ হ্যাঁ এভাবেই সব ভুলে যাবেন। তারপর একদিন আমাকেও……
ইরফান ঝট করে মাইরাকে টেনে মাইরার ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরে। মাইরা বেচারি একটুও বুঝতে পারেনি। ইরফান এমন তুফানের গতিতে কাছে আসে কেন মেয়েটি বুঝে পায় না। ইরফান বা হাতে মাইরাকে টেনে তার সাথে জড়িয়ে নেয়, ডান হাত মাইরার চুলের ভাঁজে দিয়ে রাখে। বেশ অনেকক্ষণ পর-ও মাইরা ছাড়া না পেয়ে ইরফানকে ঠেললে ইরফান বিরক্ত হয়,, তবে ছাড়লো না মাইরাকে। দু’হাতে মাইরার কোমড় জড়িয়ে মাইরাকে টেনে মাইরার দু’পা তার দু’পাশে দিয়ে কোলে তুলে নেয়। মাইরা দু’হাতে ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে। ইরফান মাইরাকে এভাবে নিয়ে হেঁটে গিয়ে ডিভানের উপর মাইরাসহ সে বসে পড়ে। ইরফানের কোলে বসে মাইরা নড়েচড়ে ওঠে ইরফানের থেকে ছাড়া পেতে। ইরফান মাইরাকে আরও শক্ত করে ধরে।
বেশ অনেকক্ষণ পর ইরফান মাইরাকে ছেড়ে দিলে মাইরা দ্রুত ইরফানের কাঁধে মুখ ঠেকিয়ে চোখ বুজে নেয়। ইরফান মৃদু হাসলো। মাইরার কাঁধে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে কাঁধে গাঢ় করে একটা চুমু আঁকে। এরপর গলায় মুখ গুঁজে মৃদুস্বরে বলে,
– ইউ নো বার্ডফ্লাওয়ার? আমি আমার বার্ডফ্লাওয়ারকে ডেইলি ২৪ আওয়ারের প্রতি ১৪৪০ মিনিট এন্ড প্রতি ৮৬৪০০ সেকেন্ড ফিল করি।
মাইরা ঢোক গিলল। ইরফান মাইরার গলায় ছোট ছোট চুমু আঁকে। মাইরা মিনমিন করে ডাকে,
– শিসওয়ালা?
ইরফান মাইরাকে নিজের দিকে টেনে জড়িয়ে নেয়। মৃদুস্বরে বলে,
– বউ? একটু আদর করি?
মাইরা কেঁপে ওঠে। ইরফান বুঝতে পেরে একটু হাসলো। মাথা তুলে মাইরার বন্ধ চোখমুখে দৃষ্টি বুলায়। ইরফানের বা হাতের উপর মাইরা আধশোয়া। ইরফান সোজা হয়ে মাইরাকে সোজা করে বসিয়ে তার বুকে জড়িয়ে নিল। কপালের সাথে গাল ঠেকিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– অ্যা’ম ওয়েটিং ফর ইউ মাই বার্ডফ্লাওয়ার। ডোন্ট ওয়ারি।
মাইরা চোখ খিঁচে রাখলো। ইরফান মাইরার ঠোঁটজোড়ায় আঙুল রেখে মৃদুস্বরে বলে,
– রেডি হয়ে নাও বউ। ফুসকা খাওয়াতে নিয়ে যাবো।
মাইরা সাথে সাথে চোখ মেলে ইরফানের দিকে তাকায়। গতকাল ইরফান তাকে ফুসকা খাওয়াতে নিয়ে গিয়েও নাছিমের সাথে দেখা করে বাড়ি চলে এসেছিল। আজকেও কলেজ থেকে আসার সময় খাওয়ায়নি। তাই মাইরার মন খারাপ হয়েছে।
মাইরা সোজা হয়ে বসে অবাক হয়ে বলে,
– আপনার মনে আছে?
ইরফান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। মাইরাকে ডিভানের উপর বসিয়ে দিয়ে সে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ডান হাতের দু’আঙুলের সাহায্যে মাইরার নাক টেনে বলে,
– কিচ্ছু ভুলি না আমি। ফাস্ট রেডি হয়ে নাও।
কথাটা বলে পকেট থেকে ফোন বের করে ফোনে ব্যস্ত হয়।
মাইরা খুশি হয় ভীষণ। ডিভান থেকে উঠে দ্রুত আয়নার সামনে গিয়ে রেডি হয়ে নেয়। এরপর ইরফান মাইরাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
.
.
ইরফান মাইরাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে, কিন্তু মাইরা রেস্টুরেন্টে যাবে না। সে রাস্তার পাশের ফুসকা খাবে। ইরফান হতাশার শ্বাস ফেলে বলে,
– তুমি এতো জেদি কেন বার্ডফ্লাওয়ার?
মাইরা মুখ বাঁকিয়ে বলে,
– আচ্ছা খাবো না। বাড়ি চলুন।
কথাটা বলে মাইরা দু’হাত আড়াআড়িভাবে গুঁজে রাখে। ইরফান স্টিয়ারিং-এ ডান হাত রেখে ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। মাইরার দিকে চেয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
– আমি জেদি মেয়েদের লাইক করিনা।
মাইরা চোখ ছোট ছোট করে বলে,
– জেদি মেয়েদের লাইক করতে কে বলেছে? আপনি আপনার জেদি বউকে লাইক করবেন। বুঝেছেন?
ইরফান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
– বাট আই ডোন্ট লাইক ইউ।
মাইরা রে’গে তাকায় ইরফানের দিকে। ইরফান কিছু বলল না। গাড়ি থেকে বেরিয়ে অপর পাশের দরজা খুললে মাইরা বেরিয়ে আসে।
এরপর ইরফান মাইরার হাত ধরে একটি ফুসকার দোকানে নিয়ে যায়। মাইরা চার প্লেট ফুসকা দিতে বলে রাস্তার পাশে রাখা চেয়ারে বসল। ইরফান মাইরার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। মাইরা ইরফানের হাত ধরে বলে,
– আমার পাশে বসুন।
ইরফান সাথে সাথে বলে,
– নো।
মাইরা বসা থেকে দাঁড়িয়ে ইরফানের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
– আমার পাশে বসবেন না কেন আপনি?
ইরফান উত্তর করে,
– এখানে না।
মাইরা ইরফানের হাত ধরে বলে,
– আসুন, আমার পাশে বসুন বলছি।
ইরফান আশেপাশে তাকিয়ে বলে,
– স্টুপিট, আমি যেখানে সেখানে বসিনা।
মাইরা-ও সাথে সাথে বলে,
– বসতে হবে।
ইরফান হতাশ চোখে মাইরার দিকে চেয়ে থাকে। মাইরা ইরফানকে টেনে তার পাশের চেয়ারে বসিয়ে মাইরা ইরফানের পাশে বসে। ইরফান অদ্ভুদভাবে চেয়ে আছে। জীবনে এসব জায়গায় বসেনি। বসা তো দূর, দাঁড়িয়েছে কি-না কখনো তাও মনে পড়ে না। আর এই স্টুপিট বউটার জন্য কতকিছু করতে হচ্ছে তাকে।
কিছুক্ষণের মাঝে মাইরার সামনে একটা প্লেট বাড়িয়ে দিলে মাইরা প্লেটটি হাতে নেয়। একটি প্লেট ইরফানের হাতে দেয়, আরেকটি পাশের চেয়ারে রাখে। তৃতীয় প্লেটটি থেকে মাইরা খাওয়া স্টার্ট করে। ডানদিক ফিরে তাকালে দেখল ইরফান তার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। মাইরার প্রায় পাঁচটি ফুসকা খাওয়া শেষ। অনেক ঝাল দিয়ে খাওয়ায় মাইরার চোখমুখ অনেকটা লাল হয়ে গিয়েছে। সাথে ঠোঁটজোড়া টকটকে লাল, যা চোখে লাগছে খুব।
মাইরা আরেকটি ফুসকা মুখে পুড়ে ইরফানের দিকে চেয়ে ইশারায় বলে, কি?
ইরফান ঢোক গিলল। ডান হাতের বুড়ো আঙুল মাইরার ঠোঁটজোড়ায় রেখে মৃদুস্বরে বলে,
– আমি তোমার লিপস্ খেতে চাই বউ।
তখন-ই একটি ছেলে হাতে আরেকটি ফুসকার প্লেট নিয়ে এগিয়ে দিয়ে, প্লেটটি নিতে বলে। মাইরা ইরফানের দিকেই চোখ বড়বড় করে তাকায়। ইরফান বিরক্ত হলো। ডান হাত বাড়িয়ে ছেলেটির থেকে ফুসকার প্লেটটি নিলে ছেলেটি চলে যায়। ইরফান প্লেট দু’টো তার পাশের চেয়ারে রেখে মাইরার দিকে চেয়ে বলে,
– ফার্স্ট ফিনিশ কর বার্ডফ্লাওয়ার! আই ওয়ান্ট টু ইট….
মাইরা চেঁচিয়ে ওঠে,
– চুউউউউপ।
ইরফান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মাইরা কাঁদোকাঁদো মুখ করে গলা নামিয়ে বলে,
– আপনি আসলেই একটা অ’স’ভ্য লোক। আপনি কি আমাকে একটু খেতেও দিবেন না? এটা রাস্তা জানেন না? ইশ! আমি এখন এখান থেকে উঠে কাউকে মুখ দেখাবো কি করে?
ইরফান বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
– কাউকে মুখ দোখানোর প্রয়োজন নেই। আমাকে দেখালেই হবে। ফাস্ট খাও।
মাইরা মুখ ভেঙচি দিল। অ’স’ভ্য লোক একটা। একটা প্লেট শেষ করে আরেকটি প্লেট নিয়ে ইরফানের সামনে একটি ফুসকা ধরলে ইরফান চোখমুখ কুঁচকে বলে,
– আমি এসব খাইনা।
মাইরা ভেতর থেকে প্রায় সবগুলো মরিচ ফেলে দিল। যাস্ট দু’টো মরিচের টুকরো রেখে ইরফানের সামনে নিয়ে বলে,
– দেখুন, আমি ভালোবেসে আপনাকে দিচ্ছি। একদম নাকমুখ কোঁচকাবেন না বলে দিলাম। এমন ভাব করেন, যেন আমি গু খাচ্ছি!
ইরফান দ্বিগুণ মুখ কোঁচকায়। ধমকে বলে,
– এসব বাজে কথা অফ করবে না তুমি?
মাইরা ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে,
– এমন করেন কেন? আপনি না আমাকে লিটল গার্ল বলেন? আমার জন্য একটা ফুসকা খেলে কি হবে? মরিচ দিইনি, সত্যি!
ইরফান শীতল দৃষ্টিতে তাকায় মাইরার দিকে। সময় নষ্ট না করে হা করল, যেন মাইরা একটা রিমোট, একটুখানি আবদার করল, অমনি ইরফান হা করল।
মাইরা বেশ খুশি হয়ে ইরফানের মুখে ফুসকা পুড়ে দেয়। ইরফানকে তার কি যে ভালো লাগে,, ইরফানের অপছন্দের জিনিসগুলো-ও সে একবারের জায়গায় দুইবার বললেই ইরফান কি সুন্দর সব মেনে নেয়।
ইরফানকে খাওয়াতে খাওয়াতে পুরো এক প্লেট ফুসকা সব খাইয়েছে মাইরা। ইরফান ফোনে মগ্ন ছিল। মরিচ ছাড়া দেয়ায় বেচারা ধান্দাতে এতোগুলো খেয়ে নিয়েছে বুঝতেই পারেনি। মাইরা সবগুলো ইরফানকে খাইয়ে ইরফানের দিকে তাকিয়ে রইল। ইরফানের হঠাৎ খেয়াল আসতেই মাইরার দিকে তাকালো, এরপর মাইরার হাতের প্লেট এর দিকে তাকালো। খুব বুঝলো সব সেই খেয়ে নিয়েছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে মাইরার দিকে চেয়ে ছোট করে বলে,
– স্যরি!
মাইরা ইরফানের এক্সপ্রেশন দেখে শব্দ করে হেসে ফেলল। নিজেকে সামলে হেসে বলে,
– পুরো এক প্লেট ফুসকা খাইয়েছি আপনাকে। বুঝলেন তো, মাইরা পারেনা এমন কিছু নেই!
কথাটা বলে হাতের প্লেট রেখে আরেকটি প্লেট নিয়ে মাইরা খাওয়া স্টার্ট করে।
ইরফান ফোনের দিকে চেয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু হাসলো।
মাইরার সব ফুসকা খাওয়া শেষে ইরফান বিল মিটিয়ে মাইরার হাত ধরে তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। মাইরা ইরফানকে এতোগুলো ফুসকা খাওয়াতে পেরে ভীষণ খুশি। তার স্বভাবসুলভ উৎফুল্ল মে’জা’জে কথা বলতে বলতে ইরফানের হাত ধরে এগিয়ে যায়। হঠাৎ-ই ইরফানের কানে ভেসে আসে একটি বাক্য,
– ওই মেয়েকে বিছানায় না নিয়ে আমার দম নিব না। হেব্বি মা’ল।
ইরফান ডান পা সামনের দিকে বাড়িয়েও পিছিয়ে নেয়। ঘাড় বাঁকিয়ে ডান দিকে তাকায়। একটি ২৪-২৫ বছরের ছেলে মাইরার দিকে চেয়ে ফোনে কথা বলছে। মুহূর্তেই ইরফানের মাথায় র’ক্ত উঠে যায়। চোখ বুজল। মাইরা ইরফানের হাত ধরে বলে,
– কি হয়েছে? দাঁড়িয়ে পড়লেন কেন?
ইরফান চোখ খুলে মাইরার দিকে তাকায়। এরপর আবারও আশেপাশে তাকায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আমেজ নামবে ভাব। আশেপাশে তেমন মানুষজন নেই। ইরফান ছোট করে বলে,
– চলো।
এরপর মাইরার হাত ধরে তার গাড়ির কাছে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে মাইরাকে বসতে বললে মাইরা উঠে বসে। ইরফান মৃদুস্বরে বলে,
– দু’মিনিট ওয়েট কর। আমি আসছি।
কথাটা বলে গাড়ির পিছন দিকে বড়বড় পা ফেলে সেই লোকটির পিছনে এসে দাঁড়ায় ইরফান। হঠাৎ-ই লোকটির কান থেকে ফোন নিয়ে তার কানে নিয়ে শক্ত গলায় বলে,
– ইওর টাইম ইজ আপ সৌভিক।
কথাটা বলেই ফোন আঁচড়ে ফেলে। সামনের লোকটি পালানোর জন্য পা বাড়ালে ইরফান লোকটির কলার টেনে ধরে। রে’গে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। লোকটির কলার ছেড়ে মৃদু হেসে বলে,
– আমার সাথে এসো।
লোকটি অবাক হয়ে ইরফানের দিকে চেয়ে আছে। আনএক্সপেক্টেড কিছু পেয়ে লোকটি বলার মতো কিছু পায় না। ইরফান লোকটিকে টেনে সামনের দিকে বেশ অনেকক্ষণ হাঁটলো। লোকটি পালাতে চাইলেও পারেনি। ইরফান একটি ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পিছু ফিরে তাকায়। লোকটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইরফান লোকটির কলার ধরে গাছের সাথে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। লোকটির গলায় পাড়া দিয়ে হিসহিসিয়ে বলে,
– মানুষ খু’ন করা আমার ক্যারেক্টার নয়। আদারওয়াইস তোকে কতশতবার খু’ন করতাম, এটা কল্পনাও করতে পারবিনা বা’স্টা’র্ড।
কথাটা বলে ইরফান তার গায়ের ব্লেজার খুলে লোকটির মুখ বেঁধে দেয়। লোকটি ছাড়া পেতে ছটফটায়। ইরফান লোকটির গলা থেকে পা সরায়নি। সে তার বেল্ট খুলে লোকটির দু’হাত বেঁধে দেয়। এরপর তার শরীর থেকে শার্ট খুলে লোকটিকে গাছের সাথে বেঁধে দেয়। লোকটির দু’পা সামনের দিকে মেলে রেখেছে।
ইরফান তার কাজ শেষ করে শক্ত গলায় বলে,
– যাস্ট ওয়েট!
কথাটা বলে ইরফান বড় বড় পা ফেলে তার গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। মাইরা ইরফানের অপেক্ষা করছিল। আশেপাশে বারবার তাকিয়ে ইরফানকে না দেখে মেয়েটি হতাশ হচ্ছিল। হঠাৎ-ই ড্রাইভিং সিটে ইরফানকে বসতে দেখে মাইরা অবাক হয়ে তাকায়৷ ইরফানের গায়ে কিচ্ছু নেই। মাইরা চোখ বড় বড় করে বলে,
– আপনার শার্ট, ব্লেজার সব কই?
ইরফান কিছু বলল না। দৃষ্টি সামনে রেখে গাড়ি স্টার্ট দেয়। মাইরা অবাক হয়ে বলে,
– অদ্ভুদ তো! আপনি কাপড় কোথায় খুলে রেখে আসলেন?
ইরফানের মাইরার দিকে তাকালো না। কিছুদূর যেতেই মাইরার সামনের দিকে দৃষ্টি পড়লে দেখল একদম তাদের গাড়ির সামনে একটি লোক গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় বসানো। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার লোকটির মুখ ইরফানের ব্লেজার দিয়ে বাঁধা , সাথে মনে হলো লোকটি ইরফানের শার্ট দিয়ে বাঁধানো। মাইরা অবাক চোখে তাকায় ইরফানের দিকে।
ভীত কণ্ঠে বলে,
– গাড়ি থামান প্লিজ! ওই লোকটা সামনে।
মাইরার কথা যেন ইরফান শুনতেই পায়নি। গাড়িটি লোকটির থেকে খুব বেশি দূরে নয়। মাইরা ইরফানের দিকে তাকিয়ে ইরফানের হাত ঝাঁকিয়ে বলে,
– শিসরাজ? কি করছেন? গাড়ি থামান। গাড়ি থামান প্লিজ! ওই লোকটা ম’রে যাবে তো!
ইরফান মাইরার কথা শুনলো না। বরং গাড়ির বেগ বাড়িয়ে সামনে বেঁধে রাখা লোকটির পায়ের উপর গাড়ির চাকা তুলে দেয়। মাইরা চেঁচিয়ে ওঠে। মেয়েটি ভ’য়ে প্রায় কেঁদে দিয়েছে।
ইরফানের দৃষ্টির নড়চড় নেই। শক্ত চোখে চেয়ে, গাড়ির স্টিয়ারিং আরও শক্ত করে ধরে। এরপর গাড়ি ব্যাকে নিয়ে গিয়ে আবারও লোকটি পা দু’টোর উপর গাড়ির চাকা তুলে দেয়। এভাবে পুরো ছয় বার লোকটির দু’পায়ের উপর গাড়ির চাকা তুলে দেয়। লোকটির মুখ বাঁধা থাকায় তার আওয়াজ বের হয় না, তবুও অস্ফুটস্বরে গোঙানির আওয়াজ আসে।
মাইরার নিজেকে দিশেহারা লাগে। এগিয়ে এসে দু’হাতে ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে ভীত কণ্ঠে বলে,
– শিসরাজ থামুন প্লিজ! এমন করবেন না। আমার ভ’য় করছে। থামুন।
ইরফান গাড়ির ব্রেক ক’ষ’ল। বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করল। এরপর দু’হাতে মাইরাকে টেনে তার কোলে বসিয়ে দেয়। দু’হাতে শক্ত করে মাইরাকে জড়িয়ে নিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– আমি আছি। ডোন্ট প্যানিক!
মাইরা ইরফানকে ছেড়ে ইরফানের দিকে চেয়ে ভেজা গলায় বলে,
– আপনি এমনটা কেন করলেন?
ইরফান ডান হাতে মাইরার চোখের কোণে লে’গে থাকা পানি মুছে দিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– ও আমার বার্ডফ্লাওয়ারকে নিয়ে বাজে কথা বলেছে।
মাইরা অবাক হয়ে বলে,
– তাই বলে এমন করবেন? উনাকে হসপিটালে নিয়ে যান।
ইরফান তীক্ষ্ণ চোখে মাইরাকে দেখে, এরপর শক্ত কণ্ঠে বলে,
– তুমি অন্যকাউকে নিয়ে ভাববে না, আন্ডারস্ট্যান্ড?
কথাটুকু বলে মাইরার চোখে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
মাইরা ভীত চোখে ইরফানের দিকে চেয়ে আছে। সে এমন ইরফানকে চেনে না। থা’প্প’ড় মা’রা পর্যন্ত-ই ইরফানকে চিনতো। কিন্তু এমন পা’ষ’ণ্ড ইরফানকে তার না চাইতেও ভ’য় লাগছে। ইরফান মাইরার ভীত মুখপানে চেয়ে নিজেকে শান্ত করল। মাইরার গালে হাত দিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– মাই বার্ডফ্লাওয়ার, কি হয়েছে? ভ’য় পাচ্ছো কেন?
মাইরা ঢোক গিলল। কাঁপা কণ্ঠে বলে,
– আপনি কিভাবে এমনটা…
ইরফান মাইরার ঠোঁটজোড়া আলতো করে আঁকড়ে ধরে। মাইরা চোখ বুজে নেয়। কিছুক্ষণ পর ইরফান মাইরাকে ছেড়ে মৃদুস্বরে বলে,
– ভ’য় পাচ্ছো কেন বার্ডফ্লাওয়ার? ইউ নো? আমি তোমাকে যাস্ট আদর করতে পারি। হার্ট করতে পারিনা।
কথাটা বলে ইরফান মাইরার ডান হাত তার বুকের বা পাশে চেপে নরম গলায় বলে,
– বার্ডফ্লাওয়ার তার শিসরাজকে ছাড়া অন্যকারো কথা ভাবলে, এখানে ক্ষ’ত সৃষ্টি হয় লিটল গার্ল। তুমি যাস্ট আমাকে নিয়ে ভাববে? যাস্ট আমার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে বার্ডফ্লাওয়ার?
কি আবেগমাখা আবদার! মাইরার চোখজোড়া ভরে ওঠে। ডান হাত বাড়িয়ে ইরফানের গালে হাত রেখে ভেজা কণ্ঠে বলে,
– আপনি এতো ভালোবাসেন কেন আমায় শিসরাজ?
ইরফান মাইরার হিজাব আলগা করে মাইরার গলায় মুখ গুঁজে শ্বাস টানে। গলার ভাঁজে শব্দ করে দু’টো চুমু খেয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে,
– আই ডোন্ট লাভ ইউ বার্ডফ্লাওয়ার।
মাইরা কান্নাভেজা চোখে একটু হাসলো। দু’হাতে ইরফানের গলা জড়িয়ে ধরে মুখ বাঁকিয়ে বলে,
– মিথ্যুক।
মাইরার আবারও লোকটির কথা মনে পড়ল। কিন্তু ইরফানকে বলার সাহস পাচ্ছে না। সে জানে এই কথা বললে ইরফান ভীষণ রে’গে যাবে। তার ভাবনার মাঝেই ইরফান পকেট থেকে ফোন বের করে রাকিব নামের কাউকে কল করে এখানে আসতে বলে লোকটিকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে সবচেয়ে লো কোয়ালিটির হসপিটাল প্লাস একদম নরমাল ট্রিটমেন্ট দেয় এমন জায়গা নিশ্চিত করতে বলেছে।
মাইরা অবাক না হয়ে পারলো না। এই ইরফানকে মাইরা নতুন চিনলো। ইরফানের এই নতুন রূপ মাইরাকে খানিক ভীত করে।
ইরফান মাইরার মাথায় চুমু এঁকে গাড়ি স্টার্ট দেয়। মাইরা ইরফানের বুকে মাথা রেখে চোখ বুজল।
_______________________
পরদিন,
রাত তখন ৮ টা। শুদ্ধ তার অফিস থেকে ইরফানের অফিসে এসেছে। মাঝেমাঝেই তার বাড়ি যাওয়ার সময় ইরফানের অফিস হয়ে যায় সে। আজ-ও এসেছে। নাছিমের সাথে কথা বলতে বলতে ইরফানের অফিস-রুমে প্রবেশ করে। ইরফান ল্যাপটপে কাজ করছে। শুদ্ধকে দেখল, তবে কিছু বলল না। শুদ্ধ এগিয়ে এসে ইরফানের সামনের চেয়ারে বসে আরও বেশ কিছুক্ষণ নাছিমের সাথে কথা বলে কল কেটে দেয়।
টেবিলের উপর থেকে একটি বন্ধ ল্যাপটপ নিয়ে অন করে শুদ্ধ। এরপর নাছিমকে ভিডিও কল দিয়ে ইরফানের দিকে চেয়ে বলে,
– আয় আয়,, নাছিমের না-কি তোকে ছাড়া কিডনি জ্বলছে।
ইরফান ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে শুদ্ধর দিকে। ওপাশ থেকে নাছিম কল রিসিভ করলে শুদ্ধ মিটিমিটি হেসে বলে,
– এ্যাই নাছিমা খালা, স্বীকার কর তো, তোর ইরফানকে ছাড়া কিডনি জ্বলছে না? আমার সত্য বেশি হয়ে গিয়েছে বুঝলি? সত্যকথার দাম নাই, তাই কেউ আমায় বিশ্বাস করতে চায় না।
নাছিম ওপাশ থেকে বিরক্ত হয়ে বলে,
– তুই ভালো হ শুদ্ধ। নয়তো তোর কপালে বাচ্চা নাই বলে দিলাম।
শুদ্ধ চোখ ছোট ছোট করে বলে,
– বে’দ্দ’প, উল্টাপাল্টা অ’ভি’শা’প দিলে এক থা’ব’ড়া খাবি।
নাছিম কিছু বলল না। শুদ্ধ বসা থেকে দাঁড়িয়ে ইরফানের দিকে ল্যাপটপ ঘুরিয়ে ইরফানের পাশে যেতে নিলে হাতের সাথে লেগে কি যেন পড়ে যায়। হাতের উপর দুই ফোঁটা কিছু পড়তেই শুদ্ধ ওমাগো বলে চেঁচিয়ে ওঠে। জায়গাটা জ্বলে গেল মনে হচ্ছে। ইরফান ভ্রু কুঁচকে শুদ্ধর দিকে তাকায়। শুদ্ধ হাতের জায়গা টা ডলে দ্রুতপায়ে ওয়াশরুমে যায়। নাছিম অবাক হয়ে বলে,
– শুদ্ধর কি হলো?
ইরফান ভাবলেশহীনভাবে বলে,
– এসে দেখে যা।
নাছিম কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায় ইরফানের হাতের দিকে নজর পড়লে। জহুরি চোখে তাকিয়ে ইরফানের উদ্দেশ্যে বলে,
– এ্যাই ইরফান তোর হাতে কি হয়েছে?
ইরফান কিছু বলে না। শুদ্ধ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে ইরফানের উদ্দেশ্যে বলে,
– কি এনে রেখেছিস রে? হাতে একটু পড়েছে না, পড়েনি, তাতেই মনে হচ্ছে চা’ম’ড়া খুলে যাচ্ছে। ইশ!
বলতে বলতে এগিয়ে এসে টেবিলে কাত হয়ে থাকা ছোট বোতল হাতে তুলে দেখল, বোতলের গায়ে লেখা ~ (H₂SO₄) সালফিউরিক এসিড।
শুদ্ধ ইরফানের দিকে চেয়ে অবাক হয়ে বলে,
– কি রে, তুই সাইনটিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছিস না-কি? এসব বিজ্ঞানীদের জিনিস তোর এখানে কোন পায়ে হেঁটে আসল সোনা?
ইরফানের দৃষ্টি তার ল্যাপটপে। নাছিম কলের ওপাশ থেকে চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
– শুদ্ধ ইরফানের হাত চেক কর দ্রুত।
শুদ্ধ নাছিমের কথা শুনে অবাক হয়। হাতের বোতলটি টেবিলের উপর রেখে ইরফানের পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
– তোর হাত কই? দেখি?
ইরফান বিরক্ত চোখে চেয়ে বলে,
– যাবি তোরা? ডিস্টার্ব করছিস কেন?
নাছিম বলে,
– শুদ্ধ ওর কথা শুনিস না। ওর হাত চেক কর।
ইরফান নাছিমের দিকে রে’গে তাকায়। নাছিম পাত্তা দিল না। শুদ্ধ জোর করেই ইরফানের হাত টেনে ধরে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। বেচারা নিজেই ভ’য় পেয়ে যায়। সাথে সাথে ইরফানের হাত ছেড়ে অবাক হয়ে বলে,
– ইরফান তোর হাতের এই অবস্থা কি করে? তোর হাতে কি সালফিউরিক এসিড পড়েছিল?
নাছিম শুদ্ধর কথা শুনে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায় ইরফানের দিকে। রে’গে বলে,
– ইরফান তুই ইচ্ছে করে করেছিস এটা তাই না?
শুদ্ধ মাথায় হাত দিয়ে ঝিম মে’রে দাঁড়িয়ে আছে। ইরফানের হাতের চা’ম’ড়া’র অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে এর হাত গলে গিয়েছে। কেউ টাচ করলেই ইরফানের চা’ম’ড়া উঠে আসবে। থেমে থেমে বলে,
– তুই পা’গ’ল? কি করেছিস এসব?
হঠাৎ-ই রে’গে চিল্লিয়ে বলে,
– এ্যাই বে’য়া’দ’ব এসব কি করেছিস?
ইরফান শুদ্ধর দিকে বিরক্ত চোখে তাকায়। এদের রিয়েকশন দেখে মনে হচ্ছে সে ম’রে গিয়েছে।
বসা থেকে দাঁড়িয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
– তোদের আর কাজ নেই?
নাছিম অসহায় চোখে চেয়ে বলে,
– শুদ্ধ ওকে গাড়ি চালাতে দিস না। যা। ও গাড়ি চালালে ওর হাতের সব চা’ম’ড়া তো গাড়ির স্টিয়ারিং-এই লেগে যাবে।
শুদ্ধ দ্রুতপায়ে বাইরে যেতে গিয়েও নাছিমের দিকে চেয়ে বলে,
– আমি জানি ও ইচ্ছে করে এরকম করেছে। ওকে খুব ভালো করে চিনি। কিন্তু কেন এমন করেছে তুই জানিস?
নাছিম মলিন গলায় বলে,
– মেইবি, বার্বিডল এর জন্য। ও একটা পা’গ’ল। ওকে ডক্টর দেখাবি।
শুদ্ধ আর কিছু বলল না। দ্রুতপায়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে। নাছিম দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এতো অসহায় লাগছে নিজেকে। ইরফান এরকম কেন করেছে?
শুদ্ধ ইরফানের পিছু পিছু গিয়েও ইরফানকে পায়না। ও চলে গিয়েছে। শুদ্ধ হতাশ হলো। ইরফান এমন কেন? শুদ্ধ সত্যিই না তো ভাবার মতো কিছু খুঁজে পায়, আর না তো বলার মতো।
.
.
.
ইরফান অফিস থেকে ফিরে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে ডিভানের উপর ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে। অফিসের অসমাপ্ত কাজে ব্যস্ত হয়েছে। মাইরা একটু আগেই নিচে গিয়েছে। ইরফান কিছু বলেনি।
কিন্তু সে দু’হাতে ঠিক করে কাজ করতে পারছে না। এই কারণে সে বিরক্ত। ল্যাপটপে টাইপ করছে, অথচ হাত চলছে না। তীব্র জ্বলুনি, সাথে অসহনীয় ব্য’থা। অথচ ইরফানে মুখে এর কোনো ছাপ নেই।
চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে ডান হাত মেলে একবার চোখ বুলায়। প্রথমে হাত ছিল, সাদা, এরপর লাল টকটকে ছিল। এখন ধীরে ধীরে কেমন বাদামি কালার হয়ে যাচ্ছে। হাতের চা’ম’ড়া এতো নরম হয়ে গিয়েছে,, শাওয়ার নিতে গিয়ে অনেকটা চামড়া কেমন নাই হয়ে গিয়েছে। ইরফানের মুখাবয়ব স্বাভাবিক।
মাইরা দু’মিনিট হলো ঘরে এসে ইরফানের পিছনে দাঁড়িয়েছিল। সে ইরফানের পিছনে দাঁড়িয়েছিল দুষ্টুমি করতে। কিন্তু ইরফানের হাতের অবস্থা দেখে মাইরার চোখেমুখে বিস্ময় ভর করে। অবাক হয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
– আপনার হাতে কি হয়েছে শিসওয়ালা?
মাইরার কণ্ঠ পেয়ে ইরফান দ্রুত পিছু ফিরে তাকায়। মাইরা পিছন থেকে ইরফানের সামনে এসে দাঁড়ায়। সামান্য ঝুঁকে ইরফানের দু’হাত মেলে ধরে কাছ দেখে দেখে আঁতকে ওঠে। হাতের মানচিত্র-ই যেন পাল্টে গিয়েছে। মাইরা অবাক হয়ে ইরফানের দিকে তাকিয়ে ভারী গলায় বলে,
– শিসওয়ালা এসব কি করে হয়েছে? বলুন না? আপনার হাত….
মাইরার কথা বেঁধে যায়। সে গ্রামে মানুষের পোড়া হাত দেখেছে, কিন্তু এমন বিধ্বস্ত হাত কখনো দেখেনি। ইরফান মৃদু হেসে বলে,
– এই দু’হাত আমার বার্ডফ্লাওয়ারকে হার্ট করেছিল। তাই পানিশমেন্ট দিয়েছি।
মাইরার চোখ ভরে ওঠে। থেমে থেমে বলে,
– শিসরাজ আপনি এসব….
ইরফান অপরাধীর ন্যায় বলে,
– সালফিউরিক এসিড অ্যারেঞ্জ করতে টাইম লাগছিল বার্ডফ্লাওয়ার। লেট হওয়ার জন্য স্যরি!
মাইরা স্তব্ধ চোখে তাকায় ইরফানের দিকে। ইরফানের হাত ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। দু’চোখের পাতা ভেদ করে পানি গড়িয়ে পড়ে। ইরফান ভ্রু কুঁচকে বলে,
– কাঁদছ কেন বার্ডফ্লাওয়ার?
মাইরা ঢোক গিলল। মাথা নিচু করে ইরফানের হাতের দিকে তাকালে তার দলা পাকিয়ে কান্নারা বেরিয়ে আসতে চাইলো।
মাইরা ধীরে ধীরে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে। কাঁপা হাতে তার ছোট দু’হাতের উপর ইরফানের দু’হাত রাখে। এরপর ইরফানের দু’হাতের মাঝে তার মুখ ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে,
– এটা আপনি কি করেছেন শিসওয়ালা? আপনি কি করে পারলেন এমনটা করতে? আপনি নিজেকে এভাবে কেন কষ্ট দিলেন, বলুন?
ইরফান অসহায় চোখে মাইরাকে দেখে। একটু পর মাইরাকে টেনে তার কোলে বসিয়ে মাইরার মাথা তার বুকে চেপে মৃদুস্বরে বলে,
– ডোন্ট ক্রাই। ইট’স নরমাল।
মাইরা সোজা হয়ে বসে ইরফানের দিকে চেয়ে ইরফানের শার্টের কলার ধরে রে’গে বলে,
– এটা নরমাল? আপনার হাত চিনতে পারছিনা আমি শিসরাজ। আপনি এটাকে নরমাল কি করে বলছেন?
ইরফান শান্ত চোখে মাইরার দিকে চেয়ে আছে। মাইরা ফোঁপাতে ফোপাঁতে ইরফানের বুকে আলতো হাতে থা’প্প’ড় দেয় আর বলে,
– আপনি কি পা’গ’ল শিসরাজ? আপনি এমন কেন বলুন তো? আপনি নিজেকে এভাবে কেন কষ্ট দিলেন, বলুন?
আমার ভীষণ কষ্ট হয় শিসরাজ। আপনি এটা কেন করলেন বলবেন? আমি তো বলেছিলাম, আমি ওই কথাটা রে’গে বলেছি। আপনার বার্ডফ্লাওয়ার কষ্ট পেলে আপনার কষ্ট হয়, আর আমার শিসওয়ালা কষ্ট পেলে আমার কষ্ট হয় না?
কথাগুলো বলতে বলতে মাইরা ইরফানের বুকে মুখ ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে।
চলবে ইনশাআল্লাহ~~
🟥[শব্দসংখ্যা – ৩৭৩০
সকলে রেসপন্স করবেন। কেমন হয়েছে জানাবেন।]
গল্প সম্পর্কে আপডেট পেতে ও গল্প নিয়ে আলোচনা করতে গ্রুপে জয়েন হয়ে নিন। গ্রুপ লিংক:
https://facebook.com/groups/437119506098736
২য় পেইজ লিংক:
https://www.facebook.com/profile.php?id=61575972166456

