#প্রণয়ের_রূপকথা (৪২)
রাত্রির বিয়ের কথা বার্তা আগানোয়, দীপ্র আর আয়ানার বিষয়টা ধামাচাপা পড়ে গেল। বিষয়টি আর বলে ওঠতে পারলেন না আনোয়ার সাহেব। বাড়ির প্রায় সকলেই আজ ছেলের বাড়ি দেখতে যাবে। তবে দাদিজান অসুস্থ হওয়াতে তিনি যেতে পারবেন না। ওদিকে কুহুর মা ববিতার আজ বড়ো একটা অর্ডার আছে। সেই অর্ডারের কারণে তিনিও যেতে পারবেন না। তবে রাত্রি বাড়িতে থাকায় তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। সবাই বেশ হৈ হৈ করে তৈরি হচ্ছে। আবিরের বিয়ে নিয়ে যতটা হৈ হৈ ওঠেছিল, রাত্রির বিয়ে নিয়ে তার থেকে বেশি হৈ হৈ ওঠেছে। এই দলে যোগ দিয়েছে কুহুও। ও আসলে দেখাতে চাচ্ছে সব ঠিক আছে। এই যে যেমন এখন শাড়ি পরে এসেছে রাত্রির কাছে। রাত্রি ওকে দেখেই হাসল।
“সুন্দর লাগছে?”
“খুব, সুন্দর লাগছে।”
“হুম, সুন্দর তো লাগতেই হবে। ছেলের ভাই নেই তো কি হয়েছে, কাজিনরা তো আছেন। ওদের মাথা খারাপ করতে হবে।”
কুহুর এ কথায় রাত্রি হাসল। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস ওমন সময়ই দীপ্রকে আসতে দেখা গেল। কুহুর মুখটা সামান্য ছোট হয়ে গেল। তবে দীপ্র এ বিষয়ে কোনো কিছুই বলল না। কুহুর মনটা বোধহয় চাইছিল দীপ্র ভাই কিছু একটা বলুক। তেমন না হওয়াতে ওর খারাপ লাগল। ও দাঁড়িয়ে রইল।
“ছেলেকে তোর পছন্দ হয়েছে?”
“সবার তো হয়েছে।”
“সবার কথা জানতে চাইনি রাত্রি। তোর কথা জানতে চেয়েছি।”
“হুম হয়েছে।”
বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ও। এই দীর্ঘশ্বাসে কি এক ব্যথা লুকিয়ে। সেটা দীপ্র কিংবা কুহু, দুজনেই জানে।
“ঠিক আছে।”
ব্যাস, এইটুকুই। দীপ্র বেরিয়ে গেল। কুহু এসে রাত্রির কাছে দাঁড়াল।
“আমিও যাই রাত্রিপু। লেট হয়ে যাচ্ছে।”
“হুম। সাবধানে যাস।”
কুহু বেরিয়ে গেল। রাত্রি এসে দাঁড়াল জানালার কাছে। এই জানালা দিয়ে তাকালে সদর দরজা দিয়ে বের হওয়া সব লোককেই দেখা যায়। খানিক বাদে সবাইকে বের হতে দেখা গেল। শেষে বের হতে দেখা গেল অরণ্যকেও। রাত্রির বুকটা হু হু করে ওঠল। অরণ্যর কি একটুও যন্ত্রণা হচ্ছে না? ও দিব্বি প্রাক্তনের বিয়ের আয়োজনে নেচে নেচে চলে যাচ্ছে! রাত্রির আসলেই হতাশ লাগল। শুধু শুধু সে কষ্ট পাচ্ছিল। এদিকে অরণ্যর সামান্য বুক ধরফর ও হচ্ছে না!
বনেদি পরিবার। বাড়িটা নতুন করে করা। সেটাও বিশাল। তার ই পেছনের দিকে পুরাতন একটা বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িটা আভিজাত্যের প্রতীক। এই পরিবারের নাম ডাক শুনলেও, কখনো এদিকে আসা হয়নি দেওয়ানদের। স্ব চক্ষে দেখে, তারা ভেতরে ভেতরে বেশ আগ্রহী হয়ে রইলেন।
বড়োরা সকলে বাড়ি ঘর দেখেই পছন্দ করে নিয়েছে। ছেলের নাম রাগীব। নামের প্রথম অংশটুকুর সাথে তার অবশ্য মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সে ভীষণ ভদ্র। চেহারা আর আচরণে সেটার প্রকাশ মিলছে। হেসে হেসে এখন কথা বলছে। তবে ওর হাসি মাখা মুখের বিপরীতে অরণ্যর অন্ধকারের নিমজ্জিত চেহারাটা দেখা যাচ্ছে। কালো করে রেখেছে। দীপ্র ওর পাশে বসা। এবার কথাটা বলল,”রাগ হচ্ছে?”
অরণ্য চেহারা ঠিক করল। তাকাল দীপ্রর দিকে।
“রাগ কেন হবে?”
“যেভাবে দেখছিস। মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবি।”
“সেরকম ইনটেনশন নেই আমার।”
“তাহলে ঠিক আছে।”
বলে দীপ্র ওঠে বসল। রাগীব ওকে দেখে হাসল।
“আরেহ, দীপ্র ভাইয়া যে। বসেন, বসেন।”
দীপ্র হেসে বলল,”আপনি আমার বয়সে বড়ো। অথচ আমাকে ভাই, ডেকে চলেছেন।”
“সম্পর্ক ম্যাটার ব্রো। আপনি, সম্পর্কে বড়ো হোন।”
“সেটাও ঠিক।”
বলে হাসল দীপ্র। অরণ্য চলে গেল অন্যপাশটায়। দীপ্রটা ইচ্ছে করে ওকে জ্বালানোর চেষ্টা করছে।
ফেরার পথে মুখ কালো করে রইল অরণ্য। একটুও হাসি এল না। এই গাড়িতে দীপ্র-অরণ্য বাদে আছে বাড়ির বাকি চারজন ছোট সদস্য। পেছনে তিনজনের জায়গায় ঠেলাঠেলি করে চারজন বসেছে। কুঞ্জ ঘেমেনেমে যাচ্ছে। মোটা শরীরটায় গরম একটু বেশি।
“দাদাভাই, এসির পাওয়ার বাড়াও।”
পেছন ফিরল দীপ্র। এক পলক চেয়ে বলল,”দিচ্ছি।”
এসির পাওয়ার বাড়ানো হলো। কুঞ্জ শার্টের ওপরের ব্লেজার খুলে রাখল। কুহু বলল,”আমি বলেছিলাম অন্য গাড়িতে আসি। তোরা শুধু শুধু জোর করলি।”
গাড়িতে আগে ভাগেই ওঠে বসেছিল আয়ানা। এখন জায়গা দুটো। বাড়ির বড়োরা এখনো,ও বাড়িতেই। তারা পরে রওনা দেবেন। কুহু বাড়ির অন্যদের সাথে আসতে চেয়েছিল। কুঞ্জ আর কণাই আটকাল। ঠেলাঠেলি করেই বসল। আয়ানা আড়ালে ভেংচি কাটল। তারপর মুখের ওপর বলল,”ওরা বাচ্চা, জোর করল আর তুই ও থেকে গেলি কুহু।”
অপমান হলো কুহুর। ও ঠোঁট কামড়ে কিছু বলার পূর্বেই কণা বলল,”তুমি তো আমাদের বড়ো। তুমি অন্য গাড়িতে বড়োদের সাথে আসলেও পারতে আয়ানাপু।”
“কেন? আমি তো আগে এসে বসেছি। আমি কেন যাব?”
“তাহলে, তো হলোই। আর কথা বলিও না। কুঞ্জ, তোর খুব খারাপ লাগছে?”
“না কণাপু। ঠিক আছি।”
ওদের কথোপকথন অরণ্য আর দীপ্র শুনল। এই বাচ্চা পার্টির মধ্যে যে এক প্রকার দ্বন্দ্ব চলে তা ওরা দুজনেই জানে। কথা থেমে যাওয়াতে ওরা এ প্রসঙ্গে কিছু বলল না। তবে দীপ্র গাড়ি থামাল। হঠাৎ থামাতে আয়ানা বলল,”গাড়ি থামালে যে।”
“নাম তোরা।”
দীপ্র এমন ভাবে বলল কথাটা, আয়ানার ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে গেল। দীপ্র নামতে নামতে বলল,”সামনে একটা মেলা বসেছে। ওখানে যাব। বেশ অনেকটা সময় আছে।”
মেলার কথা শুনে অরণ্য বলল,”আমার ভালো লাগছে না। আমি মেলায় যাব না। তার থেকে বরং আমি ফিরে যাই।”
দীপ্র ভণিতা ছাড়াই বলল,”যা।”
অরণ্য সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে গেল। দীপ্র বাচ্চা পার্টি নিয়ে মেলার দিকে এল। এত সময় গরম লাগলেও এবার কুঞ্জর গরম লাগছে না। মেলার কথা শুনে ও হৈ হৈ করে ওঠেছে।
“কুঞ্জ আস্তে।”
আয়ানার নিষেধাজ্ঞা শুনল না ও। ছুটতে লাগল। কণা একবার পেছন ফিরে চেয়ে কুঞ্জর পেছন পেছন ছুটল।
হাঁটতে হাঁটতে আয়ানা দীপ্রর কাছাকাছি আসতে চাচ্ছিল। দীপ্র কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। তবে আয়ানা বার বার অগ্রসর হচ্ছে। বিষয়টা কুহুর নজরে লাগলেও ও কথা বলে না। দীপ্র বোধকরি, কুহুর মুখ থেকে কিছু একটা শুনতে চাচ্ছে। তবে এ মেয়ে কখনোই কিছু বলে না। ও হতাশ হলো। মেলার মধ্যে প্রবেশ করেই দেখা গেল কুঞ্জ একটা কেকের স্টলের সামনে দাঁড়িয়েছে। সে এখন কেক খাবে। অগত্যা, সবাই কেকের স্টলে এসে দাঁড়াল। সবাই কেক নিলেও কুহু বলল,”আমি খাব না। পেট ভরা।”
দীপ্র কিছু বলল না। একবার সাঁধল ও না। এতে আয়ানা খুশি হলো। ওর চোখ দুটো চকচক করছে। ও হেসে দীপ্রকে বলল,”দাদাভাই তুমি খাও।”
বলে মুখের সামনে কেকের টুকরো ধরল। ওর হাত থেকেই কেক খেল দীপ্র। কুহুকে একটুও বিচলিত হতে দেখা গেল না। বোনের এহেন আচরণে কণার মুখটা ফ্যাকাশে হলো। পেরেক দিতে, ও নিজেও কেক নিয়ে এল।
“এক বোনের থেকে খেলে হবে? আমিও খাইয়ে দিচ্ছি।”
বোন বলায় আয়ানার মুখের রঙ বদল হলো। তবে কিছু বলল না। কণা কেকের টুকরো বাড়িয়ে দিল। দীপ্র হেসে বলল,”আচ্ছা নিচ্ছি।”
এবার এল কুঞ্জ। সেও দীপ্র দাদাভাইকে কেক খাওয়াবে। বাচ্চা মানুষ। মানা করলে রাগ করবে। অগত্যা কুঞ্জর থেকেও কেক খেতে হলো দীপ্রকে।
ওরা যখন কেক খাইয়ে দেওয়ায় ব্যস্ত। কুহু তখন পাশের দোকান গুলোতে এসেছিল। এখানে খুব সুন্দর পায়েলের কালেকশন। ও দেখছিল ঘুরে ঘুরে। এরপর কি যে হলো। হুট করেই কি একটা নিয়ে মা রামা রি লেগে গেল। সেই মা রামা রির মাঝে পড়ে গেল কুহু। ওর ভয় হতে লাগল। আশেপাশে তাকাল। কিন্তু সেই কেকের দোকানটা চোখে পড়ল না। অথচ কুহুর স্পষ্ট মনে আছে পাশেই ছিল দোকানটা। নাকি ও পায়েল দেখতে দেখতে অন্যদিকে চলে এসেছে। ওর মাথা কাজ করছে না। দ্বিতীয় বিপদটা হলো ও যখন কল করার আশায় হাতে থাকা ফোনটির খোঁজ করল। মুঠো ফোনটি হাতে নেই। ওর বুক কেঁপে ওঠল। সেই সাথে দুঃখে প্রায় কেঁদেই ফেলল। এরই মাঝে একটা নারী এসে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। চ্যাঁচিয়ে বলল,”রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ঝামেলা দেখছেন না। আজব মানুষ।”
নারীটি পুনরায় পথ আগাল। ওকে ওঠাল না অবধি। অপরাধবোধ তো দূরের ই বিষয়। কুহুর দুটো চোখ জলে টইটুম্বর। এদিকে শোড়গোল বেড়ে চলেছে। মাটি থেকে উঠতে গিয়ে কুহু বুঝল যে পায়েলটি কিনেছিল, পড়ে গিয়ে সেটাও ভেঙে গিয়েছে। তৃতীয় দফায় এসে কুহুর এবার ম রে যেতে ইচ্ছে হলো। সব বিপদ কেন এক সাথেই আসে?
অবশ্যই এটা পড়বেন…👇
অলরেডি জানেন আমার আইডি সাসপেন্ড হয়ে গিয়েছে। মাসে, মাসে ঘটনা গুলো ঘটে চলেছে। কিছু দুষ্টু মানুষ এর পেছনে আছেন। যাই হোক, আমি আইডি এখনো পাইনি। আমার অন্য একটি ব্যাক আপ আইডি আছে। আমাকে সবাই সেখানেই পাবেন। আমি আমার সোশ্যাল একাউন্ট গুলোর লিংক দিচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক ফেইক প্রোফাইল তৈরি হয়েছে। সেসব জায়গায় ফলো দেওয়া থেকে বিরত হোন। আসল একাউন্ট গুলোয় যুক্ত হোন।
আমার লেখক আইডি :https://www.facebook.com/profile.php?id=61580004394988
আমার পার্সোনাল আইডি :https://www.facebook.com/profile.php?id=61576999547137
আমার পাঠকমহল :
https://facebook.com/groups/2944711092471263/
আমার পার্সোনাল ইনস্ট্রাগ্রাম :
https://www.instagram.com/flutterednooshi?igsh=MTRwdGdjd3cyNmtyaw==
আমার লেখক ইনস্ট্রাগ্রাম :
https://www.instagram.com/talesof_fatema_noushi?igsh=MTJtcmw4MnVkMDUxbg==
আমার একমাত্র টিকটক প্রোফাইল :
@fatema.tuz.noushi
এক জায়গা থেকে আমি হারিয়ে গেলে আমাকে আরেক জায়গায় পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। আর আগামীকাল আমার ভাইবা আছে। তবু পারলে আমি গল্প দেব ইনশাআল্লাহ। এত ভাবে আমাকে ভাঙা হয় যে, আমি আসলেই সামাল দিতে দিতে ক্লান্ত। আমার প্রিয়, স্নেহের পাঠকেরা, আপনারা আমার পাশে থাকবেন আশাকরি। দিনশেষে আপনাদের ভালোবাসি। আর বিশ্বাস করুন, এই কদিন আমি যেমন ফেসবুকের রানিং গল্প লিখি নি, তেমন আর কোনো লেখাও লিখিনি। পাণ্ডুলিপি টাচ ও করিনি।
(৪৩)
https://www.facebook.com/100076527090739/posts/838945395333023/
চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমা_তুজ_নৌশি

