#উৎসর্গ
#পর্ব:৩১
#তানজিনা ইসলাম
সকালের মিটিমিটি আলো ফুটছে।রুদ্র নামাজ পরে এসে বেলকনিতে দাঁড়ালো।সকালের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে মাখালো।চোখ বন্ধ করে মন ভরে শ্বাস নিলো।সকালের এই কোমল বাতাসে শ্বাস নিলে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়।রুদ্র ক্ষণকাল থেকে কক্ষে চলে এলো। আর তর সইছে না।মায়া বলেছিলো যাওয়ার পরেরদিন চলে আসবে।তাই এক্ষুনি বেরোতে হবে ওঁদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। এতো সকালে ওকে দেখে ও বাড়ির সবাই নিশ্চয়ই অবাক হবে।তাতে কী? যে যা ভাববে ভাবুক।ও অন্তত মায়াকে চোখের দেখাটা তো দেখতে পাবে। রুদ্র দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো।ঘড়ির কাটায় বরাবর পাঁচটা ত্রিশ মিনিট ।আর অপেক্ষা করা ওর দ্বারা সম্ভব হবে না।ওই ভয়ঙ্কর স্বপ্ন টা দেখার পর থেকেই মায়াকে দেখার জন্য মনটা খচখচ করছে।
রুদ্র পরণের টিশার্ট বদলে একটা জাম কালারের শার্ট পরে নিলো।হাতে ঘড়ি পরে,মোবাইল প্যান্টের পকেটে ঢোকালো। গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে দ্রুত পায়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলো।ঘর থেকে বেরোনোর আগে নিজের মায়ের কক্ষে উঁকি দিলো।রাফানা চৌধুরী ঘুমোচ্ছে। হয়তো নামাজ পরেই শুয়েছে এখন।রুদ্র আর ডাকলো না তাকে।সদরদরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।মনে মনে ভাবলো তার মা উঠার আগেই মায়াকে নিয়ে চলে আসবে।পারলে মায়াকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে করে নিয়ে আসবে।
রুদ্র ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো। রাস্তা ফাঁকা। মানুষ এখনো ঘর ছেড়ে বেরোয় নি।এই সাত-সকালে কেই বা বের হবে।রুদ্রর মনে হচ্ছে রাস্তাটা যেন ফুরচ্ছেই না।হয়তো বেশি তাড়াহুড়ো করছে তাই।
বাড়ির বাইরে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুদ্র।এই সাত-সকালে বাড়ির সদরদরজা হাট করে খোলা।ওতো মনে করেছিলো বাড়ির বাইরে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।রুদ্র দ্বিধান্বিত মন নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। ঢুকেই আরেকটা ঝটকা খেলো।বাড়ির সব সার্ভেন্টরা ড্রইং রুমে এক এক জায়গায় বসে আছে।সবার দুঃখী চেহারা।রুদ্রকে প্রবেশ করতে দেখে সবাই অবাক হয়ে একসাথে তাকালো ওর দিকে।জমিলার মা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এলেন রুদ্রর কাছে।রুদ্র অবাক হয়ে দেখছে তাকে।সব সার্ভেন্টের মধ্যে ওনার সাথেই টুকিটাকি কথা হতো রুদ্রর।যেহেতুে বাড়িতে অগণিত বার এসেছে রুদ্র।সেহেতু ওনার সাথে ভালো একটা বন্ডিং তৈরি হয়েছিলো।
ওনার কান্না দেখে রুদ্র উৎকন্ঠা নিয়ে বললো
-“আন্টি আপনি এভাবে কাঁদছেন কেন?আর বাড়ির এই অবস্থায় বা কেন?সবাই এভাবে বসে আছে, আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছেনা।বাড়ির সবাই ঠিক আছে তো?”
মহিলা কান্নার চোটে কথা বলতে পারছেনা।
রুদ্র অধৈর্য হয়ে বললো
-“আন্টি কিছু তো বলুন?কী হয়েছে?প্লিজ বলুন
মামনি-বাবাই ওরা ঠিক আছে তো?”
-“মায়া ম্যাডাম।”
রুদ্রর বুকটা ধ্বক করে উঠলো।চিন্তিত স্বরে অতি দ্রুত বললো
-“মায়া,মায়ার কী হয়েছে?”
মহিলা কিছু বললো না।রুদ্র চিৎকার করে বললো
-“বলবেন আমাক মায়ার কী হয়েছে?”
রুদ্র প্রশ্নের উত্তরের আর অপেক্ষা করলো না।এই মুহূর্তে ওর মস্তিষ্কে শুধু মায়ার চিন্তা ভর করছে। রুদ্র দ্রুত পায়ে উপরে উঠলো।বারান্দায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ।রক্ত দেখে রুদ্রর গলা শুকিয়ে গেলো।দ্রুত পায়ে গেলো মায়ার কক্ষের দিকে।কিন্তু কক্ষে গিয়ে কাউকে পেলো না।পুরো কক্ষ খালি। রুদ্র বেরিয়ে এসে মাহেরা খান আর মুস্তাফিজ খানের কক্ষে খুঁজলো।কিন্তু সেখানেও পেলো না কাউকে।রুদ্র দ্রুত পায়ে আবার নিচে নামলো।সবাই নিঃসহায় হয়ে চেয়ে আছে ওর দিকে।রুদ্র সবার উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বললো
-“আপনারা প্লিজ বলবেন আমাকে।বাড়ির সবাই কোথায় গেছে? মায়ার কী হয়েছে বলুন প্লিজ।”
বলতে বলতেই রুদ্রর কোটর ভর্তি হলো।চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও কেও কিছু বলছে না।
একজন সার্ভেন্ট এগিয়ে এসে বললো
-“মায়া ম্যাম অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তাকে তার মা-বাবা হসপিটালে নিয়ে গেছেন।”
রুদ্র এবার ওদের সামনেই কেঁদে দিলো।ভাঙ্গা কন্ঠে সামনের জনকে জিজ্ঞেস করলো
-“কোন হসপিটালে নিয়ে গেছে জানেন?”
-“মুস্তাফিজ স্যারের একজন ডাক্তার বন্ধু আছে না,ওনার হসপিটালে।”
রুদ্র আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না।হামিদ ইয়াসির যে হসপিটালে জয়েন আছেন সে হসপিটালের নাম রুদ্রর জানা।
রুদ্র এক প্রকার দৌড়ে বাড়ির বাইরে বের হলো।চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে বারংবার।রুদ্র এক হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে আছে আর অন্য হাতে শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছছে। ফুলস্পিডে গাড়ি চলছে, তারপরও রুদ্র পারছে না গাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যেতে।
হসপিটালের সামনে গাড়ি থামিয়ে রুদ্র দৌড়ে গেলো ভিতরে।রিসেপশনিস্ট থেকে ইনফরমেশন কালেক্ট করতেও যেন কষ্ট হচ্ছে রুদ্রর।রিসিপশনিস্ট জানালেন পেশেন্টকে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।
রুদ্র সেখানে পৌঁছে দেখতে পেলো,মাহেরা খান সারিবদ্ধ সিঁড়ির একটিতে বসে মুখে হাত ঢেকে কাঁদছেন।রুদ্র দৌড়ে তার কাছে গিয়ে হাটু মুড়ে বসলো।মাহেরা খান ফোলা ফোলা চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে।রুদ্র অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।মাহেরা খান জোরে কেঁদে দিলেন রুদ্রকে দেখে।রুদ্র কালবিলম্ব না করে জড়িয়ে ধরলো তার মামনিকে।মাহেরা খান ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।রুদ্রর চোখ জ্বলছে। হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে দ্রুত গতিতে।কী হয়ে গেলো ওর মানুষটার?কালকেও এই সময়ে মেয়েটা ওর সাথে ছিলো ।কিন্তু এখন নেই। রুদ্রর বুক ফাঁকা হয়ে আছে। গলবিল অবধি তিক্ত।রুদ্র মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো নিজের মামনির।মাহেরা খান কাঁদতে কাঁদতে বললেন
-“রুদ্র,আমার মেয়েটা।আমার মেয়েটা কীভাবে অসুস্থ হয়ে পরেছে।ও ঠিক হয়ে যাবে তো?”
-“ঠিক হয়ে যাবে মামনি।একদম ঠিক হয়ে যাবে দেখো।”
রুদ্র ভাঙ্গা গলায় বললো।মাহেরা খান মুখ তুললেন।নিজের রক্তমাখা শাড়ির আঁচল দেখিয়ে বললেন
-“দেখো রুদ্র।দেখো কীভাবে রক্ত লেগেছে।এসব মায়ার রক্ত। আমার মেয়েটার শরীর থেকে কতটুকু রক্ত বেরিয়ে গেছে।”
রুদ্র আঁতকে উঠল। শুধুমাত্র জ্বরের কারণে এতো রক্ত বের হওয়ার কারণ খুঁজে পেলো না।রুদ্রর বুকে ব্যাথা হচ্ছে ভীষণ।আল্লাহ জানে কতটা কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা!
রুদ্র নিম্নস্বরে জিজ্ঞেস করলো
-“ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে কখন রাখা হয়েছে ওকে?”
-“প্রায় একঘন্টা হয়ে গেছে রুদ্র।ডক্টররা এখনো বেরোননি।”
রুদ্র দেখলো মুস্তাফিজ খান বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে আসছেন।তার সাথে একজন নার্স স্টিলের ট্রেতে করে প্রয়োজনীয় মেডিসিন নিয়ে আসছে।নার্স স্টিলের ট্রে ভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে ইমারজেন্সি ওয়ার্ড লেখা রুমে ঢুকে গেলো।মুস্তাফিজ খান দাঁড়িয়ে আছেন।রুদ্র গিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ওনাকে।
,
একে একে সবাই এসে পৌঁছালো হসপিটালে।রাহুল কল দিয়েছিলো রুদ্রকে।রুদ্র জানিয়েছিলো মায়ার অসুস্থতার কথা।তারপর রাহুলই সবাইকে কল দিয়ে বলেছে,রাফানা চৌধুরীকে নিজ দায়িত্বে গিয়ে নিয়ে এসেছে।রাফানা চৌধুরীর কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে চলেছেন মাহেরা খান।বার বার বলছে তার মেয়ের কাছে যাবে।রাফানা চৌধুরী নিজেও কাঁদছেন।মায়া যে তারও মেয়ে।কখনও যে রুদ্রর থেকে আলাদা করে দেখেনি ওকে।উল্টো রুদ্রর চেয়েও বেশি মায়া অনুভব করেছে মেয়েটার জন্য। রুহানি আর রাহুলের মা মিলে সামলানোর চেষ্টা করছে দুজনকে।
আরিয়ান আর সাহিলের বাবা দাঁড়িয়ে আছেন মুস্তাফিজ খানের সাথে।রিয়ানার বাবা দেশের বাইরে থাকায় তিনি আসতে পারেননি।মুস্তাফিজ খান কিছুক্ষণ পরপর চোখ মুছছেন। তাকে সবাই মিলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু একজন বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়া কী এতই সোজা, তাও মেয়ের এই অবস্থায়!
রুহানি আর রিয়ানা সারিবদ্ধ সিঁড়িতে বসে কাঁদছে।রাহুল শক্ত করে রুদ্রকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে ।রুদ্র হিচকি তুলে কাঁদছে।এতক্ষণ হয়ে গেছে ডক্টর রা এখনো বেরোননি।রাহুল সান্ত্বনা দিতে পারছে না রুদ্রকে।যেখানে ও নিজেকেই সামলাতে পারছে না সেখানে রুদ্রকে কী বলবে।সাহিল আর আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।ওরাও বারবার চোখ মুছছে।প্রিয় বন্ধুর অসুস্থায় সবারই মনের অবস্থা বেহাল। অস্হিরতা বিরাজ করছে সবার মাঝে।
ঘন্টা খানিক পর হামিদ ইয়াসির ইমারজেন্সি রুম থেকে বেরোলেন।রুদ্র দৌড়ে গেলো তার কাছে।কাঁদতে কাঁদতে বললো
-“আঙ্কেল,আমার মায়া।আমার মায়া কেমন আছে?”
-“আচ্ছা, ও কী কিছু নিয়ে মানসিক কষ্টে ভুগছিলো?মানে এমন কোনো সিচুয়েশনে পরেছিলো ও যার ফলে ওর মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাব পরেছিলো?
সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকালো ওনার দিকে।রাহুল এগিয়ে এসে বললো
-“কী হয়েছে আঙ্কেল? বলেন না কী হয়েছে ওর?এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন কেন?”
-“ও কিছু একটা নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তা করতো।ওর চিন্তা এতটাই বেড়ে গিয়েছিলো যে ও রীতিমতো ডিপ্রেশনে ভুগতো।ডিপ্রেসড ছিলো ও।আর নিজেকে ঠিক রাখার জন্য ডিপ্রেশনের মেডিসিন নিতো।”
রুদ্র হতভম্ব হয়ে তাকালো তার দিকে।সবাই হতভম্ব হয়ে আছে।
ডক্টর আবার বললো
-“ও ঘুমাতে পারতো না রাতে, তাই নিজের মস্তিষ্কের চিন্তা থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন ঘুমের মেডিসিন নিতো।তা-ও লিমিটের মধ্যে না।লিমিটের মধ্যে মেডিসিন নিলে মস্তিষ্কে এতো বিরূপ প্রভাব পরতো না।ধারণা করা যায় ও প্রতি রাতেই চার-পাঁচ টা ঘুমের মেডিসিন নিতো। আই থিংক ও দুই-আড়াই মাস ধরেই এসব শুরু করেছে।”
রুহানি এগিয়ে এসে বললো
-“শুধুমাত্র মেডিসিনের জন্য এই এফেক্ট?? ”
ডাক্তার কিছুটা চিন্তা করে বললো
-“অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়।মাঝে মাঝে মেডিসিনও আমাদের শরীরে অনেক বড়ো সাইড এফেক্ট ফেলে। মায়া নিজেকে ক্ষণিকের শান্তি দেওয়ার জন্য যেভাবে পেরেছে মেডিসিন নিয়েছে।তখন ও ঠিক ভুল বিচার করার অবস্থায় ছিলো না।হয়তো কিছু ভুলে থাকার চেষ্টায় এসব করেছে ও।”
মাহেরা খান বিহ্বলিত কন্ঠে আওড়ালো
-“কীসের এতো ডিপ্রেশন ওর? ঠিক কোন কারণে নিজের এই অবস্থা করেছে ও? আমরা কখনো ওর কোনো ইচ্ছে অপূর্ণ রাখিনি।’
-“আপনারা দেখে রাখেননি ওকে?ডিপ্রেস্ড মানুষদের বাইরে থেকে বোঝা যায় না।ওরা সবার সাথেই হাসিমুখে মিশে।কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজেদের ক্ষতি করে।আর ওতো ছোটোবেলা থেকেই নাজুক প্রকৃতির। হয়তো এমন কিছু হয়েছে যার জন্য ও এসব স্টেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।ডিপ্রেসড মানুষেরা ঠিক-ভুল বিচার করতে পারে না।সব সিচুয়েশনে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না।তারপর এমন একটা অবস্থা চলে আসে যে ওরা মৃত্যু কেই সবকিছুর সমাধান মনে করে।ওরা মনে করে একমাত্র মৃত্যুই ওদের সব ধরনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে।”
মাহেরা খান নিজেকে সামলাতে পারলেন না।মাথা ঘুরছে তার।রুহানি গিয়ে শক্ত করে ধরলো ওনাকে।সবার কান্নার বেগ বেড়ে গেছে।
আরিয়ান ঢোক গিলে বললো
-“ওর কন্ডিশন কেমন এখন?”
-“বলতে পারছিনা।ইন্টারনাল ব্লিডিং বন্ধ হয়েছে।ব্লাড দেওয়া হচ্ছে এখন।”
আরিয়ান ভাঙা গলায় বললো
-“ও বাঁচবে তো আঙ্কেল?? ”
-“বলতে পারছিনা।”
বলেই ডাক্তার হতাশ ভঙ্গিতে চলে গেলেন।রুদ্র এতোক্ষণ শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলো শুধু।কাঠ হয়ে সবার প্রশ্ন শুনছিলো শুধু।রুদ্র পেছাতে পেছাতে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসলো।সবাই কাঁদছে। মাহেরা খান কে সবাই মিলেও সামলাতে পারছে না।ওনার কান্নায় হসপিটালের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রুদ্রর কানে একটা আওয়াজও পৌঁছাচ্ছে না।এত এত মানুষ চারিদিকে। কিন্তু রুদ্রর মনে হচ্ছে ও একা।আশেপাশে কেউ কোথাও নেই। ওর মস্তিষ্কে শুধু ঘুরছে ডাক্তারের বলা কিছুক্ষণ আগের কথাগুলো।মায়া ডিপ্রেস্ড ছিলো আর নিজের ডিপ্রেশন থেকে বাচার জন্য ও নিজেকে এই অবস্থায় উপনীত করেছে।
কেন করেছে ও এমন?মানসিক কষ্টগুলো থেকে বাঁচতে এমন করেছে।যাতে ওর কিছু হয়ে গেলে কেও কোনোদিন রুদ্রর দিকে আঙুল না তোলে।অথচ ওর এই অবস্থার জন্য দায়ী একমাত্র রুদ্রই।রুদ্র জানতো মায়া ওর প্রতি কতটা পজেসিভ।তারপরও ওকে নিজের থেকে আলাদা করে ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিয়েছে ও।রুদ্র যখন রেগে গিয়ে বারবার মুক্তি চাইতো ওর থেকে মায়া শুধু একটা কথাই বলতো ও বেঁচে থাকতে কখনো ডিভোর্স দিবে না ওকে। কিন্তু মুক্তি দেওয়ার সম্পূর্ণ চেষ্টা করবে।রুদ্র জোরে শ্বাস ফেললো। বাতাসে হয়তো অক্সিজেনের ঘাটতি হয়ে গেছে নয়তো শ্বাস নিতে এতটা কষ্ট হচ্ছে কেন?
রুদ্র তিলে তিলে কষ্ট দিয়েছে ওকে।কিন্তু মায়া কষ্টগুলো সইতে পারেনি।রুদ্র এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ওর কাছে?এতটা?যে ওর স্মৃতি গুলো মেয়েটাকে তাড়া করে বেরাতো।ওকে ছেড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত কষ্ট পাওয়ার চাইতে মৃত্যু টাই কী সহজ মনে হয়েছিলো ওর কাছে?
#চলবে

