হিপনোটাইজ #তাজনিন_তায়্যিবা পর্ব:30

0
37

#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:30
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕

সকাল থেকেই আগুন ঝরানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে বসে আকাশ। ধাতব চাকতির মতো জ্বলন্ত সূর্যের প্রখর তেজে জ্বলে যাচ্ছে গায়ের চামড়া। গাছের পাতাগুলোও ক্লান্ত , না চড়ছে,না দুলছে। বাতাস নেই বললেই চলে। চারপাশে থমথমে একটা নিস্তব্ধতা, শুধু মাঝেমধ্যে কানে এসে লাগে কাকের কর্কশ ডাক।

ওয়াশরুম থেকে পানি পরার শব্দ ভেসে আসছে কখন থেকে,নিস্পা গোসল করছে আপন মনে,গায়ে সাবান লাগিয়ে সঠিক স্থানে রাখার জন্য হাত বাড়ানো মাত্রই, ভুল বসত সাবানটা গড়িয়ে গিয়ে পড়েছে ওয়াশরুমের মেঝেতে।

চোখে দেখতে না পাওয়ায় নিস্পা খেয়াল করেনি বিষয় টা,পর্যায়ক্রমে হাত বাড়িয়েছে ঝর্ণার সেন্সরে।তার জন্য দু পা এগোতে হয়েছে তাকে, আর ঠিক তক্ষুনি মেঝেতে পড়ে থাকা সাবানে পা লেগে পিছলে গেলো মেয়েটা,তবে পড়ে গেলো না চট করেই,বেশ কায়দা করে শক্ত করে ধরে ফেললো ঝর্ণার সেন্সর।

তবে আচমকা পড়ে যাওয়ার কারণে কণ্ঠনালী থেকে ধেয়ে বেড়িয়ে এসেছে চাপা চিৎকার,

“আহহহহ।”

পরপরই নিজেকে সামলে দাঁড়িয়েছে নিস্পা।পায়ে ভিষণ ব্যাথা পেয়ে দ্রুত খুলেছে ছিটকিনি,সাড়া শরীর সাবানের ফেনায় মাখামাখি, অথচ সে অবস্থাতেই ওয়াশরুম থেকে বের হলো সে।হুট করে ব্যাথা পেয়ে জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পেয়েছে হয়তো,কি করবে মাথা কাজ করলো না আপাতত।

কিন্তু ব্যাথার তীব্রতায় এগোতে পারলো না আর,ধপ করেই বসে পড়লো ওয়াশরুমের দরজায়।ঠিক সেই সময়টাকে আরেকটু বিব্রতকর করার জন্য ছুটে এসে দাঁড়ালো ত্রিজয়।

এসেই থমকালো তার দুটো চোখ,সদ্য ফোটা কামিনীর মতো সাবানের সাদা ফেনায় মাখামাখি নিস্পার শরীরের অনেকটা অংশ উন্মুক্ত।একটা সাদা তোয়ালে মোড়ানো বুক থেকে হাটুর অংশ টুকুও আলগা হয়ে এসেছে।ত্রিজয় দ্রুত হাত চালালো নিজের শার্টের বোতামে,পরপরই শার্ট খুলে ছুড়ে মারলো নিস্পার গায়ে,নজর ঘুরিয়ে বললো,

“ঢেকে নে।”

নিস্পা চমকালো,বিব্রত হলো খুব।তাড়াহুড়োয় খামচে ধরলো ত্রিজয়ের ছুড়ে দেওয়া শার্ট টা। কোনরকম নিজেকে আড়াল করে উত্তেজিত কন্ঠে বললো,

“আপনি এখানে কেনো এলেন?”

ত্রিজয় তাকালো না নিস্পার দিকে, পেছনে ঘুরেই বললো,
“চিৎকার শুনে।”

নিস্পা ঢোক গিললো,ছোট্ট করে বললো,
“আপনি যেতে পারেন।”

ত্রিজয় গেলো না, ওভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় লেগেছে?”

অস্বস্তিতে হাসফাস লাগলো নিস্পার, জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে,একটু অসহায় কন্ঠে বললো,

“আপনি আমাকে দেখছেন তাই না?”

নিস্পার প্রশ্নে একটু বিব্রত হলো ত্রিজয়, তবে অপকটে জবাব দিলো,

“ফিলিংস নেই।”

নিস্পা স্বস্তি পেলো,ফোস করে নিঃশ্বাস টেনে হাত রাখলো পাশের দেয়ালে,দেয়াল চেপে ধরে উঠার চেষ্টা চালাতেই টলে পরলো আবার,কিন্তু ফ্লোর অব্দি ছুতে পারে নি, তার আগেই ছুটে এলো ত্রিজয়, দুই হাতে আগলে ধরলো তার তুলতুলে শরীর,তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,

“আর ইউ ওকে?”

নিস্পার সর্বাঙ্গ ঝলসে যাওয়ার মতো অনুভূতি হলো এবার।ত্রিজয়ের পুরুষালি হাতের স্পর্শ পেয়ে কাটা দিয়ে উঠলো শরীরে ,তীরের মতো দাঁড়িয়ে গেলো তার প্রত্যেকটি লোমকূপ। কম্পিত কন্ঠে বললো,

“ছাড়ুন আমায়,তেমন কিছু হয় নি।”

ত্রিজয় শুনলো না তার বারণ, বরং আরেকটু শক্ত করে আঁকরে ধরলো নিস্পার টলমলে শরীর,চট করেই কোলে তুলে নিয়ে বললো,

“নিজেকে নায়িকা ভাবা বন্ধ কর,নেহাৎ বোন মনে করে হেল্প করতে এসেছি,নয়তো তোর প্রতি চুল পরিমাণ ফিলিংস নেই আমার।”

______

নিস্পাকে এনে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে ত্রিজয়। নিস্পার প্রতি তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে সরাসরি গিয়ে বসলো নিস্পার পায়ের কাছে,এস্ত হাত রাখলো নিস্পার পায়ের উপর।
নিস্পা গুটিয়ে নিতে চাইলো তবে পারলো না,ব্যাথার কারণে পা নড়ানো সম্ভব নয়।
ত্রিজয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো নিস্পার পায়ের দিকে,গিটের অংশ টা হালকা ফুলে উঠেছে,সেখানটায় হাত ছুইয়ে বললো,

“বেশি লেগেছে নাকি কম?”

নিস্পা থতমত খেয়ে বললো,

“প্রশ্ন করার ধরন এমন নয়।”

“আমার প্রশ্নের ধরন এমনই।”

কথাটা বলে থামলো ত্রিজয়, ফের বললো,

“কি মনে হয় ভেঙেছে নাকি মচকেছে?”

“আমি ডাক্তার নই।” নিস্পার কাটখোট্টা উত্তরে প্রতিক্রিয়া দেখালো না ত্রিজয়, বললো,

“ইনডিরেক্টলি ডক্টর ডাকার কথা বলছিস?”

প্রশ্ন করে উত্তরের অপেক্ষা করলো না সে, তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,

“দেখ তোর পা জাহান্নামে যাক, আমি ডক্টর ডেকে টাকা নষ্ট করতে পারবো না।দিনশেষে তুই ওই এমপি মশাইয়ের, আমি কেন মাঝখান থেকে টাকা নষ্ট করতে যাবো?”

নিস্পার ভ্রু বেঁকে এলো ত্রিজয়ের কথায়,কৌতুহলি কন্ঠে বললো,
“এমপি মশাইয়ের মানে?কি বলতে চাইলেন আপনি?”

ত্রিজয় একটুও প্রতিক্রিয়া দেখালো না,ছাপ ছাপ বললো,

“মানে এমপি তাওসিফ তাকরিমের ভালোবাসা তুই, আমি জাস্ট ওই এমপিকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর জন্য বিয়ে করেছি তোকে।এবারকার চালে বাজিমাত করবো আমি, ওই এমপি আমার জান্নাতকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবে,তোর জন্য।”

নিস্পা চুপচাপ শুনলো কেবল,প্রতিত্তোরে কি বলবে ভেবে পেলো না সে,তবে আজ নিজের অস্তিত্ব টুকুকে বড্ড বেশি তুচ্ছ মনে হচ্ছে তার,নিজেকে মনে হচ্ছে কোন কাঠের পুতুল বা দাবা খেলার গুটি, যে যেভাবে পাড়ছে ব্যাবহার করছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে।

নিস্পা আবারও ভাবলো ত্রিজয়ের কথাটুকু, কানে ধ্বনিত হলো একটা ছোট্ট শব্দ,
“এমপি তাওসিফ তাকরিমের ভালোবাসা তুই।”

সত্যিই কি তাই?তাকে কি কেউ সত্যিই ভালোবাসে?তার মতো অন্ধকে কেউ কি সত্যিই আপন করে নিতে চায়?যদি এমন হয় তবে নিস্পা খুব করে চায় সেই মানুষ টা তাকে পেয়ে যাক।ওই এমপি মশাইয়ের ভালোবাসা জিতে যাক ত্রিজয়ের কুৎসিত পরিকল্পনার জাল ছিড়ে।

নিজের ভাবনার লাগাম টানলো নিস্পা,রিনরিনিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“একটা সত্যি কথা বলবেন?”

ত্রিজয় কপাল কুচকে তাকিয়ে বললো,

“বল,সম্ভব হলে বলবো,এমনিতেও আমি কখনো মিথ্যা ছাড়া সত্য বলি নি।”

ত্রিজয়ের কথা ঠোঁট টিপে শুখনো ঢোক গিললো নিস্পা, বললো,

“সত্য বলবেন প্লিজ।”

ত্রিজয় উত্তরে হ্যাঁ হু করলো না, চুপ করে রইলো কেবল।নিস্পা কন্ঠ খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“এমপি তাওসিফ তাকরিম কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে?”

“জানিস না নাকি?”

“আগে প্রশ্নের উত্তর দিন।আপনার কি মনে হয়?আমাকে পাওয়ার জন্য উনি উনার বোনকে আপনার হাতে তুলে দিবে?একটা অন্ধ মেয়েকে এতটা নিশ্চয়ই ভালোবাসবে না একজন এমপি।”

“আমারও মনে হয়েছিলো ওই শালা তোর মতো কানাকে নিশ্চয়ই খেয়ে ছেড়ে দিবে,কিন্তু আমি তোর জন্য ওকে তড়পাতে দেখেছি,এখন নিশ্চয়ই তোকে না পেয়ে আরো বেশি তড়পাচ্ছে, লাইক গলা কাটা মুরগীর মতো।”

কথাটা বলে শয়তানি হাঁসলো ত্রিজয়,নিস্পা নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখলো কিছুক্ষণ,তারপর আবার জিজ্ঞেস করলো,

“উনি আমার অন্ধত্ব নিয়ে কখনো তামাশা করবে না তাইনা?”

“ওসব আমি যেনে কি করবো?”

“আমি দোয়া করি উনি উনার ভালোবাসা পেয়ে যাক।”

“আমার জান্নাতকে না পাওয়া অব্দি,ওর ভালোবাসা আমার কব্জায়।”

“অন্যকাউকে ভালোবেসে আমাকে বিয়ে না করলেও পারতেন।”

“ভালোবাসা কিনা জানিনা ,জান্নাত আমার জেদ,আমার জীবনের প্রথম নারী আর তাকে আদায় করা আমার সংকল্প।”

“প্রথম প্রেম থাকতে একটা অচেনা মেয়েকে বিয়ে করতে বিবেকে বাধলো না?যদি জান্নাতকে পেয়ে যান তবে কি জবাব দেবেন?”

নিস্পার এই প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে চাইলো না ত্রিজয়। ঘর থেকে বেড় হাওয়ার তোড়জোড় চালালো নিঃশব্দে।বড় বড় পা ফেলে দু কদম এগোলো ঠিক, তবে যাওয়া হলো না,কিছু একটা ভেবে দাঁড়িয়ে গেলো সটান হয়ে,পেছনে ফিরে তাকালো নিস্পার নিস্প্রভ মুখের দিকে,অতঃপর সমস্ত নিরবতা ভেঙে নির্বিকার কন্ঠে বললো,

“শুনো মেয়ে প্রথম নারী আর প্রথম প্রেম কিন্তু এক নয়।পুরুষ প্রথম নারীকে নয়, প্রথম প্রেমকে গুরুত্ব দেয় নিজের চেয়েও বেশি।”

_______________

সকাল এগারোটা,ছোট্ট একটা ক্যাফে তে বসে আছে ইভান আর চিত্রা।চোখে মুখে অস্থিরতা থাকলেও খুব স্থিরতা নিয়েই বসে আছে দুজন।মূলত চিত্রার মেইল পেয়েই এখানে এসেছে ইভান।এসেছে পর্যন্ত তার সমস্ত মনযোগ মোবাইলের স্ক্রিনে,সেই কখন থেকে গেম খেলছে একমনে।

চিত্রা উসখুস করছে, কীভাবে কথা শুরু করবে সেটাই ভাবছে চুপচাপ।ইভানের মনযোগ পাওয়ার উদ্দেশ্যে খুক করে কাশি দিলো দুবার,ইভান চোখ তুলে তাকালো চিত্রার দিকে।

মেয়েটা খুব বেশি ফর্সা নয়।তবে কালোও নয়,গমরঙা ত্বক তার। পরনে কালো শার্ট,উপরের দুটো বোতাম খোলা,গলায় ঝুলে আছে একটা চিকন স্বর্নের চেইন।ব্যাস এইটুকুই,মেয়েটার মধ্যে তেমন বিশেষ কিছু খুজে পেলো না ইভান।

চিত্রা খুক করে কেশে উঠলো আবার,গলা পরিস্কার করে বললো,

“কিছু ওয়ার্ডার করছেন না?”

ইভান চোখ বাঁকিয়ে তাকালো, গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

“আপনার প্রয়জনে ডেকেছেন ওয়ার্ডার আপনার করা উচিত।”

কথাটা বলেই ঠোঁট টিপে ধরলো ইভান, মনে মনে আওড়ালো ,

“বাহ ইভান!বাহ!কিপ্টের সাথে থেকে থেকে দিন দিন তোর উন্নতি হচ্ছে দেখছি।এমন চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই বড়লোক হয়ে যাবি।”

ফোস করে শ্বাস ফেলে তাকালো চিত্রার দিকে,চিত্রা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়েই ছিলো এতোক্ষন,তার চোখের দিকে ইভান দৃষ্টি ঘোরাতেই অন্য দিকে তাকালো সে,চটপটে কন্ঠে ডাকলো ওয়েটারকে,তারপর তাকালো ইভানের দিকে, নম্র কন্ঠে বললো,

“আপনি কি খাবেন ওয়ার্ডার করতে পারেন।”

ইভান তাকালো ওয়েটারের দিকে,মোবাইল ফোনটা টেবিলের উপর রেখে বললো,

“বিরিয়ানি, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, ফিস কারি,কাবাব,,,,,,,,

” ওয়েট ওয়েট,,,উত্তেজিত কন্ঠে কথাটা বলতে বলতে দাঁড়িয়ে গেলো চিত্রা।বাঁকা চোখে তাকালো ওয়েটারের দিকে, তারপর সৌজন্য হেসে দৃষ্টি ঘোরালো ইভানের দিকে,দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“আপনি নিশ্চয়ই বিয়ে খেতে আসেন নি।”

ইভান শর্টকাট উত্তর দিলো,

“অবশ্যই না।”

“তাহলে নিশ্চয়ই তিন চার দিন অভুক্তও ছিলেন না?”

“আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে?”

চিত্রা রাগে নাক ফোলাল, চাপা কন্ঠে বললো,

“মনে তো হচ্ছে টানা চাল্লিশ দিন অভুক্ত ছিলেন।”

ইভান ভ্রু গোটাল,একটু তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,

“বাই এনি চান্স আপনি খাবারের খোটা দিচ্ছেন না তো?তাহলে আমি উঠছি।”

কথাটা বলেই উঠতে নিলো ইভান,কিন্তু বাধ সাধলো চিত্রা তাড়াহুড়ো কন্ঠে বললো,

“ওকে, ওকে, আপনি যা ইচ্ছে খেতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।ততক্ষণে আমরা বরং কাজের কথায় আসি।”

“শুরু করুন।”সম্মতি জানালো ইভান।

চিত্রা কথা শুরু করার আগেই নিজের ব্যাগে হাত রাখলো,একটা চেক বই বের করে এগিয়ে দিলো ইভানের সামনে,ভরাট কন্ঠে বললো,

” আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী এমাউন্ট বসিয়ে নিতে পারেন।”

ইভান জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকালো চিত্রার দিকে,চিত্রা কন্ঠ চওড়া করে পুনরায় বললো,

“বিনিময়ে এডভোকেট এমপি তাওসিফ তাকরিমের বিরুদ্ধে রি ওপেন করা মামলার সমস্ত ডিটেইলস আমার চাই।”

ইভানের চোখ ছানাবড়া,বাঁকা চোখে তাকালো চেক বইয়ের দিকে,ঠান্ডা কন্ঠে বললো,

“বেইমানি করতে বলছেন?”

চিত্রা হাতের কলমটা বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,

“টাকার জন্য আজকাল সবই করা যায়।”

ইভান মুচকি হাসলো, হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিলো চিত্রার হাতের কলম।প্রতিক্রিয়া বিহীন কলম টা কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে অদ্ভুত ভাবে তাকালো চিত্রার দিকে,তারপর পেন আর চেক বই সমেত চিত্রার সামনে রাখলো,গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“কাজটা করে দিতে পারি তবে টাকা নয় অন্যকিছু প্রয়োজন আমার।”

চিত্রা অবাক হলো না খুব একটা, তবে ভ্রু গোটাল কিঞ্চিৎ,অস্পষ্ট বললো,

“কি?”

ইভান মুচকি হাসলো,কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

“তোমাকে চাই, আমার বেডরুমে।”

কথাটা বলা মাত্রই চরম ক্ষেপলো চিত্রা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো ইভানের গালে।অথচ ইভান রাগলো না, গালে হাত রেখে ঠান্ডা চাহনি নিক্ষেপ করলো চিত্রার দিকে।চিত্রার চোখে মুখে আগুনের স্ফুলিঙ্গ, এই বুঝি ইভানকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দিবে।ক্রোধে ক্ষোভে কণ্ঠনালী দিয়ে ঝরলো রক্ত,

“আপনার সাহস কি করে হয় এসব বলার?”

ইভান এবারেও রাগলো না,ফের শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

“চড়টা কি তুমি ইয়ার্কি করে মারলে? না সত্যি সত্যি মারলে?”

চিত্রা দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“সত্যি সত্যিই মেরেছি।”

ইভান গালে হাত বুলালো একবার,তারপর শার্টের কলার ঠিক করে নড়েচড়ে বসে বললো,

“তাহলে ঠিক আছে, আমি আবার ইয়ার্কি একদম পছন্দ করি না।”

ইভানের রসিকতায় মেজাজ খারাপ হলো চিত্রার,রাগে আক্রোশে দু হাতে চেপে ধরলো ইভানের শার্টের কলার, ক্রোধিত কন্ঠে বললো,

“আমি আপনার সাথে রসিকতা করছি না মিস্টার,আপনার সাহস কি করে হয় একটা মেয়েকে নোংরা প্রস্তাব দেওয়ার?”

ইভান চোখ মুখের অভিব্যক্তি শান্ত রেখে হাত রাখলো চিত্রার হাতের উপর, ধিরে অথচ চাপা ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করে ছাড়িয়ে নিলো নিজের কলারের উপর থেকে চিত্রার হাত,শান্ত কন্ঠে বললো,

“আপনি মেয়ে হয়ে একটা ছেলেকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব রাখতে পারলে, আমার প্রস্তাবে দোষ কোথায় মিস কটকটি?”

ইভানের কন্ঠ যতটা না শান্ত ঠিক ততটাই উত্তেজিত চিত্রা,ইভানের চোখের সামনে আঙুল উঁচিয়ে বললো,

“একদম ফালতু কথা বলবেন না বলে দিলাম,আমি,,,,,কথাটুকু শেষ করে উঠতে পারলো না চিত্রা তার আগেই সরু আঙুল টা মুচড়ে ধরলো ইভান,বরাবরের মতো কন্ঠে কোমলতা বজায় রেখে বললো,

” যার সাথে বেঈমানী করতে বললেন তার নুন খেয়েছি আমি।যার নুন খেলাম তার সাথে নিমকহারামি কি করে করি বলুন?আপনি আপনার শরীর টাকে যতটা ভালোবাসেন, আমি ঠিক ততটাই ভালোবাসি স্যারকে।যদি কখনো প্রয়োজন পড়ে আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দুও স্যারের নামে নিবেদন করে দিবো তবুও বেইমানী করতে পারবো না।”

থামলো ইভান, ফোকলা হেসে এক হাতে চুলকালো মাথা, বললো,

“আমি আপনার শরীর চাইলাম তাতে আপনার এতো রাগ হলো, আর আপনি যে আমার অস্তিত্বের সাথে দ্বন্দে জড়াতে বললেন?আমার কতটা রাগ হওয়া উচিত ছিলো মিস কটকটি?”

চিত্রা জেদে গজগজ করলো, ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিলো নিজের আঙুল, চাপা রাগান্বিত কন্ঠে হিসহিসিয়ে বললো,

“আমার একটা নাম আছে।”

“যত নামই থাকুক,কটকটি নামটা আপনার পার্সোনালিটির সাথে একদম পারফেক্ট যাবে।”

“আপনার সাথে দেখা করতে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে।”

“উঁহু, আমার মতো ইয়াং হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দেখা করতে এসে একদমই ভুল হয় নি আপনার, ভুল তো হয়েছে আমাকে কিনে নেওয়ার সাহস দেখিয়ে।”

প্রচন্ড রাগ সামলে উঠতে না পেরে ধাম করে টেবিলের উপর থাপ্পড় বসালো চিত্রা,সেদিকে তাকিয়ে ব্যাঙ্গ হাসলো ইভান, ধীর হস্তে একটা কাটা চামচ তুলে অকস্মাৎ আক্রমণ করলো চিত্রার হাতে, আচমকা হামলায় জ্ঞান লোপ পেলো চিত্রার,ভয়ে খিচে বন্ধ করলো চোখ,দু সেকেন্ড কেটে যাওয়ার পরেও যখন ব্যাথা অনুভব হলো না, ঠিক তখনি ধিরে ধিরে তাকালো হাতের দিকে,কাটা চামচটা ঠিক তার হাত ঘেঁষে টেবিলের উপর গেঁথেছে ইভান।

মেয়েটা তার ভীত দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো ইভানের দিকে, ইভান তখন বাঁকা হাসিতে মত্ত,চিত্রার চোখাচোখি হতেই হাসির লাগাম টানলো সে,বড্ড আপোষ কন্ঠে বললো,

“তোমার স্যারকে বলে দিও এসব টোপ ফেলে সময় নষ্ট যেনো না করে,এসব ছোট ছোট পরিকল্পনা ত্রিজয় তেজের একটা চুলও বাঁকা করতে পারবে না।”

কথাটা বলেই পকেট থেকে বেড় করলো একটা কার্ড,এগিয়ে দিলো চিত্রার দিকে,চিত্রা কার্ডটির দিকে তাকিয়ে ভ্রু গোটাল,প্রশ্ন করার আগেই উত্তর ছুটে এলো ইভানের কন্ঠ থেকে,

“ইনভিটেশন কার্ড,তোমার পেয়ারা স্যারকে অবশ্যই আসতে বলবে, নয়তো অনেক কিছু মিস করবে।”

চিত্রা হাত বাড়ালো না, ধরলো না ইভানের দেওয়া কার্ডটি, ইভান কিছুক্ষণ হাত বাড়িয়ে রেখে অধৈর্য হলো,তারপর নিজ উদ্যোগে এগিয়ে গেলো চিত্রার দিকে, প্রতিক্রিয়া বিহীন কার্ডটি সুন্দর করে ঢুকিয়ে দিলো চিত্রার ব্যাগে।চিত্রা ঠোঁট নাড়ালো আবারো বলতে চাইলো কিছু একটা, তবে এবারেও বাধা দিলো ইভান,ছোট্ট করে বললো,

“প্রোগ্রামটার মধ্যমনি থাকবে আলেকজান্দ্রা,এমপি মশাইকে অবশ্যই মেসেজটা দিতে ভুলবেন না।”

_______________

সৌবিষ্ট বাহু সাদা পাঞ্জাবিতে আবৃত, হাতা গোটানো ক্লিন কাটা স্টাইলে,ফর্সা লোমশ হাতে কালো রঙের হাত ঘড়ি,চোখের অভিব্যক্তি ভিন্ন,হাটার ধরনে ব্যাস্ততা অথচ তাড়াহুড়ো নেই।সিড়ি বেয়ে নেমে সোজা গিয়ে বসেছে ডাইনিং টেবিলে,আগেই খাবার সাজিয়ে রেখেছে প্রভা,তাকরিম গিয়ে বসতেই দ্রুত হাতে গ্লাসে পানি ঢেলে দিলো সে,তাকরিম অতিরিক্ত কথা বললো না, গ্লাসটা এগিয়ে এক ঢোক পানি খেলো কেবল,তারপর খুব ব্যাস্ত তাগিদে নজর বুলালো হাতের ঘড়িতে,ঘড়িতে দৃষ্টি স্থির রেখেই প্রভাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“খেয়েছিস?”

প্রভা আমতা আমতা করলো,উত্তরে জবান বন্ধ হয়ে আসতে চাইলো তার।তাকরিম শান্ত দৃষ্টিতে পরখ করলো তার অভিব্যক্তি,কড়া কন্ঠে বললো,

“কতবার বলেছি আমার জন্য অপেক্ষা না করতে?বস এখানে, তাড়াতাড়ি খেয়ে নে।”

প্রভা কাচুমাচু করে বসলো তাকরিমের পাশে, তাকরিম রা রু করলো না,এক পিস রুটি এগিয়ে ধরলো প্রভার মুখের কাছে,

“নে হা কর।”

প্রভা চমকাল না, কারণ তাকরিম প্রতিদিনই এমন করে,তাকরিমের এই ছোট্ট যত্ন টুকু তার বদ অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে দিনকে দিন।প্রভা হা করলো না দেখে তাড়াহুড়ো দেখালো তাকরিম,

“কি হলো? হা কর।”

ভাবনার সুতো ছিড়ে নড়েচড়ে উঠলো প্রভা,আবেগাপ্লুত কন্ঠে বললো,

“বাদ দিন না ভাইয়া,কেন অযথা বদঅভ্যাস তৈরি করছেন?পরে আবার ছাড়তে কষ্ট হবে।”

“ছাড়তে হবে না, আমি বিয়ে করার পর আমার বউকে বলবো খাইয়ে দিতে।”

তাকরিমের স্পষ্ট উত্তরে ধ্বক করে উঠলো প্রভার বুকের ভেতরটা,আড়ালে চেপে ধরলো চেয়ারের কিনার,অস্পষ্ট বললো,

“আপনার কফি টা নিয়ে আসছি আমি।”

তাকরিমের সমস্ত মনযোগ খাবারে,উত্তরে কিছু বলার প্রয়োজন পড়লো না তার,তার আগেই প্রভা চলে গিয়েছে কফির জন্য।

দু মিনিটের মাথায় একটা সাদা মগ হাতে তাকরিমের পাশে এসে দাড়ালো প্রভা,তারপর আস্তে করে চুমুক বসালো কফির মগে,তাকরিম টিস্যুতে হাত মুছতে মুছতে বললো,

“টেস্ট পারফেক্ট?”

প্রভা কফির মগটা তাকরিমের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললো,
“এতো বিশ্বাস কেন করেন?যদি বিষ মিশিয়ে দিয়ে বলি পারফেক্ট?”

“আমার বিশ্বাসের অলিগলি জুড়ে তুই ছায়ার মতো থাকিস,তোকে বিশ্বাস না করে উপায় আছে বল?”

“আপনি বড্ড ঘোলাটে মানুষ, একজনকে ভালোবাসেন, একজনকে বিশ্বাস করেন আবার একজনের মাঝে সুখ খুঁজেন, আপনি চান কি বলুনতো?”

“ভালোবাসা একান্তই আমার, বিশ্বাস আর শান্তি ক্ষনস্থায়ী, ভালোবাসা পেয়ে গেলে সে দুটো টিকে যাবে চিরস্থায়ী হয়ে।”

“তাহলে তো আপনার লাইপের বেস্ট অপশন হচ্ছে ভালোবাসা।”

“উঁহু, আমার লাইফের একমাত্র অপশন হচ্ছে আলেকজান্দ্রা,আমার ভালোবাসা।দ্বিতীয় কোন অপশন এলাউ নয়।”

কথার মাঝেই এসে উপস্তিত হলো চিত্রা,অনুমতি নিতে বললো,

“আসবো স্যার?”

তাকরিম বসা অবস্থাতেই পেছনে তাকালো, ছোট্ট করে বললো,

“এসো।”

চিত্রা দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকলো,একরাশ ভয় আর সংকোচ নিয়ে এসে দাড়ালো চুপটি করে।তাকরিম চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো,

“চেহারা দেখে তো মনে হচ্ছে কাজটা করতে পারো নি।”

তাকরিম কথাটা অত্যন্ত শান্ত ভাবে বললেও, ভয়ে চুপসে গেলো চিত্রার মুখ,আতঙ্কিত কন্ঠে বলল,

“স্যার বিশ্বাস করুন আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি, কিন্তু লোকটা লয়াল,সাপ সাপ বলে দিয়েছে টাকার জন্য নিজের বসের সাথে কিছুতেই বেইমানি করতে পারবে না।”

তাকরিমের অভিব্যক্তি শান্ত অথচ রাগে হাতে ধরে রাখা গ্লাসটার সবটুকু পানি ছুড়ে মারলো চিত্রার মুখের উপর,কড়া কন্ঠে বললো,

“টাকার জন্য করতে পারবে না তো অন্যকিছু দিয়ে সিডিউস করার চেষ্টা করতে পারলে না?এতো সুন্দর চেহারা কাজে লাগাবে কখন?”

ভয়ে মূর্ছা গেলো চিত্রা, ছলছলে চোখে তাকালো প্রভার দিকে, প্রভাও চিবুক নামিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভয়ে।
তাকরিম চিত্রার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালো প্রভার দিকে,তারপর কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

“ওই মেয়েটাকে খাবার দিয়েছিলি?যা খাবার দিয়ে আয়।”

প্রভা আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না, ওই মেয়েটা বলতে যে অনুকে বুঝিয়েছে সে কথা বুঝতে বাকি নেই প্রভার,তাই কম্পিত হাতে খাবার গুছিয়ে দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করলো প্রভা।

প্রভা চলে যেতেই তাকরিম তাকালো চিত্রার দিকে,রূঢ় কন্ঠে বললো,

“আমি কি বোঝাতে চেয়েছি তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ চিত্রা?”

চিত্রা অপমানে মুখে হাত চেপে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো এবার,ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বললো,

“স্যার আপনি এসব কি বলছেন?”

“কি বলছি বুঝতে পারছো না তুমি?তুমি আমার পিএ বলে বেঁচে গিয়েছ,তোমার কি মনে হয় অন্য কোন মন্ত্রী মিনিস্টারের পিএ হলে এতোদিন ভার্জিন থাকতে তুমি?”

“স্যার আপনি আমাকে এভাবে বলতে পারেন না।”

“কেন বলতে পারবো না?আজ পর্যন্ত কোন দায়িত্বটা ঠিক মতো করতে পেরেছ তুমি?সব কাজেই ফেল করে এসেছ সবসময়।”

চিত্রা রাগে অপমানে হেঁচকি তুলে কাঁদতে শুরু করলো,হাতের পৃষ্ঠ দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,

“আমি আপনার আলেকজান্দ্রার খবর নিয়ে এসেছি স্যার।”

ব্যাস!আলেকজান্দ্রার কথা উঠতেই সমস্ত রাগ গলে পানি হয়ে হেলো তাকরিমের।চোখে মুখে খেলে গেলো খুশির ঝলক, উত্তেজিত কন্ঠে বললো,

“কি বললে?কি বললে চিত্রা?তুমি সত্যি আমার আলেকজান্দ্রার খবর পেয়েছ?তুমি নিশ্চয়ই জানতে পেরেছ ও কোথায় আছে?”

চিত্রা চোখের পানি মুছলো, নিজেকে সামলে নিয়ে নিঃশ্বাস ফেললো গুনে গুনে দুটো, তারপর কন্ঠ খাদেনা মেয়ে বলল,

“আছে স্যার,আপনার আলেকজান্দ্রা আপনার চিরশত্রু এডভোকেট ত্রিজয় তেজের কাছে আছে।”

চিত্রার কথা শুনে চমকালো তাকরিম,মাথায় বাজ পড়ার মতোই অনুভব হলো তার,পা দুটো টলে গেলো কিঞ্চিৎ, চোখের পাতায় ভেসে উঠলো সেদিনের ছবিটা,যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল নিষ্পার চেহারা কিন্তু নিস্পাকে গভীর আলিঙ্গনে বেধে রাখা শরীরের মালিককের মুখ অস্পষ্ট ছিলো,তখন বুঝে উঠতে পারে নি মুখ,তবে এখন কেন যানি মনে হচ্ছে সেই মানুষ টা ত্রিজয় তেজ ছিলো।

কথাটা ভাবতেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো তাকরিমের,জ্বালা অনুভব হলো কলিজায়,কেউ কি হাতুড়ির আঘাত বসালো? নাকি কুড়োল দিয়ে করাঘাত করলো সোজা হৃৎপিন্ড বরাবর?সে আঘাত কারি নিশ্চয়ই ত্রিজয়,যে তার কলিজাটা টেনে খুলে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করেছে ধুমধাম করে।

চিত্রা নৈঃশব্দ্যে ইনভিটেশন কার্ডটা বাড়িয়ে দিলো তাকরিমের দিকে,মিনমিনে কন্ঠে বলল,

“আপনাকে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে ইনভাইট করা হয়েছে স্যার।”

তাকরিম ঘন ঘন শ্বাস ফেলল,অস্থির ভঙ্গিতে হাতে নিল কার্ডটি,আহত দৃষ্টি বুলালো কার্ডের উপর,ঝাপসা দৃষ্টি স্থির হয়েছে একটা তারিখের উপর, যেখানটায় জ্বলজ্বল করছে,

“25/2/2025।”

_______________

ক্যালেন্ডারে তারিখ পাল্টেছে,সূর্য উঠেছে নতুন দিনের সূচনার সাক্ষী হয়ে।অসময়ে ভেসে আসছে দরজার খটখট আওয়াজ।অথচ এসময়ে কারো আসার কথা নয়,এ সময়টা একান্তই নিস্পার,এসময়ে সে একা একা বসে থাকে, ভাবে দুনিয়াবি কথা,নিজের ভবিষ্যৎ,আর ভাগ্যের কথা।

অথচ আজ ভাবার অবকাশ পেলো না একদম, একনাগাড়ে দরজার খটখটানির শব্দে বিরক্ত হলো নিস্পা,এগিয়ে গেলো দরজার দিকে,একটু তিক্ত বিরক্ত কন্ঠে বললো,

“কে?”

দরজার ওপাশ থেকে ভেসে এলো ত্রিজয়ের কন্ঠ,

“আমি,ওপেন দ্যা ডোর।”

নিস্পার বিরক্তি এক আনাও কমে নি,উল্টো ত্রিজয়ের কন্ঠ শুনতে পেয়েই বেড়েছে কয়েকগুন,তবুও এক প্রকার বাধ্য হয়েই দরজা খুলে দিলো সে,তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,

“কি চাই?”

“তোর মতো কানার কাছে হাত পা ছাড়া কি আছে দেওয়ার মতো?”

“আপনি কি সবসময় এসব আজাইরা প্রশ্ন করার জন্যই আমার কাছে আসেন?”

“অবশ্যই ত্রিজয় তার মূল্যবান সময় তোর মতো কানার জন্য নষ্ট করতে আসবে না।”

নিস্পা রাগে দাঁতে দাঁত পিষলো,মেজাজি কন্ঠে বললো,

“কি কাজে এসেছেন সেটা বলুন।”

ত্রিজয় নিস্পার পাশ কাটিয়ে ভেতরে এসে দাঁড়ালো,পুরো ঘরে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বললো,

“সেদিন শাড়িটা এনে দিয়েছিলাম কি করেছিস?”

“যেভাবে এনে দিয়েছেন সেভাবেই রেখে দিয়েছি।”উত্তরে বললো নিস্পা।

ত্রিজয় জ্বিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আইঢাই করে বললো,

“সন্ধ্যায় শাড়িটা পড়ে সুন্দর করে তৈরি হয়ে থাকবে।”

নিস্পা ভ্রু কুচকালো,চোখ মুখ শক্ত করে পরিস্কার উত্তর দিলো,

“আমি শাড়ি পড়তে পারি না।”

“আমি পড়িয়ে দিবো।”

“অসম্ভব, আমি আপনার হাতে শাড়ি পরবো না।”

“তো আপনাকে শাড়ি পড়ানোর জন্য কি আমি মেকাপ আর্টিস্ট ভাড়া করে আনবো নাকি?”

“আপনার যেমন ইচ্ছে।”

“এহ! আসছে আমার নিতা আম্বানি, তার জন্য আবার টাকা খরচ করে মেকাপ আর্টিস্ট আনবো আমি।যেই শাড়িটা দিয়েছি ওইরকম দামি শাড়ি তোর বাপ দাদার জন্মে দেখেছিস কখনো?”

“ভাগ্য ভালো আমি দেখতেই পাই না।”

“ওহ আই সি,ভুলেই গিয়েছিলাম তুই তো অন্ধ।”

কথাটা বলে থামতে গিয়েও থামলো না ত্রিজয়, কিছু একটা ভেবে চট করেই বললো,

“বাই দ্যা ওয়ে,তোর হাটুর উপরের দিকে যে একটা এট্রাক্টিভ তিল আছে সেটাও তো বোধহয় দেখিস নি?”

নিস্পা রাগে নাক ফোলাল এবার,কর্কষ কন্ঠে বললো,

“আপনি এতো নির্লজ্জ কেনো?”

ত্রিজয় চোখ উল্টে তাকালো, ফোস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো,

“বোন মনে করে একটু প্রশংসা করলাম আর ওমনি নির্লজ্জ বানিয়ে দিলি?আজকাল মানবতা দেখালেও দেখছি পাপ।”

চলবে,,,,,,

(আগামী পর্বে ত্রিজয় তাকরিম আর ফ্লোরেন্সাকে মুখোমুখি পাবেন🫰)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here