#হিপনোটাইজ
#তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:31 এর প্রথমাংশ
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
___________________________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
_______________________________⭕
“প্রতিরাতে একটি করে মৃত্যু এবং প্রতিভোরে হয় একটি পূনর্জন্ম ।তুমি চাও বা না চাও আমার যে জন্মাতেই হতো রুপকথিকা আমার রপাঞ্জেল ।”
কথাটা বলতে বলতে নিস্পাপের ছবির দিকে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ডক্টর কিয়ান চৌধুরী।ঘরের পুরো একটা দেয়াল জুড়ে সেট করা আছে নিস্পাপের বড়সড় একটি ছবি,যেখানটায় নিস্পাপের নাক চোখ ঠোঁট খুবই কাছ থেকে দেখা যায়, আবার ইচ্ছে করলেই লেপ্টে দেওয়া যায় গভীর স্পর্শ।
ডক্টর কিয়ান এবার তার হাত ছুইয়ে দিলো নিস্পাপের ঠোঁটের উপর,শান্ত কন্ঠে বললো,
“ডেস্টিনি চায় তোমাকে গোপন রাখতে অথচ আমি চাই তোমাকে গোপন রেখেই আদায় করে নিতে।তোমার পরিচয় সবার কাছে ধোঁয়াশা, একমাত্র আমি জানি তুমি আমার রুপকথিকা।”
কথাটা বলেই রহস্যময় হাসলো ডক্টর কিয়ান, এগিয়ে গেলো তার কাবার্ডের দিকে,তারপর খুব ধীর হস্তে একটা কালো রঙের সুট বের করে গায়ে জড়িয়ে নিলো। পরপরই একটা মেচিং হাত ঘড়ি পড়ে সময় দেখলো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।
সময় তখন সন্ধ্যা আটটার ঘরে স্থির।কিয়ান ঘর থেকে বেড় হলো সময় কেলকুলেশন করে।তবে বাইরের দিকে না গিয়ে সোজা তার ঘরের ডান দিকে এগিয়ে গেলো। ব্যাস্ত পা টেনে নিয়ে গিয়ে থামলো একটা ঘরের সামনে।নক করতে হলো না, ওই ঘরে ঢোকার প্রবল অধিকার দেখালো সে,কোন কথা না বলেই বড় বড় পা ফেললো ঘরের ভেতর।
বিছানায় শুয়ে আছে আশি বছর বয়সী এক বৃদ্ধা,কিয়ানকে আসতে দেখে ফ্যালফ্যাল করে তাকালেন তিনি,হাত পা নাড়ালেন না একদম।কিয়ান এগিয়ে এসে পাশে বসলো সে বৃদ্ধার,কিয়ান পাশে বসা মাত্রই বৃদ্ধার কুচকানো চোখের কোন থেকে গড়িয়ে পড়লো তপ্ত অশ্রু।অথচ তাতে কিয়ানের কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না,তবে ভরাট কন্ঠস্বর শোনা গেলো তার,
“আমার বিবি রুপাঞ্জেলের খোঁজ পেয়েছি আমি, আমার রুপকথিকা খুব শীঘ্রই আসছে বেগম মালেকা, তুমি প্রস্তুত হও, বিবি রুপাঞ্জেল নিজ হাতে তোমাকে মৃত্যুর স্বাদ উপলব্ধি করাতে আসছে।”
বৃদ্ধা দুইবার চোখের পাতা নাড়ালেন,অথচ হাত পা নাড়ালেন না তখনও,আটকে আটকে বললেন,
“বিবি রুপাঞ্জেল আমারে ক্ষমা দেও, ক্ষমা দেও।”
ডক্টর কিয়ান এপার্যায়ে বেশ মজা পেলো,মুচকি হেসে বৃদ্ধাঙুল দিয়ে কপাল চুলকে বললো,
“আমি তোমার জিহ্বাটা এজন্যই কাটি নি বেগম মালেকা, আমি চাই তুমি বিবি রুপাঞ্জেলের কাছে এভাবেই প্রাণ ভিক্ষা চাও,আমার বিশ্বাস তোমার আর্তনাদ শুনে রুপকথিকার সব কথা মনে পড়ে যাবে।”
_______________
সন্ধ্যা আটটা বেজেছে খুব কষ্টে, এর চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করার ধৈর্য তাকরিমের নেই।চকচকে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে সোজা বাইরে বেড়িয়েছে সে।চিত্রা সবসময়ের মতো শার্ট পড়ে নি আজ, একটা শাড়ি পড়েছে কালো রঙের। তবে চুল গুলো আগের মতোই ঝুটি বাধা, শাড়ির সাথে একদমই মানাচ্ছে না চুলের স্টাইল।তাতে অবশ্য চিত্রার তেমন কিছু যায় আসে না, শাড়িটা পড়ার পর আয়নায় নিজেকে দেখার সময় হয়ে উঠে নি তার।শাড়িটা কোন রকম পড়েই ছুটতে হয়েছে তাকরিমের কাছে।
আপাতত মাথায় বড়সড় চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।পার্টিতে যে আজকে ভুমিকম্প হবে সে বিষয়ে পুরো পুরি শিউর চিত্রা,কারণ সে স্পষ্ট দেখেছে তাকরিমের পকেটে কালো রঙের ছোট্ট রিভলবারটি।
কালো সুট বুট পড়া চার জন বডিগার্ড ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে তাকরিমের দুপাশে।দৃশ্যটা বেশ পরিচিত হলেও সবার মাঝে একজন মধ্যবয়স্ক হুজুরকে দেখে কপাল কুচকালো চিত্রা, একপ্রকার থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“স্যার উনিও কি যাচ্ছে?”
তাকরিম কন্ঠে গম্ভীরতা বজায় রেখে ছোট্ট করে উত্তর দিলো,
“ইয়েস।”
উত্তর শুনে চিত্রার কপালের কুচকানো ভাজ আরেকটু গাঢ় হলো,বিস্মিত কন্ঠে বললো,
“কিন্তু স্যার,,,,,,
” আমার কাজে কোন কিন্তু নেই।”চিত্রাকে থামিয়ে দিয়ে বললো তাকরিম।
তারপর শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো হুজুরের দিকে,মিহি কন্ঠে বললো,
“আপনি গাড়িতে উঠুন।”
তাকরিমের কথায় সম্মতি জানিয়ে হুজুর দ্রুত গাড়িতে উঠে বসলো।
তাকরিম ঘড়িতে নজর বুলিয়েই তাকালো চিত্রার দিকে, তারপর কড়া মেজাজি কন্ঠে বললো,
“তোমাকে নিশ্চয়ই গাড়িতে উঠার জন্য আলাদা করে বলতে হবে না।”
তাকরিমের ধমক খেয়ে মুখটা চুপসে নিলো চিত্রা,ইনিয়েবিনিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তাকরিম আবার বলে উঠলো,
“দ্রুত গাড়িতে উঠো, আজ আমি আমার আলেকজান্দ্রাকে না নিয়ে ফিরবো না।সে আমার অর্ধাঙ্গিনি হয়ে আমার চৌকাঠে পা রাখবে।”
____________
ইভানের রিকুয়েষ্টে দুজন মেকাপ আর্টিস্ট নিয়ে এসেছে ত্রিজয়।প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে নিস্পাকে সাজাচ্ছে তারা।এদিকে ত্রিজয় নিজের রাগ জেদ ঝারছে ইভানের উপর,
“ভাবতে পারছো ইভান,মেয়েটার জন্য একদিনে আমার সত্তর হাজার টাকা জলে গেলো।”
ইভান কটমট করে তাকিয়ে বিরবির করে বললো,
“শালা ফইন্নি যে হস নি তোর কপাল ভালো।”
ত্রিজয় বুঝতে পারলো না ইভানের বিরবিরানি,কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কিছু বললে?”
ইভান ঠোঁট টিপে নড়েচড়ে বললো,
“না স্যার তেমন কিছু না,আসলে বলতে চাইছি টাকা তো আপনার বউয়ের পেছনেই গিয়েছে এসব নিয়ে আক্ষেপের কি আছে?”
“কি বলতে চাইছো তুমি ইভান?আমি নিজের জন্যও কখনো এতো টাকা খরচ করি নি,আর কোথাকার কোন বউ এসে আমার এতোগুলা টাকা শেষ করে দিলো।”
“স্যার ওইটা কোথাকার কোন বউ নয় এটা ত্রিজয় তেজের বউ, যে বর্তমানে একশো কোটি টাকার মালিক।সেখান থেকে সত্তর হাজার টাকা খরচ করলে কমে যাবে না আপনার।”
“অবশ্যই কমে যা,,,,বাকি কথাটুকু শেষ করার আগেই খুলে গেলো নিস্পার ঘরের দরজা,দুজন মেকাপ আর্টিস্ট দু দিক থেকে ধরে আছে নিস্পাকে,ত্রিজয় হা হয়ে থাকা দুটো ঠোঁট সেভাবেই থমকে রইলো,ঝাপসা হয়ে এলো চোখের দৃষ্টি, একমাত্র নিস্পার মুখ ছাড়া সে চোখ আর কাউকে দেখার প্রয়োজন অনুভব করলো না।হৃদয়ের সমস্ত শব্দ মিলিয়ে গিয়ে জটপকিয়ে গিয়েছে,ডুবে গিয়েছে নিস্পার সজ্জিত মুখের গভীরে।
ত্রিজয়ের স্তব্ধতা দেখে এগিয়ে এলো ইভান,একটু ইতস্তত কন্ঠে ডাকলো দুবার,
” স্যার, স্যার।”
ত্রিজয় ডুবেছে ঘোরে, তবে শুনতে পেয়েছে ইভানের ডাক, নিস্পাপের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকেই প্রতিত্তোর করল,
“এটা কি হলো ইভান?ঘরের ভেতর ঢুকলো ছকিনা আর বের হলো প্রিয়াঙ্কা চোপড়া!”
ত্রিজয়ের কথা শুনে হেসে উঠলো দুজন মেকাপ আর্টিস্ট,একটু রসিকতা করে বললো,
“বলেছিলাম না স্যার, আপনার ওয়াইফকে এমন ভাবে সাজাবো যে চিনতেই পারবেন না।সবই আমাদের হাতের কামাল।”
ইভান এবার একটু শব্দ করেই হেসে দিয়ে বললো,
“এসব আপনার সত্তর হাজার টাকার কামাল স্যার।”
ত্রিজয় একদমই শুনলো না এসব কথপোকথন, সে কেবল এগিয়ে গেলো নিস্পার দিকে,নিস্পা উপলব্ধি করলো ত্রিজয়ের ভারি নিঃশ্বাস,শুখনো ঢোক গিলে পিছিয়ে যেতে চাইলো দু’পা ,তবে শাড়ির কারণে বেশ সুবিধা করে উঠতে পারলো না সে।ত্রিজয় নেশাময় দৃষ্টিতে তখনও তাকিয়ে আছে।নিস্পার অন্ধ দু চোখ যদি দেখতে পেতো নীল নেত্রমনির গহ্বরে লুকিয়ে থাকা সেই নেশার ভান্ডার তখনই হয়তো প্রাণ নাশ হতো,লজ্জায় অস্বস্তিতে ছটপট করে মরেই যেতো মেয়েটা।
মেকাপ আর্টিস্ট দুজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো,তারপর গলা পরিস্কার করে বললো,
“ইয়ে মানে স্যার, আমারা তাহলে আসছি।”
ত্রিজয় নির্বিকার,নৈঃশব্দ্যে এগিয়ে গেলো আরেকটু, নিজের শক্ত হাতটা নরম করে ছুইয়ে দিলো নিস্পার কোমড়ে,প্রতিত্তোরে বললো,
“ওয়েট করুন,ওর লিপস্টিক আবার লাগাতে হতে পারে।”
ত্রিজয়ের কথায় খুক করে কেশে উঠলো ইভান, লজ্জায় চোখ বাঁকিয়ে তাকালো দুজনের দিকে,তারপর আস্তে করে বললো,
“আপনারা ডিনার করতে আসুন।”
সম্মতিতে ঘাড় নাড়ালো দুজন,ঠোঁট জুড়ে মিটি মিটি হাসি নিয়ে দ্রুতই দ্রুত প্রস্থান করলো সে স্থান।
ইভান যেতে নিয়েও ফিরে তাকালো নিস্পাপের ঘরের দিকে,দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে আওড়ালো,
“শালা বউকে বউ মানে না,বইন মনে করে লিপস্টিক খেয়ে নিবে।খাদকের বাচ্চা।”
_____________
দরজা লাগানোর শব্দে কিঞ্চিৎ বিব্রত হলো নিস্পাপ।তার কোমর আঁকড়ে রাখা হাতটির মালিক যে ত্রিজয়, সে কথা বুঝেই কপট রাগে গজগজ করে উঠলো সে,ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিলো ত্রিজয়ের হাত,রাগান্বিত কন্ঠে বললো,
“কি সমস্যা আপনার? দরজা বন্ধ করলেন কেন?”
ত্রিজয় নিচের ঠোঁট হালকা এলিয়ে এগিয়ে এলো,পুনরায় চেপে ধরলো নিস্পার কোমর,একটু রস্য কন্ঠে বললো,
“একটা গান শুনতে ইচ্ছে করছে বিবি ছকিনা।ও-ই যে একটা গান আছে না, তুমি দিও না গো বাসর ঘরের বাতি নিভিয়া এই গানটা গাও তো একটু।”
নিস্পার মেজাজ আরেকটু বিগড়ে গেলো এবার,চাপা কন্ঠে হিসহিসিয়ে বললো,
“আপনার এতো বাজে ইচ্ছে হয় কেন বলুনতো?এসব ফালতু গান গাওয়ার ইচ্ছে আমার নেই।”
ত্রিজয় একটু আহত কন্ঠে বললো,
“তোমার আর আমার ইচ্ছে কি এক নাকি?তোমার গাইতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু আমার তো ইচ্ছে করছে।”
কথাটা বলে থামলো ত্রিজয়,তারপর নিস্পার কোমর টা আরেকটু চেপে ধরে বললো,
” আচ্ছা আমি গাইছি তুমি শুনো।”
নিস্পার সম্মতি শোনার প্রয়োজন বোধ করলো না ত্রিজয়,নিজের মুখটা নিস্পার কানের কাছে এগিয়ে নিয়ে গান ধরলো,
“আমি দিবো ওরে বাসর ঘরের বাতি নিভাইয়া
তুমি অন্ধকারে বদ্ধ ঘরে যাও মরিয়া।
আমি তোমায় নিয়ে প্রেম যুমনায় যাব ভাসিয়া
মাঝ নদীতে লাথি মেরে আসবো চলিয়া।”
ত্রিজয়ের উদ্ভট গান শুনে রাগে ক্ষোভে মাত্রাতিরিক্ত ফুসে উঠলো নিস্পা,নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চেপে ধরলো ত্রিজয়ের সুটের কলার,ক্রোধিত কন্ঠে চেচিয়ে বললো,
“চুপ, একদম চুপ করুন,আপনার মনে হচ্ছে না আপনি একটু বেশিই করছেন?আমার পেছনেই কেন লেগে থাকেন সবসময়?”
ত্রিজয় থেমে গেলো, থমথমে কন্ঠে উত্তর দিলো,
“ধরে নে বদ অভ্যাস।”
“এই অন্ধকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করতে ইগো হার্ড হচ্ছে না আপনার?”
“সস্তা জিনিস নিয়ে দু সেকেন্ডের বেশি ভাবি না আমি।”
“এতো অহংকার কেন আপনার?”
“কারণ আমার দৃষ্টি আছে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাই তোর ঝর্ণার মতো চোখ,পদ্মপাতার মতো মুখ, আর গোলাপের পাপড়ির মতো নিখুঁত ঠোঁটজোড়া।”
” আপনি বোধহয় জানেন না বদঅভ্যাস ছাড়তে মানুষকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয়।তখন আপনার অহংকার ধুলিস্যাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।”
“তুমি বড্ড বেশি বুঝো মেয়ে।”
“কারণ আমি চোখে দেখতে পাই না,সামনের প্রতিটি কদম আমাকে বুঝে শুনেই ফেলতে হয়।”
“সব বুঝো অথচ সমাধান বুঝো না?”
“যেখানে সমস্যা দেখার উপায় নেই, সেখানে সমাধান বোঝার চেষ্টা করা বোকামি।”
ত্রিজয় ফোস করেই শ্বাস ছাড়লো,এগিয়ে এলো নিস্পার কাছে,নিজের চওড়া হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলো নিস্পার কোমল তুলতুলে হাত, নিস্পা ঘাবড়ালো, ত্রিজয়ের স্পর্শ কাটা তুললো গায়ে,চট করেই টেনে সরাতে চাইলো হাত, তিরিক্ষি কন্ঠে বললো,
“আপনাকে কতবার বলবো আমাকে হুটহাট স্পর্শ করবেন না।”
ত্রিজয় নিস্পার কথার উত্তরে অপারগ কন্ঠে বললো,
“সমস্যা দেখার উপায় দেখিয়ে দিচ্ছি।”
নিস্পা কপাল কুঁচকে চুপ হয়ে গেল। এক অদ্ভুত নীরবতায় ভরে উঠল মুহূর্তটা। ত্রিজয় ধীরে ধীরে নিস্পার হাতটা তুলে এনে রাখলো নিজের বুকের উপর ।
নিস্পা স্পষ্ট অনুভব করল ত্রিজয়ের বুকের ভেতর কিছু একটা তীব্রভাবে লাফাচ্ছে,হয়তো হৃদয় নামক ছোট্ট মাংসপিন্ডটা কাঁপছে।বেরিয়ে আসতে চাইছে ছিড়েখুঁড়ে, কিছু না বলা অনুভূতি বলে দিতে চাইছে নিজের ভাষায়।
নিস্পা শুখনো ঢোক গিললো,না চাইতেও তার ধ্যান আটকে গেলো ত্রিজয়ের বুকের মধ্যখানে।ত্রিজয় নির্বাক, অথচ তার নিঃশ্বাসের ছন্দে বাজছে ব্যাকুলতা। তার বুকের ভেতর লাল হৃৎপিণ্ডটা উঠে পড়ে লেগেছে তার সমস্ত সংশয়কে চিহ্নিত করে দেওয়ার জন্য। স্পন্দনের প্রতিটি ধাক্কায় বলে দিচ্ছে,
“সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দেও ব্লু ব্লাড গার্ল।
নিস্পার বুকের ভেতরটা জর্জরিত হলো দ্বিধাদ্বন্দে,চট করেই হাতটা সরিয়ে নিতে চাইলো ত্রিজয়ের বুকের উপর থেকে৷ অথচ ত্রিজয় সরাতে দিলো না, বরং আরেকটু শক্ত করে মুচড়ে ধরলো নিস্পার হাত,মোহিত কন্ঠে বললো ,
“লিপস্টিকে বাজে লাগছে তোকে,বোন মনে করে মুছে দিচ্ছি, মাইন্ড করিস না।ইউ নো তোর প্রতি ফিলিংস নেই আমার।”
চলবে,,,,,,
(এই পর্বে সবাইকে মুখোমুখি আনা সম্ভব হলো না, তবে আগামী পর্বে ইন্টারেস্টিং কিছু থাকবে।)

