ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_________৩১

0
25

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________৩১

উর্মিলার বিষাক্ত কথাগুলো তীরের মতো ফালাকের কলিজায় গেঁথে গেছে। ড্রয়িংরুমের গুমোট পরিবেশ থেকে কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে ফালাক উপরে নিজের রুমে চলে এল। ওর মাথাটা বনবন করে ঘুরছে, চারপাশের দেয়ালগুলো যেন ওকে গিলে খেতে আসছে। বিছানার এক কোণে বসে ফালাক নিজের দুই হাতে মাথা চেপে ধরল।

উর্মিলা বলেছিল—”প্রথম ভালোবাসা ভোলা যায় না।” এই একটা বাক্য ফালাকের সাজানো স্বপ্নগুলোকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিচ্ছে। আয়নায় নিজের ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকাল। সাদ কি তবে সত্যিই উর্মিলার অভাব পূরণ করতেই ওকে আঁকড়ে ধরেছে?
সময় যেন কাটতেই চাইছে না। ইফতারের সময় হয়ে এল,.!সাদ সকালে বলে গিয়েছিল আজ বন্ধুদের সাথে বাইরে ইফতার করবে, ফিরতে দেরি হবে।
রিমা আর নীলা ফালাকের অবস্থা বুঝতে পেরে ওকে এক মুহূর্তের জন্যও একা ছাড়ছে না। ওরা ফালাককে একরকম জোর করেই রিমার ঘরে নিয়ে গেল।

নীলা: “ভাবি, তুমি ওই ডাইনির কথায় কান দিও না তো! ভাইয়া তোমাকে কতটা ভালোবাসে সেটা আমরা সবাই জানি।”

রিমা: “ঠিক বলেছো। উর্মিলা আপু তো হিংসায় এসব বলছে। তুমি খেয়ে নেও। রোজা রেখেছ শরীর খারাপ করবে তো।”
ফালাক ম্লান হাসল, কিন্তু ওর মনের ভেতর তখন ঝড় বইছে। শুধু অপেক্ষা করছে সাদের জন্য।
এদিকে নিচে সাদের মা বড্ড অস্থির হয়ে আছেন। সাদের ছোট খালা জেদ ধরেছেন আজ রাতটা এখানেই থাকবেন,। সাদের মা মনে মনে খুব চাইলেন উর্মিলার মতো একটা ‘অতীত’ এ বাড়িতে রাত কাটাক। তবে বোনের মেয়ে কিছু বলতেও পারছেন না।তিনি জানেন না সাদ কেন উর্মিলাকে ডিভোর্স দিয়েছিল, আর এখন তিনি তা জানতেও চান না। তিনি শুধু দেখছেন তার ছেলেটা ফালাককে নিয়ে একটু শান্তিতে আছে। তিনি মনে মনে দোয়া করলেন—”আল্লাহ, আমার ছেলেটার সংসারে যেন আর কোনো অশান্তি না আসে।
রাত বাড়তে লাগল। তারাবির নামাজ শেষ হয়ে গেছে। সাদ এখনো ফেরেনি। বাড়ির মেহমানরা গেস্ট রুমে সেটেল হয়েছে। উর্মিলা মাঝেমধ্যেই দর্পভরে ড্রয়িংরুমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন এখনো এই বাড়ির মালকিন।
ফালাক রিমার ঘরে বসে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। দেখতে চায়, সাদ যখন দেখবে উর্মিলা এসেছে, ফিরে আসতে চাইছে সাদের প্রতিক্রিয়া কী হয়।
গেইটে মীরা আর ফারদিন দাঁড়িয়ে ছিল। সাদের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকতেই ওরা দুজনে এগিয়ে এল। সাদ গাড়ি থেকে নামতেই মীরা হাত চেপে ধরল।

সাদ ভ্রু কুঁচকে তাকাল। মীরার চোখেমুখে এক ধরণের মেকি আতঙ্ক।

“ভাইয়া! তুমি এতক্ষণে এলে? জানো বাড়িতে কী হয়েছে? ওই উর্মিলা আপু এসেছে। এসে ভাবিকে যা তা বলে অপমান করেছে। বলেছে—ভাবি নাকি তোমার দয়ার পাত্রী!”

ফারদিন ও বলল -“শুধু তাই না ভাইয়া! বলেছে তুমি নাকি এখনো ওকেই ভালোবাসো। ভাবি তো কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। দুজন মিলে আরো কিছু উর্মিলার নাম বানিয়ে বলল।
সাদের হাতটা মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এল। চোখের মণি দুটো যেন আগুনের মতো জ্বলছে। ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি ধারণ করল। সাদ কোনো কথা না বলে গটগট করে বাড়ির ভেতরে ঢুকল। পেছনে মীরা আর ফারদিন একে অপরের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে এক বাঁকা হাসি হাসল। ওদের মিশল সাকসেসফুল!
সাদ ওপরে উঠতেই করিডোরে উর্মিলার সাথে দেখা। উর্মিলা যেন আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। সাদকে দেখেই ঠোঁটে এক মায়াবী, হাসি ফুটিয়ে তুলল।

“হ্যালো সাদ! কেমন আছো? অনেকদিন পর দেখা হলো আমাদের, তাই না?”

সাদ কোনো উত্তর দিল না। স্থির চোখে উর্মিলার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই চাহনিতে মায়া নেই, বিরহ নেই—আছে শুধু এক ধরণের শীতল ঘৃণা।

“সাদ… আমি জানি আমি ভুল করেছিলাম।,
আমার তোমার সাথে খুব জরুরি কথা আছে। এখানে না, প্লিজ… আমার কথাটা একবার অন্তত শোনো।”
এই বলে সাদের ঘরের দিকে যায় সাদ ও পিছন পিছন যায়।
ভিতরে গিয়ে উর্মিলা দ্রুত হাতে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল।
এদিকে ফালাক রিমার ঘর থেকে বের হয়েছিল, করিডোরে পা রাখতেই ওর পায়ের তলার মাটি সরে গেল। দেখল—সাদ আর উর্মিলা একসাথে সাদের রুমে ঢুকল, দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।

ফালাকের হাতে থাকা পানির গ্লাসটা কাঁপতে কাঁপতে মেঝেতে পড়ে ঝনঝন করে ভেঙে গেল। কিন্তু সেই শব্দের চেয়েও বড় শব্দ হলো ফালাকের বুকের ভেতর। কলিজাটা কেউ ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে। বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে ফালাকের দুচোখ বেয়ে বাঁধভাঙা অশ্রু নামল।ফালাকের বুকের ভেতরটা যেন মুহূর্তেই খাঁ খাঁ করে উঠল। একটা তীব্র হাহাকার ওর কণ্ঠনালী পর্যন্ত দলা পাকিয়ে এল। নিজের স্বামীর সাথে তার প্রাত্তন স্ত্রী বদ্ধ ঘরে আছে।
​দেওয়ালে ভর দিয়ে কোনোমতে নিজেকে সামলাল। এক ফোঁটা, দু ফোঁটা করে নোনা জল ওর গাল বেয়ে টুপটুপ করে মেঝেতে পড়ছে।
ফালাক চাপা স্বভাবের মেয়ে। চিৎকার করে প্রতিবাদ করতে পারল না। শুধু নিজের মুখটা চেপে ধরল যাতে কান্নার শব্দ কেউ শুনতে না পায়। ঝাপসা চোখে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কাঁদতে থাকে।। চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে। বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে।
ফালাক অপলক দৃষ্টিতে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল, যেন মনে মনে আশা করছে সাদ এখনই দরজাটা খুলে বেরিয়ে এসে বলবে—”ফালাক, তুই যা ভাবছিস তা সত্যি নয়।”
​কিন্তু দরজা খুলল না। ফালাক আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। নিজের অসহায়ত্ব নিঃশব্দে কাঁদতে কাঁদতে মীরার রুমের দিকে পিছিয়ে গেল। ওর মনে হচ্ছে, এই বাড়ির প্রতিটা ইঁট আজ ওকে উপহাস করছে।

মীরার রুমে ঢুকে ফালাক দরজাটা আলতো করে ভিড়িয়ে দিয়ে বিছানার এক কোণে বসে পড়ল। কোনো শব্দ নেই, শুধু নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল।
অন্যদিকে, বন্ধ ঘরের ভেতর সাদ উর্মিলার দিকে এক হিংস্র বাঘের মতো তাকিয়ে আছে। সাদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।

উর্মিলা: “সাদ, আমি ফিরে আসতে চাই। আমি জানি তুমি ঐ মেয়েটাকে নিয়ে সুখী নও। তুমি কেবল আমাকে রাগানোর জন্য ওকে বিয়ে করেছ। চলো না, আমরা আবার নতুন করে শুরু করি?”

সাদ এবার একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।
সাদ উর্মিলার দিকে এক পা এগোলো, উর্মিলা মনে মনে বিজয়ীর হাসি হাসল, ভাবল সাদ হয়তো ওকে কাছে টেনে নেবে। নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে সাদের স্পর্শের অপেক্ষা করতে লাগল।
​কিন্তু পরক্ষণেই ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক প্রচণ্ড শব্দ হলো—’ঠাস!’
​সাদের হাতের একটি সজোরে চড় উর্মিলার বাঁ গালে গিয়ে পড়ল। উর্মিলার মাথাটা ঘুরে গেল, টাল সামলাতে না পেরে বিছানার ওপর আছড়ে পড়ল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদ ওকে টেনে তুলল এবং একের পর এক আরও পাঁচটি চড় মারল। উর্মিলার ঠোঁটের কোণ ফেটে রক্ত বেরিয়ে এল।
​সাদ উর্মিলার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরল। ওর কন্ঠস্বর এখন কোনো মানুষের নয়, যেন কোনো আহত সিংহের গর্জন।

“তোর মতো দুশ্চরিত্রাকে আমি বিশ্বাস করব?
​উর্মিলা ব্যথায় কুকড়ে গিয়ে গোঙাতে লাগল। সাদ ওকে এক ঝটকায় দেওয়ালের সাথে চেপে ধরল।
“তোর সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল বাড়িতে থেকে জোর করে আমার জীবনের প্রথম কোনো নারী। আমি ব্যবসা বুঝতাম, টাকা বুঝতাম—মেয়েলি আবেগ কোনোদিন বুঝিনি। ভেবেছিলাম বড়দের পছন্দে বিয়ে করেছি, সব মেনে নিয়ে তোকে নিয়ে সংসার করব। কিন্তু তুই? তুই তো বিয়ের আগে থেকেই অন্য পুরুষের সাথে বিছানা ভাগ করেছিস। বিয়ের পরেও সেই নোংরামি চালিয়ে গেছিস।”
​সাদ ঘৃণাভরে উর্মিলার দিকে তাকাল।

“আমি মাস্তান? আমি রাগী? এসব বলে কথা শোনাতি! আমার সাথে কেউ সংসার করতে পারবে না। আমার আড়ালে তুই যা করেছিস, তার প্রতিটি প্রমাণ আমার কাছে আছে। আজ কোন সাহসে তুই আমার পবিত্র ঘরে ঢুকেছিস? কোন সাহসে তুই আমার ফালাকের নাম নিয়েছিস?”
​উর্মিলা থরথর করে কাঁপছে। কোনোদিন সাদের এই বীভৎস রূপ দেখেনি। “আমার ফালাক তোর মতো নোংরা নয়। ও ফুলের মতো পবিত্র। তুই তো ওর পায়ের নখের ও যোগ্য নোস।

“নতুন করে শুরু? তুই কি সত্যিই মনে করিস একটা হীরের বদলে আমি একটা নুড়ি পাথরকে বেছে নেব? তুই যে সাহস নিয়ে আমার বাড়িতে ঢুকে আমার ফালাককে অপমান করেছিস, তার মাসুল তোকে দিতে হবে।”

উর্মিলার গালে সাদের হাতের আঙুলের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে, ঠোঁটের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। কিন্তু উর্মিলার নির্লজ্জতা যেন শেষ হওয়ার নয়।

” আমার কথাটা একবার শোনো।

ঠাস! সাদ আবার চড় মারে।

সাদ!তুমি কি বুঝতে পারছো না ওই গেঁয়ো মেয়েটা তোমাকে বশ করেছে?
উর্মিলার মুখে ফালাকের নামে ‘বশ করা’র অপবাদ শুনে সাদের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেল। গর্জে উঠে আবার উর্মিলার গালে আরও এক প্রচণ্ড চড় কষাল। ‘ঠাস!’
“আবার! আবার তুই ওর নাম নিবি তোর এই নোংরা মুখে? বশ করেছে? হ্যাঁ, ও আমাকে ওর পবিত্রতা দিয়ে বশ করেছে, ওর মায়া দিয়ে আমাকে মানুষ বানিয়েছে। যেটা তুই কোনোদিন পারিসনি।”
উর্মিলা ছিটকে গিয়ে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। ব্যথায় চিৎকার করে উঠল, কিন্তু ওর ভেতরে থাকা বিষাক্ত ইগো ওকে থামতে দিচ্ছিল না। আবার ফুঁসিয়ে উঠে বলল—

“তুমি অন্ধ হয়ে গেছো সাদ! ওই মেয়েটা তোমাকে স্রেফ তোমার টাকার কাঙাল। আমার মতো আভিজাত্য ওর সাত জন্মেও হবে না। ও তোমাকে—”
কথা শেষ করার আগেই সাদ উর্মিলার চুল টেনে মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। এবার সাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

“টাকার কাঙাল? তুই বলছিস এই কথা? যে মেয়েটা লন্ডনের কোটি কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সামান্য একচালা ঘরে থাকতেও রাজি, সে টাকার কাঙাল? আর তুই? তুই ছিলি টাকার নেশায় চুর হয়ে থাকা এক পতিতা, যে বিয়ের পবিত্রতাকেও কলঙ্কিত করেছিলি।”
“আজ থেকে যদি কোনোদিন আমার ফালাকের ছায়া মাড়ানোর চেষ্টা করিস, তবে তোকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেও দ্বিধা করব না।”
__________

সাদ রুম থেকে বেরিয়ে উম্মত্তের মতো ফালাককে খুঁজতে লাগল। ওর বুকটা ফেটে যাচ্ছে এক অজানা আশঙ্কায়। ফালাকের জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে।। খোঁজ করতে লাগে।করিডোরে নীলার সাথে দেখা হতেই সাদ অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ফালাক?”
নীলা নিচু স্বরে বলল, “ভাইয়া, ভাবি আজ মীরার সাথে শুয়ে পড়েছে। মনটা খুব খারাপ ছিল, তাই আমি আর ডাকিনি।”
সাদ মীরার ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। হাতটা বাড়িয়েও দরজায় টোকা দিল না। ভাবল, সারাদিন যা ধকল গেছে, আর উর্মিলার ওই বিষাক্ত কথাগুলো ফালাকের ওপর দিয়ে যে ঝড় বইয়ে দিয়েছে—তার জন্য ফালাকের বিশ্রাম প্রয়োজন। সাদের নিজের মাথাটাও রাগে ফেটে যাচ্ছে। নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের ঘরে ফিরে গেল। মনে মনে ভাবল, “কাল সকালে সব ঠিক করে দেব। ফালাককে বুকে টেনে নিয়ে সব সংশয় দূর করব।”

_________

সকাল হতেই মির্জা বাড়িতে প্রলয় নেমে এল যেনো । মীরার গগনবিদারী চিৎকারে সবার ঘুম ভাঙল।
“মা! ও মা! ভাবিকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি পাশে নেই। সারা বাড়ি খুঁজলাম, কোথাও নেই !”
সাদ ঘর থেকে বেরিয়ে এল। পরনের শার্টটা কুঁচকানো, চোখ দুটো লাল। চিৎকার করে বাড়ির সবাইকে ডাকল—
“ফালাক কোথায়? আমার ফালাককে এখনই আমার সামনে এনে দেও !”
কারো কাছে কোনো উত্তর নেই। সাদের মাথায় তখন রক্তের ঝিলিক খেলছে। মনে হলো ফালাকের এই হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে উর্মিলার কোনো হাত আছে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গেস্ট রুমে ঢুকে উর্মিলার গলা টিপে ধরল।

“বল! তুই কী করেছিস? তুই আমার ফালাককে কোথায় পাঠিয়েছিস? যদি ওর কিছু হয়, তবে তোকে আমি জ্যান্ত কবর দেব!”

উর্মিলা শ্বাস নিতে পারছিল না, চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। কোনোমতে আর্তনাদ করে বলল, “সাদ… আমি… আমি কিছু করিনি!

সাদ ওকে এক ঝটকায় মেঝেতে ফেলে দিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল। প্রথমে গেল ফালাকের ভাইয়ের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখল সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। ফালাকের কথা জিজ্ঞেস করতেই তারা বিরক্তি প্রকাশ করল। সাদের মনে পড়ে গেল, এই মানুষগুলোই একদিন অনাথ ফালাককে অবহেলা করেছিল, তাকে বোঝা মনে করেছিল। রাগে সাদ ঐ বাড়ির ভাঙচুর করতে লাগল। ভেঙে চুরে শেষ করে বেরিয়ে এলো।
আর শাসিয়ে এলো -যদি ফালাককে না পাই, তবে তোদের আমি শেষ করে দেব!”
________
এভাবেই কেটে গেল বিভীষিকাময় কয়েকটা দিন। ফালাকের কোনো খোঁজ নেই। মির্জা বাড়ির উজ্জ্বল আলোটা যেন নিভে গেছে। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।
অহংকারী, রুক্ষ সাদ মির্জা আজ পুরোপুরি বিধ্বস্ত। নিজেকে রুমের ভেতর বন্দি করে ফেলেছে। ঘরের মেঝেতে দামী মদের বোতলগুলো গড়াগড়ি খাচ্ছে।
যে সাদ কোনোদিন নেশার ঘোরেও কাণ্ডজ্ঞান হারাত না, সে আজ নেশার মাঝেই ফালাককে খুঁজে ফিরছে। ওর হাতে জড়ানো ফালাকের হালকা গোলাপি রঙের একটা সুতি শাড়ি। ঘ্রাণ নিচ্ছে……আর পাগলের মতো বিলাপ করছে–

” তুমি চোখের আড়াল হও ”
“কাছে কিবা দূরে রও “..
“মনে রেখো আমিও ছিলাম “…
“এই মন তোমাকে দিলাম ”
“এই প্রেম তোমাকে দিলাম…….

সাদের এই করুণ অবস্থা দেখে বাড়ির কারোরই চোখের জল বাঁধ মানছে না। মির্জা বাড়ির বাতাসে এখন শুধু হাহাকার আর ফালাকের শূন্যতা। ফালাক কি সত্যিই সাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল!

চলবে —

#everyonefollowers #উপন্যাসপ্রেমী #উপন্যাস #গল্পফ্যাক্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here