#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব___________৩৩
সাদ ফালাকের হাত ধরে ধীরপায়ে তিশাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। তিশা আর ওর স্বামী ওদের দেখে এগিয়ে এল। সাদের চেহারায় এখন কৃতজ্ঞতা আর প্রশান্তি খেলা করছে। সাদ ওদের ধন্যবাদ জানালো—যেটা অহংকারী সাদ মির্জার জন্য এক বিরল ঘটনা। পকেট থেকে কার্ড বের করে তিশার স্বামীর হাতে দিল।
“আপনারা আমার স্ত্রীকে যে আশ্রয় দিয়েছেন, সেটা আমি কোনোদিন ভুলব না। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন আর চট্টগ্রামে আমাদের বাড়িতে আসবেন।।
তিশা আর ওর স্বামী হাসিমুখে ওদের বিদায় দিল। ফালাক তিশাকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে কাঁদলো কিছুক্ষণ।
হোটেলের লাক্সারি রুমটায় এসির মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে। সাদ ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বেরোলো। ঠিক তখনই হোটেলের লোক রাতের ডিনার রেখে গেল। টেবিলে রাখা ভাপ ওঠা ভাত আর দেশি মুরগির ঝোল থেকে চমৎকার সুবাস বেরোচ্ছে।
সাদ বিছানায় ফালাকের পাশে এসে বসল। সাদ আজকে আর যায় নি শ্রীমঙ্গলের একটা হোটেলে উঠেছে ফোন করে বাড়ি সব জানিয়েছে। কাল যাবে আজ আর জার্নি করে যাবে না। প্লেনের টিকেট এভেলএভেল নেই আজ ।
সাদের মুখ দেখে বুঝতে পারছে ফালাক খাবার খায়িয়ে দিতে হবে। ফালাকের বুকের ভেতরটা মায়ায় ভরে গেল। কোনো কথা না বলে প্লেট সাজিয়ে পরম মমতায় লোকমা তুলে সাদের মুখে দিল। সাদ খুব তৃপ্তি করে খাচ্ছে আর ফালাকের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
“তুমি ও খাও ।
ফালাকও খেতে শুরু করল। ফালাকের ঠোঁটের কোণে বারবার একটা মুচকি হাসি খেলে যাচ্ছে। সাদও দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।
খাওয়া শেষ হতেই। সাদ ফালাককে এক ঝটকায় কোমর জড়িয়ে নিজের খুব কাছে টেনে নিল। ফালাক অপ্রস্তুত হয়ে সাদের প্রশস্ত বুকে হাত রাখল।
“অনেক দূরে ছিলে ।”
সাদ আর সময় নষ্ট করল না। ফালাকের কপালে, গালে চুমু খেতে শুরু করে। এরপর ঠোঁটে ডুব দিল। ফালাক এবার আর নিজেকে গুটিয়ে রাখল না। সাদের পাগলামির প্রতিউত্তরে নিজেও ধরা দিল সাদের বাহুডোরে। দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা আর বিরহের অবসান ঘটল গভীর অনুরাগে।
কিছুক্ষণ পর সাদ ফালাককে নিজের বুকের মাঝে জাপটে ধরে বিছানায় শুয়ে পড়ল। সাদের এক হাত ফালাকের ঘাড়ের নিচে, অন্য হাত ফালাকের পিঠ আগলে রাখা। ফালাক সাদের হৃদপিণ্ডের শব্দ শুনতে শুনতে চোখ বুজল।
ভয়াবহ অনিদ্রার পর, আজ ফালাকের চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে সাদ এক গভীর শান্তির ঘুমে তলিয়ে গেল।
অবশেষে মির্জা বাড়িতে আবারও পা রাখল ফালাক।
সাদের মা আর অপেক্ষা করতে পারলেন না। তিনি এগিয়ে এসে ফালাককে জড়িয়ে ধরলেন।
” ফালাক মা ! তুমি ফিরে এসেছ ?
ফালাক শাশুড়িকে সালাম করল।
মীরা : তোমাকে ছাড়া আমরা কেউই ভালো ছিলাম না।”
রিমা আর নীলা দৌড়ে এসে ফালাককে মাঝখানে নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিল।
নীলা: “ভাবি! তুমি জানো না ভাইয়া আমাদের সবার কী অবস্থা করেছিল! ওনার রাগ আর পাগলামি সামলাতে সামলাতে আমরা শেষ হয়ে গিয়েছিলাম।”
রিমা: “হ্যাঁ ভাবি, ভাইয়া তো আমাদের কাউকে চেনে না এমন ভাব করছিল। শুধু তোমার ছবি আর শাড়ি নিয়ে বসে থাকত।”
সাদ একপাশে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত দিয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। মুখে আজ অনেকদিন পর সেই চিরচেনা গাম্ভীর্যের আড়ালে একটা মৃদু হাসির রেখা। বাড়ির কাজের লোকগুলোও আড়াল থেকে মুচকি হাসছে।
বাড়িতে এক খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সাদের মা সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “আগে ওদের ফ্রেশ হতে দে। অনেক লম্বা জার্নি করে এসেছে।
সাদ ফালাকের হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিল। কিন্তু ফালাকের শরীরটা যেন হঠাৎই এলিয়ে পড়তে লাগল। ওর চোখের সামনে সবকিছু কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে, মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে। সিঁড়ির মাঝপথেই ফালাক টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সাদ বিদ্যুৎবেগে ওকে দুই হাতে ধরে ফেলে ।
“ফালাক! ফালাক কী হয়েছে? চোখ খোল!”
ফালাক কোনো উত্তর দিল না। পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে সাদের বাহুডোরে ঢলে পড়ল। সাদের কলিজা যেন মুহূর্তেই শুকিয়ে গেল। এক নিমেষে ফালাককে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে দৌড়ে ওদের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। পুরো বাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে গেল। সবাই সাদের ঘরে ছুটে এল। সাদ অস্থির হয়ে চিৎকার করতে লাগল—
এখনই ডাক্তারকে ফোন কর! তাড়াতাড়ি! আর আয়ানকে বল সব ফেলে বাড়িতে আসতে!”
সাদ ফালাকের মাথার কাছে বসে ওর চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিচ্ছিল। ফালাকের এই হঠাৎ অসুস্থতা সাদকে একদম ভেঙে ফেলেছে। কিছুক্ষণ পর পারিবারিক ডাক্তার এলেন। তিনি ফালাককে পরীক্ষা করার সময় সাদ দরজার সামনে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলো । অস্থিরতা যেন কোনোভাবেই কমছে না।
ডাক্তার ফালাককে চেকআপ শেষ করে মুচকি হেসে বেরিয়ে এলেন। সাদের মা ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ডাক্তার সাহেব, আমার মেয়েটা ঠিক আছে তো? ও এভাবে অজ্ঞান হলো কেন?”
ডাক্তার সাহেব সাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ভয়ের কিছু নেই। বরং এটা আপনাদের সবার জন্য অনেক আনন্দের খবর। অভিনন্দন , আপনার বাড়িতে নাতি-নাতনি আসতে চলেছে।
কিহ ফালাক মা হতে চলেছে।”
এক মূহূর্তে পুরো ঘরে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। পরক্ষণেই রিমা আর নীলা খুশিতে চিৎকার করে উঠল। সাদের মা আনন্দের চোটে কেঁদে ফেললেন। ফারদিন সাদের কাঁধে হাত রেখে ঝাকুনি দিয়ে বলল—
“অভিনন্দন ভাইয়া! তুমি বাবা হতে চলেছ! আর আমি চাচু হতে চলেছি!”
সবাই খুশিতে আত্মহারা, কিন্তু সাদ? সাদ তখনো দরজার একভাবে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো স্থির। এই সংবাদটা যেন ওর মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিচ্ছে। নড়ছে না, কিছু বলছেও না—একদম পাথরের মতো নিথর হয়ে আছে।
বিছানায় শুয়ে থাকা ফালাকের জ্ঞান ফিরেছে ততক্ষণে। ডাক্তারের কথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে আছে। বাড়ির সবাই একে একে এসে ফালাককে আদর করে, দোয়া করে বেরিয়ে গেল। এখন ঘরে শুধু সাদ আর ফালাক একা।
সাদ ধীরপায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে এল। ফালাক আড়চোখে সাদের দিকে তাকাল, সাদ ফালাকের একদম কাছে এসেও কিছু বলল না। চোখের চাহনি আজ একদম অন্যরকম— অবাক হয়েছে কি বোঝা যাচ্ছে না।
সাদ এক মুহূর্ত ফালাকের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কোনো কথা না বলে, কোনো অভিব্যক্তি না দেখিয়েই হুট করে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেল। ফালাকের হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। বুঝতে পারল না, এই খুশির খবরে সাদের এই অস্বাভাবিক আচরণের মানে কী? সাদ কি তবে খুশি হয়নি?
____________
রাতে যখন সাদ রুমে ফিরল, তখন ফালাক বিছানায় হেলান দিয়ে বসে ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল। সাদের মুখটা এখনো কিছুটা থমথমে, যেন কোনো এক গভীর ভাবনা ওকে গ্রাস করে আছে। ফালাক আর নিজেকে সামলাতে পারল না, খুব ধীর গলায় জিজ্ঞেস করল—
”আপনি কি খুশি নন?”
সাদ আলমারি থেকে নিজের কাপড় বের করতে করতে থমকে দাঁড়াল। একবার ফালাকের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানার কিনারায় এসে বসল। ফালাকের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে শান্ত স্বরে বলল—
”তোমাকে কে বলল আমি খুশি নই? বাবা হওয়ার কথা শুনে আমি সত্যিই অনেক খুশি।”
সাদ এর বেশি আর কিছু বলল না। গলার স্বরটা স্বাভাবিক থাকলেও চোখের কোণে যেন একটা অব্যক্ত আবেগ লুকানো।
সাদ বারান্দায় গিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছে । অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ফালাকের সামনে শুধু বলেছে ‘খুশি’, কিন্তু এই ‘খুশি’ শব্দটা ওর মনের ভেতরের আগ্নেয়গিরিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট নয়।
“বাবা……. বাবা হতে চলেছে সাদ।যে মানুষটা নিজের জীবনের মানে খুঁজে পায়নি কয়েক বছর আগেও, যার কাছে ভালোবাসা ছিল স্রেফ এক যন্ত্রণার নাম, আজ সেই সাদ মির্জার একটা অংশ এই পৃথিবীতে আসবে।
সাদ নিজের হাতের তালুটার দিকে তাকালো।
নিজের বুকের বাঁ পাশে হাত রাখল। হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানিটা আজ অনেক দ্রুত। কল্পনা করছে, ছোট্ট প্রাণ ওর আঙুল ধরে হাঁটছে, ‘বাবা’ বলে ডাকছে। এই কথাটি কল্পনা করতেই সাদের চোখের কোণটা ভিজে উঠল। বাবা হতে চলেছে এই অনুভূতি যে কি সাদের কাছে তা সে প্রকাশ করতে পারবে না।
সাদ মনে মনে কিছু ভেবে নিলো।
সাদ আবার রুমে ফিরে এল। বিছানায় ঘুমন্ত ফালাকের দিকে তাকিয়ে খুব সন্তর্পণে কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল।
ফুলের মতো কোমল ছোঁয়া আর সাদের নিঃশ্বাসের স্পর্শে ফালাকের ঘুমটা পাতলা হয়ে এলো। চোখ মেলতেই দেখল, ঘর অন্ধকার, শুধু বারান্দা থেকে আসা চাঁদের এক চিলতে আলোয় সাদের অবয়বটা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সাদ খুব কাছে বসে আছে, দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
ফালাক আলতো করে উঠে বসার চেষ্টা করতেই সাদ হাত বাড়িয়ে ওকে সাহায্য করল। ফালাক লক্ষ্য করল মানুষটার চোখে আজ এক সমুদ্র মায়া। ফালাকের হঠাৎ খুব কান্না পেয়ে গেল—এ এক অদ্ভুত খুশির কান্না। সাদের শার্টের হাতাটা খামচে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠল।
“ফালাক! কাঁদছো কেন? কোথাও কষ্ট হচ্ছে? শরীর খারাপ লাগছে?”
ফালাক মাথা নেড়ে ‘না’ বলল। সাদের বুকের সাথে লেপ্টে গিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল—
“আমি খুব খুশি।আমি ভাবিনি আল্লাহ আমাকে এতোটা সুখ দেবেন।
সাদ ফালাককে নিজের বাহুবন্ধনে পিষে ফেলল। থুতনিটা ফালাকের মাথায় ঠেকিয়ে খুব নিচু গম্ভীর গলায় বলল—
“হুম “!
সাদ এবার ফালাককে বিছানায় একটু হেলান দিয়ে বসিয়ে দিল। তারপর অতি সাবধানে, যেন কোনো পবিত্র জিনিসের অবমাননা না হয়, সেভাবে ফালাকের স্ফীত পেটের ওপর মাথা ঠেকাল। ফালাকের শরীরের ভেতর দিয়ে এক বিদ্যুৎ খেলে গেল। সাদ ফালাকের পেটে একটা দীর্ঘ চুমু খেল।
ফালাক সাদের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে দেখল, সাদের চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করছে।
________________
ফালাক সাদের অগোচরে আয়ানের সাথে বের হলো – সাদ জানলে ফালাক কে বের হতে দিবে না। আয়ানকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করিয়েছে ফালাক। আয়ান প্রথমে ভয় পেলেও ফালাকের জেদের কাছে হার মানল। উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ।
হাসপাতালের কেবিনে উর্মিলার মা ছিলেন। আয়ান খুব কায়দা করে উনাকে বাইরে নিয়ে গেলেন।
এখন কেবিনে শুধু ফালাক আর উর্মিলা। উর্মিলা বেডে শুয়ে ছিল, ফালাককে দেখেই ওর চোখমুখ হিংস্রতায় ভরে উঠল। তড়িৎগতিতে উঠে বসে চিৎকার করে উঠল ।
“তোমার এতো বড় সাহস! তুমি এখানে কেন এসেছ? আমার চোখের সামনে থেকে দূর হও !”
ফালাক ধীরপায়ে উর্মিলার বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। চোখে আছে এক অটল দৃঢ়তা।
ফালাক ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল—
“কেন আসব না আপু? সম্পর্কে তো আপনি আমার ননদ হন, ননদ হাসপাতালে ভর্তি থাকলে ভাবি হিসেবে দেখতে আসাটা কি আমার দায়িত্ব নয়?”
‘ভাবি’ শব্দটা উর্মিলার কানে বিষের মতো লাগল। দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “ভাবি! সাদ তোমাকে দয়া করে রেখেছে, ভুলে যেও না!”
ফালাক এবার উর্মিলার খুব কাছে গিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বলতে শুরু করল—
“শুনুন আপু, দয়া আর অধিকারের পার্থক্যটা আপনি কোনোদিন বোঝেননি বলেই আজ হাসপাতালের এই বেডে শুয়ে আছেন। আমি আপনাকে একটা চূড়ান্ত ওয়ার্নিং দিতে এসেছি। আমার হাসব্যান্ডের জীবন থেকে আপনি চিরতরে মুছে গেছেন। সাদ মির্জা আপনার অতীত, আর আমি উনার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। আপনি সুযোগ পেয়েছিলেন উনার মতো একটা হীরাকে আগলে রাখার, কিন্তু আপনি সেটা হারিয়েছেন আপনার নোংরামি দিয়ে। নিজের পাপের বোঝা অন্যের ওপর চাপাবেন না।”
উর্মিলা কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ফালাক ওকে থামিয়ে দিয়ে আরও তেজস্বী গলায় বলল—
“খবরদার! আমার আর আমার হাসব্যান্ডের মাঝখানে আসার চেষ্টা করবেন না।
“আমি আজ এখানে এভাবে কেন এসেছি জানেন?
কারণ আমার কাছে এখন সবটাই ক্লিয়ার। আমার মনে আর কোনো সংশয় নেই। সাদ মির্জা আমাকে ভালোবাসে, শুধু ভালোই বাসে না—আমাকে তার জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়।
“আমি জানি উনি আমাকে নিয়ে কতটা প্রোটেক্টিভ। উনি জানলে হয়তো আজ আপনার লাশ এই হাসপাতাল থেকে বের হতো। কিন্তু আমি চাই না উনার হাতে আপনার মতো অপবিত্র রক্ত লাগুক। আমি এখানে এসেছি আমার অধিকারের জায়গাটা বুঝিয়ে দিতে। উনি আমাকে চায়, আমি উনাকে চাই—আমাদের এই অটুট বন্ধনের মাঝে আপনি এখন স্রেফ এক অবাঞ্ছিত কঙ্কাল। নিজেকে গুছিয়ে নিন আপু। চলি।
বের হওয়ার আগে দরজার কাছে গিয়ে একবার পেছন ফিরে তাকাল।
“আমার অনাগত সন্তনের জন্য দোয়া করবেন।
উর্মিলা রাগে জ্বলছে ভিতরে ভিতরে। এদিকে সাদ……
চলবে –
#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

