ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব____________৩৫

0
19

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব____________৩৫

নীলা আর রিমার সাথে বসে গল্প করছিলো ফালাক। ফালাক বসে আছে আর নীলা রিমা বলছে ওদের কি কি দিলো এবারের ঈদে।। বিশেষ করে আয়ান নীলার জন্য একটা সুন্দর ড্রেস কিনে এনেছে এটাও বলছিলো।
ফালাকের এবার ঈদে অনেক গুলো ড্রেস হয়েছে। আগে তো আর ফালাক এতো ড্রেস ঈদে পায় নি। বিয়ের আগে ফালাক এর ঈদ কোনো ঈদ কেটেছে পুরোনো ড্রেস পরেই আবার কোনো ঈদ কেটেছে কম দামি ড্রেস পড়ে। তার ভাবি তার পিছনে সেভাবে কোনো টাকা খরচ করতে দিতো না।
এইবার ফালাক এর অনেক গুলো ড্রেস হয়েছে। আয়ান,ঈশান ফালাকের জন্য ড্রেস এনে দিয়েছে। ফালাকের শাশুড়ি ও দিয়েছে। ফালাকের শশুর হাতে টাকা দিয়েছে বলেছে মন মতো কিনে নিতে। দুই চাচাশশুর ও ফালাক কে দিয়েছে।
ফালাকের নিজেকে আগে অভাগী মনে হতো এখন আর মনে হয় না। সে তো ভাগ্যবতী, তা না হলে এমন একটা পরিবার তার হতো। মনে মনে ভাবছিলো ফালাক।

_______________

সাদ বিছানায় আধশোয়া হয়ে এক হাতে ফোন টিপছে, কিন্তু ওর পুরো মনোযোগ আসলে ফোনের স্ক্রিনে নেই। আড়চোখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ানো ফালাককে দেখছে।
ফালাক ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারগুলো একের পর এক খুলছে আর বন্ধ করছে। চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি!
সাদ ফোন থেকে চোখ না তুলেই জিজ্ঞেস করল—

“কী খুঁজছো এতো রাত করে?

আমার একটা নূপুরটা খুঁজে পাচ্ছি না। বিকেলের দিকে খুলে এখানেই কোথাও রেখেছিলাম, এখন একটা আছে কিন্তু অন্য জোড়াটা একদম গায়েব!”
সাদ কোনো উত্তর দিল না। নির্বিকার ভঙ্গিতে আবার ফোনের দিকে তাকাল, যেন নূপুর হারানোটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। ফালাক আরও কিছুক্ষণ ড্রেসিং টেবিলের ওপরের পারফিউমের বোতল আর অর্নামেন্টস বক্সগুলো হাতড়ে হাতড়ে দেখল। কোনো লাভ হলো না।
ফালাক হাল ছেড়ে দিল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল। ফালাক চোখের আড়াল হতেই সাদ ফোনের স্ক্রিনটা অফ করে দিলো।
ঠোঁটের কোণে তখন এক চিলতে বিজয়ী হাসি। সাদ ট্রাউজারের পকেটে হাত দিল। আঙুলের ছোঁয়ায় ঠান্ডা ধাতব কিছুর স্পর্শ পেল । পকেট থেকে বের করে আনল ফালাকের সেই নূপুরটা।
নূপুরের ছোট ছোট ঘুঙুরগুলো ঝিলিক দিয়ে উঠল। সাদ নূপুরটা চোখের সামনে ধরে কিছুক্ষণ দেখল।
ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। সাদ বিদ্যুৎবেগে নূপুরটা আবার পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলল। ওআবার আগের মতো নির্বিকার হয়ে ফোনে মন দিল। ফালাক তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে এল।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালো, আয়নায় ফালাকের প্রতিচ্ছবি দেখে সাদের হাতের ফোনটা মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। মুখ ধুয়ে আসার পর ফালাকের ফর্সা মুখটা এখন দুধে-আলতা রঙ ধারণ করেছে। নাকের ডগায় পানির ছোট ছোট কণাগুলো হীরের দানার মতো চিকচিক করছে।
সাদ বিছানা থেকে উঠে ধীরপায়ে ফালাকের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ায় । ফালাক তখনো তোয়ালে দিয়ে ঘাড়ের কাছের পানি ছিটেছিলো, মুছছে । আয়নায় সাদের প্রতিচ্ছবি দেখে ফালাক থমকে গেল। সাদের চোখের চাউনি আজ বড্ড অন্যরকম—গাঢ়, নেশাতুর,তীব্র।
সাদ কোনো কথা না বলে ফালাকের হাত থেকে তোয়ালেটা কেড়ে নিয়ে পাশে সরিয়ে রাখল। ফালাকের ভেজা চুলের মিষ্টি সুবাস আর ভেজা ত্বকের শীতলতা সাদের স্নায়ুতে আঘাত করছে। সাদের পুরুষালি ঘ্রাণ আর শরীরের উত্তাপ ফালাককে মুহূর্তেই দিশেহারা করে দিল।

… কী করছেন? সরুন…”

সাদ সরলো না। বরং ফালাকের মুখটা নিজের দুই হাতের আঁজলায় ভরে নিল। সাদ তার বৃদ্ধাআঙ্গুল দিয়ে ফালাকের ভেজা ঠোঁটের ওপর দিয়ে ধীরলয়ে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। সাদের স্পর্শে ফালাকের সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল যেন ।
সাদ মুখ নিচু করে ফালাকের কপালে, দুই চোখের পাতায় আর গালের পানির বিন্দুগুলোতে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। ফালাকের দম বন্ধ হয়ে আসছে, সাদের শার্টের কলারটা শক্ত করে খামচে ধরল। সাদের একেকটা স্পর্শে ফালাকের শরীরের ভেতর যেন হাজারটা বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে।
সাদ এবার ফালাকের ঘাড়ের বাঁকটায় নিজের মুখ গুঁজল। সাদের নিশ্বাস ফালাকের সংবেদনশীল ত্বকে আগুনের মতো জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে যেন । ফালাক অস্ফুট স্বরে শব্দ করছে , সে শব্দ যেন সাদের ভেতরের তৃষ্ণাকে আরও বাড়িয়ে দিল। সাদের ঘন হয়ে আসা নিশ্বাস আর ফালাকের হৃদপিণ্ডের দ্রিম দ্রিম শব্দ।
সাদ আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। ফালাকের কাঁপতে থাকা ঠোঁটদুটোর ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল । সেই স্পর্শে কোনো রুক্ষতা ছিল না, ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা এক তৃষ্ণার বহিঃপ্রকাশ যেন । সাদের এই অতর্কিত গভীর চুম্বনে ফালাক প্রথম কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে রইল, দুচোখ বড় বড় হয়ে গেল। কিন্তু সাদের বলিষ্ঠ হাতের বেষ্টনী আর শরীরের উত্তাপ ওকে মুহূর্তেই অবশ করে দিল।

সাদের চুম্বনে আজ এক ধরণের নেশা ছিল। যেন ফালাকের ঠোঁট থেকে ওর সবটুকু অভিমান, সবটুকু ভয় আর সবটুকু না বলা কথা শুষে নিতে চাইল। ফালাকের শরীরের প্রতিটি কোষে এক অদ্ভুত বিদ্যুৎ বয়ে যাচ্ছে । হাত দুটো অজান্তেই সাদের ঘাড় পেঁচিয়ে ধরল। সাদের শার্টের কাপড়টা ফালাকের আঙুলের চাপে কুঁচকে যাচ্ছে।
সাদ ফালাককে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। ঘরের নিস্তব্ধতায় শুধু ওদের দুজনের ভারী হয়ে আসা নিশ্বাসের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সাদ ফালাকের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। পরক্ষনে হুশ আসতেই দূরে সরে যায়।

_______________
ফালাক আলমারি থেকে নিজের একটা কাপড় বের করতে গেল, তখনই ওর নজর আটকালো এক কোণে রাখা একটা দামী শপিং ব্যাগের ওপর। কৌতূহল সামলাতে না পেরে ফালাক ব্যাগটা বের করল। ভেতরে হাত দিতেই ওর আঙুলে ঠেকল খুব নরম,কাপড়ের স্পর্শ।

ভাঁজ খুলতেই ফালাকের চোখ ধাঁধিয়ে গেল। একটা অপূর্ব গোল্ডেন কালারের শাড়ি, যার সারা গায়ে সুক্ষ্ম সুতোর কাজ রোদের আলোয় ঝিলমিল করে উঠছে। শাড়িটা এতোটাই আভিজাত্যপূর্ণ যে ফালাক কয়েক মুহূর্ত ওটার দিকে তাকিয়েই রইল।

“এটা কে আনলো এখানে আবার? মা নাকি অন্য কেউ দিয়ে গেল?”

ঠিক তখনই পেছন থেকে সাদের কণ্ঠস্বর ভেসে এল—

“আমি!”

ফালাক চট করে পেছনে ফিরল। সাদ দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এক হাত পকেটে। ওর মুখে সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য থাকলেও চোখের দৃষ্টিতে আজ এক অদ্ভুত নরম ভাব।

“আপনি? মানে… আপনি আমার জন্য এটা কিনেছেন?”

সাদ ধীরপায়ে ফালাকের সামনে এসে দাঁড়ালো। শাড়িটার ওপর ফালাকের সরু আঙুলগুলো যখন আলতো করে হাত বোলাচ্ছিল, সাদ সেই দৃশ্যটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল।

“হুম “!

ফালাকের মনটা এক লহমায় খুশিতে ভরে উঠল। এতো এতো ড্রেস জমেছে, কিন্তু সাদের দেওয়া এই একটা শাড়ি যেন অন্যসব উপহারকেও হার মানিয়ে দিল। সাদ নিজ থেকে ওর জন্য কিছু পছন্দ করে এনেছে—এই ভাবনাটাই ফালাককে এক অন্যরকম তৃপ্তি দিচ্ছে।
ফালাক শাড়িটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে । সারা শরীরের ভেতর দিয়ে একটা প্রশান্তির ঢেউ বয়ে গেল।

চলবে~~

#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here