ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ #পর্ব_________________৩৬

0
19

#ফালাক #লেখিকা_ইনায়া_জারিশ
#পর্ব_________________৩৬

চাঁদ রাত মানেই এক অন্যরকম উন্মাদনা।সারা মাস রোজা রাখার পর এই একটা রাত যেন সারা বছরের জমানো সব আনন্দ উশুল করে নেওয়ার জন্য আসে। মির্জা বাড়িতেও আজ সেই খুশির আমেজ আকাশছোঁয়া। শহরজুড়ে আতশবাজির শব্দ আর রঙিন আলোর ঝিলিক বলে দিচ্ছে—কাল ঈদ! বাড়ির প্রতিটি কোণ আজ উৎসবের সাজে সেজেছে। আকাশে সরু বাঁকা চাঁদটা দেখা দেওয়ার পর থেকেই মির্জা বাড়িতে খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সারা বাগান থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত মরিচ বাতির রঙিন আলোয় ঝলমল করছে। টিভির ভলিউম বাড়িয়ে ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’ গানটা বাজছে, যা চাঁদ রাতের আমেজকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।চারদিকে আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল। বাড়ির ছোটরা বাজি ফুটিয়ে আনন্দ করছে, আর বড়রা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। কিন্তু ফালাকের কাছে এই চাঁদ রাতটা অন্য সব বছরের চেয়ে আলাদা। আজ তার মনের আকাশে এক অন্যরকম চাঁদের আলো ছড়াচ্ছে—সেই আলোটা আর কেউ নয়, স্বয়ং আরহাম সাদ মির্জা।

মির্জা বাড়ির বিশাল ছাদে আজ এলাহি কারবার। ছাদটাকে মরিচ বাতি আর রঙিন লণ্ঠন দিয়ে সাজানো হয়েছে। মাঝখানে বড় একটা শতরঞ্চি বিছানো, যেখানে আড্ডা আর মেহেদি পরার আসর বসেছে। মীরা আর নীলা সেই বিকেল থেকেই অস্থির। সাথে যোগ দিয়েছে ফারদিন আর পরিবারের অন্য সব কাজিন ভাই-বোনেরা । ফারদিনের জোরালো হাসিতে পুরো ছাদ মুখরিত।
রিমা, নীলা, আর মীরা—তিনজনে মিলে মেহেদির বিশাল আয়োজন নিয়ে বসেছে। সাথে কাজিনরা ফারদিন আর তার একদল বন্ধু-বান্ধব। ফারদিনের কাজই হলো সারাক্ষণ হাসাহাসি আর হুল্লোড় করা।

নীলা : “উফ! এবার কিন্তু একদম লেটেস্ট অ্যারাবিক ডিজাইন দেব। ভাবি, তোমার হাতটা দাও তো আগে, তোমার হাতটা ফর্সা, নকশাটা যা ফুটবে না!”

ফালাক হাসতে হাসতে জাজিমের ওপর বসল। মীরা একটা কোলবালিশ টেনে ফালাকের হাতের নিচে দিয়ে দিল যাতে ওর কষ্ট না হয়। ২ মাসের প্রেগন্যান্সি যদিও ফালাক তাই একটু সাবধানে রাখে সবসময় ফালাককে। চারপাশের এই উদ্দীপনা দেখে ফালাক নিজের সব ক্লান্তি ভুলে গেছে।

মীরা : “একদম নখ থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত ভরাট করে ডিজাইন করে দেব। ফারদিন ভাইয়া, তুমি শুধু আড্ডা দিলেই হবে না, আমাদের জন্য একটু ভালো মিউজিক চালাও তো!”

ফারদিন : “আরে মিউজিক তো চলবেই! তোরা মেহেদি লাগা!

রিমা নিজের হাতে অলরেডি গোল করে একটা মান্দালা ডিজাইন করে ফেলেছে।
ফালাক মুগ্ধ হয়ে দেখছিল মীরার হাতের কাজ। মীরা খুব নিপুণভাবে ফালাকের হাতের তালুতে একটা নকশা তুলছে। চিকন জালি কাজ আর সূক্ষ্ম লতাপাতায় ফালাকের হাতটা ধীরে ধীরে এক জীবন্ত ক্যানভাস হয়ে উঠছে।
ফারদিন নিচ থেকে ট্রে হাতে ফিরে! “এই যে ম্যাডামরা, গরম ফুচকা আর চটপটি হাজির! এতক্ষনে আয়ান, ঈশান ও হাজির!
সবাই মিলে একসাথে আড্ডা আর খাওয়ার এই দৃশ্যটা ফালাকের চোখে জল এনে দিল। বিয়ের আগের চাঁদ রাতগুলো ছিল ওর কাছে নিঃসঙ্গ আর মলিন। কোনোমতে একটা নতুন জামা জোগাড় হতো কি হতো না। কিন্তু আজ অন্যরকম!
ছাদের এক কোণে আতশবাজির রোশনাই আকাশটাকে রাঙিয়ে দিচ্ছে। ফালাক আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “আল্লাহ, আমার এই পরিবারটাকে সবসময় এমন হাসিখুশি রেখো।”

চাঁদ রাতের আড্ডা তখন শেষের দিকে। গভীর রাত, চারপাশটা বেশ শান্ত হয়ে এসেছে। ছাদের এক কোণে আরামদায়ক জাজিমের ওপর হেলান দিয়ে গল্প করতে করতে ফালাক কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, ও নিজেও জানে না। ফালাকের সাথে সাথে আরও দু-একজন ও ওখানেই চোখ বুজেছে।

সাদ নিজের ঘরে বসে সিগারেট খাচ্ছিল। ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
নীলার কণ্ঠস্বর “ভাইয়া, আসব?”
সাদ হাতের সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে চেপে ধরল।

“হুম, এসো।”

নীলা ভেতরে ঢুকে ইতস্তত করে বলল—
“ভাইয়া, ভাবি ছাদে ঘুমিয়ে পড়েছে। অনেক রাত হয়েছে তো, আমরা সবাই নিচে নেমে আসছি। আপনি গিয়ে ভাবিকে নিয়ে আসবেন? আমি আর ভাবীকে ডাকলাম না, খুব গভীর ঘুমে আছে মনে হলো।”

সাদ ঘড়ি দেখল। রাত আড়াইটা বাজে। ওকোনো কথা না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের শার্টের হাতা দুটো একটু গুটিয়ে নিল। তারপর নীলার সাথে ছাদের দিকে পা বাড়াল।
ছাদে গিয়ে দেখল মরিচ বাতিগুলো এখনো জ্বলছে, কিন্তু লোকজন সব যার যার ঘরে চলে গেছে। ফারদিন আর বাকি কাজিনরাও আড্ডা শেষ করে বিদায় নিয়েছে। শুধু ফালাক এক কোণে বালিশে মাথা দিয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। দুহাতে মেহেদি তখনো শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে।

সাদ ফালাকের একদম কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। চাঁদের মায়াবী আলো আর নিবু নিবু লণ্ঠনের আভায় ফালাকের ফর্সা মুখটা আজ বড্ড নিষ্পাপ লাগছে। ঘুমের ঘোরে ও একটু কুঁকড়ে আছে, হয়তো রাতের হিমেল বাতাসে ওর একটু শীত লাগছে।
সাদ খুব সাবধানে, ফালাককে নিজের পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। ফালাক ঘুমের ঘোরেই সাদের প্রশস্ত বুকে নিজের মুখটা একটু ঘষে নিল, যেন অবচেতন মনেই ও বুঝতে পেরেছে এটা ওর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
সাদ ফালাককে নিয়ে ধীরপায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল। নীলা পাশ থেকে সাদের এই রূপ দেখে মনে মনে হাসল। যে সাদ মির্জা সারাক্ষণ গম্ভীর হয়ে থাকে, সে আজ নিজের স্ত্রীকে কতটা আগলে রাখছে!
রুমে ঢুকে সাদ ফালাককে খুব সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিল। মেহেদি মাখানো হাত দুটো বালিশের পাশে এমনভাবে রাখল যাতে রঙ নষ্ট না হয় বা ফালাকের কপালের ওপর এসে পড়া কয়েকটা অবাধ্য চুল সাদ আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিল।

“বড্ড ছেলেমানুষ!

সাদ জানালাটা বন্ধ করে এসি-র তাপমাত্রা কমিয়ে দিল।সাদ একটা পাতলা নরম চাদর টেনে নিল। খুব সাবধানে ফালাকের গায়ের ওপর সেটা বিছিয়ে দিয়ে নিজেও সেই একই চাদরের নিচে ঢুকে পড়ল। এসির হালকা ঠান্ডায় চাদরের ওমটুকু এখন খুব আরামদায়ক লাগছে। ফালাক গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!
সাদ ধীরে ধীরে মুখটা নিচু করে ফালাকের গলার ভাজে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল। ফালাকের শরীরের পরিচিত ঘ্রাণ—যা কেবল সাদের জন্যই এক ধরণের নেশা তৈরি করে। সাদের নিশ্বাস ফালাকের সংবেদনশীল চামড়ায় আছড়ে পড়ছে। ঘুমের ঘোরেই ফালাক একটু নড়েচড়ল, সাদের প্রশস্ত বুকের উষ্ণতা পেয়ে অবচেতন মনেই ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ।
সাদ ফালাকের গলার কোমল ত্বকে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো। ফালাকের চিবুকের কাছে নিজের নাকটা ঘষল। সাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে আজ শুধু ফালাকের অস্তিত্ব। ফালাককে নিজের বুকের সাথে নিবিড়ভাবে মিশিয়ে নিয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল।

_______________
সাদের ঘুম ভাঙলো।পাশে হাত বাড়াতেই দেখল বিছানার পাশটা খালি। ফালাক নেই।
সাদ উঠে বসে একবার চারপাশটা দেখে নিল। রুমটা পরিপাটি,! সাদ আর দেরি করল না। সরাসরি ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে বের হলো। কোমরে তোয়ালে জড়ানো, চুলে পানির বিন্দুগুলো চিকচিক করছে।
আলমারি খুলতেই দেখল ইস্ত্রি করা নতুন সাদা রঙের পাঞ্জাবি আর পায়জামাটা খুব সুন্দর করে রাখা।এগুলো তার বউয়ের কাজ। মেয়েটার সবদিক খেয়াল থাকে। সাদ দ্রুত তৈরি হয়ে নিল। পাঞ্জাবির হাতা দুটো ঠিক করতে করতে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল, তখনই নিচে থেকে আয়ানের ডাক শোনা গেল।

“ভাইয়া! কত দেরি করবে? আব্বু আর চাচারা সবাই চলে গেছে । ঈদের জামাত শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। জলদি নামো!”

সাদ দ্রুত চুলে চিরুনি চালিয়ে নিল। ড্রয়ার থেকে দামী আতরের শিশিটা বের করে কবজিতে আর পাঞ্জাবিতে লাগিয়ে নিল। জায়নামাজটা কাঁধে ফেলে রুম থেকে বের হয়, মনটা ছটফট করছিল ফালাককে একবার দেখার জন্য।
নিচে নামার সময় ড্রয়িং রুমের কাছে আসতেই সাদের নজর আটকে গেল। ফালাক সেখানে মায়ের সাথে কোনো একটা কাজে ব্যস্ত।
ঠিক সেই মুহূর্তে দুজনের চোখাচোখি হলো। সাদকে এই পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় দেখে ফালাকের চোখ যেন জুড়িয়ে গেল। সাদকে আজ অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে অনেক বেশি রাজকীয় আর সুদর্শন লাগছে। সাদের চওড়া বুক আর গম্ভীর ব্যক্তিত্ব ফালাকের হৃদস্পন্দন এক পলকের জন্য থামিয়ে দিল। সাদও আড়চোখে একবার ফালাকের সেই মায়াবী মুখটা দেখে নিল !
সাদ আর দাঁড়ালো না। আয়ান আর ঈশানের সাথে মসজিদের দিকে রওনা দিল। ফালাক দ্রুত ড্রয়িং রুম থেকে নিজের রুমের বেলকনিতে চলে এল। ওপর থেকে দেখল সাদ ধীরপায়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সাদের হাঁটার ভঙ্গি, আভিজাত্য—সবকিছুই ফালাককে মুগ্ধ করে ।
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ফালাক মুচকি হাসল। মনে মনে বলল, “ঈদ মোবারক আমার রাজকুমার ।”

____________

নামাজ শেষ করে একে একে সবাই বাড়ি ফিরতে শুরু করল। সদর দরজা দিয়ে সবাই হাসিমুখে ভেতরে ঢুকল। ড্রয়িং রুমটা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠল। ফালাক দাঁড়িয়ে ছিল, চোখ দুটো দরজার দিকে স্থির—খুঁজছে সেই বলিষ্ঠ মানুষটাকে।

কিন্তু সবাইকে দেখলেও সাদের দেখা পাওয়া গেল না। আয়ান ভেতরে ঢুকে সোফায় ধপাস করে বসে পড়ল। ফালাক এগিয়ে গিয়ে খুব নিচু স্বরে আয়ানকে জিজ্ঞেস করল—
ফালাক: ” উনি কোথায়? ওনাকে তো দেখছি না।”

আয়ান এক গ্লাস পানি টেনে নিয়ে বলল—
“ভাইয়া আসবে ভাবি। মসজিদের সামনে কার সাথে যেন দেখা হলো, জরুরি কী একটা কাজ আছে বলল। আমাদের বলল তোরা যা, আমি একটু পরে আসছি।”
ফালাকের মনটা মুহূর্তেই দমে গেল। ঈদের সকাল, সবাই একসাথে টেবিলে বসবে, অথচ সাদের কোনো খবর নেই। “সাদ যখন বলেছে পরে আসবে, তখন ও আসুক।
বাড়ির সবাই মিলে হইহুল্লোড় করে খেতে বসল। হাসাহাসি, গল্প আর ঈদের সালামি নিয়ে কামড়াকামড়িতে পুরো ঘর মুখরিত।
সবাই খাওয়া শেষ করে যার যার রুমে চলে গেল একটু জিরিয়ে নিতে।

___________

মীরার চঞ্চলতায় পুরো ঘরটা যেন মেলা হয়ে উঠেছে। ও মামাবাড়ি যাবে সালামি নিতে, আর এই যাওয়ার আগে সাজগোজের যে বিশাল আয়োজন, তাতে কিন্তু ওর একার সাজে মন ভরছে না, তিন ভাবিকেই ওর পাশে চাই।

মীরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনবরত চিল্লিয়ে যাচ্ছে। ওর সাজের সরঞ্জাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিছানাময়। রিমা আর নীলাও চলে এসেছে। ফালাকও ওদের সাথে যোগ দিল।

“তোমরা তিনজন মিলে আমাকে এমনভাবে রেডি করো যাতে ওখানকার সব কাজিনরা ঈর্ষায় জ্বলে মরে!”

রিমা হাসতে হাসতে মীরার চুল বেঁধে দিচ্ছে ।

মীরার রুম থেকে বের হতেই করিডোরে সাদের মায়ের সাথে দেখা হয়ে গেল ফালাকের।

“ফালাক, সাদ ফিরেছে। মাত্রই ঘরে গেল। ও তো কিছুই খায়নি। এক কাজ করো, তুমি ওর খাবারটা বেড়ে ঘরে দিয়ে আসো।”

“না থাক, তোমার এখন এই অবস্থায় দরকার নেই। তুমি যাও, আমি মিনুকে বলছি ও দিয়ে আসবে।”

“না মা, আমি পারবো। মিনুকে বলতে হবে না।”

“না ফালাক, শরীরটার দিকে তো তাকাতে হবে।”

কিন্তু ফালাক দমবার পাত্রী নয়। সে নিজ হাতেই রান্নাঘর থেকে সাদের জন্য প্লেটে গরম খিচুড়ি, কষানো মাংস আর সালাদ বেড়ে নিল। ঘরের দিকে গেলো।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখল সাদ সাদা পাঞ্জাবিটা পরেই বিছানায় বসে আছে। ফোনে কারোর সাথে কথা বলছিল। ফালাক আসায় একবার চোখ তুলে তাকালো। ফালাকের ফর্সা হাতে মেহেদির গাঢ় খয়েরি রঙটা যেন আগুনের মতো জ্বলছে। এই রঙ আর ফালাকের স্নিগ্ধ মুখটা সাদের অস্থির মনকে এক নিমেষে শান্ত করে দিল।

ফালাক খাবারটা রেখে যখন ফিরে যেতে যাবে, তখনই সাদের ভারী কণ্ঠস্বর ঘরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো—

“দাঁড়াও!”

ফালাক দাঁড়িয়ে গেল। সাদ ফোনটা পাশে রেখে ফালাকের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকালো।

তুমি খাইয়ে দাও।”

ফালাক একটু অবাক হলো। ফালাক আর না করতে পারল না। সাদের পাশে বসে এক লোকমা খিচুড়ি আর মাংস মেখে সাদের মুখের সামনে ধরল।
মেহেদি রাঙা সুন্দর আঙুলগুলো সাদের ঠোঁট স্পর্শ করল, সাদ অপলক দৃষ্টিতে ফালাকের দিকে তাকিয়ে রইল। ফালাক খুব যত্ন করে ওকে খাইয়ে দিচ্ছে।
সাদের মনে মনে তৃপ্তি, শান্তি অনুভব করছে।

__________
ফালাক শাওয়ার শেষ করে বের হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো!, রুমটা তখন একদম নিঝুম। সাদ বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আধোঘুমে ছিল। কিন্তু হঠাৎ চোখের পাতা খুলতেই ওর দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল ফালাকের ওপর। আয়নায় ফুটে ওঠা ফালাকের মোহময় প্রতিচ্ছবি দেখে সাদের ঘুম এক নিমেষে উধাও।

সাদের দেওয়া গোল্ডেন আর অ্যাশ কালারের মিক্সড শাড়িটা ফালাকের অঙ্গে আজ যেন এক নতুন প্রাণ পেয়েছে। শাড়ির কারুকাজগুলো ফালাকের ফর্সা ত্বকের সাথে মিশে এক রাজকীয় আভা তৈরি করেছে। কানে দুল আর গলায় চিকন সোনার চেইনটা ওর সৌন্দর্যকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলেছে। মেহেদি রাঙা হাত দুটোতে চুড়ি।
সাদ বিছানায় শুয়ে শুয়েই অপলক দৃষ্টিতে ফালাককে দেখছিল। সাদের মনে হলো, এই মেয়েটা প্রতিদিন কীভাবে এতোটা মায়াবী হয়ে ওঠে! ফালাক যখন চুলগুলো একপাশে সরিয়ে ক্লিপ লাগাতে গিয়ে পেছনে ঘুরল, তখনই সাদের তীক্ষ্ণ, নেশাতুর দৃষ্টির সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল।
সাদের অমনভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে ফালাক একটা শুকনো ঢোক গিলল। বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। চাইল দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যেতে, কিন্তু সাদের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম।
সাদ এক মুহূর্ত দেরি না করে বিছানা থেকে বিদ্যুৎবেগে উঠে এল। ফালাক দরজার দিকে পা বাড়াতেই সাদ ওকে এক প্রকার দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরল। ফালাক কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাদ ওকে পাঁজাকোলা করে বিছানার মাঝখানে নিয়ে এসে, নিজের প্রশস্ত বুকের ওপর টেনে নিল।
হঠাৎ এই অতর্কিত আক্রমণে ফালাকের শ্বাস আটকে আসার উপক্রম । ফালাক সাদের বুকের ওপর ঝুঁকে আছে, আর সাদের দুই হাত ফালাকে শক্ত করে ধরা। ফালাকের ভেজা চুলের কয়েকটা অবাধ্য গোছা সাদের মুখের ওপর এসে পড়ায় সাদের দৃষ্টি কিছুটা আচ্ছন্ন হলো। সাদ খুব ধীরলয়ে নিজের আঙুল দিয়ে সেই চুলগুলো সরিয়ে ফালাকের কানের পিঠে গুঁজে দিল।

“কোথায় পালাচ্ছিলে?
ফালাক লজ্জায় সাদের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না।

… ছাড়ুন, কেউ দেখে ফেলবে। আমাকে নিচে যেতে হবে।”

সাদের দুই হাতের বেষ্টনীতে ফালাক তখন পুরোপুরি বন্দী। বুকের ওপর ফালাকের দ্রুত হৃদস্পন্দন স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছে। ফালাকের ভেজা চুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আর মেহেন্দির সুবাস মিশে সাদের মস্তিস্কে এক ধরণের নেশা ধরিয়ে দিয়েছে। শাড়ির আঁচলটা আধো-খোলা অবস্থায় বিছানায় লুটিয়ে আছে,
সাদ ফালাকের কানের পিঠে চুলগুলো গুঁজে দিয়ে ওর গালের ওপর নিজের হাতের তালু রাখল। ফালাক আষ্টেপৃষ্টে মিশে আছে সাদের বলিষ্ঠ শরীরের সাথে। ফালাকের কাজল মাখানো চোখের পাতাগুলো কাঁপছে। ফালাক অস্ফুট স্বরে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু শব্দগুলো ওর গলাতেই আটকে গেল।
ফালাকের কম্পিত ঠোঁটদুটোর ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরল সাদ ।
ফালাক প্রথম কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে রইল, দুহাত সাদের পাঞ্জাবির কলারটা শক্ত করে খামচে ধরল। কিন্তু সাদের চুম্বনের তীব্রতা মুহূর্তেই ওকে অবশ করে দিল।
ঘরের জানালার পর্দাগুলো বাতাসে দুলছে!
অনেকক্ষণ পর সাদ যখন ফালাককে ছাড়ল, ফালাক তখন জোরে জোরে হাঁপাচ্ছে। ফালাকের ফর্সা মুখটা লাল হয়ে আছে। সাদের চোখের নেশাতুর দৃষ্টি তখনো ফালাকের ওপর স্থির। সাদ ফালাকের কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে রইল।

“ঈদের সালামি দিলাম “!

ফালাক লজ্জায় আর কথা বলতে পারল না। সাদের প্রশস্ত বুকে নিজের মুখ লুকিয়ে ফেলল।

চলবে ~~❤️

#everyonefollowers #উপন্যাস #উপন্যাসপ্রেমী #গল্পফ্যাক্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here