এমপি নওশাদ মির্জা ক্লাবের রুমে আটকে তাও একটা বোরকা পড়া মেয়ের সাথে ! কথাটা ছড়িয়ে গেলো পুরো ক্লাবে ।মেয়েটা একপাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে , এমপি নওশাদ মির্জা এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন হুর কে খেয়ে ফেলবে ।
মেয়েটা তার চশমাটা ঠিক করে মুখের মাস্ক টা ঠিক করে নিল । মিডিয়ায় লোকেরা হামলে পড়েছে । নওশাদ এর পিএ আয়ান নওশাদ এর পাশে এসে কানে ফিসফিস করে বলল – স্যার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে এখন কি করবো ? মেয়েটা কে ? দেখে তো কোনো ফকির মিসকিন মনে হচ্ছে আবার কমবয়সী ও মনে হচ্ছে।
নওশাদ তার পিএ এরকম কথায় কটমট করে তাকালো ।রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো । রক্তচক্ষু নিয়ে হুরের দিকে তাকালো । মেয়েটার চোখ পানিতে টলমল করছে । কিন্তু তা নওশাদ এর কাছে নাটক বৈকি অন্য কিছু মনে হচ্ছে না ।
এদিকে মিডিয়ায় লোকজন বিভিন্ন প্রশ্ন করে চলেছে ।এসব প্রশ্ন শুনে নওশাদ এর রাগ আরোও বেড়ে যাচ্ছে।
নওশাদ হুরের দিকে তাকিয়ে বললো- এই মেয়ে এদিকে আয় ।
হুর আরোও গুটিয়ে গেলো ।যেন নওশাদ এর সামনে গেলে ওর প্রান চলে যাবে ।
নওশাদ এবার ধমকে উঠলো – তুই এদিকে আসবি না আমি তোকে এখানে মেরে ফেলবো? সিদ্ধান্ত তোর।
হুর এগিয়ে আসতেই নওশাদ হুমকির স্বরে বললো – তুই বাইরে গিয়ে বলবি তুই আমার বউ।ঠিকাছে?
হুর চমকে তাকালো , কিছু যে বলবে কথাও মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না ।
নওশাদ এবার হুরের চোয়াল চেপে ধরলো , হুরের শ্বাস বন্ধ হয়ে এলো ।মনে হলো এখানেই মৃত্যু হবে ।মনে মনে আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া পড়ে নিলো ।
শরীর যেন সায় দিচ্ছে না , পড়ে যেতে নিলে সামলে নিল ।এই প্রথম কোনো পুরুষ তাকে ছুঁয়েছে ।ঘৃনা হলো নিজের উপর, আল্লাহর পথ থেকে সরে এসেছে বলেই কি এতো অপমান? আল্লাহ তাকে এই শাস্তি দিচ্ছে।
হুর তওবা করে নিল মনে মনে ।ঢাকা এসে বন্ধু বান্ধব দের প্ররোচনার ফল এটা । নতুন শহরে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে নিজের সাথে বেইমানি করে ফেললো হুর ।
– ছে, ছে ছেড়ে দিন দয়া করে আমি বলতে রাজি ।
বলেই অজ্ঞান হয়ে গেলো হুর , কোমল শরীর খানা আর কিছু সহ্য করতে পারলোনা। নওশাদ বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকালো হুরের দিকে এই মেয়ে কতো ভয়ঙ্কর তাকে আরোও বিপদে ফেলতে চাইছে ।
বাহিরে প্রেস মিডিয়ার মানুষ দাঁড়িয়ে আছে । নওশাদ তার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কে নতুন চাল চেলে ফেললো । এখানে থেকে বাহির হওয়ার রাস্তা এখন এই মেয়েই । পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিয়ে।বুক ফুলিয়ে বাইরে চলে এলো ।
সবার প্রশ্ন কে উপেক্ষা করে জোড় কন্ঠে বললো- প্লিজ সাইট দিন আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে ।
সকলের মুখে বিষ্ময় ছড়িয়ে পড়লো । নওশাদ মির্জার স্ত্রী! এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি কি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন?
একজন এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলো- স্যার আপনি কবে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন? ইনি কি সত্যিই আপনার স্ত্রী? হলেও তা লুকিয়েছেন কেন ?
নওশাদ তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিলো না ,হুর কে নিয়ে গটগট করে বেরিয়ে গেলো ।
….
– আয়ান কাজি নিয়ে আয় ফাস্ট,আর এই মেয়েটার ডিটেইলস আগামী পাঁচ মিনিট এর মধ্যে চাই আমার।কে পাঠিয়েছে এই মেয়েকে জানতে হবে ।টাকার জন্য এসব ছোটো লোকেরা অনেক কিছুই করতে পারে ।
আয়ান অবাক হলেও কিছু বললো না , নওশাদ তাকে চাকরি থেকে বার করে দিলে চাকরি খুঁজতে খুঁজতে মরে গেলেও চাকরি পাবে না । এডুকেশনাল ব্যাগ্ৰাউন্ড যাচ্ছে তাই ।নেহাত ফুফাতো ভাই তাই এই চাকরি টা পেয়েছে ।
আয়ান চলে গেলো কাজি আনতে ।
এদিকে কিছুক্ষন পর নওশাদ এর মোবাইল এ আয়ান সব ইনফরমেশন সেন্ড করে দিল। নওশাদ তাকিয়ে দেখলো –
নাম: হুর সুলতানা
বাবার নাম: ফারুক সুলতান
মা : মনিরা সুলতানা
বয়স:বিশ ।
পারিবারিক অবস্থা: গরীব।
বাড়ি:খুলনা
ইডেন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের স্টুডেন্ট।
………….
আরোও অনেক ইনফরমেশন ছিল , কিন্তু প্রথম ছয়টা বিষয় পড়ার পর আর কিছুই পড়লোনা ।
কিছুক্ষন পর কাজী নিয়ে আসলো আয়ান। নওশাদ হুর কে কোলে নিয়ে মির্জা ভিলায় প্রবেশ করলো ।বাড়ির সকলে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল । মধ্যবয়সী সুন্দরী একটা মহিলা এগিয়ে আসলেন।
মেহেরিন মির্জা,ইনি হলো নওশাদ এর মা।
মেহেরিন মির্জা – নওশাদ,এটাই সেই মেয়েটা না? ওকে এখানে কেনো নিয়ে এসেছো তুমি।
নওশাদ – মা একে এর প্রাপ্য শাস্তি দিতে । এখন একে বিয়ে করাটা জরুরি,কাগজ টা থাকলে আর এই মেয়েটা থাকলে বিপদের আশংকা থাকবে না ।
মেহেরিন মির্জা নাকমুখ কুঁচকে ফেললো- ছিঃ ছিঃ এই গেয়ো , ছোটো লোক মেয়েটাকে দেখেই তো বমি আসছে ,একে বিয়ে করবে ? তাও তুমি ?
নওশাদ একবার হুরের দিকে তাকালো এরপর রেগে বললো- তো কি করবো ? একে মেরে ফেললে আরোও সমস্যায় পড়তে হবে ।কারা যেন নজর রাখছে ।
মেহেরিন মির্জা কিছু বললো না শুধু বললো- যা ইচ্ছা করো , কিন্তু কাজ শেষে ছুড়ে ফেলে দিবে ।এসব মেয়েরা খুব ভয়ঙ্কর হয়।
…
মুখের উপর পানি ছুড়ে মাড়তেই পিটপিট করে চোখ খুললো হুর ,মাথাটা ঝিমঝিম করছে ।চোখ মেলতেই আলিশান ড্রয়িংরুম নজর কাড়লো ।
সামনে তাকিয়ে দেখলো নওশাদ এর হাতে পানির জগ । মাস্ক এর উপর পানি পড়ার কারনে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।মাথা চেপে ধরে উঠে বসলো হুর ।
ওর সাথে কি করবে এই লোকটা ? মেরে ফেলবে নাকি? ভাবতেই ফুঁপিয়ে উঠলো ।
নওশাদ হুঙ্কার দিয়ে উঠলো- এই মেয়ে নাটক বন্ধ করে চুপচাপ কবুল বলে নে ।
হুর আঁতকে উঠলো – কবুল কেন বলবো? আমাকে যেতে দিন প্লিজ,আমি আর কখনোই আপনার সামনে আসবো না ।ক্ষমা করে দিন ।
নওশাদ কাজীর দিকে তাকিয়ে বললো- আপনাকে কি নাটক দেখতে আনা হয়েছে? দ্রুত কাজ শেষ করুন। খবরদার এই খবর যেন একটা কাকপক্ষীও টের না পায় ।পেলে আপনাকে আমি কি করবো তা তো জানেন ই ।
এরপর হুরের দিকে তাকিয়ে কোমড়ে গোঁজা পিস্তল বের করে হুরের মাথায় ধরে বললো – তোর মুক্তি নাই ,মরে গেলেই ছাড় পাবি । এখন কবুল না বললে তোকে মেরে একদম মাটির নিচে পুঁতে ফেলবো ।
হুর কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো- দে..দেখুন এভাবে বিয়ে হয় না , ইসলাম এ এভাবে বিয়ে জায়েজ নাই । উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে হওয়া দরকার।
আরোও কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু নওশাদ হুর এর দিকে এমন ভাবে তাকালো যে চুপ করতে হলো ।
এরপর তিন কবুল বলে নিজের অনিচ্ছা তে বিয়ে হয়ে গেলো একটা অচেনা পুরুষ এর সাথে ।
নওশাদ হুরের হাত ধরে টানতে টানতে স্টাফ রুমে নিয়ে ছুড়ে ফেললো – তুই এখন থেকে এবাড়ির সব কাজ করবি ,ছোটো লোক কোথাকার,আর আমার মেয়ের দেখাশোনা করবি ।কোনো কাজে ফাঁকি দিতে দেখলে জান নিয়ে নেব একদম ।
নওশাদ কথাগুলো বলতেই হুর অবাক হয়ে বললো- মেয়ে? আপনি বিবাহিত?
নওশাদ বিরক্ত হয়ে বললো – হ্যাঁ বিবাহিত আর একটা মেয়েও আছে যাকে তুই সৎ মা দেখাশোনা করবি একজন কাজের লোক হিসেবে ।যা সর চোখের সামনে থেকে ।
হুর কে ডিঙিয়ে অন্য একটা স্টাফ কে বললো- রুমি ওকে ওর কাজ বুঝিয়ে দিবে ।
চলবে,,,,,,
#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (সূচনা পর্ব)
রেসপন্স পেলে কন্টিনিউ করবো।নাহলে পরবর্তী পর্ব আসবে না।
মিহিকা রোজা- Black Rose (লেখিকা)

