#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৬|
#শার্লিন_হাসান
নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে মানুষগুলোর মাঝে। কেউ কোন টু শব্দ করছে না। আদনান নিজেও চুপসে গেছে। বাকীরা যে যার মতো উঠে চলে যায় ভেতরে। শুধু ইলমা বসে রয়। মৃদু বাতাস চোখেমুখে এসে বা’রি খাচ্ছে। তৃপ্তি দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সাথে আছে আদনান। তৃপ্তি কিছুক্ষণ চুপ থেকে আওড়ায়, ‘ সবাই চলে গেছে। ভেতরে চল।’
ইলমা ধ্যাণ ভঙ্গ করে তৃপ্তির দিকে তাকায়। আদনান বিরক্তি নিয়ে দেখছে দুজনকে। কিন্তু কোন কথা বলছে না। আদনানকে স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে ইলমার রাগ হয়। সবসময় উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে সব নষ্ট করে দেয়। যেখানে যাবে সব লণ্ডভণ্ড করে দিবে। তৃপ্তি আদনানকে দেখে বলে, ‘তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? ব্যবহার তো শেখোনি জীবনে।’
‘এই চোপ। মেলিচার নাটক দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছি এখনো।’
‘প্লিজ চলে যাও। তোমাকে দেখলেই আমার মনে বিতৃষ্ণা জমে, ঘৃণা লাগে।’
ইলমার কথায় আদনান জবাব দেয়না। শুধু এক পলক তাকায় ইলমার মুখপানে। মেঝেতে দৃষ্টি স্থাপন করে কিছুক্ষণ থাকে। এরপর বড় বড় পা ফেলে স্থান ত্যাগ করে। তৃপ্তি ইলমাকে পুনরায় বলে, ‘ভাইয়া সেভাবো বলতে চায়নি। মন খারাপ করিস না। এই না যে তোর ওনার কথা মনে পড়ে না। আই হোপ আজকের দিনে তাকে একটু বেশি মনে পড়ার কথা ।’
ইলমা জবাব দেয়না। সূক্ষ্ম দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তৃপ্তির পেছন দিয়ে ভেতরে যায়। সবাই বসে আছে ভেতরে। ইলমা তৃপ্তি গিয়ে নিজেদের সীটে বসে। আদনান ফোনে ধ্যাণ দিয়ে রেখছে। খাবার আসতে সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দেয়।
সবার আগে খাওয়া শেষ করে আদনান। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তাড়ায় আছে। খাওয়া শেষ হতেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে যায় কোথাও।
★★★
কালো রঙের স্লিভলেস টপস পড়া। হাঁটুর উপর অব্দি টপস, পায়ে কালো রঙের হিল গলানো। ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আছে জেভিন। সাথে আছে তার দু’টো ফ্রেন্ড। জেভিন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তার দু’জন বান্ধবীকে বলে, ভেতরে চলে যেতে। সেও আসছে। দু’জনে আর দেরি করেনি ভেতরে গিয়ে ড্রিংকস হাতে ডান্স করা শুরু করে দেয়।
আদনান আসতে জেভিন হাফ ছেড়ে বাঁচে। এগিয়ে গিয়ে আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে, ‘বেইব, এতো টাইম ওয়েস্ট করলে কেন?’
‘ফ্যামিলির সাথে ছিলাম। ডোন্ট ওয়ারি,এখন বাকী সময় তোমার আর আমার।’
আদনানের কথায় জেভিন হাসে। দুজন ভেতরে যায়। ড্রিংকস হাতে নিয়ে চিয়ার্স করতে আদনান ঢকঢক করে গিলে নেয় নেশা পানীয়। জেভিনও তার ব্যতিক্রমে যায়নি। দু’জনেই দুষ্টু পানি খেয়ে ড্যান্স করতে চলে যায়। আদনানের এক হাত জেভিনের কোমড় ছুঁয়েছে। অন্য হাত জেভিনের হাতের আঙুলের ভাঁজে।
কিছুক্ষণ ড্যান্স উপভোগ করার পর আদনান জেভিনকে ছেড়ে দেয়।
চোখমুখ আবছা হয়ে আসছে। জেভিন নিজেও নেশার ঘোরে আছে। আদনান জেভিনকে ‘বায়’ বলে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে মারে। হেলেদুলে ক্লাবের বাইরে আসে। অন্ধকার চোখে-মুখে নির্মাণের নাম্বারে কল দেয়। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর রিসিভ করতে আদনান নেশাগ্রস্ত কন্ঠে বলে, ‘এ্যাই নির্মাণ ***** ক্লাবে আছি। তুই চলে আয়য় আমাকে বাসায় যেইতে হবেএ।’
কথাটা বলে কল কেটে ফোন পকেটে ঢুকায় আদনান। কিছুক্ষণ পর সিএনজি থেকে নেমে আসে নির্মাণ। আদনানকে দেখে তাড়াতাড়ি আসে। কাঁধে হাত রেখে বলে, ‘এই অবস্থায় বাসায় যাবি?’
‘তাহলে কী শ্বশুর বাড়ি যাবও? বাইক স্টার্ট দেএ।’
কথাটা বলে চাবি নির্মাণের হাতে দেয়। নির্মাণ চাবি হাতে ঢোক গিলে। সে কী ভালো করে বাইক চালাতে পারে নাকী। আজকে একটা ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটবে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। নির্মাণ চাবি হাতে নিয়ে বলে, ‘আমাদের নতুন ফ্লাটে চল। আগামী কাল বাসায় যাস। এখন এই অবস্থায় গেলে সমস্যায় পড়বি।’
নির্মাণের কথায় আদনান বিরক্ত হয়। টান দিয়ে চাবি নেয়। বাইকে বসে বাইক স্টার্ট দেয়। নির্মাণ বারণ করছে তাও শুনছে না আদনান। বাইক নিয়ে সোজা বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয় সে।
এদিকে নির্মাণ সিএনজি একটা ধরে আদনানের পিছু নেয়। শেজানকেও টেক্সট করে দেয় আসার জন্য। চিন্তায় ঘাম ছুটে যায় নির্মাণের। না জানি কী হবে! এই আদনানটা একটু বেশি বেপরোয়া।
চোখেমুখে আঁধার নেমে আসছে তাও চোখ খোলা রেখে বাইক চালাচ্ছে আদনান। সামনে থেকে আসছে একটা কার। বাইক একসাইড করে চালাতে গেলেও দুর্ঘটনা ঘটেই যায়। কারের সাথে ধাক্কা লেগে বাইক সহ পিচঢালা রাস্তায় পড়ে যায় আদনান। হাত পা ছিলে গেছে। কিন্তু তার হুঁশ নেই সেসবে। চোখ দু’টো বন্ধ করে অচেতন হয়ে যায়।
গাড়ি থেকে নেমে আসে একজন ভদ্রলোক এবং তার ড্রাইভার। রাস্তায় পড়ে তাকা আদনানের কাছে যায়। ভদ্রলোক আদনানকে ডাক দেয় অনেকবারে। আদনানের কানে সে আওয়াজ গেলেও কোন রেসপন্স করেনা।
পেছন দিয়ে নির্মাণ আসে। আদনানকে পড়ে থাকতে দেখে কপাল চাপড়ায়। যেটা ভেবেছে ঠিক সেটাই হয়েছে। আদনানের সামনে বসে হাত চেক দেয়। রক্ত বেরুচ্ছে। ভদ্রলোক নির্মাণকে দেখে বলে, ‘তুমি ওর কী হও?’
‘বন্ধু।’
‘ওকে আমার গাড়িতে তোল। হসপিটাল নিতে হবে।’
নির্মাণ মাথা নাড়ায়। ড্রাইভার সহ ধরে গাড়িতে বসায়। আদনান অচেতন হওয়ায় ভদ্রলোক বুঝতে পারেনি নেশা করে এমন হয়েছে। ভেবেছেন চোট বেশি পাওয়ায় অজ্ঞান হয়ে গেছে। নির্মাণও এসব নিয়ে কথা বাড়ায়নি। শেজান আসতে বাইকের দায়িত্ব দিয়ে, আদনানের সাথে গাড়িতে বসে নির্মাণ। ভদ্রলোক চিন্তিত স্বরে বলেন, ‘আজকালকার ছেলেপেলে গুলো বাইক চালানোর সময় হুঁশে থাকেনা।’
‘ও তো তেমন স্পিডে চালায়নি বাইক।’
‘তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু বাইক ডানে চাপালে কী এমন হতো?’
‘আপনার ড্রাইভার খারাপ। চেঞ্জ করে নতুন নেন।’
ভদ্রলোক তার ড্রাইভারের দিকে তাকায়। ড্রাইভার ভয়ে আছে। না জানি এবার তার চাকরি নট হয়ে যায়। কী এক আপদের সাথে ধাক্কা লাগতে গেলো। ভীতি হাতে গাড়ি চালাচ্ছে ড্রাইভার। পথ জেনো ফোরাচ্ছে না। নির্মাণ বিরক্ত হয় গাড়ি চালানো দেখে। পুনরায় বলে, ‘আমি ভুল কিছু বলিনি আংকেল। দেখুন না গাড়ি এমন ধীরে চালাচ্ছে জেনো গাড়ি ব্যাথা না পায়।’
ভদ্রলোক বিরক্তিতে ‘চ’ উচ্চারণ করেন। ড্রাইভারকে ইশারা দেয় গাড়ি তাড়াতাড়ি চালানোর জন্য। তখন রাত অলমোস্ট সাড়ে বারোটার উর্ধ্বে। একটা হসপিটালে নিয়ে এডমিট করানো হয় আদনানকে। হাত পা ড্রেসিং করিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।
ভদ্রলোক বিল দিয়ে নির্মাণকে বলেন, ‘আমি আগামী কাল আবার আসব। এখন বাসায় যাচ্ছি। তোমার বন্ধুর খেয়াল রেখো।’
নির্মাণ আশ্বাস দেয়। ভদ্রলোক চিন্তামুক্ত হয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়। এদিকে আদনান পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। নির্মাণ ও পাশের বেডে শুয়ে পড়ে।
পরের দিন সকাল আটটায় শেখ পরিবারে খবর আসে আদনান বাইক এক্সিডেন্ট করেছে। এই নিয়ে তারেক মাহমুদের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি নাশতা সেরে নিজের কাজে চলে যান। ঈশিতা রেডি হয়। ফরিদা পারভীন অলরেডি কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। তার নাতির কী হলো। কী দরকার ছিলো বের হওয়া। তৃপ্তি, ইলমাও তৈরি হয় হসপিটালে যাবে বলে। দুজনে যাবে আদনানকে দেখতে।
ফাইজা ইসলাম রান্নাবান্না সামলাবেন সেজন্য তিনি বাসায় থেকে গেছেন। ইজাজ হসপিটাল থেকে আদনানকে দেখে স্কুলে যাবে। সেজন্য সেও বাবা, দাদির সাথে রওনা দিয়েছে।
নার্স এসে আদনানকে দেখে গেছে। ডক্টর এখনো আসেনি। এদিকে আদনানের এখনো ঘুম ভাঙেনি। নেশা কেটেছে কি-না সন্দেহ। নির্মাণ নার্সকে বলে দিয়েছে, নেশার কথা যাতে কাউকে না বলে।
বাইরে থেকে নাশতা খেয়ে এসছে নির্মাণ। আদনানের নাশতা সাথে করে নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করে। তার পেছন দিয়ে ইনান মাহমুদ এবং বাকীরা আসে। নির্মাণ এবার চিন্তায় পড়ে যায়। ফরিদা পারভীন আদনানের কানের কাছে বিলাপ জুড়ে দিয়েছেন। ঈশিতা ছেলেকে একবার পরোখ করে নির্মাণের দিকে কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে, “কীভাবে হয়েছে?”
“কারের সাথে ধাক্কা লেগেছে।”
“বলদটা এভাবেই মরবে। চোখ তো পকেটে রেখে বাইক চালায়।”
ঈশিতার ঝাঁঝালো কন্ঠে নির্মাণ ঢোক গিলে। ইনান মাহমুদ আদনানকে কয়েক বার ডাকে। কোন রেসপন্স নেই। ফরিদা পারভীন ও ডাকেন। সবাই মিলে ডাকাডাকি করার পরেও চোখ মেলেনি আদনান। ইনান মাহমুদ নির্মাণকে বলেন, “ও নেশা করে টাল-মাতাল হয়নি তো?”
“আরেহ্ আংকেল কী বলছেন এসব। ও ক্লাবে যায়নি। আমার বাসায় গিয়েছিল আর্জেন্ট থাকায়। ফেরার পথেই দূর্ঘটনা।”
কথাটা বলে নির্মাণ আদনানকে বকতে শুরু করে, ‘হালারপো! তাড়াতাড়ি উঠ। একটু পর তোর জন্য আমি না কট খেয়ে বসে থাকি।’
বিড়বিড় করে আদনানের কানের কাছে যায় নির্মাণ। ফরিদা পারভীন চিন্তিত হয়ে বলেন, “কী হলো নাতিটার।”
তৃপ্তি আওড়ায়, “ভাইয়ার সত্যি কিছু হয়ে যায়নি তো?”
মেয়ের কথায় ঈশিতা ধমকে বলেন, “কী সব আবোলতাবোল বকছ। মাথা গেছে নাকী?”
ধমক শোনে তৃপ্তি চুপসে যায়। ঈশিতা গলার স্বর উঁচু করে বলেন, “আদনান উঠো। তোমার নাটক দেখে সময় নষ্ট করার মুড কারোর নেই।”
“আরেহ্ আন্টি ও সিরিয়াস প্যাশেন্ট। আপনি নাটক বলছেন?”
নির্মাণের কথায় ঈশিতা বিরক্ত হয়ে বলে, “আমার ছেলেকে আমি হারে হারে চিনি।”
নির্মাণ মহাবিপদে আছে। আদনানের কানের কাছে গিয়ে বলে, “দোস্ত দেখ, গতকাল রাত থেকে এখন অব্দি তোর সেবা করা নার্সটা সুন্দর। একবার চোখ মেলে দেখ শুধু। কী সুন্দর তার হাসি।”
সাথে সাথে চোখ মেলে তাকায় আদনান। নির্মাণ কপাট রাগ দেখিয়ে বলে, “শ্লা মেয়েবাজ।”
আদনানের চোখ কিছুটা কাল হয়ে আছে। হাত পায়ের ব্যথায় বেচারা বড়তে পারছেনা। ফরিদা পারভীন উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, “আমার নাতি চোখ খোলছে। নির্মাণ কী মন্ত্র কইছিলা? আমারেও শিখাই দাও।”
নির্মাণ আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, “তেমন কিছুনা। একটা সূত্রর ব্যাখ্যা বলেছিলাম।”
“কী সূত্র?”
ফরিদা পারভীনের কথায় নির্মাণ বলে, “বিজ্ঞানী নির্মাটনের দ্বিতীয় সূত্র।”
সবাই নির্মাণের দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান ব্যথায় কোন শব্দ করছে না। শুধু বাকীদের দিকে একনজর তাকায়। চোখ যায় ইলমার দিকে। ইলমা এসেছে তাকে দেখতে। কিন্তু কেন আসলো? সে তো আদনানকে ঘৃণা করে। আদনান বিড়বিড় করে বলে, “নাটকবাজ।”
ইনান মাহমুদ, বিদায় নিয়ে ইজাজকে সাথে করে বেরিয়ে যায়। ঈশিতা,তৃপ্তি এবং ইলমা সোফায় বোসে আছে। নির্মাণ পাশের বেডে বসা। ফরিদা পারভীন নাতিকে মুখ ধুইয়ে দিচ্ছেন নাশতা খাওয়ার জন্য। বাকীরা সেসব দেখছে। নাশতা খেয়ে ঔষধ খেয়ে নেয় আদনান।
গতকাল রাতে যার গাড়ির সাথে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই ভদ্রলোক এসেছে আদনানকে দেখার জন্য। সাথে খাবার,ফলমূল ও এনেছে। আদনানকে দেখে ভদ্রলোক বলেন, “এখন কেমন আছো?”
“হাত পায়ে ব্যাথা নিয়ে মানুষ কেমন থাকে? ওইরকমই আছি।”
আদনানের কথায় ভদ্রলোক নারাজ। ছেলেটা সোজাসাপটা ভদ্র ভাবে জবাব দিতে পারেনা। তাকে সোফায় বসার জন্য জায়গা করে দেওয়া হয়। ভদ্রলোক সোফায় বসে আদনানকে পরোখ করে বলেন, “আজকে বাসায় চলে যাবা। নাকী থাকতে চাও।”
“হসপিটালে ভালো মানুষ থাকে নাকী। আমি চলে যাচ্ছি বাসায়।”
“বেশ তো।”
আদনানের সাথে কথা শেষ করে নির্মাণকে জিজ্ঞেস করেন, “কোন অসুবিধা হয়নি তো?”
“না আংকেল। আপনার ড্রাইভার চেঞ্জ করেছেন তো?”
“না।”
চোয়াল শক্ত করে জবাব দেয় ভদ্রলোক। ঈশিতা এবং ফরিদা পারভীনকে দেখে বলেন, “সালাম। আমি রায়হান আজাদ। গতকাল আমার গাড়ির সাথেই অ্যাক্সিডেন্ট করেছে আদনান।”
নির্মাণ এসে আদনানের পাশে বসে। বিড়বিড় করে বলে, “উনি রিয়ানার বাবা নয়তো?”
“সর। উল্টাপাল্টা ভাবি আর লা’থি মারব।”
“হালারপো। নাম দেখ। রায়হান আজাদ, রিয়ানা আজাদ। শেষমেশ শ্বশুরের গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছিস। হোয়াট এ্যা কো ইন্সিডেন্ট।”
“চুপ থাক।”
বিরক্তি নিয়ে বলে আদনান। রায়হান আজাদ আদনানকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি স্টুডেন্ট নাকী জব হোল্ডার?”
“পার্ট টাইম স্টুডেন্ট, মেইন টাইমে মেয়ে ইভটিজিং করি। আই লাইক দিস প্রফেশন।”
আদনানের কথায় সবাই হতাশ হয়। রায়হান আজাদ আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাননি। এই ছেলের লাজলজ্জা বলতে কিছুই নেই। সেজন্য নিজেরটা খোয়ানোর আশা নেই। তাই চুপ থাকাই শ্রেয়। ঈশিতা ছেলের বেয়াদবিতে রাগান্বিত হোন। অসুস্থ থাকায় কিছু বলেননি।
ইলমা নিরব দর্শকের মতো ভূমিকা পালন করছে। চিন্তায় আছে, কখন আবার আদনান তার পেছনে পড়ে। রায়হান আজাদ বিল পে করে আসেন। আদনানকে ধরে নির্মাণ এগোয়। সামনে বাকীরা হাঁটছে। তাদের সামনে আবার তৃপ্তি এবং ইলমা। আদনান ইলমাকে রাগানোর জন্য বলে, “কিয়ো প্রেমিকনারী, আমার প্রতি ঘৃণা কমে গেছে নাকী?”
ইলমা বিরক্ত হয়। তীব্র ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে, “এরপর এই নাম উচ্চারণ করলে দ্বিতীয় বারের মতো হসপিটালে এডমিট করানোর ব্যবস্থা করব। ব্রেইনলেস কোথাকার।”
“হাঁটুর সমান মেয়ে, তুই আমাকে থ্রেট দেস?”
“তোর মতো লাইফলেস আমি দুটোও দেখিনি।”
“এ্যাই মেলিচার বাচ্চা তুই তোকারী করবি না।”
“মাতাল, ঠিকঠাক হেঁটে গাড়ি অব্দি আয়।”
কথাটা বলে তৃপ্তিকে নিয়ে জোর কদমে হাঁটা ধরে ইলমা। নির্মাণ আদনানকে বলে, “ওরে লাড়া দিতে যাস ক্যান?”
“শ্লীর তেজ বেশি।”
আদনানের কথা শেষ হতে নির্মাণ করুণার সুরে বলে,
“মেলিচার সাথে আমার প্রেমের ব্যবস্থা করে দে। প্রমিস সব ধান্দাবাজি ছেড়ে দেব।”
“ওয়েট, একটু পর রাস্তায় ললিতাদের দেখা পাব। আশা করি তোর জন্য প্রেমে রাজী হয়ে যাবে।”
“কোন ললিতা?”
“থার্ড জেন্ডার।”
“শ্লা হারামি।”
কথাটা বলে আদনানের পিঠে জোরে কিল বসায়। নির্মাণের অবস্থা দেখে আদনান হাসে।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

