#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৭|
#শার্লিন_হাসান
রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আকাশের গর্জন এবং ঝুপঝুপ বৃষ্টি কিছুটা থেমেছে। তবুও মাঝেমধ্যে ভয়ংকর রকমের ডাক দেয় আকাশ। ইলমা পড়ার টেবিল ছেড়ে উঠেছে দশটায়। তৃপ্তিরা কল দিয়ে জানিয়েছে আজকে আর আসছেনা। তবে আগামী কালকে বিকেল নাগাদ চলে আসবে। ইলমা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আদনানের রুমের দিকে যায়। দরজা নক করলে কোন সাড়াশব্দ পায়না। সাতটার দিকে আদনান ঘুমিয়েছিলো। ইলমা রুম থেকে বেরোনোর সময় লাইট অফ করে দিয়েছিল। হয়ত এখনো হয়তো উঠেনি। ইলমা অনুমতির জন্য বসে থাকেনি। রুমে ঢুকে লাইট অন করে। নজরে আসে কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমন্ত আদনানকে। ঠোঁট ফুলে অসম্ভব লাল হয়ে আছে। চোখের পাতা বন্ধ। দেখে মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে তলানো। গাল এখনো লাল হয়ে আছে। কাটা জায়গায় ঔষধ লাগায়নি হয়ত। ইলমা এগিয়ে আসে। আদনানের নাম ধরে বার কয়েক ডাক দেয়। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ পায়না। ইলমা কাঁপা কাঁপা হাতে আদনানের কপালে হাত রাখে। মূহুর্তে জেনো তার ঠান্ডা হাত ছ্যাৎ করে উঠলো। কপাল পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। ইলমা হতভম্ব হয়ে যায়। আদনানকে ডেকে জাগিয়ে তোলে। ঘুমের মাঝে ডাকাডাকি আদনানের অপছন্দ। ইলমার ডাকা ডাকিতে চোখ মেলে তাকায়। সারা অঙ্গপতঙ্গ ব্যাথায় বিষিয়ে আছে। মুখটা তেঁতো মনে হলো। দাত মুখ খিঁচে ইলমাকে বলে, “ডাকছিস কেন?”
“ভাত খাবে। এখনো ঔষধ খাওনি। জ্বর এসেছে তোমার।”
“আমার যে জ্বর এসেছে তুই কী করে বুঝলি?”
আদনানের এমন প্রশ্নে ইলমা বিরক্ত হয়। ধমকে বলে, “চোখ মুখ দেখেই বোঝা যায়। বেশি প্যানপ্যান করলে খবর আছে। খাবার খেতে আসো।”
“তোর কথা আমি কেন শোনবো?”
“ঠিক আছে। না খেলে নাই।”
কথাটা বলে ইলমা চলে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। আদনান পুনরায় ডাক দেয়। ইলমা পেছন ঘুরে দাঁড়ায়। ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “ডাকছ যে?”
“হেল্প কর। খিদে পেয়েছে।”
আদনানের কথায় ইলমা মেঝেতে দৃষ্টি রেখে ঠোঁট টিপে হাসে। ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায়। আদনান বা হাত এগিয়ে দিলে ইলমা সেটা আঁকড়ে ধরে। ইলমার সাহায্য নিয়ে আদনান উঠে দাঁড়ায়। নিজে থেকে ইলমার হাত সরিয়ে নেয়। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে। ভীষণ রকমের জ্বলুনি হচ্ছে চোখে। আদনান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। ইলমা আদনানকে দেখছে। বেচারার অবস্থা পুরো নাজেহাল। অসুস্থতা ভালোই ধরেছে। আদনান জিজ্ঞেস করে, “দাদী আসেনি?”
“আগামীকাল বিকেলে আসবে।”
“অহ্। তাহলে সকালেই বাসা ছাড়তে হবে।”
“তুমি অসুস্থ।”
“চোপ। তুই এসব বুঝবিনা। কেউ বেরুতে দেখলে উল্টাপাল্টা ভাববে। সকালে গেলে কেউ দেখবেনা।”
“খাবার খেতে আসো।”
“তুই যা এখন।”
ইলমা চলে আসে। কিচেনে গিয়ে খাবারের প্লেট, গ্লাস সব টেবিলে আনে। আদনানের জন্য ফ্রিজ থেকে লেবু নামিয়ে সেটা কাটে। জ্বরের মুখে লেবু উপকারী হবে। সব রেডি করতে দেখে আদনান ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে আসে। হাত পা এবং মাথার ব্যাথায় ভালো লাগছে না কিছু। ইলমা চেয়ার টেনে দিতে আদনান বসে। হাত ধুয়ে নিতে ইলমা প্লেটে ভাত বেড়ে দেয়। আদনানের খেতে ইচ্ছে করছেনা। এতো বড় হয়েছে তারপরও বাচ্চাদের মতো করে আবদার করতে মন চাইছে। “খেতে ইচ্ছে করছেনা।” আদনান ইলমার দিকে একবার তাকায়। সে নিজের খাওয়ায় ব্যস্ত। আদনান খাবার মুখে তুলে জিজ্ঞেস করে, “রান্না তুই করেছিস?”
“হ্যাঁ। কেন ভালো হয়নি?”
“বুঝতে পারছিনা। সব তেঁতো লাগছে।”
“খেয়ে নেও। ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।”
আদনান কয়েক লোকমা খেয়ে পানি ঢেলে দেয়। ঔষধ খেয়ে ইলমাকে বলে, “আমি পাশের রুমে আছি। কিছু প্রয়োজন হলে বলিস।”
“তোমার নিজের সাহায্য দরকার। আমাকে কী করবে সাহায্য? ”
“মুখ বেশি চলে তোর। ভয় পেলে বলিস।”
“না, না ইলমা ভয় পায়….
কথার মাঝে জোরে বাজ পড়তে ইলমা ভয়ে মৃদু চিৎকার করে উঠে। আদনান বাঁকা হেঁসে বলে, ” বেশি চাপা মারবিনা। আমি তো জানি তুই একটা ভীতুর ডিম।”
কথাটা বলে আদনান রুমে চলে আসে। ইলমা টেবিল গুছিয়ে থালা প্লেট ধুয়ে নেয়। সব গুছিয়ে নিজের রুমে আসে। লাইট অফ করতে সব নিরব হয়ে যায়। ইলমার গা ছমছম করে উঠে। এতো নিস্তব্ধ সবকিছু তারউপর আকাশ গর্জন দিচ্ছে একটু পরপর। ইলমার কেন জেনো ভয় লাগছে। ব্যালকনি দিয়ে শোঁ-শোঁ করে বাতাস ঢুকছে রুমে। ইলমার দরজা লাগাতে মনে ছিলোনা। সন্ধ্যায় ব্যালকনিতে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে হাত ভিজিয়েছিলো। এরপর আর দরজা লাগায়নি। তড়িঘড়ি রুমের লাইট অন করে ব্যালকনির দরজা লাগায়। লাইট অফ না করেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। এপাশ-ওপাশ করেও চোখে ঘুম নামাতে পারেনি সে। তারউপর কেমন ভয় ভয় করছে তার।
আবার মন টানছে, আদনানের কী অবস্থা একটু দেখে আসা দরকার। তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। অনেক চেষ্টা করেও ঘুম আসেনি চোখে। আরনা রুমে মন টিকছে। শেষমেশ মনের চিন্তায় হেরে যায় সে। উঠে আদনানের রুমের দরজায় নক করে। দরজা খোলা দেখে ভেতরে যায় সে। আদনান এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েও পড়েছে? ইলমা আদনানের রুমে কিছুক্ষণ পায়চারি করে। একটা টুল টেনে বিছানার পাশে বসে। নজর যায় আদনানের পেশিবহুল পুরুষালি কাটা হাতে। টি-শার্ট হাতের পেশিতে খাপ খেয়ে আছে। তার নিচেই ছুড়ির কাটা লাল পিঁপড়ের মতো হনহন করছে। ঠোঁটে,গালে কাটা। সেসবে যত্ন নিয়ে ঔষধ লাগানোর প্রয়োজন মনে করেনি আদনান। ইলমা টুলে বসে, বিছানায় মাথা রাখে। মূহুর্তে কেঁপে উঠে ভয়ে। আকাশ গর্জন দিচ্ছে একের পর এক। থামার নাম-গন্ধ নেই।
ইলমার চোখ লেগে আসতে আদনানের গোঙরানোর আওয়াজ কানে আসে। ধরপড়িয়ে মাথা তোলে বোসে ইলমা। আদনানের হাত স্পর্শ করতে দেখে সেটা অসম্ভব গরম। কপাল চেক দিতে দেখে সেটা গরম হয়ে আছে। আদনানের মুখের দিকে তাকিয়ে ইলমার বেশ মায়া হয়। তারই তো জেঠুর ছেলে মানে তাঁদের একই বংশের রক্ত। অন্যরকম একটা টান অবশ্যই আছে। ইলমা উঠে ওয়াশেরুমে গিয়ে পানি আনে। খুঁজে সাদা কাপড়ের টুকরো বের করে সেটা দিয়ে আদনানের কপালে জলপট্টি দেয়। ইলমা বুঝতে পারছেনা সে আদনানের জন্য এতোকিছু কেন করছে? এই অসভ্য,বেয়াদব ছেলেটার জন্য বিরক্তি,বিতৃষ্ণা আর ঘৃণা ছাড়া কিছুই নেই। তবুও আজকে তার অসুস্থতা দেখে বড্ড মায়া হয়েছে। সেটাকে পরোপকারীতা হিসেবে ধরে নিয়েছে ইলমা।
কিছুক্ষণ জলপট্টি দেওয়ার পর ঘুমের ঝংকার চলে আসে। দেওয়াল ঘড়িতে নজর দিতে দেখে রাত আড়াইটা বাজে। চারপাশ সুনশান -নিস্তব্ধ। আকাশের গর্জন এখনো কমেনি। ইলমা শুধু ভাবছে যদি আজকে আদনান না আসতো, তাহলে সে কীভাবে থাকত? এরকম বৃষ্টিতে তৃপ্তি দাদী আসতো না নিশ্চয়ই। সে কীভাবে একা থাকতো? এখন তো তাও একটু ভরসা আদনান। ভয়টা কম হচ্ছে। তখন কী করতো? হুট করে ইলমার চুলের খোঁপা খুলে সারা পিঠে চুল ছড়িয়ে পড়ে। ইলমার কেনো জেনো ইচ্ছে হয়নি সেগুলো বাঁধার। এমনিতে ঘুম তারউপর অলসতাও কাজ করছে। টুলে বসে আদনানের হাতের পাশে মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়ে ইলমা।
ভোর সাড়ে ছয়টায় এলার্ম বাজতে আদনানের ঘুম ভাঙে। এলার্ম থামিয়ে ব্যাথায় অসার শরীর নিয়ে কাউচ থেকে উঠে বোসে। ফোনটা পকেটে নিয়ে বাসার চাবি হাতে নেয়। দু’টো চাবি, একটা ইলমার শিউরে রেখে আরেকটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে আসে আদনান। শরীরের ব্যাথা হালকা কমেছে তবে মাথাটা ভার হয়ে আছে। গেট পেরিয়ে কিছুটা সামনে আসতে দেখে শেজান বাইক নিয়ে দাঁড়ানো। আদনান বাইকের পেছনে উঠে বলে, “তাড়াতাড়ি চালা ভাই। নাহলে রাস্তায় পড়ে হাত-পা ভাঙতে হবে।”
“তোর মন মর্জি বুঝিনা। নিজের বাসা থেকে কেউ চোরের মতো পালায়?”
“আরে ভাই গতকাল হাতে ছুড়ি বসিয়েছে নারী দরদি জাতির পিতার লোক। এখন কবে বাসায় এসে হামলা চালায় কে জানে!”
“নারী দরদি জাতির পিতাটা আবার কে?”
“জয় পাকিস্তান।”
“জয় আবরণ?”
“হুম।”
আদনানের কথায় শেজান হো হো করে হেঁসে উঠে। মজার সুরে বলে, “সদরঘাটের প্রেমিকনারী এখন আবার নারী দরদি জাতির পিতা। জয় পাকিস্তান! আরো কত কী যে শোনব তোর থেকে।”
“ধুরু! মেয়ে দেখ বিয়ে করব।”
“কেন?”
“আমার সেবা করার মতো কেউ নেই। বিয়ে করলে বউ সেবা করবে।”
“আন্টি?”
“বউয়ের সেবার আশায় আছি। ভাবছি চার বিয়ে করব। একটা সেবা করে ক্লান্ত হলে আরেকটা সেবা করবে।”
“একটা কর আগে। সেটা সামলাতে পারলে বাকী তিনটার আশা করিস।”
আদনান জবাব দেয়না। শেজান বাইক টান দেয় জোরে। তাঁদের বাসার সামনে আসতে আদনানকে ধরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে। তাদের বাসা তিনতলায়। আদনান সিঁড়ি বাইতে বাইতে কত যে গালি দিয়েছে শেজানকে। বিরক্ত হয়ে বলে,
“তিনতলায় বাসাটা নিতে হলো? দোতালা,নিচতালায় কী ঠা’ডা পড়ছিলো? কোন কাজের না তোরা।”
“তোর হাড়গোড় দুর্বল সেজন্য আজকে এরকম করছিস।”
আদনান কথা না বলে ভেতরে যায়। শেজানের রুমে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। এখন সে নিশ্চিন্তে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। তার পরিবারের লোকের নাটকের শেষ নেই। যার দরুণ আদনান রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনি একটা চিন্তা ছিলো, কখন বাসা থেকে বেরুবে।
#চলবে
(হযবরল। মানিয়ে নিন সামনে স্পেশাল কিছু আসছে। যারা ভেবেছেন বিয়ে-শাদি এরকম কিছু হবেনা।)
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

