#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|২৪|
#শার্লিন_হাসান
নবদিনের সূচনা এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভূতি নিয়ে। প্রভাত বেলা, যখন সূর্য উঠে আকাশে নতুন রঙের ছটা ফেলে, তখন প্রকৃতি এক নতুন জীবনের মতো সজীব হয়ে ওঠে। পাখিরা গানে গানে তাদের দিন শুরু করে, আর বাতাসে ভেসে আসে মিষ্টি শীতলতা। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে স্নিগ্ধ আলো, আর দিনের প্রথম রশ্মি পৃথিবীকে আলোকিত করে তোলে। মানুষের মধ্যে একটা নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্নের অনুভূতি জাগ্রত হয়। নবদিনের সূচনা প্রকৃতির সঙ্গেই মানুষের জীবনে নতুন এক শক্তি এবং প্রেরণা নিয়ে আসে।
আজকেও ফজরের নামাজ আদায় করেছে আদনান। এলার্ম সেট করে সময় করে উঠে অজু করে। পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করে সে। আজকে ইনান শেখের সাথে দেখা হয়েছিল মসজিদে। আদনানকে পান্জাবি, টুপি পড়া অবস্থায় দেখে তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখাননি তিনি। বরং এড়িয়ে গেছেন।
সবাই মিলে সকালের নাশতা খেতে বসেছে। আজকে ইলমা সবার জন্য কফি বানিয়েছে। ফাইজা রুটি,ভাজি,জুশ খেলেও ইলমার বানানো কফি ছুঁয়েও দেখেনি। তাতে অবশ্য ইলমার মন খারাপ আসেনি। তার বাবা ইনান শেখ কফি খেয়েছে মানে ইলমার আর কিছু লাগবে না।
খাবার টেবিলেই তারেক মাহমুদ তৃপ্তিকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার রেজাল্ট দিবে কবে?”
তৃপ্তি প্রতিত্তোর করে, “চার-পাঁচ দিন পর।”
ইনান শেখ ইলমার দিকপ তাকান। ইলমা তখন কফিতে চুমুক দিচ্ছিলো। ইলমার দিকে নজর সরিয়ে আদনানের দিকে তাকায় ইনান শেখ। সে খুবই ভদ্র ছেলের মতো নাশতা করছে। কফি একবার শেষ করে আরেকবার নিয়েছে যেটা ইনান শেখের চোখ এড়ায়নি। এতোই যখন কফি স্বাদ লেগেছে তাহলে একটু প্রশংসাও করুক। কিন্তু আদনানের মতিগতি বোঝা মুশকিল। গতকাল থেকেই ইনান শেখ চিন্তিত। আদনানকে যেমন আগাগোড়া খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন তেমনি ইলমার চালচলনও লক্ষ্য করছেন। কিন্তু দু’জনের হাবভাব আগের মতোই।
ইনান শেখ ধরে নিয়েছেন, দু’জনেই গভীর জলের মাছ। তার চোখে ধূলো দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার ধারণা,চিন্তাতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছে।
ইলমার যেহেতু কলেজ নেই। সেজন্য নাশতা সেরে ঈশিতাকে কাজে হেল্প করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। তৃপ্তি টেবিল গোছানোর কাজে। ইনান শেখ মেয়েকে ডাকেন। ইলমা বাবার ডাক শোনে লিভিং রুমে আসে। আদনান সোফায় বোসে ইনান শেখকে পর্যবেক্ষণ করছে। ইলমা আসতে ইনান শেখে চোখ দিয়ে ইশারা করে রুমে যেতে। ইলমা মাথা নাড়ায়। নিজের রুমে যেতে ইনান শেখও পেছন দিয়ে প্রবেশ করে।
আদনান চিন্তিত ভঙ্গিতে বসে আছে। দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখছে। প্রাশ বিশ মিনিট পর ইনান শেখ এবং ইলমা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ইনান শেখের মুখ থমথমে। ইলমার মুখটা গম্ভীর এবং কালো করে রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে, কোনকিছু নিয়ে কথা হয়েছে বা ইলমাকে বকাঝকা করা হয়েছে টাইপের ব্যপার। আদনান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ইনান শেখ ইলমাকে ধমকানো বা বকা দেওয়ার লোক না। তার মেয়ে তার চোখের মধ্যমণি। কিন্তু হঠাৎ কী এমন বললো যে ইলমার মুখে অমাবস্যা রাতের ন্যায় আঁধার ঘনিয়ে আসলো।
আদনান আজকে ভার্সিটি যায়নি। উঠে নিজের রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। ভাবছে সেদিন রাতের কথা। আদনানের ঘুম ভাঙতে দেখে তার রুমে,বিছানার পাশে একটা টুলে বসে ঘুমাচ্ছিলো ইলমা। সরু লম্বা চুল সারা পিঠ ছড়িয়ে ফ্লোর ছোঁয়া ছোঁয়া অবস্থা। ইলমার ঘুমন্ত মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলো আদনান। শ্যামবর্ণ মুখশ্রীতে কী এমন যাদু ছিলো যে আদনান নজর ফেরাতে কষ্ট হয়ে পড়েছিলো। জেনো মনে হচ্ছিলো, এই শ্যামকন্যার ঘুমন্ত নিষ্পাপ মুখটা সারাজীবন চোখের সামনে থাকুক। আদনানের হৃদয়ের শান্তি তার প্রেমিকনারী। একটা টুলে বসে রাতে ঘুম যাওয়া কতটুকু শান্তি দায়ক আদনানের জানা নেই। এইদিকে হাতের ব্যাথা তার অবস্থা খারাপ। তারউপর উঠেছে জ্বর। কীভাবে ইলমাকে খাটে শোয়াবে? কিন্তু সে তো পুরুষ মানুষ! ইলমার মতো দেড়ব্যাটারী ওজনের মেয়েকে কোলে তুলে খাটে শোয়ানো যাবে না? আদনান শোয়া থেকে উঠে বোসে। ইলমাকে পাশ কাটিয়ে ওয়ারড্রবে সামনে যায়। তার ওয়ারড্রবে এক্সট্রা কম্বল ছিলো সেটা বের করে আনে। নিজের ব্যবহৃত কম্বলটা কাউচে রাখে। একনজর ইলমার দিকে তাকায় আদনান। তার চুলগুলো মাশা-আল্লাহ এতো সুন্দর। আদনানের ইচ্ছে করছে চুলগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার। সারাজীবন শর্ট হেয়ারের মেয়ে দেখে এসেছে সে। ইলমা অন্যসব মেয়েদের থেকে সত্যি আলাদা। তার চালচলন, পোশাকআশাক, চুল,ভদ্রতা,তেজ,পার্সোনালিটি আলাদা। আদনান নিজের ফোনটা হাতে নেয়। হোম স্ক্রীনে ইলমার সেদিন অবন্তীর গায়ে হলুদে তোলা খোলা চুলের ছবি। আর লক স্ক্রীনে ইলমারই একটা ছবি শাড়ি পড়া। ছবিটাতে বাচ্চা ইলমাকে দেখা যাচ্ছে। তখন ইলমা ষোড়শী কন্যা ছিলো। আদনান লুকিয়ে ছবিটা তুলেছিল। নিজের পাগলামির কথা ভেবে মৃদু হাসে আদনান। এগিয়ে আসে ইলমার সামনে। যেহেতু ডান হাত কাটা,বা হাতে মৃদু শক্তি আছে। সেজন্য ইলমাকে বা হাতের দিয়ে পাজ কোলে করে নেয়। ডান হাতের শক্তি কম ব্যবহার করেছে। খাটে শুইয়ে দিয়ে কম্বল গায়ে জড়িয়ে দেয়। নিজের দুর্বল শরীরটা নিয়ে কাউচে শুয়ে পড়ে আদনান।
এক পা ফ্লোরে পড়ে আছে তার। হাত একটা বুকে গোঁজা আরেকটা কপালের উপর দেওয়া। খারাপ লাগছে না। তবে বেডে ঘুমানোর মতো আরাম কোথাও নেই। কিন্তু একদিনের জন্য একটু সেক্রিফাইস করাই যায়।
ভাবনা ছেড়ে উঠে লিভিং রুমে আসে আদনান। তৃপ্তি বা ইলমা কাউকেই দেখা যাচ্ছেনা। আদনান ইলমার রুমের দরজার দিকে তাকায়। সেটা লক করা। আদনান ভ্রু কুঁচকে তাকায়। হলো কী ইলমার?
আদনানের ভাবনার মাঝে তৃপ্তি এবং দাদী আসে সেখানে। দাদী কলে কথা বলছে ফাতিহার সাথে। তৃপ্তি টিভি অন করে কার্টুন লাগায়। আদনান কার্টুন দেখে বিরক্ত হয়। বলে, “তুই কী বাচ্চা নাকী? বুড়ো বয়সে এখনো কার্টুন দেখছিস?”
“আরে ভাইয়া কার্টুন দেখতে বয়স লাগেনা।”
আদনান বিরক্তিতে ‘চ’ উচ্চারণ করে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তৃপ্তিকে জিজ্ঞেস করে, “মেলিচা কইরে?”
তৃপ্তি ইলমার রুমের দিকে তাকায়। সেটা লাগানো দেখে আদনানকে চোখ দিয়ে সেদিকে ইশারা করে। আদনান তাকায় না সেদিকে। একটু আগে দেখেছে এখন আবার তাকাবে কেন? পরে দেখা যাবে তৃপ্তিও সন্দেহ করছে তাকে। ফরিদা পারভীন কল কেটে আদনানকে বলে,
“ফাতিহা দোতলার একটা ফ্ল্যাটে উঠবো। কয়েকদিনের মধ্যেই জিনিসপত্র আনা শুরু করবো।”
আদনান জবাব দেয়না। তৃপ্তি বলে, “হঠাৎ?”
“কয়েকমাস ধরে বলছে এই বিল্ডিংয়ে চলে আসবো। এখন তো দোতলার একটা ফ্ল্যাট খালি।”
আদনান বিড়বিড় করে বলে, “আপদ গাড়ে তোলছে এছাড়া আরকী!! এখন প্রতিদিন ওই টেপলার নাটক দেখতে হবে। শ্লা আড়াই ব্যাটারী।”
আদনানে বিড়বিড় দেখে তৃপ্তি বলে, “কিছু বলছো?”
“না।”
আদনান স্থান ত্যাগ করে। তৃপ্তি, দাদী মিলে গল্প শুরু করে।
আদনান বেশ কয়েকবার লিভিং রুমে এসেছে। ইলমার দেখা পায়নি একবারও। রুমের দরজা লাগানো। শেষমেশ বিরক্ত হয়প আর আসেনি। গোসল সেরে মসজিদে চলে যায় নামাজ পড়তে। ঈশিতা ছেলের পরিবর্তন দেখে খুশি। আদনান সত্যি পনেরোদিনের কথাটা মাথায় রেখেছে। এটা আদনান? কীভাবে এতো পরিবর্তন? তবে কী খোদাতায়ালা তার মোনাজাত কবুল করেছে? ঈশিতা ফরিদা পারভীনের কাছে এসে বলে, “আম্মা, আদনান মসজিদে যাচ্ছে নামাজ পড়তে।”
“দেখলাম,ফজরের নামাজ পড়তেও মসজিদে গেছে। মাশাআল্লাহ আমার নাতি।”
“আমার ছেলে ভালো হয়ে যাবে আম্মা।”
“হইবো। একটু সময় লাগবে।”
ঈশিতা কথা সেরে গোসল করতে চলে যায়। তৃপ্তি নামাজ শেষ করে ইলমার রুমে আসে। দরজা নক করলে কোন সাড়াশব্দ পায়না। বার কয়েক নক করে। তাও রেসপন্স নেই। সেজন্য তৃপ্তি আর সাহস করেনা। হয়ত ইলমা নামাজে আছে সেজন্য দরজা লক করা।
ফাইজা টেবিলে খাবার রাখছে। মুখেমুখে বিড়বিড়ও করছে ইলমাকে নিয়ে। আদনান তখন মসজিদ থেকে বাসায় এসেছে। এসেই ফাইজার বিড়বিড় বকাঝকা কানে আসে। সেসবে তোয়াক্কা করেনা আদনান। সোফায় হেলান দিয়ে বসে ফোন স্ক্রোল করে। ফাইজা আদনানের দিকে তাকিয়ে নজর সরিয়ে নেয়। এই বাসায় কারোর কাছেই ইলমাকে নিয়ে টু শব্দ করা যায়না। যাবেও না। সবাই ইলমা ভক্ত। একমাত্র আদনানের চোখেমুখেই ইলমার জন্য বিরক্ত দেখতে পায় ফাইজা। আজকেও কী মনে করে ফাইজা আদনানের কাছে বলে, “তোমার চাচ্চু আমার মা মরছে চট্টগ্রাম গেছে। আপদ একটা বাসায় রেখে গেছেনা। দু’টোদিন ও আমার বাপের বাড়ি থাকেনি। এই আপদের নাকী আবার বিপদ হবে। এমনকি আমাকে নিতেও যায়নি।”
আদনান বিরক্ত হয়। জবাব দেয়, “জ্বী,চাচ্চু চট্টগ্রাম একটা আপদ রেখে বাসায় এসেছে শান্তিতে থাকার জন্য। তবে একটা জিনিস খারাপ করেছে। সেটা হলো, আপনাকে চট্টগ্রাম থেকে আনতে যায়নি। চাচ্চু আনতে গেলে নিশ্চয়ই পাবনার রাস্তায় গাড়িটা নিতো। এখন ড্রাইভার ভুলভাল রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে একটা আপদ বাসায় দিয়ে গেলো। কত বড় মিস্টেক হলো বলুন তো! সারাক্ষণ এসব বাল বলে ঘ্যানঘ্যান কীভাবে করেন আপনি?”
ফাইজা রেগে ফুঁসে উঠে। জবাব দেয়, “বেয়াদব ছেলে। বড়দের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় জানো না?”
“না জানি না। তাতে আপনার কী সমস্যা শুনি?”
আদনানের ত্যাড়া জবাব ফাইজা বলে, “তোমার চাচ্চু আসুক আজকে।”
“তাতে আমার বাল ছিঁড়া যাবে। এই এডভোকেট বালের দাপট আমার সাথে দেখাবেন না।”
“কতবড় বেয়াদব তুমি।”
ফাইজার কথায় আদনান তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বলে,
“হ্যাঁ জানি আমি বেয়াদব। সত্যিটা বললে এমনিতেও সবার গা চুলকায়।”
“কিসের সত্যি!! আমার তোমার মা সমতূল্য হই।”
“জ্বী অবশ্যই আমি মানি। আপনি দূধের ধোঁয়া তুলসি পাতা। আমি একাই বিছুটি পাতা তাই আমার কথা শুনলে সবার চুলকায়।”
ফাইজা কথা বাড়ায়না। বাকীরা তাদের কথা-কাটাকাটির শেষে লিভিং রুমে আসে। ফাইজা কিছু বলার আগে আদনান সুর পাল্টে বলে, “দাদী এই মহিলা এতো খারাপ কেন? আমাকে বলে, তোমার চাচ্চু এবার আমার কথা না শোনলে বি’ষ খাইয়ে মেরে দেব। আপদ একটা ঘাড় থেকে নামাচ্ছেনা। মানে মেলিচাকে আপদ বলছে। এই নিয়ে তর্ক হয়েছে এতোক্ষণ। চাচ্চুর মতো একজন এডভোকেটকে উনি সন্মান করছে না।”
ফরিদা পারভীন রাগী দৃষ্টিতে ফাইজার দিকে তাকায়। ঈশিতাও রেগে ফুঁসে উঠে। ফাইজা হতভম্ব হয়ে যায়। আদনানের দিকে তাকাতে দেখে সে হাসছে। ফরিদা পারভীন চিৎকার করে বলে, “তোমার সাহস তো কম না। আমার ছেলেকে বিষ খাইয়ে মা-রার কথা বলছ। আজকে ইনান আসুক তুমি বেশি বাড় বেড়েছ। আমার জেরা তোমার বাপে টাকায় চলে না, আর না খায় যে তুমি ওকে আপদ কইলা। সে তার নিজের বাপের টাকায় চলে। তোমাকে না বলছে এসব নিয়ে কথা তোলতে না।”
চিৎকার চেঁচামেচি শোনে ইলমাও আসে। আদনান ইলমাকে একনজর দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ঈশিতা তখন ফাইজাকে বলে, “তোমায় ভালো ভেবেছিলাম ফাইজা। দিনদিন আমার ভাবনায় বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছ। আজকে ইনানকে বিষ খাইয়ে মা-রার কথা বলছো, কালকে তো আমাদেরকে বি’ষ খাওয়ানোর প্লান করবে।”
ঈশিতার কথা শোনে ইলমার রাগ হয়। ফাইজার কত বড় সাহস ভেবেই অবাক হয় ইলমা। একনজর ফাইজার দিকে তাকিয়ে বলে, “আমার বাবাকে নিয়ে যে এসব পরিকল্পনা করবে,কসম খোদার আমি নিজেই তার খাবারে বি’ষ মিশাবো।”
ইলমার কথায় আদনান ঢোক গিলে। ফাইজা তো এসব কিছু বলেনি। বলেছে আদনান। তাহলে কী ইলমা আদনানের খাবারে বিষ মিশাবে? আদনান চিন্তায় পড়ে গেছে। সে যে ভেজাল লাগালো এটার আগুন কয়দিন জ্বলে কে জানে। ফাইজা বুঝুক আদনান কী। কত ধানে কত চাল সেটাও টের পাক। তার মেলিচাকে আপদ বলার মানেটাও বুঝুক।
তাদের ঝগড়ার মাঝে আদনান বলে, “খুদা লাগছে। ঝগড়া শোনলে তো আর পেট ভরবে না।”
বাকীরা থামে। সবাই দুপুরের খাবার খেতে বসে। খাবার টেবিলে আর টু শব্দ হয়নি। ইলমা চুপচাপ খেয়ে রুমে চলে যায়। ফাইজাও কোনরকম খেয়ে রুমে চলে যায়। ঈশিতা,তৃপ্তি এবং ফরিদা পারভীন মিলে টেবিল গোছায়। আদনান ইলমার সক্রিয়তা দেখে বিরক্ত হয়। হঠাৎ মেলিচার হলো টা কী?
★★★
ভার্সিটি থেকে বাসায় এসেছে আবরণ। খুব গরম লাগছে তার সেজন্য লিভিং রুমের সোফায় বোসে হাঁক ছেড়ে ডাকে রাহেলার নাম ধরে। বার কয়েক ডাকার পরেও রাহেলার সাড়া শব্দ পায়না। আবরণ বিরক্তিতে ‘চ’ উচ্চারণ করে। আবারো চেঁচিয়ে ডাকে, “আম্মুউউ পানি নিয়ে আসো।”
তখন সোহেলী রহমান ফ্রিজের ঠান্ডা পানির বোতল হাতে আসেন। আবরণের দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে বলেন “রাহেলা তো আর আসবে না। অন্যত্রে কাজ নিয়েছে।”
আবরণ পানিতে চুমুক দিয়ে থামে। মূহুর্তে টনক নড়ে তার। জিজ্ঞেস করে, “এখানে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণ কী?”
“ওর বাসা থেকে নাকী দূরে। এখন যেখানে কাজ পেয়েছে সেটা ধারে-কাছের।”
আবরণ কিছু বলেনা। তারমানে রাহেলা কিছু না বলে সরে গেছে। গুড! আবরণের জন্য এখন জেভিন আছে। যখন যেই মূহুর্তে খুশি সেই মূহুর্তে দু’জন দেখা করে। রাতে ক্লাবে যায়। মদ গিলে। ইন্টিমেন্ট হয়।
এভাবেই চলছে দু’জনের অবৈধ মেলামেশা।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT
আমার পার্সোনাল আইডির লিংক,
https://www.facebook.com/profile.php?id=100076559331822&mibextid=ZbWKwL

