#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৩১||
#শার্লিন_হাসান
দেখতে,দেখতে ইলমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। এখন তো তার ব্যস্ততা আরো বেশি। দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করা। অবসরে মাঝেমধ্যে ব্যালকনিতে আসা।
আদনান বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছে। তবে এতো খারাপের মাঝে একটা সুখবর এসছে। আদনান একটা বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগ পেয়েছে। এই খবরটা শেখ পরিবারের সবাই শুনে বেশ খুশি হয়েছে। ছেলেটা দিনদিন পরিবর্তন হচ্ছে,হয়েছে এটা সবারই নজরে এসেছে। মাঝেমধ্যে ইনান শেখের সাথে মসজিদে দেখা হয় আদনানের। তারেক মাহমুদ ছেলের পরিবর্তন ভীষণ খুশি। কিন্তু ভাবার বিষয়,আদনান কী সত্যি বিয়েশাদি করতে চাইছে?
আজকে শুক্রবার দিন। ইলমার পাঁচটা পরীক্ষা গিয়েছে। আগামী রবিবার আইসিটি এক্সাম। সকাল থেকে পড়ার টেবিলে ছিলো। সবার শেষে নাশতা করতে গেছে। তার যাওয়ার পেছন দিয়ে তৃপ্তিও আসে। আদনানে চাকরীর খবর ইলমা পেয়েছে কীনা সন্দেহ। দু’জনে সোফায় বোসে টিভিও দেখছে আবার নাশতাও খাচ্ছে। টিভির খবর সামনে আসছে। দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা। ইলমা, তৃপ্তি মনোযোগ সহকারে নিউজটা দেখে। তখন ইলমা তৃপ্তি কে বলে, “আদনানকে বল পার্টিসিপ্যান্ট করতে। ওর গানের গলা ভীষণ সুন্দর। গড গিফ্টেড যেটাকে বলে।”
“বলব।”
তৃপ্তির কথা শেষ হতে আদনানের আগমন হয়। ইলমার কথাটা সে শুনেছে ঠিকই কিন্তু ভাব এমন করছে যে কিছুই শোনেনি। তবে মনে,মনে মুচকি হাসছে। ভালো মেয়েটা তার ট্যালেন্ট নিয়েও ভেবেছে। আদনান এসে সামনের সোফায় বোসে। আগামী রবিবার থেকে তার প্রথম কাজের যাত্রা শুরু। তৃপ্তি আদনানকে দেখে বলে, “ভাইয়া দেশজুড়ে ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। তুমি গানের সেকশনে নাম দেও।”
আদনান তৃপ্তির দিকে তাকায়। পরক্ষণে ইলমার দিকে। মাথা নাড়িয়ে বলে, “দেখি।”
“শুধু দেখিনা। নাম দিবা। আমার বিশ্বাস তুমি সিলেক্ট হবা।”
তৃপ্তির কথায় আদনান জবাব দেয়না। ইলমা চুপচাপ উঠে যেতে নিলে টেবিলের কোণায় পা লেগে হাতে থাকা প্লেটটা আদনানের মুখ বরাবর গিয়ে পড়ে। ইলমার কান্ড দেখে তৃপ্তির মুখে হাত। আদনান রক্তচক্ষু করে তাকিয়ে আছে। ইলমা প্লেট নিতে যাবে এমন সময় আদনান ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে বলে, “প্রেমিকনারী, চোখে সমস্যা নাকী? মারামারি করার জন্য আমাকেই তোর চোখে লাগে?”
ইলমা কাঁপা কাঁপা গলায় জবাব দেয়, “আমি বুঝতে পারিনি।”
“তুই আসলে কী বুঝিস বলতো? কিছুই বুঝতে পারিস না। এদিকে দুনিয়ার সবই বুঝিস। নাটকবাজ কোথাকার।”
“ধমকা ধমকি করছ কেন?”
মূহুর্তে ইলমার মাঝে রাগের আভাস দেখা দেয়। আদনান চোখ জোড়া সংকুচিত করে জবাব দেয়, “প্লের ছুড়ে মারলে, শুনেছি ধমক না আদর করতে হয়। আয় এদিকে আয়।”
তৃপ্তি শব্দ করে হেঁসে উঠে। ইলমা বিরক্ত হয়। আদনানের দিকে তাকিয়ে শাসিয়ে বলে, “মুখ সামলে কথা বলো। অসভ্য আর পরিবর্তন হলে না।”
“তাহলে আয়,প্রেম করে অসভ্যতামী করি।”
“কতবড় অসভ্য তুমি।”
“কতবড় দয়াল প্রেমিকা তুমি।”
ইলমা রাগ হয় ভীষণ। টেবিলের উপর থাকা গ্লাসের পানি আদনানের দিকে ছুঁড়ে মারে। আদনানও জগে থাকা পানি ইলমার দিকে ছুঁড়ে মারে। দু’জনে রেগে বোম! তৃপ্তি আলগোছে সরে যায়। আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “হাত বেশি চলে তোর। সাহস বেড়ে গেছে।”
“তোমার মুখ হাত দুটোই বেশি চলে। আমার চোখের সামনে আসবা না।”
“তোর চোখ তুই সামলে রাখিস। বাসা যেহেতু আমাদের সব জায়গায় আমার যাওয়া-আসা হবে।”
“বাবা আসলে বিচার না দিয়েছি।”
“তাতে আমি ভয় পাব নাকী?”
এবার ইলমার রাগে ক্ষোভে কান্না আসছে। সত্যি,সত্যি কান্না করে দেয়। আদনান ইলমার কান্না দেখে হতভম্ব হয়ে যায় সাথে ভীষণ হাসি পায়। ইলমার চোখে পানি পড়ছে, আদনান হো হো করে হাসছে। ইলমাকে খোঁচা মেরে বলে, “ঝগড়ায় জিততে না পেরে শেখ বাড়ির স্ট্রং মেয়েটাও ভ্যা,ভ্যা করে কান্না করছে। ছিঃ!ছিঃ!”
“তোর বিচার খোদা করবে।”
কথাটা বলে ইলমা গটগট করে চলে যায়। আদনান পুনরায় হেঁসে উঠে।ভেজা শরীর নিশপ রুমে এসে গোসলে ঢুকে যায়।
রুমে এসে ইলমা নিজের জামাকাপড়ের দিকে তাকাচ্ছে। প্রায় ভিজে গেছে। এই আদনান এতো ঝগড়ুটে ভেবে পাচ্ছেনা। এই নাকী তাকে ভালোবাসে। এতোই যদি ভালোবাসে তাহলে ঝগড়ায় তাকেই জিতিয়ে দিতো। নিজে জিততে আসতো না। আসলেই বেডা মানুষ ভালো না। একদম ভালো না।
★★★
রবিবার দিন তৃপ্তি, ইলমা এক্সাম দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছে। তাঁদের পেছন দিয়ে আদনানও বাইক নিয়ে বেরিয়েছে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্য। এই দুইদিনে কেউ কারোর মুখটাও দর্শন করেনি। বলা যায় ইলমা এরমটা করেছে। আদনান তো বেহায়ার মতো আঁড়চোখে আঁড়চোখে তাকিয়েছে কিন্তু ভাব এমন করেছে জেনো সেও ইলমাকে দেখেনি।
দু’জন দুইদিকে যায়। তৃপ্তি, ইলমা রিকশায় উঠে যায়। আদনান বাইক টান দেয়।
প্রথম দিন ব্যাংকে এসে মোটামুটি সবার সাথে পরিচিত হয় আদনান। নিজের ডেস্কে বসে কাজকর্ম বুঝে নেয়। যদিও আরো টাইম লাগবে তবুও মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে।
মাঝেমধ্যে আবার ইলমার কথাও স্মরণ করছে। কবে যে তাঁদের বিয়েটা হবে সেই অপেক্ষায় আছে আদনান। এবার তো জব নিয়েছে। নিশ্চয়ই ইনান শেখ রাজী হবেন।
সন্ধ্যায় ফাতিহা এবং ফারিশ ইলমাদের বাসায় এসেছে। ফারিশ, তৃপ্তি এবং ইলমার সাথে কথা বলছে। আদনান লিভিং রুমে আসতেই মেজাজ চটে যায়। কী এমন কথা বলছে? তখন ইনান শেখকে দেখে নেয় আদনান। তৃপ্তিকে ধমকে বলে, “পড়া নেই? এক্সামে তো ডিম পাবা।”
ফারিশ ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে তাকায়। ইলমা আদনানের দিকে তাকায়। বাকীরাও সেখানে উপস্থিত হয়। ইলমা,ফারিশকে একসাথে বসে কথা বলতে দেখে ফাতিহা ভীষণ খুশি হয়। ইনান শেখও দু’জনকে একসাথে দেখে। আদনান তার দাদীকে ডাক দেয়। সোফায় বসতে,বসতে বলে, “দাদী আমার জব হয়ে গেছে। এবার বিয়ে-শাদির বন্দোবস্ত করো।”
তখন তারেক মাহমুদ বলে, “তুমি সত্যি বিয়ে করতে চাও?”
আদনান ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “হ্যাঁ করতে চাই।”
“মেয়ে পছন্দ আছে?”
আদনান ইলমার থেকে নজর সরায়নি। সেদিকে তাকিয়েই বলে, “হ্যাঁ আছে।”
“মেয়েটা কে?”
“মেলি…
কথাটা বলতে গেলে হুঁশ আসে আদনানের। সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান কথা ঘুরাতে বলে, ” মেলায় দেখেছিলাম।”
ইনান শেখ ইলমার দিকে তাকায়। ইলমা মাথা নিচু করে রেখেছে। সবাই কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে নিজেদের রুমে যায়। ফাতিহা ঈশিতার সাথে বসে কথা বলছে। ফারিশ ইজাজকে ম্যাথ করাচ্ছে। আদনাম তারেক মাহমুদকে এক পেয়ে বলে, “বাবা কিছু কথা ছিলো।”
তারেক মাহমুদ খুশি হয়ে বলে, “কী কথা?”
“অন্য কোথাও মেয়ে দেখতে হবেনা।”
“তাহলে?”
আদনানের মাথা নিচু। তারেক মাহমুদ পুনরায় বলেন, “ইলমাকে তোমার পছন্দ?”
আদনান মাথা নাড়ায়। জবাব দেয়, “হ্যাঁ।”
তারেক মাহমুদ ছেলের কথায় হাসেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, “সন্দেহ করেছিলাম।”
“বাবা!”
আদনানের কথায় তারেক মাহমুদ ঠোঁট কামড়ে হাসেন। আদনান পুনরায় বলে, “সাহায্য করো।”
“সে করব। কিন্তু ইনান তো তোমার কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিবেনা।”
আদনানের মুখখানা চুপসে যায়। তারেক মাহমুদ চলে আসেন। আদনান আনমনা হয়ে রুমে প্রবেশ করছে। এই ইনান শেখ এরকম হিটলার কেন? যদি না মানে তাহলে এবার একটা কিছু হয়ে যাবে।
ফাতিহা ইনান শেখের সাথে বসে আলোচনা করছেন। ইলমার বিয়ে নিয়ে। ইনান শেখ নাও করেনি। কিছুটা রাজী। ফাতিহার জেনো একমাত্র লক্ষ্য হয়ে পড়েছে ইনান শেখকে রাজী করানো। এমনিতে ফ্ল্যাট একটা দখল করেছে। খুব সহজে ছাড়ার জন্য না। ইলমাকে পুত্র বঁধু করলে প্রোপার্টির মালিকানা ডাবল হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই ফারিশ তার পছন্দের উপর কথা বলবেনা। ইনান শেখ সব দিক বিবেচনা করেন। ইলমার পরীক্ষা শেষ হলে ফারিশের জন্য বিয়েশাদির কথাবার্তা তোলবেন।
★★★
ইলমা এবং তৃপ্তির পরীক্ষা শেষ। দু’জনে বিকেলে ঘুরতে এসেছে। সাথে কিছু ফাস্টফুড ও খাবে। আজকে হিজাব বাঁধলেও মাস্ক লাগায়নি দু’জনের একজনও। কফি হাউজটা ইলমার ভীষণ পছন্দের কারণ এটি একটি নদীর কোল ঘেঁষে আঁটসাঁট হয়ে দাঁড়ানো। সামনে দোতালা বিল্ডিং থাকলেও সাইডে নদীর উপর দু’টো ঘর বাঁধানো। যেখানে বসলে নদীর মুক্ত বাতাস এবং পানির কলকল ধ্বনি সহজে শোনা যায়। মন খারাপ থাকলে সহজে ভালো হয়ে যাবে। তেমনি ইলমা তৃপ্তিও নদীর উপরের একটা ঘরে বসেছে। পাশে আরেকটা ঘরে অনেকগুলো ছেলের আড্ডা বসেছে। তাঁদের কথার ধ্বনি, গলার স্বরে বুঝতে পেরেছে দু’জন। ইলমা কোকে চুমুক দিয়ে বাইরে দেখছে। অপজিটে ব্যস্ত শহর। গাড়ির হর্ণ সবই ভেসে আসছে কানে।
দু’জন অনেকক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর প্রায় সন্ধ্যা নেমে গেছে। সেজনঢ় বেশি দেরি না করে বিল পে করার জন্য যায়। ইলমা কাউন্টারে দাঁড়ানো। পেছনে তৃপ্তি দাঁড়ানো। ব্যাগ থেকে টাকা বের করছিল ইলমা। এমতবস্থায় জয় এবং তার সাথে দু’টো ছেলেও সেখানে উপস্থিত হয়। মেয়েমানুষ দু’জন সামনে দাঁড়ানো দেখে জয় বিরক্ত হয় প্রচুর। খোঁচ মেরে কিছু বলতে যাবে তখন নজরে আসে তৃপ্তিকে। মূহুর্তে চিনে যায় জয়। এটা সেই মেয়েটাই যে তাঁদের বাসায় গিয়েছিল। তার কাজিনকে দেখার জন্য। জয় নিজের রাগ,বিরক্ত মূহুর্তে দামাচাপা দিয়ে দেয়। তৃপ্তিকে দেখে আগ বাড়িয়ে বলে, “হাই। আমাকে চিনতে পেরেছেন?”
তৃপ্তি, ইলমা দু’জনে তাকায়। তৃপ্তির চিনতে অসুবিধা হয়নি। সেজন্য ফর্মালিটি বজায় রেখে বলে, “জ্বী চিনতে পেরেছে। ভালো আছেন?”
জয় তৃপ্তির কথার মাঝে ইলমার শ্যামবর্ণের মুখশ্রীতে বেশ কয়েকবার পরখ করে নেয়। দু’টো মেয়েই বেশ শালীন ভাবে এসেছে। তাদের পরিবারের রুচি এবং ভদৃরতা সম্পর্কে জয়ের পজিটিভ ধারণা সৃষ্টি হয়। তৃপ্তি ধবধবে সাদা। তবে ইলমা উজ্জ্বল শ্যাববর্ণ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ইলমার চোখ জোড়া। চোখের ঘন পাপড়ি জেনো তার চোখ জোড়াকে আরো মায়াবী করে তোলেছে। এক মূহুর্তের জন্য জয় পুনরায় সেইচোখের দিকে তাকায়। তৃপ্তির প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়নি ভেবে বলে,
“আলহামদুলিল্লাহ। আপনার পাশে উনি কে?”
তৃপ্তি হেঁসে বলে, “আমার চাচ্চুর মেয়ে। নাম ইলমা।”
জয় পুনরায় ইলমাকে উপরনিচ পরখ করে। হাত বাড়িয়ে বলে, “হাই, আমি জয় আবরণ। এখানকার এমপি আমার বাবা।”
ইলমা মৃদু হাসে। তবে হাত মেলায় না। জবাব দেয়, “আচ্ছা।”
জয় অবাক হয়। এটা কেমন মেয়ে? তার সাথে কথা বলার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। জয় তৃপ্তিকে বলে, “আপনারা কিছু খাবেন?”
তৃপ্তি না করে। বলে, “একটু আগে খেয়ে উঠলাম।”
“আগে দেখা হলে ভালো হতো।”
জয়ের এমন কথায় ইলমা ভ্রু জোড়া সংকুচিত করে। বলে কী লোকটা? বেটার মতিগতি ইলমার ভালো ঠেকছেনা। তৃপ্তিকে চোখ দিয়ে ইশারা করতে তৃপ্তি তাড়া দেখিয়ে বলে, “আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। আসি ভাইয়া। আসসালামু আলাইকুম।”
তারা দুজন যেতে জয় মুচকি হেসে তাঁদের যাওয়ার পাণে তাকিয়ে রয়।
ইলমার দিকে তাকিয়ে বলে, “এই মেয়েটাকে আমার ভালো লেগেছে।”
#চলবে
( লেখা আসেনা। একটা জুটির বিয়ে দিতে পারলে ভাল্লাগতো😒)
গ্রুপ লিংক
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

