গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৩| #শার্লিন_হাসান

0
34

#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|৪৩|
#শার্লিন_হাসান

বাড়িতে, ফজরের নামাজ পড়ে শুয়েছিল আদনান। আটটা বাজে
এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙতে উঠে যায় আদনান। পাশে ইলমা গভীর ঘুমে তলানো। আদনানের ইচ্ছে হয়নি, জাগানোর। যেহেতু তার জব আছে, আজকে ছুটি নেওয়া হয়নি সেজন্য তড়িঘড়ি রেডি হতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিয়েটা হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়েছে সেজন্য বাকী দিনগুলোর মতোই সব কাটবে।

আদনান রেডি হয়ে সবার সাথে নাশতা খেতে বসেছে। ফরিদা পারভীন নাতিকে দেখে বলেন, “ইলমা উঠেনি?”

আদনান রুটি ছিঁড়তে, ছিঁড়তে জবাব দেয়, “ঘুমাচ্ছে,সেজন্য জাগাইনি।”

ইনান শেখ মুখটা গম্ভীর করে নাশতা খাচ্ছেন। আদনান তড়িঘড়ি নাশতা খেয়ে বেরিয়ে যায়। তৃপ্তি ভাইয়ের তাড়াহুড়ো দেখে মৃদু হাসছে। ঈশিতা,ফাইজা রান্নার গোঁজ গাছ করতে ব্যস্ত। তৃপ্তি সোফায় বসে, দাদীর সাথে আলোচনায় বসেছে। মূল আলোচনা, আদনান-ইলমার বিয়ের কোন রিসিপশন হবে কীনা। ফরিদা পারভীন এই নিয়ে মত দিতে পারলেন না। আদনান কী বলবে, কী করবে কেউই জানেনা।

সকাল দশটা বাজে আদনান অফিসে বসে ইলমাকে কল দেয়। ইলমা কল রিসিভ করে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে, “হ্যালো,কে?”

আদনান দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “শালী, তোর তিন কবুল বলা ভাতার বলছি।”

আদনানের কথায় ইলমার রাগ হয়। সাথে,সাথে জবাব দেয়, “আমার কোন ভাতার নেই। আমি বিবাহিত, আমার স্বামী আছে। আপনি রং নাম্বারে কল দিয়েছেন।”

“শালী,বেয়াদব।”

আদনানের কথাটা শেষ হতে, ইলমা কল কেটে দেয়। ফোনের স্ক্রিনে তাকায়। দশটা বেজে গেছে। ইলমা লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। সবার আগে, একটা ঝুড়ি নিয়ে আসে। বসে,বসে খাটের সাথে লাগানো ফুলগুলো খোলে। নেতিয়ে পড়া ফুল বিছানা থেকে সরিয়ে,বিছানা সুন্দর করে গুছিয়ে নেয়। আদনানের রুম ক্লিন করে সে নিজের রুমে যায়। ইলমার রুমটা অনেকটাই অগোছালো, সেজন্য সেটাও গুছিয়ে পরিষ্কার করে ফ্রেশ হতে যায় ইলমা।

কিচেন থেকে প্লেটে করে, পরোটা,ভাজি এবং চায়ের মগ নিয়ে নিজের সুন্দর ব্যালকনিতে এসে বসে। বাইরে খোলামেলা প্রকৃতি। সবুজ মাঠ চোখে আসছে। বাতাসে শীতল একটা ঘ্রাণ অনুভব হচ্ছে। ইলমা নাশতা খেতে,খেতে চারপাশ উপভোগ করে।

উঠে, তৃপ্তি এবং ফরিদা পারভীনের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয় ইলমা। অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলে ইলমা চলে আসে নিজের রুমে। শাওয়ার নিয়ে নামাজ আদায় করে নেয়। বাকীদের সাথে বসে লান্স করে নেয়।

বিকেলে আদনান বাড়ি আসে। নিজের রুমে ঢুকেই দেখে কোথাও ইলমার অস্তিত্ব নেই। আদনান সাথে,সাথে রুম থেকে বেরোয়। তৃপ্তিকে দেখে গলাস্বর উঁচু করে বলে, “কীরে তোর ভাবি কই?”

আদনানের কথায় তৃপ্তির কাশ উঠে যায়। খুকখুক করে কাশতে থাকে। তৃপ্তিকে কাশতে দেখে আদনান বিরক্ত হয়ে বলে, “ঠান্ডা পানি নিয়ে আয় তো।”

তৃপ্তি মাথা নাড়ায়। ফ্রিজ থেকে পানির বোতল এনে আদনানের হাতে দেয়। আদনান পানি পান করতে, করতে ইলমার রুমের দিকে এগোয়। ভেতরে আসতেই দেখে তার নববধূ বইয়ে ডুবে আছে। আদনান নিঃশব্দে এগিয়ে আসে ইলমার কাছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে, “আমি যে এসেছি তোর খবর নেই? কোথায় পানির বোতল এগিয়ে দিবি,লান্স ঠিকঠাক করেছি কীনা জিজ্ঞেস করবি। তা না, বইয়ে মুখ গুঁজে রেখেছিস।”

ইলমা বই বন্ধ করে আদনানের দিকে তাকায়। চোখ জোড়া সংকুচিত করে বলে, “বাইরে থেকে আসলে মানুষ ফ্রেশ হয়, চেঞ্জ করে জংলীর মতো ঝগড়া করেনা।”

“এ্যাই শালী মেলিচা, তুই আমার কল কেটে দিয়েছিস কেন? আমাকে ভালো লাগেনা? আমার কথা ভালো লাগেনা? কাকে ভালো লাগে?”

“এইজন্যই তোকে বিয়ে করতে চাইনি।”

“তো কাকে বিয়ে করতি? ওই টেপলাকে? যে বিয়ের আগেই তোকে মারার জন্য, তোর গলা চেপে ধরেছিল।”

“না। জয় আবরণকে বিয়ে করতাম।”

ইলমার কথায় আদনান তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। বাজখাঁই কন্ঠে জবাব দেয়, “তুই আমার চোখের সামনেও আসবিনা।”

“তোর চোখের সামনে যাব কেন?”

আদনান জবাব দেয়না। সোজা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ইলমা বই গুছিয়ে,ব্যালকনির দরজা লাগিয়ে দেয়। নিজের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস গোছায়, আদনানের রুমে নেওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ পর সেগুলো হাতে নিয়ে আদনানের রুমে প্রবেশ করে ইলমা। আদনান সবো শাওয়ার নিয়ে এসেছিল। ইলমাকে দেখেও না দেখার ভাণ করে। ইলমা নিজের জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত। আদনান চেঞ্জ করে, ফোন হাতে সোফায় বসে। ইলমা হাতের কাজ সেরে খাটের উপর গিয়ে বসে। আঁড়চোখে আদনানকে দেখছে। আদনান তখন নির্মাণকে কল দিয়েছিল। রিসিভ হতে নির্মাণ জিজ্ঞেস করে, “কী বন্ধু বিবাহিত জীবন কেমন কাটছে?”

“একদম বাজে।”

আদনানের কথায় ইলমা তাকায়। আদনান সেসব তোয়াক্কা করেনা। নির্মাণ মুখটা ভোতা করে বলে, “ওমাহ বাজে কাটবে কেন?”

“প্রেমিকনারী বিয়ে করেছি না। দিনের বারোঘন্টার, এগারোঘন্টাই শালীর ভাব দেখা লাগে। আমি যে তার বিয়ে করা বর সে সেসবে পাত্তাই দেয়না।”

“ব্যপারটা খুবই সিরিয়াস।”

“হ্যাঁ, মেয়ে দেখ আরেকটা বিয়ে করব।”

“একটাকে সামলা আগে।”

“এটা পরে থাকুক। বাকী তিনটাকে বিয়ে করে ঘরে তুলি দেখবি প্রথমটা এমনিতে সোজা হয়ে যাবে।”

“তার মানে চারটা বিয়ে করবি?”

“আগে থেকেই তো ভেবে রেখেছি, বিয়ে করলে চারটাই করব।”

“ঠিক আছে ভাই। হসপিটালের বেড লাগলে বলিস, আমি আগেই বুক করে রাখব। শুধু একটা টেক্সট দিয়ে বলিস, যে হাত-পা গলায় ঝুলে গেছে।”

নির্মাণ কল কেটে দিতে, আদনান ইলমার দিকে তাকায়। আদনান ইলমার রাগী চাহনি দেখে আমতাআমতা করে বলে, “অনেকদিন আগেই চারটা বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলাম।”

“তো, আমাকে শুনিয়ে বলার কী আছে?”

“ওমাহ্ তোকে না শুনিয়ে বললে কীভাবে হবে? তোর সংসারে নতুন সদস্য আসব….

ইলমা উঠে দাঁড়ায়। আদনানকে রেখেই বাইরে আসে। আদনান হতভম্ব হয়ে ইলমার যাওয়া দেখছে। পেছন,পেছন যেতে দেখে ইলমা দাদীর রুমে ঢেকেছে।

ইলমা দাদীর রুমে ঢুকেই চিৎকার করে বলে, ” তোমার নাতি নাকী চারটা বিয়ে করবে।”

ইলমার চিৎকারে ফরিদা পারভীন শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ায়। হতভম্ব হয়ে বলে, “কী? আদনান এটা বলেছে?”

ইলমা রাগে গিজগিজ করতে বলে, “আমাকে শুনিয়ে,শুনিয়ে পরিকল্পনা করছে।”

কথাটা বলে চলে আসে সে। আদনান রুমে ঢুকতে,ঢুকতে ইলমার যাওয়া দেখেছিল, এমন সময় ফরিদা পারভীন এসে আদনানের কান টেনে ধরে বলেন, “কীরে হারামি, আমার নাতিনের সংসারে সতীন আনার কথা ভাবলি কী করে?”

“তুমি তো ওর বড় সতীন আগে থেকেই বসে আছ।”

“আমি আরকী। ইলমাকে উল্টাপাল্টা বলবে না। ইনানের কানে তোললে, আবার কাহিনী শুরু করবে।”

“বুঝলাম না, তোমার মতো ভালো মানুষের সন্তান,ইনান শেখ এরকম হারামী কীভাবে হলো?”

আদনানের কথা শেষ হতে ইনান শেখ চোয়াল শক্ত করে ফরিদা পারভীনকে বলে, “আম্মা, তোমার সাথে কথা ছিলো।”

আদনান ইনান শেখকে দেখে বিরক্ত হয়। আসার আর সময় পেলো না। ভেবেই, নিজে প্রস্থান করে। ইনান শেখ আদনানের পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া দেখে বিরক্ত হোন। ফরিদা পারভীনের কাছে এসে বলেন, “আম্মা,আদনান সত্যি ইলমাকে বিয়ে করে নিয়েছে?”

ছেলের কথায় ফরিদা পারভীন হেঁসে উঠেন। ইনান শেখ সেই হাসির দিকে তাকিয়ে আরো চোয়াল শক্ত করে নেন। ফরিদা পারভীন বলেন, “কেন তোমার বিশ্বাস হয়না?”

“ওর মতো হারামীর কাছে,আমি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি?”

★★★

আদনান রুমে এসে দরজা লক করে দেয়। ইলমা খাটের উপর মুখ ফুলিয়ে বসেছিল। আদনান এসে ইলমার পাশে শোয়। ইলমার দিকে একনজর তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে। আচমকা নিজের ঠান্ডা হাত দিয়ে ইলমার হাত স্পর্শ করতে ইলমার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায়। আদনানের দিকে তাকাতে গা জ্বলে যায় ইলমার। আদনান ইলমাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। বুকের খুব কাছাকাছি ইলমাকে এনে, নিঃশব্দে ইলমার কপালে গভীর ভাবে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। ইলমার এসিডে পোড়া গালের অংশে ঠোঁট ছুঁইয়ে আদর করে। চোখের পাতায় স্পর্শ দেয়। মৃদু হেসে বলে, “আমার সুন্দরী বউ, বরের উপর এতো রাগ করতে নেই।”

“তোমার সাথে কথা নেই। সরো।”

“এমাহ্, আদরে মন ভরেনি?”

“আগে বল,আর কখনো চারবিয়ের কথা তুলবিনা।”

“শোননা?”

মূহুর্তে আদনানের কন্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যায়। ইলমা চোখমুখ কুঁচকে তাকিয়ে আছে। আদনানের কন্ঠস্বর খুব শীতল এবং কোমল শোনালো। ইলমা জবাব দেয়, “বলো?”

“আজকে রাতে তোর শাড়ি খোলতে দিবি তো?”

#চলবে

আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT

আদনান ইলমাকে নিয়ে লেখা বই, “বুকপকেটের মায়াবিনী” অর্ডার দিতে ম্যাসেজ দিন বুকলেট কম পেজে। পেজ লিংক,
https://www.facebook.com/share/1AKGvBibLx/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here