violent_love Mariam_akter_juthi #পর্বঃ২৯

0
32

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ২৯

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)

‘যাকে ভালোবাসেন না, তাকে বুকে নিয়ে শান্তি কেন পান?

আরিশ জুথির কথা শুনে মুখ টিপে হেসে গুরুতর কন্ঠে বললো,
‘ও ভালবাসি না বলে এই দূরত্ব? তাহলে চল তোকে একটু ভালোবাসি।

জুথি আরিশের এমন কথা শুনে ওর বুক থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে বললো,
‘অসভ্য পুরুষ লোক,ছাড়ুন আমাকে!
‘এই তো বললি? আমি তোকে ভালোবাসি না! তাইতো একটু আদর ভালোবাসা করতে চাইছি। — বলে জুথি কে টেনে ওর মুখের কাছে তুলতে, জুথি আরিশের পরপর এমন কথায় ও কাজে,ওকে ঠেলে সরাতে চেয়ে ভয়াত কন্ঠে বললো,
‘আপনাকে কেমন,কেমন যেন লাগছে? আমি বরং এখন এখান থেকে যাই,আ
‘হুসসসসস! শুধু এতোটুকু শব্দ শোনা গেল, পরমুহূর্তেই আরিশ ওর ঠোঁট দুটো ওর ঠোঁটের সাথে মিশিয়ে জুথির হাত দুটো বিছানার দুইপাশে চেপে ধরে, নিজের কাজে ব্যস্ত হলো। জুথি আরিশের কর্ম বুঝতে পেরে, ছাড়া পেতে ছোটাছুটি করতে আরিশ গুনা দু তিন মিনিট চুমু খেয়ে ওকে ছেড়ে বুকের সাথে চেপে ধরতে দুজনই ঘনঘনই শেষ নিতে লাগলো। জুথি স্বাভাবিক হতে লজ্জায় আরিশের বুকে মুখ লুকালো, ঠিক ততটা,যতটা ঘনিষ্ঠ হলে একজন মানুষ আর একজন মানুষের ভিতরে ঢুকে যেতে চায়। আরিশ জুথি কে ওর বুকের সাথে এতটা মিশে যেতে দেখে কানের কাছে মুখ নিয়ে নেশাক্ত কন্ঠে বললো,
‘তুই যেভাবে আমাকে চেপে রেখেছিস, এখন আমি কিনা কন্ট্রোল হারিয়ে বাসর করে ফেলি। – আরিশ কথাটা বলতে, জুথি ঘন নিশ্বাস ফেলে, পিছন থেকে আরিশের টি-শার্টটা খামচে ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
‘চু,চুপ করুন আ,আপনি! আ,আমি আপনার এমন ক,কথা নিতে পারছি না।

আরিশ জুথির কথায় তেমন পাত্তা দিল না, বরঞ্চ নিজের কাজে ব্যস্ত হতে, জুথির ঘাড় থেকে শুরু করে, মুখমন্ডলীতে শব্দহীন চুমু দিতে শুরু করলো, আস্তে আস্তে আরিশ জুথির নরম পেটে জামাটা সরিয়ে হাত রাখতে,জুথি ভয়ে কেঁপে উঠে নাড়াচাড়া করলো তবে,আরিশ ওর কোন কথাই থামছে না দেখে, পাশাপাশি এতটা ঘনিষ্ঠ হতে দেখে, জুথি ভয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠতে আরিশ ওর মনোযোগ হারায়, অতঃপর মাথাটা ঝাকা মেরে উঠে বসে, কন্ট্রোল হারানোর মতো মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে শ্বাস নিতে নিতে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
‘আমার কষ্ট হচ্ছে মৌ, হয়তো আমার হ! নয়তো আমার সামনে থেকে এক্ষুনি যা। — বলে ঘনঘন শ্বাস নিতে লাগলো নিজেকে কন্ট্রোলে ফিরিয়ে আনতে।

জুথি আরিশ কে ওর থেকে সরতে দেখে, উঠে বসে একই রকম ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো। এমন অনেকক্ষণ যেতে, আরিশের কোন সারা শব্দ না পেয়ে জুথি বিছানা থেকে নেমে চলে যেতে নিলে, আরিশ ওর হাত ধরে ওর পিট, ওর বুকের সাথে মিশিয়ে কোলের মধ্যে আবদ্ধ করে ওর দু হাতে ওকে জড়িয়ে নিয়ে, ঘাড়ে মুখ ঠেকিয়ে, কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
‘চলে যাচ্ছো?
‘,,,,,,,,,,,,,,,,,।

আরিশ জুথি কে চুপ থাকতে দেখে, আরেকটু শক্ত করে ওর সাথে চেপে ধরে অসহায় কন্ঠে বললো,
‘মৌ তোকে একটু আদর কিংবা, ছুঁয়ে দিলে তুই কি বেশি ব্যথা পাবি? আমার ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে মৌ, মৃত্যু যন্ত্রণা অনেক কঠিন। তার চেয়েও অনেক বেশি যন্ত্রণা, তোকে হালাল ভাবে আমার করেও ছুঁতে না পারা। একটু অনুমতি দে তোকে ছোঁয়ার, তোকে আদর করার। আমি আর পারছিনা মৌ, এ দূরত্ব বয়ে চলতে।

জুথি তখনো আরিশের ভয়ে চুপ করে নিঃশব্দে চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছে, বারবার আরিশ কে ফিরিয়ে দেওয়া মানে, আরিশ যদি জোর করে কোন কিছু করে বসে? এসব ভেবে ভয়ে আবারো জোরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। জুথির এমন ফুপানো কান্না দেখে আরিশের মেজাজ চঙ্গে উঠে। আরিশ যতবার এই মেয়ের সাথে বনিবনা করতে চায়, ঠিক ততবার এই মেয়ে ফ্যাত ফ্যাত কান্না করবে। আর নয় তার যেটা পছন্দ না সেটাই করবে। আরিশ ওর কান্না নিতে না পেরে, ওকে ওর থেকে ছাড়িয়ে ঠাটিয়ে বা’গালে থাপ্পর দিয়ে বাহু চেপে দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
‘ঠাসসস — ‘সমস্যা কি তোর? তোকে মারসি? না কামড় দিছি? এভাবে মরার কান্না জুড়ে দিছ কে?

জুথি আরিশের ধাবাং মার্কা থাপ্পড় খেয়ে কান্না ভুলে, নিচের দিক তাকিয়ে ফুপাতে লাগলো। জুথি কে ফোপাতে দেখে আরিশের দাউদাউ করা রাগ যেন জ্বলন্ত আগুনে পরিণত হলো। কিছুতেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে, জুথির গায়ের ওড়নাটা টান দিয়ে খুলে, সেটা মুরিয়ে ওর হাত-পা দুটো, বেঁধে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে উঠে বারান্দায় চলে গেল। আরিশ কে বারান্দায় চলে যেতে দেখে,জুথি বাধন খোলার চেষ্টা করল। তবে এত শক্ত বাধন কি আর এতটুকু মানুষ খুলতে পারে? না একদম পারেনা।

“পেরাই আধাঘন্টা সময় অতিবাহিত হতে, আরিশের মাথাটা একটু ঠান্ডা হতে রুমে এসে দেখে তার বাচ্চা বউ বাধা অবস্থায় ঘুমে গদগদু হয়ে হা করে শ্বাস করছে, আরেকটু ভালো করে তাকাতে খেয়াল করলো মুখ হা করে থাকায় মুখ থেকে লালা বেয়ে পড়ছে। জুথির এমন ঘুমানোর স্টাইল দেখে, আরিশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। কে বলবে? এই মেয়ে জাগন্ত অবস্থায় কতটা নেশাক্ত? একজন টগড়া যুবককে নাড়িয়ে তুলতে সক্ষম! আরিশ এটা ভেবে ওর কাছে গিয়ে হতে পায়ের বাধন খুলে ঠিকভাবে শুয়িয়ে দিয়ে মুখের দিকে তাকাতে ওর মনে হলো, —‘হয়তো তার কাছেই তার মৌ এতটা সুন্দরী? এতটা নিষ্পাপ! কারণ সে তো সেই ছোট্ট থেকে এক নারীকেই আসক্ত! দ্বিতীয় কোন নারীর দিক চোখ তুলে তাকাইনি, তাহলে সে বুঝবে কিভাবে অন্য রমণী দেখতে কেমন। হয়তো তার মৌ কে অন্য কারো কাছে ভালো নাও লাগতে পারে, কিন্তু তার কাছে তার মৌ সবথেকে সেরা, তার প্রিয় মানুষ, তার বক্ষ পিঞ্জিরার ভালোবাসা, তার শ্বাস-নিঃশ্বাস সবকিছুই তো এক নারীতই আটকে। — আরিশ এইসব ভেবে জুথির মুখের লালা মুছে দিয়ে গালে হাতটা ভুলিয়ে দিল, এইতো কিছুক্ষণ আগে এখানেই থাপ্পরটা মেরেছিল। অতঃপর আরিশ লালচে হয়ে থাকা গাল টায় চুমু খেয়ে, রুম থেকে বেরিয়ে গেল বাহির থেকে দরজাটা নক করে।

“সময়টা রাত্র ৯.৭ মিনিট, অফিস সেরে বাসায় ফিরলেন বাড়ির দুই কর্তা, ও রাদিফ। সাময়িক ছুটির জন্য, সবার কাজ যেন কাছেই না। যদিও বাইরের অফিসের কাজ গোছানো হয়ে গেছে, সেখানে আর ছমাসে না গেলেও সমস্যা নেই। কারণ সাইফুল খান সেখানে সব কাজ মোটামুটি দেখভাল করে আজকে ফ্লাইটে উঠেছেন। উনি ফ্লাইটে ওঠে ভাইদের জানিয়ে দিয়েছেন। উনার আশ্বাসে বাকি দুই ভাই সন্তুষ্ট হল। উনারা ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসার ঘরে সোফায় শরীল এলিয়ে দিতে, উনাদের ঠান্ডা পানি খেতে দিলেন লিমা খান। সানজিদা খান ও মোমেনা খান খাবার টেবিল সাজাচ্ছেন। মেহজাবিন খান তরকারি গুলো একে একে বাটিতে বেড়ে নিচ্ছেন। এমন সময় আরিশ ও সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল, তখন সাফওয়ান খান, মাহামুদ খান ও রাদিফ কে এক জায়গায় দেখে, না দেখার মতো করে সানজিদা খানের কাছে গিয়ে বললো,
‘খিদে পেয়েছে আম্মু, খেতে দাও।

সানজিদা খান ছেলের দিক তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
‘খাবার সবার জন্য রেডি করছি, তোমার বাবা চাচ্চু এখন এলো তো উনারা ফ্রেস হয়ে এলেই দিয়ে দেব।

আরিশ ওর মায়ের কথায় দ্বিতীয় উত্তর না করে, একটা প্লেট নিয়ে তাতে খাবার বেড়ে সামান্য তরকারি নিয়ে, প্লেট হাতে চলে যেতে নিলে পিছন থেকে সাফওয়ান খান বললেন,
‘আরিশ বাবা তোমার সাথে আমার কথা ছিল?

আরিশ শুনলো তার বাবার কথা, তবে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে তৎক্ষণে বললো,
‘আপনার সাথে আমার কোন কথা নেই।

সাফওয়ান খান হতাশ হলেন, তবে হাল ছাড়লেন না। আরিশের যাওয়ার দিক তাকিয়ে করা কন্ঠে বললেন,
‘আমি তোমার বাবা হই? বাবার সাথে সেই সাত বছর আগে ধরে রাখা ইগো মানায় না বাপ। বাবা তো তোমাকে ভালোবাসি।

আরিশের পা তৎক্ষণে থমকায়, অতঃপর ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিক তাকালো। আরিশ সানজিদা খানের দিক তাকাতে উনি উপর নিচ মাথা নেড়ে আশ্বাস দিলেন বাবার সাথে কথা বলার। আরিশ মায়ের ইশারায় কিছুক্ষণ নিচের দিক তাকিয়ে, আবারো রুমের দিক চলে যেতে নিলে, সফওয়ান খান ক্লান্ত শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন ছেলের ইগো ভাঙ্গানোর জন্য। কারণ তিনি জানেন তার ছেলে ভাঙবে তবু মচকাবে না। উনি নিজে গিয়ে ওনার ছেলেকে যতক্ষণ পর্যন্ত বুকে না জানাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত উনার ছেলের ইগো কমার নয়। যদিও আরিশ এসব পছন্দ করে না, তবু একবার চেষ্টা করতে ক্ষতি কি? যত হোক বাবা তো? এসব ভেবে উনি আরিশের সামনে দ্রুত পায়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
‘তোমাকে কি বললাম?

সফয়ান খান সামনে দাঁড়াতে, আরিশ ভ্রু কুঁচকে পাস কাটিয়ে চলে যেতে নিলে ওনি আরিশ কে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে বাঁধ ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন,
‘এত ইগো কোথায় রাখো বাবা? আজ দেশে ফিরলে দু’মাস শেষ হয়ে তিন মাস হতে চলল, কিন্তু বাবার সাথে একটা কথা বললে না? এতটুকু বলে থেমে আবার বললেন, —‘তোমার যেমন মৌ এর সাথে কথা না বললে ভালো লাগে না, তেমন তুমি আমার সাথে কথা না বললে, আমার ভালো লাগেনা। আমি মানছি সেদিন আমার পদক্ষেপটা ভুল ছিল, কিন্তু তোমার অন্যায় টাও তো তীব্র ছিল।

সাফওয়ান খান ছেলেকে জড়িয়ে এত কথা বলতেও উনি খেয়াল করলেন,আরিশ ঠিক আগের মত প্লেট হাতে গম্ভীর ভঙ্গিমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। না ওনাকে সরিয়ে দিচ্ছে, আর না গম্ভীরতা ভেঙ্গে কিছু বলছে। এতে উনি বেশ হতাশ হন, ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই, কিন্তু সাফওয়ান খান যেন এই কথাটা উভরে ফেললেন। ছেলেকে এখনো একই ভাবে দেখে ওনার চোখ দুটোতে টলটল করে পানি জমল, অতঃপর ওনি ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন,
‘তুমি দেশে ফিরে মৌ কে বিয়ে করবে, করে নিয়েছো। আমরা মেনে নিয়েছি, তুমি বলেছ মৌ তোমার রুমে থাকবে তুমি রেখেছো, আমরা মেনে নিয়েছি। তাহলে তুমি আমার সাথে কেন কথা বলছো না? তুমি যে আমার একমাত্র সন্তান, তুমি যে আমার সাথে কথা বলো না, এটা আমি মেনে নিতে পারি না বাবা।

সাফওয়ান খানের ভাঙ্গা কন্ঠ শুনে আরিশের মনটা কিছুটা হলেও গলে আসে, অতঃপর বাবার পিঠে হাত রেখে বললো,
‘কাঁদবে না আব্বু, আমি চলে এসেছি তো।

আজ সাত বছর, তিন মাস পর ছেলের মুখে আব্বু শুনে, সাফওয়ান খান আবেগ প্রফুল্ল হয়ে সবাইকে চিল্লিয়ে বললেন,
‘তোমরা শুনেছো? শুনেছো তোমরা? আমার আরিশ আমাকে আব্বু ডেকেছে? এর থেকে খুশি আর কি হতে পারে?

সাফয়ান খানের চিল্লানো কথায় নিচে সবার মুখেই মুচকি হাসি ফুটল, সবাই এটাই চেয়েছিল বাবা ছেলে যেন আগের মত এক হয়, সাফওয়ান খান নিচে সবাইকে একবার দেখে আরিশের বাহু ধরে কন্ঠে আত্মবিশ্বাস এনে বললেন,
‘বাবা ছেলে এক, তো করবি কি সমাজ?
‘হুম। – আরিশ আর দাঁড়ালো না, ব্যস্ত পায়ে হেঁটে রুমে চলে গেল। আরিশ চলে যেতে উনিও ফ্রেশ হতে রুমে চলে গেলেন।

সানজিদা খান,খাবার টেবিলে সবার খাবার দিতে, সেখানে ছোট বড় থেকে সবাই বসে পড়লো খাবার খেতে, সেখানে রোদও ছিল। রোদ সবার সাথে খাবার খেতে আসতে না চাইলে, সানজিদা খানের ডাকে সবার সাথে একসাথে খেতে বসে। লিমা খান, সবার খাবার খাওয়া শেষ হয়ে আসতে, হঠাৎ উনি রোদের দিক তাকালেন, অতঃপর কিছু একটা ভেবে রাদিফের দিক তাকিয়ে বললেন,
‘রাদিফ আব্বু তোমার সাথে আমার কথা আছে…।

Continue,,,

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩০

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি]

‘রাদিফ আব্বু তোমার সাথে আমার কথা আছে! খাবার শেষে আমার রুমে এসো। বলে উনি হাতটা ধুয়ে বাকি জা’য়েদের দিক তাকিয়ে ইশারা করলেন, যার মানে উনি যাচ্ছেন,তোমরা কষ্ট করে গুছিয়ে নিও। সানজিদা খান ওনার ইশারা বুঝতে পেরে ইশারা করেই বুঝালেন উনাকে যেতে। উনি উঠে চলে যেতে নিলে রাদিফ খাবার মুখে তুলতে নিয়েও প্লেটে রেখে বললো,
‘কি বলবে আম্মু? এখানে,, —ওর কথা শেষ করতে না দিয়ে লিমা খান গুরু গম্বির কন্ঠে বললেন,
‘আলাদাভাবে বলবো, রুমে এসো। বলে উনি ওনার রুমে চলে গেলেন, উনি চলে যেতে রাদিফ খাবারটা তাড়াতাড়ি করে শেষ করে হাতটা ধুয়ে, হাত মুখ মুছে,মায়ের দরজায় নক করতে লিমা খান বললেন,
‘দরজা খোলাই, তুমি ভিতরে আসো।

রাদিফ দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে দেখে তার বাবা সোফায় বসে পেপার দেখছেন, মা বিছানা গুছাচ্ছেন, রাদিফ এটা দেখে চুপচাপ দাঁড়াতে লিমা খান বললেন,
‘এখানে বসো।

রাদিফ মায়ের কথায় বাধ্য ছেলের মত, বিছানায় বসতে লিমা খান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
‘আমি যদি তোমাকে কিছু বলি, আমার কথা শুনবে?

রাদিফ মায়ের কথায়, ধীরে স্পষ্ট গলায় বললো,
‘তুমি আমার মা হাও, আম্মু! তুমি একটা কথা বলবে আমি রাখবো না, এটা হয় না মা। তুমি বলো কি বলবে?

লিমা খান ছেলের কথায় মুচকি হেসে পাশে বসে বললেন,
‘তোমার তো বিয়ের বয়স হয়েছে, তাই আমি চাই তোমাকে বিয়ে করাতে। তাছাড়া তুমি তো রোদ মামুনিকে ছোটবেলা থেকেই দেখেছো? আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলেছি, উনি বলেছেন তুমি রাজি থাকলে ওনার সমস্যা নেই।

লিমা খানের সব কথার মাঝে, রোদের নামটা শুনে রাদিফ ভ্রু কুঁচকে না বোঝার মত করে বললো,
‘রোদ, মানে বুঝলাম না? ওর কথা কেন আসছে?
‘হুম, তোমার পাশে রোদ কে খুব ভালো মানাবে।
‘হোয়াট? এসব কি বলছ তুমি আম্মু? রোদ আর আমার সাথে? নো,, – বলে মাথাটা এপাশ ওপাশ করলো, যার মানে তার মায়ের কথাটা মেনে নিতে পারছে না।

রাদিফ কে এমন রিয়াক্ট করতে দেখে লিমা খান ভ্রু কুঁচকে বললেন,
‘কেন রোদ কি পচে গেছে? তাছাড়া রোদের আম্মুর সাথে আমি কথা বলেছি। এখন তোমার মতামত নিয়ে বাড়ির সবাইকে জানাবো।
‘কিন্তু আম্মু আমি তো রোদ কে ভালোবাসি না, আমি তো জুথি কে ভালোবাসি। তাহলে আমি রোদ কে কেন বিয়ে করতে যাব?
‘জানি তো তুমি জুথি কে পছন্দ করো, তাইতো রোদকে বিয়ে করতে বলছি।
‘তুমি জেনেও কেন বলছো আম্মু?
‘কারণ জুথি বিবাহিত!

রাদিফ তার মায়ের কথায় বিরক্ত হয়ে কঠিন কন্ঠে বললো,
‘তোমরা সেই একটা বিয়ে নিয়ে পড়ে আছ? যার কোন মানে হয় না, আম্মু।
‘এটা তোমার ধারণা, জুথি সাথে আরিশের একবার বিয়ে হয়েছিল ইসলামিক ভাবে,এখন সে আইনগতভাবেও আরিশের বউ।
‘মানে?
‘মানে এটাই, কিছুদিন আগে একরাত্রে আরিশ আমাদের সবাইকে ডেকে বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপারে জুথিকে সাইন করিয়ে নিজেও সাইন করে। তাছাড়া সবাই ওদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে, কিন্তু তুমি এটা জানো না, সেদিন তুমি সেখানে ছিলে না তাই।

রাদিফ তার মায়ের কথায়, থমকালো, অতঃপর আনমনেই বিছানায় ধপ করে বসে পড়ে মনে মনে আওড়ালো– ‘না না না এটা আমি মানতে পারবো না, জুথি কিছুতেই আমার থেকে আলাদা হতে পারে না।

রাদিফ কে আনমনে বিড়বিড় করতে দেখে লিমা খান শ্বাস ছেড়ে বললেন,
‘তুমি কি আমার কথা শুনবে না আব্বু?
‘জুথি জানে বিয়ের কথা?
‘না।

রাদিফ ওর মায়ের মুখে না শুনে, কিছু টা আস্বস্ত হয়ে বললো,
‘আম্মু আমি জুথির সাথে একবার,,, ওকে সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে লিমা খান বললেন,
‘তুমি যদি আমার কথা না শোনো,তুমি যদি রোদ কে বিয়ে না করো, তাহলে কোনদিন তুমি আমাকে মা বলে ডাকবে না, বলে মুখটা অন্য দিক ঘুরালেন।

ততক্ষণে মাহমুদ খান, ছেলে বউ দুজনের কথাই শুনলেন, অতঃপর পেপার গুলো ঘুচিয়ে রাখতে রাখতে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
‘হ্যাঁ, বাবা তুমি রোদ কে বিয়ে করো, দেখবে মা বাবার দোয়ায় তুমি খুশি হবে। তাছাড়া রোদ মেয়ে হিসেবে অসাধারণ একটা মেয়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কোনদিন তোমার খারাপ চাইবো না।

রাদিফ বাবা-মা দুজন কে এক কথা বলতে দেখে, আর কিছু বলার ভাষা খুজে পেল না, কারণ সে তার মা-বাবার বাধ্য সন্তান হওয়ায় তাদের মুখের উপর কিছু বলতেও পারছে না। মেনেও নিতে পারছে না। রাদিফ ওভাবে কিছুক্ষণ বসে কিছু না বলে উঠে চলে যেতে নিলে লিমা খান বললেন,
‘বললে না তো?
‘তোমাদের যা ইচ্ছে। বলে রাদিফ আর এক মুহূর্ত ও দাঁড়ালো না,হাত দুটো মুঠি বদ্ধ করে সেখান থেকে চলে আসলো।

রাদিফ ওর বাবা মাকে কথাটা বলে তো এলো, ও কি রোদকে আদৌ বিয়ে করবে? নাকি মায়ের মুখের দিক তাকিয়ে নষ্ট হবে দুটো জীবন? ও আর এ বিষয়ে নিতে পারছে না, আর না ভাবতে পারছে। কারণ ও জানে ওর বাবা-মা রোদের বাবা-মায়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে, তারা হাসিমুখে রাজি হয়ে যাবে, তখন ও না চাইলেও রোদকে বিয়ে করতে হবে। এটা মাথায় আসতে হুট করে আনমনে মুখ থেকে বেরিয়ে এলো —‘না। এটা বলে উঠে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে চুলকাতে চুলকাতে পাইচারি করে বিড়বিড় করে আওড়ালো,
‘আমাকে জুথির সাথে আলাদা কথা বলতে হবে, ওকে বোঝাতে হবে আমি ওকে ভালোবাসি। আর ও তো জানেই না, ওর আবার ও বিয়ে হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওতো আরিশ কে ভয় পায়? ও, ওর সাথে কোনদিন থাকবে না। একবার যদি ওকে বোঝাতে পারি, তাহলে বাবা-মাকে ও বোঝাতে পারবো। তখন হয়তো তারা বুঝবে জুথি আমার সাথে থাকবে।

“তখন আরিশ খাবার প্লেট নিয়ে রুমে আসতে দেখে, জুথি বিছানায় নেই। অতঃপর আশেপাশে তাকাতে, তখন জুথি ওয়াশরুমের দরজা খুলে মাত্র বের হয়েছে। আরিশ জুথি কে দেখে দরজাটা ভিতর থেকে লক করে খাবার প্লেট টা নিয়ে বিছানায় বসতে, জুথি গুটি গুটি পায়ে কিছু না বলে রুম থেকে কেটে পড়তে দরজা পর্যন্ত যেতে আরিশ গম্ভীর কন্ঠে বললো,
‘বারবার ছাড় দিচ্ছি বলে সব সময় ছেড়ে দিব এটা মনে করিস না? তাই আমাকে রাগাস না। — বলে দু মিনিট বসে অপেক্ষা করতে, জুথি তখনো ওর সামনে এসে না বসায়, খাবার প্লেটটা সামনে থেকে ধাক্কা মেরে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে উঠে জুথির দিকে যেতে নিলে আহমিস্ক জুথি দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে আরিশের গলা জড়িয়ে ঝুলে পারতে, যার দরুন ওর পা দুটো মাটি থেকে অনেকটা উঁচু হয়ে গেল। তাৎক্ষণে আরিশ ও তাজ্জব হয়। জুথিকে ঝুলে থাকতে দেখে দু হাতে ওকে আগলে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘সমস্যা কি? আমাকে না জানালে ভালো লাগেনা?

তাৎক্ষণে জুথি ওভাবে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলল,
‘উহুহ….। যার মানে তাকে তার না জানালে ভালো লাগে না।

আরিশ জুথির উহুহ শুনে ওর কানে মধু কামড় দিতে জুথি ওভাবে আরিশের বুকে আরেকটু শিটিয়ে গেল। আরিশ জুথি কে বিছানায় বসিয়ে ওর পাশে বসে গাল দুটো হাতের মধ্যে আবদ্ধ করে সমস্ত মুখমন্ডলীতে একে একে চুমু দিয়ে ঠোঁটে হালকাভাবে চুমু খেয়ে বললো,
‘আমার রুমে, আমার বুকে স্থান তোর! এখানেই তোর শুরু এখানেই সীমাবদ্ধ মৃত্যু পর্যন্ত। বলে খাবার প্লেটটা সামনে এনে খাবার মেখে জুথির মুখের কাছে ধরতে জুথি ছোট করে হা করে খাবারটা মুখে নিয়ে মনে মনে গম্ভীর পুরুষের দিক তাকিয়ে বললো, — ‘আপনি বলুন আর না বলুন, আমি জানি আপনি আমাকে ভালবাসেন! ফারির কথাই হয়তো সত্যি, কিছু মানুষ ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানে না। তবে তাতে কি হয়েছে? আপনি আপনার ভালোবাসার কথা নাই বলতে পারেন, কিন্তু আমি তো আমার ভালোবাসার কথা আপনাকে প্রকাশ করতে পারি? হ্যাঁ আমি বলব আমার ভালবাসার কথা আপনাকে, তারপর নাহয় দুজনের এক হাওয়া যাবে? ততক্ষণে না হয় আমাকে একটু সময় দেন?

“সময়টা সকাল ১১.২২ মিনিট, খান বাড়ির সকলের মুখে হইচই, বড়দের রান্নার বিভিন্ন আইটেম। বাড়ির মেয়েদের গিফট নিয়ে কাড়াকাড়ি। সব মিলিয়ে যেন একটা খুশির আমেজ চলছে। সাইফুল খান সে তো একবার এক মেয়ের দিক তাকাচ্ছে তো আর একবার আরেক মেয়ের দিক তাকাচ্ছে। সামনে পাশে পিছনে সবাই গিফটের জন্য গোল হয়ে বসে আছে। উনি এটা দেখে একটা লাগেজ টেনে খুলতে খুলতে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
‘গিফট কিন্তু সবার জন্য এনেছি, তবে ছোট থেকে বড়দের দেওয়া হবে। এবার সিরিয়াল দাও।

উনার কথাটা বলতে দেরি, কিন্তু ওদের সত্যি সত্যি লাইন দিতে দেরি হল না। সাইফুল খান ওদের দিক তাকিয়ে মুচকি হাসলেন, মনি হয় তাও মানা যায়, কিন্তু বড় মেয়েগুলো যে এমন করে দেখে উনি আবারও হাসলেন অতঃপর ভাবলেন, ‘মেয়ে গুলো কেমন বড় হয়েও বাচ্চা বাচ্চা রয়ে গেল? উনি সবার জন্য আনা একে একে গিফট সবার হাতে দিতে বললেন,
‘রোদ আম্মু?
‘হ্যাঁ আব্বু বলো?
‘আমার পাশে বসো!

উনি এটা বলতে রোদ ছোট ছোট পায়ে হেঁটে ওনার কাছে বসতে উনি আবারো বললেন,
‘আমার ছোট ফারি কই? তুমি আমার এই পাশে বসো।

ফারিও বাবার ডাকে দৌড়ে গিয়ে অন্য পাশে বসতে উনি দুই মেয়েকে দুহাতে আগলে দুজনের মাথায় চুমু খেয়ে বললেন,
‘আমার সোনা মায়েরা ভালো আছে তো? কতদিন পর আমার পাখিদের মুখ দেখলাম।

সাইফুল খান কে মেয়েদের এমন বুকে নিয়ে ভালবাসতে দেখে, মুহূর্তেই ভিজে উঠে দু জোড়া চোখ। আর সেই চোখ দু জোড়া আর কারো নয়, বরঞ্চ ইভার আর জুথির। আজ তাদের বাবা তাদের মাঝে যদি থাকতো, তাহলে সেও তো এভাবেই তাদের আদর করতো? সাইফুল খান রোদ ফারি কে আদর দিয়ে যখন ইভাদের ডাকবে তখন ওদের দিকে তাকাতে দেখে ওদের চোখে পানি, এটা দেখে উনি অবাক হয়ে ওদের ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে ওদের ইশারায় ডেকে বললেন,
‘এদিকে আসো তোমরা মামনি!

উনি ডাকতে ওরাও ছোট ছোট পায় ওনার কাছে আসতে উনি ওদের বুকে আগলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
‘তোমাদের চোখে পানি কেন মা?

উনার কথায় ওরা শুধু মাথা লাড়ালো, যার মানে না,এমনিতেই। উনি সব গিফট একে একে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়ে, ফ্রেশ হতে রুমে চলে গেলেন।

“আজ ৫ তারিখ, ৭ তারিখ ইভার গায়ে হলুদ,৮ তারিখ মেহেদী অনুষ্ঠান, ৯ তারিখে বিয়ে। তাই বিয়ের প্রায় বন্ধ ব্যবস্থার শুরু হয়ে গেছে। কাকে কি দাওয়াত দেওয়া হবে ভাইয়েরা মিলে প্রায় লিস্ট করে ফেলেছেন। এখন ঘরের কীর্তিদের পালা বাকি। উনাদের বাপের বাড়ির লোকেদের কিভাবে কি দাওয়াত দিবেন সেটাই ওনাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করছেন। একে একে সবাই সবার আত্মীয়-স্বজনদের কথা জানিয়ে যে যার কাজে গেছেন। তখন মাহমুদ খান সবাইকে এক জায়গায় ডেকে বললেন,
‘সেজ ভাই যেহেতু দেশে ফিরেছে, তাই তোমাদের সাথে আমার একটা ইম্পরট্যান্ট কথা ছিল!

Continue,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here