violent_love Mariam_akter_juthi #পর্বঃ৩১(এর প্রথম অংশ)

0
45

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩১(এর প্রথম অংশ)

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)

‘সেজ ভাই যেহেতু দেশে ফিরেছে, তাই তোমাদের সাথে আমার একটা ইম্পরট্যান্ট কথা ছিল!

মাহামুদ খান কে সিরিয়ার ভঙিতে কথা টা বলতে দেখে, সবাই গোল হয়ে বসতে, ওনি তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,
‘সেজ ভাই কিংবা বড়ো ভাই , তোমাদের কোন আপত্তি না থাকলে রোদ আম্মুকে আমার রাদিফের বউ করতে চাই। কথাটা বলে উনি মুচকি হাসলেন।

ওনার কথায় সবাই অবাক হয়ে একেকজন এককজেনের দিক তাকিয়ে থাকতে সাইফুল খান বললেন,
‘আলহামদুলিল্লাহ! রাদিফ বাবার মতো ছেলে আমার মেয়ের জন্য পেলে তো কথাই হবে না। তাছাড়া ওদের সম্পর্ক টা হলে ভালোই হবে, কি বলো বড় ভাই? উনিও হেসেই কথাটা বললেন।

ওনাকে হেসে কথা বলতে দেখে সাফওয়ান খান বললেন,
‘ভাই তো বলেই দিল, তাছাড়া এটাই ভালো বাড়ির মেয়ে বাড়িতেই থাকবে। তোমরা কি বলো? কীর্তি দের দিকে তাকিয়ে। কর্তাদের অনুমতি পেয়ে ওনারা ও মুচকি হেসে সায় জানিয়ে সবাই মাথা নাড়ল। যার মানে এতে ওনাদের ও কোন আপত্তি নেই।

মাহামুদ খান সবার হাসি মুখ দেখে রোদের দিক তাকিয়ে বললেন,
‘রোদ আম্মু তোমার কোন আপত্তি আছে?

রোদ মেঝো চাচ্চুর কথায় হাঁসফাঁস করে মায়ের দিক তাকাতে, উনার করা ইশারায় হ্যাঁ বলতে দেখে,রোদ তাড়াতাড়ি করে চোখ নামিয়ে ছোট্ট করে বললো,
‘না, তার কোন আপত্তি নেই।

রাদিফ সিঁড়ি পর্যন্ত আসছিল তখন সবার কথায় ওখানে দাঁড়িয়ে যায়, কথার শেষ সবার মতামত দেখে পাশাপাশি রোদ কে সহমত দিতে দেখে, রাদিফ অস্থির ভঙ্গিতে –‘ও সিট যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। বলে রুমে চলে যায়, আরিশ ও নিচে আসার জন্য করিডর পর্যন্ত আসছিল নিচে বড়দের কথায়, পাশাপাশি রাদিফ কে এভাবে চলে যেতে দেখে বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুল দাঁতে কামড়িয়ে হাসলো। অতঃপর হেসে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতে, সাফওয়ান খান ওকে ডেকে বললেন,
‘তুমি কি গ্যান্টানার’ কে বিয়ের ইনভাইট করেছিলে?

আরিশ বাবার ডাকে সোফায় বসতে বসতে বললো,
‘হ্যাঁ বলে দিয়েছি, বলেছিলাম আজকে ফ্লাইটে উঠতে। কিন্তু কি ঝামেলার জন্য নাকি, আজকে হবে না, কালকে উঠবে। চিন্তা করো না ওরা হলুদ সন্ধ্যায় এখানেই থাকবে। বলে আরিশ সোফা থেকে উঠতে নিলে তৎক্ষণে ওর ফোন বাজায় পকেট থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে সেখানে বড় করে লেখা ‘সিস আরাধ্যা আহনাফ সূচি’। কলটা দেখে মুচকি হেসে সোফায় বসে কলটা রিসিভ করে বললো,
‘কেমন আছিস সুজি?
‘ওই তো ব্রো আছি?
‘কেন?
‘আরে আর বলো না তো, কলেজের প্যারায় পাশাপাশি পরীক্ষার চাপ সব মিলিয়ে অতিষ্ঠ পাগল প্রায়।

আরিশ সূচির কথায় দুঃখ প্রকাশ করে, বললো।
‘আহারে সুজির কি কষ্ট!

সুচি বুঝতে পারে আরিশ দুঃখ প্রকাশ করার নামে যে মজা নিচ্ছি, তাই ভ্রু কুচি করে বললো,
‘ব্রো তুই আর মজা নিস না, আর আমাকে একদম সুজি বলবি না?আমি সত্যি বলছি অনেক প্যারায় আছি।

“কি অবাক হচ্ছেন তো? সূচি কলেজ পড়ুয়া মেয়ে হয়ে আরিশ কে তুই বললো কেন? তাহলে শুনেন, এ দুজন খালাতো ভাই বোনের সম্পর্কটাই এমন। কতক্ষণ তুমিতেই থাকবে কতক্ষণ তুইতে। সূচি মেয়ে হিসেবে খুবই ভালো ও মিশুক। কিছুদিন আগে ওর অসুস্থ বাবা মারা গেছেন, সে শোক কাটিয়ে এখন যে একটু স্বাভাবিক হয়েছে এটাই অনেক।

আরিশ সূচির কষ্টময় কথা শুনে বললো,
‘আমি দেশে ফিরলাম, খালামনি আসলো তুই আসলি না কেন?
‘ওরে ভাই আসতে তো চাইছিলাম! একটু সমস্যার জন্য আসতে পারিনি।

আরিশ কে কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে, জুথি ভ্রু কুঁচকে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত পায়ে নেমে ওর পাশে দাঁড়াতে আরিশ আড় চোখে ওকে একবার দেখে কিছু একটা ভেবে ঠোঁট কামড়ে হেসে ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো,
‘তোমাকে খুব মিস করছি সোনা, তুমি আসবে কবে সেটা বলতো?

সূচি আরিশের এহেম কথায়, অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে দ্রুত ভঙ্গিতে বললো,
‘এই ভাই তোমার কি হয়েছে? এমন ভাবে বলছো কেন?

আরিশ সূচিকে বোকা বনে যেতে দেখে, ফোনটা মুখের সামনে এনে হোল্ড করে টেক্সট লিখে পাঠালো, —‘আমার মৌচাক তোর সাথে কথা বলতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাই তাকে আর একটু ক্ষ্যাপানোর জন্য…. সূচি মেসেজটা পেতে মুচকি হেসে মনে মনে বললো, –‘পাগল। বলে মুখে বললো,
‘আচ্ছা শোনো ভাই আজ তো হবে না,কাল ছুটি নিয়ে পরশু গায় হলুদের সন্ধ্যায় থাকবো।
‘আচ্ছা। — বলে ফোনটা রেখে, জুথি কে দেখেও না দেখার মত করে, উঠে চলে যেতে নিলে, জুথি কোমর হাত দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
‘আরিশ ভাই?

আরিশ ঠিকই ভেবেছিল তার বোকা মৌচাক এখন তাকে ঠিক পিছু ডাকবে, সে সেজন্য প্রস্তুতি নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। ডাক পেতে পিছন ঘুরে জুথির মুখের কাছাকাছি মুখ এনে বললো,
‘হুম। ডান ভ্রু জাগিয়ে।

জুথি আরিশ কে এত কাছে থেকে লক্ষ্য করে, তার মুখের দিক একটু তাকিয়ে সাথে সাথে চোখ দুটো বন্ধ করে ঢোগ গিলে নিঃশ্বাস নিতে নিতে ভাবল – ‘তার শখের পুরুষ দেখতে কি মারাত্মক! উফফফ।

আরিশ জুথি কে চোখ বন্ধ করে নিতে দেখে, আশপাশটা তাকালো অতঃপর টুপ করে গালে একটা চুমু খেয়ে বললো,
‘ডাকলি কেন?

জুথি আরিশের চুমু খেয়ে তাড়াতাড়ি করে চোখটা খুলে আশপাশটা তাকাতে দেখে,না কেউ তাদের দিকে তাকিয়ে নেই। এটা দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আরিশের দিক তাকিয়ে বললো,
‘কথা ছিল।

আরিশ বসার ঘরে সবার দিক একবার দেখল,কেউ কাজ করছে, তো কেউ মাঝে মাঝে ওদের দিক তাকাচ্ছে। এটা দেখে আরিশ হুট করে জুথি কে কোলে তুলে বাহিরের দিক যেতে নিলে জুথি নামতে চেয়ে বললো,
‘আরে, আরে কি করছেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

আরিশ জুথির কথায় কোন জবাব না দিয়ে, সোজা গার্ডেন এর কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে।একটু ঝুঁকে জুথির কপালে চুমু খেয়ে বললো,
‘কি কথা এখন বল!
‘নামান আমাকে।

আরিশ জুথি কে আস্তে করে দাঁড় করাতে, জুথি মুখ দিয়ে ফু এর মতো শ্বাস ছেড়ে বললো,
‘আমার কিছু জিনিস লাগবে।
‘কি লাগবে?
‘আপনাকে বলা যাবে না।
‘তাহলে কিভাবে দিব? ভ্রু কুঁচকে।
‘সে আমি নিয়ে নিব!
‘কিভাবে?
‘আপনি একটু আগে বলে এলেন না? আমি যেন আপনার অনুপস্থিতে বাহিরে না বের হই? তাই আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিতে এলাম,আপনি শুধু বাহিরে যাওয়ার পারমিশন দেন।
‘নো! গম্ভীর কন্ঠে।
‘প্লিজ, আমি তো আপ,, বলতে নিয়েও থেমে যায়।

জুথিকে থেমে যেতে দেখে, আরিশ ওকে কাছে টেনে বললো,
‘টাকা লাগবে?
‘না না টাকা লাগবে না, আমার কাছে অনেক টাকা আছে। আপনি শুধু,,
‘কত টাকা আছে?
‘অনেক আছে।
‘তাহলে আমাকে দে?
‘আপনাকে কেন দিব?
‘তুই না বললি অনেক আছে?
‘হুম আছেই তো।
‘তাহলে সেখান থেকে আমাকেও কিছু দে।
‘না আপনাকে দিব না,
‘কিন্তু আমার যে লাগবে!
‘আরে আপনার তো অনেক টাকা আছে? আমার টাকা নিয়ে কি করবেন?
‘আমি এতকিছু জানিনা, আমার টাকা লাগবে আমাকে টাকা দিতে হবে।
‘না, দিব না!
‘ওকে না দিলে একটা শর্ত আছে?
‘কি শর্ত? কন্ঠটা ছোট্ট করে।
‘আমাকে চুমু খাও!

আরিশ কথাটা বলতে, জুথি চোখ দুটো বন্ধ করে ঠোট দুটো চুমুর মত করে আরিশের দিক করতে,আরিশের কোন রেসপন্স না পেয়ে চোখ মেলে তাকাতে দেখে আরিশ ঠিক আগের মতো দাঁড়িয়ে। এটা দেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘কি হলো নুচ্ছেন না কেন?
‘চুমু খাবি তুই, আমি কেন নুব?
‘আরে আমি তো আপনার থেকে শর্ট, আপনাকে কি নাগাল পাব?
‘আমি কি জানি, হয়তো টাকা দিবি নয়তো চুমু খাবি!

জুথি বুঝতে পারে, আরিশ ইচ্ছে করেই এমন করছে। তাই ও আরিশের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ওভাবে দু পা পিছিয়ে গিয়ে দৌড়ে আরিশের গলায় ঝুলে চুমু খাওয়ার চেষ্টায়, উম উম করতে, এবারও ব্যর্থ হল। কারণ আরিশ ইচ্ছে করে মুখটা সোজা করে রেখেছে। যেন জুথি চুমু খেতে না পারে। জুথি অনেক চেষ্টা করে চুমু খেতে না পেরে, হাল ছেড়ে আরিশের গলায় মুখ লুকাতে, আরিশ ওকে দুহাতে আবদ্ধ করে ডাকতে ও আরিশের দিক তাকাতে, আরিশ মুচকি হেসে ওর ঠোঁটে ঠোঁট মিলালো। এমন যে দুজনে কতক্ষণ ছিল হয়তো দুজনার কারো জানা নেই। হঠাৎ ফারির কথায় তাদের ধ্যান ভাঙ্গে, –‘হায়রে কি ভালোবাসা! বাগানে বসে টাইটানিক মুভির সিন করছে।

ফারির কথায় জুথি আরিশের থেকে সরতে চাইলেও,আরিশ তাকে সরতে না দিয়ে নিজের মন মত কিছুক্ষণ থেকে ছেড়ে ফারির দিকে তাকিয়ে বললো,
‘বাগানে এসেও শান্তি নেই। অনেক বড় হয়ে গেছিস, দাঁড়া তোরও একটা বিয়ের ব্যবস্থা করছি।
‘আর বিয়া? আমার কপালে নেই। বলে ফিক করে হেসে দিল।

জুথি আরিশের কাছ থেকে একটু সরে ফারির কাছে দাঁড়িয়ে বললো,
‘আমি কি যাবো?

আরিশ তার প্রিয়সীর দিক একবার তাকালো অতঃপর কিছু একটা ভেবে বললো,
‘ওকে তবে আয়ানক সাথে নিয়ে যাবি।
‘ঠিক আছে আয়ান ভাইকে সাথে নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই।
‘ওকে।

আরিশ কে, ওকে বলতে দেখে জুথি খুশি হয়ে আরিশ কে হুট করে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘অনেক অনেক ধন্যবাদ!
‘হুম। আমি বেরোচ্ছি,আমার ফিরতে লেট হবে। ঠিকমতো খেয়ে নিস।
‘হুম।

আরিশ চলে যেতে জুথি ফারির কাঁধে ফারি জুথির কাঁধে হাত দিয়ে খুশি মনে বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে ফারি বললো,
‘অবশেষে পূর্ণতা পাবে?
‘আশা রাখছি! বাকিটা আল্লাহর উপর। বলে দু বোন আয়ানের রুমে গিয়ে দেখে আয়ান এখনো ঘুমিয়ে। এটা দেখে একে অপরের দিক তাকিয়ে কপালে হাত দিয়ে বিরক্ত হয়ে, আয়ানের শরীর থেকে খাতাটা টেনে সরিয়ে দুজনে চিল্লিয়ে বললো,
‘আয়ান ভাই? আর কত ঘুমাবে? এবার তো ওঠো! নিচে তানিশা এসেছে। বলে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।

আয়ান দুই বোনের এমন ভয়ংকর চিৎকার শুনে পাশাপাশি তানিশার কথা শুনে সাথে সাথে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে লাফ দিয়ে বিছানায় বসে বললো,
‘কি হয়েছে বনু? আর সত্যি তানিশা এসেছে?
‘না, তোমাকে মিথ্যা বলে উঠালাম।
‘আমার ইমোশন! বলে ঠোঁট ভেটকালো।

আয়ান কে ঠোট ভেটকাতে দেখে ফারি ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘আয়ান ভাই তুমি তানিশার কথা শুনে এত খুশি হলে কেন?
‘আরে তুই জানিস না? আয়ান ভাই তো তানিশাকে পছন্দ করে!
‘আ্যহ! হায় আল্লাহ একে একে সবাই সেটেল হচ্ছে। আমার পছন্দের বিদেশি পোলা কবে আসবে? হায়রে এমন পোলা মনে হয় আসবেও না, আমার বিয়েও হবে না? বলে দুঃখ প্রকাশ করতে, জুথি আয়ান ওর মুখের এক্সপ্রেশন দেখে ফিক করে হেসে উঠলো। অতঃপর জুথি আয়ানের দিক তাকিয়ে বললো,
‘তোমাকে কালকে কি বলেছিলাম?
‘আমি তো বললাম ভাই পারমিশন দিলে নিয়ে যাব।
‘উনি পারমিশন দিয়েছেন, এখন তো নিয়ে চলো?
‘আচ্ছা তাহলে তোরা রেডি হ আমি ফ্রেশ হয়ে রেডি হচ্ছি।
‘আচ্ছা।

জুথি ফারি,আয়ানের কথায় রেডি হওয়ার জন্য যে যার রুমে যেতে যেতে ফারি নিজের কথা ভেবে উপরের দিক তাকিয়ে বললো, – ‘আমার কপালটা এমন কেন? আমার প্রিয় কল্পনা পুরুষ তুমি আসবে কবে? আমার মতো এই হতভাগীকে তোমার করবে কবে? বলে গিয়ে উঠলো,

~ ~ সাত সাগর আর তের নদী…
~~ পার হয়ে তুমি আসতে যদি?
~~ রূপকথার রাজকুমার হয়ে…
~~ আমায় তুমি ভালো বাসতে যদি।

গানটা গাইতে গাইতে ফারি দুঃখ প্রকাশ করে নিজের রুমে চলে গেল।

“বসার ঘরে, যে যার কাজ সেরে রুমে যেতে থেকে গেল মেহজাবিন খান। যদিও উনি নিজের কাজই থেকেছেন, স্বামী ফিরেছে আজ দীর্ঘ চার মাস পর। তাই নিজের হাতে স্বামীর জন্য ব্ল্যাক কফি বানাচ্ছেন, এই টাইমে উনি এটা খুবই পছন্দ করেন তাই। সাইফুল খান ও, স্ত্রীর খোঁজে রান্নাঘরে আসতে উনাকে একলা পেয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে বললেন,
‘কই জামাই দেশে ফিরেছে তাকে একটু আদর সোহাগ করবে, তা না করে রান্না ঘরে ঘুরঘুর করছ?

স্বামীর কথায় বেশ লজ্জা পান মেহেজাবিন খান, অতঃপর বললেন,
‘এই বুড়ো বয়সে তোমার আদর চাই তাই না?

স্ত্রীর এহেম কথায়, মুখ বাঁকিয়ে শক্ত চোয়ালে বললেন,
‘আমি একদম বুড়ো হইনি, আমি এখনো টগড়া যুবক। বিশ্বাস না হলে রুমে চলো প্রুফ দিয়ে দিব।

মেহজাবিন খান স্বামী কে মুখ বাঁকিয়ে কথা বলতে দেখে বললেন,
‘এহ দুই মেয়ের বাবা হয়ে, আসছে উনি নাকি টগড়া যুবক?

সাইফুল খান স্ত্রীর কথায় আশপাশটা দেখলেন, অতঃপর ওনাকে কাছে টেনে কোলে তুলে রুমে গেলেন,,

Continue,,,

#violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ৩১(এর শেষ অংশ)

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টক্সিক লাভ স্টোরি)

“কড়া রোদ্র, বেলা প্রায় দুপুর ২.২২ এর ঘরে, মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়েছে আয়ান। দাঁড়িয়েছে বললে ভুল হবে তাকে এক প্রকার বাধ্য করে মার্কেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে,জুথি ফারি ভিতরে গেছে প্রায় এক ঘন্টা হতে চলল, এখনো তাদের কেনাকাটা শেষ হয়ে বাহিরে আসার নাম নেই। যদিও আয়ান যেতে চেয়েছিল, কিন্তু জুথি কোনভাবেই আয়ানকে ভিতরে নিতে রাজি নয়। তাই সে, সেই তখন থেকে বাহিরে অপেক্ষা করছে, এমন কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হতে আয়ান দেখে, ফারি জুথি কতগুলো শপিং ব্যাগ হাতে হাসি মুখে বেরিয়ে আসছে,এটা দেখে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে,আয়ান এগিয়ে গিয়ে বললো,
‘মেয়েদের নিয়ে এজন্যই বের হতে হয় না, অবশেষে তোমারা বের হলে?
‘আয়ান ভাই এমন করছ কেন? একটু মার্কেটেই তো নিয়ে এলো?
‘হ্যা হ্যাঁ আমাকে রোদের ভিতর বাহিরে দাঁড় করে, নিজেরা ভিতরে এসির বাতাস খাচ্ছেন, আর বড় বড় কথা বলছেন?
‘বিশ্বাস কর আর কখনো বড় বড় কথা বলবো না, একদম মেপে মেপে ছোট ছোট কথা বলবো। -মুচকি মুচকি হেসে।

আয়ান জুথি কে মুচকি মুচকি হাসতে দেখে তেরে এসে বললো,
‘তবে রে, তুই দাঁড়া, — তাকে আর কে পায়? এক হাতে ব্যাগ নিয়ে অন্য হাতে ফারির হাত চেপে রাস্তায় ভোঁ দৌড়। ওদের দৌড়াতে দেখে আয়ান থামাতে চেয়ে বললো,
‘বনু এভাবে দৌড়াস না, আমি কিছু বলবো না।

ব্যাস আয়ানের এতোটুকু কথায় দুজনেই থেমে গেল, অতঃপর ঘুরে জুথি আয়ানের দিক তাকিয়ে বললো,
‘আইসক্রিম শপে নিয়ে চলো!
‘আচ্ছা চল।
‘টাকা কিন্তু তুমি দিবে।
‘ওকে।

তিন ভাই বোন, আইসক্রিম শপে আইসক্রিম খেয়ে, তবেই বাড়ি ফিরল। জুথি ফারি, বাড়ি ফিরে জিনিসগুলো জুথির রুমে রেখে ফারির দিক তাকিয়ে বললো,
‘সবকিছু নিয়ে তো এলাম, এবার সবকিছু ভালোয় ভালোয় হবে তো?
‘ইনশাল্লাহ! – এতোটুকু বলে থেমে ফারি আবার বললো, —‘এখন একটা লম্বা শাওয়ার নিতে হবে, বইনা আমি গেলাম। বলে ফারি যেতে নিলে জুথি ওকে থামিয়ে বললো,
‘আচ্ছা ফারি, তুই তো অনেক গভীরে চিন্তা করে পদক্ষেপ নিস, আমি জানি আমি ম্যাচিওর নয়, বারবার ভুল করি। আমার থেকে অনেক ম্যাচিউর তুই। আমার পথে পদে ভুল হলে, তুই সেটা ধরিয়ে দিতি? কোনটা ঠিক হবে, কোনটা ভুল হবে, সেটা তুই আমাকে বলে দিতি,কিন্তু একটা বিষয় তুই লক্ষ্য করলি না, আমিও প্রথমে ভাবিনি, তবে একদিন হঠাৎ মনে হল! তাই অনেক ভেবেচিন্তে মিলালাম।

ফারি জুথির হেঁয়ালি কথার কপাল কুঁচকে ভ্যাং করে বললো,
‘ও তার মানে তোর গটে বুদ্ধি হইছে?
‘ফারি আমি সিরিয়াল!

জুথি কে সত্যি সত্যি সিরিয়াস হতে দেখে, ফারিও নড়েচড়ে স্বাভাবিক হয়ে ওর কাছে এসে কাঁধে হাত দিয়ে বললো,
‘কি হয়েছে বোন?
‘আচ্ছা ফারি সেদিন রাত্রিবেলার ঘটনা তোর খটকা লাগিনি?
‘কোন রাত্রিবেলা?
‘আরে ঐদিন যেদিন আমি আর তুই গল্প করছিলাম, এমন সময় উনি (আরিশ ভাই) আমাদের নিচে ডেকে ছিলেন?
‘হুম তো?

জুথি ফারির থেকে একটু সরে নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
‘দেখ? সেদিন উনি ডাকলো? আমি গেলাম, উনি ওনার পাশে বসতে বললো? আমি বসলাম! অতঃপর উনি সর্বপ্রথম আমাকে আন্টি গিফট দিলেন, তারপর মুহূর্তে উনি নিজে আংটি না পরে,আমার থেকে আংটি পড়লেন, তারপর পেপার সাইন করালেন, নিজেও করলেন। তারপর আমাকে কথার প্যাচে ফেলে চারবার কবুল বলালেন,আমি কবুল বলতে উনি আলহামদুলিল্লাহ বলে, নিজেও তিনবার কবুল বলে আমাকে চলে আসতে বললেন। আমরা চলে এলাম, আবার সেদিন ওখানে সবাই উপস্থিত ছিলো। বিষয়টা কেমন লাগলো না?

ফারি জুথির কথায় এবার অনেকটা সিরিয়াস ভঙ্গিমা নিয়ে ভাবতে বলে উঠলো,
‘আসলেই তো এভাবে ভেবে দেখিনি তো?
‘হু।

জুথি কে হু বলতে দেখে ফারি উত্তেজিত ভঙ্গিমায় বিছানায় বসে ছক মিলিয়ে বললো,
‘প্রথমে আংটি বদল মানে এনগেজমেন্ট, তারপর পেপার সাইন মানে রেজিস্ট্রি পেপার, অতঃপর কবুল মানে বিয়ে সম্পূর্ণ।
‘হুম।
‘আরে বাহ,ইউনিক বিয়ে হয়ে গেল না?
‘এটা তো মাত্র আমাদের ধারণা! আমরা তো শিওর নই।

ফারি জুথির কথায় মুখটা ভেজার করে নেতিয়ে পড়ে বললো,
‘হুম সেটাও ঠিক।

জুথি ফারির কাছে বসতে বসতে মুখটা ছোট করে বললো,
‘জানিস ফারি ঐদিনের রাত থেকে, উনি কিন্তু আমাকে ওনার রুমেই রেখেছেন। উনি দেশে ফিরে আমাকে অনেকবার ছুয়েছেন, তবে ওই দিনের পর থেকে ওনার ছোয়া গুলো কেমন গভীর মনে হতো, কিন্তু ওনাকে জিজ্ঞেস করতে উনি কখনোই স্বীকার করেন না। বরং বলেছেন উনি নাকি আমাকে ভালোবাসেন না,
‘তোকে যেভাবে বললাম আগে সেভাবে কর, দেখবি ভাই স্বীকার না করে থাকতেই পারবে না।

জুথি কোন উত্তর করল না, শুধু নিঃশ্বাস ছাড়লো। জুথি কে চুপচাপ থাকতে দেখে ফারি বললো,
‘প্রপোজটা করবি কবে?
‘ভাবছি আপুর মেহেদী অনুষ্ঠানের দিন! কালকে গায়ে হলুদের দিন,প্রচুর ঝামেলা থাকবে, পরশু মেহেদি ওই দিন একটু কম, তাই ঐ দিন করলেই ভালো হবে।

“খান বাড়ির বিয়েতে রাজকীয় হবে এটাই স্বাভাবিক, পাশাপাশি নতুন আত্মীয় আসবেন বলে গেস্ট আপ্পায়নের জন্য সাফওয়ান খান বিশেষভাবে আয়োজন করেছেন, বিয়ে বলে এই প্রথম বার গ্যান্টানার’ আরিশ দেশে ফেরায় উনি আসবেন। তাই উনার জন্য আলাদা ভাবে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গায়ে হলুদের সব আয়োজনের শেষ,বাড়িতে প্রায় দাওয়াতি মানুষ চলে এসেছেন, সাফওয়ান খান সবটা পরিচালনা করে সোফায় বসতে আরিশ শার্টের হাতা ব্লড করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতে, উনি ক্লান্ত শরীরে ওকে কাছে ডাকলেন, আরিশ উনার ডাকে সোফায় বসতে বললো,
‘তাড়াতাড়ি বল আব্বু, বাবাই এয়ারপোর্ট চলে এসেছে!
‘ও উনি এসে গেছেন? আমিও এটাই জিজ্ঞেস করবো করে। তাহলে তুমি তাড়াতাড়ি ওনাকে নিয়ে এসো।
‘হুম। বলে আরিশ চলে গেল

খান বাড়ি জুড়ে মেহমানের আবির্ভাব, বাড়ির সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত, কীর্তিরা গ্যান্টনার’ উনার ফ্যামিলি আসবে বলে রান্নার একে একে আইটেম সাজাচ্ছেন। এমন সময় আরিশ ওনাদের নিয়ে বাড়ি ঢুকে মা,মা বলে ডাকতে সানজিদা খান বসার ঘরে আসলেন, এসে ওনাদের বিনয়ের সাথে সোফায় বসিয়ে, খাবারদাবারের আপ্যায়ন করলেন। এমন সময় মনি এসে ওনাদের পাশে বসতে ফট করে বলে ফেললো,
‘এই ভাইয়াটা দেখতে এমন কেন? আর এত সুন্দর কেন গায়ের রং? আমার তো ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

মনির এমন কথায় লুসিয়ান মাথা চুলকে আরিশের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘ভাই এ ময়ে কি ভোলছো? অমর ত লঝঝা লগছ।

আরিশ লুসিয়ান এর বাংলা শুনে ওর মাথায় চাপড় মেরে বললো,
‘ছোটু তোর বাংলা তুই রুমে গিয়ে বলিস, নয়তো আমার কচিকাঁচা, ভাই বোন এখনই বেহুশ হয়ে পড়বে।

লুসিয়ান আরিশের কথায় বেশ লজ্জা পেল, অতঃপর রক্ষক কন্ঠে বললো,
‘একদন তমর থকেও বালো বাংলা ভোলব।
‘যখন বলবি তখন,

ওদের কথার মধ্য, জুথি ফারি দ্রুত পায়ে রেডি হয়ে ওদের লক্ষ না করে বসার ঘর পেরিয়ে বাহিরে যেতে নিলে তৎক্ষণে আরিশ পিছু ডেকে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
‘কোথায় যাচ্ছিস?

জুথি আরিশের গম্ভীর কণ্ঠ পেয়ে তৎক্ষণে পিছন ঘুরে বললো,
‘আ,আপনি না বাহিরে গিয়েছিলেন?
‘তোকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি?

জুথি আরিশের পর পর গম্ভীর কন্ঠে বলা কথায় মিন মিন করে বললো,
‘আসলে তানিশাকে নিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম।
‘তোকে যেতে হবে না আমি আয়ান কে পাঠাচ্ছি।

আরিশ গম্ভীর কণ্ঠে কথাটা বলতে,জুথি রুমের দিকে যেতে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, সোফায় বসে থাকা মানুষগুলো দেখে। উনাদের দেখে মুচকি হেসে কাছে গিয়ে বললো,
‘আরে তোমরা সেদিনের ওই আন্টি আঙ্কেল গুলো না?

জুথি কে দেখে ইন্দ্রিয়া ত্যাইনিন’ হাতের ইশারায় উনার কাছে ডাকতে জুথি ছোট ছোট পায়ে উনার কাছে গিয়ে বসতে উনি জুথি কে বুকে জড়িয়ে কপালে চুমু খেয়ে বললেন,
‘বাহ আমার মা কে দেখতে তো, মাশাআল্লাহ।

ওনাদের কথার মধ্যে লুসিয়ান বাহাত ঢুকিয়ে ওর বিখ্যাত বাংলায় বললো,
‘অরে এ ত সই আসধারণ বঙালি ময়ে টা। বলে মুচকি হাসলো।

ওর এমন বাংলা কথায় জুথি আরিশের দিক তাকাতে ধান ভাঙ্গে,ফারির উচ্চ হাসির শব্দে। লুসিয়ানের এমন বাংলা কথায় ফারি ফিক করে হেসে দিতে তৎক্ষণে লুসিয়ান দৃষ্টি ঘুড়িয়ে ওর দিক তাকালো। অতঃপর দুজনের চোখাচোখি হতে দুজনেই চোখ সরিয়ে নিল। লুসিয়ান বেশ লজ্জা পেল, শেষমেষ কিনা একটা মেয়ে ওর বাংলা বলাতে হাসলো? তবে লুসিয়ান আড় চোখে ফারিকে কয়েক বার প্রজাবেক্ষণ করলো, লম্বা চুল, হলুদ ফর্সা শরীর সরু নাক, চিকুন গোলাপি রাঙ্গা দুটো ঠোঁট, মন কারা হাসি, সব মিলিয়ে যেন কয়েকবার আড় চোখে দেখল। তাৎক্ষণে ফারি কোশল বিনিময় করার জন্য উনাদের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো,
‘আসসালামু-আলাইকুম! আঙ্কেল আন্টি আপনারা কেমন?
‘ফাইন আম্মু! হাউ আর ইউ?
‘আলহামদুলিল্লাহ!
‘আপনাদের আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো?
‘নো আম্মু আমাদের আসতে কোন সমস্যা হয়নি।

“ওনাদের সাথে সবার বেশ কিছুক্ষণ কথা হতে, উনাদের খাবারটা খাওইয়ে, বিশ্রাম নিতে সাফওয়ান খান রুমে নিয়ে গেলেন। এমন সময় হাসিমুখে হাই বলতে বলতে বাড়িতে ঢুকলো সূচি, আরিশ সূচি কে ঢুকতে দেখে রুমের দিক যেতে নিয়েও জায়গায় দাঁড়িয়ে যায়, সূচি এগিয়ে এসে আরিশ কে হাগ করতে নিলে, তৎক্ষণে জুথি আরিশের সামনে এসে দুহাতে আরিশ কে পিছনে রেখে ভ্রু কুঁচকে বললো,
‘মুখে কথা বলতে পারো না? জড়িয়ে ধরতে হবে কেন?
‘আরে আমার ভাই আমি জড়িয়ে ধরতে পারবো না? বোকা বনে যেয়ে।
‘না।
‘কেন?
‘আমি বলেছি তাই…..

Continue,,,,,।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here