অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৩) #সোফিয়া_সাফা

0
89

#অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৩)
#সোফিয়া_সাফা

টেরেসের কিনারায় এসে রেলিঙ ধরে ফুল কান্নায় ভেঙে পড়ল। ঠিক করল এখনই গিয়ে সব মেক-আপ তুলে ফেলবে সে। ভাবনা মোতাবেক রুমে এসে কাঁদতে কাঁদতেই মুখ ধুয়ে নিল ফুল। চুলগুলো ক্লাচারের সাহায্যে বেঁধে নিয়ে আবারও টেরেসে চলে এল। উর্বী আর অনিলা স্টেজে বসে কথা বলছিল। ফুল গিয়ে তাদের পাশে বসলো।

উদ্যান বসে আছে স্টেজের সামনেই, সাউন্ড বক্সে মাঝারি আওয়াজে বেজে চলেছে একটা হিন্দি সং:

ভিগে হোঁট তেরে, পিয়াসা দিল মেরা
লাগে আব্র্ সা হাঁ, মুঝে তান তেরা
জামকে বারসা দে, মুঝপার ঘাটায়ে
তুহি মেরি পিয়াস, তু হি মেরা জাম
​কাভি মেরে সাথ, কোয়ি রাত গুজার
তুঝে সুবহা তাক, ম্যায় কারু পিয়ার হাঁ…
ওহ ওহ, ওহ ওহ ওহ, ওহ ওহ ওহ, ইয়ে ওহ ওহ ওহ

ফুলের ভীষণ অস্বস্তি লাগছে। উদ্যানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তাকে এক অদৃশ্য অনলে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। লোকটা না তাকে ‘বিশ্রী’’ বলেছিল তাহলে কেন ওভাবে তাকিয়ে আছে? ওভাবে তাকিয়ে থাকার মানে কী? উপরন্তু এইসব গান কে ছাড়ে বিয়েতে? এটা গান নাকি ফাজলামি?

“তেহ তুই নাকি সোহম আর লুহানকে হাগ করতে দিয়েছিস। দেখ, এটা কিন্তু ঠিক নয়। তুই আমাদের দুই চোখে দেখছিস।” পাশ থেকে ভেসে আসা অনির কণ্ঠে উদ্যানের আচ্ছনতা কাঁটল।

অন্যদিকে চোখ সরিয়ে বলল, “তো এক চোখ বন্ধ রেখে আরেক চোখ দিয়ে দেখবো নাকি?”

সোহম ফিক করে হেসে উঠল। রিদম এতোক্ষণ চুপচাপ থাকলেও এবার মুখ খুললো, “ও বলতে চেয়েছে তুই আমাদের তুলনায় ওদের বেশি বেশি গুরুত্ব দিয়েছিস।”

“হাগ করতে দেওয়া মানে গুরুত্ব দেওয়া? লিসেন, ওরা জোর করে হাগ নিয়েছে। আমি মোটেও যেচে পড়ে দিতে যাইনি।”

রিদম চেয়ার ছেড়ে উদ্যানের সামনে এসে দাঁড়াল। একপ্রকার জোর করে টেনেটুনে ওঠাতে লাগল তাকে। উদ্যান ভারী বিরক্ত হয়ে বলল, “কী করছিস এগুলো?”

অনিও এসে তাকে ওঠাতে সাহায্য করল। একগাল হেসে বলল, “সেটাই তো এখন আমাদের কাছে জোর করে নেওয়ার সুযোগ আছে। তাই আমরাও জোর করে হাগ নেবো আজ। তুই ওদের বাঁধা দিসনি তাই আমাদেরও দিতে পারবি না।”

উদ্যান নিরুপায় হয়ে লম্বা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল। দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে বলল, “নে তাড়াতাড়ি করে শান্তি দে আমাকে।”

বলতে দেরি হলো কিন্তু রিদম আর অনির হাগ করতে দেরি হলো না। দুজন দুদিক থেকে হাগ করেছে। একজন পেছন থেকে আরেকজন সামনে থেকে।

স্টেজে বসে থাকা অনিলা, ফুল আর উর্বী মিষ্টি হেসে তাদের খুঁনসুটি উপভোগ করছে। অনিলা বলল, “এখন আমার সত্যিই মনে হচ্ছে ওরা না মানলেও ভেতরে ভেতরে খুব ভালো বন্ধু। কী বলো ফুল?”

“আমি শিওর ওনারা বেস্ট ফ্রেন্ড। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”

উর্বীও যেন একমুহূর্তের জন্য সন্দেহ করতে ভুলে গেল। বেশ অনেকক্ষণ পর অনি আর রিদম উদ্যানকে আলিঙ্গন মুক্ত করল। ছাড়া পেয়ে উদ্যান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শার্ট ঠিক করতে লাগল তখনই সে লক্ষ্য করল মেলো ধীর পায়ে তার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। মেলোর মনোভাব বুঝতে পেরে উদ্যান হাত উঁচিয়ে বলল, “নো… মেলো। স্টে অ্যাওয়ে।”

মেলোর স্টাইলে বলেও মেলোকে আটকাতে পারল না উদ্যান। চোখেরই পলকে সে আছড়ে পড়ল উদ্যানের বুকের ওপর। সঙ্গে সঙ্গেই থমকে গেল চারপাশ, স্তব্ধ হয়ে গেল ফুল। মুখে লেগে থাকা হাসিটুকু রূপ নিল বিষন্নতায়। তবুও মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিল যে, ‘এটা ফ্রেন্ডলি হাগ।’
মনকে এটা বলেও শান্ত করতে পারল না ফুল। কারণ মেলোর হাগ করার ধরন ফ্রেন্ডলি ছিল না। উদ্যানের বুকে মুখ গুজে দিয়ে দুহাতে পেছনের শার্ট খামচে ধরা নিশ্চিতভাবে ফ্রেন্ডলি নয়।

উদ্যান হয়তো মেলোকে সরিয়ে দিতেই যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই চোখাচোখি হয়ে গেল ফুলের সাথে। ফুলের চোখের ঘোলাটে চাউনি, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে উদ্যানের মাঝে বিক্রিয়া ঘটল। সে মেলোকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে উল্টো সাপোর্ট দিল। যেটা আরও বেশি অবিন্যস্ত করে ফেলল ফুলের চিন্তাভাবনা। উদ্যান কাউকেই ব্যাক হাগ করেনি। তাহলে মেলোকে কেন করল? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পেল না সে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও মেলো ছাড়ল না উদ্যানকে আর নাতো উদ্যান নিজে থেকে সরিয়ে দিল তাকে।

ফুলের মতো আরও একজন ঝাপসা চোখে চেয়ে আছে তাদের দুজনের দিকে; সেটা হলো লুহান। বাকিরা একবার ফুলের দিকে তো আরেকবার উদ্যানের দিকে পর্যায়ক্রমে তাকাচ্ছে। ফুল আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না, এই ভরা মজলিসে; এতোগুলো লোকের সামনে নিজের দূর্বলতা তুলে ধরতে চায়না সে। আর নাতো চায় নিজেকে হাসির পাত্র বানাতে।
সে লম্বা শ্বাস নিয়ে একছুটে চলে গেল টেরেসের দরজার অভিমুখে। পেছনে ফিরে তাকাল না একবারও। নিজের রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিল।

ফুল স্থান ত্যাগ করার পরমুহূর্তেই উদ্যান মেলোকে দূরে ঠেলে দিল। মেলো শূন্য চোখে একবার তাকাল উদ্যানের দিকে। সেই চোখে কোনো অভিযোগ ছিল না, দূরে সরিয়ে দেওয়ার বেদনাও ছিল না; কেবল ছিল একটুকরো তৃপ্তি। যেই তৃপ্তিটুকু পাবে বলে কখনো কল্পনাও করেনি।

কেউ উদ্যানকে কোনো প্রশ্ন করল না। কিইবা প্রশ্ন করবে? তারাই তো জড়িয়ে ধরার জন্য হেদিয়ে মরছিল। খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে উদ্যান যান্ত্রিক পায়ে নিজেও প্রস্থান করল।

“তুই এমনটা কেন করলি?” সোহমের প্রশ্নে মেলো নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল, “কেন করলাম মানে কী? আমি কি তোদের চেয়ে ওর কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নাকি?”

অনি আওড়াল, “তাই বলে ওর বউয়ের সামনে ওভাবে হাগ করবি?”
“আমার হাইটের জন্য তোদের মতো করে গলায় গলায় হাগ করতে পারিনি।”

রিদম বলল, “তুই জেনেশুনেই করেছিস তাইনা? কী চাইছিস তুই? তেহকে হাগ না করলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যেতো?”

মেলো দায়সারা ভাব নিয়ে বলল, “ক্ষতি অবশ্যই হতো। তেহ আমাদের সবার কাছেই বিশেষ একজন। তোরা যেমন সুযোগটা হাতছাড়া করতে পারিসনি তেমন আমিও পারিনি।”

সবাই বেশ বিরক্ত হলো তার ওপর। মেলো কণ্ঠটাকে একটু নরম করে বলল, “তোরা শুধু শুধু একটা সামান্য বিষয়কে জটিল করে ফেলছিস। আমি এমন কিছুই করিনি যার জন্য এভাবে রিয়্যাক্ট করতে হবে।”

মেলো চলে যেতে নিল তখনই লুহান তার পথ আগলে দাঁড়াল, “তোর কাছে বিষয়টা সামান্য হলে এক কাজ কর আমাকে একবার হাগ কর।”

মেলো অবাক চোখে তাকাল। “তুই সিন ক্রিয়েট করতে চাইছিস?”

“নো।” বলেই লুহান এগিয়ে গিয়ে একে একে অনি, সোহম আর রিদমকে হাগ করল। তারপর আবারও এসে দাঁড়াল মেলোর সামনে।
“এবার তোর পালা। হাগ কর, নইলে তুই নিজেই ব্যাপারটাকে জটিল বানিয়ে ফেলবি।”

মেলো নিরুপায় হয়ে জড়িয়ে ধরল তাকে। লুহান চোখ বন্ধ করে উপভোগ করল আলিঙ্গন টুকু। সে ঠিক ততক্ষণ তাকে জড়িয়ে রাখল যতক্ষণ উদ্যান মেলোকে অ্যালাউ করেছিল। লুহানের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে মেলো যতদ্রুত সম্ভব নিচে নেমে গেল।

লুহান তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ঠোঁট প্রসারিত করল। সোহম এসে তার কাঁধে চাপড় মেরে বলল, “কী হচ্ছে হুম?”

লুহান মুখে গাম্ভীর্য টেনে সবার উদ্দেশ্যে বলল, “আমি শুধু প্রমাণ করতে চেয়েছি মেলোও আমাদের দেখাদেখিই তেহকে হাগ করেছে।”

অনি বলল, “সেটা আমরাও জানি। ও কখনো নিজেকে আমাদের থেকে আলাদা ভাবেনি। যদি আলাদা ভাবতো তাহলে কখনো আমাদের মতো পাঁচ পাঁচটা ছেলের সাথে এক ছাঁদের নিচে থাকতে পারতো না। আসলে তখন ফুলবানুর রিয়্যাকশন দেখে রাগ উঠে গিয়েছিল ওর ওপর।”

রিদমের একটু খারাপ লাগল, “উফ! আমিও হয়তো বেশি বেশিই বলে ফেলেছি। সরি বলতে হবে।”

রিদম চলে গেল মেলোর খোঁজে। সোহম ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল। বিড়বিড়িয়ে বলল, “এই প্রথম উপলব্ধি করলাম ও একটা মেয়ে। এর আগে মনেই হয়নি কখনো। টিয়ারফুলের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না।”

সঙ্গীত অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর সবাই যখন সবার রুমে ফিরে গেল তখন উদ্যান এল লুহানের রুমে। লুহান তখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। উদ্যানকে দেখে মৃদু হেসে বলল, “ঘুমাসনি এখনো? ভোর হতে চলল তো।”

উদ্যান একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল, “দেখ তখনকার ব্যাপারটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। তুই বুঝতে পারছিস নিশ্চয়ই?”

কথাটা বলতে গিয়ে উদ্যান অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। লুহান অবাক চোখে তাকাল তার দিকে। বলল, “তেহ আমরা সবাই দেখেছি মেলোই তোকে জড়িয়ে ধরেছে। সেখানে তোর কিছুই করার ছিল না। আর তুই যদি কাউকে কিছু বোঝাতেই চাস তাহলে ফুলকে গিয়ে বোঝা। ও-ই হয়তো উল্টোপাল্টা ভেবে বসে আছে।”

উদ্যান দায়সারা ভাব নিয়ে বলল, “ওকে বোঝাতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই আমার। যা খুশি বুঝুক গিয়ে।”

উদ্যান যেভাবে এসেছিল সেভাবেই বেরিয়ে গেল। লুহান তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হ্যাঁ, সে মাস কয়েক আগেই মেলোকে নিয়ে তার অনুভূতির কথা জানিয়ে দিয়েছিল তাকে। ব্যাপারটা এমন যে উদ্যান বাদে তারা পাঁচ জন কেউ কারো থেকে কোনো কিছুই লুকিয়ে রাখেনা। শুধু লুহানই লুকিয়ে রেখেছিল রুমার কথাটা। কারণ সে চায়নি মেয়েটা অকয়ার্ড ফিল করুক। রুমার কথা মনে পড়তেই চোখ বন্ধ করে নিল লুহান। শুধু রুমার কথাই নয় মেলোর কথাও সে বাকিদের থেকে লুকিয়ে রেখেছে। শুধু উদ্যানের থেকে আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।
আর কতো! অনেক বছরই তো লুকিয়ে রেখেছে।

দরজার দিকে তাকিয়ে কোনো নির্দিষ্ট একজনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই ভোর হয়েছে ফুলের। ফ্লোরে বসে হাঁটুতে গাল ঠেকিয়ে সে প্রহর গুনে গেছে লোকটার অপেক্ষায়। কিন্তু দেখা মেলেনি, লোকটা আসেনি তাকে বোঝাতে।

ফুল বুঝে গেছে লোকটা আসবেও না। তাই সে আর অপেক্ষায় না থেকে জামাকাপড় চেঞ্জ করে নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল।
তার যখন ঘুম ভাঙল তখন ঘড়ির কাটায় দুপুর দুটো। সে একেবারে শাওয়ার নিয়ে তারপর গেল উর্বীর রুমে। দেখল অনিলা আর উর্বী ব্যালকনিতে বসে আছে। তাকে দেখে অনিলা বলল, “তুমি হয়তো ঘুমোচ্ছিলে তাই লাঞ্চ করতে ডাকিনি। এখন গিয়ে লাঞ্চ করে এসো।”

ফুল একটা খালি চেয়ারে বসে বলল, “এখন ইচ্ছা করছে না, পরে খেয়ে নেবো।”

অনিলা ফুলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল, “আমি জানি তোমার মন ভালো নেই। কিন্তু শরীরটাকে তো ভালো রাখতে হবে তাইনা? আজ উর্বীর গায়ে হলুদ, ভুলে যেয়োনা সেটা।”

ফুল আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখল উর্বী মনমরা হয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। সে ধীরপায়ে উঠে দাঁড়াল, “আচ্ছা আমি লাঞ্চ করে আসছি। তোমরা থাকো।”

ফুল নিচে গিয়ে দেখল সেখানে কেউ নেই। তাকে দেখে একজন মেইড এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, “মিস্ট্রেসা, আপনার খাবার বেড়ে দেবো?”
“দিলে খারাপ হয়না।”

মেইড হাসল, ফুল তাদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করে। অবশ্য অনিলাও খারাপ ব্যবহার করেনা। জাস্ট ফুলের ব্যবহার অমায়িক লাগে।
খাওয়াদাওয়া শেষে ফুল আলতো পায়ে হেঁটে রিদমের দুয়ারের সামনে এসে থামল। দেখল, দরজাটা খোলাই আছে। সে মুখ বাড়িয়ে ভেতরে তাকাল কিন্তু রিদমকে চোখে পড়ল না। সে মৃদু গলায় ডাকল, “রিদম স্যার, আছেন আপনি?”

ফুলের ডাকে রিদম লাগোয়া একটা রুম থেকে বেরিয়ে এসে তার সমুখে দাঁড়াল, “কিছু কি বলবে?”

ফুল মাথা নাড়ল। একমুহূর্ত থেমে গিয়ে বলল, “ভাবিনি এভাবে আপনার সাথে এসে কথা বলবো…”

রিদম হাসল, “ভেতরে এসো।”
“না এখানেই ঠিক আছি, ভেতরে যাবো না।”
“ঠিক আছে, দাঁড়াও বসার জন্য কিছু এনে দিচ্ছি।”

ফুল না করার আগেই রিদম বড় বড় পা ফেলে একটা টুল নিয়ে এল। ফুলের দিকে সেটা এগিয়ে দিয়ে বলল, “আগে বলো আমার সাথে কথা বলবে, এটা না ভাবার কারণ কী? তুমি তেহুর বউ এটা জানার পর কি আমি তোমার সাথে বাজে ব্যবহার করেছি?”

টুলের ওপর বসতে বসতে ফুল বলল, “তা করেননি কিন্তু আপনাদের তেহুর কাছে আমার চেয়ে বেশি আপনি গুরুত্বপূর্ণ। সে আপনাকে বাঁচাতে আমাকে ইউজ করেছে। তাই একটু হিংসে করি আপনাকে, এই আরকি!”

রিদমের হাসিটুকু মিলিয়ে গেল, “বোকাফুল তুমি যা ভাবছো তা নয়, হয়তো এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।”

ফুল একটা ছোট্ট শ্বাস ফেলল, “যাক বাদ দিন, আমার মনে হলো উর্বী আপুর ব্যাপারে আপনাকে কিছু কথা বলা উচিত। তাই এলাম।”

রিদম নড়েচড়ে দাঁড়াল, “উর্বী কিছু কি বলেছে?”
“হ্যাঁ, আমার মনে হচ্ছে তার মনে আপনার জন্য ফিলিংস আছে। সেটা আরও গাঢ় হয়েছে আপনার মুখ থেকে ভালোবাসার কথাটা শোনার পর।”
“কিন্তু ও তো আমাকে দেখতেই পারেনা।”
“এই দেখতে না পারাটা তাকে আরও বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে।”

রিদম অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল, “আমার ঠিক কী করা উচিত বুঝতে পারছিনা।”
“বিয়েটা কি কোনোভাবে স্থগিত করা যায়না?”
“না বোকাফুল, অল্রেডি সবাইকে ইনভাইট করা হয়ে গেছে।”

ফুল ভাবনায় পড়ে গেল। আনমনেই বলল, “আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন আমি জানিনা। একটা পথ ছিল কিন্তু সেটা করার জন্য অনেক ভালোবাসা থাকা প্রয়োজন।”

কথাটা শোনামাত্রই রিদম অধৈর্য হয়ে উঠল। অস্থির গলায় বলল, “তুমি শুধু বলো কী করতে হবে। বাকিটা আমি বুঝে নেবো।”

ফুল মাথা নিচু করে আঙুল কচলাতে কচলাতে মিনমিনিয়ে বলল, “কসমেটিকস সার্জারির নাম শুনেছিলাম। সেটা করে নাকি মুখের আদল পাল্টানো যায়। আপনি যদি তেমন কিছু করে নিতেন তাহলে উর্বী আপুর সমস্যাটা মিটে যেতো।”

রিদম নিশ্চুপ হয়ে গেল। ফুল তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে হাসার চেষ্টা করে বলল, “আমি জাস্ট সম্ভাব্য একটা উপায় বলেছি। আপনার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না কোনোভাবেই… আমি যাচ্ছি!”

ফুল একপ্রকার ছুটে চলে গেল নিজের রুমের দিকে। রিদম দরজা ভিড়িয়ে রেখে কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে গিয়ে বসলো। দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জনের নম্বর কালেক্ট করে তাকে ফোন লাগাল।
ব্যস্ততার মধ্যেই ফুরিয়ে গেল দিনের আলো। এখন সন্ধ্যাবেলা, রিদম ত্রস্ত পায়ে রুমের মধ্যে পায়চারি করছে। কোনো ভাবেই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না সে। সার্জন বলেছে এই ধরনের সার্জারি বেশ সময়সাপেক্ষের ব্যাপার। এক রাতের ব্যবধানেই পরিবর্তন আনা অসম্ভব।
,
,
,
রাত ১০ টা, গায়ে হলুদের প্রোগ্রামের জন্য উর্বীকে তৈরি করা হচ্ছে। ফুল পরেছে বাসন্তী রঙের একটা জর্জেট থ্রিপিস। শুধুমাত্র উর্বীর পাশে থাকতে হবে বলেই সে অনুষ্ঠানে থাকবে নয়তো কোনো ইচ্ছাই ছিল না তার। ফুলের দেখাদেখি অনিলাও আজ থ্রিপিস পরেছে। মানতেই হবে অনিলা ফুলের ড্রেস চুজ করার সেন্স বেশ পছন্দ করে। করবে না-ই বা কেন? ফুলের তো ইচ্ছাই ছিল ডিজাইনার হওয়ার। এই সেন্স টা তার ভালোই আছে।

“উর্বী কি আমার সাথে একটু কথা বলতে চাইবে?” হঠাৎ রিদমের কণ্ঠ শুনে তারা একযোগে দরজার দিকে তাকাল।

সেখানে দাঁড়িয়ে আছে রিদম। মাথার চুল আর দাড়ি গুলো ছেটে ফেলায় তাকে একেবারে সুস্থ, সবল দেখাচ্ছে। তার কথায় অনিলা আর ফুল মাথা নেড়ে চলে যেতেই নেবে তখনই উর্বী ফুলের হাত চেপে ধরে। ফুল চোখের ইশারায় তাকে ভরসা দিয়ে অনিলার পিছু পিছু বের হয়ে যায়।

রিদম পা ফেলে এগিয়ে যেতে থাকে উর্বীর দিকে। উর্বীকে একটা হলুদ রঙের শাড়ি পরানো হয়েছে; সেই সাথে তাজা গাঁদা ফুলের জুয়েলারি। মাথায় ঘোমটা দেওয়া। তার ফর্সা হাতে মেহেন্দির রঙ ফুটে উঠেছে একেবারে। রিদমের চোখে এই সাজে তাকে অতুলনীয়া লাগছে। তাকে ক্রমশ এগিয়ে আসতে দেখে উর্বীর মুখাবয়বে জড়তা ফুটে ওঠে। দৃষ্টি মেঝেতে নিক্ষেপ করে আমতাআমতা করে বলল, “কেন… এসেছেন?”

রিদম তার খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াল। পিছতে পিছতে উর্বীর পিঠ ড্রেসিং টেবিলের সাথে ঠেকে গেল। তাকে চোখমুখ কুচকে ফেলতে দেখে রিদম শান্ত গলায় বলল, “একটু পরেই আপনার সব ভয় কেটে যাবে উর্বশী।”

উর্বী টলমলে চোখে তাকাল রিদমের দিকে। রিদম ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলল, “কাঁদবেন না, কাজল লেপ্টে যাবে।”

কথায় কথায় রিদম হাতে ধরে রাখা ছুরিটা সামনে আনলো। তার হাতে ছুরি দেখে বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল উর্বীর চোখজোড়া। কাঁপতে লাগল তার শরীর। সে পুরো বিষয়টা বুঝে ওঠার আগেই রিদম ছুরিটা নিজের গালের ওপর চালিয়ে দিল। হতভম্ব হয়ে গেল উর্বী। শিহরিত হয়ে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠল সে, “নাহ! এটা কী করলেন?”

রিদম থামলো না, অন্য গালেও আঁচড় কাটতে যাবে তখনই উর্বী তার হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে দূরে ফেলে দিল। ক্ষণকালের ব্যবধানে তার গালের কেঁটে যাওয়া অংশটা চেপে ধরে আর্তনাদ করল, “কেন করেছেন এমন?”

উর্বীর চিৎকারে অনিলা, ফুল ছুটে এল। এক এক করে জড়ো হলো এস্টেটের সবাই। মূলত সকলেই তখন গায়ে হলুদের জন্য যার যার রুমে তৈরি হচ্ছিল।

ঘন্টা খানের পর, উর্বীর বিছানায় শুয়ে আছে রিদম। পাশেই গোটা তিনেক ডাক্তার গম্ভীর মুখে বসে আছেন। উদ্যান সহ বাকিরাও দাঁড়িয়ে আছে তাকে ঘিরেই।

“তুই পাগল হয়ে গেছিস রিদম? এমনটা কে করে? তুই সুই*সাইড করতে গিয়েছিলি?” সোহমের প্রশ্নে রিদম আধো চোখে তাকাল। গালে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে তার। ব্যথানাশক ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছে হাতের শিরায়।
“আমি তেমন কিছুই করতে যাইনি। আমি শুধু রিহানের থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছি।”

“প্ল্যানটা কার ছিল?” উদ্যানের গম্ভীর কণ্ঠস্বরে ঝাকুনি খেয়ে তার দিকে ছলছল চোখে তাকাল ফুল। সবকিছুর জন্য কেমন যেন নিজেকেই দায়ী বলে মনে হচ্ছে। পাশেই জড়োসড়ো হয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে উর্বী।

রিদম ম্লান হেসে বলল, “প্ল্যান ছিল কসমেটিক সার্জারি করার কিন্তু হাতে সময় ছিল না। সেই জন্যই…”

“তাই বলে তুই নিজের গালে ছুরি চালিয়ে দিবি?” লুহান আওড়াল।

অনি যোগ করল, “তুই তো একটা পিঁপড়া মা’রতে গিয়েও দশবার ভাবিস রিদম। তাহলে আজ কেন তোর হাত কাঁপল না?”

রিদম হেডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসল, “আমার হাত আরও একজনকে মা’রতে গিয়েও কাঁপবে না, অনি। কাকে জানিস? রিহানকে। আমি জাস্ট নিজেকে রিহান ভেবেই শাস্তি দিয়েছি। এটা আমার প্রাপ্য ছিল।”

“কিন্তু প্ল্যান টা তোর ছিল না রিদম।” উদ্যানের একই প্রসঙ্গে অনড় থাকাটা ঝড়ের পূর্বাভাস দিল।

রিদম তার সন্দেহ প্রবল হতে না দিয়েই বলল, “আমারই ছিল। আমি উর্বীকে বিয়ে করতে চাই। ওর মনের ভয় দূর করার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।”

উদ্যান আর কথা বাড়াল না। বিরক্ত লাগছে তার, অনেক বিরক্ত লাগছে। সে একবার ফুলের দিকে ধারালো চাউনি নিক্ষেপ করে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল।
সে চলে যাওয়ার পরপরই ফুল খাটের দিকে এগোলো, “আমি আপনাকে এমন কিছুই করতে বলিনি রিদম স্যার। সেটা আপনিও জানেন। তবে কেন আপনাদের তেহ আমার দিকে ওভাবে তাকাচ্ছে?”

সোহম মিনমিনিয়ে বলল, “কারণ তেহ বুঝে গেছে ওকে সব কয়টা অনুষ্ঠানে রাখার জন্য তুমিই আমাকে আর লুহানকে শিখিয়ে পড়িয়ে ওর কাছে পাঠিয়েছিলে। তাই ও তোমাকেই সন্দেহ করছে।”

ফুল আশাহত হলো। হ্যাঁ সে পাঠিয়েছিল, তো সেই জন্য কোনো অঘটন ঘটলেও তার দায় ফুলের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

“তুই উর্বীকে বিয়ে করবি?” সোহম জিজ্ঞেস করল।

রিদম বলল, “আমি তো করতেই চাই। কিন্তু ওর চাওয়াটাই প্রাধান্য পাবে। আমি স্রেফ ওর মনে জমে থাকা ঘৃণা আর ভয় টুকু মুছে ফেলতে চেয়েছি। কতটুকু পেরেছি জানিনা। বাট আমি যা করেছি তার জন্য আমার কোনো আফসোস নেই।”

সোহম ফিরে তাকাল উর্বীর দিকে। সাবলীল কণ্ঠে শুধাল, “কাকে বিয়ে করতে চাও তুমি? ওকে নাকি আমাকে?”

উর্বী মাথা তুলে রিদমের দিকে তাকিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলল, “আমি রিদমকেই বিয়ে করবো।”

সোহমের সাথে সাথে বাকিরাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। রিদমকে সঙ্গে নিয়ে সবাই বের হয়ে গেল রুম থেকে।

আজ রাতে আর গায়ে হলুদ হলো না। গায়ে হলুদের আয়োজন করা হলো পরদিন বিকেল বেলা। রিদম আজ খুব খুশি। এতো খুশি যে মুখ থেকে হাসির ঝলকানি কমচ্ছেই না। শুধু সে নয় সোহম, লুহান, অনিও তার জন্য আনন্দিত।
খুব তাড়াহুড়ো করে উর্বীকে সাজানো হচ্ছে। মেক-আপ শেষে এখন শাড়ি পরানোর পালা। তখনই দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। অনিলা উঠে গিয়ে দরজা মেলতেই রিদম আর সোহমের দেখা মিলল।

“কী চাই? সাজানো হয়নি এখনো। যাও তোমরা।” অনিলার কথায় রিদম ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে বলল, “একটা কাজ আছে এখনই করতে হবে। পাঁচ মিনিট লাগবে, ভেতরে আসি?”

অনিলা ‘না’ বলতে গিয়েও থেমে গেল। ভেতরে গিয়ে ফুলকে বলল, “রিদম আসতে চাইছে। কী বলবো?”

ফুল হালকা হেসে উর্বীর গায়ে ওড়না জড়িয়ে দিয়ে বলল, “আসতে বলো গিয়ে।”

অনুমতি পেয়ে রিদম আর সোহম ভেতরে ঢুকল। উর্বী একবার তাকাল রিদমের দিকে। গালের ব্যান্ডেজ টা দেখে তার দম আটকে এল। রিদম তার চুপসে যাওয়া মুখটা দেখে একগাল হেসে বলল, “হাত এগিয়ে দাও।”

উর্বী প্রথমে থতমত খেয়ে গেলেও হাত বাড়িয়ে দিল। রিদম তার সামনে ফ্লোরে হাঁটু মুড়ে বসল। তারপর উর্বীর হাতের তালুর যেখানে সোহমের নাম লেখা ছিল সেখানে একধরনের লিক্যুয়েড সল্যুশনস তুলো দিয়ে মেখে দিতে লাগল। চোখেরই পলকে নামটা মিলিয়ে গেল হাত থেকে।
ফুল অবাক চোখে দেখল পুরো ঘটনাটা। মানসপটে ভেসে উঠল আবেশ তার হাতে দিয়ে দেওয়া মেহেন্দি টাও সে ঘুম থেকে উঠে আর খুঁজে পায়নি। খুব সম্ভবত এটাই ইউজ করা হয়েছিল তার হাতেও।

রিদম সোহমকে ইশারা করতেই সে রিদমের হাতে একটা মেহেন্দি ধরিয়ে দিল। রিদম অপটু হাতে খালি জায়গায় নিজের নাম লিখল। অনিলা আর ফুল এই রোমান্টিক দৃশ্যটা ভীষণ উপভোগ করল।
,
,
,
উর্বীকে স্টেজে বসিয়ে রেখে পাশে সরে দাঁড়াল অনিলা আর ফুল। সামনেই বড়সড় একটা টেবিলের ওপর হলুদ বাটা সহ, কেক, মিষ্টি আরো নানান পদের খাবারের সমারোহ। উর্বীর পাশে বসার উদ্দেশ্যে রিদম স্টেজের দিকে পা বাড়াল। পরনে তার হলুদ রঙের পাঠানি স্যুট। সে নিকটে আসতেই ফুল আর অনিলা তাকে থামিয়ে দিল।
ফুল বলল, “জুতো পায়ে ওপরে উঠবেন না রিদম স্যার। আমরা এই স্টেজ টা অনেক যত্ন করে সাজিয়েছি।”

রিদম ভ্রু উঁচিয়ে তাকাল, “তোমরা সাজিয়েছো কখন? সব তো ইভেন্ট প্ল্যানাররাই করল।”

অনিলা বলল, “হ্যাঁ কিন্তু আমরা জায়গাটা পরিষ্কার রাখতে চাই। আপনি জুতো খুলে উপরে উঠুন।”

রিদম একবার তাদের পায়ের দিকে নজর বুলিয়ে বলল, “পরিষ্কার রাখতেই চাইলে নিজেরা জুতো পরে উঠেছো কেন?”

অনিলা আর ফুল একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করল। ফুল তৎক্ষনাৎ ভেবে বলল, “আমাদের জুতোয় একটুও ময়লা নেই রিদম স্যার। আর আজকের দিনে বর মশাইকে একদম চুপটি করে থাকতে হয় তাহলেই বিবাহিত জীবন সুখের হয়।”
“সেটা কীভাবে?”

ফুল ভাবুক ভঙ্গিতে বলল, “এই যে এখন আপনি আমাদের কথা শুনলে আমরা দোয়া করে দেবো তাতেই তো সুখে থাকবেন।”

রিদম আর বাক্যব্যয় করল না। তাদের কথামতো সরল মনে জুতো খুলে স্টেজে উঠে বসে পড়ল।
ফুল টেরেসের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল বাকিরা গ্যাং স্টাইলে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। উদ্যানের পরনে সবুজ রঙের ব্যান্ড কলার শার্ট। বাকিরাও নিজেদের স্টাইল মেইনটেইন করে সবুজ আউটফিট পরেছে।
তাদের অগ্রসর হতে দেখে অনিলা ফিসফিসিয়ে ফুলকে বলল, “রিদম বাদেও ওনারা পাঁচজন, আমরা দুজন পারবো নাকি তাদের সাথে?”

ফুল তাদের দিকে তাকিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলল। অনিলার চোখ পড়ল মেলোর ওপর। যার পরনে সবুজ রঙের লিনেন ড্রেস। অনিলা ফুলের কানে কানে কিছু একটা বলল কিন্তু কথাটা ফুলের মনমতো হলো না।
“আমি পারবো না অনিলা আপু।”

অনিলা বলল, “ঠিক আছে তুমি শুধু সাথে থাকো। আমি কথা বলবো।”

ফুল সায় জানিয়ে অনিলার পিছু পিছু মেলোর কাছে এসে দাঁড়াল।
“শোনো মেলো, একটু ওইদিকে চলো।” অনিলার কথায় মেলো তাদের সাথে অন্যদিকে চলে গেল।

“কিছু কি বলবে অনিলা?” মেলোর প্রশ্নের বিপরীতে অনিলা বলল, “হুম, তুমি আজকের জন্য আমাদের দলে চলে এসো।”

এহেন প্রস্তাবে মেলো ভ্রুকুটি করল, “তোমাদের দল মানে?”
“মানে হলো গিয়ে ওরা ছেলেরা পাত্রপক্ষে থাকবে। আর আমরা মেয়েরা উর্বীর দলে মানে কনে পক্ষ থাকবো।”

মেলো বোঝার চেষ্টা করে বলল, “কিন্তু আমরা সবাই-ই কি পাত্রপক্ষ নই? এখানে আরেকটা দল বানানোর কী প্রয়োজন?”
“সবাই পাত্রপক্ষ থাকলে মজা হবেনা মেলো, বোঝার চেষ্টা করো। উর্বীরও একা একা লাগবে।”

মেলো একবার ফুলের দিকে তাকাল। মেয়েটা গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। কোনোভাবেই সেই ঘটনার কথা ভুলতে পারছে না। মেলো বিড়বিড় করে বলল, “ফুলও কি চায় আমি তোমাদের দলে থাকি? নাকি শুধু দল ভারী করার জন্য বলছো?”

ফুল ত্যাড়া চোখে তাকাল, “আমিও চাই, আপনি মেয়ে হয়ে মেয়েদের মতো থাকুক। ছেলেদের আশেপাশে থাকতে থাকতে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলতে বসেছেন সেই খেয়াল আছে?”

ফুলের অভিমানী কণ্ঠ শুনে মেলোর ঠোঁটের কোণ প্রসারিত হলো। “তুমি কি কোনো কারণে আমাকে সহ্য করতে পারছো না?”

ফুল সরাসরি বলল, “একটু অসহ্যকর লাগছে বটে। বউ হই তো আপনাদের তেহুর সেই জন্যই বোধহয়।”

বলেই ফুল হাঁটা ধরল। অনিলা মেলোকে বুঝিয়ে বলল, “ও আসলে তেহুর ওপর রেগে আছে। ও কাউকেই ব্যাক হাগ করেনি শুধু তোমাকে করেছে, এই একটা কথা বলেই ফোঁসফোঁস করছে। তুমি কিছু মনে কোরো না।”

মেলো কাঁধ ঝাকিয়ে বলল, “তেহ তো ওকে জেলাস ফিল করানোর জন্যই ব্যাক হাগ করেছে। পুরোপুরি সফলও হয়েছে দেখছি। যাক, দেখি তোমরা কী করো।”

চলবে,,,

শব্দসংখ্যা: ৩৩৫০+

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here