#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_১৯
#সমৃদ্ধি_রিধী
ছুটি হয়েছে পাঁচ মিনিট হবে। আদৃত দেড় বছর বয়সী কিয়ানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি সামনের দিকে কিয়ারা মিসের দিকে সীমাবদ্ধ। ডি সেকশনের বায়োলজি টিচার নওশাদ বিন নাসির এবং কেমিস্ট্রি টিচার কিয়ারা মির্জার সাথে ডি সেকশনের একটা মেয়ের গার্ডিয়ান কথা বলছেন। আদৃতের কান বরাবরই খাঁড়া। ছেলেকে সামলাতে সামলাতে শুনতে পেলো ওর একটু দূরে দাঁড়ানো দুটো মেয়ের মধ্যে একজন বলেছে,
“এই নওশাদ স্যার আর কিয়ারা মিস যে আমার বাপের কাছে কি প্যাঁচ লাগাচ্ছে আল্লাহ মাবুদই ভালো জানেন।”
আদৃত ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো। দুজনেই মাস্ক পড়া বিধায় আদৃত বুঝলো না কথাটা কে বলেছে। মেয়ে দুটোই নিকাব পড়া এবং সামনের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে। আদৃত পরমুহূর্তেই শুনতে পেলো,
“তুই ফেল করেছিস করেছিস নওশাদ স্যার আর কিয়ারা মিসের সাবজেক্টেই করতে হলো?”
“ফেল করেছি তো কি হয়েছে? গার্ডিয়ান ডাকতে হয়? আজব!”
“দুটো আগুনের সাবজেক্টে ফেল করেছিস আর এরা দুজন গার্ডিয়ান ডাকবে না? হাস্যকর কথা।”
“কিয়ারা মিস কি ম্যারিড?”
আদৃত ভ্রু কুচকালো। শুনতে পেলো মেয়েটা বলেছে,
“কিয়ারা মিসের একটা ছেলেও আছে।”
“নওশাদ স্যার ম্যারিড?”
“উনি মোস্ট প্রোবাবলি আনম্যারিড। আমি আসলে জানি না।”
“কিয়ারা মিস আনম্যারিড হলে নওশাদ স্যার আর কিয়ারা মিসের বিয়ে হলে ভালো হতো না?”
“দুটো আগুন সংসার করতো?”
“ভালো হতো ভাই। কিয়ারা মিসের হাসবেন্ডের জন্য খারাপ লাগে। আহারে!”
“তোর নামে বিচার দিচ্ছে ওনারা।”
“দিক। তুই খালি দেখ কিয়ারা মিসের ড্রেস কি কালার?”
“মেরুন।”
“স্যারের শার্ট?”
“খয়েরী।”
“কাপলদের মতো ম্যাচিং হয়ে গিয়েছে।”
“ধূর! এইসব বলা ভালো না।”
“ভাবতে সমস্যা কি? আমরা কি কিয়ারা মিসকে ওনার হাসবেন্ডের কাছ থেকে ছিনিয়ে এনে নওশাদ স্যারের সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি? আয় আমরা ওনাদের সংসার ইমাজিন করি।”
“ব্রো! এত ফাস্ট হতে কেউ বলেনি তোকে।”
“তুই দেখ মিস কেমিস্ট্রি টিচার। নওশাদ স্যার বায়োলজি স্যার। মিস জাবির, স্যার ঢাবির। ব্রেইনটা ভাব। ওনাদের বাচ্চা ঠিক কতটা ব্রিলিয়ান্ট হতো? কেমিস্ট্রি, বায়োলজির সমন্বয়ে ডিএমসিতে ফার্স্ট?”
আদৃতের ইচ্ছা হলো দুটোকে দাঁড়া করিয়ে কানের নিচে থাপ্পড় দিতে। তাও শুনে গেল। ইশার কথা বলতে বলতে হঠাৎ চোখ পড়ে আদৃতের দিকে। আদৃতকে, আদৃতের কোলে কিয়ানকে দেখে অবাক হয়েছে খুব। ইশা চোখ সরিয়ে ইলমার বাবাকে বললো,
“দেখুন ও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চাইছে পড়ুক না? সমস্যা কোথায়? জোর না করাটাই ভালো।”
“আমি মেয়েকে ডাক্তার বানাতে চাই। ও ডাক্তারই হবে।”
নওশাদ বলে, “ডাক্তার ছাড়াও আরো প্রফেশন আছে। এখন ওর মেধা মাশাল্লাহ অনেক ভালো। আপনারা জোর করছেন, ও তাই রাগ থেকে পড়াশোনাটাই ঠিক করে করছে না। এটাতে ওর ইঞ্জিনিয়ারিংও হবে না, আপনারা ডাক্তার বানাতে চান, মেয়ে তাও হবে না।”
ইলমার বাবা তর্ক করে বলে, “ডাক্তার ছাড়া মেয়েদের করার কি আছে?”
“কেনো ম্যাডাম টিচার না? চাইলে অনেক কিছু করা যায়। ও এখন যে রাগ, জেদ করছে তাতে এইচএসসিতেই ভালো করবে না, এইচএসসি ভালো না হলে এডমিশন দেওয়া দূর, এডমিশনের ফর্মই কিনতে পারবে না।”
“আপনারা ওকে বুঝান। আমি আর ওর আম্মু ক্লান্ত।”
নওশাদ হাতের ইশারায় ইলমাকে ডাকলো। আদৃত তখন বুঝে কোন মেয়েটা ওর বউয়ের সাথে এই স্যারকে মিলাচ্ছে। কিয়ান কোলে নিয়েই দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে। কিয়ান এদিক ওদিক মাথা ঘুরাচ্ছে। আদৃতের শার্টের বোতাম ধরে টানে। ইশা, নওশাদ দুজনই ইলমা নামক মেয়েটিকে কি কি যেন বোঝালো। মেয়েটা তার বাবাকে নিয়ে চলে গেল। মেয়েটার ফ্রেন্ডটাও চলে গেল। নওশাদ বলে,
“ও ব্রিলিয়ান্ট। ভালো করে পড়াশোনা করলেই পারে।”
ইশা বলে, “আপনি জানেন না স্যার ও আমার সাবজেক্টে সিকিউতে ফোরটি নাইন পেয়েছে। এমসিকিউ দাগিয়েছে নয়টা। পেয়েছেও নয়। আর একটা দাগালেই পাশ উঠে যেত। ইচ্ছা করে ফেল করেছে।”
“সেম কাহিনী তো আমার সাবজেক্টেও করেছে। এমসিকিউতে ভালো নাম্বারই উঠিয়েছে। সিকিউতে এক সিকিউ ফুল লিখেছে। আরেকটার খ,গ, ঘ লিখেছে। উনিশ মার্কস লিখেছে আমি একটা দাগ দেওয়ার মতো কিছু পাইনি। আর এক মার্ক পেলে কি হতো?”
“জেদ করে এইসব করছে। আর বাবা মাও কেমন? ডাক্তার ছাড়া মনে হয় কিছু হতে পারে না।”
“নরমাল ভার্সিটি লাইনে পড়াশোনা করে বিসিএস দিলেই হয়ে যায়।”
ইশা বলে, “আপনি বিসিএসের জন্য ট্রাই করেননি?”
“না। সময় পাইনি নানান ব্যস্তায়।”
“আই সি।”
ইশাকে নওশাদের সাথে কথা বলতে দেখে আদৃত এগিয়ে গেল। নওশাদের আদৃতের দিকে তাকিয়ে রইলো। আদৃত ছেলেকে ইশার কোলে দেয়। কিয়ান ইশাকে দেখে একগাল হাসে। আদৃত নওশাদের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,
“শাহফায়েত সিদ্দিক। কিয়ানা মির্জার হাসবেন্ড।”
নওশাদ হেসে আদৃতের সাথে হাত মিলায়। “নওশাদ বিন নাসির।”
আদৃত ইশার দিকে তাকিয়ে বলে, “ওকে দাও। ব্যাগ নিয়ে এসো।”
নওশাদ আদৃতের দিকে হেসে বলে, “আসি আমি।”
আদৃতও হাসে। নওশাদ যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে শুনে,
“এই স্যারের সাথে তোমার ড্রেস কালার ম্যাচিং হলো কি করে? আমার সাথে তো কাকতালীয় ভাবে জীবনেও মিলে না। আজকে তোমার মেরুন, ওই স্যারেরও মেরুন আর আমার কালো।”
নওশাদ শুনলো পুরোই। কপাল কুচকে পিছনে ফিরে আদৃতকে একবার দেখে নেয়।
“টক্সিক।”
অফিস রুমের ভিতর ঢুকে গেল। এখন ছেলেদের বিল্ডিংয়ে যেতে হবে। পুনমকে কল দিলো। রিং হয়ে কেটে গেল। পুনম কল রিসিভ করলো না। নওশাদ কপালে আঙুল ঘষে। সকাল থেকে দুবার কল দিয়েছে, পুনম একবারও রিসিভ করলো না। পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে বায়োলজি বই নিয়ে ছেলেদের বিল্ডিংয়ের উদ্দেশ্যে চলে যায়।
ইশা আদৃতের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলে, “এটা কি ধরনের কথা? কো-ইন্সিডেন্টলি মিলে গিয়েছে। আপনি এভাবে বললেন কেনো?”
আদৃত তোয়াক্কা না করে বলে, “আমি নর্থ সাউথে পড়েছি বলে আমি ফেলনা না কিন্তু। এডমিশন দিলে আমিও পাবলিকে পড়ার যোগ্যতা রাখতাম।”
“মানেটা কি? এইসব কেনো বলছেন?”
“আমাদের ছেলের ডিএমসিতে ফার্স্ট হওয়ার ক্ষমতা থাকবে।”
“পাগল হয়ে গিয়েছেন?”
“ওই স্যারের নাম থেকে আমার নাম বেশি সুন্দর। শাহফায়েত সিদ্দিক আদৃত। আনকমন পুরো। দুনিয়ায় এমন নাম আর পাবে না আমার নাম কপি করে নাম রাখা না হলে।”
“কিয়ানের বাবা?”
“তুমি চলো এখন। সব শেষ না?”
“জ্বি।”
কিয়ানকে কোলে নিয়ে বলে, “যাও, আমি নিচে যাচ্ছি।”
আদৃত চলে যায়। ইশা ব্যাগ নিয়ে নিচে আসে। গাড়িতে বসে। আদৃতের কোল থেকে কিয়ানকে কোলে নেয়৷
“বাবা?”
কিয়ান ইশার মুখে থাবা মারে। “মাম..”
ইশা কিয়ানের গালের সাথে গাল লাগিয়ে রাখে। আদৃতকে জিজ্ঞাসা করে,
“অফিসে যাননি?”
“গিয়েছিলাম।”
“ছেলেকে নিয়ে?”
“হু।”
“সকালে কি খাইয়েছেন?”
“ফর্মুলা মিল্ক।”
“খিচুড়ি খাওয়াননি?”
“খাচ্ছিলো না। দেড় ঘন্টা চেষ্টা করেছি খেলো না যে খেলোই না।”
“সকাল থেকে দুধের উপরই আছে?”
“হু।”
ইশা চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস ফেলে। ছেলে তো এইজন্যই শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে।
“ইশা শোনো?”
“কি?”
“আমি হাসবেন্ড হিসেবে পারফেক্ট না?”
ইশা ভ্রু কুচকে তাকায়। আদৃত বলে, “বলো?”
“হ্যাঁ?”
“কোনো কলিগ টলিগের দিকে তাকিয়ো না কিন্তু।”
“মানে?”
“তোমার স্টুডেন্টরা তোমাকে কোনো কলিগ টলিগের সাথে মেলালে ওইসবে নজর দিবে না।”
“ঝেড়ে কাশুন তো।”
আদৃত সব বললো। রাগে ইশার মুখ লাল হয়ে গেল।
“আমি ছেলের খাওয়া দাওয়া নিয়ে কথা বলছি আর আপনার মাথায় এইসব ঘুরছে না?”
“ঘুরবেই তো।”
“কি?”
“রেগে গিয়েছো?”
“ওরা বললো আর আমি চলে যাচ্ছি? আপনি এটা আমাকে শোনাচ্ছেনও?”
“তা না। কেনো বলবে?”
ইশা আদৃতের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আদৃত হাত বাড়িয়ে বলে, “আচ্ছা সরি।”
ইশা আদৃতের হাতে জোরে একটা চাপড় মেরে আদৃতের হাত সরিয়ে দেয়।
“বুঝলাম না বেটার হাফ। এভাবে তাকাচ্ছো কেনো?”
“আপনাকে আদর করবো তাহলে?”
“ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে ফেলো আর আদর করো। আসো, কাম কাম।”
কিয়ান আদৃতের দিকে হাত বাড়িয়ে ডাক দেয়, “বাবা?”
“হ্যাঁ বাবা?”
কিয়ান আবার ডাক দেয়। আদৃত ইশাকে বলে,
“আসো আদর করো। প্লিজ ভালো করে করো। তুমি অনেক কিপ্টে।”
ইশা আদৃতের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো। আদৃত ভ্রু কুচকে বলে, “এভাবে তাকাচ্ছো কেনো?”
“কেনো এভাবে তাকালে আপনার সমস্যা?”
আদৃত গলা চুলকে বলে, “শুধু বেটার হাফ দেখে কিছু বললাম না।”
“বেটার হাফ না হলে কি বলতেন?”
“শুধু আমার ছেলের মা দেখে কিছু বললাম না।
নাহলে..”
ইশা শক্ত চোখে ভ্রু নাচিয়ে, “নাহলে?”
“শুধু আমার ছেলের মা দেখে চুপ করে আছি।
নাহলে কারো সাহস নেই আমার দিকে এভাবে তাকানোর।”
ইশা ভ্রু নাচিয়ে বলে, “সেই বিনোদন। মজা পাচ্ছি ভীষণ। তারপর?”
“দিনদিন হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। লাই দিয়ে মাথায় উঠিয়ে ফেলেছি।”
“তো স্যার আপনি ঠিক কি ধরনের পদক্ষেপ নিবেন আমাকে মাথা থেকে নিচে নামানোর জন্য?”
“আমি এখন অফিসে যাবো।”
আদৃত মোবাইল নিলো। একপাশে গাড়ি থামিয়ে দ্রুত টাইপ করে। পাঁচ মিনিট পর ইশার মোবাইলে মেসেজের নোটিফিকেশন এলো। ইশা ব্যাগের ভিতর থেকে মোবাইল বের করে মেসেজটা পড়ে।
“সুখবর, সুখবর, সুখবর। অন্ধ ব্যক্তিকে স্ব-ইচ্ছায়
চক্ষু দান করবে মিসেস কিয়ারা শাহফায়েত সিদ্দিক। তার আশেপাশের মানুষ আজকাল ঘন ঘন তার চোখ রাঙানোতে ভস্ম হয়ে যাচ্ছে। এই চক্ষু দান কর্মসূচীর মাধ্যমে না থাকবে মিসেস সিদ্দিকের চোখ, না থাকবে কোনো প্রকার চোখ রাঙানো। পাশাপাশি থাকবে না তার আশেপাশের মানুষের ভস্ম হওয়ার ভয়। থাংকস। ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা হবে না।”
ইশা দাঁতে দাঁত চেপে স্রেফ বললো, “আমার ছেলেটা শুধু বড় হয়ে আপনার মতো হোক! তখন আপনার একদিন কি আমার একদিন। শুধু আপনার মতো আবোলতাবোল বলা শিখুক, একদম খবর করে দিবো আপনার।”
আদৃত গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিয়ানকে কোলে নেয়। ইশার হাত টেনে ইশার মাথা কাঁধে রাখে।
“লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ বেটাট হাফ।”
“ফাতরা ল্যাঙ্গুয়েজ।”
“টেক মাই লাভ।”
ইশা বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। আদৃত ঘাড় বাঁকিয়ে চট করে ইশার মাথায় চুমু খায়। কিয়ানের মাথায়ও চুমু খায়।
_________________
নওশাদ একবার কলিং বেল বাজায়। মিনিটের মধ্যেই পুনম দরজা খোলে। সালাম দেয়। সালামের জবাব দিয়ে নওশাদ বাসায় ঢুকে। পুনম কিচেনে চলে যায়। ঠান্ডা পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে নিয়ে আসে। নওশাদকে দেয়। নওশাদ বলে,
“ফ্যান দিও।”
পুনম ফ্যান চালু করে রুমে চলে যায়। নওশাদ শরবত শেষ করে অবাক হয়ে তাকায়। পুনম অন্যদিন দাঁড়িয়ে থাকে। আজ দাঁড়ালোও না। নওশাদ উঠে দাঁড়ায়। গ্লাস টেবিলে রেখে রুমে যায়। পুনম কাঁথা ভাজ করছে। নওশাদ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
“শরীর খারাপ?”
“না।” ক্ষীণ গলায় খুবই ছোট উত্তর।
নওশাদ শার্ট খুলে রাখে। তোয়ালে নিয়ে বলে,
“তাহলে?”
“কি তাহলে?”
“এমন গোমড়া মুখ করে কেনো আছো?”
“কোথায়?”
“আমি দেখতে পাচ্ছি।”
“আপনার মনের ভুল।”
নওশাদ ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো। পুনম নিজের মতো ফোনে চার্জ দেয়। নওশাদ তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। পুনম দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কিচেনে গিয়ে চায়ের জন্য পানি বসায়। রুমে এসে চেয়ার টেনে বই নিয়ে বসে। নওশাদ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পুনমকে বই নিয়ে বসে থাকতে দেখে অবাক হয়। তার থেকেও বেশি অবাক হয় যখন দেখে পুনম ওর পোশাক বের করে দেয়নি। নওশাদ ওয়ারড্রব থেকে টাউজার, টিশার্ট বের করে দিয়ে বলে,
“আমাকে টিশার্ট, টাউজার বের করে দিলে না যে?”
“এমনি।”
নওশাদ টিশার্ট পড়ে পুনমের পিঠের দিল তাকায়। কিছু তো গন্ডগোল আছেই৷ পুনম বলে,
“চায়ের পানি বসিয়ে দিয়ে এসেছি। চা বানিয়ে খান।”
“তুমি খাবে?”
“না।”
নওশাদ কিচেনে গেল। চা বানিয়ে আনলো। পুনমের সামনে চায়ের কাপ রেখে পুনমের পাশে দাঁড়ালো। পুনম নওশাদের দিকে তাকালোও না। নওশাদ ঝুঁকে পুনমের গালে গাল লাগিয়ে বলো,
“কি হয়েছে বলো?”
পুনম মুখ সরিয়ে নেয়। পাতা উল্টে বলে, “কিছু না।”
“শরীর খারাপ?”
“না।”
“মন খারাপ?”
পুনম উত্তর দিলো না। নওশাদ চেয়ার সমেত পুনমকে নিজের দিকে ফিরায়। ভ্রু নাচিয়ে বলে,
“বলো?”
পুনম চেয়ার থেকে উঠে যায়। নওশাদ পুনমের হাত ধরে ওকে নিজের দিকে ফিরায়। গালে হাত দিয়ে বলে,
“বলো সমস্যা কি?”
পুনম বিরক্ত হলো। গালের উপর থেকে নওশাদের হাত সরিয়ে দিলো। নওশাদ তো ভীষণ অবাক হচ্ছে।
“তুমি আমার কল রিসিভ করোনি। কারণ?”
“সবসময় কল রিসিভ করতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই।”
কিছু তো গন্ডগোল আছেই। নওশাদ পুনমকে ঘুরিয়ে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।
“আমার উপর রেগে আছো কেনো?”
“আপনার উপর রেগে থাকবো কেনো?”
“কিছু করেছি আমি?”
“আপনি কিছু করতে পারেন?”
নওশাদ পুনমের গালে গাল ঘষে। “না বললে বুঝবো কি করে?”
পুনম নওশাদের মুখ সরিয়ে দেয়। গাল জ্বলছে ওর। নওশাদ পুনমের পেঁচিয়ে ধরে বলে,
“না বললে ছাড়ছি না।”
পুনম মুখে কুলুপ এঁটে রইলো। নওশাদের চা আর খাওয়া হলো না। নওশাদ বলে,
“ছাদে যাবে? আজকে পূর্ণিমা।”
“না।”
“পূর্ণিমার সময় ছাদটা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।”
পুনম ভেঙ্গিয়ে বলে, “ছাদ দেখতে সুন্দর লাগে।”
“বলো রাগ করেছো কেনো?”
“রাগ করিনি।”
“তুমি বলেছো তোমার রাগ করতে ভয় লাগে। তাহলে এখন রাগ করছো কেনো? আমাকে হারানোর ভয় নেই?”
পুনমকে নওশাদের পেটে কনুই দিয়ে জোরেসোরে আঘাত করে। নওশাদ পেটে হাত দিয়ে কুঁকড়ে উঠে। পুনম দূরে সরে দাঁড়ায়।
“এইজন্যই আমার পুরুষমানুষ ঘেন্না লাগে।”
নওশাদ পেটে চেপে ধরেই বলে, “ব্যথা পেয়েছি আমি।”
“ব্যথা দেওয়ার জন্যই তো জোরে দিলাম।”
“কি করেছি?”
“ঘেন্না লাগে আমার পুরুষ মানুষ। নোংরা জাতি।”
“বলো কি করেছি?”
পুনম চেঁচিয়ে বলে, “কিছু করেননি।”
নওশাদ শান্তভাবে এগিয়ে এলো। “বলো, দেখি রেগে থাকার কারণ কি? রেগে থাকলে সরি অবশ্যই বলবো।”
“সবার সামনে খারাপ ব্যবহার করে এখন ঘরের ভিতর সরি বলতে হবে না, বিশ্রি জাতি।”
নওশাদ বুঝলো। পুনমকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বলে,
“আচ্ছা! কালকে আপার সামনে বকা দেওয়ায় রাগ করে আছো না?”
পুনম মুখ ঘুরিয়ে নেয়। নওশাদ পুনমের মুখ নিজের দিকে ঘোরায়। নওশাদ পুনমের গালে চুমু খায়। শক্তপোক্ত চুমু যাকে বলে। পুনম ঠেলে সরিয়ে দেয়।
“আচ্ছা আর বকা দিবো না।”
পুনম ভেংচি কাটে। নওশাদ বলে, “মুখ ঠিক করো।”
“করবো না।”
নওশাদ পুনমের গালে আরেকবার চুমু খায়। পুনম রেগে গিয়ে বলে,
“ছুঁকছুঁক স্বভাবের লোক একটা। সরি বলবো তা না! শুরু হয়ে গিয়েছে।”
“সরি বললে ঠিক হয়ে যাবে?”
“জানি না।”
“কিন্তু সরি বলে লাভ কি? আমি তো তোমাকে চার দেয়ালের মাঝে ধমক দেই নি যে এখন তোমাকে চার দেওয়ালের মাঝে সরি বলবো?”
পুনম চোখ বড় বড় করে বলে, “আপার সামনে সরি বলবেন?”
“কি করি দেখতেই পারবে।”
“এই এই আপার সামনে সরি টরি বলবেন না। সবার সামনে আপনার একটা ওয়েট আছে।”
“বউকে সরি বললে ওয়েট কমে যায়?”
“মানুষ ভেড়া বলে। আমি একটুও রেগে নেই।”
নওশাদ পুনমের গালে গাল ঘষে। “যে তোমাকে সবার সামনে বকা দিলো, তাকে সবার সামনে সম্মানিত করতে চাও?”
পুনম এবার সরিয়ে দিলো না। নওশাদের বুকের সাথে লেপ্টে থেকেই বলে, “আপনি খারাপ বলে কি আমিও খারাপ? আমি অনেক ভালো।”
বিড়বিড়িয়ে ‘গাধা’ বলে নওশাদ শক্তপোক্ত চুমু খেলো একটা।
“আর ধমক দিবো না।”
“সবার সামনে দিবেন না।”
“আচ্ছা।”
“আপনি অনেক বাজেভাবে ধমকান।”
“আমার বাচনভঙ্গিই এমন।”
“আমি আর আপনাদের ভাই-বোনের মাঝে কথা বলবো না।”
“কেনো বলবে না? অবশ্যই বলবে।”
“না বলবো না।”
“দেখা যাবে। আসো মুভি দেখি।”
“কি মুভি?”
“তোমার কাছে তো মুভির লিস্ট আছে। একটা বের করো।”
“একটা মুভি আছে। ওখানে নায়িকার নাম আর আমার নাম একই। দেখবেন ওটা?”
“নায়কের নাম নওশাদ হলে দেখা যায়।”
“জ্বি না, নায়কের নাম প্রেম।”
“প্রেম আর পুনম?”
“জ্বি।”
“সাউন্ডস অকওয়ার্ড। নওশাদ আর পুনম ফার বেটার।”
“ঢং।”
“আসো দেখবো।”
“একটা টিভি থাকলে টিভিতেই দেখতে পারতাম।”
“বেতন পেলে কিনবো।”
“আচ্ছা।”
নওশাদ মোবাইল নিয়ে খাটে বসে। পুনম বলে, “চা?”
“খাবো না আর। ইচ্ছা করছে না।”
“আমি আজকে পড়তে বসেছিলাম।”
“হু দেখেছি আমি। বই নিয়ে বসেছিলে ঠিকই, পড়োনি কিছুই।”
পুনম পালালো। “আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসছি।”
নওশাদ হাসে। পুনম একটু পর আবারও চা বানিয়ে নিয়ে আসে। ইউটিউবে ‘বিবাহ’ মুভি বের করে। নওশাদ একটু পর বলে,
“বিয়ের আগে এগুলো ঠিক?”
“কি?”
“ছেলেটা বিয়ের আগেই মেয়ের কোলে মাথা রাখলো কেনো?”
“সবাই আপনার মতো তো!”
“দেখো খেলায় মেয়েটা ছেলেটাকে বিয়ের আগেই জড়িয়ে ধরেছিলো! এটাও তো ঠিক না।”
পুনম রেগে বন্ধ করে মুভি দেখাই বন্ধ করে দিলো। রেগেমেগে বলে,
“সমস্যা কি? পুরো মুডই নষ্ট করে দিলেন।”
“এটা একটা বাজে মুভি।”
“মোটেও বাজে না। এটা আমার ফেভারিট মুভি।”
“ছিহ।”
“সমস্যা কি বলুন। এই মুভির সমস্যা বলুন আপনি।”
“বারবার প্রেম-পুনম শুনতে ভালো লাগছে না। প্রেম পুনম, প্রেম পুনম ব্লে ব্লে। আমার সমস্যা এটাই।”
পুনম চোখ সরিয়ে ফেললো। নওশাদ পুনমকে জড়িয়ে ধরলো। পুনম মুখ ঘুরিয়ে ফেলে। রেগে গিয়ে নাকি লজ্জায় সেটা কেবল নওশাদ আর পুনমই জানে।
“ছাদে যাবে?”
“হুম।”
দুজনে মিলে যাবে গেল। কত-শত গল্প করলো সেই হিসেব দুজনের কারো কাছেই নেই।
______________
দুপুর তিনটা বিশ। রুমঝুম ভার্সিটি থেকে মাত্র ফিরেছে। সাড়ে তিনটা থেকে লিফট বন্ধ থাকে এক ঘন্টার জন্য। রুমঝুম রিকশা থেকে নেমে দৌঁড়ে দৌঁড়ে আসে প্রায়। লিফটের সুইচ অন করে কোমরে হাত দিয়ে হাঁপাতে থাকে। লিফটের দরজা খুলতেই শক্তপোক্ত একটা হাত রুমঝুমের মুখ চেপে ধরে। রুমঝুমকে টেনে হিঁচড়ে একটা গাড়ির ভিতর ফেলে। রুমঝুম ধাতস্থ হতেই দেখে আরিফও গাড়িতে ওর মুখোমুখি বসেছে। দুজনেই প্রাইভেট কারের ব্যাকসিটে।
আরিফ অসম্ভব রেগে আছে। রুমঝুম আরিফের চেহারা দেখেই তা বুঝতে পারছে। রুমঝুম গুছিয়ে যায়। ব্যাগ দিয়ে নিজেকে আড়াল করতে চায়। আরিফ রেগে প্রায় চিৎকার করে ওঠে।
“ফেসবুকে ওই পোস্ট দিয়েছিস কেনো?”
রুমঝুম উত্তর দিতে পারছে না। ছয় বছর পর আবার সেই আগের আরিফকে দেখছে। যে ঠাসঠুস গায়ে হাত উঠাতো। স্টিলের স্কেল দিয়ে ধুমধাম মারতো।
“কথা বলছিস না কেনো বেয়াদব?”
রুমঝুম ঢোক গিলে। আরিফ সামনের সিট থেকে লাল কালার স্কচ টেপ মোড়ানো লম্বা কিছু একটা নেয়। রুমঝুম তা দেখে চোখ বড় বড় করে ফেলে। জিনিসটা কি রুমঝুম বুঝে উঠার আগেই আরিফ রুমঝুমের হাতে টানা পাঁচ ছয়বার বারি দিয়ে ফেলে। রুমঝুম ব্যথা পায়। হাত জ্বলে গিয়েছে, কেঁদে দেয়। হ্যান্ডব্যাগ দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে। আরিফের রাগ আজ আকাশছোঁয়া। পোস্টটা এবং সবার কমেন্ট দেখার পর আরিফ সবার আগে পোস্টটা ডিলিট করে। কাজটা কে করেছে বুঝতে একটুও বাকি থাকে না।
আরিফ শলার ঝাড়ু নিয়ে সেই শলার ঝাড়ু থেকে বিশ, ত্রিশটা বা অর্ধেকের বেশিও হতে পারে শলা আলাদা করে, স্কচ টেপ দিয়ে সেই শলাগুলো একসাথে বেঁধে এনেছে। হাত আড়াল করায় এখন আরিফ তা দিয়ে রুমঝুমের পায়ে টানা পাঁচ ছয়টা বাড়ি মারে। রুমঝুমের চামড়া জ্বলে যাচ্ছে। ও শব্দ করে কেঁদে উঠে। হাত, পা ঘষতে থাকে। কেননা পায়ে বাড়ি মারার সময় আরিফকে বাঁধা দিতে গিয়ে উল্টো হাতে আরো ব্যথা পাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আর করবো না, আর করবো না। প্লিজ এমন পোস্ট আর কখনো করবো না।”
“কেনো পোস্ট করেছিস?”
“পেজ হ্যাক করেছো তাই।”
আরিফ রুমঝুমের বাহুতে আরো দুটো বারি দিয়ে বলে,
“পেজ হ্যাক করেছিলাম কেনো?”
রুমঝুমের হেঁচকি উঠে যায়। “বিয়ে করতে রাজি হইনি বলে।”
“বিয়ে করতে রাজি না কেনো?”
“সমস্যা আছে।”
আরিফ আরো দুটো দিয়ে বসে। “সমস্যা কি সেটা জিজ্ঞাসা করিনি আমি?”
রুমঝুম কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। আরিফ তেড়ে আসে। চড় মারার জন্য হাত উঠিয়ে বলে,
“প্রেম মারাতে পারবে, বিয়ে করতে পারবে না তাই না থার্ডক্লাস, বেয়াদব মেয়ে। আমাকে কোন তৌহিদা না কে ওকে বিয়ে করতে বুঝাও? হ্যাঁ বিয়ে করবো আরেক মেয়েকে? ছয় বছর প্রেম করেছি আরেকজনকে বিয়ে করার জন্য বেয়াদব? প্রেম করতে মজা, তারপর ওই প্রেমিককে ছেড়ে আরেকজনকে বিয়ে করতেও অনেক মজা না? বিচ।”
রুমঝুম থাপ্পড়ের হাত থেকে বাঁচতে দুহাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করে বলে,
“খালামণি নিষেধ করেছে। খালামণি বলেছে তোমাকে বিয়ের জন্য বোঝাতে। আম্মু, আপু, মামা কেউ চায় না তোমার সাথে আমার বিয়ে হোক।”
“কেনো চায় না?”
রুমঝুম উত্তর দেয় না। আরিফ আবারও রুমঝুমের গায়ে তিন, চারটা বাড়ি মারে। এবার হাত, পা, কনুইসহ বেখেয়ালিভাবে রুমঝুম অনেক জায়গায় ব্যথা পায়। রুমঝুম ব্যথায় প্রায় চিৎকার দিয়ে উঠে। আর্তনাদ করে বলে,
“বলছি বলছি।”
“বল।”
রুমঝুম কাঁদতে কাঁদতে সব বলে, সব। কিছুই বাকি রাখে না। কিছুই না। আরিফ সবটা শুনলো। খুব মনোযোগ দিয়েই শুনলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“মিথ্যা বলছিস না তো?”
“না, না?”
আরিফ সামনের সিট থেকে একটা প্যাকেট নেয়। পানির বোতল নেয়। প্যাকেটটা রুমঝুমের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
“খোল।”
রুমঝুম হেঁচকি দিতে দিতে প্যাকেটটা খুলে। দেখে বার্গার। দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,
“খাবো না।”
আরিফ শক্ত গলায় বলে, “আবার বল।”
রুমঝুম কাঁদতে কাঁদতে মাথা নিচু করে বার্গার খেতে থাকে। খেতে খেতে গলায় আটকে গেলে আরিফ পানির বোতলের ঢাকনা খুলে দেয়। রুমঝুম পানি খায়। বার্গারটা অনেক বড়ই ছিল বলা যায়। পুরোটা বার্গার শেষ করতেই আরিফ পকেট থেকে একটা ঔষধ বের করে। রুমঝুমের দিকে বাড়িয়ে দেয়। রুমঝুম আগে পিছে কিছু না জিজ্ঞাসা করেই ঔষধটা খেয়ে ফেলে।
আরিফ রুমঝুমের ব্যাগের চেইন খোলে। ব্যাগের ভিতর নাপা এক্সট্রার ফুল পাতা রাখে। তারপর ব্যাগের ভিতর থেকেই রুমঝুমের ফেস পাউডার বের করে রুমঝুমের দিকে এগিয়ে যায়। রুমঝুমের গাল দুহাতে আলতো করে চেপে ধরে মুখে পাউডার লাগিয়ে দিতে থাকে। রুমঝুম কাঁদতে থাকলে আরিফ ধমক দিয়ে বলে,
“তোর জামাই মরেনি যে এভাবে কাঁদছিস। কান্না থামা।”
রুমঝুম ফোপাঁতে থাকে। আরিফ মুখে পাউডার দিতে দিতে বলে,
“নাপা এক্সট্রা খেয়েছিস, আবার দিয়েও দিয়েছি। বাসায় গিয়ে সোজা ঘুমাবি। ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যার নাস্তা করবি। তারপরও গায়ে ব্যথা থাকলে রাতের খাবার খেয়ে আরেকটা নাপা এক্সট্রা খাবি।”
রুমঝুম মনে মনে বলে, “জুতা মেরে গরু দান করতে এসেছে।”
আরিফ ফেস পাউডার আগের মতো ব্যাগে রেখে দিয়ে বলে, “তোর সাথে আমার এখনও সেই সম্পর্ক হয়নি যে আমি লাভ টর্চার দিয়ে তোর থেকে কথা আদায় করবো। তুই এখন পর্যন্ত আমার কাজিন, তাই কাজিনের মতোই বিহেভ করবো আমি। এখন কিসমিস দিয়ে তো তোর থেকে কথা আদায় করবো না। বিয়ের আগে নো কিসমিস। বিয়ে হোক, তারপর তোর পেট থেকে কথা আদায় করার ধরণও বদলে যাবে। আবার আরেকটা ব্যাপারও আছে।
দুনিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির অপরাধী থাকে। তার মধ্যে কিছু প্রজাতি রয়েছে যাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার আগে সোজা ভাষায়, আদর করে অনেকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ঠিকই কিন্তু তারা মুখই খুলতে চায় না৷ তখন তোর মতো সেইসব বেয়াদবদের রিমান্ডে নিতে হয়৷ রিমান্ডে নিলেই সুরসুর করে পথে চলে আসে। সব প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। তোকেও রিমান্ডে নিলাম আর সব বের হয়ে গেল। যা, এখন বাসায় যা। বাসায় গিয়ে কোনোদিকে তাকাবি না। সোজা নিজের রুমে যাবি। তারপর রুমের দরজা লাগিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে সোজা ঘুম। ক্লিয়ার?”
রুমঝুম মাথা ঝাঁকায়। আরিফ গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে, আঙুল তাক করে বলে, “সোজা বাসায়।”
রুমঝুম গাড়ি থেকে নেমেই সিঁড়ির দিকে দৌঁড় দেয়।
চলমান…..
(হ্যাপি রিডিং)

