আমার_বোবাফুল(২০) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
76

#আমার_বোবাফুল(২০)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

“ ছেড়ে দেই?”

বলার ফাঁকে হাত কিছুটা সামনে বাড়িয়ে দেয় বর্ণ’।যার ফলে সুখের শরীর সমেত মাথা আরো খানিকটা পিছিয়ে গেলো।

শঙ্কায়, ভীতিতে কলিজা চলকে উঠে।বর্ণ’র হাতের তালুতে তখনো তার হাতের তালু কঠোর বাঁধনে আবদ্ধ।সুখ বাঁধন আরো দৃঢ় করতে চাইলো। ঠোঁটে ধূর্ত হাসি ফুটে উঠেছে বর্ণ’র। ভ্রু তুলে আচমকা হাতের আঙ্গুল সিধে করে ফেলল।

বর্তমানে সুখই কেবল আঁকড়ে আছে তার হাত। পুরুষটি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দিয়েছে বাঁধন।সুখ টের পাচ্ছে হাত পিচ্ছিল হয়ে ধীরে ধীরে বর্ণ’র হাত হতে গলে আসছে।চোখে আতঙ্ক নিয়ে ঘনঘন দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে ‘না’ বোঝায় সুখ। এখন বর্ণ না বাঁচালে নিজ থেকে উঠে যাওয়ার শক্তি তার নেই।

শেষ চেষ্টা হিসেবে বর্ণ’র তর্জনী আঁকড়ে ধরলো সুখ। তখন তর্জনীতে তর্জনী আটকে পূর্বের ন্যায় দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করে নেয় বর্ণ।চোখ বুজে সুখ নিঃশ্বাস ছাড়ে স্বস্তির।

বর্ণ’র চোখে অদ্ভুত শীতলতা।আস্ত একটা সুখের অস্তিত্ব তর্জনীতে ভর করায় জীমে গড়া হাতের রগ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। পেশিবহুল পাথরে রুপ নিয়েছে যেনো।

“ একটা ডিল হয়ে যাক?”

এই সংকট মূহুর্তে কিসের ডিল?সুখ দাঁতে দাঁত চিপে অপর হাতে বর্ণকে ধরতে চাইলেও ছুঁতে পারলো না। বেশি নড়াচড়াও করা যাবে না।সুখ আড়চোখে টাইলস বিছানো ক্ষুরধার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকায়।

‘কী ডিল শুনে দেখা যাক?’

“ আমার আশেপাশে আসতে চাস না!তো আসিস না। কিন্তু তুই জানিস যে কফিটা রোজ আমি তোর হাতের খাই? এন্ড এই ব্যাড হ্যাভিট তুই-ই তৈরি করেছিস!”

ফ্যালফ্যাল চোখে তাকায় সুখ।আব্বুকে মনে পড়ছে খুব। আম্মুও বা কোথায়?তারা কী জানে না, তাদের একমাত্র মেয়ে ফারিস্তা সুবহান সুখ মৃত্যুর মুখোমুখি হেলে?

“ আজ থেকে যতবার আমি বাড়ি থাকবো ততবারই আগের মতো কফি দিবি।আর সেটা নিজের হাতে মেক করে!”

নির্বিকার ভঙ্গিতে মনে হলো আদেশ জারি করলো বর্ণ।সুখের অস্থিরতা এক মূহুর্তের জন্য স্থির হয়ে আসে। এক মূহুর্তের জন্য সে ভুলে গেলো নিজের অবস্থান। মস্তিষ্কে কেবল একটি কথায় বাজছে “ ব্যাড হ্যাভিট তুই-ই তৈরি করেছিস!” সেকি তবে পুরুষটির অল্পবিস্তর অভ্যাসে পরিণত হতে পেরেছে?তার এড়িয়ে চলায় বর্ণ তার শূণ্যতা অনুভব করেছে মৃদুমন্দ?
ঠোঁট টিপে অদৃশ্য হাসলো সুখ।

বর্ণ সচকিতে হাতের দিকে চাইলো। এতোক্ষণ বাঁচার জন্য ছটপট করা হাতটা এখন স্বেচ্ছায় আশা ছেড়ে দিয়েছে যেনো। আঙুল ছাড়িয়ে নিতে চাইছে মেয়েটা।সে স্তম্ভিত চোখে সুখের অনূভুতি শূন্য মুখের দিকে চেয়ে দু কদম পিছিয়ে হেঁচকা টানে এক ঝটকায় সুখেকে তুলে নিলো।

সেকেন্ডের ব্যবধানে সুখ আঁচড়ে পড়ে তার প্রসস্থ বক্ষস্থলে। ডান হাত গিয়ে ঠেকেছে বর্ণ’র ঠিক বুকের বাঁ পাশে। যেখানে হৃদস্পন্দন ছন্দ হারিয়েছে এখন।

সুখ খামচে ধরে সেথায়।জোরে জোরে নিঃশ্বাস টানছে। কপাল বেয়ে ঘাম বেয়ে পড়ল একবিন্দু। কম্পমান শরীর।

বর্ণ সুখের মুখশ্রী থেকে নজর সরিয়ে ধীরে মাথা নামিয়ে নিজের বুকের দিকে চাইলো।সাদা টিশার্ট ভেদ করে বুকের মাংসপিণ্ডে নখ বিঁধে যাচ্ছে সুখের।মনে হচ্ছে জায়গাটা খুবলে হাতে নিয়ে আসবে এখুনি।
সুখ দাঁতে দাঁত চেপে আরো জোর খাটিয়ে খামচে ধরলো সেখানে।এই বুকে তার একটু ঠাঁই দিলে খুব বেশি ক্ষতি হতো?

চোখে চোখ পড়তেই ঢোক গিলে সুখ হাত সরিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। অবচেতনায় নজর যায় বর্ণ’র বুকের বাঁ পাশে।নখের দাগ চেপে গেছে টি শার্টে।সেই দাগের রঙ লাল। র’ক্ত..!সুখ হতবুদ্ধি চোখ বর্ণ’র দিকে চায়। পুরুষটির নজর শান্ত,নেই কোন তাড়া,নেই কোন রাগ অথবা ক্ষোভ।এক ধ্যানে নিজের বক্ষদেশে তাকিয়ে আছে।

ভয় পেয়ে যায় সুখ।সে চায়নি এভাবে র/ক্ত বের হোক!আলতো ছুঁয়ে দিতে হাত বাড়িয়েও আবার গুটিয়ে নিলো।মুখের অভ্যন্তরে জিভে নেড়েচেড়ে বর্ণ কপাল কুঞ্চিত করে সুখের ভীত সন্ত্রস্ত চোখে চোখ রাখলো। ব্যঙ্গাত্মক সুরে বললো হঠাৎ,

“ বুকের বাঁ পাশে কতো নিদারুণ ভাবে রক্তাক্ত করে দিলি?নাউ ফিলিং হ্যাপি?”

হৃদয়টা ধ্বক করে উঠলো সুখের।কেনো যেনো কান্না পেলো হঠাৎ। একঝলক চেয়ে মাথা নিচু করে করে নিলো সে।

“ ওটা কী?’’

বর্ণ’র নজর একসময় ফ্লোরে গেলো।সুখের খানিক দূরেই ভাঁজ করা কাগজটি পড়ে আছে।তার নজর অনুসরণ করে সুখ ডানে তাকাতেই মস্তিষ্ক সজাগ হয়। এখন যদি বর্ণ ভাই এটা খুলে দেখে? নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবে –

“আমার জিনিস তোর কাছে পৌঁছুলো কীভাবে?”

তখন সে কী জবাব দেবে?তড়িঘড়ি করে সুখ নিচে ঝুঁকে কাগজ কুঁড়িয়ে তুলে পেছনে লুকিয়ে ফেলে হাসার চেষ্টা করলো। বর্ণর কপালে সন্দেহের রেখা গাঢ় হয়। বুকের বাঁ পাশে হাত ডলতে ডলতে একপা দু’পা এগিয়ে আসে।

“ শো ইউ্যুর হ্যান্ড!”

মেয়েটা যারপরনাই ভয় পেয়ে গেলো এবার। অবচেতন মনে সে নিজেও পিছিয়ে যেতে লাগল।

ইট পাথরের আস্তরণে পিঠ ঠেকে যেতেই শ্বাস আটকে স্তব্ধ চিত্তে দাঁড়িয়ে রয় সুখ।বর্ণ দুপাশের দেয়ালে হাত রেখে বন্দী করে নেয় তাকে। চোখ উল্টিয়ে তাকায় রমণী। বর্ণর দৃষ্টি সুখের চোখের মণিতে। ছোট ছোট নেত্র পল্লবে কী যেনো খুঁজে ফিরছিলো সে। অতঃপর খানিক ঝুঁকে এসে বললো হুমকি স্বরূপ,

“ হাত বের কর!কী লুকিয়েছিস?”

সুখ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দুদিক মাথা ঝাঁকায়,

‘‘কিছু না! কিচ্ছু না!”

বর্ণ এসব অযুহাত শোনার পাত্র নাকি?সে পুণরায় বললো,

“ কী আছে ওতে?দ্যাখা..দেখি?”

মণিদ্বয় এপাশ ওপাশ ঘুরিয়ে এক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললো সুখ। আচমকা নিচে বসে পরপর বর্ণ এবং দেয়ালের মধ্যবর্তী ফাঁক থেকে হামাগুড়ি দিয়ে গলে একছুটে বেরিয়ে গেলো।পিছু ঘুরে একবার তাকিয়ে ত্রস্ত পায়ে দৌড়ে চলে গেলো চোখের অগোচরে।বর্ণ নিজ স্থানে থম মেরে দাঁড়িয়ে রইল। অত্যাধিক বিস্ময়ে চোয়াল কষে পড়ার উপক্রম।কিছু সেকেন্ড পার হতেই কপালে তর্জনী ঘঁষে ভ্রু গুটিয়ে আপনাআপনিই বললো সে কাঁধ দুলিয়ে,

“ এটা কী হলো?”

#চলবে🍂
®তৃপ্তি এহসান নাওরা•

||প্রচন্ড চোখ ব্যথা। এরচেয়ে বেশি লিখতে পারলাম না। আজ এটুকুই পড়ে নিন!||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here