আমার_বোবাফুল(২৭) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
69

#আমার_বোবাফুল(২৭)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

শীতল কক্ষে বর্ণ ঘামছে।কিছু পলের ব্যবধানে বক্ষস্থল ঘামে জবজবে। ধোঁয়াশা দৃষ্টিতে সুখের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে যেনো বিলীন হয়ে যাচ্ছে।বর্ণ হাত বাড়িয়ে তাকে ছুঁতে চাইলো। কিন্তু শরীর অসাঢ়;মনে হলো কোন অদৃশ্য শক্তি-বল তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরে আছে। শরীর কম্পিত হচ্ছে মৃদু মন্দ।কেউ যেনো ডাকছে,

“ ভাই.. ভাই!”

মস্তিষ্ক টগবগিয়ে উঠে তার।দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে ফট করে চোখ মেলে আচমকা বলে উঠলো,

“ খাঁটি বাঙলায় দু চারটে কষিয়ে গালি দিতে পারিলে হৃদয়ে বড়ো প্রশান্তি অনুভব করিতাম। নেহায়েৎ ভোর সকালে মুখ খারাপ করতে চাইছি না।শা:লার ঘরের হালার পো কে রে?কী চাইটা কী তোর?”

মাহির থমথমে খেয়ে গেলো। তড়িৎ বর্ণ’র গা থেকে হাত তুলে নিয়ে হতবুদ্ধির ন্যায় থম মেরে বেডের কিনারে দাঁড়িয়ে রইলো।নাক উঁচু করে মনে মনে উচ্চারণ করে,

‘ হাহ্ ভাষার কী জঘন্য সুন্দর শ্রী।যেন পুরোটাই গ্রামের চাচাতো ভাই!’

বর্ণর চোখে ঘুম জড়ানো।চোখের তারায় তখনো ভাসছে সুখের লাজুক সম্মোহনি হাসি।সে টের পায় বক্ষস্থলে গেঁড়ে থাকা হৃদ যন্ত্রটা কাঁপছে তুমুল হারে।কার নামে ছুটছে অবাধ্য হৃদস্পন্দন?বোবাফুলের?

একপাশে ঠোঁট এলিয়ে বাঁকা হাসলে বর্ণ’কে অদ্ভুত সুন্দর দেখায়।এই হাসিতেই তো হাজারো নারী হৃদয় ঘায়েল। ভ্রু কুঁচকে তা’র গতিবিধি লক্ষ্য করছে মাহির।বুঝলো না ঘুমের ঘোরে এমন হাসির মানে? স্বপ্নদোষ হলো নাকি?ভেবেই মুখে হাত রেখে কেশে উঠলো মাহির।গলা ঝেড়ে বললো,

“ স্যার.. আন্টি এসেছে!”

এই একটি বাক্যের ফজিলতে বর্ণ’র ঘুম উড়ে গেলো অবিলম্বে।তুরান্ত শুয়া থেকে উঠে বসে পুণরায় কথাটি জিজ্ঞেস করলে মাহির ফের বললো,

“ বাহিরে আন্টি অপেক্ষা করছে!”

তড়িঘড়ি করে উঠতে চেয়েও পরবর্তীতে মাহিরকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে বর্ণ নিজেকে দমিয়ে নেয়। তর্জনীতে কপাল ঘেঁষে আড়চোখে নজর হাঁটিয়ে নিলো কক্ষজুড়ে।কাল রাতেও রুমের মেঝেতে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল দশের অধিক আধ-খাওয়া সিগারেট। সেন্টার টেবিলে ড্রিংকের বোতল।এখন সব ক্লিন। নিশ্চয়ই মাহির করেছে।চোখ বুজে প্রলম্বিত শ্বাস ছাড়ে বর্ণ।

ফ্ল্যাটে মুখোমুখি দুটো রুম।দু রুমের মধ্যস্থে বসার উপযোগী মাঝারি আকারের স্থান। সেখানেও আবার সামনাসামনি দু দুটো সোফা এবং মাঝখানে স্বচ্ছ কাঁচের রাজকীয় টি টেবিলে।এই নিয়ে ফ্ল্যাটে তৃতীয় বার পদোচ্ছাপ পড়েছে আইজার। ভদ্রমহিলা গম্ভীর মুখে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে আশপাশ।

গত সাত দিন ধরে বর্ণ বাড়ি ফিরেনি।আযাদ শিকদারের নিষেধাজ্ঞায় তিনিও যোগাযোগ করেননি এই কয়দিন। অবশ্য তামিজ শিকদার কল করেছিল বার কয়েক।

এতো দিন মাতৃত্ব অন্তর আনচান আনচান করছিল তারউপর মাহির আজ জানালো সেদিন বর্ণ’র বাইক এ্যা/ক্সিডে/ন্ট হয়েছে। এহেন সংবাদে তিনি আর ঘরে বসে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেননি।মাহিরের সাথে এখানে এসে গেছেন।ছেলেটাও বর্ণ’র পিছু চিপকে থাকতে থাকতে তার মতোই তৈরি হয়ে গেছে।উনাকে নানা বাহানা দেখিয়ে সাথে আনতেই চাইছিলো না।পরে কঠোর গলায় আদেশ জারি করায় বাধ্য হয়েই যেনো সঙ্গে নিলো।

মুখে পানির ছিটা দিয়ে বর্ণ আয়নায় দৃষ্টি স্থাপন করে। পরপরই চোখ খিচে নেয় কপালে হাত ঠেকিয়ে।কী হচ্ছে তার সাথে?আয়নাতে তার নয় বরং বোবাফুলের হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী দেখতে পাচ্ছিল সে। খানিক আগে যেমন স্বপ্নে দেখা দিয়েছিল তেমনি।উফফ্,এ কেমন পেইন!

হালকা সবুজ রঙা টিশার্ট গায়ে জড়িয়ে রুম থেকে বের হলো বর্ণ।ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ মুড়ানো। ঈষৎ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে।আইজার নজর প্রথমে সেদিকেই চলে যায়।মায়ের দরদী মন যেনো হুঁ হুঁ করে উঠলো তৎক্ষণাৎ। কিন্তু তিনি চুপ রইলেন নজর সরিয়ে।

অনূভুতি শূন্য চোখে বর্ণ’ সোফায় এসে বসলো। দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো মেঝেতে।আইজা একদৃষ্টে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।কে বলবে তার এই শান্ত ছেলেটার অভ্যন্তরে হিংস্র একটি চরিত্র লুকিয়ে আছে?আর সেই হিংস্র হওয়ার পেছনে হয়তো কোন বড় একটা কারণ চুপে আছে।তবে কী সেটা? দীর্ঘ বছর কাউকে না জানিয়ে নিজের ভেতরে চেপে রেখে আজ হঠাৎ জিজ্ঞেস করলে নির্দ্বিধায় বলে দেবে –তার ছেলে কিন্তু এমন নয়! হয়তো কখনো মুখ ফুটে বলবেই না।

মাহির পেছনে দুহাত চেপে সটান বুকে পাশে এসে দাঁড়ালো।আইজা জিজ্ঞেস করলেন,

“ বাড়ি ফিরছো না কেনো?”

চোখের পলক ফেললো বর্ণ। তাচ্ছিল্য হাসলো একবার। অতঃপর ধীর গলায় বললো অকপটে,

“ ভয় হচ্ছে আম্মু!যদি আবার ফিরে যায়..হতে পারে সেদিনের চেয়ে আরো বড় কিছু ঘটিয়ে ফেললাম নিজের খামখেয়ালিতেই! তখন আফসোস বেশি তোমাদেরই হবে!”

নিরস গলায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই কথা শেষ করেছে সে। অথচ আইজার কানে এসে ভয়ানক সুরে লাগলো।তিনি উঠে গেলেন সোফা ছেড়ে। বর্ণ’র পাশে বসে মুখটা তার দিকে ঘুরালেন। চোখ মেলে বর্ণ নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকায়।আইজা পরম মমতায় তার চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন ।বললেন মৃদু স্বরে,

“ এমন কেনো করছো তবে?যাতে আমাদের আফসোস হয়?”

ঠোঁট উল্টে অদ্ভুত রহস্যময় হাসি হাসে বর্ণ। কাঁধ ঝাঁকিয়ে জবাব দিলো,

“ জানিনা,ব্যাস হয়ে যায় কখনো কখনো!মনে হয় আমি আমার মাঝে নেই।”

“ আমার বর্ণ তো এমন ছিল না!”

চোয়াল শক্ত করে বর্ণ মুখাবয়ব কঠোর করলো । অন্যত্র নজর ফিরিয়ে কপালে হাত ঘঁষলো দুবার। তারপর অতি সন্তর্পণে আম্মুকে এক হাতে জড়িয়ে নিলো।

“ আম্মু..!”

আইজা জবাব দিলেন না।তবে মাথায় হাত বুলিয়ে নিঃশব্দে বুঝিয়ে দেন –আমি আছি এবং শুনছি!বর্ণ চোখ বুজলো।বললো হঠাৎ করে,

“ স্যরি বললে আমায় মাফ করবে?”
.
দুপুর দুটোয় অভ্র’র রেজাল্ট পাবলিশ হবে। এসএসসি পরীক্ষার। টেনশনে সকাল থেকে কিছু মুখে তুলেনি সে।তুহফা বার বার বলছে – ভাত পানি ছেড়ে দিয়ে এমন টেনশন মেয়েদের জন্য সাজে।তুই তো ছেলে হোস;বি স্ট্রং!”
কে শুনে কার কথা?তার সম্মানের বড্ড ভয় হচ্ছে আজ।ভাইয়া ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট ছিল,সুখ আপিও তেমনি,তুহফা আপিও তাদের কাছাকাছি যায়। কিন্তু সে?যদিও ফুল এন্সার করে জমা দিয়েছিল খাতা। কিন্তু হল থেকে বেরিয়ে কী কী লিখেছে সব মন, মস্তিষ্কের বাহিরে।

গার্ডেনে এদিক ওদিক পায়চারি করছিল সে। কাছেই বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে চেয়ারে বসে আছে তুহফা।ক্ষণে ক্ষণে মাথা তুলে একঝলক অভ্রকে পরখ করছে। পরপরই মাথা ঝাঁকিয়ে ফোনে নজর ডুবিয়ে রাখছে।সুখ এলো হঠাৎ।অভ্রকে একটা চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিলো ইশারায় বললো,

“ আদা চা!”

মুখ গুঁজ করে হতাশ চোখে চেয়ে কাপ হাতে নিলো অভ্র।ধপ করে বসলো তুহফার পাশে।সুখও আসন পেতে নিলো অন্য একটি চেয়ারে। চারটি চেয়ার গোলাকৃতির বসানো হয়েছে । মধ্যখানে ছোট গোল টেবিল।ফাঁকা স্থান দখল করতে খানিক পর নূরা এসে বসে গেলো ঝটপট।অভ্র ভ্রু গুটিয়ে তাকালো।ঠাস করে মাথায় চাটি মেরে বললো ধমকে,

“ স্কুলে না গিয়ে বড়দের মাঝখানে এসে বসেছিস;বিচুটি পাতা!”

মাথায় হাত মালিশ করতে করতে মেকি ব্যাথাতুর মুখশ্রীতে চাইলো নূরা। মাত্রই তো স্কুল থেকে ফিরছে;রামসা নিয়ে এলো তাকে। নূরা কালবিলম্ব করলো না । অভ্র’র বাহুতে ঘুষি মেরে বললো রাগত স্বরে,

“ সারা রাস্তা তোমার জন্য দোয়া করেছি যেনো তেত্রিশ পেয়ে হলেও পাশ করে যাও। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমি কত বড়ো ভুল করেছি!”

পরপরই আকাশ পানে মুখ উঁচিয়ে ছোট কোমল দুহাত তুলে বললো আপনাআপনি,

“ আল্লাহ আমি আমার দোয়া তুলে নিলাম।তুমি এই অভদ্রকে এবারের মতো ফেল্টুশ বানিয়ে দাও।যেনো বড় বোনকে ছোট ভেবে গায়ে হাত তোলার..

আরো একটা চাটি পড়লো মাথায়।সুখ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। দুজন একত্রে হলে এভাবেই দিন কেটে যায় তাদের।অভ্র বাকহারা হলো বৈকি! চোখ পাকিয়ে বললো,

“ হাড় কিপ্টের নাতনি.. মাত্র তেত্রিশ পেয়ে পাশ করার জন্য ফরিয়াদ করেছিস?তোকে তো..!”

“ বড় মামি কোথায় রে?বাড়িতে দেখলাম না!”

তুহফার প্রশ্নে সুখ কিঞ্চিৎ চিন্তাগ্রস্ত হলো।বুঝালো,— সে এই ব্যাপারে অবগত নয়!”
অভ্র প্রত্যুত্তর করে বিরস গলায়,

“ মাহির ভাইয়ের সাথে গেছে!”

“ কিন্তু কেনো?”

“ ভাইয়া নাকি বাইক এ্যা/ক্সি/ডেন্ট করেছে!”

সুখ চমকে উঠে। অন্তঃস্থলের ধড়াস করে উঠে কিছু একটা। হতবুদ্ধির মতো তাকিয়ে তুহফা বলে উঠে,

“ কখন কীভাবে?

তখনই নূরা চেঁচিয়ে উঠলো দ্বিগুণ স্বরে,
“ বর্ণ এ্যা’ক্সি-ডেন্ট করেছে?তাই এতো দিন বাড়ি আসতে পারেনি?আমি বর্ণকে দেখবো!”
.
খালি হাতে ফিরেছেন আইজা।বর্ণ আসেনি উনার সাথে।তবে ফিরবে বলেছে সন্ধ্যার আগে, নয়তো রাত্রে।সুখ আড়ালে অবড়ালে নিশ্চুপ বসে প্রতিক্ষায় ছিল আইজার। ভেবেছিল বড় আম্মুর সাথে বর্ণ ভাইও ফিরবে। সামনাসামনি দাঁড়িয়ে না দেখুক। আড়াল থেকে একবার দেখবে –তার কোথায় কোথায় লেগেছে।কতোটা আহত হয়েছে। কিন্তু সুখের প্রতিক্ষার মাত্রা দীর্ঘ করে দিলো পুরুষটি।

বাড়িতে মিষ্টির বন্যা নেমেছে যেমন। অভ্র’র জিপিএ এসেছে ৪.৭৮!বাড়ির কেউ-ই এই ফলাফলে হতাশ নয় বরং তাকে উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে সমানে। এবারে ফাইভ পয়েন্ট পায়নি তো কী হয়েছে, আত্মবিশ্বাস থাকলে পরের বার অবশ্যই পাবে।
অভ্র’কে সঙ্গে করে পুরো এলাকা মিষ্টি বিতরণ করেছেন তামিজ। আজকের জন্য অফিস বাতিল করেছেন ভদ্রলোক।আযাদ শিকদারও যুক্ত হয়েছেন এই কাজে।
সুখ আর তুহফাও পাশের দু তিনটে বাড়িতে মিষ্টি দিয়ে এসেছে। বাড়িতে এমন দৃশ্য কিন্তু এই প্রথম নয়। তাদের প্রত্যেকের বেলাতেও এমন হয়ে এসেছে। মূলত, বাচ্চাদের যেনো রেজাল্ট ভালো-খারাপ নিয়ে মনক্ষুণ্ণ না হয়,তাই এই আয়োজন।
.
হরেক রকমের মজাদার খাবার পাক হয়েছে আজ। বেশিরভাগ আধিপত্য পেয়েছে অভ্র’র পছন্দের। লক্ষ্য করলে আবার প্রমাণিত হবে বর্ণ’র পছন্দই অভ্র’র পছন্দ। অর্থাৎ ভাইয়ার কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছে অভ্রটা। সুঘ্রাণে মৌ মৌ করছে ডাইনিং স্প্যাস থেকে ড্রয়িং রুম পর্যন্ত।

সুখ কিচেনের দরজা ঝুলে উঁকি দিলো। আম্মু,বড় আম্মু তখনো রান্নায় ব্যস্ত। বিকেল পড়ে গেছে অথচ ভদ্রমহিলারা কিচেন থেকে বের হতে পারেননি এখনো।

দুধে চুবানো রসগোল্লা জিভে জল আনার মতো।সুখ ফ্রিজ হতে রসগোল্লার বাড়ি হাতে তুলে নিয়ে মুখে পুরে দিলো একটা। রুবাইয়্যাত আর আইজার মুখেও তুলে দেয়।

বাটি খানা নিয়ে সুখ কিচেনে থেকে বেরিয়ে এলো। ড্রয়িং রুম আপাতত ফাঁকা।হানিফা বেগম নিজের রুমে।সাইমা বুয়া উনার পায়ে তেল মালিশ করে দিচ্ছে।তুহফাকে স্টাডি রুমে দেখেছিল;সুখ সেদিকে অগ্রসর হয়।

ধীর লয়ে পা চালানোর ফাঁকে সদর দরজায় নজর পড়তেই সে অর্ধপথেই থেমে গেলো হঠাৎ।বর্ণ ফিরেছে। এলোমেলো চুল, গম্ভীর অথচ দৃঢ় আভিজাত্য লেপ্টানো সুশ্রী। পরিধানে রয়েছে শুভ্র টিশার্ট।কালো শার্টটা গা থেকে খুলে কোমরে পেঁচিয়েছে। খুঁড়িয়ে হেঁটে আসছে, কিন্তু জুতোর কারণে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দৃশ্যমান নয়। বাঁ হাতের কব্জি এবং তালুতে পেঁচানো ব্যান্ডেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে কেবল।সুখ অল্পক্ষণ তাকিয়ে রইলো অনিমেষ। অতঃপর নজর সরিয়ে আনে।

বোধহয় বর্ণ’ তখনো খেয়াল করেনি তাকে। ঠোঁট চোকা করে ডান হাতের তর্জনীতে গাড়ির চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে ড্রয়িং রুম ভিড়িয়ে একমনে হেঁটে যাচ্ছে সিঁড়ির অভিমুখে। আশেপাশে তাকানোর প্রয়োজন বোধই মনে করছে না। তাকালে নিশ্চয়ই সুখের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি উপেক্ষা করতে পারতো না।

পুরুষটি দেখার আগেই পা ঘুরিয়ে নিলো সুখ।দু কদম বাড়িয়ে মনে হলো বিপরীত পক্ষ পদযুগল থামিয়ে দিয়েছে। হয়তোবা তার দিকেই তাকিয়ে।সুখ শিরদাঁড়া সোজা করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।মনে সংকোচ কিন্তু একবার পিছু ফিরতে অবাধ্য মনটা হাউ কাউ করছে।

সীমাহীন দ্বিধা নিয়ে সুখ ধীরস্থির পিছু ফিরলো । মূহুর্তেই ছুটতে থাকা হৃদস্পন্দন তাল হারায় পূর্বের চেয়ে জঘন্য গতিতে।বর্ণ শুধু থামেনি।একপা মেঝেতে অপর পা সিঁড়িতে স্থবির রেখে তার দিকেই চেয়ে আছে। অধরজোড়ে নিঃশব্দ বাঁকা হাসির ঝংকার।সুখ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভেতরের আত্মাটা যেনো শাসিয়ে দিচ্ছে,

“ এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কোন প্রয়োজনই নেই।তুই নিজের কাজ কর সুখপাখি!”

কিন্তু শরীর যে অনড়।সে এই মুহূর্তে খুব করে চাইছে ছুটে স্থান ত্যাগ করতে।তবে পা দুটো বড্ড বেঈমানি করছে।

ঠোঁটের চারপাশে রসগোল্লার ঝুল লেগে ছিল সুখের। জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে নিতে গিয়ে ভালো করেই বুঝতে পারলো সেটা।বর্ণ’র অধর বাঁকানো হাসি কমলো না। বাঁ হাতের তর্জনী এবং মধ্যমা জোড় করে ঠোঁট ছুঁইয়ে সুখের দিকে বাড়িয়ে ধরলো আচমকা।পরপর গুলি করার মতো করে আঙুল দুটো চালিয়ে এক চোখ টিপে দিলো। সর্বাঙ্গে ঝাঁকি দিয়ে উঠলো সুখের। মৃগী রোগীর মতো হাত কেঁপে উঠল ঠকঠক। বাটি পড়ে যেতে নিলে কোন রকম শক্ত হাতে আগলে রাখে।

বর্ণর হাসি প্রসস্থ হয় আরো। ঠোঁটের সাথে সাথে তখন চক্ষু দ্বয়ও দ্যুতি ছড়ায়। সুখকে বিষ্ময়ের সাগরে ছুঁড়ে ফেলে পা সামনে চালিয়ে নিয়ে যায় বর্ণ।সুখের দিকে পিঠ হয়ে যাওয়ার পরেও দু আঙ্গুল মাথায় ঠেকিয়ে তাকে কিছু একটার সংকেত দিলো যেনো।এর মানেটা সুখ বুঝলো না। রুবাইয়্যাতের স্বর ভেসে আসে আলগোছে,

“ কাউকে না বলেই চলে যাচ্ছো বর্ণ? ”

সুখের কানে সেসব পৌঁছালো কী না বুঝা গেলো।সে তখন স্তব্ধ।বর্ণ কী দেখালো এটা?

#চলবে🥀

[কী হলো এটা?]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here