#আমার_বোবাফুল(৩৫)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
নীল, লাল,কালো কালিতে খচিত নির্লিপ্তে জ্বলজ্বল করা লেখাগুলো দেখেই দৃষ্টি আচমকা প্রখর হয়ে উঠে।চাহনিতে বিষ্ময়ের বদলে কিছু একটা ছিল –যা অবর্ণনীয়। নিস্তেজ রাত্রে নিরবতা মুড়ানো কক্ষটায় অদ্ভুত এক স্থিরতা।অজান্তেই ঠোঁট কামড়ে বাঁকা হাসলো বর্ণ।
“ আফসিয়ান বর্ণ”
“ লাভ ইউ্যু ”
“ হেইট ইউ্যু ”
“ মিস ইউ্যু ”
ছোট ছোট লেখায় পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে স্তরে স্তরে সাজানো এই চারটিই কথা।বর্ণ হাসি চেপে গম্ভীর হয়।ডায়রির প্রথম পাতা নয় এটা।আগে আরো দুটো পাতা ফেলে এসেছে। ডায়রি বন্ধ করে পুণরায় প্রথম পাতা মেললো বর্ণ। দৃষ্টি থমকায় সেই পাতাতে।
↓
একটা স্ক্যাচ। পেন্সিলে আঁকা। দুদিকে মুখ করে থাকা দুটো যুবক-যুবতী।মেয়েটি তার মাথার লম্বা বিনুনি’র গোড়ায় হাত রেখে আছে।ব্যাথাতুর মুখশ্রী। বিপরীত মুখো দাঁড়িয়ে ঠোঁটে ধূর্ত হাসি ফুটিয়ে বিনুনির আগা নিজের কাঁধ বরাবর রেখে টেনে ধরে সম্মুখে হাঁটছে যুবক।খুব পরিচিত এবং জীবন্ত দুটো সুশ্রী। তাদের একজন আসফিয়ান বর্ণ এবং অপরজন ফারিস্তা সুবহান সুখ।
অবচেতন মনেই তারউপর হাত বুলিয়ে দেয় বর্ণ।তার অভিব্যক্তি সঠিক বুঝা গেলো না।এতো নিখুঁত ভাবে ফুল স্ক্যাচ করতে পারে –এই প্রশ্ন-ই হয়তো মাথায় ঘুরছে, অথবা অন্য কোন ভাবনা।আগের বর্ণ সুখকে এভাবেই জ্বালাতো। একজন ছিল উত্তপ্ত আগুনের ন্যায়, অন্যজন ততোটাই হিমশীতল।কিন্তু বহুকাল হলো সেই আগুন-পানি’র সম্পর্ক ধামাচাপা পড়ে গেছে অসংজ্ঞায়িত কোন তান্ডবে। অথচ স্ক্যাচ দেখে মনে হচ্ছে এটা কালই আঁকা। বর্তমানে দু’জনকে যেমন দেখায় স্ক্যাচেও তেমনি।তবে কী সুখ সেসব দিনের আজো স্মৃতি চারণ করে। কিন্তু বর্ণ তো স্মৃতি হিসেবে নয়, তার মূল উদ্দেশ্যই ছিল সুখকে বিভ্রান্ত, বিরক্ত করা।
পাতার ওপিঠ ফাঁকা।তার পরবর্তী পাতায় মধ্যস্থে কিছু লেখা আছে। বর্ণ সেদিকে নজর রাখে:-
“হে্ পৃথিবী শুনো শুনো!একটা ভুল করে ফেলেছি। বিশাল বড় ভুল!জানো কী –আমি ভালোবেসেছি! আসফিয়ান বর্ণ নামের ওই নিষ্ঠুর পুরুষকে ভালোবেসেছি! অসাবধানে মুধু ভেবে প্রেমের বিষ পান করেছি!হৃদয়ের এক কঠিন সত্ত্বা ‘এটা ভুল পথ, সে কেবল আমার বড় ভাই, তাকে অন্য নজরে দেখা পাপ’ বলে ধিক্কার জানালেও সেই-যুক্তিকে অপর সত্ত্বা হাজারো যুক্তি দেখিয়ে খণ্ডন করে দেয়।পারিনি তার নামে আমার হৃদযন্ত্রের অবাধ্য স্পন্দন, বেহায়া মনকে শত চেষ্টায়ও আটকাতে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি!”
বর্ণ’ অন্যমনস্ক হয়।না চাইতেও চোখের তারায় ভাসলো যেনো –পাঁচ লাইনের এই সূচনায় লেখা কথাগুলো সুখ কোন এক উঁচু পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে মুখের দু’পাশে হাত রেখে চিৎকার করে পৃথিবীকে অবগত করে দিচ্ছে তার ভালোবাসার কথা।
ঠোঁটে ঠোঁট গুঁজে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডায়রিটা দেখতে লাগে সে। মোটায় ডায়রিটা তর্জনীর দু কড়ের মতো উঁচু হবেই। পরবর্তী প্রতিটি পৃষ্ঠায় ঘন কালো লেখা।শেষ করতে কমপক্ষে এক থেকে দুদিন সময় লাগবেই। ক্ষেত্রবিশেষেও এতো ধৈর্যশীল সে কখনোই না।এই এক বসাতেই তার পুরো ডায়রির ইতিকথা অনুমান করা চাই!
ডায়রির সব পৃষ্ঠার গুচ্ছ ডান হাতে ধরে বৃদ্ধা আঙ্গুলি কষে একটা একটা পাতা থপ-থপ ছেড়ে দিয়ে বর্ণ শেষের দিকে চলে গেলো। দু’টো ফাঁকা পৃষ্ঠার মধ্যখানে খন্ড খন্ড ছেঁড়া কাগজের টুকরো।যেনো এই টুকরোগুলো দু দিকের পৃষ্ঠাগুলোর বর্ডার হিসেবে কাজ করছে। ভাঁজ করা কাগজের মধ্য থেকে একটি খুলেই থমকালো সে।এটা সেই চিঠি –যেটাতে সেদিন সুখ নিজের সব অনুভূতি তুলে ধরে বর্ণ’র সামনে দাঁড়িয়েছিল ‘ভালোবাসি’ বলে। আর বর্ণ ভালোবাসি লেখাটি চোখে পড়া মাত্রই টুকরো টুকরো করে ছুঁড়ে ফেলে সুখের কোমল হৃদয় খানি চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছিল পাষণ্ডের মতো করে।বর্ণ পুণরায় রেখে দিলো সেটা।হয়তো পড়ে দেখার সাহসে কুলাচ্ছে না,অথবা প্রয়োজন বোধ মনে করছে না।
আরো একটি কাগজ আছে।এটা সেদিন ব্যালকনি থেকে তার উড়িয়ে দেয়া লেখাগুলো।বর্ণ অবাক হলো না এটা সুখের কাছে দেখে।নিজ থেকে স্মিত হাসলো শুধু।ডায়রির এখন দুটো ভাগ।বর্ণ ডান ভাগ থেকে একটি পাতা উল্টালো
“ দেখুন,বর্ণ ভাই! কাঁদছি আমি।বিক্ষিপ্ত স্রোতের মতো বাঁধ ভাঙা কান্না।অপরাধ করেছি না? আপনার মতো রকস্টারকে ভালোবেসে? সত্যিই তো কী যোগ্যতা আছে আমার, আপনার পাশাপাশি দাঁড়ানোর?যে কখনো ভালোবাসি শব্দটা মুখে উচ্চারণই করতে পারে না,তার কোন অধিকারই নেই কাউকে ভালোবাসার। আমারই ভুল সব।মাথা পেতে নিলাম।কিন্তু আমি আশ্রীতা?আমি কাউকে কথাটি বলিনি। আম্মুকে ও নয়, আব্বুকেও না। জানেন কেনো?দুটো কারণ।এক, আপনার কথা রাখতে। দ্বিতীয়ত, আমি কথাটির সত্যতা যাচাই করতেই পারি।তবে সাহস নেই, জানেন তো আমি খানিক নয় অত্যাধিক ভীতু।ভয় হয় খুব –যদি সত্যি সত্যিই আশ্রীতা প্রমাণিত হই, শুনতে হয় যাদের আব্বু আম্মু বলে জানি তারা আসলে আমার কেউ নয়।সহ্য করতে পারবো না এমন জঘন্য বাজে সত্যিটা; ওই মূহুর্তেই আমার মরণ হোক। কিন্তু আপনাকে ছেড়ে দেবো না। একদিন না একদিন আপনাকে এর জবাবদিহি করতেই হবে। আপনি বাধ্য হবেন সেদিন।
↓
এই পর্যায়ে বর্ণ গলা খাঁকারি দেয় । গম্ভীর মুখে ঠোঁট ভিজিয়ে এদিক ওদিক দৃষ্টি নিক্ষপণ করে চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সে-কি সেদিন জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে?রিয়্যালি?সুখ চ্যালেঞ্জ দিলো তো তাকে! বর্ণ পরবর্তী পৃষ্ঠা উল্টায়।
“ খুব স্ব-গর্বে বলে এসেছি আমার ভালোবাসার জোর এতোটাই যে –আপনি একসময় আমার শূণ্যতা অনুভব করবেন।আমি বিহীন নিজেকে শূণ্য,অচল -আপনার ভাষ্যমতে বোরিং মনে হবে যেদিন –সেদিন আমার হাত চাইবেন। অথচ এই বদ্ধ রুমে এসে মনে হচ্ছে খুব বাজে ভাবেই হেরে যাবো আমার সেসব কথার কাছে।আমি জোর পাচ্ছি না ভেতর থেকে।পাবো কী করে?ওটা যে এখন চূর্ণ বিচূর্ণ, নিস্ক্রিয় প্রায়!”
“ হৃদয়ের গহীনে বহুবছরের তিলতিল করে গড়ে উঠা ভালোবাসা আপনি আমার। প্রতিটি মূহুর্ত,প্রতি সেকেন্ড আমার মন মস্তিষ্ক জুড়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে ছিলেন,আজো আছেন।আমি ভীষণ করে চাইছি, তবু পারছি না আপনাকে ঘেন্না করতে।আবারো একবার নিজের কাছে হেরে যাচ্ছি; হয়তো যাবো প্রতিনিয়ত।সেদিন আপনার প্রতি দূর্বল হতে মনকে শক্ত খোলসে আবদ্ধ রাখতে না পেরে অপরাধ করেছি।আজ আপনাকে ঘেন্না না করতে পেরে দ্বিতীয় অপরাধ। অপরাধের উপর এতো অপরাধ কীভাবে করতে পারি আমি?এর শাস্তি কী হতে পারে? দুচোখের অশ্রু? নির্ঘুম রাত?
“ আপনার ত্রিসীমানায় ঘেঁষতেও নিষেধ করেছেন!এক বাড়িতে অবস্থান আমাদের।তাই শপথ নিতে পারবো না যে আমি আপনার মুখোমুখি হবো না এ জীবনে, কিন্তূ এটুকু কথা দিলাম স্বেচ্ছায় আপনার ত্রিসীমানায় ঘেঁষবো না আর।খুব বেশি প্রয়োজনে হয়তো কথার খেলাপ করে দূর থেকে একঝলক দেখে নেবো আপনাকে ফাঁকি দিয়ে।একটু বেহায়া তো, আপনি না বাসলেও আমি যে বাসি।”
↓
এভাবে আরো কয়েক পাতায় নজর বুলিয়ে নিলো। সেখানের প্রতিটি শব্দচয়নে তার নামে অভিমান, অভিযোগ ,অনুযোগের ঢালি।পরের পাতা উল্টায়না বর্ণ। আপনাআপনি থেমে যায় হাত। নিশ্চয়ই তার নামে শতোশতো অভিযোগ পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোও বীনা র্দ্বিধায় জড়িয়ে নিয়েছে নিজেদের গায়ে। অনূভুতি শূন্য হাসলো বর্ণ।কেউ তার নামে অভিযোগ করলে কেনো যেনো ভীষণ উপভোগ্য লাগে তার কাছে।হৃদয়ে অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব হয়। কিন্তু অভিমান? পূর্বে এই মান অভিমানের খেলা কেউ খেলেনি তার সাথে। অতঃপর সুখের কথাগুলো থেকে অভিমান আর অভিযোগের তফাৎ তৎক্ষণাৎ খুঁজে পেলো না সে।
অল্পবিস্তর অভিমান,অভিযোগ জানা শোনা হয়েই গেলো বর্ণ’র।সে জোরপূর্বক পৃষ্ঠা থেকে নজর সরিয়ে আনে অন্যত্র। প্রতিটি শব্দ পড়ার সময় মনে হচ্ছিল সেদিনের সুখের অশ্রুসিক্ত মুখশ্রী ভেসে উঠছে।কী যে বিধ্বস্ত রকমের করুন ছিল সেই আঁখি পল্লব।জোড় হাতে বোবা স্বরে কী যেনো বলতে চাইছে তাকে।হয়তো একটি ভাঙ্গা হৃদয়ের গল্প।
সামনের দিকে আগালো না আর।সে বুঝে নিলো ছেঁড়া চিঠির ডানপাশের পাতাগুলোর সিংহভাগ কেবলি তার নামের অভিযোগই বহন করছে। বাঁ ভাগে কী লেখা আছে জেনে নেওয়ার গুঞ্জন তুলে মন।
পুণরায় পাতা উল্টে বর্ণ শুরুতে চলে গেলো এবার।গত কয়েক রাত ঘুমে প্রচুর অনিয়ম হয়েছে।চোখ জ্বলা করছে তাই। স্লিপিং পিল খেয়ে শুতে হবে।ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে চোখ মেলে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি পাতায়।
“ আপনি আমার হোন বা না হোন,সেতো ভাগ্যে-ই বলে দেবে।তবে ভীষণ সুখানুভূতি হয় যখন আপনাকে নিজের একান্তই ভাবি। অথচ কী করলেন?কতো আনন্দ নিয়ে মাত্রই আপনার সদ্য বের হওয়া গান দেখতে বসলাম একাকী।আর আপনি একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন? কীভাবে পারলেন এমনটা করতে?কানে কানে কী বলছিলো ওই চুড়েলটা? আপনার পাশে অন্য কাউকে কল্পনা করলেও যেখানে আমি হিংসায় স্ফুটিত হয়ে যাই,দম বন্ধ হয়ে আসে ক্রমশ, হৃদয় ছটপট করে –সেখানে না জানি কে না কে আপনার কাছে এলো, তারপর ছুঁয়ে কানে কানে কী বলে গেলো?এমন স্টেপের অভিনয় না করলে কী আপনার নামডাক কমে যেতো?আমি ভীষণ ভীষণ অভিমান করেছি আজ।হয়তো আপনি কখনো জানতেই পারবেননা।
পৃষ্ঠার কোণের তারিখটা দেখে বর্ণ চোখ বুজে একটি কথা মনে করে ঠোঁট কামড়ে হাসে।কাছে এলো, তাকে ছুঁলো একুটুই সুখ দেখেছে।এর পেছনে ঘটে যাওয়া দৃশ্যপট দেখলে নিশ্চয়ই সুখের এই লেখা,এই অভিমান অন্যপথে যাত্রা নিতো।
প্রায় বছর দুয়েক আগের কথা।সেদিনের শুটিং স্পট ইনানি সী-বিচ কক্সবাজার। সমুদ্রের বালুচরে।একটি স্টেপ এমন ছিল যে মেয়েটি ছুটে কাছে এসে আলতো করে তার কাঁধে দু হাত রাখবে। লাজুক হাসি হাসি মুখটা এগিয়ে কানে কানে কিছু একটা বলবে চরম আবেগ মিশিয়ে। দুর্ভাগ্য বসত শুটিং টাইমে মেয়েটি কানে মুখ বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মূহুর্তে বর্ণ’র গালে হালকা ছুয়ে গিয়েছিল তার গাল। এরপর বর্ণ কাল বিলম্ব করেনি।এক ধাক্কায় তাকে সরিয়ে ঠাঠিয়ে চড় বসিয়ে দেয়।রাগের তোড়ে আগেপিছে ভাবার সময় নেয়নি বর্ণ’। বেখেয়ালে শক্ত ধাতুর ন্যায় হাতটা গালের পাশাপাশি কানও ছুঁয়ে গেছিল। পরপরই পর্দা ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসে লিয়ানা নামের সেই মেয়েটির।এটিই তার প্রথম কাজ ছিল বর্ণ’র সাথে।এ নিয়ে কতো কী ঘটে গেলো সুখ যদি জানতো!
চোখের জ্বালা তীব্র হচ্ছে। পৃষ্ঠায় চোখ স্থির রাখা যাচ্ছে না।বর্ণ আপনমনে পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে একটা পেইজ থামে।আরো একটা স্ক্যাচ।এটাতে কেবল আসফিয়ান বর্ণ’র রাজত্ব। গিটার হাতে বিন ব্যাগে পা টেনে বসে আছে।চোখ বন্ধ।তার পাশের পৃষ্ঠার লেখাগুলো পড়তে চোখের উপর ডায়রি নিয়ে এলো সে। এবারে খানিকটা কৌতুহল দেখা দেয় তার মাঝে।
প্রিয় সুন্দর পুরুষ,
আব্বুর পর আমার চোখের দেখা শ্রেষ্ঠতম সুন্দর পুরুষ আপনি। জানি না এটা আমার চোখের ভুল, নাকি মনের।আমি অগোচরে চেয়ে থাকি।তবু বারেবারে তৃষ্ণায় কাতর হই!দূর থেকে চুপিচুপি ক্ষণের পর ক্ষণ অপলক তাকিয়ে আপনাকে দেখে যাই নিরলস।তৃপ্তি মেটে না বরং তৃষ্ণা বেড়ে যায় দ্বিগুণ থেকে বহুগুণ। ইচ্ছে করে আপনাকে চোখের সামনে বসিয়ে চেয়েই থাকি মায়াবী এই জগৎ ভুলে। কখনো কখনো মনে হয় আপনি জান্নাত থেকে পালিয়ে আসা কোন ফুল.. না নাহ –ফুল তো আমি আপনার।আর আপনি হবেন সেই ফুলের বিষাক্ত কাঁটা যুক্ত গাছ।যার মুকুটে ফুটে উঠবে আমি নামক কোমল স্নিগ্ধ সুরভী ছড়ানো পুষ্পরাণী।শুনছেন সুন্দর পুরুষ?আজ একটা সিনেমা দেখেছি। ভীষণ মনে ধরেছে। অতঃপর হুটহাট আবেগে পড়ে আমিও একটা অসাধ্য ফ্যান্টাসিতে ডুব দিয়েছি –ইশশ্ যদি আমি আপনার হৃদয়ের বৃহত্তম জেদ হতাম। যদি আমায় আর আমার ছোট্ট মন জিততে উঠে পড়ে লাগতেন। কিন্তু আমি জানি এটা অসম্ভব। আমার কাছে আপনি ছাড়া অন্য কোন স্বপ্ন পুরুষ না থাকলেও,আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা হাজারো রমণী আছে।ভালো….
বর্ণ ধপ করে ডায়রি বন্ধ করে ফেললো । ছুঁড়ে ফেলার মতো রেখে দিলো স্টাডি টেবিলে। সেকেন্ড কয়েক স্থির থেকে পায়ের উপর পা তুলে বসে শূণ্য দৃষ্টি ফেলে চেয়ে রয় অল্পক্ষণ।তার অভিব্যক্তি ঠাহর করা খানিক দুষ্কর।ডান হাতের তর্জনীতে ঠোঁট ঘঁষে খানিক পর ভ্রু গুটিয়ে বলে উঠলো অস্ফুট স্বরে,
“ এতো আবেগ?”
হাসি ছিটকে আসে ঠোঁট ভেঙে, অতঃপর বললো ঘাড়ে হাত ম্যাসাজ করে,
“ ওকেই জানেমান!কবুল হেয়!
#চলবে🥀
[পর্বটি তাড়াহুড়োয় কেমন লিখেছি জানিনা।ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। রেসপন্স করার অনুরোধ]

