আমার_বোবাফুল(৪৩) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
61

#আমার_বোবাফুল(৪৩)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

ড্রাইভিং সিটে বসা বর্ণ।ব্যাক-এ কোন সিট অবশিষ্ট নেই।নূরা,তুহফা,ফাহা,রুস্মিতা একসাথে।রাজবীর,অভ্র একদম শেষের সারিতে। তাদের সাথে মাহির যোগ দেয় আরেকটু পর।বাড়ির কর্তা কর্ত্রীরা যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিল বর্ণ ভাই-বোনদের নিজ খেয়ালে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে দেখে।হানিফা বেগম তো দিনের বেলায় চাঁদ দেখার মতো গদগদ হয়ে আর্জি করে ফেললেন ‘ তাকে সাথে নেয়া যাবে কী না!’
বৃদ্ধাকে যা বলার অভ্র বলেছে।দাদু নাতির মাঝে বেশ কিছুক্ষণ এই নিয়ে সাপে-নেওলের একটা মুখোযুদ্ধ লেগেছিল।থেমেছে বর্ণ’র কঠোর গলার বদৌলতে।

ফ্রন্ট ব্যতীত সুখ বসার আর জায়গা পেলো না। গেলে বর্ণ’র পাশে বসেই যেতে হবে।এতেও নির্ঘাত আসফিয়ান বর্ণ’র ষড়যন্ত্র রয়েছে। খানিক আগে তুহফা আর অভ্র’কে কিছু একটা বলতেই দলবল নিয়ে সিট দখল করে নিয়েছে সুখকে রেখেই।সে চাইছিল তুহফা কিংবা মাহিরকে সামনে বসাতে কিন্তু তারা নাকচ করে দেয়। এরপর সুখ উল্টো বাড়িমুখী কদম রাখে।তবে হলোনা তুহফার কথায়,

‘ তুই না গেলে আমরাও যাচ্ছি না তবে।’

‘ আর কেউ যাবে না মানে আমায় ইনসাল্ট করা।এর শাস্তি কতোটা ভয়াবহ হতে পারে সকলেই জানিস নিশ্চয়ই!’

বর্ণ’র নির্লিপ্ত স্বর। অগত্যা সুখ ফ্রন্ট সিটেই বসল চুপচাপ। রুবাইয়্যাত মেয়েকে ছাড়তে চাইছিলেন না। ভদ্রমহিলাকেও বর্ণ কী মন্ত্র পড়িয়ে যেন রাজি করে নিল শেষমেশ।তামিজ সাহেব মাইক্রো এর পেছনে আতিফ এবং আসলামকে পাঠালেন।বর্ণ দ্বিমত পোষণ করলো না।হাসল কেবল রহস্যময়।

জেলা শহর ছাড়িয়ে অনেক দূরে প্রায় দেড় ঘণ্টা জার্নির পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় গড়ি পৌঁছাল।সারা পথ জানালার বাইরে নজর স্থির রেখেছে সুখ।ঘাড় বাঁকিয়ে তো দূর, আড়চোখে অবধি ডানে তাকায়নি।এটা অবশ্য বর্ণ’র মানে এবং মনে দুটোই প্রসংশনীয় রকমের লাগলেও দাঁত চেপে সহ্য করে নিল। কিছু দিনের ব্যবধানে বর্ণ ভাই’য়ের প্রতি সকল মুগ্ধতা শেষ? মানবতার খাতিরেও চাওয়ার প্রয়োজন বোধ মনে করেনি ছলনাময়ীটা।

গাড়ি থেকে নামতে গেলে ওড়নায় টান পড়ল সুখের। নিষ্প্রভ চোখে পিছু ঘুরে দেখলো বর্ণ’র ঘড়িতে আটকে আছে কোণা।চোখ তুলে চায় সুখ। বর্ণ’র ধ্যান এদিকে নেই তখন। ঠোঁটে ডান হাতের তর্জনী ঠেসে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে বিপরীতে। ওড়না টেনে ছাড়ানোর চেষ্টা করল একবার।আসে না, এমনভাবে ঘড়িতে আটকে আছে যেনো খুব নিপুণ হাতে ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে সহজেই না ছুটে যায়।

বর্ণ’ বেখেয়ালে তাকানোর মতো ফিরল হঠাৎ করেই। সুখকে ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি মিশিয়ে চেয়ে থাকতে দেখে নিজের হাত দেখলো। ঠোঁট গোল করল বিষ্ময় নিয়ে। অতঃপর হাতখানা নিঃশব্দে এগিয়ে দেয়,

‘ নিজেই ছাড়িয়ে নে!’

গাড়ি থেকে নেমে অন্যরা সুখের অপেক্ষায়।বর্ণ বলল গম্ভীর কন্ঠে,

‘ মাহির ওদের নিয়ে এগিয়ে যা.. ফুল আসছে!’

জবাবদিহিতা চাওয়ার সাধ্য নেই কারো।তারা ধীর পায়ে চলল সামনে।যতো এগিয়ে যাচ্ছে ততই অবাক হচ্ছিল প্রত্যেকে।প্রকাণ্ড এই স্থানে মেলার আয়োজন হয়েছে বোধহয়। মানুষের ঢল নেমেছে।কোন বাচ্চা ভুলক্রমে হাতের মুঠো থেকে গলে গেলে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। খানিক অন্তর অন্তর জায়গাজুড়ে কতো রঙ বেরঙের আয়োজন।কেউ ঘোড়ায় চড়ছে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নিরুত্তাপ হাতিও চোখে পড়ে।ফেইরি লাইট, আর্টিফিশিয়াল ফুলে-বেলুনে সাজানো প্রবেশপথ।রাতের বেলা প্রতিটি দৃশ্য আরো মনোরঞ্জক হতো।আরো এক চমকপ্রদ দৃশ্য হলো –পায়ের নিচে ঝরঝরে বালির মোটা স্তর। প্রতিটি কদমে মনে হয় সমুদ্র তীর।

আশ্চর্য! ওড়না ঘড়ির উপরিভাগের নিচদেশের এপাশ থেকে গলে ওপাশ, এরপর আরো প্যাঁচ…
বুঝতে বাকি নেই মানুষটা ইচ্ছে করেই এমনটা করেছে।সুখের চোখ মুখের কুঁচকানো ভাব গভীর হচ্ছে। তিতিবিরক্ত মুখে মাথা তুললো। কাত হয়ে সিটে মাথা এলিয়ে বেশরমের মতো একদৃষ্টে চেয়ে আছে বর্ণ’। চাহনির মুগ্ধতারা বলে দিচ্ছে সুখের কপালে পড়া প্রতিটি ভাঁজ, ঠোঁটের নড়চড়, চোখের দৃঢ়তা সব.. সবকিছু সূক্ষ্ম নেত্রে পরখ করছে। মেয়েটা চোখ তুলতেই বর্ণ’ হাসল ঠোঁট একপেশে।

‘ এখন ভয় লাগছে না আমাকে?’

কিছু সেকেন্ডের জন্য সুখ হতচকিত হয়েছিল বোধকরি। এরপর জবাব না দিয়ে মুখটা গম্ভীর করে ডোরের হাতলে হাত দিল। ওড়না ছাড়িয়ে নিয়েছে।তবে ডোর খুলতে ব্যর্থ হয় পুণরায় হাতের কব্জিতে টান লাগায়।

বর্ণ সন্তর্পণে সুখের হাতের কব্জিতে ওড়না পেঁচিয়ে অপর হাতটাও জোড় করে বেঁধে নিল সুখ প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে আগেই।

‘ সবার সাথেই তুই স্বাভাবিক অথচ আমাকে দেখলেই ভয়ে সিটিয়ে যাস?ওয়াহ্,আমাকে এড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করেই ছলনা? হোয়াটস ইউর প্রবলেম?এখন আর ভালোবাসিস না?’

রাগত চেহারায় হাতের বাঁধন ছাড়াতে সুখ ছটফটায়।জোড়-হাত বাঁধার অবশিষ্ট ওড়না বর্ণ’র হাতের মুঠোয়। হেঁচকা টান দিতেই দুজন দুজনার মুখোমুখি হলো। বর্ণ পুণরায় বলে,

‘ কী জানতে চাইছি কথা কানে যায়নি। জবাব দে।’

সুখ বিনিময়ে হাত ছাড়াতে বৃথা চেষ্টায় নিয়োজিত। তবে, কঠোর দৃষ্টি বর্ণ’র চোখের দিকে।

‘ ঠোঁটে বল।আমি বুঝে নেবো!’

তাও কিছু বললো না সুখ। বর্ণ আরো কিছুটা কাছে টেনে নিল তাকে। এবারে ঠোঁট নেড়ে কিছু বলল বোধহয়। বর্ণ নির্বাক দৃষ্টি মেলে অল্পক্ষণ চেয়ে জানতে চাইল,

‘ ইউ হেইট মি?’

এই পর্যায়ে এসে সে স্তম্ভিত হল। ‘আই হেইট ইউ ’ বাক্যটি বর্ণ লিপ রিডিং করেছে! কীভাবে?আজ অবধি স্বয়ং আম্মু-আব্বুর মধ্যেও কেউ যা পারেনি তা…
বর্ণ বুঝল তার মনোভাব।জবাব দিল না। চোখে চোখ রেখে বলল,

‘ কিন্তু তোর চোখ বলছে অন্য কথা!’

‘ ওটা কৃতজ্ঞতা!’
‘ নোপ.. আরো কিছু আছে!’

‘ বাকিটা কেবল সহানুভূতি!’

শব্দ দুটোর ব্যবহারে সুখের ঠোঁট নেড়ে ওঠতেই বর্ণ চোখ সরিয়ে হাসল অদ্ভুত ভঙিমায়। পুণরায় চট করে সুখের দিকে চেয়ে বলল,

‘ সহানুভূতি? আমার জন্য?এটা তো সবল”রা দুর্বল’দের জন্য দেখায়। কোনো অংশে তুই কী আমাকে দুর্বলদের তালিকায় ফেলেছিস বোবাফুল?’

সুখ কিচ্ছু বলে না।হাত মুচড়ানো শুরু করে ফের। বাঁধন ছেড়ে দেয়ার আগে বর্ণ আরো একবার তাকে নিকটে নিয়ে এলো হেঁচকা টানে।বলল শীতল স্বরে,

‘ তাহলে মেনে নিয়েছিস এতো দিন ইচ্ছে করেই আমাকে ইগনোর করা হয়েছে?’

বর্ণ’র অধর জোড়া তখন সুখের গাল ছুঁই ছুঁই।ঠিক তখনই বিষ্ফোরণময় একটা কন্ঠ ভেসে আসে,

‘ বর্ণ তুমি সুখকে কিসি দিচ্ছিলে?’

উভয়েই হুটহাট পিছু ঘাড় বাঁকাল।ব্যাক সিট থেকে ফ্রন্ট সিটের মাঝের অংশে মুখ উঁকি দিয়ে নূরা গালে হাত ঠেসে ভাবুক হয়ে দাঁড়িয়ে।


মেলায় যে যার মতো অথচ দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে ফিরল বেশ আনন্দ সমেত। অনেক কিছু কিনেছেও। সকলের আড়ালে তুহফাকে একজোড়া পায়েল কিনে দিয়েছে মাহির।তুহফা নিজেও জানে না তা।রুস্মিতা খুশিতে গদগদ।কী কিনেছে বেহিসেবি।বর্ণ ওসবে পা রাখবে না বলে প্রথমে গাড়ি থেকে নামেইনি। পরক্ষণে নূরা আর সুখকে সাথে করে ভেতরে প্রবেশ করে।বাকিরা সেসময় কোথায় কোথায় ছিল কে জানে!নূরা এক গাদা জিনিস নিল পছন্দসই।সুখ নেয়নি কিছুই।

ফেরার সময় সুখ আগে ভাগেই ব্যাক সিটে বসেছে।কারো কথা কানে তুলেনি।মাহির ড্রাইভ করেছে তখন।বর্ণ ফ্রন্ট সিটে।

ড্রয়িং রুম পার করে রুমের উদ্দেশ্যে পা চলানোর ফাঁকে ঘাড় বাঁকিয়ে চায় বর্ণ। সুখের সামনে বসে ভিডিও কলে কথা বলছে নূরা। ওপাশের জনকে বর্ণ’ ভালো মতোনই চেনে। ডক্টর মেহরাব!

মেলায় কী কী করেছে।কোন রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করেছে।কী কী কিনেছে সব পই পই করে হিসেব দিচ্ছে মেহরাবকে নূরা। আবার দুঃখও প্রকাশ করছে,

‘ জানো বাড্ডি.. আমি আরো কিছুক্ষণ ওখানে কাটাতে চেয়েছিলাম কিন্তু বর্ণ দেয়নি।সুখও নাছোড়বান্দা! ‘ফিরে যাবো কখন.. চলে যাবো আমি’ বলতে বলতে…

‘ তোমার সুখপাখির ফিলিং কেমন?আজ খুব এনজয় করেছে নিশ্চয়ই?’
মেহরাব জানতে চায় মুচকি হেসে। ক্যামেরায় অল্প একটু সুখের হাস্য হীন মুখশ্রী চোখে পড়ে। সেদিকেই তার দৃষ্টি।

বর্ণ আর দাঁড়ায়নি। দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে গটগট পায়ে হেঁটে প্রস্থান করে।এই ডক্টরের প্রতি কোন কারণে সে বিশেষ কৃতজ্ঞ,নয়তো…

রাত ১২ ঘটিকায় ইভেন্ট থেকে ফিরছিল বর্ণ। বাইকে আছে।সাথে সিয়াম। কানে ব্লুটুথ উভয়ের। অর্থাৎ কাছাকাছি দূরত্বে এক বা একাধিকের সাথে কন্টাক্টে আছে। হঠাৎই থামল বর্ণ।চতুর ক্ষুরধার চাওনিতে আড়চোখে আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করে ইচ্ছে করেই চেনা পরিচিত জনমানবহীন রাস্তা ধরল।

চলতে চলতে আকম্মাৎ থেমে যেতে হয় তাদের বাধ্যতামূলক । দু’জনেই আলাদা আলাদা বাইকে।আরো চারটি বাইক সামনে থেকে পথ রোধ করে চতুর্দিকে তাদের ঘিরে ধরে। মোট বারোজন বাইকার। ঝটপট একজন এগিয়ে এলো পি স্ত ল তাক করে বর্ণ’র মুখোমুখি। অনড় গলায় কিছু বাক্য গুচ্ছ আওড়ালো,

‘ রকস্টার, কই মাছের জান।দু দু’বার যমের বাড়ি থেকে কায়দায় নিজে তো বেঁচে ফিরেছিস।আমার লোকেদেরও কীসব খাইয়ে-পড়িয়ে আমারই সামনে সু ই সা ইড করতে বাধ্য করেছিস।এতো পাওয়ারফুল তুই? সামান্য সংগীত শিল্পী হয়ে? শুনলাম তোর সোহাগী বোবা বোনটাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।ছ্যাহ, কোথায় ভাবলাম ওই নির্জন জায়গাতে গলে পচে ম র বে। তখন বুঝতি কলিজায় হাত দিলে কেমন লাগে। কিন্তু মিশ্মি
শা** নিজের স্বা র্থ হাসিল করতে তোকে পিরিতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে গেলো।আজ কীভাবে বাঁচবি রে রকস্টার?কোন প্রবাদ যেনো বলিস তুই – পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।আজ পাখা চিরতরে ছেঁটে দেয়া হবে তোর।’

কুচকুচে আঁধার অম্বর। ফাঁকা নির্জন রাস্তায় নিয়ন আলো জ্বলে নিভু নিভু। মুখোশে পরিধানে লোকটা বলল পরপর,

‘ কথাগুলো আমাদের বস পক্ষ থেকে ছিল রকস্টার। ইউ আর আউট টুডে।’

বর্ণ’র খালি হাত। নিজেকে প্রোটেক্ট করার কোন অ স্ত্র নেই। অন্তত এতোগুলোর পি স্ত লের সামনে।তারা ভেবে নিল রকস্টার এবারে হেরে যাওয়া বিড়ালের মতো বশ্যতা স্বীকার করে ভয়ার্ত গলায় ‘ক্ষমা’ চেয়ে নেবে। জীবন ভিক্ষে চাইবে।অথচ বর্ণ চোখে গগলস্ ঠিক করে বাইক ছেড়ে নেমে এলো। স্যারেন্ডার করার ভঙিমায় ধীর পায়ে এক’পা দু’পা এগিয়ে রি ভ ল বা রের সামনে থামলো। অতঃপর মুজেল হাতে চেপে স্বেচ্ছায় কপাল বরাবর ঠেকিয়ে সিংহের মতো শির উঁচু করে সগর্বে শীতল গলায় বলল স্বল্প ভাষায়,

‘ শ্যুট মি!’

পরিস্থিতি স্তব্ধ হলো কিয়ৎক্ষণ।সিমায় পাশে এসে দাঁড়াল বুকে হাত চেপে। লোকগুলো অবাক হলো বৈকি।অল্পক্ষণ পর অবাক-নির্বাক ছাপিয়ে বলল অদৃশ্য হুমকি স্বরূপ,

‘ আড়িতেড়ি করার আগ পর্যতন্ত তোকে মারতে নিষেধ আছে।বসের জলজ্যান্ত লাগবে তোকে‌ ।তবে এর আগে যদি কোন গেইম খেলেছিস…

বর্ণ বোধহয় তখন নির্লিপ্ত গলায় ঠোঁট নাড়িয়ে গুনছিল –1…2..3

মূহুর্তেই বারো থেকে সাতজনের বাহু বরাবর নির্ভুল নিশানায় অদূর থেকে ট্যাসার ছেড়ে 4-8 ইঞ্চি লম্বায় দুটি করে চৌদ্দটি ডার্ট বেরিয়ে আসে বুলেটের মতো। সেকেন্ডের ব্যবধানে সাতজনই কম্পিত শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে হরহর করে পিচঢালা রাস্তায় লুটিয়ে পড়। র/ক্ত বের হচ্ছে না। মৃ ত্যু যন্ত্রণায় ছটফটও করছে না কেউ। অর্থাৎ মরেনি, কেবল সাময়িক সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়েছে।ট্যাসার (TASER)। ট্যাসার –এমন একটি ডিভাইস যা প্রজেক্টাইল শ্যুট করে যেটা শরীরে বিদ্ধ হয়ে বৈদ্যুতিক শক দেয়, যার ফলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়।

যেই সাতজন লুটিয়ে পড়েছে তাদের হাতে ছিল পি স্ত ল। বাকিদের হাতে ধারালো চা কু। বর্ণ’র দিকে পি স্তল তাক করে রাখা লোকটা বিষ্ময়ে স্তম্ভিত হলো। হাত গুটিয়ে নিল মনের অজান্তেই। ফ্যালফ্যাল চোখে গ্যাংয়ের অধিকাংশ লুটিয়ে পড়া দেহগুলোর দিকে তাকায়। তাদের ধারণা, ওরা মৃত্যুর বরণ করে নিয়েছে। ততোক্ষণে রাস্তার সামনে পিছে দুপাশ থেকেই মিষ্টির লোভে মাটিতে পড়ে থাকা চিনিতে পিঁপড়া হামলে পড়ার ন্যায় অগণিত বাইক ছুটে এসে বৃত্তাকার রূপ ধারণ করে। আনুমানিক বাইকার পঞ্চাশের কাছাকাছি হবে।তাদের ফাঁক গলে একটা বিড়ালও গলতে পারবে না কী না সন্দেহ। অনুগত্য করার মতো প্রতিটি বাইকারের মুখ ফুটে বেরিয়ে আসে,

‘ চীফ!’

বর্ণ গা ঝেড়ে নিঃশব্দে বাঁকা হেসে লুটিয়ে পড়া দেহদের দিকে তাকিয়ে বলল,

‘ মরেনি ব্যাস অজ্ঞান হয়েছে।কী হলো শ্যুট কর?’

পি স্ত ল হাতে থাকা লোকটা পুণরায় বর্ণ’র কপালে পি স্ত ল ঠেকায় হতবুদ্ধির মতো থমথমে মুখে। ক্ষিপ্র অথচ অস্থির হয়ে চাপা উত্তেজনা ঢেলে বলল,

‘ তোকে সশরীরে নিতে না পারলে শ্যুট করতে অর্ডার আছে রকস্টার। জীবন বাজি রেখে এই কাজে নেমেছি।আজ তোকে উপরে পাঠিয়েই মরবো!’

#চলবে🍂
||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here