#আমার_বোবাফুল(৬২•১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
ঠোঁট কামড়ে মীরাভের আড়ালে মুখ লুকায় মায়রা। গাম্ভীর্য ভাব আর বজায় রাখা যাচ্ছে না চেহারায়।হাসি পাচ্ছে প্রচুর।মুখোমুখি সোফায় জেসি বসা। ঠোঁটের যে কোণে মেহরাব ছুঁয়ে দিয়েছে, সেখানে হাত রেখে অবোধের মতো অদৃশ্যে চেয়ে আছে প্রায় ঘন্টাখানেক তো হবেই।
এপ্রোনটা হাতের ভাঁজে রেখে পড়নের সাদা শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে মেহরাব সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে প্রথমে জেসিকে অবলোকন করে কপাল কুঁচকে নিল।মেয়েটা একদৃষ্টে একুরিয়ামের দিকে তাকিয়ে মহামূল্যবান কিছু উদ্ধারে মহাব্যস্ত যেনো।
আড়চোখে আরও আরো একবার তাকে দেখে কাছে এসে মীরাভকে কোলে তুলে, “ প্রিন্সেস কী করছে?”–বলার ফাঁকে গালে চুমু এঁকে চোখ বুজে ঘ্রাণ নিল সে। ছোট্ট মীরাভের গা থেকে ভেসে আসা ঘ্রাণে মা মা গন্ধ খোঁজে পায় মেহরাব। বাচ্চাটা খিলখিলিয়ে হেসে উঠে আধো আধো গলায় বলে,“ মাম্-মা টুম-মি হপ্পিতাল যাচ্চো?”
“ হুম।মামা হসপিটাল যাচ্ছে। প্রিন্সেসের জন্য কী লাগবে?”
“ এট্টা-দুটা-তিনতা তক্কেট!”
মায়রা বলল,“ ওকে কী করেছিস?সেই থেকে গালে হাত দিয়ে আছে।মেরেছিস নাকি?”
জেসির ইঙ্গিতে ছিল বাক্যটি।কেশে উঠে মেহরাব।মাথা চুলকে এদিক ওদিক চেয়ে তাড়া দেখিয়ে বলে, “ আবঃ তেমন কিছু নয় আপু।লেট হচ্ছে আমার, যাচ্ছি। সাবধানে থাকিস আর বাকিদের রাখিস!”
ফোন এসেছে মায়রার।কল তুলে সে রুমের দিকে যাওয়ার আগে মীরাভকে সোফায় বসিয়ে দিতে বলে গেল।তবে মেহরাব তাকে সোফায় রাখল না।দু কদম এগিয়ে জেসির কোলে রেখে, এরপর তার দু’পাশে হাত রেখে মুখোমুখি হয়ে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,“ এর আগে কেউ কিস করেনি?”
জেসি দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে নির্বোধের মতো বলল, “ উঁহু।প্রেম টেম করিনি তো।শুনেছি প্রেম করলে এসব হয়ে থাকে।”
ঠোঁট গোল করে ‘ও’ এর মতো করল মেহরাব। আফসোসের স্বরে বলল এরপর,“ জীবন যুদ্ধে একধাপ পিছিয়ে গেলে। সহানুভূতি প্রকাশ করছি।”
জেসি ছোট ছোট চোখে বলল,“ তারমানে এর-আগেও আপনি এসব কিসি-মিসি করেছেন কাউকে না কাউকে?”
“ করলে তোমার কী?”
চোখ পাকাল সে। ক্ষিপ্র গলায় মীরাভকে ঝাঁকিয়ে বললো,“ শুনেছো তুমি প্রিন্সেস?এই কুমড়ো পটাশ জানতে চাইছে- ঘরে বউ রেখে যার-তার সাথে ওসব আজেবাজে কাজ করলে আমার কী?এখন কী বলা উচিৎ আমার?”
ধীরে চোখ নামালো মেহরাব। ঠোঁট ঠোঁট চেপে রেখে হাসি আকটালো কী না বুঝা দায়। পুরুষ এমনই।এরা মেয়ে জাতির মতো সহজে হাসে না।
মীরাভ ড্যাবড্যাব করে একবার মামাকে দেখছে তো আরেকটা ঘাড় ঘুরিয়ে মামাণি’কে দেখছে।জেসির অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে মুখ তুলে বলল,“ মাম-মা টুমায় বতেছে ,তাই লাগ কলছো?” –টুপ করে গালে চুমু দিয়ে,“ এইদে পাপ্পি দিলাম।এবাল হাসো?”(মামা তোমায় বকেছে,তাই রাগ করছো?এইযে পাপ্পি দিলাম।এবার হাসো)
জেসি মুখ গুঁজ করে রাখে মেজাজ তুঙ্গে তুলে। মেহরাবের দিকে তাকালোও না।আর তাকাবেও না।যাক, বাহিরের গুন্ডি মেয়েদের কাছেই।তার কী?তাকে তো ভালোও বাসে না। হুটহাট চোখে অশ্রু জমে।একটা মাত্র ছবি আর ত্রুটিহীন বায়োডাটা দেখে ভাইয়ার কাছে এই ডক্টরকে বিয়ের বায়না ধরাটা কী তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? অবশ্যই ছিল। কারো সাথে না মিশে, পছন্দ-অপছন্দের কথা না জেনে, অপরজন জীবনসঙ্গী করতে রাজি আছে না নেই সেসবের তোয়াক্কা না করে বিয়েতে বসা নিশ্চয়ই উত্তম সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
ভুলটা যেহেতু তারই। মাশুল হিসেবে তাকেই একটা উপায় খুঁজতে হবে।আলাপে যেতে হবে ভাইয়ার সাথে।
অশ্রু গড়িয়ে পড়ার আগেই বাহুর জামায় চোখ মুছে নেয় জেসি।মেহরাবের চোখ এড়ায়নি দৃশ্যটি। বুকে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করতে পারল কী তখন? তপ্ত শ্বাস ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল সে। গম্ভীর মুখে স্বভাবসুলভ হাসি টেনে মীরাভের চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলল,“ মামাণিকে আরেকটা পাপ্পি দিয়ে দিও প্রিন্সেস।”
পরপর চলে যেতে ধরলে জেসি তড়িৎ প্রশ্ন করে,“ আরেকটা কেনো?”
মেহরাব পিছু না ফিরেই জবাব করে, “ ওটা আমার পক্ষ থেকে থাকবে।”
•·
আর দু’দিন পর নূরা’সহ সুখকেও নিবাসে নিয়ে যাওয়া হবে। সংবাদটা যদিও আসফিয়ান বর্ণ থেকে পায়নি সে।আব্বু বলেছে আজ।
নূরা খুব উপভোগ করছে ক্যাসেলের সবকিছু। ক্যাসেলের পেছনে স্বচ্ছ জলের ছলছল নদী। এরপর প্রকাণ্ড খোলা জায়গায় নাম না জানা ঝাঁক ঝাঁক তিন প্রজাতির পাখির উড়ো-উড়ি। তন্মধ্যে একঝাঁক টিয়া। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফুলের গাছ।একেকটা ফুল এতো সুন্দর যে- কেবল তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করে।ফুলেদের মাঝখানে বড় একটা গাছে দোলনাও টাঙানো আছে। বেশ কিছুক্ষণ নূরা আর সুখ সেখানে দুল খেয়ে এসেছে। এখন নূরাকে অন্য রুম ঘুম পাড়িয়ে সুখ এলো বর্ণ’র কক্ষে। বর্ণ’কে কোথাও চোখে পড়ছে না অবশ্য।বেড সাইড টেবিলে ফোন বাজছে।’মম’ নামে সেইভ করা।সুখ অল্পক্ষণ ফোন হাতে নিয়ে এদিক ওদিক বর্ণকে না দেখতে পেয়ে রিসিভার তুলে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে আইজার ক্রন্দনরত গলা শুনতে পায়, “ কী হয়েছে তোমার খোকা? আমাদের সাথে কেনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছো?মায়ের উপর রাগ? কিন্তু কী কারণে?গত পনেরোটি দিন তোমার সাথে কথা বলতে চাইছি অথচ তুমি মায়ের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছো না, ফোন তুলছো না!তুমি বুঝতে পারছো মায়ের মনের অবস্থা?”
সুখ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। বড়ো মার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বর্ণ?ফোন তুলছে না? অথচ তার জানামতে বর্ণ’র কাছে পুরো পৃথিবী একদিকে আর বড়োমা একদিকে ছিল।এই তো সেদিন সুখের সাথে যেই খেলাটা খেলল, সেখানে সব ছেড়েছুড়ে তাকে বেছে নিতে দুবার ভাবেনি, অথচ তারচেয়ে উচ্চ মাকামে বড়মার অবস্থান। হঠাৎ এমন পরিবর্তন হয়ে গেল কী করে মানুষটা?কী চলছে তার মনে?
ভিডিও কলে কনভার্ট করে সুখ ক্যামেরা’র সামনে এলো।আইজার খুশি খুশি মুখটা আবারো আঁধারে ছেয়ে গেল।
“ আমার ছেলেটা কোথায় রে সুখ?ওকে বলনা আমার সাথে একটু কথা বলতে?তুই বললে ও নিশ্চয়ই শুনবে!”
সুখ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে বুঝতে পারে না। ইশারায় বলল, “ কাঁদছো কেনো তুমি বড়মা?কেন এমন করছেন উনি?”
“ জানি না।ওতো কিছুই বলছে না আমাদের। শুধু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে।”
সুখ দেখল বর্ণ দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে।সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে হাঁসফাঁস করে উঠে।বর্ণ ধীরে এগিয়ে এসে ফোনটা সন্তর্পণে নিয়ে নিল। সংযোগ কেটে দিল তারপর।চলে যেতে নিলে সুখ পিছু থেকে হাতটা চেপে ধরে। অন্যমনস্ক চোখে মানুষটা ফিরে তাকায়।সুখের বুকটা কেনো যেনো ধ্বক করে উঠল।সে বুঝায়, “ বড় আম্মুর সাথে কথা বলুন। উনি কাঁদছেন।”
বর্ণ বাধ্যের মতো সায় দেয়, “ হুঁম। আমরা ফিরছি তো কাল।”
•··
ক্যাসেলের সম্মুখে ফাঁকা স্থানে টেবিল চেয়ার পাতানো।বর্ণ ধপ করে একটি চেয়ারে বসে হাত পা ছড়িয়ে ।এক হাত রাখল চোখের উপর। এরপর আস্তে করে চোখ বুজল।
আজ থেকে প্রায় মাস দুয়েক আগের ঘটনা। সেদিন রোববার, ১৫ মে।রাত আনুমানিক দুটো।ঘন অন্ধকার রহস্যপুরী জঙ্গলে শুনশান নীরবতায় খাঁ খাঁ করছে চারপাশ।ক্ষণে ক্ষণে অদ্ভুত প্রাণীদের হাঁকডাক-ও ভেসে বেড়ায় আবার। অন্ধকার মাড়িয়ে, ঘন জঙ্গলের বুক ছিঁড়ে পাঁচটি বাইক ছুটে গিয়ে পরিত্যক্ত ধরণের শ্যাওলা ধরা বাড়িটির সামনে গিয়ে থামে। আসফিয়ান বর্ণ চীফ(প্রধান) অব দ্য আই গ্যাং, বাইক থেকে নেমে ভেতরে প্রবেশ করে নির্ভীক, নির্বিকারে।
জোসেফ জোয়ার্দারের উপর রোজ টর্চার চলে। শরীর হাঁপিয়ে গেলে, দেহ-মন নিস্তেজ হয়ে এলে ছাড় দেয়া হয়। চিকিৎসা করে সুস্থ করা হয়। এরপর আবার টর্চার।এখন সে ঈষৎ সুস্থ আছে।ঠিক সুস্থ নয় যদিও, বলা যেতে পারে তার জবাব সতেজ আছে। শরীরের জায়গায় জায়গায়, যেমন– গলায়, মুখ, ঘাড়, হাত, হাঁটুর কিছু অংশ থকথকে ঘা-তে ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা, পচন ধরেছে প্রায়ই। জোসেফ নিজের মৃ!ত্যু কামনা করে রোজ। হাত দুটো উন্মুক্ত থাকলে সেই কখন জান দিয়ে দিত। কিন্তু আসফিয়ান বর্ণ’র নিষেধ আছে, তাকে এতো সহজে মৃ!ত্যু দেওয়া যাবে না।
বর্ণ তার সামনে এসে বলস।উপর নিচ পর্যবেক্ষণ করে ক্ষণকাল। এরপর বলল, “ তোর ড্যাড রিকাজ ফরাজী কোথায় যেনো বলেছিলি সেদিন?”
জোসেফের চোখ রাজ্যের ক্লান্তি, তৃষ্ণা। অথচ বর্ণ’র সামনে মাথা নুয়াবার নয়।তবে, এই পর্যায়ে খানিক অবাক হলো বৈকি, “ ড্যাড ম!রে গেছে বহুদিন আগে, শুনিসনি সেদিন?”
“ কিন্তু আমার কাছে অন্য ইনফর্মেশন এসেছে।তোর জন্য সেরা চমক হবে এটা!”
ক্ষীণ গলায় নিভু নিভু চোখে জোসেফ বলল, “ চমক?”
“ ইয়াহ্!যদি বলি তোর আইডল রিকাজ ফরাজী এই পৃথিবীতে এখনো শ্বাস নিচ্ছে এন্ড… এন্ড এক রমণীর সাথে সুখের সংসার সাজিয়েছে…”
“ এই রকস্টার মুখে লাগাম টান।ম!রে গেছে মানুষটা।একটু ছাড় দে তাকে। মিথ্যে ছড়াস?”
“ এতে আমার কী লাভ?”
“ ইয়্যু আর অ্যা সাইকো!মস্তিষ্কে জ্বলে উঠা প্রতিশোধের আগুন থামাতে ড্যাডের মতো দেখতে কাউকে খোঁজে ,এই নরকে তুলে এনে নির্দোষ লোকটাকে নিশ্চয়ই আমার মতো অবস্থা করার প্ল্যান কষছিস?”
বর্ণ মুখ কুঁচকে পুরো কক্ষে রোবটের মতো স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোকে দেখে বলল,“ মিথ্যে অভিযোগে একটা গ্যাং-য়ের সামনে তাদের চীফ-এর মান হানি করার চেষ্টা করছিস তুই জোয়ার্দার, ভ্যারি ব্যাড!”
জোসেফ তাচ্ছিল্য হাসতে গিয়েও পারে না। যন্ত্রনায় মুখের ভেতর দাঁতে দাঁত খিচে ধরল।বর্ণ বলল, “ অনেকদিন হলো নিজের বাপকে দেখিসনি।আজ তার সুখের সংসার দেখে চোখ জুড়িয়ে নে।”
জিসান ল্যাপটপটা চালু করে টেবিলে রেখে দিল। এরপর কাঁচের দেয়ালে ফিটিং পর্দার স্ক্রিনে ভেসে উঠল- একজন মধ্যবয়সী ও এক অর্ধ-কুমারী রমণীর অ-ন্ত-রঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য। ছোট একটা বাচ্চা ছেলেও আছে তাদের।
জোসেফ ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে তাকায়। নিঃসন্দেহে ভুল দেখছে না সে। ছবিগুলো মিথ্যে বলে মনকে শান্তনা দিলেও ভিডিওতে রিকাজ ফরাজীকেই দেখাচ্ছে। জোসেফ ছাড়া পাওয়ার লক্ষ্যে দূর্বল চিত্তে ছটফট করতে করতে যথাসাধ্য চেঁচিয়ে উঠল,“ ড্যাডের বাচ্চা।তোর কারণে আমার এই পরিণতি আর তুই মৃ!ত্যুর নাটক সাজিয়ে আমার চোখের আড়ালে গিয়ে ফূর্তি করছিস?বর্ণ তুই ওই ****কে এখানে নিয়ে আয়। এই শাস্তি আমার প্রাপ্য হলে, ড্যাডের বাচ্চা তারচেয়ে দ্বিতীয় সোহাগ ডিজার্ভ করে।”
“ ডোন্ট ওয়ারি।আই গ্যাং-য়ের আই’জ ওর উপর পড়ে গেছে মানে শিঘ্রই তোর পাশের চেয়ারে সে থাকতে চলেছে।”
থেমে বলল, “ মৃ!ত্যু মৃ!ত্যু খেলটা কেনো খেলেছে জানার ইচ্ছে হচ্ছে নিশ্চয়ই?জবাবটা আমিই দিয়ে দেই।”–বিজ্ঞের মতো মুখটা গম্ভীর করে বলে চলে বর্ণ, “ গল্পটা এমন যে- তোকে পেলেপুষে জোসেফ জোয়ার্দার বানাতে গিয়ে বেচারা নিজের জীবনের রং হারিয়ে ফেলেছে। একদিন এক অর্ধ-কুমারী রমণীকে দেখে হঠাৎ বুকে প্রেমের জ্বালা উতলে উঠল।পরবর্তীতে মেয়েটাকে মনের কথাও জানিয়ে দিল।আর মেয়েটা রাজিও হলো, তবে এক শর্তে।রিকাজ ফরাজী’ নামের রা স কেল’টার কোন পিছুটান থাকা যাবেনা। এরপর কী হলো বুঝে নে। দু’দিনের রমণীকে কাছে পেতে তোর সঙ্গ ছেড়ে দিল। পৃথিবীর কাছে রিকাজ ফরাজী ইজ ডেড ঘোষিত হয়ে আলফ্রেড নামে ভিনদেশে গিয়ে শান্তিতে সংসারে লেগে পড়লো। গল্পের বাকি অংশ শুনতে চাস?
সেদিনের সপ্তাহ খানেক পর জোসেফের সামনে মোটা একটা বস্তা ফেলা হয়। বস্তার আগা-মাথা বন্ধ ছিল, আর বস্তার বাহিরে রক্তের ছিটা ছিটা চিহ্ন লেগে ছিল।
বস্তার মুখ খুলে কিছুটা উন্মুক্ত করে করতেই একটা অচেতন মানব দেহ ঢলে পড়ে ফ্লোরে। জোসেফ অস্ফুট স্বরে বলে উঠে, “ ড্-ড্যাড!”
•··
অস্ট্রেলিয়াতে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল আলফ্রেড ওরফে রিকাজ ফরাজী।দেশটি থেকে বিডিতে খাদ্য পণ্য আমদানি হয় প্রধানত সমুদ্রপথে, জাহাজের মাধ্যমে। এবারে এলএনজি (গ্যাস) আমদানির সময় সরকার কর্তৃক স্বীকৃত আমদানি-রপ্তানি কোম্পানির ছদ্মবেশী আই গ্যাং সদস্যেরা তাকে প্যাকেটিং করে ওপার থেকে এপারে এনেছে।এই মহামূল্যবান কাজটিতে যা কসরত পোহাতে হয়েছে, তা বিরাট এক ইতিহাস।
বর্ণকে দেখে রিকাজ ফরাজী হো হো হেসে উঠল।বলল,“ আমাকে খোঁজে পেতে এতো বছর লাগিয়ে দিলি?তোর পোষা কুত্তা…”
“ উুঁ! উঁহু ”–তর্জনী ঘনঘন দুদিক নাড়িয়ে বলল বর্ণ,“ গিভ রেসপেক্ট।’গ্যাং মেম্বার’ বল!”
“ সে যা হোক। স্ট্রং আছে ব্যাটারা।বয়সের দিকে না তাকিয়েই আমাকে কী টর্চারই না করল।”
বর্ণ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বাক্য লেখা স্মাইলি বল’টা দেখিয়ে বলল, “ সেদিন এটা তোর রেখে যাওয়া?”
“ তোকে গরাদের পেছনে ঢুকিয়ে ভেবেছিলাম সেদিনই ওই চ্যাপ্টার ক্লোজড। কিন্তু এরপর তুই আমার লালিত পালিত বাচ্চাটাকে যা ফাঁদে ফেলেছিস, দূর থেকে তার জন্য এটুকু করতেই পারি।”
“ বল, কেনো রচিয়েছিস এই জঘন্য খেল?এতে তোর লাভ?”–বর্ণ সুক্ষ্ম চোখে তাকিয়ে থাকার মাঝে বলল।রিকাজ হেসে উঠে।নিথর জোসেফকে প্রত্যক্ষ করে গলা শুকিয়ে এলেও যথেষ্ট সাহসী উপস্থাপন করার চেষ্টা চালিয়ে গেল।বলল তাচ্ছিল্য স্বরে, “ সত্যিটা শুনবি?পরে আফসোস করবি নাতো?”
#চলবে🦋

